দশম শ্রেনী ভৌত বিজ্ঞান অধ্যায় ১ পরিবেশের জন্য ভাবনা

পরিবেশের জন্য ভাবনা

বিভাগ ক – সঠিক উত্তর নির্বাচন করো

1. উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব – কমে যায় /বেড়ে যায় /প্রথমে কমে  ও পড়ে বাড়ে/ কোনোটিই নয়

 উত্তর-  কমে যায় ।

 2 .ভূপৃষ্ঠের সব থেকে কাছের স্তরের নাম হল -ট্রপোস্ফিয়ার/ স্ট্রাটোস্ফিয়ার/ মেসোস্ফিয়ার /থার্মোস্ফিয়ার

  উত্তর-  ট্রপোস্ফিয়ার ।

4  . ট্রপোস্ফিয়ারের প্রতি এক কিলোমিটার উচ্চতা সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড   রাস পায়-  6.1/ 6.4/ 6.5/ 6

 উত্তর- 6.5

5 .ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের অংশের নাম হল-  স্ট্রাটোস্ফিয়ার /মেসোস্ফিয়ার থার্মোস্ফিয়ার /ওজন স্পেয়া

 উত্তর-  স্ট্রাটোস্ফিয়ার ।

 6 . বায়ুমন্ডলের কোন অঞ্চলে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয় – ট্রপোস্ফিয়ার /স্ট্রাটোস্ফিয়ার/ মেসোস্ফিয়ার /থার্মোস্ফিয়ার

 উত্তর-  ট্রপোস্ফিয়ার ।

7. ভূ পৃষ্ঠে বায়ুর চাপ কত -76 সেমি পারদ স্তম্বের চাপ/ 75 সেমি পারদ স্তম্বের চাপ/ 74 সেমি পারদ স্তম্বের চাপ /70 সেমি পারদ স্তম্বের চাপ

 উত্তর-  76 সেমি পারদ স্তম্বের চাপ ।

 8 .ভূপৃষ্ঠ থেকে 40 থেকে 45 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত স্ট্যাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে যে স্তর রয়েছে তাকে কি বলে- ওজন স্পেয়ার/ আয়োনোস্ফিয়ার/ ম্যাগনেটোস্ফিয়ার/ কোনোটিই নয়

 উত্তর-  ওজন স্পেয়ার ।

 9. নিম্নলিখিত উপাদান গুলির মধ্যে কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়-  কার্বন-ডাই-অক্সাইড /অক্সিজেন /মিথেন ক্লোরোফ্লোরো কার্বন

 উত্তর-  অক্সিজেন ।

10. নিম্নলিখিত কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয় -কয়লা /পেট্রোলিয়াম / প্রাকৃতিক গ্যাস/ সূর্য

 উত্তর-  সূর্য ।

11. বায়োগ্যাসের মূল উপাদান হলো- হাইড্রোজেন সালফাইট/ হাইড্রোজেন/ কার্বন ডাই অক্সাইড /মিথেন

  উত্তর-  মিথেন (75 শতাংশ) ।

12 .নিম্নলিখিত কোনটি অপ্রচলিত শক্তি উৎস নয় -সৌরশক্তি/ জোয়ার ভাঁটা শক্তি/ ভূতাপ শক্তি/ জীবাশ্ম জ্বালানি

 উত্তর-  জীবাশ্ম জ্বালানি ।

13 .পৃথিবীর অভ্যন্তরে অবস্থিত উত্তপ্ত শিলা থেকে প্রাপ্ত তাপশক্তি কে কি বলে- জোয়ার ভাটা শক্তি /বায়ু শক্তি /ভূতাপ শক্তি/ সৌরশক্তি

 উত্তর-  ভূতাপ শক্তি ।

14. মিথানোজেন ব্যাকটেরিয়া যে গ্যাস তৈরি করে সেটি হল- মিথেন/ কার্বন-ডাই-অক্সাইড /নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড/ নাইট্রোজেন মনোঅক্সাইড

 উত্তর-  মিথেন ।

15 .সৌর শক্তির উৎস হল- নিউক্লিয় বিভাজন বিক্রিয়া/ নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া/ প্রাকৃতিক গ্যাস/ বায়ু

 উত্তর- নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া ।

16.  সূর্য থেকে আশা কোন রশ্মিকে ওজোন স্তর শোষণ করে- দৃশ্যমান আলো /অতিবেগুনি রশ্মি /বিটা রশ্মি /গামা রশ্মি

  উত্তর- অতিবেগুনি রশ্মি ।

 

বিভাগ খ- অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন

1. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?

 উত্তর- পৃথিবী কে ঘিরে যে বায়ুর আবরণ রয়েছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে ।

2. ভূপৃষ্ঠ থেকে কত কিলোমিটার থেকে বায়ুর অস্তিত্ব অনুভব করা যায়?

 উত্তর- সাধারণতঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে 700 কিলোমিটার থেকে হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুর অস্তিত্ব অনুভব করা যায় ।

3. বায়ু কি কি উপাদান দ্বারা গঠিত হয়?

