Class 8 Bengali chapter 09 পথচলতি

পথচলতি – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

কবি পরিচিতি

১৮৯0 সালে হাওড়া শিবপুর এ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন| একাধারে তিনি অধ্যাপক ,ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক ছিলেন তিনি তার জীবনকাল এ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উপন্যাস রচনা করে গেছেন | The Origin and Development of Bengali Language জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন।

গল্পের সারাংশ

১৯২৮ সালে এক শীতকালীন বিকেলে লেখক তার শ্বশুর বাড়ি থেকে তার বাড়ি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ,তার কাছে একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট ছিল কিন্তু স্টেশনে এসে তিনি দেখেন যে ট্রেনের একটি কামরা তেও কোনো ফাঁকা সিট নেই আর প্রত্যেকটা কামরা  গিজগিজ করছে এমত অবস্থায় লেখক খুবই বিরক্ত বোধ করেন ও সেই সময় হঠাৎ তার নজরে পড়ে একটি কামরায় কোন লোকের ভিড় নেই ও কেউ সেই কামরান কাছেও যাচ্ছে না বিষয়টি দেখে লেখক এর খুবই অবাক লাগে ব্যাপারটি কি দেখার জন্য লেখক কৌতূহলবশত যখন কামরাটির সামনে যায় তখন দেখতে পারে কামরাটিতে কাবলিওয়ালা দখল করে বসে আছে কাউকে উটতে দিচ্ছে না কেউ উঠতে চাইলে তাকে ধমক দিয়ে নামিয়ে দিচ্ছে লেখক যেহেতু ফরাসি জানত তাই তখন তার মাথায় একটু বুদ্ধি আসে যে সে কোনো না কোনোভাবে এই কামরাতেই উঠবে ও তিনি তার বুদ্ধি প্রয়োগ করে কাবলিওয়ালা দের সাথে ফরাসি ভাষায় কথা বলে কামরাটিতে উঠে পড়েন ও তাদের সাথে আলাপ পরিচয় করে এক রাত কাটিয়ে পরের দিন তার গন্তব্য স্থল অর্থাৎ কলকাতায় সুন্দর সুষ্ঠু ভাবে পৌঁছে যায়|

হাতে কলমে

১.১ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীর নাম কী?

উত্তর। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীর নাম ‘জীবনকথা’।

১.২ ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে কোন গ্রন্থ রচনার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন?

উত্তর : ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে The Origin and Development of the Bengali Language জন্য  তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১ লেখকের কোন ট্রেন ধরার কথা ছিল?

উত্তর  : লেখকের দেহরা-দুন এক্সপ্রেস ট্রেন ধরার কথা ছিল।

২.২ একটা তৃতীয় শ্রেণির বগির কাছে একেবারেই লোকের ভিড় নেই কেন?

 উত্তর : একটা তৃতীয় শ্রেণির বগির কাছে একেবারেই লোকের ভিড় নেই কারণ, সেই বগি কাবলিওয়ালা দখল  কাউকে উঠতে দিচ্ছে না।

২.৩ পাঠানদের মাতৃভাষা কী?

উত্তর : পশতু

২.৪ বৃদ্ধ পাঠানের ডেরা বাংলাদেশের কোথায় ছিল?

 উত্তর : বাংলাদেশের পটুয়াখালি বন্দরে বৃদ্ধ পাঠানের ডেরা

২.৫ খুশ হাল খাঁ খট্টক কে ছিলেন?

উত্তর : খুশ-হাল খাঁ খট্টক ছিলেন একজন পাঠান কবি।

২.৬ আদম খাঁ ও দুরখানির কিসসার কাহিনি কেমন?

উত্তর। আদম খাঁ ও দুরখানির কিসসার কাহিনি হলো দিল (মন) ভাঙার কাহিনি।

 ২.৭ এই পাঠ্যে কোন বাংলা মাসিকপত্রের উল্লেখ আছে?

উত্তর। এই পাঠ্যে বাংলা মাসিকপত্র ‘প্রবর্তকের’ উল্লেখ আছে।

২.৮ রোজার উপোসের আগে কাবুলিওয়ালারা ভরপেট কী খেয়েছিলেন?

