দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ২৭. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান - রাজশেখর বসু

বাংলা ভাষা বিজ্ঞান – রাজশেখর বসু

কবি পরিচিতি

রাজশেখর বসু জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৮৮০ সালের ১৬ ই মার্চ বর্ধমানের শক্তিগড় অঞ্চলের কাছে অবস্থিত বামুনপাড়া নামক গ্রামে। তিনি জন্মেছিলেন তার মামার বাড়িতে। তার পিতার নাম ছিলো পন্ডিত চন্দ্রশেখর বসু ও মাতার নাম ছিলো লক্ষীমণি দেবী। তার শৈশবের বেশিরভাগ টাই কেটেছে দ্বারভাঙ্গায়। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার ওপর অনার্স নিয়ে স্নাতক হন।

১৯০০ সালে তিনি রসায়নে এম এ পরীক্ষায় বসে তাতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর রসায়নের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি বেঙ্গল কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে যোগদেন।

এরপর ১৯২০ সাল নাগাদ আবার তার লেখা লেখির পর্ব শুরু হয়েছিল। তিনি পরশুরাম  ছদ্মনামেই সব লেখালিখি করতেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হল- বিচিন্তা, কালিদাসের মেঘদূত, লঘুগুরু, কুটির শিল্প ইত্যাদি। হাস্যরসের সাহায্যে ব্যাঙ্গ-কউতুকের মাধ্যমে যেকোনো লেখাকে ফুটিয়ে তোলায় তার দক্ষতা অসামান্য। ১৯৫৫ সালে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পান, ১৯৬৫ সালে তিনি সাহিত্যে অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন, ১৯৫৬ সালে তিনি পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাস্যরসিক গল্পকারের মৃত্যু হয় ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে।

 

সারাংশ

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান গল্পে লেখক পাঠকদের দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন- প্রথম শ্রেণীতে যারা আছেন তারা ইংরেজি খুব অল্প জানেন। প্রধানত অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা ও স্বল্প শিক্ষিত বয়স্ক মানুষেরা এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেণীতে যাদের রেখেছেন তারা ইংরেজি ভাষা জানেন অথবা এই ভাষায় কিছু বিজ্ঞান পড়েছেন এমন। প্রথম শ্রেণীর পাঠকদের সাথে বিজ্ঞানের তেমন পরিচয় থাকে না । তারা যখন বাংলায় লেখা কোনো বৈজ্ঞানিক রচনা পড়েন তখন সেই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে শিখে নিলেই তাদের চলে, তাহলে সেখানে ভাষা কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় না। কিন্তু অপর শ্রেণীতে যারা আছেন, অর্থাৎ যারা ইংরেজি অল্প জানেন, ওই ভাষায় বিজ্ঞানের বই ও পড়েছেন তাদের ক্ষেত্রে বাংলায় লেখা বিজ্ঞান আলোচনার বই গুলোর বাক্য সহজ মনে হবে না বা বাক্যের অর্থ পরিষ্কার হবে না তাদের কাছে। এর একমাত্র কারণ হলো ইংরেজি ভাষার প্রতি বেশি পক্ষপাত করা। এই ধরণের পাঠকদের ক্ষেত্রে যেহেতু ভাষাই সমস্যার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তাদের অন্য শ্রেণীর পাঠকদের তুলনায় বেশি প্রচেষ্টা করতে হয় বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান পড়ার জন্য। লেখক এখানে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার কয়েকটি বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথম হলো পরিভাষার সমস্যা। এছাড়া বিজ্ঞান রচনার সময় প্রয়োজন মত বাংলা শব্দ খুঁজে না পাওয়ায় বেশিরভাগ ইংরেজি শব্দ এই বাংলায় বানান করে লিখে দেওয়া হয়। তবে একথা সত্য যে পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের মানুষদের প্রাথমিক বিজ্ঞানের সম্পর্কে জ্ঞান কম। এর ফলে বাংলায় পপুলার সায়েন্স লেখা ও সহজ কাজ নয়। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান আলোচনা করার জন্য যে পদ্ধতির প্রয়োজন তা অনেক লেখক আয়ত্ত করতে পারেনি। যার ফলে তারা বাংলায় আলোচনা করার সময় ইংরেজি শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা অদ্ভুত কিছু প্রতিশব্দ ব্যবহার করে ফেলেন। ইংরেজিতে ভেবে তারপর সেটা বাংলায় অনুবাদ করে লিখতে গিয়ে সেই লেখার ভাষা অদ্ভুত হয়ে পড়ে। আবার অনেকের মতে বাংলায় পরিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে দিলে হয়তো বিষয়টি বেশি সহজ হবে। কিন্তু সবসময় তা ঘটেনা যদিও। লেখক সকল বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ রচয়িতাদের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলেছেন যে বিজ্ঞান বিষয়ের উপরে স্বল্প জ্ঞান নিয়ে যেন কেউ এমন লেখা না লেখেন , সেক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক তথ্য ভুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তায় সম্পাদকের উচিত সবসময় একজন অভিজ্ঞ লেখক কে দিয়ে এমন প্রবন্ধ রচনা করা।

