Class 8 Bengali chapter 24 স্বাধীনতা

স্বাধীনতা – ল্যাংস্টন হিউজ

কবি পরিচিতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্লেস রেনেসাঁর অন্যতম নেতা, কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সমাজকর্মী ল্যাংস্টন হিউজ এক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Weavy Blues। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলি হল Male Bone, Jerico – Jim Crow ইত্যাদি। কবি হিসেবে তিনি অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

কবিতার সারাংশ

স্বাধীনতা কবিতায় কবি বুঝিয়েছেন যে স্বাধীনতা কোন দিন একা একা হেঁটে আমাদের দোরগোড়ায়আসবে না |অর্থাৎ নিজের স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য নিজেকেই হাজারো যুদ্ধ সংগ্রাম করে জিতে নিতে হবে |আমাদের চাওয়া-পাওয়া সবকিছু নিজের সংগ্রামের মাধ্যমে লড়ে যেতে হবে অন্যের আশায় ভরশা করে চিরকাল থাকলে চলবে না |নিজের কর্ম ক্ষমতা ,স্বতঃস্ফূর্ততা ,বুদ্ধি, সততার মাধ্যমে নিজেদের অধিকার নিজেদের  ছিনিয়ে নিতে হবে |মৃত্যুর পরে কি হবে সেই আশায় দিন না  গুনে মৃত্যুর আগের নিশ্বাস অব্দি লড়ে যেতে হবে ও নিজের অধিকার অপরের থেকে ছিনিয়ে নিতে হবে|

হাতে কলমে

১. ল্যাংস্টন হিউজের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

উত্তর- ল্যাংস্টন হিউজের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- The Weavy Blues

১.২ তিনি কোন দেশের রেনেসাঁর অন্যতম নেতা হিসাবে পরিচিত

উত্তর- তিনি বিংশ শতকের বুড়ির দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্লেস রেনেসাঁর অন্যতম নেতা হিসেবে সমধিক পরিচিত।

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

২.১ স্বাধীনতা বলতে কী বোঝো? কী কী বিষয়ে মানুষের স্বাধীনতা প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো?

উত্তর- স্বাধীনতা কথার অর্থ হলো নিজের অধীনতা, অর্থাৎ, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে স্বাধীনতা বলা হয়। মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলা, চলাফেরা করা, সম্পত্তির অধিকার থাকা এবং অন্যের হস্তক্ষেপ ছাড়া সকল বিষয়ে মতামত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।

২.২ মানুষ পরাধীন হয় কখন?

উত্তর- মানুষের স্বাধীনসত্তা যখন কোনোভাবে বিঘ্নিত হয় বা স্বাভাবিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হয়। কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টির দ্বারা, তখন তাকে আমরা পরাধীনতা বলে থাকি। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন সত্তা নিয়ে জীবনধারণ করার অধিকার থাকা উচিত। তার ব্যতিক্রম ঘটলেই মানুষ পরাধীন হয়।

২.৩ পরাধীন মানুষের স্বাধীনতা পাওয়ার পথগুলি কী কী?

উত্তর- স্বাধীনতা লাভ করার জন্য পরাধীন দেশের সাধারণ মানুষের একত্রিত হয়ে সংগ্রাম করতে হবে। প্রতিবাদের মাধ্যমে সকলকে সংঘবদ্ধ হয়ে নিরন্তর লড়াই চালাতে হবে। ভয় করে বা সমঝোতার মাধ্যমে স্বাধীনতা আদায় করা যাবে না। শাসকদল বাধ্য না হলে স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে চায় না।

২.৪ ‘স্বাধীনতা’ কবিতাটির মধ্যে দুটি ‘পক্ষ’ আছে – ‘আমি পক্ষ’ আর ‘ভূমি-পক্ষ’। এই ‘আমি পক্ষ’ আর ‘তুমি পক্ষ’এর স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। এই ক্ষেত্রে সে পঙ্ক’ নেই কেন?

