দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ১৭. বহুরূপী - সুবোধ ঘোষ

বহুরূপী – সুবোধ ঘোষ

লেখক পরিচিতি

১৯০৯ সালে সুবোধ ঘোষের জন্ম হয় বিহারের হাজারীবাগে |  তার আদি বাড়ি ছিল অধুনা বাংলাদেশের  ঢাকার বিক্রমপুরের বহর গ্রামে |  তিনি ছিলেন বিশিষ্ট একজন বাঙালি লেখক ও কথা সাহিত্যিক |  সুবোধ ঘোষ ছিলেন হাজারীবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজের ছাত্র | বাংলা সাহিত্য জগৎতে তার  আগমন একটু দেরিতে হলেও তার বুদ্ধি, মেধা, চিন্তা শক্তির মাধ্যমে অসাধারণ সব রচনা উপহার দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের জগৎতকে |  সুবোধ ঘোষের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বিহারে বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে | এরপর অবশ্য তিনি আরও বিভিন্ন রকমের পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন | সার্কাস-এর ক্লাউন থেকে শুরু করে বেকারির ব্যবসা, এমন অনেক কাজই করেছেন তিনি | তিরিশের দশকে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার  রবিবার বাসীয় বিভাগে সহকারি হিসেবে যোগদান করেছিলেন | এরপরে তরুণ সাহিত্যিকদের বৈঠকে তার বন্ধুদের অনুরোধে তিনি দুটি গল্প লিখেছিলেন, ‘ অযান্ত্রিক’ এবং ‘ফসিল’ | এই গল্প দুটি বাংলা সাহিত্যের সেসময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল | তার লেখা প্রথম  গল্পের নামই ‘অযান্ত্রিক’ | শুধু গল্পকার হিসেবে নয়, ঔপন্যাসিক হিসেবেও  তার যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে | তার লেখা কিছু ছোট  গল্পের নাম হল –  জতুগৃহ , অযান্ত্রিক , ফসিল , থির বিজুরি ইত্যাদি | এছাড়াও তার  কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রচনা হল –  গঙ্গোত্রী, ভালোবাসার  গল্প , শতকিয়া ইত্যাদি | এবং তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-এর নাম হল- ‘তিলাঞ্জলি’ |

 

সারাংশ

শহরের সব থেকে সরু গলিতে বাস হরিদা’র | সেখানে ছোট একটা ঘরেই তার জীবন – সংসার |  সেটাই লেখকদের সকাল সন্ধ্যার আড্ডার ঘর | অত্যন্ত গরীব হরিদা – কিন্তু তাও কোন  কাজ  করে উপার্জনের তাগিদ তার মধ্যে নেই | যেন তার  প্রাপ্যের মধ্যেই কোন বাধা আছে কাজ করতে | একঘেয়ে অভাবকে সহ্য করতে হরিদার আপত্তি নেই, তবে একঘেয়ে কাজ ! নৈব নৈব চ |
হরিদার জীবনের  পেশাটাই , তার জীবনের  সবথেকে নাটকীয় বৈচিত্র |  হরিদা ‘বহুরূপী’ সেজে মাঝে মাঝে রাস্তায় বের হন ; কখনো উন্মাদ পাগল কিংবা কখনো বাইজি, কখনো কাপালিক, কোন দিন বাউল – এভাবেই যা রোজগার হয়, তাতে হাড়ি চলে যায় হরিদার | এবার তাই জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসী এসে থেকে সেই গল্প সোনা মাত্রই হরিদা লেখককে বললেন –  আজ সন্ধ্যায় তিনি এক জবর খেলা দেখাবেন | হরিদার কথায় – “ এবার মারি তো  হাতি, লুঠি তো  ভান্ডার ” |
কিন্তু লেখকরা তখন ও বোঝেননি যে হরিদা ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছেন |
সেইদিন সন্ধ্যাবেলা এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে | জগদীশ বাবুর বাড়িতে দেখা যায় এক  বিরাগীকে | কমন্ডুল নেই, চিমটে নেই, মৃগচর্মের আসন ও  নেই –  এমন এক আগন্তুক |  আগন্তুক -এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জন্মায়  জগদিশ বাবুর | আশ্রয় গ্রহণ  করতে  বলেন  তার বাড়িতে |  কিন্তু বিরাগী   তা  অগ্রাহ্য করে চলে যাওয়ার উপক্রম  হন | জগদীশবাবু তখন  বিরাগীর পায়ের কাছে একশো টাকা প্রণামী  রেখে, সেটা গ্রহণ করার  অনুদান  জানান |  কিন্তু তাতেও বিরাগী কেবলই হাসেন এবং সব টাকা ফেলেই চলে যান |  ঠিক যেমন তিনি অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে  চলে যেতে পারেন | তার বুকেই সকল তীর্থ | পরবর্তীতে  হরিদার বাড়িতে  লেখকরা ঢুকেই বুঝতে পারেন –  যে সন্ধ্যার  বিরাগীই হরিদা |  তারা  যখন জানতে  চাইলো  যে  হরিদা কেন টাকাগুলো নিলেন না, উত্তরে  তিনি বললেন – “ শত হোক, একজন বিরাগী হয়ে টাকা ফাকা কি করে স্পর্শ করি বল ? “

