Class 8 Bengali chapter 08 পরবাসী

পরবাসী – বিষ্ণু দে

কবি পরিচিতি

কবি বিষ্ণু দে ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের উত্তর কলকাতার পটলডাঙায় জন্মেছিলেন। তাঁর বাবার নাম অবিনাশচন্দ্র দে। সাহিত্য জগতে বিষ্ণু দে একটি বড়ো নাম। তিনি সেই সময়কার নানা ধরনের পত্রিকা লিখতেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ উর্বশী ও আর্টেমিস ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখা অন্যান্য বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে – চোরাবালি, পূর্বলেখ, নাম রেখেছি কোমলগান্ধার, সেই অন্ধকার চাই প্রভৃতি। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থগুলি হলো রুচি ও প্রগতি, সাহিত্যের ভবিষ্যৎ, মাইকেল রবীন্দ্রনাথ। পরবাসী কবিতাটি কবি বিষ্ণু দে-র “তুমি শুধু ২৫শে বৈশাখ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই কবি ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে পরলোক গমন করেছিলেন।

 

সারাংশ

সমগ্র কবিতার মধ্য দিয়ে কবি প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা এবং পরিচিত মানুষের বদলে যাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। কবিতায় দেখা যায়, দুধারে বন মাঝখানে আঁকাবাঁকা পথে আলোছায়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। রাতের অন্ধকারে বনের মধ্যে জীবজন্তুদের চোখ জ্বলজ্বল করছে। ছোটো খরগোশের দল খেলা করছে। পলাশের ঝোপে বনময়ূর নৃত্য করছে। সেই নৃত্যকে কবি কত্থকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। নদীতে তাঁবুর ছায়া পরে সূর্যের সোনালী রঙ উদ্ভাসিত হয়েছে। হরিনেরা নদীতে জল খেতে আসছে। হিংস্র চিতাবাঘ শিকারের খোঁজে আনাগোনা করছে।

        কিন্তু এখন মানুষ লোভে পরে গ্রাম ধ্বংস করে নগর গড়ে তুলেছে। নিজের বাসভূমি থেকেও তাই কবি নিজেকে পরবাসী বলেছেন।

 

হাতে কলমে

১.১ কবি বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

উঃ- কবি বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম হলো উর্বশী ও আর্টেমিস।

১.২ তাঁর লেখা দুটি প্রবন্ধের বইয়ের নাম লেখো।

উঃ- তাঁর লেখা দুটি প্রবন্ধের বইয়ের নাম হলো রুচি ও প্রগতি এবং সাহিত্যের দেশ বিদেশ।

২. নিম্নরেখ শব্দগুলির বদলে অন্য শব্দ বসিয়ে অর্থপূর্ন বাক্য তৈরি করো। প্রথমটি করে দেওয়া হলোঃ

২.১ দুই দিকে বন, মাঝে ঝিকিমিকি পথ

উঃ- দুই দিকে বন, মাঝে আলোছায়া পথ

২.২ এঁকে বেঁকে চলে পৃথিবীর তালে তালে।

উঃ- এঁকে বেঁকে চলে পৃথিবীর খেয়ালের ছন্দে।

২.৩ তাঁবুর ছায়ায় নদীর সোনালী সেতারে

উঃ- তাঁবুর ছায়ায় নদীর চপল ছন্দে।

২.৪ হঠাৎ পুলকে বনময়ূরের কত্থক,

উঃ- হঠাৎ পুলকে বনময়ূরের নৃত্যে।

২.৫ বন্য প্রাণের কথাকলি বেগ জাগিয়ে।

উঃ- বন্য প্রাণের হৃদয় আবেগ জাগিয়ে।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

৩.১ পথ কীসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে?

উঃ- পথ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।

৩.২ চিতার চলে যাওয়ার ছন্দটি কেমন?

উঃ- চিতা লুব্ধ হিংস্র ছন্দে চলে।

৩.৩ ময়ূর কীভাবে মারা গেছে?

উঃ- বন কেটে শহরের পত্তনের ফলে ময়ূর তার বাসভূমি হারিয়েছে, লোভী ব্যবসায়ী মানুষ ময়ূরকে পণ্য করেছে তাই ময়ূর মারা গেছে।

৩.৪ প্রান্তরে কার হাহাকার শোনা যাচ্ছে?

