Class 8 Bengali chapter 16 হাওয়ার গান

হাওয়ার গান – বুদ্ধদেব বসু

কবি পরিচিতি

রবীন্দ্রোত্তর বাংলাসাহিত্যে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও শিশুসাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল বন্দীর বন্দনা, দ্রৌপদীর শাড়ি, দময়ন্তী, কঙ্কাবতী, শীতের প্রার্থনা ইত্যাদি। তাঁর নাটক ও উপন্যাসগুলি হল তিথিডোর, তপস্বী ও তরঙ্গিনী, রাত ভোর বৃষ্টি ইত্যাদি।

 

কবিতার সারাংশ

হাওয়ার গান কবিতায় কবি বুদ্ধদেব বসু আমাদের এটাই বুঝাতে চেয়েছেন আমাদের জীবনে বেঁচে থাকার জন্য বাতাসের কতটা প্রয়োজন বাতাসকে আমরা চোখে দেখতে পারিনা আমরা শুধু তাকে অনুভব করতে পারি হাওয়ার কোন নির্দিষ্ট বাসস্থান বা ঘরবাড়ি না থাকলেও সে সমস্ত জায়গায় বিদ্যমান  বাতাসকে ছাড়া সভ্য সমাজের কোন প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়| যে আমরা ঘরে বসে থাকি বা উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় উঠে পড়ি আবার সমুদ্রসৈকতে থাকি না কেন সব সময় আমাদের সাথে খাওয়ার অস্তিত্ব বিদ্যমান যদি হাওয়া বন্ধ হয়ে যায় মানুষ আর নিঃশ্বাস নিতে পারবে না সেই মুহূর্তেই এই সভ্য সমাজের দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটবে।

 

হাতেকলমে

১.১ বুদ্ধদেব বসু রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।

 উত্তর- বুদ্ধদেব বসু রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম –‘বন্দীর

১.২ তিনি কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন?

উত্তর- তিনি ‘কবিতাবন্দনা’, ও ‘কঙ্কাবতী’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি/দুটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১ দুর্বার ইচ্ছায় হাওয়ায় কী কী ছুঁয়ে গেছে?

উত্তর- দুর্বার ইচ্ছায় হাওয়া পৃথিবীর সমস্ত সাগর, নদীর জল

২.২ তার কথা হাওয়া কোথায় শুধায় এবং সমস্ত তীর ছুঁয়ে গেছে।

উত্তর- তার কথা হাওয়া চিমনির আওয়াজে, বাগানের কান্নায়, পার্কের বেধিতে এবং শার্সিতে কেঁপে ওঠা দেওয়ালে শুধায়।

২.৩ মাণ্ডুলে দীপ জ্বলে কেন?

উত্তর- সন্ধ্যাবেলা অন্ধকার নামলে দিক নির্ণয়ের জন্য মান্ডুলে দীপ জ্বলে ও তার অবস্থানজনিত সংকেত নির্দেশ করে।

২.৪ পার্কের বেঞ্চিতে আর শার্সিতে কাদের উপস্থিতির চিহ্ন রয়েছে?

 উত্তর- পার্কের বেশিতে ঝরাপাতা এবং শার্সিতে দেয়ালের পাঁজরের উপস্থিতির চিহ্ন রয়েছে।

২.৫ নিশ্বাস কেমন করে বয়ে গেছে?

 উত্তর- নিশ্বাস উত্তাল, অস্থিরভাবে সারা দিন-রাত্রি বুক চাপা কান্না নিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর সংক্ষেপে লেখো :

৩.১ হাওয়ার চোখে ঘরের যে ছবি পাওয়া যায়, তা কবিতা অনুসরণে লেখো।

উত্তর- হাওয়াদের নিজস্ব কোনো বাড়িঘর নেই। সারা পৃথিবীর সব জল, সব তীর, পাহাড়, বন্দর, নগর, অরণ্য, প্রাপ্তর, পার্ক ইত্যাদি সব জায়গায় তার স্বচ্ছদ বিচরণ। হাওয়ার চোখে তাই সারা পৃথিবীই তার ঘর, নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে সে আবন্ধ নয়।।

৩.২ সমুদ্রের জাহাজের চলার বর্ণনা দাও।

উত্তর- সমুদ্রের বুকে আঁধার রাতে জাহাজ চলে। তার মান্ডুলে দীপ জ্বলে তার অবস্থান নির্দেশ করার জন্য অন্য জাহাজ বা জলযানের উদ্দেশ্যে। দিকনির্ণয় করার জন্যও কখনো কখনো এই দীপ জ্বালানো হয়ে থাকে।

৩.৩ পৃথিবীর কোন কোন অংশে হাওয়া ঘুরে বেড়ায় লেখো।

উত্তর- পৃথিবীর সর্বত্র, সব জল, সব তীর স্পর্শ করে হাওয়া ঘুরে বেড়ায়। পাহাড়, বন্দর,, দেওয়ালের পাঁজর, সর্বত্রই হাওয়ার অদৃশ্য উপস্থিতি উপলব্ধি করা যায়।

 ৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর বিশদে লেখো :

৪.১ হাওয়াদের কী নেই? হাওয়ারা কোথায় কীভাবে তার খোঁজ করে?

