দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ২১. পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পথের দাবী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি

১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। তার বাবার নাম ছিল মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং তার মায়ের নাম ছিল ভুবনমোহিনী দেবী। দেবানন্দপুর তার জন্মস্থান হলেও পরে আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে তার বেশি দিন সেখানে থাকা হয়ে ওঠেনি। পারিবারিক সেই অভাব-অনটনের কারণে তাকে চলে যেতে হয় তার ভাগলপুরের মামাবাড়িতে। তার মামারা ছিল ধনী গৃহস্থ। ভাগলপুরে এসে শরৎচন্দ্রের পড়াশুনার জন্য জুবিলি কলেজিয়েট স্কুলে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকেই তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু তার পরে তার আর পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। আর্থিক অনটনের কারণে ওখানেই তার পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটে। তার সাহিত্য চর্চা শুরু হয় ভাগলপুর থেকেই। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি অভিনয় ও গান বাজনার চর্চা শুরু করেছিলেন। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে কর্মসূত্রে তিনি রেঙ্গুনে চলে যান। সেখানে চলে যাওয়ার পূর্বে তিনি তাঁর লেখা ‘মন্দির’ নামের একটি গল্প ‘কুণ্ডলীন’ গল্প প্রতিযোগিতায় পাঠিয়ে দিয়ে জান,কিন্তু লেখায় তিনি নিজের নাম উল্লেখ করেননি। তার মামার নাম উল্লেখ করে দিয়েছিলেন। তার লেখা ওই গল্পটি কুণ্ডলীন পুরষ্কার লাভ করেছিল। কর্মসূত্রে তিনি দীর্ঘদিন থাকলেও তার পরিচিতি কথাশিল্পী হিসেবে ভারতীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপরে তিনি একে একে ‘পথ নির্দেশ’, ‘বিরাজ-বৌ’, ‘পন্ডিত মশাই’, ‘বিন্দুর ছেলে’ ইত্যাদি গল্প লেখেন এবং তা বেশ জনপ্রিয় ও হয়। এরপর তিনি রেঙ্গুন থেকে দেশে ফিরে এসে পাকাপাকিভাবে এখানে থেকে যান এবং তার লেখালেখির কাজ সমান ভাবে চালিয়ে যান। শুধু ছোট গল্পই নয়, তিনি বেশ কিছু উপন্যাস ও রচনা করেছিলেন,তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো – চরিত্রহীন, দত্তা, গৃহদাহ, দেনাপাওনা, পথের দাবী, নারীর মূল্য ইত্যাদি। তার লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস ‘পথের দাবী’ সে সময়ে বিপ্লবীদের প্রবল অনুপ্রেরণা জোগান দিয়েছিল। তাই এই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এই বিখ্যাত কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনবাসন ঘটেছিল ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে ১৬ জানুয়ারি।

সারাংশ

গল্পটির শুরুতেই আমরা জানতে পারি যে অপূর্ব নামে একজন যার বাড়িতে চুরি হয়েছে, সেই তিনিই, চুরির রিপোর্ট লেখানোর জন্যই থানায় গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। থানার বড়বাবু ছিলেন অপূর্বর আত্মীয়। অপূর্ব তাকে কাকা বলে সম্মোধন করত। অপূর্ব থানায় গিয়ে সেখানে এক বিচিত্র ঘটনার সম্মুখীন হয়। দেখে সেখানে কয়েকজন বাঙালিকে আটক করা হয়েছে। মূলত পুলিশ পলিটিকাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক কে ধরার জন্য ব্যস্ত। চারিদিকে তল্লাশি চলছে, এদেরকে এই সন্দেহের কারণ-এই থানায় এনে তল্লাশি করা হয়। এবং তল্লাশি করে ছেড়েও দেওয়া হয়। তারপর একজন লোককে বড়বাবুর সামনে আনা হয়। তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। এই লোকটি আচরণ সাজ-পোশাক দেখে এবং তার ট্যাঁক থেকে পাওয়া জিনিসপত্র দেখে পুলিশ বলে যে,সে আর যাই হোক সব্যসাচী মল্লিক হতে পারেনা। তাই আরো ছেড়ে দেওয়া হলো। কিন্তু এই গিরিশ মহাপাত্র হলেন আসলে সব্যসাচী মল্লিক। তিনি একজন স্বদেশী আন্দোলনের বিপ্লবী। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য তাকে অনেক ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করতে হয়। এরপর কর্মসূত্রে একদিন সে রেঙ্গুন থেকে ভাব-নগর এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময়,অপূর্ব দ্বিতীয়বার দেখেছিল গিরিশ মহাপাত্র কে, এবং সে চিনতে পেরেছিল যে তিনি সব্যসাচী মল্লিক। কিন্তু সে কথা সে পুলিশকে জানাননি। পুলিশ আধিকারিক তার আত্মীয় হলেও বিপ্লবীদের তিনি বেশি আপন মনে করতেন। তারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। অপূর্ব নিজেও ব্রিটিশদের হাতে কয়েকবার লাঞ্ছিত হয়েছিল। প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। এছাড়াও ট্রেনে প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হয়েও অপূর্বকে নানাভাবে বিরক্ত হতে হয়েছে ব্রিটিশদের জন্য শুধু সে ভারতীয় বলে। তাই সেও মনে মনে চাইতো পরাধীনতার থেকে দেশ মুক্ত হোক। তাই সব্যসাচীর আন্দোলনকে অপূর্ব সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করতেন এবং চাইতেন দেশ স্বাধীন হোক।