উঃ- প্রান্তরে হাওয়ার হাহাকার শোনা যাচ্ছে।

৩.৫ পলাশের ঝোপে কবি কী দেখেছেন?

উঃ- পলাশের ঝোপে কবি পুলকিত ও উল্লসিত ময়ূরের কত্থক নৃত্য দেখেছেন।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর কয়েকটি বাক্যে লেখোঃ

৪.১ জঙ্গলের কোন কোন প্রাণীর কথা কবি এই কবিতায় বলেছেন?

উঃ- কবি বিষ্ণু দে পরবাসী কবিতায় কচি খরগোস, বনময়ূর ও হরিণের কথা উল্লেখ করেছেন।

৪.২ সেতারের বিশেষণ হিসেবে কবি ‘সোনালী’ শব্দের ব্যবহার করেছেন কেন?

উঃ- পরবাসী কবিতায় কবি বিষ্ণু দে উচ্ছল নদীর বহমানতাকে সেতারের সুন্দর ধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন। নদীর জলে সকালের সূর্যের আলো পড়ে সোনালী আভা মিশে গেছে। নদীর জলধারায় যেন সেতারের ঝংকার ধ্বনিত হচ্ছে, তাই কবি সোনালী সেতার শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

৪.৩ কত্থক ও কথাকলি-র কথা কবিতার মধ্যে কোন প্রসঙ্গে এসেছে?

উঃ- কত্থক ও কথাকলি দুটি বিশেষ নৃত্যশৈলীর নাম। তবে কবি নৃত্যের বর্ণনা প্রসঙ্গে শব্দদুটি ব্যবহার করেননি, বন্য প্রানীর আবেগ বোঝাতে শব্দদুটি ব্যবহার করেছেন। বনের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন ও প্রাণের বিকাশ লক্ষ্য করেছেন কবি। বন্য ময়ূরের নৃত্য বনকে মুখর করে রাখত। হিংস্র বাঘের চপল ছন্দে কবি কথাকলি নৃত্যের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। আসলে কবি বন্য প্রাণকে প্রবহমান জীবনীশক্তির প্রতীক করে তুলতে চেয়েছেন।

৪.৪ ‘সিন্ধুমুনির হরিণ-আহ্বান’ কবি কীভাবে শুনেছেন?

উঃ- রামায়ন কাহিনীতে আছে সিন্ধুমুনি সন্ধ্যার অন্ধকারে নদীতে জল খেতে এসেছিলেন। কলসিতে জল ভরার শব্দকে রাজা দশরথ ভুল করে হরিণের জলপানের শব্দ ভেবেছিলেন ও তীর নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই তীরের আঘাতে সিন্ধুমুনির মৃত্যু হয়েছিল। সিন্ধুমুনি নিজের অজান্তে জলভরার শব্দ দ্বারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন। তেমনই হরিণ নদীতে জলপানের শব্দ দ্বারা হিংস্র চিতা বাঘকে লুব্ধ করে। কবি কল্পনা ও বাস্তবকে এই উপমার দ্বারা মিলিয়ে দিয়েছেন।

৪.৫ ‘ময়ূর মরেছে পণ্যে’ এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

উঃ- ময়ূর হল সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু স্বার্থপর ব্যবসায়ীক মনোভাবের মানুষরা ময়ূরকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার করছে। জীবনে সৌন্দর্য অনুভূতি কিছু নিষ্ঠুর মানুষের কারনে নষ্ট হচ্ছে। পৃথিবীর সৌন্দর্যকে তারা স্বার্থপূরনে কাজে লাগিয়েছে।

৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখোঃ

৫.১ বিরামচিহ্ন ব্যবহারের দিক থেকে কবিতাটির শেষ স্তবকের বিশিষ্টতা কোথায়? এর থেকে কবি-মানসিকতার কী পরিচয় পাওয়া যায়?

উঃ- পরবাসী কবিতার শেষ স্তবকে কবি বিষ্ণু দে প্রতিটি পঙক্তির শেষে প্রশ্নচিহ্ন ব্যবহার করেছেন। প্রথম চারটি স্তবকে কবি প্রাণ চাঞ্চল্যের যে ছবি এঁকেছেন, শেষ স্তবকে প্রশ্নের আকারে সহজ প্রাণের যন্ত্রনা ও অপমৃত্যুকে উপস্থাপন করেছেন। কবি মানুষের অসহায়তা, স্বার্থলোভীদের স্বার্থপরতা, প্রকৃতির অবলুপ্তি, মানুষের স্বদেশে পরবাসী হওয়া ইত্যাদি ঘটনাগুলিকে প্রকাশ করেছেন। কবিতার শেষ স্তবকে প্রশ্নচিহ্ন ব্যবহার করে কবি পাঠককে তার মূল্যবোধে ফেরাতে চাইলেন ও নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি দার করালেন।

৫.২ কবি নিজেকে পরবাসী বলেছেন কেন?

