দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ২৩. সিন্ধুতীরে - সৈয়দ আলাওল

সিন্ধুতীরে – সৈয়দ আলাওল

কবি পরিচিতি

মধ্যযুগের অন্যতম সেরা কবি ছিলেন সৈয়দ আলাওল। ১৫৯৭ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফতেহাবাদে জন্মেছিলেন সৈয়দ আলাওল। তার বাবা ছিলেন জালাল পুরের অধিপতি মজলিশ কুতুবের অমাত্যপ্রধান। তার বাবার মৃত্যুর পরে পরিবারের দুরবস্থার জন্য তিনি আরাকানে আসেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রথমে সেনাদলে যোগ দিলেও তার গুন আমাত্যপ্রধানকে প্রভাবিত করে। পরে তার ই নির্দেশে তিনি পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদ করেন। সৈয়দ আলাওল রচিত অন্যান্য গ্রন্থ গুলি হল- সপ্তপয়কর, তোহ্ফা, সেকেন্দারনামা ইত্যাদি। মধ্যাযুগীয় বাংলাসাহিত্যে মানবতার কবি হিসেবে সৈয়দ আলাওল এর বিশেষ পরিচিতি আছে। তার মৃত্যু হয় ১৬৭৩ সালে।

 

সারসংক্ষেপ

দিক ভ্রষ্ট ভেলা যে দ্বিপে এসে পৌঁছেছিলো সেটা ছিলো সমুদ্র দুহিতা পদ্মার আবাস। দিব্যপুরি তুল্য এই দ্বীপ উদ্যানে সমুদ্র দুহিতা পদ্মা তার সখীদের নিয়ে বাস করে। একদিন প্রভাতে পিতৃ আবাস থেকে নিজ আবাসে ফিরে আসার সময় পদ্মা ও তার সখীরা দেখেন রাজকুমারী পদ্মাবতী ও তার চার সখীদের সমুদ্রতটে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে। ক্লান্ত পদ্মাবতীর পোশাক এলোমেলো, কেশের রাশি এলোমেলো কিন্তু তাতেও যেন তার রূপের ছটা এতটুকু ম্লান হয়ে যায়নি। তার রূপ দেখে বিস্মিত হয় যেন ইন্দ্রশাপে স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে বিদ্যাধরি মাটিতে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। পদ্মা তার সখী দের সহিত তাদের প্রাণ বাঁচাতে উদ্যোগী হন। তিনি দেখেন যে তার শ্বাস সমান্যই আছে। পদ্মা তার সখীদের আদেশ করেন বস্ত্র দিয়ে ঢেকে সেই সুন্দরী কন্যা ও তার চার সখীকে তার উদ্যানে নিয়ে আসার কথা। পদ্মা তার সখীদের পদ্মাবতী ও তার চার সখীদের আগুনের সেক দিতেও বলেন , তারপর শুরু হয় জাগ যজ্ঞ ও মহৌষধি প্রয়োগ। এমন ভাবে চার দন্ড চলার পরে জ্ঞান ফিরে পান পদ্মাবতী ও তার চার সখীরা।

 

বহু-বিকল্পীয় প্রশ্নোত্তর

১. ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের কোন খণ্ডেব অন্তৰ্গত ?
(ক) দেশযাত্রা
(খ) খিলখণ্ড
(গ) পদ্মা-সমুদ্রখণ্ড
(ঘ) রত্নসেন-সাথীখণ্ড

উত্তরঃ (গ) পদ্মা-সমুদ্রখণ্ড

২. ‘সিন্ধুপারে’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) সৈয়দ আলাওল  
(খ) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ 
(গ) জসীমউদ্দিন
(ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম

উত্তরঃ (ক) সৈয়দ আলাওল

৩. সৈয়দ আলাওল কোন সময়কার কবি ?
(ক) পঞ্চদশ শতক
(খ) ষোড়শ শতক
(গ) অষ্টাদশ শতক
(ঘ) সপ্তদশ শতক