বহু-বিকল্পীয় প্রশ্নোত্তর

১. হলঘরে মোট ঘাট নিয়ে বসে আছে কজন? –
(ক) চারজন
(খ) আট জন
(গ) ছয় জন
(ঘ) তিনজন

উত্তর : (গ) ছয় জন

২. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট এর নাম কি ছিল? –
(ক) সব্যসাচী মল্লিক
(খ) সব্যসাচী চৌধুরী
(গ) সব্যসাচী রায়
(ঘ) অপূর্ব রায়

উত্তর : (ক) সব্যসাচী মল্লিক

৩. সব্যসাচী নিজের কি নাম বলেছিলেন? –
(ক) নিমাই মহাপাত্র
(খ) গিরিশ মহাপাত্র
(গ) অপূর্ব রায়
(ঘ) অপূর্ব মহাপাত্র

উত্তর : (গ) গিরিশ মহাপাত্র

৪. গিরীশ মহাপাত্রের মাথায় কি ছিল? –
(ক) ফুল
(খ) সুটকেস
(গ) কম্বল
(ঘ) টিনের তোরঙ্গ

উত্তর : (ঘ) টিনের তোরঙ্গ

৫. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট এ কি দেখা যাচ্ছিল? –
(ক) গাঁজার কলকে
(খ) লাল রঙের ফিতা
(গ) একটা রুমাল এর কিছু অংশ
(ঘ) সবকটি

উত্তর : (গ) একটা রুমাল এর কিছু অংশ

৬. “…যদি কারো কাজে লাগে তাই তুলে রেখেচি”  – বক্তা কি তুলে রাখার কথা বলেছেন?
(ক) টিনের বাক্স
(খ) টাকা
(গ) রুমাল
(ঘ) গাঁজার কলকে

উত্তর :(ঘ) গাঁজার কলকে

৭. তেলের খনির কারখানার মিস্ত্রিরা চাকরির উদ্দেশ্যে কোথায় গিয়েছিল? –
(ক) রেঙ্গুন
(খ) দিল্লি
(গ) কলকাতা
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর : (ক) রেঙ্গুন

৮. গিরীশ মহাপাত্রের পায়ে ফুল মোজার রং ছিল –
(ক) নীল
(খ) লাল
(গ) সবুজ
(ঘ) রামধুর মতো

উত্তর : (গ) সবুজ

৯. সব্যসাচী মল্লিক পেশায় ছিলেন একজন –
(ক) শিক্ষক
(খ) ডাক্তার
(গ) পুলিশ
(ঘ) কেরানি

উত্তর : (খ) ডাক্তার

১০. গিরীশ মহাপাত্রের মতে যা খণ্ডানো যায় না তা হল-
(ক) কর্মফল
(খ) ললাটের লিখন
(গ) হাতের রেখা
(ঘ) ভাগ্য

উত্তর : (খ) ললাটের লিখন

১১. “ কিন্তু বুনোহাঁস ধরাই যে এদের কাজ ; ” – বক্তা কে —
(ক) অপূর্ব
(খ) রামদাস
(গ) জগদীশ
(ঘ) নিমাইবাবু

উত্তর : (খ) রামদাস

১৩. গাড়ি ছাড়তে বিলম্ব ছিল মাত্র–
(ক) মিনিট পাঁচেক
(খ) মিনিট সাতেক
(গ) মিনিট আটেক
(ঘ) মিনিট দশেক