 

বহু-বিকল্পীয় প্রশ্নোত্তর

১. রাজ শেখর বসুর ছদ্মনাম কি?
(ক) হুতোম পেঁচা
(খ) ভানুসিংহ
(গ) পরশুরাম
(ঘ) অনিল রায়

উত্তর : (গ) পরশুরাম

২. জল আর কর্পূর_____যায়।
(ক) উড়ে
(খ) শুকিয়ে
(গ) নিভে
(ঘ) উবে

উত্তর : (ঘ) উবে

৩. যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের প্রথম শ্রেণীটি হল –
(ক) বাংলা ভাষায় দক্ষ
(খ) ইংরেজি ভাষায় দক্ষ 
(গ) ইংরেজি অল্পজানে বা ইংরেজি ভাষায় অল্পাধিক বিজ্ঞান বই পড়েছে
(ঘ) ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে

উত্তর : (ঘ) ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে

৪. প্রীতির সাথে কোন ভাষায় পদ্ধতি আয়ত্ত করতে হয় বলে লেখক মনে করেছেন?
(ক) বিদেশি ভাষা
(খ) ফরাসি ভাষা
(গ) মাতৃভাষা
(ঘ) হিন্দি ভাষা

উত্তর : (গ) মাতৃভাষা

৫. পরিভাষা সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন –
(ক) বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতজ্ঞ, পন্ডিত ও কয়েকজন লেখক
(খ) ইংরেজির অধ্যাপক
(গ) বিজ্ঞানের অধ্যাপক
(ঘ) সংস্কৃতজ্ঞ

উত্তর : (ক) বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতজ্ঞ, পন্ডিত ও কয়েকজন লেখক

৬. কোথায় পপুলার সাইন্স লেখা সুসাধ্য?
(ক) ভারত-চীন
(খ) ভারত-পাকিস্তান 
(গ) ইংল্যান্ড আমেরিকা
(ঘ) ইউরোপ

উত্তর : (গ) ইংল্যান্ড আমেরিকা

৭.একটি নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট সরলরেখার ওপর অঙ্কন করতে হবে –
(ক) সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ
(খ) বিষমবাহু ত্রিভুজ
(গ) সমকোণী ত্রিভুজ
(ঘ) সমবাহু ত্রিভুজ

উত্তর : (ঘ) সমবাহু ত্রিভুজ

৮.পিতলের চেয়ে অ্যালুমিনিয়াম হল –
(ক) ভারী
(খ) হালকা
(গ) ওজনদার
(ঘ) মসৃণ

উত্তর : (খ) হালকা

৯.লাউ, কুমড়ো জাতীয় গাছে করকমের ফুল হয়?
(ক) একরকম
(খ) দু-রকম
(গ) তিনরকম
(ঘ) চাররকম

উত্তর : (খ) দু-রকম

১০. _______ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকলন খুব বড়ো নয় –
(ক) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
(খ) বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
(গ) উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
(ঘ) কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তর : (ক) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

১১.’প্যারাডাইক্লোরোবেনজিন’ কী?
(ক) রাসায়নিক তথ্য
(খ) রাসায়নিক প্রক্রিয়া
(গ) রাসায়নিক বস্তু
(ঘ) উদ্ভিজ্জ বস্ত

উত্তর : (গ) রাসায়নিক বস্তু

১২.আজন্ম ইজার পরা লোকের পক্ষে হঠাৎ কী অভ্যাস করা শক্ত?
(ক) ধুতি পরা
(খ) লুঙ্গি পরা
(গ) কোট-প্যান্ট পরা
(ঘ) কোট-প্যান্ট-টাই পরা

উত্তর : (ক) ধুতি পরা

১৩.পিতলের চেয়ে অ্যালুমিনিয়াম হল –
(ক) ভারী
(খ) হালকা
(গ) ওজনদার
(ঘ) মসৃণ

উত্তর : (খ) হালকা

১৪. ” যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া নেই,” -কথাটি  কিসের বদলে লেখা যেতে পারে ?
(ক) শিরহীন
(খ) অমেরুদণ্ডী
(গ) শিরাবিহীন
(ঘ) মেরুদণ্ডী

