Class 8 Bengali chapter 32 পরাজয়

পরাজয় – শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি

প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক শান্তিপ্রিয় বন্দোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে) খেলাধুলা সংক্রান্ত বিভিন্ন পুস্তক রচনার মাধ্যমে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষদের কাছে এক বিখ্যাত নাম। মূলত ক্রীড়াসাংবাদিক হিসাবে বিভিন্ন পত্র পত্রিবাহ তিনি কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল ক্লাবের নাম মোহনবাগান, ক্লাবের নাম ইস্টবেঙ্গল, মারাদোনা, ক্রিকেট খেলা শিখতে হলে, পাঁচ ক্রিকেটের নক্ষত্র, ফুটবলের পাঁচ নক্ষত্র ইত্যাদি। তিনি শুকতারা এবং নবকল্লোল পত্রিকার সম্পাদন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

 

সারাংশ

গল্পের নায়ক রঞ্জন একজন দক্ষ ফুটবলার, যার নেশা ফুটবল খেলা। ক্লাব হল তাঁর মনের ভালোবাসার জায়গা। গল্পে দেখা গেছে, একটু আগে সবকটি কাগজে ওদের ক্লাবের বারপুজোর অনুষ্ঠানের রিপোর্ট, উপস্থিত ব্যক্তির তালিকা ও ছবিগুলি ভালোভাবে দেখে রঞ্জন রেগে গিয়ে ঘরের মধ্যে চরকির মতো ঘুরছে। গত পনেরো বছর যে ক্লাবের জন্য সে রক্ত ঝরিয়েছে, বহু বড়ো ক্লাবের লক্ষ লক্ষ টাকার প্রলোভনকে উপেক্ষা করেছে, তারাই আজ তাকে ডাকার প্রয়োজন বোধ করল না। এত দুঃখ সে কখনও পায়নি। এরপর দুদিন সে অপেক্ষা করল, ওর সঙ্গে কারোর যোগাযোগ করার জন্য। না হলে সে অন্য বড়ো ক্লাবে যোগদান করবে। সে সারাদিন ছটফট করতে লাগল। দুদিন এভাবে কেটে গেল, কেউ রঞ্জনকে ফোন পর্যন্ত করল না। সে সিদ্ধান্ত নিল, অন্য বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনদাকে ফোন করে ওর অবস্থা জানাবে। সে তাদের কাছ থেকে অর্থ নয়, একটু সম্মান, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা চায়। রঞ্জন একাধিকবার বাংলা ও ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছে, অর্জুন পুরস্কার পেয়েছে, তাই স্বপনদার ক্লাব প্রস্তাবটি লুফে নেয় এবং স্ট্রাইকার রঞ্জনকে তারা প্রথম দিনেই সই করিয়ে নেয়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই বড়ো দলের খেলার প্রতিযোগিতার দিন আসে। রঞ্জনের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়। সমস্ত লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু রঞ্জন। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও সে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাক ভলির মাধ্যমে গোল করে তাঁর পূর্বের ক্লাবকে পরাজিত করে। অপমানের বদলা নিলেও সে নিজের অন্তরাত্মার কাছে হেরে যায়। সে নিজেকে সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলে।

 

হাতে কলমে

১.১ শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বইয়ের নাম লেখো।

উত্তরঃ- শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম লেখা বই ‘ফেরারি’।

১.২ কলকাতার ফুটবল নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম লেখো।

উত্তরঃ- ‘ক্লাবের নাম মোহনবাগান’ ও ‘ক্লাবের নাম ইস্টবেঙ্গল’।

২. নীচের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একটি বাক্যে লেখোঃ

২.১ ‘এত দুঃখ এত ব্যথা সে কখনও পায়নি’। — এখানে কার দুঃখ বেদনার বলা হয়েছে?

উত্তরঃ- আলোচা উদ্ধৃতিতে কলকাতা ফুটবলের সেরা স্ট্রাইকার রঞ্জনের কথা বলা হয়েছে।

২.২ ‘রঞ্জনদা তুমি কাল ক্লাবে যাওনি?’ – এই প্রশ্নের উত্তরে রঞ্জন কী বলেছিল?