 উত্তর- এখানে শাসক ও শাসিতের সম্পর্কের কথা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শাসক পক্ষকে ‘তুমি’ এবং শাসিত পক্ষকে ‘আমি’-পক্ষ বলে অভিহিত করা হয়েছে। যে দেশ পরাধীন, সে দেশের মানুষেরা শাসকপক্ষের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে চায় বলে তাদেরকে ‘তুমি’ পক্ষ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আবার শাসিতপক্ষ নিজেদেরকে বঞ্চিত মনে করে স্বাধীনতা অর্জন করার লড়াই করছে তাই তাদের ‘আমি’-পক্ষ বা‘আমাদের’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এখানে সে পক্ষ না থাকার কারণ হলো শাসক ও শাসিত ছাড়া অন্য কোনো পক্ষের অস্তিত্বই নেই এই কবিতায়।

২.৫ ‘সময়ে/সবই হবে, কাল একটা নুতন দিন’ কবিতার মধ্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের ভিতরে থাকা কথাটি কার / কাদের বলে তোমার মনে হয়? তারা এ ধরনের কথা বলেন কেন?

উত্তর- যারা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে মানুষের স্বতন্ত্র সত্তাকে অবদমিত করতে চায় তাদের প্রসঙ্গে উদ্ধৃত অংশটি  ব্যবহার করা হয়েছে। তারা একথা বলে কারণ নাহলে তাদের প্রভুত্ব বিস্তারের প্রবনতা খর্ব হয়।

২.৬ ‘আগামীকালের রুটি /দিয়ে কি আজ বাঁচা যায়’—এখানে ‘আগামীকাল’ আর আজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর- এখানে ‘আগামীকাল’ বলতে ভবিষ্যৎ জীবনধারণের কালকে এবং ‘আজ’ বলতে সাম্প্রতিক কালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রাথমিক তিনটি শর্তের মধ্যে খাদ্য একটি অনিবার্য শর্ত। বর্তমানকালে খাদ্য না পেলে ভবিষ্যতের কথা অকল্পনীয়। তাই একথা বলা হয়েছে।

৩. নিম্নলিখিত পক্তিগুলির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো :

৩.১ মৃত্যুর পরে তো আমার ………. প্রয়োজন হবে না।

উত্তর– সংকলিত অংশটুকু ল্যাংস্টন হিউজ-এর ‘স্বাধীনতা’ কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে। এখানে স্বাধীনতার উপযোগিতার কথা বলা হয়েছে। মানুষ যতদিন বাঁচে ততদিন সুখে শান্তিতে থাকতে চায়। সুতরাং, ইহলোকই তার স্থান যেখানে সে স্বাধীনভাবে নিজের ইচ্ছামতো জীবনধারণ করতে পারে। মৃত্যুর পর যে পরলোক তার অস্তিত্ব আমাদের কল্পনার বিষয় এবং অনাস্বাদিত। তাই আমরা স্বাধীনতা চাই বর্তমানের বুকে, ভবিষ্যতের অনিশ্চিত গর্ভে নয়। সুতরাং, মৃত্যুর আগে ইহজীবনেই স্বাধীনতা আবশ্যক, পরলোকে নয়।

৩.২ স্বাধীনতা একটা শক্তিশালী বীজপ্রবাহ।

উত্তর- সংকলিত বাক্যটি ল্যাংস্টন হিউজ-এর ‘স্বাধীনতা’ অনুবাদ কবিতার অন্তর্গত। এখানে স্বাধীনতার স্বরূপ ব্যাখ্যা বীজের মধ্যেই ভবিষ্যৎ মহীরুহ সুপ্ত থাকে। বীজ থেকেই শিশু চারাগাছ অঙ্কুরিত হয়, কালক্রমে তা শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে বড়ো হয় এবং বহু মানুষের উপকারে লাগে। অনুরূপভাবে স্বাধীনতাও একটি বাঁজের মতো, যা বংশ পরম্পরায় বিস্তার লাভ করে। ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা’কে প্রশমিত করতে পারে না। নদীর জলধারার মতো স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে প্রসারিত হয়।