 উত্তর- জলীয়বাষ্প গ্যাসীয় উপাদান এবং ধূলিকণা ।

4. বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের শতকরা পরিমাণ কত?

  উত্তর- নাইট্রোজেন 78 শতাংশ এবং অক্সিজেন 21% ।

5. রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল কয় প্রকার ও কি কি?

 উত্তর- রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল সাধারণত দুই প্রকার হোমোস্ফিয়ার এবং হেটেরোস্ফিয়ার ।

6 . হোমোস্ফিয়ার কাকে বলে?

 উত্তর-  ভূপৃষ্ঠ থেকে 80 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বায়ু সাধারণত সমসত্ব হয় বায়ুর অঞ্চলকেই হোমোস্ফিয়ার বলেন ।

7. হেটেরোস্ফিয়ার কাকে বলে?

 উত্তর- হোমোস্ফিয়ার এর উপরের অংশ থেকে শুরু করে অর্থাৎ 80 কিলোমিটার এর উপরে বায়ুর বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন গ্যাস থাকে বায়ুমণ্ডলের এই এই অঞ্চলকে হেটেরোস্পিয়ার বলে ।

8. ট্রপোস্ফিয়ার কত উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?

 উত্তর- ভূপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত 17 কিলোমিটার ।

9. বায়ুমন্ডলের কোন অঞ্চলে পরিচলন স্রোত আনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ ধূলিকণা মেঘ ঝড় বৃষ্টি দেখা যায়?

 উত্তর-  ট্রপোস্ফিয়ার ।

10. ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্ব স্তরে তাপমাত্রা কত?

 উত্তর- (-55)ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ।

11. ট্রপোপজ কাকে বলে?

 উত্তর-  ট্রপোস্ফিয়ারের সব থেকে উপরের অংশকে ট্রপোপজ বলে ।
এই অঞ্চলের উষ্ণতা গৃষ্ম কালে বাড়ে এবং শীতকালে কমে

12. ট্রপোপজ বিষুবরেখায় এবং মেরুতে কত উচ্চতায় থাকে?

 উত্তর-  বিষুবরেখায় পর্বতের উচ্চতা প্রায় 15  কিলোমিটার এবং মেরুতে তার উচ্চতা 5 কিলোমিটার ।

 13. স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর সবথেকে উচ্চ স্তর কে কি বলে ?

 উত্তর-  স্ট্যাটোপজ ।

14. স্ট্যাটোপজ এ তাপমাত্রা কত থাকে?

 উত্তর- 0 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ।

 15. স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর উচ্চতা কত?

 উত্তর- ট্রপোস্ফিয়ার থেকে প্রায় 50 কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ।

16. মেসোস্ফিয়ার কাকে বলে এবং এর ঊর্ধ্ব স্তরের তাপমাত্রা কত ?

উত্তর- স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর পরের অংশের নাম মেসোস্ফিয়ার এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রার রাস পায় এবং সর্বোচ্চ স্তরের তাপমাত্রা -95 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ।

17. মেসোপজ কি ?

 উত্তর- মেসোস্ফিয়ার এর সর্বোচ্চ স্তর কে মেসো পোজ বলে ।

18. থার্মোস্ফিয়ার কি এবং এই স্তরের উচ্চতা এবং এটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত?

  উত্তর- মেসোস্ফিয়ার এর পরবর্তী স্তরকে থার্মোস্ফিয়ার বলে এই স্তরের উচ্চতা প্রায় 85 থেকে 130 কিলোমিটার এবং উষ্ণতা 1200 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ।

19. ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতায় সর্বাধিক পরিমাণ ওজোন স্তর রয়েছে?

  উত্তর- 30 কিলোমিটার ।

 20. বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বেতার তরঙ্গ যাতায়াত করতে পারে?

 উত্তর- আয়োনোস্ফিয়ার , এটি মেসোস্ফিয়ার উপরের অংশ থেকে থার্মোস্ফিয়ার কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ।

 21. বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে মেরুজ্যোতি দেখা যায়?

 উত্তর-  আয়োনোস্ফিয়ার ।

 22. বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে প্রোটন ও ইলেকট্রন রয়েছে ?

 উত্তর-  ম্যাগনেটোস্ফিয়ার ।

 23. প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাসের নাম কি?

 উত্তর-  কার্বন ডাই অক্সাইড ।

24. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন নাইট্রাস অক্সাইড এবং মিথেনের তাপ শোষণ ক্ষমতা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের থেকে কত গুণ বেশি?

 উত্তর- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন এর তাপ শোষণ ক্ষমতা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের থেকে 12 হাজার গুণ বেশি নাইট্রাস অক্সাইড এর তাপ শোষণ ক্ষমতা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের থেকে 230 গুণ বেশি এবং মিথেনের তাপ শোষণ ক্ষমতা  কার্বন-ডাই-অক্সাইডের  থেকে 21 গুণ বেশি ।

25. পৃথিবীর গড় উষ্ণতা প্রতিবছর প্রায় কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পাচ্ছে?

 উত্তর-  0.05 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড করে বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

26. জ্বালানি কাকে বলে ?