উত্তর : (খ) অমেরুদণ্ডী

১৫. ” বাংলা প্রতিশব্দেরও ঠিক তাই হওয়া চাই। – ‘ঠিক তাই’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) অর্থবোধ
(খ) অর্থবিস্তার
(গ) অর্থব্যাপ্তি
(ঘ) অর্থান্তরন্যাস

উওর : (গ) অর্থব্যাপ্তি

১৬. বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বোঝার জন্য অবশ্যই কিসের প্রয়োজন ?
(ক) বিজ্ঞানের জ্ঞান
(খ) বিজ্ঞানের পরিভাষা
(গ) কিঞ্চিৎ প্রাথমিক বিজ্ঞান
(ঘ) বিজ্ঞানের সামগ্রিক জ্ঞান

উত্তর : (গ) কিঞ্চিৎ প্রাথমিক বিজ্ঞান

১৭. পরিভাষার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য কী?
(ক) অর্থ যথাযথ করা
(খ) অর্থ নির্দিষ্ট করা
(গ) অর্থ সুনির্দিষ্ট করা
(ঘ) অর্থ প্রকাশ করা

উত্তর : (গ) অর্থ সুনির্দিষ্ট করা

১৮. “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’ – কে এই  কথাটি বলেছিলেন ?
(ক) জয়দেব
(খ) জয় গোস্বামী
(গ) কালিদাস
(ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

উত্তর : (গ) কালিদাসের

১৯. আমাদের আলংকারিকগণ কত ধরনের শব্দের কথা বলেছেন?
(ক) একক
(খ) ত্রিবিধ
(গ) দ্বৈত
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর : (খ) ত্রিবিধ

২০. ‘অরণ্যে রোদন’ কথাটির অর্থ কী?
(ক) নিষ্ফল আবেদন
(খ) ভূমিকা
(গ) সংকীর্ণমনা
(ঘ) দীর্ঘসূত্রতা

উওর : (ক) নিষ্ফল আবেদন

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম কী ছিলো?

উত্তর- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম ছিলো পরশুরাম।

২. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধটি রাজশেখর বসুর লেখা বিচিন্তা গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

৩. “তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে”-এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থের পাঠক দের কথা বলা হয়েছে।

৪. বৈজ্ঞানিক সন্ধর্ভ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর- বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বলতে বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার কথা বোঝানো হয়েছে।

৫. লেখক কাদের প্রথম শ্রেণীর পাঠক বলেছেন?

উত্তর- যে সব পাঠকদের গুটিকয়েক ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ ছাড়া তাদের বিজ্ঞানের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় নেই তারা হলেন প্রথম শ্রেণীর পাঠক লেখকের মতে।

৬. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধতে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার যে বাধার কথা উল্লেখ আছে সেটি কী?

উত্তর- ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধতে উল্লেখ আছে যে বাংলা ভাষায় পারিভাষিক শব্দের ঘাঁটতি আছে।

৭. “অভ্যাস করা একটু শক্ত।”—কার কাছে, কীসের অভ্যাস শক্ত ?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।এখানে বলা হয়েছে আজন্ম ইজার পরা লোকের কাছে হঠাৎ ধুতি পরার অভ্যাস করা একটু শক্ত।

৮. “তাতে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন।”— কোন কাজে ‘অনেকে মুশকিলে পড়েছেন’?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। রাজকার্যে দেশি পরিভাষা চালানোয় সরকারের কাজে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন।

৯.“ভাষার জন্য তার বাধা হয় না।”—কোন কাজে, কাদের বাধা হয় না? তাদের কী করতে হয়?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শেখার কাজে ইংরেজি না-জানা অথবা অতি অল্প ইংরেজি জানা পাঠকদের বাধা হয় না। তাদের কেবল যত্ন করে বিষয়টি বুঝতে হয়।

১০.“তারা বিধান দিয়েছেন,”—কারা, কী বিধান দিয়েছেন?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। উপরিক্ত অংশে বলা হয়েছে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি বিধান দিয়েছেন—নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামই বাংলা বানানে চলবে।

১১. “বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বোঝা কঠিন।”—কেন একথা বলা হয়েছে?

উত্তর-  উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। আমাদের দেশের জনসাধারণের প্রাথমিক বিজ্ঞানের সঙ্গে কিছুটা পরিচয় না-থাকায় বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বোঝা কঠিন।

১২. পরিভাষার উদ্দেশ্য কী?