 

1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ :

1.1) ‘বহুরূপী’ গল্পটির লেখক হলেন –
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
(খ)  জগদীশচন্দ্র বসু
(গ) সুবোধ ঘোষ
(ঘ) জয় গোস্বামী

 উত্তর – (গ) সুবোধ ঘোষ

1.2) জগদীশ  বাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসি কতদিন ছিলেন ?
(ক) ছদিন 
(খ) আট দিন 
(গ) সাত দিন
(ঘ) দশ দিন

 উত্তর – (গ) সাতদিন

1.3) জগদীশ বাবুর বাড়িতে আসন্ন সন্ন্যাসি সারা বছর কি খেয়ে কাটাতেন ?
(ক) জল 
(খ) বাতাস 
(গ) দুধ ও সাবু 
(ঘ) একটি হরিতকী

  উত্তর – (ঘ) একটি হরিতকী

1.4) হরিদার আক্ষেপের কারণ কি ছিল ?
(ক) সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো না নিতে পারা 
(খ) সন্ন্যাসী না হতে পারা
(গ) সন্ন্যাসী না সাজতে পারা  
(ঘ) উপরের  সব কটি

 উত্তর – (ক) সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো না নিতে পারা

1.5) জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর ঝোলায় কি ফেলেছিলেন ?
(ক) ১০০ টাকা 
(খ) জুতো
(গ) কলম 
(ঘ) হরিতকী

  উত্তর – (ক) ১০০ টাকা

1.6) সন্ন্যাসীকে নতুন খড়ম কে দিয়েছিলেন ?
(ক) ভবতোষ
(খ) অনাদি
(গ) জগদিশবাবু 
(ঘ) হরিদা

  উত্তর (গ) জগদীশবাবু

1.7) সন্ন্যাসী কাকে নিজের পায়ের ধুলো দিয়েছিলেন ?
(ক)  জগদীশবাবু কে 
(খ) ভবতোষ কে 
(গ) হরিদা কে
(ঘ) অনাদিকে

  উত্তর – () জগদীশবাবু কে

1.8) কথকদের আড্ডাখানার জায়গা ছিল-
(ক) জগদিশবাবুর বাড়ি 
(খ) হরিদার ঘর
(গ) পাড়ার মোড়
(ঘ) রাস্তার শেষ মাথা