উত্তর। রোজার উপোসের আগে কাবুলিওয়ালারা বড়ো পাঠান রোটা আর কাবাব খেয়েছিলেন।

২.৯ ‘তসবিহ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর। ‘তসবিহ’ শব্দের অর্থ মালা।

২.১০ আরবি ভাষায় ঈশ্বরের নিরানব্বইটি পবিত্র ও সুন্দর নামকে কী বলা হয়?

উত্তর। আরবি ভাষায় ঈশ্বরের নিরানব্বইটি পবিত্র ও সুন্দর নামকে বলা হয় ‘নব্বদ্-ও-নও অসমা-ই-হাসানা”।

৩. নিম্নলিখিত শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো : হুংকার, স্বস্তি, বিষয়ান্তর।

হুংকার– হুম + কার।
স্বস্তি— সু + অস্তি।
বিষয়ান্তর— বিষয় + অন্তর।

৪. নিম্নলিখিত শব্দগুলির প্রকৃতি প্রত্যয় নির্ণয় করো : ফিরতি, আভিজাত্য, জবরদস্ত, নিবিষ্ট, উৎসাহিত।

ফিরতি– ফির’ + তি।
আভিজাত্য— অভিজাত –য়া।
জবরদত্ত– জবর + দস্ত।
নিবিষ্ট— নি-বিশ্ +
উৎসাহিত– উৎসাহ + ইত।

. ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো : শীতবস্ত্র, মাতৃভাষা, শিশুসুলভ, ত্রিসীমানা।

শীতবস্ত্র— শীতের বস্তু- সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।
শিশুসুলভ– শিশুর সুলভ—সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।
মাতৃভাষা— মাতার ভাষা—–সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।
ত্রিসামানা— ত্রি সীমানার সমাহার—দ্বিগু সমাস।

৬. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো :

৬.১ গাড়িতে সেদিন অসম্ভব ভিড় দেখা গেল। (না-সূচক বাক্যে)

উত্তর। গাড়িতে সেদিন কম ভিড় দেখা গেল না।

৬.২ কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা পশতুর সম্মান তখন ছিল না। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)

উত্তর। কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা পশতুর সম্মান তখন ছিল কি?

৬.৩ কলকাতার ভাষা তাঁর আয়ত্ত হয়নি। (জটিল বাক্যে)

 উত্তর। কলকাতার যে ভাষা তা তাঁর আয়ত্ত হয়নি।

৬.৪ দুই-একজন মাঝে-মাঝে এক-আধ লবজ ফারসি বললে বটে, কিন্তু এদের বিদ্যেও বেশিদূর এগোল না। (সরলবাক্যে)

উত্তর। দুই-একজন মাঝে-মাঝে এক-আধ লবজ ফারসি বললেও এদের বিদ্যে বেশিদূর এগোল না।

৬.৫ বাংলাদেশে তোমার ডেরা কোথায়? (নির্দেশক বাক্যে)

 উত্তর। বাংলাদেশের কোথায় তোমার ডেরা আছে জানাও।

৭. প্রসঙ্গ উল্লেখ করে টীকা লেখো

 কাবুলিওয়ালা : আফগানিস্থানের রাজধানী কাবুলের কিছু অধিবাসী পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা করার উদ্দেশে আসতেন। তাদের কাবুলিওয়ালা বলা হত। এরা মূলত কিসমিস্, পেস্তা, খেঁজুর ইত্যাদির ব্যবসা করতেন। কেউ কেউ আবার সুদে টাকা ধার দেওয়ার কারবারও করতেন।

পশতু : কাবুলিওয়ালাদের ভাষার কথা বলতে গিয়ে লেখক এখানে পশতু ‘র কথা উল্লেখ করেছেন। পশতু কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা হিসেবে গণ্য। তবে এই ভাষাভাষী লোকেদের শিক্ষা-সংস্কৃতির খুব অভাব আছে। এই ভাষায় উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্যকর্মও ছিল না।

ফারসি : ফারসি কথাটির উল্লেখ আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক করেছেন কাবুলিদের ভাষার ব্যবহার প্রসলো। লেখকের মতেকাবুলিদের মধ্যে ফারসি বলাটা একটা শিক্ষা ও আভিজাত্যের লক্ষণ। লেখক বুদ্ধিমত্তাসহকারে ফারসি ভাষায় কথা বলে। ব জায়গালাভের কার্যসিদ্ধির জন্য কাবুলিদের মন জয় করার চেষ্টা করেন।