উত্তরঃ- উপরিউক্ত প্রশ্নের জবাবে রঞ্জন বলেছিল যে, ‘না রে। কাল সকালেই আমায় কলকাতার বাইরে যেতে হয়েছিল’।

২.৩ গঙ্গার পাড়ে গিয়ে কোন দৃশ্য রপ্তনের চোখে ভেসে উঠল?

উত্তরঃ- গঙ্গার পাড়ে গিয়ে রঞ্জন দেখল গঙ্গার জলে ছোটো ছোটো ঢেউয়ের দোলা আর দূরে নোঙর করে দাঁড়িয়ে আছে কটা ছোটো বড়ো জাহাজ।

২.৪ ‘সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হলো’। – এখানে রঞ্জনের কোন সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ- এখানে রঞ্জনের ক্লাব ছেড়ে দেওয়া কিন্তু খেলা না ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।

২.৫ ‘ঘোষদা একটা বড়ো খবর আছে’। — কী সেই ‘বড়ো খবর’?

উত্তরঃ- এখানে ‘বড়ো খবর’ বলতে কলকাতা ময়দানের সেরা স্ট্রাইকার রঞ্জনের নিজের ক্লাব ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে যোগদানের ইচ্ছের কথা বলা হয়েছে।

২.৬ ‘রঞ্জনের দলবদল করার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে টনক নড়েছিল ক্লাবকর্তাদের’। – কীভাবে যে টনক নড়েছে, তা বোঝা গেল?

উত্তরঃ- রঞ্জন ক্লাব ছাড়তে পারে একথা শুনেই ক্লাবকর্তারা রঞ্জনের বাড়ি ছোটোছুটি শুরু করে দেয় এ থেকেই বোঝা যায় যে রঞ্জনের ক্লাবত্যাগের খবরে ক্লাবকর্তাদের টনক নড়েছিল।

২.৭ ‘ব্যাপারটা কী হলো বুঝতে একটু সময় লাগল সমর্থকদের’। — এখানে কোন ব্যাপারটার কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ- হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রঞ্জন যখন এক অসাধারণ ব্যাকভলিতে বুলেটের গতিতে বিপক্ষের জালে বল ঢুকিয়ে দেয় তখন সমর্থকরা বুঝতেই পারেনি যে বলটা গোলে ঢুকে গেছে তাই এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

২.৮ ‘দুহাতে মুখ ঢেকে শুয়ে পড়ল একটা বেঞ্চিতে’। — স্ট্রাইকার রঞ্জন সরকারের এমনভাবে শুয়ে পড়ার কারণ কী?

উত্তরঃ- ক্লাবের অবহেলায় দল ছাড়লেও রঞ্জন নিজের প্রিয় ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল করেও যেন আনন্দ পায় না, যেন পরাজয়ের গ্লানি এসে তাকে গ্রাস করে, তাই রঞ্জন ম্যাচ শেষে দুঃখ বেদনায় মুখ ঢেকে রেখে শুয়ে পড়ে।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

৩.১ ‘একটু আগে ও সবকটা কাগজে বার পুজোর রিপোর্ট পড়েছে।’—এখানে ‘ও’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে? সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ের রিপোর্ট পড়ল কেন?

উত্তরঃ- এখানে ‘ও’ বলতে ‘পরাজয়’ গল্পের প্রধান চরিত্র রঞ্জনকে বোঝানো হয়েছে। রঞ্জন ছিল ক্লাব-অন্ত প্রাণ। ফুটবল জীবনের অন্তিম লগ্নে এসে পড়লেও সে নিজের খেলা ছাড়ার কথা ভাবেনি। অথচ তার প্রিয় ক্লাব নতুন মরশুমে বারপুজোয় তাকে আমন্ত্রণ জানায়নি। এ থেকেই সে বুঝতে পারে যে, ক্লাব তাকে আর নতুন মরশুমে দল রাখতে চায় না। তাছাড়া মহা গুরুত্বপূর্ণ বারপুজোয় কারা কারা উপস্থিত ছিল এটা জানার কৌতূহলও তার ছিল। এই জন্যই সে পরদিন সকালে সব কাগজগুলো খুঁটিয়ে পড়ে।

৩.২ “ওকে নিয়ে মাতামাতিটা ঠিক আগের মতো আর নেই।”—আগে ‘ওকে’ নিয়ে কী ধরনের মাতামাতি হতো?