উত্তরঃ (ঘ) সপ্তদশ শতক

৪. “কন্যারে ফেলিল যথা…!”– কন্যাকে কোথায় ফেলেছিল?
(ক) সমুদ্রতীরে
(খ) রাজপুরীতে
(গ) সমুদ্রের মাঝখানে
(ঘ) পুষ্প কাননে

উত্তরঃ (গ) সমুদ্রের মাঝখানে

৫. ” দিব্য পুরী সমুদ্র মাঝার। “— ‘দিব্য পুরী’ বলতে এখানে কি বোঝানো হয়েছে?
(ক) রাজপুরী
(খ) স্বর্গীয় পুরী
(গ) কুৎসিতপুরী
(ঘ) পাতালপুরী

উত্তরঃ (খ) স্বর্গীয় পুরী

৬. ‘অতি মনােহর দেশ’ বলতে বােঝানাে হয়েছে কোন দেশেকে?
(ক) সিংহলকে 
(খ) রেঙ্গুনকে
(গ) সমুদ্রের পাশে পার্বত্য অঞ্চলকে 
(ঘ) সুন্দরবনের উপকূলভাগকে

 উত্তরঃ (ক) সিংহলকে

৭. “ সমুদ্রনৃপতি সুতা…। ”— কে ‘সমুদ্রপতি সুতা’?
(ক) পদ্মা
(খ) গঙ্গা
(গ) যমুনা
(ঘ) বেহুলা

উত্তরঃ (ক) পদ্মা

৮. “ তাহাতে বিচিত্র টঙ্গি…। ”— ‘টঙ্গি’ হল আসলে –
(ক) দড়ি
(খ) ছবি
(গ) প্রাসাদ
(ঘ) ফুল

উত্তরঃ (গ) প্রাসাদ

 ৯. “ ভাঙ্গিল প্রবল বাও ”– ‘বাও’ শব্দের অর্থ হল –
(ক) বায়ু 
(খ) বজ্র
(গ) সমুদ্রস্রোত 
(ঘ) নদীর বান

 উত্তরঃ (ক) বায়ু

১০. “ রূপে অতি রম্ভা যিনি…। ”– রম্ভা কে?
(ক) পদ্মাবতীর সখী
(খ) সতী নারী দেখা
(গ) স্বর্গের অপ্সরাবিশেষ
(ঘ) নারদের স্ত্রী

উত্তরঃ (গ) স্বর্গের অপ্সরাবিশেষ

১১. সমুদ্রকন্যা রম্ভাকে জয় করেছে –
(ক) কথায়
(খ) রূপে
(গ) অর্থে
(ঘ) জীবনী শক্তিতে

উত্তরঃ (খ) রূপে

১২. পদ্মাবতী যার শাপে স্বর্গভ্রষ্ট হয়েছিলেন বলে পদ্মা অনুমান করেছিলেন তিনি হলেন –
(ক) জরাকারু মুনি 
(খ) অগ্নিদেব
(গ) ব্যাসদেব 
(ঘ) দেবরাজ ইন্দ্র

উত্তরঃ (ঘ) দেবরাজ ইন্দ্র

১৩. “ মনেতে কৌতুক বাসি…” পদ্মার মনে কৌতূহল জাগার কারণ কি?
(ক) তিনি সমুদ্রতীরে একটি মাস দেখতে পেয়েছিলেন 
(খ) তিনি সমুদ্রতীরে পশুদের আওয়াজ শুনেছিলেন
(গ) তিনি সমুদ্রতীরে পাখিদের কলরব শুনেছিলেন
(ঘ) তিনি সমুদ্রতীরে একটি পর্বত লক্ষ করেছিলেন