আফগানিস্থান : কাবুলিনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে লেখক তাদের দেশ আফগানিস্থানের প্রসঙ্গ এনেছেন। আফগানিস্থান ভারতের এক প্রতিবেশী রাষ্ট্র, এর রাজধানী কাবুল। পাকিস্তান ও আফগানিস্থান ভারতের পশ্চিম দিকের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এই দেশের সাধারণ মানুষের ভাষা ছিল পশতু এবং শিক্ষিতজনের ভাষা হলো ফারসি।

বরিশাল : আলোচ্য প্রবন্ধে বৃদ্ধ পাঠান আগা সাহেবের কর্মস্থলের উল্লেখ করতে গিয়ে লেখক বরিশালের কথা উল্লেখ করেছেন। বরিশাল বাংলাদেশের একটি সমৃদ্ধ জেলা।

 গজল: লেখক খুশ-হাল খাঁ খট্টকের কথা উল্লেখকালে গজল গানের প্রসঙ্গ এনেছেন। আভিধানিক অর্থে গজল হলো ফারসি ভাষার প্রণয়সংগীত। এখানে পশতু ভাষার গজলের প্রসঙ্গ এসেছে খুশ-হাল খাঁ খট্টকের কথায়। তিনি সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমসাময়িক পাঠানদের পশতু ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি।

উর্দু : দেহরা-দুন এক্সপ্রেসে যাত্রাকালীন সময়ে লেখকের দুজন সহযাত্রী উর্দু ভাষায় কথা বলছিলেন। তাই এই প্রবন্ধে উর্দুভাষার কথা এসেছে। উর্দু একটি সমৃদ্ধ ভাষা। যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে প্রচলিত। উর্দু, ফারসি, পশতু ইত্যাদি ভাষার মধ্যে প্রচুর মিল থাকায় উর্দু ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে বাকি ভাষাগুলির অনেক কথা জানা যায়।

. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর কয়েকটি বাক্যে লেখো :

৮.১ স্টেশনে পৌঁছে লেখক কী দেখেছিলেন?

উত্তর। লেখক শ্বশুরবাড়ি গয়া থেকে কলকাতায় ফেরার জন্য দেহরাদুন এক্সপ্রেস ট্রেন ধরতে এলেন। ট্রেন যথাসময়ে এলে লেখক দেখলেন যে সেদিন গাড়িতে অসম্ভব ভিড়। মধ্যম শ্রেণির কোনো কামরায় ঢোকার অবস্থা নেই এমনকি দ্বিতীয় শ্রেণির গাড়িগুলিতেও লোকে মেঝেয় বিছানা করে বা বসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ইঞ্জিনের সামনে একটা বড়ো তৃতীয় শ্রেণির কামরা গুটিকয়েক কাবুলিওয়ালা দখল করে কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় খালি ছিল।

৮.২ দু-চারটি ফারসি ভাষা বলতে পারার ক্ষমতা লেখককে কী রকম সাহস দিয়েছিল?

উত্তর। আফগানিস্থানের শিক্ষিতজনের মধ্যে প্রচলিত ফারসি ভাষা লেখক কিছুটা জানতেন। লেখক ভাবলেন এদের সঙ্গে ফারসিতে কথা বললে তারা হয়তো তাকে ট্রেনে সামান্য জায়গা দিতে পারে দয়াপরবশ হয়ে। লেখক সোজা গিয়ে আধখোলা দরজার হাতল ধরে ফারসিতে তাদের একটা জায়গা দেবার অনুরোধ জানালেন। অধিকাংশ কাবুলিওয়ালা ফারসি না জানলেও একজন তাঁর ফারসি ভাষা শুনে তাঁকে কামরায় প্রবেশ করার অনুমতি দিলেন।

৮.৩ ‘আলেম’ শব্দের মানে কী? লেখককে কারা, কেন ‘এক মস্ত আলেম’ ভেবেছিলেন?