উত্তরঃ- আলোচ্য অংশে ‘ওকে’ বলতে রঞ্জনের কথা বলা চেয়েছে। রঞ্জন এক সময়ে ছিল কলকাতা ময়দানের ডাক সাইটে খেলোয়াড়। তাই প্রতিবছরই যখন ক্লাবে বারপুজো হত তখন ওকে প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি ইত্যাদি ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্তারা ফোন করে আমন্ত্রণ জানাত। সাত সকালে ওর বাড়িতে হাজির হত গাড়ি, ওকে মাঠে নিয়ে যাবার জন্য। গত পনেরো বছর ধরে রঞ্জন ওকে নিয়ে ক্লাবের এই মাতামাতিটাই দেখে এসেছে।

৩.৩ “ঠিক এক বছর আগের ঘটনা।”—একবছর আগে কোন ঘটনা ঘটেছিল?

উত্তরঃ- এক বছর আগেও যখন রঞ্জন ক্লাব ছাড়ার কথা ভেবেছিল, তখন ক্লাবকর্তারা বুঝতে পেরে ওর প্রাপ্য গুরুত্ব ওকে দেয়। যেমন, ফুটবল সেক্রেটারি আর কোেচ এসে ওর সঙ্গে দল গড়া নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কাকে কাকে এবার দলে আনা যায় তাই নিয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। ওদের সঙ্গে কথা বলার পর ক্লাবের ওপর জমে থাকা অভিমানটা সরে গিয়েছিল রঞ্জনের।

৩.৪ ‘রঞ্জন সারাটা দিন আর বাড়ি থেকে বেরোয়নি।’ – কোন দিনের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ- আলোচ্য অংশে পয়লা বৈশাখ ময়দানে বার পুজোর দিনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবছরই মহা সমারোহে ময়দানের ফুটবল ক্লাবগুলিতে বারপুজোর রেওয়াজ চালু আছে। ওইদিন ক্লাবে উচ্চপদস্থ কর্তা, সমর্থক আর বিশেষ করে নতুন মুরশুমের পুরো দলটিই মাঠে হাজির থাকে। এমনই দিনে ক্লাব রঞ্জনকে মাঠে আমন্ত্রণ জানায়নি। তাই এই দিনটিতে রঞ্জন আর বাড়ি থেকে বের হয়নি।

৩.৫ ‘রঞ্জন নামগুলো পড়ার চেষ্টা করে।’-রঞ্জন কোন নামগুলি পড়ার চেষ্টা করে?

উত্তরঃ- রঞ্জন তার ক্লাবের অবহেলায় অপমানিত হয়ে নিজের মনে অস্থির হয়ে ওঠে। এ সময় নিজের মনকে শক্ত করে গঙ্গার পাড়ে গিয়ে দাঁড়ায়। গঙ্গার জলের মৃদু ঢেউ আর পাখির ডাকে তার মন ভোলে। সে দূরে দেখে নোঙর করা কটা ছোটো বড়ো জাহাজ। এই জাহাজের নামগুলিই রঞ্জন পড়বার চেষ্টা করে।

৩.৬ ‘রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিলো।’—কোন কথা শুনে রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিল ?

 উত্তরঃ- নিজের ক্লাবে অপমানিত হয়ে রঞ্জন ওর জবার দিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনদাকে ফোন করে। ফোনে সব কথা শুনে স্বপনদা রঞ্জনকে বলেন, ‘রঞ্জন তুমি বাড়ি থেকে বলছ তো? আমি আসছি। আধ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব। এই শুনেই রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দেয়।

৩.৭ ‘সত্যি ওরা তোমার সঙ্গে উচিত কাজ করেনি’।—কোন অনুচিত কাজের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে?

