Class 8 Bengali chapter 01 বোঝাপড়া-min

বোঝাপড়া – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবি পরিচিতি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহন করেন ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। দীর্ঘ জীবনে অজস্র কবিতা, গান, ছোটোগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন। ১৯১৩ সালে Song Offerings- এর জন্য এশিয়ার মধ্যে তিনিই প্রথম নোবেল পুরস্কার পান। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁর রচনা। পাঠ্য কবিতাটি তাঁর ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

 

কবিতার সারাংশ

কবি এই কবিতায় বলতে চেয়েছেন আমাদের জীবন সুখ দুঃখের সমন্বয়ে গড়া। জীবনে যেমন আনন্দ ও সুখ আছে, তেমনি আছে দুঃখ ও বেদনা। জীবনের কঠিন সত্যকে আমাদের মেনে নিতে হবে সহজ ভাবে। এই পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে নানা ধরনের মানুষ, সবার সাথে সবার মনের মিল নাও হতে পারে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কখনও না কখনও আঘাত আসে, সেই আঘাতকে এড়িয়ে যাবে এমন কারোর ভাগ্যে ঘটে না। অনেক ঝড় ঝঞ্ঝাকে অতিক্রম করে সে যখন সুখের সন্ধান পায় তখন হয়ত তাঁর অজান্তে জীবনে নেমে আসে অনেক বড়ো আঘাত। জীবনের এই কঠিন সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সময় কবি মানুষকে বিবাদ ভুলে থাকতে বলেছেন। দুঃখের মধ্যেও অনেকটা সুখের সন্ধান মেলে। জীবনে দুঃখ, আঘাত সব থাকলেও সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থেকে তাকে প্রাণ ভরে দেখতে পারলে তা মৃত্যুর থেকে অনেক শ্রেয়। সমস্ত বিশ্বভুবনই আমাদের জন্য পড়ে থাকে। ভাগ্যকে মেনে না নিয়ে কেও যদি নিজের দুর্ভাগ্যের ছায়ার আড়ালে বসে নিজের জীবনকে কষ্ট দেয় তাতে সুখ ফিরে আসেনা। সুখ, দুঃখ সবকিছুর জন্য নিজের মনকে প্রস্তুত করে জীবনে চলার পথকে সহজ করে নিতে বলেছেন কবি। কবিতাটির প্রতিটি পঙটির শেষে বারংবার মানব জীবনের প্রতি কবির এই বার্তাই ধ্বনিত হয়েছে।

 

হাতে কলমে

১.১ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত কোন পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত লিখতেন?

উঃ- জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত ভারতী ও বালক পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত লিখতেন।

১.২ ভারতের কোন প্রতিবেশী দেশে তাঁর লেখা গান জাতীয় সংগীত হিসাবে গাওয়া হয়?

উঃ- ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে তাঁর লেখা গান জাতীয় সংগীত হিসাবে গাওয়া হয়।

২. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

২.১ ‘সেইটে সবার চেয়ে শ্রেয়’। – কোনটি সবার চেয়ে শ্রেয়?

উঃ- কবি আলোচ্য অংশে বোঝাতে চেয়েছেন মানুষের জীবনে এমন অনেক স্থান আছে যে কী বিপদ ঘটবে জানা নেই। তখন আশঙ্কা করা হয় না যে বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে এরকম সময়ে আমরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পরি। তাই কবি বলেছেন আঘাত পেয়ে তলিয়ে যাওয়ার চেয়ে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

২.২ ‘ঘটনা সামান্য খুবই’। – কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উঃ- আলোচ্য কবিতায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষের জীবনের সাধারন ঘটনাই অনেক সময় বড়ো আকার নেয়। যেখানে আশংকার কোনো কারণ থাকে না সেখানেই ভয়ংকর কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই কবি বলেছেন মনকে বোঝাতে হবে ভালোমন্দ যাই আসুক না কেনো সেই বাস্তব সত্যকে সহজ মেনে নেওয়ার শক্তি সঞ্চয় করা সঠিক হবে।

২.৩ ‘তেমন করে হাত বাড়ালে / সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি’। – উদ্ধৃতিটির নিহিতার্থ স্পষ্ট করো।

উঃ- আলোচ্য কবিতায় কবি মনের সঙ্গে বোঝাপড়ার কথা বলেছেন। পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষ একে অপরের কথা ভাববে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু এই নয় যে একে অন্যের মনের মত হবে তাই সবকিছুর জন্য দরকার মনের বোঝাপড়া। তাই মন থেকে সবকিছু আপন করে নিলে অনেক সুখ পাওয়া যাবে বলে কবির মনে হয়।

২.৪ ‘মরণ এলে হঠাৎ দেখি / মরার চেয়ে বাঁচাই ভালো’। – ব্যাখ্যা করো।

উঃ- মানুষ অনেক সময় বাঁচার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে তখন সে মরতে চায়। অথচ মৃত্যু যখন মানুষের একেবারে কাছে চলে আসে তখন কিন্তু মানুষ মরতে ভয় পায়। মৃত্যু অপেক্ষা জীবন অনেক সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ তখন তা মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই কবি বলেছেন মৃত্যু অপেক্ষা জীবন অনেক বড়ো ও তপস্যার ফল।

২.৫ ‘তাহারে বাদ দিয়েও দেখি / বিশ্বভুবন মস্ত ডাগর’। – উদ্ধৃতিটির মধ্য দিয়ে জীবনের কোন সত্য প্রকাশ পেয়েছে?

