Class 8 Bengali chapter 33 মাসি পিসি

মাসি পিসি – জয় গোস্বামী

কবি পরিচিতি

সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের এক খ্যাতিমান কবি জয় গোস্বামী ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ নভেম্বর কলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল প্রত্নজীব, উন্মাদের পাঠক্রম, ভূতুম ভগবান, ঘুমিয়েছে ঝাউপাতা, পাগলী তোমার সঙ্গে ইত্যাদি। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল সেই সব শেয়ালেরা, সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা ইত্যাদি। সাহিত্য সৃষ্টির জন্য আনন্দ পুরস্কার এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। উৎস : আমাদের পাঠ্য ‘মাসিপিসি’ কবিতাটি “পাগলী তোমার সঙ্গে” কাব্য থেকে সংকলিত।

 

কবিতার সারাংশ

মাসি পিসি কবিতায় কবি জয় গোস্বামী আমাদের সমাজের ঘরে ঘরে কাজ করা মহিলাদের সম্পর্কে তাদের জীবন কাহিনী নিয়ে আলোচনা করেছেন কবি বলেছেন তাঁর কবিতায় যখন আমরা রাতের অন্ধকারে গভীর নিদ্রায় নিমজ্জিত ঠিক সেই সময় এই কাজের মাসি রা তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে আমাদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য তাদের কোনো নির্দিষ্ট রাত দিন বা সকাল নেই সব সময়ই তারা কাজের জন্য ছুটে বেড়ায় কারণ তাদের পরিবারের বোঝা তাদের নিজেদেরই বইতে হয় সংসার চালানোর জন্য তারা নিত্যদিন ঘটে চলেছে ও তাদের কর্মব্যস্ততার জীবন ট্রেনে বাসে ও অন্যান্য যানবাহনে এই কাজের মাসি রায় দখলে নিয়ে রেলস্টেশনে যায় তখন স্টেশনের পাহারাদার যা তাদের নানাভাবে বিরক্ত করে তাদের থেকে টাকা পয়সার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কিন্তু তারা সেই এত অত্যাচার নিপীড়ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের দৈনন্দিন দিনের কাজ মনোযোগ সহকারে করে চলে ট্রেনে বাসে ছুটে চলে ঘরে ঘরে পরিষেবা দিতে থাকে কারণ তাদের সংসারের অভাব বরং তারা যদি কাজ না করে তাহলে তাদের সংসারের চাল জুটবেনা পরিবারের মানুষের পেট চলবেনা অনাহারে দিন কাটাতে হবে একসময় মৃত্যুবরণ করতে হবে|

 

হাতে কলমে

১.১ জয় গোস্বামীর লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।

উত্তর- জয় গোস্বামীর লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম ‘প্রত্নজীব ও ‘উন্মাদের পাঠক্রম’।

১.২ জয় গোস্বামীর লেখা একটি উপন্যাসের নাম লেখো।

উত্তর- জয় গোস্বামীর লেখা একটি উপন্যাসের নাম ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’।

২. নীচের প্রশ্নগুলির অতিসংক্ষেপে উত্তর দাও :

২.১ অনেকগুলো পেট বাড়িতে’—’পেট’ এর আভিধানিক অর্থ কী? এখানে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

উত্তর- পেট এর আভিধানিক অর্থ হলো উদর। এখানে পেট বলতে সংসারের সদস্য অর্থাৎ ছেলেমেয়ে, স্বামী, মা,বাবা ইত্যাদিদের বোঝানো হয়েছে।

২.২ ‘সাত ঝামেলা জোটায়’—এখানে ‘সাত’ শব্দটির ব্যবহারের কারণ কী?

উত্তর- সাত একটি সংখ্যাবাচক শব্দ। এখানে সাত বলতে নানারকম ঝামেলা বা উৎপাতের কথা বলা হয়েছে।

২.৩ ‘মাহিনা’ শব্দটি কবিতায় কী অর্থে ব্যবহৃত? শব্দটির অন্য কোন অর্থ তোমার জানা আছে?

উত্তর- ‘মাহিনা’ শব্দটি কবিতায় মাস অর্থে ব্যবহৃত। শব্দটির অন্য অর্থ হলো ‘বেতন’।

২.৪ কোন শব্দ থেকে এবং কী করে জষ্টি শব্দটি এসেছে?

উত্তর- বাংলা মাস জ্যৈষ্ঠ শব্দ থেকে জষ্টি শব্দটি এসেছে। চলিত বাংলায় এটি বর্ণ বিকারের একটি দৃষ্টান্ত।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর সংক্ষেপে লেখো :

 ৩.১ ‘শুকতারাটি ছাদের ধারে, চাঁদ থামে তালগাছে—এই পক্তিটির মাধ্যমে দিনের কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর- আলোচ্য পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে দিনের ভোরবেলার কথা বলা হয়েছে। শুকতারা আকাশে ভোরবেলায় দেখা যায় এবং চাঁদও ডুবে যাওয়ার সময় তালগাছের মাথার কাছে নেমে আসে।

৩.২ ‘সু এক ফোঁটা শিশির তাকায় ঘাসের থেকে ঘাসে—এই পক্তিটিতে যে ছবিটি ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায়

 উত্তর- এই পদ্ধিটির মাধ্যমে ভোরের বেলায় ঘাসের আগায় যে শিশিরবিন্দু সূর্যালোকে ঝলমল করে তার প্রতি ইঙ্গিতে করা হয়েছে। শীত ও হেমন্তকালে রাতের বেলায় ঘাসের আগায় শিশির পড়ে। ভোরে সূর্যরশ্মিতে তা কলমল করে।

৩.৩ মাস মাহিনার হিসেব তো নেই—মাস মাহিনার হিসেব নেই কেন?