উত্তর : (ক) মিনিট পাঁচেক

১৪. “ তুমি তো ইউরোপিয়ান নও । ” – অপূর্বকে কথাটি  কে বলেছিলেন?
(ক) বর্মার জেলাশাসক
(খ) বর্মার সাব – ইন্সপেক্টর
(গ) রেঙ্গুনের সাব – ইন্সপেক্টর
(ঘ) বর্মার ইন্সপেক্টর

উত্তর : (গ) রেঙ্গুনের সাব – ইন্সপেক্টর

১৫. সব্যসাচী বাবু ডাক্তারি পাশ করেছিলেন –
(ক) জার্মানি থেকে
(খ) বিলাত থেকে
(গ) আমেরিকা থেকে
(ঘ) জাপান থেকে

উত্তর : (খ) বিলাত থেকে

১৬. রামদাস পেশায় কি ছিলেন –
(ক) করণিক
(খ) পেশকার
(গ) সাংবাদিক
(ঘ) অ্যাকাউন্টেট

উত্তর : (ঘ) অ্যাকাউন্টেট

১৭. অপূর্বকে প্রতিদিন তার হাতের তৈরি মিষ্টি খাওয়ার জন্য কে অনুরোধ করেছিলেন? –
(ক) রামদাসের মা
(খ) রামদাস
(গ) রামদাসের স্ত্রী
(ঘ) নিমাইবাবু

উত্তর : (গ) রামদাসের স্ত্রী

১৮. “তোমার চিন্তা নেই ঠাকুর”– ঠাকুর বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে? –
(ক) অপূর্বকে
(খ) ঈশ্বরকে
(গ) রামদাসকে
(ঘ) তেওয়ারিকে

উত্তর : (ঘ) তেওয়ারিকে

১৯. ” টিফিনের সময় উভয়ে একত্র বসিয়া জলযোগ করিত । ” – উভয়ে বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
(ক) অপূর্ব ও রামদাসকে
(খ) অপূর্ব ও আরদালিকে
(গ) অপূর্ব ও তেওয়ারিকে
(ঘ) অপূর্ব ও নিমাইবাবুকে

 উত্তর : (ক) অপূর্ব ও রামদাসকে

২০.“আমারও অনুমান কতকটা তাই “– বক্তা  কি অনুমান করেছিলেন ?
(ক) সব্যসাচী বর্ষায় এসেছে
(খ) তেওয়ারি চুরি করেছে
(গ) গিরীশ মহাপাত্রই সব্যসাচী
(ঘ) সব্যসাচী রেঙ্গুনেই আছে

উত্তর : (খ) তেওয়ারি চুরি করেছে

২১. “আমি তাকে কাকা বলি ” – উক্তিটিতে কাকা হলেন-
(ক) তেওয়ারি
(খ) অপূর্ব
(গ) জগদীশবাবু
(ঘ) নিমাইবাবু

উত্তর : (ঘ) নিমাইবাবু

অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

. রাম দাস ও অপূর্ব কেনো একসাথে জলযোগ করতো?

উত্তর- অপূর্ব এর সঙ্গে তার বাবা মা বা কোনো আত্মীয় না থাকায় রামদাসের স্ত্রীর অনুরোধ মেনে অপূর্ব তাদের সাথেই জলযোগ করতো।

. তেওয়ারি কোথায় গিয়েছিলো?

উত্তর- তেওয়ারি বর্মা নাচ দেখতে ফয়ারে গিয়েছিলো।

. তেওয়ারি যখন নাচ দেখতে গিয়েছিলো তখন কি হয়েছিল?

উত্তর- তেওয়ারি যখন নাচ দেখতো গিয়েছিলো সেই সময় অপূর্ব এর ঘরে চুরি হয়েছিল।

. অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার পরে ক্রিশ্চান মেয়েটি কি করেছিলো?

উত্তর- অপূর্বর ঘরে চুরি হওয়ার পরে ক্রিশ্চান মেয়টি ঘরে পরে থাকা জিনিস গুলি গুছিয়ে দিয়ে কি কি চুরি গিয়েছে তার ফর্দ বানিয়ে দিয়েছিলো।

. ” অফিসের একজন ব্রাহ্মণ পিয়াদা এই সকল বহিয়া অনিত।”–এখানে কী বয়ে আনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর- রামদাসের স্ত্রীর তৈরী করে দেওয়া খাবার বয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।

.“লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল।”–লোকটি কে?

