Class 8 Bengali chapter 18 পাড়া গার দু পহর ভালোবাসি

পাড়া গার দু পহর ভালোবাসি – জীবনানন্দ দাশ

কবি পরিচিতি

রবীন্দ্রোত্তর বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও অধ্যাপক জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ প্রকাশিত হয়। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হল বনলতা সেন, ধূসর পাণ্ডুলিপি, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

 

কবিতার সারাংশ

পাড়াগাঁর দু পহর ভালোবাসি কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ গ্রামীণ সমাজের এক সুস্পষ্ট বর্ণনা আমাদের সামনে তার কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন কবিতায় কবিতায় গ্রাম বাংলার সুন্দর দৃশ্যের বর্ণনা করেছেন গ্রামের ভোর বেলা সূর্য ওঠা দেখে সন্ধ্যেবেলা সূর্য অস্ত যাওয়া ওবদি সমস্ত কিছুর বর্ণনা কবি সুনিপুণভাবে তার কবিতায় উন্মোচিত করেছেন পাড়াগাঁর মানুষের সম্পর্কে নদী মাঠ পুকুর জলাধার গবাদিপশু সুন্দর প্রকৃতি সব মিলিয়ে অসাধারণ কবিতার কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

 

হাতেকলমে

১.১ জীবনানন্দ দাশের লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।

উত্তর- জীবনানন্দ দাশের লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ ও ‘বনলতা সেন’।

১.২ তাঁর লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

উত্তর- তাঁর লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘ঝরাপালক’ (১৯২৭)।

২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :

 ২.১ ‘দু-পহর’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর- দু-পহর শব্দের অর্থ দুইপ্রহর বা ছয় ঘণ্টা।

২.২ ‘কেবল প্রান্তর জানে তাহা’—’প্রান্তর’ কী জানে?

উত্তর- কবির হৃদয়ে পাড়াগাঁয়ের কোন্ গল্প-কাহিনি বাসা বেঁধেছে—তা কেবলমাত্র প্রান্তর জানে।

 ২.৩ ‘তাহাদের কাছে যেন এ জনমে নয়—যেন ঢের যুগ ধরে কথা শিখিয়াছে এ হৃদয়’—কাদের কথা এখানে বলা হয়েছে?

উত্তর- আলোচ্য অংশে প্রান্তরের শঙ্খচিলদের কথা বলা হয়েছে।

২.৪ ‘জলসিড়িটির পাশে ঘাসে কী দেখা যায় ?

উত্তর- জলসিড়িটির পাশে ঘাসে ছন্দহীন বুনো চালতার নুয়ে পড়া শাখাগুলি দেখা যায়।

 ২.৫ ‘জলে তার মুখখানা দেখা যায় জলে কার মুখ দেখা যায়?

উত্তর- জলে ছন্দহীন বুনো চালতার শাখাগুলির মুখ দেখা যায়।

 ২.৬ ‘ডিঙিও ভাসিছে কার জলে……… ডিডিটি কেমন?

উত্তর- হিজল গাছে বাঁধা মালিকহীন ডিভিটির ভগ্নপ্রায় অবস্থা।

২.৭ ডিডিটি কোথায় বাঁধা রয়েছে?

উত্তর- ডিডিটি হিজল গাছে বাঁধা রয়েছে।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও :

৩.১ পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে কবি ভালোবাসেন কেন?

উত্তর- পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে কবি ভালোবাসেন কারণ দুপুরের রোদে স্বপনের গন্ধ লেগে আছে। দুপুরের নির্জনতায় কবি উপলব্ধি করেন তাঁর হৃদয়ে কী স্বপ্ন কী কাহিনি বাসা বেঁধেছে।

৩.২ ‘স্বপ্নে যে-বেদনা আছে’—কবির স্বপ্নে কেন বেদনার অনুভূতি?