উঃ- বিচ্ছেদ জীবনের একটি নিয়ম। এই বিচ্ছেদ মৃত্যুও হতে পারে অথবা মানুষের সাথে মানুষেরও হতে পারে। এই বিচ্ছেদ মানুষ সহ্য করবেই কারণ কোনো ব্যক্তিই জীবনের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই ব্যক্তি যদি নাও থাকে তবুও পৃথিবী একইরকম থাকবে। কোনো ব্যক্তি বিশেষের উপস্থিতিতে এই বিশ্বভুবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন হয়না, সে তাঁর মতন ঠিকই থাকে।

২.৬ কীভাবে মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে?

উঃ- “বোঝাপড়া” কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন যে ভাগ্যের সঙ্গে ঝগড়া করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারা তাই কষ্ট হলেও কান্নাকাটি করে নিজের মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে নেওয়া উচিত।

২.৭ ‘দোহাই তবে এ কার্যটা / যত শীঘ্র পারো সারো’। – কবি কোন কার্যের কথা বলেছেন? সেই কার্যটি শীঘ্র সারতে হবে কেন?

উঃ- কবি বলতে চেয়েছেন বিধির সঙ্গে বিবাদ করে নিজের পায়ে কুড়ুল মারলে তা শীঘ্রই মিটিয়ে ফেলা উচিত।

নিজের দোষে জীবনে কিছু ভুল করলে তা বিধির সঙ্গে বিবাদ করার সমান, তাই অনেকটা চোখের জল ফেলে হলেও নিজের মনকে বোঝানো উচিত। তাই কবি এই কার্যটি শীঘ্রই সারতে বলেছেন।

২.৮ কখন আঁধার ঘরে প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব?

উঃ- নিজের মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে এবং কার সঙ্গে কতটুকু তফাৎ তা ভুলে গেলেই আঁধার ঘরে প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব।

২.৯ ‘ভুলে যা ভাই, কাহার সঙ্গে / কতটুকুন তফাৎ হলো’। – এই উদ্ধৃতির মধ্যে জীবনের চলার ক্ষেত্রে কোন পথের ঠিকানা মেলে?

উঃ- মানুষের সঙ্গে মানুষের তফাৎ হতে শুরু করে তখন যখন মানুষ নিজের চেয়ে নিজের অহংকারবোধকে প্রাধান্য দেয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের তফাৎ আসলে চোখে দেখা যায়না, এই তফাৎ মানসিক তফাৎ। মানুষে মানুষে এই পার্থক্য মানুষকে একে অপরের থেকে দূর করে দেয়।

২.১০ ‘অনেক ঝঞ্ঝা কাটিয়ে বুঝি / এলে সুখের বন্দরেতে’, – ‘ঝঞ্ঝা কাটিয়ে আসা’ বলতে কী বোঝো?

উঃ- আমরা অনেকসময় পথ চলতে গিয়ে অনেক বাঁধার মুখোমুখি হই, কবির ভাষায় সেগুলো ঝঞ্ঝা।

         একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেই ঝঞ্ঝা মানুষ কাটিয়ে ওঠে এবং নিজেকে উদ্ধার করার মানসিক শক্তিও অর্জন করে নতুন আলোর সন্ধান করে। একেই কবি ‘ঝঞ্ঝা কাটিয়ে আসা’ বলতে চেয়েছেন।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখোঃ

৩.১ ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক / সত্যেরে লও সহজে’। – তুমি কি কবির সঙ্গে একমত? জীবনে চলার পথে নানা বাধাকে তুমি কীভাবে অতিক্রম করতে চাও?

উঃ- হ্যাঁ, আমি কবির সঙ্গে একমত।

         জীবনে চলার পথে অনেক বাঁধা আসবে, সেগুলোকে সত্যের সঙ্গে যাচাই করে অতিক্রম করবো।

৩.২ ‘মনেরে আজ কহ যে, / ভালো মন্দ যাহাই আসুক / সত্যেরে লও সহজে’। – কবির মতো তুমি কি কখনও মনের সঙ্গে কথা বলো? সত্যকে মেনে নেবার জন্য মনকে তুমি কীভাবে বোঝাবে – একটি পরিস্থিতি কল্পনা করে বুঝিয়ে লেখো।