উত্তরঃ- রঞ্জন যে ক্লাবকে নিজের মায়ের মতো ভালোবাসতো, প্রচুর টাকার প্রলোভনেও গত পনেরো বছর যে ক্লাবরে সে ছেড়ে যায়নি, সেই ক্লাবটি কিনা বারপুজোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর সৌজনাও দেখায়নি। এটাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনদা অনুচিত কাজ বলে মন্তব্য করেছেন।

৩.৮ মন স্থির করে ফেলেছ তো?’—উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছে?

উত্তরঃ- আলোচ্য অংশে উদিষ্ট ব্যক্তি বলতে ‘পরাজয় গল্পের নায়ক চরিত্র রঞ্জনের কথা বলা হয়েছে। রঞ্জন তার পুরোনো ক্লাবের অপমানের জবাব দিতে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে এই পাকাপাকি সিদ্ধান্তটাকেই তার মনস্থিররূপে দেখা হয়েছে।

৩.৯ ‘আপনি সব ব্যবস্থা করুন’–কোন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে?

উত্তরঃ- পয়লা বৈশাখের বারপুজোয় আমন্ত্রণ না পেয়ে রঞ্জন নিজের ক্লাবের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। সে ঠিক করে যে ক্লাব তাকে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়নি সে ক্লাবে আর সে খেলবে না। এই ভাবামাত্র রঞ্জন প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সেক্রেটারিকে ফোন করে এবং জানায় যে সে অন্য ক্লাবে যোগ দিতে চায়। তারা সবুজ সঙ্কেত দিলে রঞ্জন তার দলছাড়ার বন্দোবস্তু করতে অনুরোধ জানায়।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখোঃ

৪.১ ‘রাগে ফুঁসছিল রঞ্জন’ — তার এই রাগের কারণ কী?

উত্তরঃ- রঞ্জন সরকার বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়। দীর্ঘ পনেরো বছর সে তার ক্লাবের জন্য প্রাণপাত করে বহু গোল করেছে। কিন্তু এ বছর ১ লা বৈশাখ তার পুরোনো ক্লাব বারপুজোয় তাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে অবহেলা করেছে। তাই সে রাগে ফুঁসছিল।

৪.২ ‘এত দুঃখ, এত ব্যথা সে কোথাও পায়নি’— এই দুঃখ-যন্ত্রণার দিনে কীভাবে অতীতের সুন্দর দিনগুলির কথা রঞ্জনের মনে এসেছে?

উত্তরঃ- এই উপেক্ষাজনিত দুঃখ-যন্ত্রণার দিনে রঞ্জনের মন স্মৃতিভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। প্রতি বছর বারপুজোর দিনে সেক্রেটারি, ফুটবল সেক্রেটারি এবং প্রেসিডেন্ট বারবার ফোন করেন, তাকে নিতে গাড়ি আসে। সেও সকাল সকাল স্নান করে তৈরি হয়ে থাকে এবং গাড়ি এলেই ক্লাবের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। গত বছর থেকেই তাকে নিয়ে মাতামাতিটা একটু কম অনুভব করলেও সে ভাবল যে পুরোনো খেলোয়াড় হিসাবে হয়তো তাকে পরে জানানো হবে।

৪.৩ রঞ্জনের ক্লাবের সঙ্গে তার পনেরো বছরের সম্পর্ক কীভাবে ছিন্ন হলো? এই বিচ্ছেদের জন্য কাকে তোমার দায়ী বলে মনে হয়?