উত্তর। ‘আলেম’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো যিনি সবকিছু জানেন। লেখককে কাবুলিওয়ালারা এক মস্ত আলেম ভেবেছিলেন। কারণ লেখক বাঙালি হলেও পশতু, ফারসি, উর্দু ইত্যাদি সব ভাষা অল্পবিস্তর জানতেন। এছাড়াও বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতেও তাঁর দখল থাকায় কাবুলিরা তাঁকে আলেম ভেবেছিলেন।

৮.৪ আগা-সাহেব সম্বন্ধে যা জানা গেল, সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর। বৃদ্ধ পাঠান আগা সাহের আলোচ্য প্রবন্ধে উল্লিখিত ট্রেনযাত্রায় লেখকের সহযাত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের বরিশাল

জেলায় পটুয়াখালি বন্দরে তিনি শীতবস্ত্র এবং হিং-এর ব্যবসা করেন। কলকাতার ভাষা তার আয়ত্ত না হলেও তিনি বরিশালের। বাংলাভাষা ভালোমতো জানতেন। লেখকের সঙ্গে তার শুভেচ্ছা বিনিময় ও কথোপকথন বাংলা ভাষাতেই চলছিল।

 ৮.৫ লেখকের সামনের বেঞ্চির দুই পাঠান সহযাত্রী নিজেদের মধ্যে যে আলোচনা করছিলেন তা নিজের ভাষায় লেখো।লেখক কীভাবে সেই কথার অর্থ বুঝতে পারলেন?

 উত্তর। লেখকের সামনের বেঞ্চির দুই সহযাত্রী পশতু ভাষায় লেখক সম্বন্ধে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা চালাচ্ছিলেন। পশতু ভাষায় প্রচুর ফারসি ও আরবি শব্দ আছে আর কিছু উর্দু জানলে অনেক শব্দ বোঝা যায় বলে লেখক তাদের আলাপের বিষয়বস্তু বুঝতে পারলেন। তারা বলছিলেন যে লেখক বিদ্বান ও বুদ্ধিমান কারণ তিনি ইংরেজি ও ফারসি জানেন এবং তাদের দেহাতি ভাষারও অনেক কিছু তিনি জানতেন।

. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

৯.১ পাঠ্য গদ্যটির ভাবের সঙ্গে ‘পথচল্‌তি’ নামটি কতখানি সংগতিপূর্ণ হয়েছে, বিচার করো।

উত্তর। আলোচ্য রচনায় লেখক বিহারের গয়া থেকে দেহরা-দুন এক্সপ্রেসে তাঁর শ্বশুরালয় থেকে কলকাতায় ফেরার এক রাতের ট্রেনযাত্রার বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন। যাত্রাপথে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি, ফারসি ভাষায় অল্প জ্ঞান এবং প্রভাবিত করার ক্ষমতা তাঁর যাত্রাপথকে মসৃণ করে তুলেছিল। ‘পথচলতি’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো পথে চলতে চলতে, অর্থাৎ পথের অভিজ্ঞতা। এই রচনাটি লেখকের গয়া থেকে কলকাতা যাত্রার বিবরণ সমৃদ্ধ।লেখক তাঁর যাত্রাপথে তাঁর ক্ষনিকের সহযাত্রী ভিন্নজাতির বন্ধুদের সঙ্গ-সুখ লাভ করে যে আনন্দ লাভ করেন এবং তাঁর যাত্রাপথ যেভাবে মসৃণ ও সুখকর হয় তা তাঁর প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং ভাষা জ্ঞানের প্রতি দক্ষতার ফলশ্রুতি। পরে বিবরণ এই রচনার বিষয়বস্তু হওয়ায় রচনাটির নামকরণ পথচলতি, সার্থক, যথাযথ ও বিষয়ানুসারী।

৯.২ পাঠ্য গদ্যাংশটি থেকে কথকের চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্যগুলি তোমার চোখে ধরা পড়েছে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে লেখো।

    উত্তর। পাঠ্য ‘পথচল্‌তি’ গদ্যাংশটির কথক হলেন বহুভাষাবিদ বিদগ্ধ পণ্ডিত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। তাঁর চরিত্রে বহুবিধ গুণাবলীর কথা আমরা আলোচ্য গদ্যাংশে পাই। গদ্যাংশের প্রথমেই দেহরাদুন এক্সপ্রেসের কাবুলিদের কামরায় প্রবেশ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর বুদ্ধিমত্ত এবং বিচক্ষণতার পরিচয় লাভ করি।তিনি বহু ভাষা জানতেন। ফারসি ভাষা জানা থাকায় তিনি ট্রেনের কামরায় প্রবেশাধিকার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কাবুলিওয়ালাদের সঙ্গে কথোপকথনকালে তাঁর পাণ্ডিত্য প্রকাশিত হয়েছে। খুশ হাল খাঁ খট্টকের গজল, আদম যদ আর দুরখানির কিস্সার উল্লেখ লেখকের পাণ্ডিত্যের পরিচয় বহন করে।