উত্তর- কবির স্বপ্নে বেদনার অনুভূতি আছে কারণ দ্বিপ্রহরের নির্জনতা কবির হৃদয়ে বিরহের বার্তা বহন করে। শূন্য প্রান্তর, প্রান্তরের শঙ্খচিল, শুষ্ক পত্র, শালিকের স্বর, ভাঙা মঠ তাঁর হৃদয়ে বেদনার অনুভূতি বহন করে আনে। গাঁয়ের দুই

৩.৩ প্রকৃতির কেমন ছবি কবিতাটিতে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

 উত্তর- রূপসী বাংলার প্রতি কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা এই কবিতায় পরিস্ফুট। প্রকৃতিপিয়াসি কবি পাড়াপ্রহরকে ভালোবেসে তার অনুভূতির কথা এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন।পাড়া গাঁয়ের রৌদ্র যেন স্বপনমাখা। কবির হৃদয়ে পাড়া গাঁয়ের কোন গল্প যে বাসা বেঁধেছে তা প্রান্তর ছাড়া আর কেউ গানে না। প্রান্তরের শঙ্খচিলের কাছে কবির হৃদয় যুগ যুগ ধরে অনেক কথা শিখেছে। বেদনাভরা স্বপ্নে শুকনো পাতা, শালিকের স্বর, ভাঙা মঠ, নকশাপেড়ে শাড়ি পরা রৌদ্রের মতো মেয়েটি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। ছন্দহীন বুনো চালতার শাখাগুলো আল নুয়ে পড়েছে। জলসিড়ি নদীতে হিজল গাছে মালিকহীন একখানা ডিঙি ভগ্নপ্রায় অবস্থায় বাঁধা রয়েছে। রৌদ্রভেজা | বেদনার গন্ধ আকাশতলে কেঁদে কেঁদে ভাসছে।

৩.৪ কেঁদে কেঁদে ভাসিতেছে আকাশের তলে’—কবির এমন মনে হওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?

উত্তর- পাড়াগাঁয়ের মধ্যাহ্নে সবকিছু ফাঁকা, শূন্য। একাকীত্বের বেদনায় সমগ্র প্রকৃতি বিরহবিধুর। দুপুরের রোদ যেন ভিজে বেদনার গন্ধ মেখে বিরাজমান। সারা প্রকৃতি জনমানবহীন শূন্যতায় বিষণ্ণ। তাই কবি মনে করছেন মধ্যাহের পরিকৃতি বিশাল বিপুল আকাশ তলে ক্রন্দনরত অবস্থায় বিদ্যমান।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

৪.১ পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি, শীর্ষক কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের কতসংখ্যক কবিতা ? ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ কবিতায় কবি জীবনানন্দের কবি-মানসিকতার পরিচয় কীভাবে ধরা দিয়েছে, তা বুঝিয়ে দাও।

 উত্তর- ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি… শীর্ষক কবিতাটি রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের ২৫ সংখ্যক কবিতা।‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থে কবি মানসিকতার প্রকৃতিপ্রীতি এবং বাংলা মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা বিবৃত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় গ্রামবাংলার প্রতি কবির ভালোবাসা অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশিত। পাড়াগ্রামে দুই প্রহর কাটানোর অভিজ্ঞতা কবিচিত্তে অনাবিল আনন্দ সঞ্চার করেছিল। পাড়াগ্রামের সবুজ প্রান্তর, শঙ্খচিল, শুষ্ক পাতা, শালিকের কণ্ঠ, বুনো চালতা গাছ, জেলে ডিঙি কবির অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে।

৪.২ কবিতাটির গঠন-প্রকৌশল আলোচনা করো।

 উত্তর- আধুনিক বাংলা কাব্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যে ফুটে উঠেছে কবিসত্তার রূপময় প্রকাশ।আলোচ্য কাব্যের ২৫ সংখ্যক কবিতাটি পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’ নামক পাঠ্যাংশের অন্তর্ভুক্ত। গঠনগত দিক থেকে কবিতাটি একটি উৎকৃষ্ট মানের সনেট জাতীয় রচনা। সনেট রচনার গঠন প্রকৌশল অনুযায়ী এই কবিতাটিতেও আট ও ছয় পক্তির দুটি পর্ববিন্যাস করা হয়েছে। এটা তান প্রধান বা মিশ্রবৃত্ত ছন্দে লেখা কবিতা। এই কবিতার শব্দ বিন্যাসেও কবি অদ্ভুত মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। মাঝে মাঝে সাধুভাষার প্রয়োগ কবিতাটিকে প্রাচীন বাংলার রূপ প্রকৃতিতে নিয়ে ফেলেছে। এই বাংলার রূপে মুগ্ধ কবি অদ্ভুত অদ্ভুত উপমা ব্যবহার করেছেন। সহজে প্রাকৃতিক বিষয়গুলিতেও নিয়ে এসেছেন কাব্যপ্রাণ। ‘ছন্দহীন বুনো চালতা’ মুখ চেয়ে আছে কবির দৃষ্টিকে আকর্ষিত করবে বলে। আর কবিমনের মায়া বিষণ্ণতা “ভিজ্ঞে বেদনার মতো রৌদ্রে পড়ে আছে। কবি বাংলার প্রকৃতিকে এভাবেই একান্ত নির্জনে, চোদ্দো পড়ক্তিতে মেদুর করে সাজিয়ে তুলেছেন।