উত্তর– সাংসারিক অভাব-অনটন চালপাচারকারী মাসিপিসিদের নিত্যসঙ্গী। সুতরাং সাল বা মাস তার হিসাব রাখার পরকার তাদের নেই। ভোর হলেই তাদের বেরিয়ে পড়তে হবে কাজে, অন্যথায় অনাহারে কাটাতে হবে। তাই তাদের সাল বা মাস হিসাব করলে চলবে না।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

৪.১ শতবর্ষ এগিয়ে আসে শতবর্ষ যায়’—এই পঙক্তিটির মধ্যে দিয়ে কবি কী বলতে চেয়েছেন আলোচনা করো?

 উত্তর- শতবর্ষ কথাটির অর্থ হলো শত বর্ষের সমাহার। অর্থাৎ, শতবর্ষ ধরে মাসিপিসিদের দুঃখজর্জর দিনলিপি চলতেই থাকে। বংশ পরম্পরায় মাসিপিসির পরিবারের লোকজন গাড়ি চেপে চাল নিয়ে শহরে যাবার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কবির মতে এই tradition চলতেই থাকে যুগ যুগ ধরে।

৪.২ ‘মাসিপিসি’ কবিতায় এই মাসিপিসি কারা? তাঁদের জীবনের কোন ছবি তুমি এই কবিতায় খুঁজে পাও?

উত্তর– ‘মাসিপিসি’ কবিতায় এই মাসিপিসি বলতে নিত্য যারা গ্রাম থেকে কোলে কাঁখে করে চালের বস্তা নিয়ে এসে শহরে যোগান দেয় তাদের কথা বলা হয়েছে। এই কবিতায় মাসিপিসিদের দুঃখভারজর্জর অনশনক্রিষ্ট জীবনের দিনলিপি আমরা খুঁজে পাই।।

৪.৩ ‘মাসিপিসি’ কবিতার এই মাসিপিসিদের মতো আর কাদের কথা তুমি বলতে পারো যাঁদের ট্রেনের করে জীবিকা অর্জন করতে হয়?

উত্তর- ‘মাসিপিসি’ কবিতায় এই মাসিপিসিদের মতো আমার মনে পড়ে ট্রেনের হকারদের কথা যারা ট্রেনের ওপর নির্ভর করে অর্থ উপার্জন করে সংসার চালায়।

 ৪.৪ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ওরা কাজ করে’ কবিতাটি তুমি পড়ে নাও। মাসিপিসি কবিতার সঙ্গে ‘ওরা কাজ করে কবিতার কোন সাদৃশ্য তোমার চোখে পড়ল তা আলোচনা করো।

 উত্তর– কবিসম্রাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ওরা কাজ করে’ কবিতায় ওরা বলতে শ্রমজীবী মানুষদের কথা অর্থাৎ কৃষক শ্রমিক, মাঝিদের কথা বলা হয়েছে। এই কবিতাতেও মাসিপিসি বলতে ট্রেনে করে চাল নিয়ে আসা শ্রমজীবী মানুষদের কথাই কবির মমতামেদুর দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে।

৫. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো :

৫.১ ফুল ছুঁয়ে যায় চোখের পাতায়, জল ছুঁয়ে যায় ঠোঁটে। (জটিল বাক্যে)

উত্তর- যখন ফুল ছুঁয়ে যায় চোখের পাতায় তখন জল ছুঁয়ে যায় ঠোঁটে।

৫.২ ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি রাত থাকতে ওঠে। (জটিল বাক্যে)

উত্তর- যখন রাত থাকে তখন থেকে ঘুমপাড়ানি মাসিপিসিরা ওঠে।

 ৫.৩ অনেকগুলো পেট বাড়িতে একমুঠো রোজগার। (যৌগিক বাক্যে)

উত্তর– অনেকগুলো পেট বাড়িতে কিন্তু একমুঠো রোজগার।

 

অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর

১. ঘুমপাড়ানি মাসিপিসিরা  কখন ঘুম থেকে উঠে?

 উত্তর– মাসিরা ভোর থাকতে ঘুম থেকে উঠে যায়|

২. এই মাসি পিসি দের সাথে কারা ঝামেলা করে?

উত্তর–  মাসি পিসি দের সাথে রেলের হোমগার্ড রা ঝামেলা করে |

৩. কবিতাটি তে কোন কোন ট্রেন এর কথা উল্লেখ রয়েছে?

উত্তর।  মাসি-পিসি কবিতায় লালগোলা ও বনগাঁ এই দুইটি ট্রেনের নাম উল্লেখ রয়েছে|

৪. কবিতাটিতে লালগোলা বা বনগাঁ শুধু এই দুটো লাইনের ট্রেনের কথায় কেন বলা রয়েছে ?

উত্তর– কবিতার কথা বলা রয়েছে এর কারন হল আমরা দেখে থাকি আমাদের জেলায় তথা আমাদের রাজ্যে বনগাঁ লাইন থেকে সবথেকে বেশি পরিমাণে কাজের মহিলারা হোক বা কাপড় কাচা মাসী আবার বাসন মাজা হোক না কেন এই লাইনে তাদের বেশি পরিমাণে দেখা যায়|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top