উঃ- পরবাসী শব্দটি এসেছে প্রবাসী শব্দ থেকে। পরবাসী কথার অর্থ পরের দেশে বাস করা। বর্তমান মানবসভ্যতা এক সংকটমুহুর্তে দাঁড়িয়ে আছে। সভ্যতার খিদে মেটাতে গিয়ে এখন পৃথিবী বিপন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজের স্বার্থ পূরন করতে পৃথিবীর বুক থেকে প্রকৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। কচি খরগোশের উচ্ছলতা, বনময়ূরের নৃত্য, হরিণের চপলতা, হিংস্র চিতার শিকার সন্ধান সবই হারিয়ে গেছে। মানুষ বন কেটে শহর বানিয়েছে, সেখানে প্রাসাদের মতো বাড়িতে স্থান পেয়েছে শুধু ধনী মানুষরা। সাধারন মানুষের সেখানে কোনো জায়গা নেই। শহর শুধু বনকে গ্রাস করেনি, গ্রাম সভ্যতাকেও ধ্বংস করেছে। মানুষের শান্তির আশ্রয় হারিয়ে গেছে। সাধারন মানুষ নিজের ভূমিতে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারছেনা। তাই কবিতায় কবি এই কবিতার নাম রেখেছেন পরবাসী।  

৫.৩ ‘জঙ্গল সাফ, গ্রাম মরে গেছে, শহরের/পত্তন নেই…’ – প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এই পঙক্তিটির প্রাসঙ্গিকতা বিচার করো।

উঃ- মানুষ পৃথিবীর কোলে একদিন প্রথম বসতি স্থাপন করেছিল। প্রকৃতির কাছে মানুষ আশ্রয় পেয়েছিল, খাদ্য পেয়েছিল, শান্তি পেয়েছিল। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে মানুষ সভ্যতার বিস্তার ঘটিয়েছিল, কিন্তু এখন মানুষের লোভে প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে। মানুষের লোভ বন ও বন্য প্রাণকে পণ্য করেছে, নষ্ট করেছে। সুন্দর প্রকৃতি মানুষের স্বার্থপূরনের উপায় হয়েছে। নগর সভ্যতা, প্রকৃতি ও গ্রাম সভ্যতাকে ধ্বংস করেছে। সাধারন মানুষ তার শান্তি হারিয়েছে, ঘর হারিয়েছে তাই কবি এই কথা বলেছেন।

৫.৪ ‘পরবাসী’ কবিতার প্রথম তিনটি স্তবক ও শেষ দুটি স্তবকের মধ্যে বক্তব্য বিষয়ের কোনো পার্থক্য থাকলে তা নিজের ভাষায় লেখো।

উঃ- পরবাসী কবিতার প্রথম তিনটি স্তবক ও শেষ দুটি স্তবকের মধ্যে বক্তব্য বিষয়ে পার্থক্য আছে। প্রথম তিনটি স্তবকে আছে সুন্দর অরণ্য প্রকৃতির চিত্র, বনের মধ্যে আঁকাবাঁকা পথ, নদীর বহমানতা, খরগোসের প্রাণ চাঞ্চল্য, ময়ূরের নৃত্য, চিতাবাঘের হিংস্র ছন্দ সবকিছু মিলিয়ে বন্য প্রাণ মুখরিত হয়েছিল। অরণ্য জীবনের এই সুন্দর চিত্র কবিতার প্রথম তিনটি স্তবকে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু কবিতার শেষ দুটি স্তবকে প্রকৃতির বিপন্নতার ছবি ফুটে উঠেছে। মানুষের লোভ প্রকৃতিকে নষ্ট করেছে, প্রকৃতির সবুজ রঙ একেবারে মুছে গেছে। মানুষের যন্ত্রনা ও কান্না কবি অনুভব করেছেন। প্রকৃতি ও সাধারন মানুষ উভয়ই স্বার্থপর ও লোভী মানুষের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। নগরের বিস্তারের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম, বন ও বন্য প্রাণ। এই বৈপরীত্য কবিতার শেষ দুটি স্তবকে প্রকাশ পেয়েছে।