উত্তরঃ (ক) তিনি সমুদ্রতীরে একটি মাস দেখতে পেয়েছিলেন

১৪. “ বিস্মিত হইল বালা…। ”— বালা-র বিস্মিত  হওয়ার কারণ ?
(ক) নিপতিতা কন্যার অচৈতন্য অবস্থা দেখে
(খ) নিপতিতা কন্যার কুৎসিত রূপ দেখে
(গ) নিপতিতা কন্যার রূপের বাহার দেখে
(ঘ) নিপতিতা কন্যার চাহনি দেখে

উত্তরঃ (গ) নিপতিতা কন্যার রূপের বাহার দেখে

১৫. “দণ্ড চারি এই মতে…।”— ‘দণ্ড চারি’ কি?
(ক) ৬০ মিনিট
(খ) ৭০ মিনিট
(গ) ৯০ মিনিট
(ঘ) ৯৬ মিনিট

উত্তরঃ (ঘ) ৯৬ মিনিট

১৬. “নিপতিতা চেতন রহিত”— পদ্মাবতী চেতনা হারিয়েছেন কেন?
(ক) সমুদ্রের ঝড়-ঝক্ষ্মায়
(খ) প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামিতে 
(গ) গভীর বনের দাবানলে
(ঘ) স্বামীর জন্য দুশ্চিন্তায়

উত্তরঃ (ক) সমুদ্রের ঝড়-ঝক্ষ্মায়

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. সিন্ধুতীরে পদ্যাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থ‌ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর- সিন্ধুতীরে পদ্যাংশটি পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. পদ্মাবতী কাব্যটি কোন কাব্যের অনুবাদ?

উত্তর- পদ্মাবতী কাব্যটি পদুমাবৎ কাব্যের অনুবাদ।

৩. রাজা রত্নসেন কার মুখে পদ্মাবতীর রূপের কথা শুনেছিলেন?

উত্তর- রাজা রত্নসেন এক শুকপাখির মুখে পদ্মাবতীর কথা শুনেছিলেন।

৪. পদ্মাবতী কাব্যে পদ্মাবতীর প্রিয় শুকপাখিটির নাম কী ছিলো?

উত্তর- পদ্মাবতী কাব্যে পদ্মাবতীর প্রিয় শুকপাখিটির নাম ছিলো হীরামন।

৫. পদ্মাবতী কে বিবাহ করে দেশে ফেরার পথে রাজা রত্নসেন কিভাবে বিপর্যস্ত হন?

উত্তর- পদ্মাবতী কে বিবাহ করে দেশে ফেরার পথে নিজের অহংকারের জন্য রাজা রত্নসেন সমুদ্রের দ্বারা বিপর্যস্ত হন।

৬. জায়সীর কাব্যে সমুদ্র কন্যার নাম কী ছিলো?

উত্তর- মালিক মুহম্মদ জায়সীর রচিত পদুমাবৎ কাব্যে সমুদ্র কন্যার নাম ছিলো লক্ষী, যা আলাওলের কাব্যে পরিবর্তিত হয়ে পদ্মা হয়েছে।

৭. “তাহাতে বিটিত্র টঙ্গি..”- টঙ্গি কথার অর্থ কী??

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্যের থেকে নেওয়া হয়েছে। টঙ্গি কথার অর্থ হলো প্রসাদ।

৮. ” তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ “- কার কোথায় সর্বক্ষণ থাকার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ আলাওল রচিত সিন্ধুতীরে কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে সমুদ্র কন্যা পদ্মার ক্থা বলা হয়েছে। তিনি সর্বক্ষণ পাহাড় ঘেরা, পুষ্পের দ্বারা শোভিত দ্বীপ ভূমির স্বর্ণ ও রত্ন খচিত প্রসাদে থাকতেন।

৯. “দেখিয়া রূপের কলা/ বিস্মিত হইল বালা/ অনুমান করে নিজ চিতে।”–কে কী অনুমান করেছিলো?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ আলাওল রচিত সিন্ধুতীরে কাব্য থেকে গৃহীত। এখানে বলা হয়েছে সমুদ্র কন্যা পদ্মা , পদ্মাবতীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ভেবেছিলেন সে কোনো সাধারণ নারী নন সে হয়তো স্বর্গের কোনো বিদ্যাধরী যে ইন্দ্রশাপ প্রাপ্ত হয়ে মর্তে অবচেতন হয়ে পড়ে আছেন।

১০. ” বাহুরক” শব্দের অর্থ কী? কী বাহুরক কার কাম্য?