উত্তর- হাওয়াদের কোনো নির্দিষ্ট বাসস্থান বা বাড়ি নেই। তারা তাদের বাড়ির সন্ধানে অহোরাত্র ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবীর সমস্ত জলরাশি, সমস্ত তীর, পাহাড়ের গম্ভীর গুহা, বন্দর, নগর, অরণ্য, প্রান্তর এবং শূন্য তেপান্তরের সর্বত্র তারা বৃথা অন্বেষণ করে ফেরে। পার্কের বেঞ্চ, ঝরাপাতার মর্মরধ্বনি, শার্সির কম্পন, চিমনির নিস্বন ও অরণ্যের ক্রন্দনের মধ্যে হাওয়ার অদৃশ্য উপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও তারা পাগলের মতো তাদের বাড়ির খোঁজ করে বেড়ায়।

৪.২ ‘চিরকাল উত্তাল তাই রে’ –কে চিরকাল উত্তাল? কেন সে চিরকাল উত্তাল হয়ে রইল?

উত্তর- হাওয়া চিরকালই উত্তাল। হাওয়া চিরকাল সমুদ্রের বুকে নৃত্য করে বেড়ায়। তাদের মত্ত আবর্তনে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। গভীর রাতে জাহাজের ডেক নির্জন হয়ে যায় জনগণের অনুপস্থিতির কারণে। কিন্তু হাওয়াদের বিশ্রাম নেই। তারা তাদের গৃহের সন্ধানে অন্তহীন পরিক্রমা করে বেড়ায়। কিন্তু তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না।

৪.৩ কবিতাটির নাম ‘হাওয়ার গান’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী যুক্তি কবির মনে এসেছিল বলে তোমার মনে হয়?

উত্তর- কবি বুদ্ধদেব বসু প্রাকৃতিক শক্তি হাওয়াকে অবলম্বন করে তার অফুরান চলা ও ক্লান্তিহীন কর্মতৎপরতাকে এই কবিতায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। কবির উপলব্ধিতে হাওয়ার এই চলা এবং সারা পৃথিবীর সর্বত্র তাদের উপস্থিতি এক গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে। তাই কবি কবিতায় হাওয়ার বহুমুখী কর্মধারা নীরবে সম্পাদন করার প্রয়াসকে তারিফ করেছেন। হাওয়া আমাদের জীবনদাত্রী জননী কিন্তু তাকে মরা চোখে দেখি না, উপলব্ধি করি। কবির উপলব্ধিতে এই হাওয়ার গানের অনুরণন।

৫. নীচের পঙ্ক্তিগুলির মধ্যে ক্রিয়াকে চিহ্নিত করো এবং অন্যান্য শব্দগুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক দেখাও।

৫.১ ঘরে ঘরে জ্বলে যায় স্বপ্নের মৃদু মোম।

উত্তর-

ঘরে ঘরে— অধিকরণ সম্পর্ক
জ্বলে যায়— ক্রিয়া পদ
মৃদু মোম– কর্ম সম্পর্ক।

৫.২ আঁধারে জাহাজ চলে।

 উত্তর-

আঁধারে— অধিকরণ সম্পর্ক
জাহাজ– কর্ম সম্পর্ক
চলে– ক্রিয়া পদ।

৫.৩ শার্সিতে কেঁপে ওঠা দেয়ালের পঞ্জর।

উত্তর-

শার্সিতে— অধিকরণ সম্পর্ক
কেঁপেওঠা— ক্রিয়া পদ
পঞ্জর– কর্ম সম্পর্ক।

 ৫.৪ অকূল অন্ধকারে ফেটে পড়ে গর্জন।

উত্তর-

অকুল অন্ধকারে— অধিকরণ সম্পর্ক
ফেটে পড়ে— ক্রিয়া পদ
গর্জন— কর্ম সম্পর্ক।

৬. ‘বন্দর, বন্দর নগরের ঘন ভিড়’,—পঙ্ক্তিটির প্রথমে একই শব্দ দুবার ব্যবহার করা হয়েছে। এই রকম আরও চারটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করো। কবিতার ক্ষেত্রে এই ধরনের শব্দ ব্যবহারের কৌশল অবলম্বনের কারণ কী?

উত্তর- পক্তি চারটি হলো—
(১) ‘ঘরে ঘরে জ্বলে যায় স্বপ্নের মৃদু মোম।’
(২) ‘কেঁদে কেঁদে মরি শুধু বাইরে।’
(৩) ‘খুঁজে খুঁজে ঘুরে ফিরি বাইরে।
(৪) ‘সুরে সুরে বলে যাই।’

কবিতার ক্ষেত্রে এ জাতীয় শব্দদ্বৈত ব্যবহারের অনেকগুলি কারণ থাকে। কখনও ছন্দের প্রয়োজনে, কখনও বহুবচন বোঝাতে আবার কখনো কখনো আকুলতা নির্দেশ করতে এ জাতীয় অসমাপিকা ক্রিয়া বা শব্দদ্বৈত ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৭. ধ্বনি পরিবর্তনের দিক থেকে শূন্য অংশগুলি পূর্ণ করো :

উত্তর- চন্দ > চন্ন > চাঁদ, রাত্রি > রাত্তির, পঞ্জর > পাঁজর।

৮. ‘হাওয়ার গান’ কবিতায় ব্যবহৃত পাঁচটি ইংরেজি শব্দ লেখো। এই শব্দগুলির বদলে দেশি/বাংলা শব্দ ব্যবহার করেপক্তিগুলি আবার লেখো।

উত্তর- পার্ক, বেঞ্চি, শার্সি, চিমনি, কার্পেট।
উদ্যানের (পার্ক) কাষ্ঠাসনে (বেঞ্জি) ঝরা পাতা ঝর্ঝর।
কাঁচেতে (শার্সিতে) কেঁপে ওঠা দেওয়ালের পঞ্জর।
ধূমনালির (চিমনির) নিস্বনে কাননের ক্রন্দনে।
আবছায়া গালিচা (কার্পেট) কুকুরের তন্দ্রায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top