উত্তর- পরিভাষার উদ্দেশ্য হল ভাষার সংক্ষেপ এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট করা।

১৩.“কিছুদিন আগে একটি পত্রিকায় দেখেছি”—কে, কী দেখেছিলেন?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু একটি পত্রিকায় দেখেছিলেন জনৈক লেখক লিখেছেন -অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্ব্যকর বলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। তারা জীবের বেঁচে থাকবার পক্ষে অপরিহার্য অঙ্গ মাত্র।

১৪. “এই রকম ভুল লেখা সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনিষ্টকর।”-ভুল লেখাটি কী?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে গৃহীত।  ভুল লেখাটি হল অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর বলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। তারা জীবের বেঁচে থাকার পক্ষে অপরিহার্য অঙ্গ মাত্র। তবে ওজন গ্যাস স্বাস্থকর।

১৫. “অনেক লেখক মনে করেন,” – লেখকরা কী মনে করেন?

উত্তর–  এই লেখকরা মনে করেন যে  ইংরেজি সব্দের যে অর্থব্যাপ্তি বা Connotation, বাংলা প্রতিশব্দেরও ঠিক তাই হওয়া ।

 

ব্যাখ্যা-ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

১. অনেকে মনে করেন পারিভাষিক শব্দ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়। মতটিকে  তুমি সমর্থন করো?

উত্তর – রাজ শেখর বসু প্রণীত ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন, পরিভাষার মাধ্যমে বাংলা ভাষার কাজটি অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। কেননা ঠিকমতো বাংলা পরিভাষা পাওয়া যায় না। অনেক সময় দেখা যায় লেখকরা তাদের বক্তব্য প্রকাশ করার সময় যথেষ্ট পরিমাণে পরিভাষা ব্যবহার করেন। ফলে সেই লেখা হয়ে ওঠে দুর্বোধ্য এবং জটিল।

      রাজ শেখর বসু জানিয়েছেন, আমাদের দেশের পাঠকরা সেই অর্থে বিজ্ঞান নিষ্ট নন। পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় এদেশের জনসাধারণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান শূন্য হওয়ায়, তারা কঠিন ও গভীর বিষয়ে প্রবেশ করতে পারে না। উপরন্তু লেখকরাও সহজ করে বোঝাতে পারেন না। এইজন্য জনসাধারণের জন্য যারা বাংলায় বিজ্ঞান লিখেন তাদের লেখা অনেক সময় দুর্বোধ্য বলে মনে হয়।

    প্রাবন্ধিক এর অভিমত, পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে নিজের মতো করে সহজ ভাষায় যদি লেখা যায় তাহলে সেই লেখা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। অনেকে মনে করেন, পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়। প্রাবন্ধিক মনে করেন, ” এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়্ “। স্থান বিশেষে পারিভাষিক শব্দ বাদ দেওয়া চলে। অমেরুদণ্ডীর বদলে ‘যেসব জন্তুর শিরদাঁড়া নেই ‘ কথাটি বলা যায়। কিন্তু আলোক তরঙ্গ পরিবর্তে ‘আলোর নাচন বা কাপন’ বলা যায় না। সুতরাং, পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করা যায় কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তার প্রয়োগগত দিক নিয়ে।

২. ” যে লোক আজন্ম ইজার পড়েছে তার পক্ষে হটাৎ ধুতি পড়া অভ্যাস করা একটু শক্ত।”-বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ অবলম্বনে মন্তব্যটি আলোচনা করো।

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি রাজশেখর বসুর লেখা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। প্রবন্ধিক রাজশেখর বসু তার রচনায় ইংরেজি জানা এবং ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান পড়তে অভ্যস্ত মানুষদের বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে অসুবিধার কথা বলতে গিয়ে তিনি উপরিক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান পাঠকদের লেখক মূলত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণীর পাঠক যারা তারা ইংরেজি অল্প জানেন বা যাদের ইংরেজি গুটি কয়েকটি শব্দ আয়ত্বে আছে এমন পাঠকরা। এনাদের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শেখা খুব একটা কঠিন বিষয় নয়। প্রবন্ধিক এখানে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন যে তিনি নিজেই এরকম ভাবে ব্রহ্মমোহন মল্লিকের বই থেকে বাংলা জ্যামিতি শিখেছিলেন। কিন্তু আসল সমস্যা হলো যারা ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করছেন তাদের নিয়ে। কারণ তাদের বাংলায় কিছু শেখার সময় ইংরেজিতে শেখা জ্ঞান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর এই সমস্যা অতিক্রম করেই বাংলায় রচিত বৈজ্ঞানিক পাঠ গ্রহণ করতে হয় যা তাদের পক্ষে একটু কষ্টসাধ্য হয়। আসলে বিষয়টা সেই অনেকটা আজন্ম ইজারা পড়া লোকের হঠাৎ ধুতি পড়তে বাধ্য হওয়ার মতোই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top