উত্তর- লোকটি হলেন পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক।

. পুলিশের বড়ো কর্তা নিমাই বাবুর সঙ্গে অপূর্বর কী ধরনের সম্পর্ক ছিলো?

উত্তর- নিমাই বাবু ছিলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু সেই সূত্রে ই তিনি অপূর্বর আত্মীয় হন। অপূর্বর বাবাই নিমাই বাবু কে চাকরি টা দিয়েছিলেন।

.”বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো”– বুড়ো মানুষের কোন কথা শুনতে বলা হয়েছে?

উত্তর- রেঙ্গুন পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মচারী নিমাই বাবু গিরিশ মহাপাত্র কে গাঁজা খেতে বারণ করেছিলেন। তার এই কথা টাই শুনতে বলা হয়েছে।

. “টিফিনের সময়ে উভয়ে একত্রে বসিয়া জলযোগ করিত”–‘উভয়ে’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটিতে ‘উভয়ে’ বলতে পথের দাবি গল্পাংশের প্রধান চরিত্র অপূর্ব ও তার সহকর্মী রামদাস তলওয়ারকার দের কথা বলা হয়েছে।

১০. ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বের সঙ্গে কে কে সঙ্গী ছিলো?

উত্তর- ভামো যাত্রার সময়ে ট্রেনে অপূর্বের সঙ্গী ছিলো আরদালি এবং অফিসের হিন্দুস্থানী ব্রাহ্মণ পেয়াদা।

১১ .” কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে”– কোন প্রসঙ্গে বক্তা এই রকম উক্তি করেছেন?

উত্তর- বক্তা রেঙ্গুন পুলিশের বড়কর্তা নিমাইবাবু গিরিশ মহাপাত্রের পোশাক সম্পর্কে এই রকম উক্তি করেছেন।

১২. অপূর্বর বাবার বন্ধু কে ছিলেন?

উত্তর- নিমাই বাবু ছিলেন অপূর্বর বাবার বন্ধু।

১৩. ” ইহা যে কতবড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল”– ভ্রম টি কি?

উত্তর- অপূর্বের ধারণা ছিলো সে প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হওয়ায় প্রভাতকাল পর্যন্ত তার ঘুমের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

১৪. ” মনে হলো দুঃখে লজ্জায় ঘৃনায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।”–কোন কথা মনে করে অপূর্বর এই মনোবেদনা?

উত্তর- স্টেশনে অপূর্বর উপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদ করার সময়ে দেশের লোক সেখানে থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ এগিয়ে আসেনি,এই কথা মনে করে অপূর্ব যেন দুঃখে লজ্জায় ও ঘৃনায় মাটির সাথে মিশে যায়।

১৫. গিরিশ মহাপাত্রের পকেট থেকে কি কি পাওয়া গিয়েছিলো?

উত্তর- গিরিশ মহাপাত্রের পকেট থেকে লোহার কম্পাস, কাঠের ফুটবল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই এবং একটি গাঁজার কলিকা পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

১.”চুরি না করুক সাহায্য করেছে!”–কে কাকে বলেছিলেন? প্রসঙ্গ টি লেখো |

উত্তর– উদ্ধৃতাংশটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পথের দাবী গল্পাংশের থেকে নেওয়া হয়েছে। এই কথা গুলি অপূর্ব বলেছিলো রামদাস কে।

 অফিসে যখন কাজ করছিলেন তখন তার বিশ্বস্ত পরিচারক তেওয়ারি বর্মা নাচ দেখতে ফয়ায় গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে তালা ভেঙে চোর যখন চুরি করতে থাকে তখন উপর তলায় থাকা মেয়েটির চিৎকারে চোর পালায় ও ভারতী নামের সেই মেয়েটি অন্য একটি তালা লাগিয়ে দেয় দরজায়।

 অফিস ফেরত ভারতী এই কথা জানিয়ে ছিলো। আর সামান্য আগে এই পরিবার টির সাথে অপূর্ব দের নানা সংঘাত হয়েছিল বলে ,পরিচারক তেওয়ারির দৃঢ় বিশ্বাস যে ভারতী নামের মেয়েটি চুরি না করলেও চুড়িতে সাহায্য করেছিলো।

২. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে”—বাবুটির সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্যের কারণ লেখ।