৫.৫ ‘পরবাসী’ কবিতাতে কবির ভাবনা কেমন করে এগিয়েছে তা কবিতার গঠন আলোচনা করে বোঝাও।

উঃ- পরবাসী কবিতায় পাঁচটি স্তবক আছে, এর মধ্যে প্রথম তিনটি স্তবকে মুক্ত অরন্যের ছবি আছে। উন্মুক্ত অরন্যের মধ্যে খরগোস ছুটে বেড়ায়, ময়ূর নৃত্য করে, হরিণ নদীতে জল খায়, বাঘ শিকার খোঁজে। কিন্তু শেষ দুটি স্তবকে মানুষের লোভের চিত্রটি দেখা গেছে। মানুষ বন কেটেছে, নগরের বিস্তার ঘটিয়েছে, বন্য প্রাণকে পণ্য বানিয়েছে। লোভী মানুষের থাবা প্রকৃতিকে নষ্ট করেছে। কবিতার প্রথমাংশে প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর ছবি এঁকে মানুষের অসুন্দর মনকে কবিতার শেষে প্রকাশ করেছে কবি। কবি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া অরণ্য, সবুজ প্রাণ ও মুল্যবোধকে উল্লেখ করে সভ্যতার বিপন্নতাকে তুলে ধরেছেন।

৫.৬ কবিতাটির নাম ‘পরবাসী’ দেওয়ার ক্ষেত্রে কবির কী কী চিন্তা কাজ করেছে বলে তোমার মনে হয়? তুমি কবিতাটির বিকল্প নাম দাও এবং সে নামকরণের ক্ষেত্রে তোমার যুক্তি সাজাও।

উঃ- কবি বিষ্ণু দে পরবাসী কবিতায় পৃথিবীর গভীর সংকটের ছবি এঁকেছেন। মানুষ একসময় প্রকৃতির কাছে আশ্রয় পেয়েছিল। বন ও বন্য প্রাণের সঙ্গে মানুষ সহাবস্থান করত। কিন্তু মানুষ ক্রমশ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যেতে থাকল। জঙ্গল পরিষ্কার করে, বন্য প্রাণকে নষ্ট করে স্বার্থলোভী মানুষ নগরের বিস্তার ঘটাচ্ছে। বিশুদ্ধ প্রকৃতিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়না। প্রকৃতিকে আশ্রয় করে যেসব প্রানী বা মানুষ এতদিন বেঁচে ছিল এখন তার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। কিছু স্বার্থলোভী ব্যবসায়ী নিজের লোভ পূর্ন করার জন্য প্রকৃতিকে বিনষ্ট করেছে। তাই পরবাসী কবিতার নামকরণ সার্থক হয়েছে।

        কবিতাটির বিকল্প নাম হতে পারে সভ্যতার সংকট। ধনী অর্থলোভী মানুষের হাতে মানবসভ্যতা ও অরন্যসভ্যতা এখন ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। সাধারন মানুষের জীবনও বিপন্ন। চেনা প্রকৃতি এখন পণ্য হয়ে উঠেছে। তাই কবিতাটির নাম সভ্যতার সংকট হলে তা যথাযথ হলেও পারত।

৬. টীকা লেখোঃ

কত্থক = কত্থক হল একটি বিশেষ নৃত্যশৈলী। উত্তর ভারতে, এলাহাবাদে, জয়পুরে এবং পাঞ্জাবে এই নৃত্যশৈলীর প্রচলন আছে। অষ্টাদশ শতকে এই নৃত্যশৈলীর উদ্ভব হয়। শ্লোক ও কবিতা এবং সঙ্গে পাখোয়াজের তালের সাথে এই নৃত্য পরিবেশিত হত। 

সেতার = সেতার হল তিনটি তারের দ্বারা পরিবেশিত বাদ্যযন্ত্র। “সে” শব্দের অর্থ তিন। এটির আবিষ্কার হয়েছিল পারস্য দেশে। প্রায় ২৫০ বছর পূর্বে সেতারে চারটি তারের প্রচলন হয়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে সেতার বাজানো হয়।