  উত্তর(খ) হরিদার  ঘর

1.9) হরিদার ঘরে মোট কতজন আড্ডা দিত ?
(ক) পাঁচ জন 
(খ) ছজন 
(গ) সাত জন 
(ঘ) চারজন

  উত্তর –  (ঘ) চারজন

1.10) কোন বিষয় নিয়ে  হরিদার  ভয়ানক আপত্তি ছিল ?
(ক) এক ঘেযে কাজ করাতে 
(খ) গল্প শোনাতে
(গ) বহুরূপী সাজতে 
(ঘ) সবকটি

উত্তর  (ক) এক  ঘেযে কাজ করাতে   

1.11)  বিচিত্র সব ছদ্মবেশ ধারণ করে বহুরূপী সাজতে দেখা যেত কাকে ?
(ক) অনাদিকে
(খ) ভবতোষকে 
(গ) হরিদা কে
(ঘ) জগদীশবাবু কে

 উত্তর –  (গ)  হরিদা কে 

1.12) “খুব হয়েছে হরি, এইবার সরে পড়ো | অন্যদিকে যাও | “ – এ কথা কে বলেছেন ?
(ক)  অনাদি 
(খ) জগদীশবাবু 
(গ) কাশীনাথ
(ঘ) স্কুলের মাস্টারমশাই

   উত্তর  (গ) কাশীনাথ

1.13) পাগলকে দেখে আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল কোথায় ?
(ক) হরিদার বাড়িতে
(খ) বাজারে 
(গ) দোকানে
(ঘ) বাসস্ট্যান্ডের কাছে

  উত্তর  –  (ঘ) বাসস্ট্যান্ডের কাছে

 1.14) বাইজির ছদ্মবেশে  হরিদার  কত রোজগার হয়েছিল ?
(ক) আট আনা 
(খ) আট টাকা 
(গ) আট টাকা দশ আনা 
(ঘ) দশ টাকা

    উত্তর (গ)  আট টাকা দশ আনা

1.15) হরিদা কোন ছদ্মবেশে লিচু বাগানে স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরেছিল ?
(ক) পুলিশ
(খ) বাইজি
(গ) মাস্টারমশাই 
(ঘ) কাবুলিওয়ালা

  উত্তর (ক)  পুলিশ

1.16)  লিচু বাগান কার ছিল ?
(ক)  দয়ালবাবুর 
(খ) জগদীশবাবুর 
(গ) ভবতোষ এর 
(ঘ) স্কুলের মাস্টারমশাই-এর

   উত্তর  (ক) দয়াল বাবুর

1.17) “ ঘুষ নিয়ে তারপর মাস্টারমশাইয়ের অনুরোধ রক্ষা  করেছিলেন সেই নকল পুলিশ হরিদা | “ –  নকল পুলিস হরিদার ঘুষের পরিমাণ কত ছিল ?
(ক) পাঁচ আনা 
(খ) সাত আনা
(গ) আট আনা
(ঘ) আট টাকা

   উত্তর – (ঘ) আট টাকা

1.18) হরিদা বহুরূপী সেজে সপ্তাহে কতবার বাইরে যান ?
(ক) একদিন
(খ) চারদিন 
(গ) দুদিন
(ঘ) তিনদিন

  উত্তর (ক) একদিন

1.19) হরিদা বাইজি সাজলে, তাকে একটা  সিকি  কে দিয়েছিলেন ?
(ক) ভবতোষ
(খ) জগদীশবাবু 
(গ) দয়ালবাবু 
(ঘ) মাস্টারমশাই

 উত্তর – (খ) জগদীশবাবু

1.20) “ তোমরা সেখান থেকো “ – ‘সেখানে’  বলতে  কোথায় বোঝানো হয়েছে ?
(ক) মাঠে 
(খ) বাজারে 
(গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে 
(ঘ) বাসস্ট্যান্ডে

 উত্তর – (গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে.

 

2. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :

2.1) জগদীশবাবু কিভাবে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন ?