উত্তরঃ- রঞ্জন উপেক্ষার জবাব দিতে দলবদল করায় রঞ্জনের ক্লারের সঙ্গে তার পনেরো বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল। এই বিচ্ছেদের জন্য আমি রঞ্জনের পুরোনো ক্লাব কর্তৃপক্ষকেই দায়ী বলে মনে করি। রঞ্জন শেষ মূহূর্ত পর্যন্ত তার ক্লাবের জন্য অপেক্ষা করলেও তারা কোনো যোগাযোগ রঞ্জনের সঙ্গে রাখেনি।

৪.৪ ‘কী করবে ও ঠিক করে ফেলেছে।’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে? সে কী ঠিক করে ফেলেছে? তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে পরবর্তী সময়ে চলতে পারল কি?

উত্তরঃ- এখানে ফুটবল খেলোয়াড় রঞ্জন সরকারের কথা বলা হয়েছে। সে ঠিক করে ফেলেছে যে ক্লাবের উপেক্ষার জবাব দিতে সে দলবদল করবে। হ্যাঁ, সে তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীকালে চলতে পেরেছিল। দলবদলের প্রথম দিনেই সে সই করে অন্য দলে খেলার অঙ্গীকার করে।

৪.৫ ‘তৃতীয় দিন রাত্তিরে টেলিফোন করল অন্য বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারিকে।’— কোন দিন থেকে ‘তৃতীয় দিনের’ কথা বলা হয়েছে? এই দিন তিনেক সময় তার কীভাবে কেটেছে? টেলিফোনটি করায় কোন পরিস্থিতি তৈরি হলো?

উত্তরঃ- ১লা বৈশাখ বারপুজোর দিন বাদ দিয়ে তৃতীয় দিনের কথা এখানে বলা হয়েছে। এই তিন দিন রঞ্জন ছটফট করে বেড়াল, অফিস ছাড়া সে আর কোথাও গেল না। কারও সাথে ভালোভাবে কথা পর্যন্ত বলল না। রঞ্জনকে গম্ভীর দেখে সহকর্মী বয়ঃকনিষ্ঠ খেলোয়াড়রা তার কাছ থেকে দূরে রইল। এই প্রথম সে দশটা পাঁচটা দুদিন অফিস করল। ক্লাবের কারও আসার বা টেলিফোনের জন্য প্রতীক্ষা করতে লাগল। বাড়ির লোকেরা তার চোখমুখ দেখে অনুভব করল সে প্রচণ্ড টেনশনে আছে। টেলিফোনটি করায় অন্য ক্লাব তাকে আগ্রহে সসম্মানে পেতে চাইল এবং তাদের ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনবাবু তার বাড়িতে আধঘণ্টার মধ্যে হাজির হলেন কথা বলার জন্য।

৪.৬ ‘দুই প্রধানের লড়াইকে কেন্দ্র করে অনেক বছর পরে কলকাতা আবার মেতে উঠেছে—গল্প অনুসরণে সেই লড়াইয়ের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচের বিবরণ দাও।

উত্তরঃ- সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে লক্ষ লোকের সামনে দুই প্রধানের খেলা শুরু হয়েছিল। রঞ্জনের পুরোনো ক্লাব মাত্র একজনকে সামনে রেখে রক্ষণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে থাকল। দশজনের সঙ্গে রঞ্জন একা লড়তে লাগল। রঞ্জনের সহ খেলোয়াড়রা তাকে ঠিকমতো সাহায্য করতে না পারায় প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য ভাবে শেষ হলো। দ্বিতীয়ার্ধে রঞ্জনের পুরোনো ক্লাব রক্ষণাত্মক মনোভাব ত্যাগ করায় রঞ্জনের সুবিধা হলো। আক্রমণ প্রতি আক্রমণে খেলা জমে উঠল। রঞ্জন নিজেদের হাফলাইনের কাছে নেমে এসে গোলকিপারের কাছ থেকে একটা বল ধরে দুলকি চালে এগোল। বাধার সামনে পড়ে সে বুদ্ধিমত্তাসহকারে সহ খেলোয়াড় সমরকে বলটা বাড়িয়ে দিল এবং তুলনায় ফাঁকা জায়গায় চলে গেল। সমরের কোনাকুনি বাড়ানো বল ধরে দুজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে পেনাল্টি সীমানার কাছে সমরের মাথা লক্ষ করে বলটা লব করল। সমর হেড করে বলটা ভাসিয়ে দিলে রঞ্জন চকিতে বুলেটের গতিতে ব্যাকভলি করে গোলে বল পাঠিয়ে দিল। ফলে তার দল ১-০ গোলে জয়ী হলো।