৪.৩ ‘গন্ধ লেগে আছে রৌদ্রে যেন ভিজে বেদনার’—কবিতায় কীভাবে এই অপরূপ বিষণ্নতার স্পর্শ এসে লেগেছে, তা যথাযথ পড়ক্তি উদ্ধৃত করে আলোচনা করো।

উত্তর- পল্লিপ্রকৃতিকে ভালোবাসার মাধ্যমে এই কবিতায় এক অপরূপ বিষণ্নতার পরশ প্রকাশিত হয়েছে। কবির হৃদয়কন্দরে পাড়া গ্রামের প্রতি ভালোবাসা এক স্বপ্নময় জগৎ রচনা করেছে যা বেদনাহত। তাই কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে ‘রৌদ্রে যেন গন্ধ লেগে আছে, স্বপনের কোন গল্প, কী কাহিনি, কী স্বপ্ন যে বাঁধিয়াছে ঘর/আমার হৃদয়ে, আহা, কেউ তাহা জানেনাকো। কবির গ্রামের স্বপ্ন বেদনার্ত। প্রকৃতির শুদ্ধপত্র, শালিকের রব, ভাঙা মাঠ, জলসিড়ি নদী, ভগ্নপ্রায় ডিঙি, হিজল গাছ রৌদ্রে ভিজে বেদনার গন্ধমাখা। তাই তিনি বলে ওঠেন— ‘পাড়াগাঁর দুপহর ভালোবাসি—বৌদ্রে যেন ভিজে বেদনার /গন্ধ লেগে আছে, আহা, কেঁদে কেঁদে ভাসিতেছে আকাশের তলে।।

 ৫. নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো :

উত্তর-

পাড়াগাঁ— পাড়াগ্রাম > পাড়াগাঁ-নাসিক্যীভবন।
দু-পহর– দ্বিপ্রহর> দু-পহর-বর্ণবিকার।
জনম- জন্ম > জনম—স্বরভক্তি।
ভিজে- ভিজা ভিজে স্বরসংগতি।
স্বপন- স্বপ্ন > স্বপন—স্বরভক্তি।

৬. নীচের শব্দগুলির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো :

উত্তর-

শঙ্খচিল- শঙ্খের ন্যায় চিল–উপমান কর্মধারয় সমাস।
নক্শা পেড়ে–নকশা আঁকা পাড়–মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস, তাতে।
ছন্দহীন—ছন্দ হইতে হীন—অপাদান তৎপুরুষ সমাস।

৭. নীচের বাক্যগুলিতে ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো :

৭.১ পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি।

উত্তর- সাধারণ বর্তমান।

৭.২ রৌদ্রে যেন গন্ধ লেগে আছে স্বপনের

উত্তর- পুরাঘটিত বর্তমান।

৭.৩ শাখাগুলো নুয়ে আছে বহুদিন ছন্দহীন বুনো চালতার

উত্তর- পুরাঘটিত বর্তমান।

৭.৪ ডিঙিও ভাসিছে কার জলে।

উত্তর- ঘটমান বর্তমান।

৭.৫ কোনোদিন এইদিকে আসিবে না আর।

উত্তর- সাধারণ ভবিষ্যৎ।

 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

1.1 মেয়েটির নকশা পেরে শাড়িখানা রোদের আলোয় কিসের মত ঝরে যায়?

উত্তর- মেয়েটির শাড়িটা হলুদ পাতার মতো ঝরে যায়|

1.2 সাক গুলি কোথায় শুয়ে আছে?

উত্তর- সাকগুলি  জলসিঁড়ির পাশে শুয়ে আছে বহুদিন ধরে|

1.3 ডিঙিটি বেঁধে রেখে তার মালিক কোথায় গেছে?

উত্তর- ডিঙির মালিক হিজলি পাড়াগাঁয়ের দুপুর ভালোবেসে চলে গেছে|

1.4 কবিতায়  ভিজে  বেদনার সাথে কার তুলনা করা হয়েছে?

উত্তর- কবি ভিজে বেদনার সাথে রোদ্রের তুলনা করেছেন|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top