 উত্তর –  সুবোধ ঘোষ-এর লেখা ‘বহুরূপী’ রচনায় কাঠের খড়ম-এ সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের সামনে ধরলে, তবে সন্ন্যাসী জগদীশবাবুকে পায়ের ধুলো দিয়েছিলেন |

2.2) “ সে ভয়ানক  দুর্লভ জিনিস “ –  কিসের প্রসঙ্গে এমন কথা বলা হয়েছে ?

 উত্তর –  সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’  রচনা থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে | এখানে জগদীশবাবুর  বাড়িতে  উপস্থিত  সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোর কথা বলা হয়েছে |

2.3) “ সন্ন্যাসী হাসলেন আর চলে গেলেন “ –  তিনি কি দেখে হেসেছিলেন ?

  উত্তর – উদ্ধৃত অংশটি সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ রচনার অংশ বিশেষ | সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর হাতে 100 টাকার একটি নোট দেখে হাসলেন |

2.4) হরিদা  কি সেজে স্কুলের কতজন ছাত্রকে ধরেছিল ?

উত্তর – সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা পুলিশ সেজে স্কুলের চারজন ছাত্রকে ধরেছিল |

2.5) কেমন ধরনের কাজ হরিদার পছন্দ ছিল না?

উত্তর – সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পের চরিত্র হরিদার অফিসের কাজ বা দোকানদারের কাজ পছন্দ ছিল না |

2.6)  “  কি অদ্ভুত কথা বলেন হরিদা ! “ –  হরিদা কোন কথাকে অদ্ভুত বলা হয়েছে ?

 উত্তর –  সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা বলেছিলেন যে শত হোক একজন বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে টাকা ফাঁকা রোজগার করলে তার ঢং নষ্ট হয়ে  যায় | তার এই  কথা কেই  অদ্ভুত বলা হয়েছে  |

2.7) “ নইলে আমি শান্তি পাবো না “ –  কে কি করলে তিনি শান্তি পাবেন ?

 উত্তর –  সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে এখানে জগদীশবাবুর একান্ত  ইচ্ছা যে  বিরাগী সন্ন্যাসী তাকে কিছু উপদেশ দিয়ে প্রস্থান করলে তবে তিনি শান্তি পাবেন |

2.8) “ পরম সুখ কাকে বলে জানেন ? “ –  এখানে ‘পরমসুখ’ বলতে কি বোঝাতে  চেয়েছিলেন ?

উত্তর –  সুবোধ ঘোষ-এর লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী স্বয়ং জগতের সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া কেই ‘পরম সুখ’ বলেছেন তিনি |

2.9) “ জগদীশবাবুর  2 বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল “ –  কি দেখে জগদীশবাবুর অবস্থা এমন হয়েছিল ?

 উত্তর –  সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু যখন সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেছিলেন আদুর গায়ে সাদা উত্তরীয় পড়ে এক বিরাগী তার সামনে দাঁড়িয়ে, তখন  তিনি  অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন |

2.10) “  আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড় ? “ –  বক্তা একথা কাকে বলেছিলেন ?

 উত্তর –  উদ্ধৃতাংশটি সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পের অংশ, এখানে গল্পে  বর্ণিত বিরাগীর  ছদ্দবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে একথা বলেছিলেন |

2.11) “ এটা আমার প্রাণের অনুরোধ , “ –  বক্তা কে ?  তিনি কোন অনুরোধের কথা বলেছেন ?

 উত্তর –  সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে  উদ্ধৃতাংশটির  বক্তা হলেন জগদীশবাবু | তিনি তার বাড়ীতে আশা বিরাগীকে  কয়েকটি দিন থেকে যেতে অনুরোধ করেছিলেন, এই অনুরোধ কেই তিনি তার প্রাণের অনুরোধ বলে উল্লেখ করেছেন |

2.12) জগদীশবাবু তীর্থ ভ্রমণের জন্য কত টাকা বিরাগী কে দিতে চেয়েছিলেন ?