৪.৭ ‘বলটা বুলেটের মতো ছুটে গিয়ে ঢুকে গেল গোলে।’—এরপর সমর্থক আর সহ খেলোয়াড়দের উল্লাসের বিপ্রতীপে রঞ্জনের বিষণ্ণতার কোন রূপ গল্পে ফুটে উঠেছে?

উত্তরঃ- বল গোলে প্রবেশ করায় সারা মাঠ উল্লাসে ফেটে পড়ল। দলের খেলোয়াড়দের রঞ্জনকে নিয়ে মাতামাতি এবং বাজি আর পটকার শব্দে সারা মাঠ গমগম করে উঠল। সাজঘরে প্রবেশ করে রঞ্জন বিষণ্ণতা অনুভব করল। সে পাশের ঘরে গিয়ে বেঙে শুয়ে পড়ল এবং চাপা বেদনায় কেঁদে উঠল। তার প্রিয় পুরোনো ক্লাবের পরাজয় তাকে খুব কষ্ট দিল।

৪.৮ গল্পের ঘটনা বিশ্লেষণ করে ‘পরাজয়’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা প্রতিপন্ন করো।

উত্তরঃ- আলোচ্য ফুটবলখেলাকেন্দ্রিক ছোটোগল্পটি এক অনুভূতির অশ্রুজলের কাব্যরূপ। রঞ্জন সরকার দীর্ঘ পনেরো বছর যে ক্লাবের জন্য প্রাণপাত করে লড়াই চালিয়েছে বারপুজোর দিনে সেই ক্লাব তাকে আমন্ত্রণ না করায় তার পুরোনো দলের বিরুদ্ধে খেলায় গোল করে তার বর্তমান দলকে জিতিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। মানসিক দ্বন্দ্বে তার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেছে। সে তার প্রতি অবহেলার যোগ্য জবাব দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবের খেলায় সে জিতলেও মনের কাছে সে পরাজিত হয়েছে। পুরোনো ক্লাবের প্রতি তার ত্যাগ ও ভালোবাসা তার হৃদয়ে সদা জাগরুক ছিল। ক্লাবের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ক্ষণিকের উপেক্ষায় সাময়িকভাবে অপসারিত হলেও মনে মনে সে আদ্যন্ত তার পুরোনো ক্লাবকেই ভালোবাসত। তাই বাস্তবে সে প্রতিশোধ বা উপেক্ষার জবাব দিলেও মনের দিক থেকে সে দুর্বল ছিল। তাই বাস্তবিকভাবে তার দল জিতলেও সে তার পুরোনো ক্লাবপ্রীতির কাছে পরাস্ত হয়েছিল। তাই গল্পের নামকরণ যথাযথ বাস্তবানুগ ও ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে উঠেছে।

৫. নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করোঃ চরকি, সক্কাল, নেমন্তন্ন, নম্বর, ছুটোছুটি।

উত্তরঃ-        

চরকি – চক্র > চক্কোর > চরকি – বর্ণবিপর্যয়।
সকাল – সকাল > সঞ্চাল — সমীভবন।
নেমন্তন্ন – নিমন্ত্রণ > নেমন্তন্ন — সমীভবন।
নম্বর – নাম্বার > নম্বর – স্বরলোপ।
ছুটোছুটি — ছোটাছুটি > ছুটোছুটি — স্বরসংগতি।