৩.৩ আমাদেরও তো অন্য সকলের….জমির মালিকানার।

 উত্তর- আলোচ্য অংশটি ল্যাংস্টন হিউজ রচিত ‘স্বাধীনতা’ কবিতার অন্তর্গত। এখানে ব্যক্তির সম্পত্তির অধিকারের কথা বলা হয়েছে। পরাধীন দেশের নাগরিকরাও অন্য সমস্ত দেশের অধিবাসীদের মতো সম্পল্লি অধিকার আকাঙ্ক্ষা করে। নিজস্ব জায়গায় ঘরবাড়ি তৈরি করার বাসনা তার সহজাত। তাই সে পরাধীন হলেও তার হৃদয়ে যে সম্পত্তি ও স্বাধীন গৃহনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তা চিরন্তন। তাই শোষকরা সেই অধিকার থেকে শাসিতদের বঞ্চিত করতে চায়। কিন্তু কবি শোষিত মানবাত্মার হার্দিক আকাঙ্ক্ষাকে এখানে ব্যক্ত করেছেন যা সার্বজনীন রূপ লাভ করেছে।

৩.৪ স্বাধীনতা আমার প্রয়োজন/ তোমার যেমন।

উত্তর- সংকলিত পক্তিটি ল্যাংস্টন হিউজ-এর স্বাধীনতা’ কবিতার। এখানে স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সম অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এখানে শাসিতরা তাদের দাবি জানাতে গিয়ে স্বাধীনতার স্বরূপ এবং তার বিস্তৃতির কথা বলেছে। শাসকশ্রেণি তাদের জীবনে স্বাধীনতা ভোগ করে কিন্তু শাসিতদের তা দিতে চায় না। তাই শাসিত মানুষেরা দাবি করে শাসকদের মতো তাদেরও স্বাধীনতার অধিকার বিদ্যমান এবং তারা তা পেতে চায়।

৪. নীচের প্রতিটি শব্দের ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো :

উত্তর

স্বাধীনতা— স্ব এর অধীনতা—সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।
দুকাঠা— দুই কাঠার সমাহার–দ্বিগু সমাস।
আগামীকাল – আগামী যে কাল কর্মধারয় সমাস।
বীজপ্রবাহ— বীজের প্রবাহ–সম্ব্য তৎপুরুষ সমাস।

৫. স্বাধীনতা নিয়ে লেখা আরও দুটি কবিতার উল্লেখ করো এবং এই কবিতার সঙ্গে তাদের তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর- স্বাধীনতা নিয়ে লেখা আরও দুটি কবিতা হলো রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় এবং মোহিনী চৌধুরীর মুক্তির মন্দির সোপানতলে। এই কবিতাটি অনুবাদ কবিতা হলেও একটি বিশেষ দেশের পটভূমিতে রচিত। এই কবিতার একটি সার্বজনীন আবেদন রয়েছে যা সারা পৃথিবীর সকল পরাধীন দেশের মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমাদের উল্লিখিত কবিতা দুটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। যদিও এরও একটা সার্বজনীন আবেদন রয়েছে। বিশ্বের সমস্ত পরাধীন দেশের মানবাত্মার মর্মবাণী এই কবিতাগুলির মাধ্যমে ধ্বনিত হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর

১. কবি এখানে বীজপ্রবাহের এর সাথে কিসের তুলনা করেছেন ?

উত্তর- কবি বীজপ্রবাহের সাথে স্বাধীনতার তুলনা করেছেন |

২. কবিতাটিতে কত পরিমান জমির কথা উল্লেখ আছে?

উত্তর- স্বাধীনতা কবিতায় দু কাঠা জমির উল্লেখ রয়েছে|

৩. কি শুনতে শুনতে কান পচে গেল ?

উত্তর- সময় আসলে সবকিছু পাওয়া যাবে সব আশাই পূর্ণ হবে এই শুনতে শুনতে কান পচে যায়|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top