 উত্তর- যেসব পদার্থ বাতাসে পোড়ালে প্রচুর পরিমান তাপ উৎপন্ন হয় তাদের জ্বালানি বলে ।

27. জীবাশ্ম জ্বালানি বলতে কী বোঝো ?

 উত্তর- কোটি কোটি বছর পূর্বে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা উদ্ভিদ ও প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে যে শক্তির উৎস পরিণত হয় তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে । যেমন- কয়লা পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস ।

28. অপ্রচলিত শক্তি বা অচিরাচরিত শক্তি বলতে কী বোঝো ?

 উত্তর-  যেসব শক্তি জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীল নয় এবং যা কোনদিন শেষ হবেনা তাকে অপ্রচলিত শক্তি  বলে ।

29. অপ্রচলিত শক্তির উদাহরণ দাও ।

 উত্তর-  সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি ,ভূতাপ শক্তি ,জোয়ার ভাটা শক্তি এবং বায়োমাস শক্তি হলো কিছু অপ্রচলিত শক্তির উদাহরণ ।

30. সৌর কোষে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?

 উত্তর-  তড়িৎ শক্তিতে ।

31. সৌরকোষ কিভাবে গঠিত হয় ?

 উত্তর- সৌরকোষ সাধারণত সিলিকনের প্রস্তুত হয় এতে সিলিকন বলুন এর একটি স্তর এবং সিলিকন আর্সেনিকের একটি স্তর পাশাপাশি থাকে ।

32. একটি সৌর কোষে বিভাগ পার্থক্য কত হতে পারে?

 উত্তর- 0.5 ভোল্ট ।

33. বায়োমাস কাকে বলে?

 উত্তর- উদ্ভিদের মৃত অংশ এবং প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ কে বায়োমাস বলে বায়োমাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত করে শক্তি উৎপন্ন করা যায় ।

34. বায়োফুয়েল বলতে কি বোঝো?

 উত্তর-  কাঠ কৃষি বর্জ্য এবং গোবর জ্বালানি রূপে ব্যবহৃত হওয়ায় এদেরকে বায়োফুয়েল বলে ।

35. বায়োগ্যাসের উপাদান হিসেবে কি কি থাকে?

 উত্তর- বায়োগ্যাসে মিথেন কার্বন-ডাই-অক্সাইড হাইড্রোজেন সালফাইড হাইড্রোজেন থাকে ।

36. মিথানোজেন ব্যাকটেরিয়া বলতে কী বোঝো ?

 উত্তর- এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা স্বল্প অক্সিজেন পরিবেশে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে ।

37. কয়লা খনির মিথেন কাকে বলে ?

 উত্তর- এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক গ্যাস যা কয়লার ওপর একটি পাতলা স্তরে সঞ্চিত থাকে ।

38. পৃথিবীতে কোন কোন দেশে কয়লা খনি মিথেন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়?

 উত্তর- বর্তমানে আমেরিকা কানাডা অস্ট্রেলিয়া তে কয়লা খনি মিথেন গ্যাস ব্যবহার করা হয় ।

39. মিথেন হাইড্রেট বলতে কী বোঝো?

 উত্তর- নির্দিষ্ট উষ্ণতা ও চাপে জলের অনু খাঁচার আকার ধারণ করে এবং এই শূন্যস্থান গুলিতে মিথেন অনুকূলে থাকে এইভাবে মিথেন হাইড্রেট গঠিত হয় । সাধারণত নিম্ন উষ্ণতা ও উচ্চ চাপে মিথেন হাইড্রেট পাওয়া যায় ।

40. মিথেন হাইড্রেট কত পরিমান মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করতে পারে? 

 উত্তর- মিথেন হাইড্রেট তার নিজস্ব আয়তনের প্রায় 160 গুণ মিথেন উৎপন্ন করতে পারে ।

41. মিথেন হাইড্রেট এর সংকেত কি?

 উত্তর- 4CH4.23H2O

 

 বিভাগ গ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

1. বায়ুমণ্ডলের উপাদান গুলি কি কি?

  উত্তর- বায়ুমন্ডলের প্রধান তিনটি উপাদান হলো – 1. জলীয়বাষ্প 2. ধূলিকণা ও 3. গ্যাসের উপাদান ।

 গ্যাসীয় উপাদান – বায়ুমণ্ডলের উপাদান গুলির মধ্যে গ্যাসীয় উপাদান এর সর্বাধিক থাকে তাদের মধ্যে নাইট্রোজেনের পরিমাণ 78 শতাংশ, অক্সিজেনের পরিমাণ 20 শতাংশ, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ 0.04 শতাংশ। এছাড়াও বায়ুমন্ডলে বিভিন্ন নিষ্ক্রিয় গ্যাস (যেমন হিলিয়াম, নিয়্‌ আর্গন, ক্রিপট্‌ জেনন, রেডন ) থাকে।

2. রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল কয় প্রকার ও কি কি এবং প্রকার গুলির ব্যাখ্যা দাও ?