কথাকলি = কথাকলি হল কেরলের ধ্রুপদী নৃত্যশৈলী। কথা ও অভিনয় এই নৃত্যশৈলীতে পরিবেশিত হয়। নৃত্যের মাধ্যমে কোনো কাহিনী বলা হয়। আর্য ও অনার্য উভয় সংস্কৃতির ছাপ আছে এই শৈলীতে। মুখোশের ব্যবহার করা হয় এই নৃত্যে।

সিন্ধুমুনি = রামায়ন কাহিনীতে সিন্ধুমুনির নাম আছে। তিনি অত্যন্ত পিতৃভক্ত ছিলেন। তিনি একদিন অন্ধ পিতামাতার তৃষ্ণা নিবারনের জন্য নদীতে জল আনতে গিয়েছিলেন। তার কলসে জল ভরার শব্দে ভুলবশত রাজা দশরথ বাণ নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই বাণের আঘাতে সিন্ধুমুনির মৃত্যু হয়। দশরথ মৃত সিন্ধুমুনিকে তার পিতামাতার কাছে নিয়ে গেলে তারা দশরথকে অভিশাপ দেন দশরথ পুত্রশোকে মারা যাবেন।

পণ্য = পণ্য শব্দের অর্থ বিপন্নজাত সামগ্রী। দ্রব্য কেনা বা বেচার মাধ্যমে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত। পণ্য শব্দটির সাথে মিশে আছে মানুষের লোভ, প্রয়োজন ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র।

৭. নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করোঃ

জ্বলে = জ্বলিয়া > জ্বইল্যা > জ্বলে (অভিশ্রুতি)
পরবাসী = প্রবাসী > পরবাসী (মধ্য স্বরাগম)
চলে = চলিয়া > চইল্যা > চলে (অভিশ্রুতি)
তাঁবু = তম্বু > তাঁবু (নাসিক্যীভবন)

৮. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করোঃ

নিটোল = নেই টোল যার (নবহুব্রীহি)
বনময়ূর = বনে থাকে যে ময়ূর (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)
সিন্ধুমুনি = সিন্ধু নামধারী মুনি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)
নিজবাসভূমি = নিজের বাসভূমি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)
সেতার = সে (তিন) তার যার (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস)

৯. নীচের শব্দগুলি কীভাবে গঠিত হয়েছে দেখাওঃ

সোনালী = সোনা + আলি
আহ্বান = আ-ঘে + অন
বন্য = বন + যব
সতি = বস + অতি
পরবাসী = পরবাস + ঈ

১০. নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করোঃ

১০.১ চুপি চুপি আসে নদীর কিনারে, জল খায়। (সরল বাক্যে)

উঃ- চুপি চুপি নদীর কিনারে এসে জল খায়।

১০.২ নিটোল টিলার পলাশের ঝোপে দেখেছি। (জটিল বাক্যে)

উঃ- যেখানে নিটোল টিলার পাশে পলাশের ঝোপ, সেখানে দেখেছি।

১০.৩ চিতা চলে গেল লুব্ধ হিংস্র ছন্দে বন্য প্রাণের কথাকলি বেগ জাগিয়ে। (যৌগিক বাক্যে)

উঃ- চিতা চলে গেল লুব্ধ হিংস্র ছন্দে এবং সেই ছন্দে বন্য প্রাণের কথাকলি বেগ জেগে উঠল।

১০.৪ কেন এই দেশে মানুষ মৌন অসহায়? (না-সূচক বাক্যে)

উঃ- মানুষ এই দেশে মৌন অসহায় নয়?

১১. যে-কোনো দুটি স্তবকের মধ্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ-এর ব্যবহার কবি কীভাবে করেছেন, দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করো।

উঃ- প্রথম পঙক্তির বিশেষ্য ‘বন’ ও ‘পথ’। বনের বিস্তার বোঝাতে ‘দুই’ বিশেষণ এবং ‘পথ’ -এর ঔজ্জ্বল্য বোঝাতে ‘ঝিকিমিকি’ বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে। দ্বিতীয় পঙক্তিতে পথের চলার প্রকৃতি বোঝাতে ‘এঁকেবেঁকে’ বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে। তৃতীয় পঙক্তির বিশেষ্য ‘চোখ’। আর ‘খরগোস’ বিশেষ্যের কোমলতা বোঝাতে ‘কচিকচি’ বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top