উঃ- হ্যাঁ, আমি নিজের মনের সাথে কথা বলি।

আমি বিদ্যালয়ে প্রতিবছর তৃতীয় হতাম, কিন্তু আগের বছর শরীর খারাপের জন্য অনেকদিন পড়াশোনা করতে পারিনি। তাই পঞ্চম স্থান পেয়েছি। কিন্তু তাতে আমার মনে খুব কষ্ট হয়েছিল। আমি শরীর খারাপের জন্য পড়তে পারিনি এই ্পিছিয়ে পরার সত্যটা আমি আমার মনকে বুঝিয়েছিলাম।

৩.৩ ‘তেমন করে হাত বাড়ালে / সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি’। – “তেমন করে” কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও। এখানে কবি কী ধরনের ইঙ্গিত করেছেন – লেখো।

উঃ- “তেমন করে” কথাটির অর্থ হল কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

         কবি এখানে সেই সুখের কথা বলেছেন যেখানে মনের মধ্যে কোনো হিংসা, বিবাদ থাকবে না। সেই সুখ দিয়ে পুরো বিশ্বকে অনেক বড়ো মনে হবে, ভোরের আলো মধুর লাগবে এবং তখন মনে হবে মরার চেয়ে বাঁচাই ভালো।

৪. নীচের শব্দগুলির দল বিশ্লেষণ করে মুক্ত দল ও রুদ্ধ দল চিহ্নিত করোঃ

বোঝাপড়া = বো – ঝা – প – ড়া (চারটি দল, বো = মুক্তদল, ঝা = মুক্তদল, প = মুক্তদল, ড়া = মুক্তদল)
কতকটা = ক – তক – টা (তিনটি দল, ক = মুক্তদল, তক = রুদ্ধদল, টা = মুক্তদল)
সত্যেরে = সত – তে – রে (তিনটি দল, সত = রুদ্ধদল, তে = মুক্তদল, রে = মুক্তদল)
পাঁজরগুলো = পাঁ – জর- গু – লো (চারটি দল, পাঁ = মুক্তদল, জর = রুদ্ধদল, গু = মুক্তদল, লো = মুক্তদল)
বিশ্বভুবন = বিশ – শো – ভু – বন (চারটি দল, বিশ = রুদ্ধদল, শো = মুক্তদল, ভু = মুক্তদল, বন = রুদ্ধদল)
অশ্রুসাগর = অশ – রু – সা – গর (চারটি দল, অশ = রুদ্ধদল, রু = মুক্তদল, সা = মুক্তদল, গর = রুদ্ধদল)

৫. নীচের প্রতিটি শব্দের তিনটি করে সমার্থক শব্দ লেখোঃ

মন = হৃদয়, অন্তর, চিত্ত
জখম = আঘাত, ঘা, চোট
ঝঞ্ঝা = বিপদ, ঝড়, ঝক্কি
ঝগড়া = কোন্দল, কলহ, তর্ক
সামান্য = অল্প, কম, তুচ্ছ
শঙ্কা = ভয়, আশঙ্কা, সংশয়
আকাশ = অম্বর, গগন, শূন্য

৬. নীচের প্রতিটি শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ দিয়ে শব্দজোড় তৈরি করে বাক্য রচনা করোঃ

আঁধার = আলো = মানুষের জীবনে আলো আঁধারের মতো পরিস্থিতি আসে।
সত্য = মিথ্যা = মাস্টারমশাই সত্য মিথ্যা যাচাই না করে ছাত্রটিকে শাস্তি দিলেন।
দোষ = গুণ = নিজের দোষ গুণ বিচার না করে অন্যকে দোষারোপ করা উচিৎ নয়।
আকাশ = পাতাল = ধনী গরীবের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ ভাবা উচিৎ নয়।
সুখ = দুঃখ = জীবনে সুখ দুঃখ যাই আসুক না কেনো তা মেনে নেওয়া উচিৎ।

 

অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর

১. মান্ধাতার আমল থেকে কি চলে আসছে?

তুমি যদি জীবনে পথ চলতে গিয়ে কাউকে ফাঁকি দাও তো পরবর্তীতে তোমাকেও ফাঁকিতে পড়তে হবে যুগ যুগ ধরে এটাই চলে আসছে

২. ভেসে থাকতে পারলে এটাই শ্রেয় – উক্তিটি ব্যাখ্যা করো

তুমি যদি কখনো বেশি আনন্দে উল্লসিত হয়ে পড়ো আবার কখনো গভীর কষ্টে ডুবে থাকো তাহলে তুমি জীবনে কখনো ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে না ও দৈনন্দিন জীবনে পিছিয়ে পড়বে তাই সবকিছু সামঞ্জস্য রেখে ভেসে থাকতে হবে

৩. জীবনে অনেক সুখ পেতে হলে কি করতে হবে ?

সমস্ত মানুষ যেমন তোমার কাছে ভালো নয় ঠিক তেমনি তুমিও সবার কাছে ভালো নাও সবার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলতে পারলেই জীবন সুখের হবে

৪. কিভাবে তুমি তোমার জীবন আলোকিত করবে ?

জীবনে চলার পথে তুমি অনেকবার অসফল হবে তখন তুমি নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে বসে থাকলে হবে না তোমার জীবন আলোকিত করার জন্য তোমাকে নিজেকেই চেষ্টা করতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top