 উত্তর- রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল বিভক্ত করা যায় হোমোস্ফিয়ার এবং হেটেরোস্ফিয়ারে।

হোমোস্ফিয়ার – ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 80 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত হওয়ার দরুন এই অঞ্চলটিকে হোমোস্ফিয়ার বলে।

হেটেরোস্ফিয়ারের- বায়ুমন্ডলে 80 কিলোমিটার এর বেশি উচ্চতায় বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন গ্যাস থাকে এই কারণে এই অঞ্চল কে হেটেরোস্ফিয়ারের বলে।

3. উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে বায়ুমণ্ডলের ভাগ গুলি লেখ এবং যেকোনো একটি ভাগ এর বর্ণনা দাও?

 উত্তর- উষ্ণতা তারতম্য অনুসারে বায়ুমণ্ডল ছয় ভাগে বিভক্ত সেগুলি হল
1. ট্রপোস্ফিয়ার
2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
3. মেসোস্ফিয়ার
4. থার্মোস্ফিয়ার
5. এক্সোস্ফিয়ার এবং
6. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার।

 ট্রপোস্ফিয়ার- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে কাছের স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 17 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা 6.5 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রাস পায়। এই স্তরে পরিচলন স্রোত বায়ুপ্রবাহ ঝড় বৃষ্টি দেখা যায়। ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্ব সীমানার নাম ট্রপোপজ এখানে উষ্ণতার মান – 55 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত নেমে যায়।

4. ক্ষুব্দ মন্ডল কাকে বলে এবং কেন বলে?

 উত্তর- ট্রপোস্ফিয়ার কে ক্ষুদ্র মন্ডল বলে।
এই অঞ্চলে বায়ুর পরিচলন স্রোত আনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ ধূলিকণা মেঘ ঝড় বৃষ্টি দেখা যায় তাই এই স্তরটিকে ক্ষুদ্র মন্ডল বলা হয় থাকে।

5. স্ট্রাটোস্ফিয়ার সম্পর্কে যা জানো লেখ?

 উত্তর- ট্রপোস্ফিয়ারের উপরে 50 কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটিকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলা হয়। এই অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না, স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর উর্ধ্বসীমা কে স্ট্রাটোপজ বলা হয় এবং এই অঞ্চলের তাপমাত্রা জিরো ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড, স্ট্রাটোস্ফিয়ার এ পরিচলন স্রোত মেঘ ঝড়-বৃষ্টি হয় না বলে একে শান্ত মন্ডল বলা হয়ে থাকে।

6. মেসোস্ফিয়ার কাকে বলে এবং এটি বিবরণ দাও ?

 উত্তর- স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর পরের বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তরটি কি মেসোস্ফিয়ার বলে। এটি 50 থেকে 80 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। মেসোস্ফিয়ার এর উর্ধ্বসীমা নাম মেসোপোজ, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং মেসোপজে তাপমাত্রা -95° সেন্টিগ্রেডে পৌঁছায়।
এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর।
মহাকাশ থেকে আগত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা উল্কাপিণ্ড গুলি এই স্তরে এসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

7. থার্মোস্ফিয়ার এক্সোস্ফিয়ার বিবরণ দাও?

 উত্তর-

থার্মোস্ফিয়ার- মেসোস্ফিয়ার এর ঠিক উপরে স্তরটি হল থার্মোস্ফিয়ার। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই স্তরের উষ্ণতা বাড়ে, ঊর্ধ্ব স্টরে তাপমাত্রা 1200 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এ পৌঁছায়। এই স্তরটি 85-500কিলোমিটার সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত।

এক্সোস্ফিয়ার – এক্সোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠের উপর এ 500 থেকে 1500 কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। সর্বোচ্চ সীমা এই স্তরের তাপমাত্রা 1240 সেন্টিগ্রেড এ পৌঁছায়।
এক্সোস্ফিয়ার এ খুব কম ঘনত্ব বিশিষ্ট গ্যাস থাকে।

8. ওজন স্পেয়ার কাকে বলে এবং এটি কিভাবে পৃথিবীকে রক্ষা করে?

 উত্তর- ভূপৃষ্ঠের উপর কাছে ট্রপোস্ফিয়ার এবং স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর কিছু অংশ জুড়ে ওজন স্পেয়ার বিস্তৃত।
এই স্তরে সৃষ্টি হওয়া ওজন(O3) সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীব জগতকে রক্ষা করে।

9. উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার কি পরিবর্তন ঘটে এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা দাও ?

 উত্তর- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হ্রাস পায়।

সূর্য থেকে আসা তাপ পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত না করে সরাসরি ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ে এবং ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু কে উত্তপ্ত করে। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলের তাপ শোষণ ক্ষমতা ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরে অবস্থিত কোন অঞ্চলের থেকে বেশি হয়, তাই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায় তাপমাত্রা তত কমতে থাকে।

প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য বায়ুর উষ্ণতা প্রায় – 6.5 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড কমতে থাকে।

10. উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর চাপ এর কি পরিবর্তন ঘটে তা ব্যাখ্যা করো?