উত্তর- ‘বাহুরক’ শব্দের অর্থ হলো ফিরে আসা। অপরূপ সুন্দরী পদ্মাবতীর জীবন যেন ফিরে আসে এই কামনা ই করেছেন সমুদ্র কন্যা পদ্মা।

১১. “বিধি মোরে না কর নৈরাশ”-বক্তা কে? তিনি কোন বিষয়ে নৈরাশ হতে চান না?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্য থেকে গৃহীত। উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন সমুদ্র কন্যা পদ্মা।

পদ্মা প্রভাতে পিতৃ গৃহ থেকে নিজ গৃহে ফেরার পথে অচেতন পদ্মাবতী ও তার সখীদের দেখতে পান। তিনি ই অচেনা নারী ও তার সখীদের আরোগ্য কামনা করে ইষ্টদেবতাদের কাছে প্রার্থনা করেন।

১২. “কন্যারে ফেলিল যথা”- কন্যাকে কোথায় ফেলা হল?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্যের অংশ। কন্যা অর্থাৎ পদ্মাবতীকে সমুদ্রবেষ্টিত এক দিব্যপুরি সম দ্বীপে ফেলা হলো। সেই দ্বীপ টি ছিলো সমুদ্রকন্যা পদ্মার আবাসস্থল।

১৩. “সখী সবে আজ্ঞা দিল”-বক্তা কে? তিনি তার সখীদের কী আজ্ঞা দিয়েছিল?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি সৈয়দ আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্যের অংশ। উদ্ধৃতিটির বক্তা সমুদ্র কন্যা পদ্মা। তিনি তার সখীদের অচেতন হয়ে পরে থাকা পঞ্চ কন্যাকে ধরে তার উদ্যানে নিয়ে বস্ত্র দ্বারা ঢেকে দিতে বলেন। এরপরে তারা তাদের সুস্থ করে তোলার কাজে নিমগ্ন হন।

১৪. পঞ্চ কন্যা কারা?

উত্তর- সিন্ধুতীরে পাঠ্যাংশে পঞ্চ কন্যা বলতে রাজবধূ পদ্মাবতী ও তার চার সখী চন্দ্রকলা,বিজয়া,রোহিনী ও বিধুন্নলার কথা বলা হয়েছে।

১৫. “মধ্যেতে যে কন্যা খানি রূপে অতি রম্ভা জিনি”- রম্ভনিন্দিত রুপটি কার?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি সিন্ধুতীরে কাব্যাংশ থেকে গৃহীত। আলোচ্য অংশে রম্ভানিন্দিত রুপটি হল রাজা রত্নসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী পদ্মাবতীর।

 

ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

1. পদ্মা কে ছিলেন? সে কীরূপ উদ্যান রচনা করেছিল?

উত্তর– মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন সৈয়দ আলাওল । তার রচিত পদ্মাবতী কাব্যের সিন্ধুতীরে কবিতায় পদ্মার উল্লেখ আছে। তিনি হলেন সমুদ্রের রাজার গুণবতী ও স্বাহৃদয়া কন্যা।

    পদ্মা সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে এক পর্বত ঘেরা সুন্দর স্থানে তার উদ্যান গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে ছিলো ফল ও ফুলের প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ অনেক বৃক্ষ, তারই পাশে পদ্মার এই অপরূপ সুন্দর উদ্যানটি অবস্থিত ছিলো। এছাড়াও সেখানে ছিলো নানাবিধ সুগন্ধি পুষ্পের সমাহার ও ফল এবং সুলক্ষণ যুক্ত বৃক্ষ যা তার শােভা বর্ধন করত। তারই মধ্যে এক মনি মানিক্যে সুসজ্জিত এবং স্বর্ণখচিত প্রাসাদে সমুদ্র কন্যা পদ্মা বাস করতেন।

2. সিন্ধুতীরে কবিতায় যে দিব্যস্থানটির উল্লেখ আছে তার পরিচয় দাও?