৬. নীচের বাক্যগুলি থেকে সন্ধিবদ্ধ পদ খুঁজে নিয়ে সন্ধি বিচ্ছেদ করোঃ

৬.১ ওর মনের মধ্যে জমে ওঠা দুঃখ আর অভিমান রূপান্তরিত হয়েছিল রাগে।

উত্তরঃ- রূপান্তরিত = রূপ + অন্তরিত   

৬.২ ক্লাবের কর্তাদের হাবভাব দেখে সে পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে।

উত্তরঃ- পরিষ্কার = পরিঃ + কার।

৬.৩ কেউ একটা টেলিফোন পর্যন্ত করল না।

উত্তরঃ- পর্যন্ত = পরি + অন্ত।

৬.৪ তার পুরস্কার এতদিনে পেলাম স্বপনদা।

উত্তরঃ- পুরস্কার = পুরঃ + কার।

৬.৫ ওরা যা দিয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট ছিলাম।

উত্তরঃ- সন্তুষ্ট = সম্ + তুষ্ট।

৭. নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক-বিভক্তি নির্দেশ করোঃ

৭.১ রঞ্জন ঘরের মধ্যে চরকির মতো ঘুরছে।

উত্তরঃ- রঞ্জন = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

৭.২ গাড়ি পাঠানো তো দূরের কথা।

উত্তরঃ- গাড়ি = কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

৭.৩ সারাটা সকাল ও ছটফট করে বেড়িয়েছিল।

উত্তরঃ- সকাল = অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।

৭.৪ কানে ভেসে আসে পাখির ডাক।

উত্তরঃ- পাখির = সম্বন্ধ পদে ‘র’ বিভক্তি।

৭.৫ রপ্তন টেলিফোনটা রেখে দিল।

উত্তরঃ- টেলিফোনটা = কর্মকারকে ‘টা’ বিভক্তি।

৮. নীচের বাক্যগুলির ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করোঃ

৮.১ গুরুত্ব দেয়নি।

উত্তরঃ- সাধারণ অতীত কাল।

৮.২ তুই চলে আয়।

উত্তরঃ- বর্তমান অনুজ্ঞা।

৮.৩ কাল সকালে আমায় কলকাতার বাইরে যেতে হয়েছিল।

উত্তরঃ- পুরাঘটিত অতীত কাল।

৮.৪ আমি রঞ্জন সরকার বলছি।

উত্তরঃ- ঘটমান বর্তমান কাল।

৮.৫ রপ্তনের মুখে খেলে গেল ম্লান হাসি।

উত্তরঃ- পুরাঘটিত অতীত কাল।

৯. নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করোঃ

৯.১ এত দুঃখ, এত ব্যথা সে কখনও পায়নি। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)

উত্তরঃ- এত দুঃখ, এত বাথা তার অপ্রাপনীয় ছিল।

৯.২ সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হলো। (জটিল বাক্যে)

উত্তরঃ- যখন রঞ্জন সিদ্ধান্তটা নিল তখন তার মন অনেকটা শান্ত হলো।

৯.৩ সেই মুহূর্তে কলিংবেলটা বেজে উঠল। (যৌগিক বাক্যে)

উত্তরঃ- সেই মুহূর্ত উপস্থিত হলো এবং কলিংবেলটা বেজে উঠল।

৯.৪ রঞ্জনের গলাটা একটু কেঁপে উঠল। (না-সূচক বাক্যে)

উত্তরঃ- রঞ্জনের গলাটা স্বাভাবিক রইল না।

৯.৫ যারা এতক্ষণ দেয়ালে পিঠ দিয়ে লড়ছিল তারাই এখন রুখে দাঁড়াল। (সরল বাক্যে)।

উত্তরঃ- এতক্ষণ দেয়ালে পিঠ দিয়ে লড়তে থাকলেও তারা এখন রুখে দাঁড়াল।

 

অতিরিক্ত প্রশ্ন-উত্তর

১. পরাজয় গল্পটি কার লেখা?

উত্তরঃ- পরাজয় গল্পটি শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা।

২. রঞ্জনের ভালোবাসার জায়গা কোনটি?

উত্তরঃ- রঞ্জনের ভালোবাসার জায়গা হল ক্লাব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top