 উত্তর- বায়ুর চাপ নির্ভর করে বায়ুতে অবস্থিত গ্যাসীয় অনুগুলির ঘনত্বের উপর যেহেতু উচ্চতা উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব রাস পায় তাই বায়ুর চাপ ও রাস পায়।
প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর চাপ রায় 6.51 সেন্টিমিটার পারদ স্তম্বের চাপ সমান হারে কমতে থাকে।

11. পরিচলন স্রোত ও পরিচালন বৃষ্টি বলতে কি বোঝো? কিউমুলোনিম্বাস মেঘ কিভাবে সৃষ্টি হয়?

 উত্তর- ট্রপোস্ফিয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমতে থাকায় নিচের হালকা উষ্ণ আদ্র বায়ু উপরে উঠে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি করে।

জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের ফলে নির্গত লিনতাপ এই হালকা বায়ুকে আরো উপরে পাঠায় অপরদিকে ঘনীভবনের ফলে উৎপন্ন জলবিন্দু মহাকর্ষের টানে নিচে নামে এবং পুনরায় বাষ্পীভবনের ফলে উপরে উঠে যায় ওপরে ওঠা বায়ুর গতি স্তব্ধ হয়ে বায়ু শান্ত হলে বর্জ্য বিদ্যুৎ সহজে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

উষ্ণ আদ্র বায়ু শীতল বায়ুর মধ্য দিয়ে উপরে উঠে  প্রসারিত ও শীতল হয়  এবং কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে।

12. ওজোন স্তর কিভাবে সৃষ্টি হয় এবং ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ গুলি লেখ?

 উত্তর- সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি অক্সিজেন অনুকে ভেঙে দুটি অক্সিজেন পরমাণু তে পরিণত করে। একটি অক্সিজেন অনুর সাথে একটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয়ে একটি ওজন অনু তৈরি হয়, এই প্রক্রিয়া ক্রমাগত হওয়ার দরুন ভূপৃষ্ঠ থেকে 40 থেকে 45 কিলোমিটার উচ্চতায় ওজোন স্তর তৈরি হয় ।

O2 → O + O; 
O2 + O → O3

 ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ .বর্তমানে মানুষের অত্যাধুনিক জীবন-যাপনে তরুণ ক্লোরোফ্লোরো কার্বন নাইট্রাস অক্সাইড কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ট্রাই ক্লোরোইথেন প্রচুর পরিমাণে তৈরি হয় এই গ্যাস গুলি ওজোন স্তরের সংস্পর্শে এলে ওজোন স্তর ধীরে ধীরে ধ্বংস হয় এর ফলে সুমেরু কুমেরু অঞ্চলে ওজন গহবর সৃষ্টি হয়েছে.

এই বিক্রিয়া ক্রমাগত চলতে থাকে।

13. ওজোন স্তর ধ্বংসের ক্ষতিকারক প্রভাব গুলি লেখ?

 উত্তর- সূর্য থেকে আশা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ওজোন স্তর ধীরে ধীরে পাতলা হলে অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় এর ফলে –

A. পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে।
B. নানা রকম রোগের আবির্ভাব ঘটবে যেমন চামড়ার ক্যান্সার সানবার্ন চোখে ছানি ইত্যাদি।
C. উদ্ভিদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে যেমন উদ্ভিদের পাতার ক্লোরোফিল রাস পাওয়া গাছের ফুল ফল শুকিয়ে যাওয়া অঙ্কুরোদগমের সমস্যা ইত্যাদি।
D. এছাড়া জলে থাকা বিভিন্ন জীব অ্যালগি ব্যাকটেরিয়া কমে যাবে।

14. গ্রীন হাউস এফেক্ট কি এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝো?

 উত্তর- সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট তাপীয় বিকিরণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ভূপৃষ্ঠ কে উত্তপ্ত করে কিন্তু পৃষ্ঠ থেকে নির্গত দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ইনফ্রারেড রশ্মি বায়ুমন্ডলে উপস্থিত গ্রীন হাউজ গ্যাস (কার্বন ডাই অক্সাইড নাইট্রাস অক্সাইড ক্লোরোফ্লোরো কার্বন মিথেন এবং জলীয় বাষ্প) দ্বারা শোষিত হয়। এই গ্যাস গুলো পুনরায় ভূপৃষ্ঠের দিকে তাপ বিকিরণ করে, এর ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় একে গৃণহাউস এফেক্ট বলে।

গ্রীন হাউজ গ্যাস গুলির অত্যাধিক বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতাকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।

15. বিশ্ব উষ্ণায়নে গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাব আলোচনা করো?

 উত্তর- বায়ুমন্ডল এ উপস্থিত গ্রীন হাউজ গ্যাস কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, বিশ্ব উষ্ণায়নে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলে। এদের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড হল প্রধান গ্রীন হাউস গ্যাস। অগ্নুৎপাত, জীবাশ্ম জ্বালানি জ্বালানি দহন, থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয় ও বিশ্ব উষ্ণায়নের সরাসরি প্রভাব ফেলে।

 রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, প্লাস্টিক কারখানা, জীবানুনাশক, থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লোরো কার্বন,পাশাপাশি বায়োমাস দহনের ফলে উৎপন্ন মিথেন এর ফলে বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

**ক্লোরোফ্লোরো কার্বন মিথেন নাইট্রোজেন গ্যাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড এগুলো নয় যথাক্রমে 1200, 21 এবং 230 গুণ বেশি।

16. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব গুলি আলোচনা করো?