 উত্তর- মধ্যাযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন সৈয়দ আলাওল। তার লেখা পদ্মাবতী কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা যেখানে থাকতেন সেই স্থানটি ছিল দিব্যস্থান। তার কবিতায় সেই স্থানের জথাজথ বর্ণনা দিয়েছেন কবি সৈয়দ আলাওল।

      পদ্মাবতী কাব্যে সৈয়দ আলাওল সিন্ধু তীরের বর্ণনায় এক ঐশ্বর্য বিলাসময়  দৃশ্যকে তুলে ধরেছেন, পদ্মা সমুদ্রকন্যার অনুসারে। সিন্ধু তীরে কবিতায় পদ্মাবতীর অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় সেই স্থানটির অপরুপ বর্ণনা দিয়েছে তিনি। অতি মনােহর দেশ, সেখানে দুঃখ, কষ্ট কিছু নেই সর্বদা সত্য ধর্ম বিরাজমান। আহত এবং সঙ্গাহীন পদ্মাবতীকে যে স্থান থেকে সমুদ্রকন্যা উদ্ধার করে সেই স্থানে সমুদ্র মধ্যবর্তী অঞ্চলে এক দিব্য ক্রান্তি, সুন্দর। প্রাসাদের অবস্থান এবং এক পার্বত্য প্রদেশের কোলে সুন্দর উদ্যানের অবস্থিতি লক্ষ্য করা যায়- উপরে পর্বত এক ফল ফুলে সুসজ্জিত আছে তার পাশে পদ্মা উদ্যান রচনা করেছিলেন। সেই স্থানটিকেই দিব্যন রুপে কবি উল্লেখ করেছেন। কারণ উদ্যানটি নানা ফল, ফুল, বৃক্ষ ও লতাগুল্মে পরিপূর্ণ। এছাড়া সেই উদ্যানে সুগন্ধি মনােহর ফুল এবং সুলক্ষণ যুক্ত বৃক্ষ রয়েছে এবং বাগানের পাশে স্বর্ণখচিত এক সুন্দর প্রাসাদ রয়েছে। যেখানে সমুদ্রকন্যা পদ্মা সর্বদা অবস্থান করে। কবির কল্পনায় এটি যেন দিব্যপুরী।

3.”পঞ্চকন্যা পাইল চেতন”– পঞ্চ কন্যা কারা? কিভাবে তারা চেতন ফিরে পেয়েছিল?

উত্তর– উদ্ধৃতাংশটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের শেষ্ঠ কবি সৈয়দ আলাওল রচিত পদ্মাবতী কাব্যের অংশ।উদ্ধৃতাংশে পঞ্চ কন্যা বলতে অচৈতন্য হয়ে পরে থাকা রাজা রত্নসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী পদ্মাবতী ও তার চার সখীদের কথা বলা হয়েছে।

          সমুদ্রকন্যা পদ্মা প্রথমে তাদের কাছে গিয়ে যখন দেখে যে তাদের শ্বাস সল্প পদ্মাবতীর জন্য প্রার্থনা করেন। তারপর তিনি উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পদ্মার আদেশে তার সখীরা অচেতন পদ্মাবতী ও তার সখীদের দেহ কাপড়ে ঢেকে উদ্যানের মধ্যে নিয়ে যান। তারপর তন্ত্রমন্ত্ৰ মহাঔষধের দ্বারা তাদের মাথায় এবং পায়ে আগুনের সেক দেওয়া হয়। এইভাবে চারদণ্ড চিকিৎসা করার পর চার সখীসহ পদ্মাবতী জ্ঞান ফিরে পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top