উত্তর “বাবু”টি বলতে এখানে স্টেশনে দেখা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ রচনাংশের গিরীশ মহাপাত্রের কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যের দিক থেকে গিরীশ মহাপাত্র যেমন রোগা তেমনি দুর্বল। কিন্তু এদিকে গায়ে তার জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। তার পরনে ছিলো বিলেতি মিলের কালো মখমল পাড়ের সুক্ষ্ম শাড়ি। পকেটে বাঘ আঁকা রুমাল। পায়ে সবুজ রঙের ফুল মোজা—হাঁটুর ওপর লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা, পায়ে বার্নিশ করা পাম্প শু। হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া একগাছি বেতের ছড়ি। বিশেষভাবে ছাঁট দেওয়া মাথার চুলে অপর্যাপ্ত লেবুর তেল। সাজের এই বাহার দেখে পুলিশের বড়ো কর্তা নিমাই বাবু এই মন্তব্য করেছিল।

৩. “বাবাই একদিন এঁর চাকরি করে দিয়েছিলেন।”—বক্তা কে? তার বাবা কাকে কী চাকরি করে দিয়েছিলেন?

উত্তর উদ্ধৃতাংশটি  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ গদ্যাংশ থেকে নেওয়া। উক্তি টির বক্তা হলেন গল্পের প্রধান চরিত্র অপূর্ব হালদার।

পুলিশের বড়ো কর্তা অফিসার নিমাইবাবু অপূর্বর বাবার বন্ধু ছিলেন। তার বাবাই নিমাই বাবুকে পুলিশের চাকরিটা পাইয়ে  দিয়েছিলেন। রেঙ্গুন পুলিশ পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরতে গিয়ে জাহাজঘাট থেকে যাদের ধরে আনে, তাদের মধ্যে একজনকে সন্দেহ হলেও বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুর মতো ব্যক্তিদের মনে হয়, যাকে তাঁরা খুঁজছেন উক্ত ব্যক্তি তিনি নন, তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরূপ ঘটনায় অপূর্ব মনে করে যে, সরকার নিমাইবাবুর মতো পুলিশের বড়ো কর্তাদের জন্য কতটাই না ব্যয় করছে, অথচ সঠিক কাজ তারা করতে পারছে না। এই প্রসঙ্গেই অপূর্ব জানান যে, তাঁর বাবাই নিমাইবাবুকে পুলিশের চাকরি করে দিয়েছিলেন। আসলে নিমাইবাবুর মতো পুলিশকর্তাদের এই ব্যর্থতার জন্য অপূর্ব লজ্জিত বলে জানান।

৪. “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি,নিজে খাইনে। – মিথ্যেবাদী কোথাকার!” – কার উদ্দেশ্যে এমন উক্তি করা হয়েছে? তাকে দয়ার সাগর ও মিথ্যাবাদী বলার?

উত্তরশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ গল্পংশে এক অদ্ভুত রকমের চরিত্র হলো গিরীশ মহাপাত্র।

যখন গিরীশ মহাপাত্রকে তল্লাশি করা হয় তখন তার পকেট থেকে একটি গাজার কলিকা পাওয়া যায়। পকেট থেকে এরকম একটি জিনিস উদ্ধার করার পর নিমাইবাবু গিরিশ মহাপাত্র কে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি গাজা খান কিনা!- এ প্রশ্নের উত্তরে গিরিশ মহাপাত্র জানায় যে সে গাজা খায় না।  এই গাজার কলিকা সে পথে কুড়িয়ে পেয়েছিল। যদি কারো দরকার পড়ে সেই ভেবে গিরীশ মহাপাত্র সেই গাজার কলিকাটি নিজের সঙ্গে রেখে নিয়েছিল। সে নিজে গাজা খায়না! কিন্তু বন্ধুদের গাজা তৈরি করে দেয়। এই কথা বলায় নিমাইবাবু মহাপাত্রকে দয়ার সাগর বলে ব্যঙ্গ করেছেন।

গিরীশ মহাপাত্রের নিজে গাজা না খাওয়ার কথা নিমাইবাবু একটুও বিশ্বাস করেন না।  কারণ নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের শরীরের সমস্ত লক্ষণ দেখেই বুঝে ফেলেছিলেন যে গিরীশ মহাপাত্র গাজা খায় কিনা। গিরীশ মহাপাত্রের এরকম একটা কাঁচা মিথ্যা বলায় নিমাইবাবু তা ধরে ফেলেন। যার জন্য নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে মিথ্যেবাদী বলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top