 উত্তর- পরিবেশে গ্রীন হাউস গ্যাস বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ ফল হল বিশ্ব উষ্ণায়ন।

পরিবেশে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব গুলি হল-

A. আবহাওয়ার পরিবর্তন -বন্যা ক্ষরা ঝড়ঝঞ্জা ইত্যাদি দেখা যাবে।
B. মরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে ফলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা বাড়বে এবং উপকূলবর্তী এলাকা গুলির ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
C. বিভিন্ন ধরনের জীবাণু গঠিত ব্যাধি দেখা যাবে যেমন ম্যালেরিয়া, হাঁপানি, এলার্জি।
D. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে ঘন বনের গাছে গাছে ঘষা লেগে দাবানল সৃষ্টি হতে পারে, এর ফলে বিশাল বনভূমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। 
E. অসংখ্য প্রাণী এবং উদ্ভিদ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ফলে জীব বৈচিত্র ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

17. বিশ্ব উষ্ণায়ন কমানোর উপায় গুলি লেখ?

 উত্তর-

A. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে অপ্রচলিত শক্তি যেমন ছোট শক্তি বায়ু শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
B. বনভূমি রক্ষার পাশাপাশি বনসৃজন করতে হবে।
C. ফ্রেয়ন হ্যালন গ্যাসের উৎপাদন কমাতে হবে।
D. জৈব পদার্থ গুলিকে জৈব সারের পরিণত করে সেগুলি ব্যবহার করতে হবে ফলে মিথেন উৎপন্ন হওয়ার প্রবণতা কমবে।
E. মানুষকে বিশ্ব উষ্ণায়ন কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

এইভাবে বায়ুমন্ডলের CO2 ক্লোরোফ্লোরো কার্বন এবং মিথেনের আনুপাতিক পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব উষ্ণায়ন কমানো যাবে।

18. স্থিতিশীল উন্নয়ন বলতে কী বোঝো? জীবাশ্ম জ্বালানির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা লেখ।

 উত্তর-  স্থিতিশীল উন্নয়ন হলও সেই উন্নয়ন যা বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সামর্থের সঙ্গে আপোষ করে না। জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা পেট্রোলিয়াম এর পরিমাণ পৃথিবীতে সীমিত। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ও এগুলি পুনরায় উৎপন্ন করা সম্ভব নয়।

জীবাশ্ম জ্বালানি ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার ফলে আগামী দিনে এগুলি সরবরাহ কমবে এবং প্রচলিত শক্তি দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

19. জীবাশ্ম জ্বালানির তাপন মূল্য বলতে কী বোঝো কয়েকটি জীবাশ্ম জ্বালানির তাপন মূল্য লেখ?

 উত্তর- 1 গ্রাম পরিমাণ কোন জ্বালানি অক্সিজেনের সম্পূর্ণ দহনের ফলে যে তাপ উৎপন্ন হয় তাকে ওই জ্বালানির তাপন মূল্য বলে। তাপন মূল্য পরিমাপ  করার একক হল কিলোজুল/ গ্রাম।

1. কয়লা – 25-30kj/g
2. কাঠ কয়লা – 33kj/g
3. কেরোসিন – 48kj/g
4. ডিজেল – 45kj/g
5. এলপিজি-50kj/g.

20. প্রচলিত অপ্রচলিত শক্তি বলতে কি বোঝো? কেন আমরা অপ্রচলিত শক্তি থেকে প্রচলিত শক্তি  বেশি ব্যবহার করব ?

 উত্তর- মানুষের জীবনযাত্রায় প্রয়োজন শক্তির অধিকাংশই জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, থেকে সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ জাতীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয় বলে একে প্রচলিত শক্তির বলে।

জীবাশ্ম জ্বালানীর বিকল্প রূপে বর্তমানে যে সকল শক্তির ব্যবহার করা হয়, যেগুলি পুনর্নবীকরণযোগ্য তাদেরকে অচিরাচরিত শক্তি বলে। যেমন সৌরশক্তি জোয়ার ভাটা শক্তি।

অপ্রচলিত শক্তি বেশি ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্য গুলি হল – 1. এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য 2. অপ্রচলিত শক্তির উৎস প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এগুলি সহজলভ্য 3. এগুলি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না তাই দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

21. সৌর শক্তি বলতে কি বুঝি আমরা কিভাবে সৌর শক্তিকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগাতে পারি?

 উত্তর- সূর্য হলেও প্রধান শক্তির উৎস। সূর্য থেকে আমরা যে শক্তি পাই তাকে সৌরশক্তি বলে।

এই শক্তির মধ্যে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি প্রবাহ সম্মিলিত রূপে রয়েছে। সৌর শক্তির উৎস হল নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া।

সৌর শক্তি সোলার কুকার সোলার ওয়াটার হিটার সৌরকোষ এ ব্যবহার করা হয়।

A. সূর্যের তাপ কে কাজে লাগিয়ে সোলার ওয়াটার হিটার জল গরম করা হয়। অন্যদিকে,
B. এই শক্তিকে কাজে লাগিয়েই সৌরকোষের সাহায্যে তড়িৎ উৎপন্ন করা হয় যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।

22. সৌরকোষ কি এবং সৌর কোষ প্যানেল কিভাবে তৈরি করা হয়?