উত্তর – সুবোধ ঘোষ-এর লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু বিরাগীকে তীর্থ ভ্রমণের জন্য 100 টাকা দিতে চেয়েছিলেন |

2.13) “ হরিদার কাছে আমরা এই গল্প করে বললাম “ –  কিসের গল্পের কথা বলা হয়েছে ?

 উত্তর – বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের লেখা বহুরূপী রচনায় জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ন্যাসী এসেছিলেন,সেই ঘটনার কথা বলা হয়েছিল হরিদাকে | এই গল্পের কথাই উদ্ধৃতাংশ-এ বলা হয়েছে |

2.14 ) কোন বহুরূপীর সাজে বেশি রোজগার হয়েছিল হরিদার ?

 উত্তর – সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা রূপসী সাজে বাইজি সেজে দোকানে দোকানে গিয়ে  ফুলের সাজি এগিয়ে দিচ্ছিল, এই সাজেই রোজগার একটু বেশি হয়েছিল |

2.15) পুলিশ সেজে হরিদা কি করেছিলেন ?

 উত্তর – সুবোধ ঘোষের লেখা বহুরূপী গল্পে হরিদা পুলিশ সেজে একবার দয়ালবাবুর লিচুবাগানে দাঁড়িয়েছিল আর সেখান থেকে চারজন স্কুলের ছেলেকে ধরেছিল |

2.16) ছেলেদের পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে স্কুল-এর মাস্টারমশাই কি করেছিলেন ?

 উত্তর – সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে স্কুলের ছেলেদের পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে স্কুলের মাস্টারমশাই ছদ্দবেশী পুলিশকে আটাআনা ঘুষ দিয়েছিলেন |

2.17) স্কুলের মাস্টারমশাই যখন জানতে পেরেছিলেন যে হরিদা পুলিশ সেজে তাদের বোকা বানিয়ে ছিলেন তখন তিনি কি করেছিলেন ?

 উত্তর – সুবোধ ঘোষের লেখা বহুরূপী গল্পে যখন স্কুলের মাস্টারমশাই জানতে পেরেছিলেন যে হরিদা  পুলিশ-এর ছদ্মবেশে তাদের বোকা বানিয়েছিলেন , তখন তিনি একটুও রাগ না করে বরং হরিদার সাজের প্রশংসা করেছিলেন |

2.18) হরিদার ঘরটি কেমন ছিল এবং সেখানে কি কি হত ?

 উত্তর –  সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার ঘরটি ছিল সরু এক গলির মধ্যে | তার ঘরটি ছিল ছোট মত | সেখানে সন্ধ্যা বেলাতে লেখকদের আড্ডা বসতো  |

 

3. রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর :

3.1) “ সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস | “-  কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে ? সে জিনিস দুর্লভ কেন ?

 উত্তর –  বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু হলেন একজন ধনী ব্যক্তি | তার বাড়িতে যে সন্ন্যাসীর আগমন হয়েছিল, তার পায়ের ধুলোর কথা বলা হয়েছে এখানে |  সেই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো ছিল ভয়ানক দুর্লভ জিনিস |

             পুণ্য অর্জনের বিষয়ে ধনী জগদীশবাবু অত্যন্ত হিসেবি ছিলেন | তিনি বলেছিলেন যে,তার বাড়িতে যে সন্ন্যাসী এসেছিলেন তিনি নাকি হিমালয়ের গুহায় থাকেন, এবং সারা বছর শুধু মাত্র একটি হরিতকী  খেতেন |  এরকম একজন পুণ্যবান সন্ন্যাসীর সেবা করলেও যে  অনেক পূণ্য অর্জন করা যাবে সে কথা জগদীশবাবু ভালো করেই জানতেন |  তাই জগদীশবাবু সন্ন্যাসী মূল্যবান পদধূলি যাতে অন্য কেউ না পায় তার জন্য তিনি একজোড়া কাঠের খড়ম-এ সোনার বোল লাগিয়ে নিয়ে এসে সেই সন্ন্যাসীর পায়ের সামনে ধরেন |  সন্ন্যাসী সেই খড়ম পায়ে  দেওয়া মাত্রই জগদীশবাবু তার পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন |  এই কারণেই বলা হয়েছে যে সেই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো ‘ভয়ানক দুর্লভ’  জিনিস  |

3.2)  “ হরিদার উনানের হাড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফোটে, ভাত  ফোটে না | “-  হরিদার জীবিকা কি ছিল ?  তার হাড়িতে কেন কেবল জলেই ফোটে অনেক সময় ?

 উত্তর –  উদ্ধৃতাংশ  প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুবোধ  ঘোষের রচনা ‘বহুরূপী’ থেকে নেওয়া হয়েছে |  গল্পে  হরিদা কে  মুখ্য চরিত্র  বলা চলে |  তিনি হলেন একজন বহুরূপী | গতানুগতিক অফিসের কাজ বা দোকান চালানো কোন কাজই তার ঠিক ভালো লাগলো না | তাই তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাজে সেজে  নেমে পড়তেন মানুষকে  মনোরঞ্জন করতে | এভাবেই তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করতেন |

      হরিদার জীবন দর্শন ছিল অন্য, যা আর পাঁচটা মানুষের সাথে মিল ছিল না | দশটা পাঁচটা বাধা মাইনে করা চাকরিতে তার ছিল প্রচন্ড রকমের অনীহা  | তা না হলে চেষ্টা করলে অবশ্যই তার একটা না একটা স্থায়ী কাজ ঠিকই জুটে যেত | কিন্তু সেসব দিকে যেতে চাননি হরিদা | তিনি বহুরূপী সেজে  মানুষ কে আনন্দ  দিয়ে  যা উপার্জন করতেন তা দিয়েই  তার দিন  অতিবাহিত হয়ে  যেত |  কিন্তু তিনি শুধুমাত্র সপ্তাহের একটি দিনই বহুরূপী সেজে বের হতেন মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য | আর  এতে খুব অল্পই উপার্জন হতো | তাই অনেক সময়ে তার উনুন-এর উপরে শুধু জলই ফুটত , ভাত নয়, অভাব-অনটনের  তারনায় |

3.3)  হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ?  তিনি কাকে কিভাবে বোকা বানিয়েছিলেন ?

 উত্তর –  বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ-এর লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পের মুখ্য চরিত্র বহুরূপী হরিদা পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর  লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে ছিলেন |

     বহুরূপী হরিদা নকল পুলিশ সেজে স্কুলের মাস্টারমশাই কে বোকা বানিয়েছিলেন |

     স্কুল থেকে চারটি ছেলে গিয়েছিল দয়ালবাবুর লিচু বাগানে লিচু চুরি করে খেতে |  কিন্তু সেখানে আগে থেকেই পুলিশের সাজে দাঁড়িয়েছিল হরিদা |  পুলিশকে দেখে স্কুলের ছেলেরা ভয়ে কান্না করে ফেলেছিল |  পরে স্কুলের মাস্টার মশাই  পুলিশরুপি  হরিদার কাছে ক্ষমা চেয়ে ছেলেগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন |  কিন্তু হরিদা  মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ছেলেগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আট আনা ঘুষ নিয়েছিলেন |  তারপরই ছেলেগুলোকে ছেড়েছিলেন |  এভাবেই হরিদা পুলিশ সেজে মাস্টারমশাই কে বোকা বানিয়েছিলেন |  পরে অবশ্য মাস্টারমশাই জানতে পেরেছিলেন যে হরিদা তাকে বোকা বানিয়েছিল, কিন্তু তিনি একটুও রাগ না করে বরং হরিদার সাজের প্রশংসা করেছিলেন |

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top