 উত্তর- সৌরশক্তি কে কাজে লাগিয়ে সৌরকোষে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় .এখানে সিলিকন বোরণ এবং সিলিকন আর্সেনিকের দুটি স্তর পাশাপাশি থাকে, নিচের এবং উপরের স্তরে একটি করে তার যুক্ত থাকে । কোষ গুলিতে আলো পড়লে সিলিকন পরমাণু তে অবস্থিত দুর্বল ইলেকট্রন গুলি গতিশীল হয় এবং তার ফলস্বরূপ তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয়।

সৌরকোষ প্যানেল – তড়িৎ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনেকগুলি সৌরকোষ কে নির্দিষ্ট শয্যায় বৈদ্যুতিক ভাবে যুক্ত করে একটি বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা হয় তাকে সৌর কোষ প্যানেল বলা হয়। সৌর কোষ ক্যালকুলেটর, ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়, কৃত্রিম উপগ্রহের তড়িৎ সরবরাহ করতে এবং দূরের অঞ্চলে রেডিও টিভি চালাতে সৌরকোষ ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে বাড়ির ছাদে কিংবা সমতলে সৌরকোষ সূর্যের দিকে মুখ করে রেখে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয়।

23. সৌরকোষ ব্যবহারের দুটি সুবিধা এবং দুটি অসুবিধা লেখ?

উত্তর-

সুবিধা –
A. সুবিধা দুর অঞ্চলে যেখানে বৈদ্যুতিক সরবরাহ অনেক খরচসাপেক্ষ সেখানে সৌর প্যানেলের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
B. সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা খুব কম।

অসুবিধা –
A. সৌরকোষ তৈরীর সময় সিলিকন ইত্যাদি মূল্যবান জিনিস ব্যবহার করা হয় ফলে সৌরকোষ তৈরির খরচ অনেক বেশি হয়ে যায়।
B. সৌরকোষের দক্ষতা কম সূর্য থেকে আসা আলোর মাত্র 25% বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করা যায়।

24. বায়ু শক্তি কি এবং বাড়িতে কাজে লাগিয়ে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায় ?

 উত্তর- সূর্যতাপে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্নভাবে উত্তপ্ত হলে হলে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, এই গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বায়ু চালানো হয়। বায়ু কলের সাথে টারবাইন ঘুরিয়ে তড়িৎ উৎপন্ন করা হয়, এই টারবাইন এর সাথে একটি জেনারেটর  থাকে যা তড়িৎ উৎপন্ন করে।

বেশি পরিমাণ তড়িৎ শক্তি উৎপন্নের জন্য ভারতে বিভিন্ন জায়গায় বায়ু শক্তি ফার্ম তৈরি করা হয়েছে।

বর্তমানে ভারতে বায়ুশক্তি থেকে প্রায় 1025 মেগাওয়াট তড়িৎ উৎপন্ন করা হয়।

25. বায়ু শক্তি ব্যবহারের দুটি সুবিধা এবং দুটি অসুবিধা লেখ?

 উত্তর-

 সুবিধা-
A. বায়ু শক্তির উৎস একটি প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য তাই এ নির্বাচনের বিকল্প রূপে কাজ করে।
B. বায়ু শক্তির ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হল এটি দ্বারা পরিবেশ দূষণ ঘটে না এবং এটি ব্যয়বহুল নয়।

অসুবিধা-
A. বায়ু প্রবাহের গতি শক্তির উপর এটি নির্ভরশীল তাই যেকোনো সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব নয়।
B. বায়ু শক্তির ফার্ম নির্মাণ এবং পর্যবেক্ষণ করা সহজ নয় তাই দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন।

26. ভূতাপ শক্তি কি এবং এর দ্বারা কিভাবে তড়িৎ উৎপন্ন করা হয়?

 উত্তর- পৃথিবীর অভ্যন্তরে সঞ্চিত উত্তপ্ত শিলা থেকে প্রাপ্ত তাপশক্তি কে ভূতাপ শক্তি বলে। পৃথিবীর কিছু কিছু অঞ্চলে মাটির নিচে উত্তপ্ত শিলা থাকে ফলে এগুলি মাটির নিচের জলকে উত্তপ্ত করে স্ট্রিম এ পরিণত করে, ভূপৃষ্ঠ থেকে গর্ত করে উত্তপ্ত শিলা পর্যন্ত একটি নল ঢুকিয়ে দিলে উত্তপ্ত স্টিম বাইরে বেরিয়ে আসে,  যার ফলে টারবাইন ও জেনারেটর এর সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়।

**আগ্নেয়গিরি উষ্ণ প্রস্রবণ ইত্যাদি ভূতাপ শক্তির ফলে ভূ-অভ্যন্তর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে।

27. জোয়ার ভাটা শক্তি বলতে কি বোঝো এবং এর সুবিধা অসুবিধা লেখ ?

 উত্তর- চাঁদের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবীর সমুদ্র জল প্রতিদিন দুইবার ফুলে ওঠে এবং দুইবার নেমে যায় জলের এই ফুলে ওঠা কে জোয়ার এবং নেমে যাওয়া কে ভাটা বলে। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে বাঁধ এর সাহায্যে জোয়ার ভাটা শক্তির কাজে লাগিয়ে তড়িৎ উৎপন্ন করা হয়। জোয়ারে সমুদ্রের জল উচ্ছ্বাসিত হলে  বাধের পাশে  টারবাইন ও জেনারেটর এর সাহায্যে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা যায়, এর পাশাপাশি ভাটার সময় সমুদ্রের জলের অবনমন ঘটে ও জলের এই নিম্নমুখী প্রবাহে টারবাইন ঘুরিয়ে পুনরায় তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা যায় ।

সুবিধা-
A. জোয়ার ভাটা শক্তির দ্বারা তৈরি উৎপন্ন পরিবেশ দূষণ হয় না।
B. এই শক্তির উৎস প্রাকৃতিক হওয়ায় অবিচ্ছিন্নভাবে শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব হয়।

 অসুবিধা –
A.জোয়ার ভাটা শক্তি কাজে লাগে বেশি পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায় না।

28. বায়োমাস ও বায়োফুয়েল কাকে বলে এবং বায়োফুয়েল এর ব্যবহার লেখ ?

 উত্তর- উদ্ভিদের মৃত অংশ এবং প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ কে বায়োমাস বলে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে যেমন সৌরভ শক্তি জমা থাকে তেমনি বায়োমাস এর মধ্যেও একইভাবে এই শক্তি জমা থাকে। বায়োমাস কে জ্বালানির রূপে ব্যবহার করা হয় বলে এদেরকে বায়োফুয়েল বলে. যেমন কাঠ, জৈব বর্জ্য, গোবর।

 এটি একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার।

বায়োফুয়েলের ব্যবহার-
1. গরু এবং মোষের বর্জ্য পদার্থ অর্থাৎ গোবর থেকে ঘুটে তৈরি করা হয়. এটি পোড়ালে তাপ উৎপন্ন হয় এবং এই তাপ রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে এটি ব্যবহারের একটি সমস্যা হলো পরিবেশ দূষণ, তাই গোবর থেকে গোবর গ্যাস উৎপন্ন করা হয় যা ধোঁয়াহীন জ্বালানি রূপে কাজ করে। গোবর সার কৃষি ক্ষেত্রে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
2. কাঠ পাতা পোড়ালেও তাপ উৎপন্ন করা যায় যা রান্নার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
3. কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেট্রোল সাথে বায়ো অয়েল মিশিয়ে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

29. বায়োগ্যাস কি এবং বায়োগ্যাসের উপাদান ও ব্যবহার লেখ বায়োস এর দুটি সুবিধা ও অসুবিধা বর্ণনা দাও?

 উত্তর- বায়োগ্যাস হলো মিথেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ,হাইড্রোজেন , হাইড্রোজেন সালফাইড এর মিশ্রণ। এর মধ্যে 75 শতাংশ মিথেন গ্যাস থাকে ফলে এটি একটি খুব ভালো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

ব্যবহার –
A. বায়োগ্যাস জ্বালানি রূপে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয এবং এটি ধোঁয়াহীন জ্বালানি এবং এর খরচাও কম।
B. কৃষিকার্যে জল সরবরাহের জন্য পাম্প এর ইঞ্জিল চালাতে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
C. বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

 সুবিধা –
এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস। বায়োগ্যাস তৈরিতে উৎপন্ন অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলি (যেমন- গোবর) কৃষি ক্ষেত্রে উন্নত মানের সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি সরাসরি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হয় তাই সঞ্চয় এর সমস্যা হয়না।

 অসুবিধা –
ব্যাপক মাত্রায় বায়োগ্যাস দহনের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয় তাই পরিবেশ দূষণ ঘটে।

30. বায়োগ্যাস প্লান্টে সাহায্যে কিভাবে বায়ো গ্যাস উৎপন্ন করা হয় এবং তা সরবরাহ করা হয় ?

 উত্তর- একটি ট্যাঙ্কে গোবর ও জলের মিশ্রণ দিয়ে ভর্তি করা হয়, ট্যাংক টির গোল গম্বুজ এর মত জায়গাটি ফাঁকা রেখে ডিগ্রেডেশন পদ্ধতিতে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করা হয়। গম্বুজের ফাঁকা অংশে বায়োগ্যাস জমা হতে থাকে। বায়ো গ্যাসের পরিমাণ বাড়তে থাকলে মিশ্রণের উপর চাপ পড়ে এবং মিশ্রণটি ডানদিকের ট্যাংক এ চলে যায়। গম্বুজে উপরে নল বসিয়ে বায়োগ্যাস পাইপলাইনের সাহায্যে বিভিন্ন বাড়িতে জ্বালানি হিসাবে সরবরাহ করা হয়।

ডানদিকের অবশিষ্ট মিশ্রন পরবর্তীকালে কৃষি ক্ষেত্রে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

2 thoughts on “পরিবেশের জন্য ভাবনা”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top