৯.৩ কথকের সঙ্গে কাবুলিওয়ালাদের প্রারম্ভিক কথোপকথনটি সংক্ষেপে বিবৃত করো।

উত্তর। কথকের সঙ্গে কাবুলিওয়ালাদের প্রারম্ভিক কথোপকথনটি শুরু হয়েছিল ফারসি ভাষায়। কথক আধখোলা দর হাতল খুলে কামরায় ঢুকতে গেলে কাবুলিরা ভাঙা হিন্দিতে জানাল যে সেই কামরা কেবলমাত্র পাঠানদের জন্য সংরক্ষিত হয়। তার কথক ফারসিতে অনুরোধ জানালেন একজন মানুষ হিসাবে তাঁকে জায়গা দেবার জন্য। কাবুলিরা তাঁর ভাষা বুঝতে অসম ১২ টার হলো। তখন লেখক জোর গলায় বললেন যে আফগানিস্থানের লোক হয়ে তাদের ফারসি না জানার কারণ কী। ভিতরের এক ফারসি জানা ছোকরা তাঁর কথা বুঝতে পেরে দলের সম্মতি লাভ করে তাঁকে ভিতরে যাবার অনুমতি

 ৯.৪ কথক কেন বলেছেন ‘যেন এক পশতু-সাহিত্য-গোষ্ঠী বা সম্মেলন লাগিয়ে দিলুম’—সেই সাহিত্য সম্মেলনে বর্ণনা দাও।

 উত্তর। লেখক চলন্ত ট্রেনের কামরায় কাবুলিদের সঙ্গে আলাপ জমানোর অভিপ্রায়ে জিজ্ঞাসা করলেন পাঠানদের পশ্য ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি খশ হাল খাঁ খট্টকের গজল কেউ জানে কি না। তাতে উপরের বাংকে বসা এক পাঠান খুশি হয়েউৎসাহ সহকারে কথককে গজল শোনাল। কথক এবার আদম খান আর দুরখানির মহব্বতের কিসসা কেউ জানে কি না জিজ্ঞাসা করলেন। তাতে অন্য এক পাঠান উৎসাহ সহকারে কিছুটা পাঠ আর কিছুটা গান করে সেই কিসসা শোনাল। এভাবেই ট্রেনের কামরায় পশতু সাহিত্য সম্মেলনের আসর চলেছিল।

৯.৫ ‘পথচলতি’ রচনায় ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও যে সহজ বন্ধুত্ব ও উদার যায় তার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। বর্তমান সময়ে এই বন্ধুত্ব ও সহানুভূতির প্রাসঙ্গিকতা বুঝিয়ে দাও।

উত্তর। ‘পথচলতি’ রচনায় বাঙালি লেখক এবং পাঠান কাবুলিওয়ালাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে দুস্তর ব্যবধান ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে একটি সুন্দর বন্ধুত্ব এবং সহানুভূতির ছবি ফুটে উঠেছিল। বহুভাষাভাষী মানুষজন আন্তরিকতার পরশে একে অপরের হৃদয়ের কাছাকাছি আসতে পারে। এই গল্পে তার দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি। বাচনভঙ্গী এবং সকলকে আপন করে নেবার মানসিকতা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে থাকে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে ও সমাজে পারস্পরিক হিংসা ও বিদ্বেষ ক্রমবর্ধমান। হিংসার উন্মত্ত পৃথিবীতে শান্তির ললিত বাণীর প্রাসঙ্গিকতা চিরন্তন। তাই বর্তমান সমাজব্যবস্থায় বন্ধুত্ব ও সহানুভূতির প্রয়োজন অনস্বীকার্য।

১০. রেলভ্রমণের সময় অচেনা মানুষের সঙ্গে তোমার বন্ধুত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি রম্যরচনা লেখো। তোমার লেখাটির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ছবি আঁকো।

উত্তর। রেলভ্রমণের সময় বহু অচেনা মানুষ তোমাদের সহযাত্রী হিসেবে দীর্ঘক্ষণ তোমাদের সঙ্গে অতিবাহিত করেন। সেরকম একটি যাত্রাকালীন মজার ঘটনার বিবরণ নিজেরা লেখো। এ প্রসঙ্গে তোমরা শিক্ষক-শিক্ষিকার সহায়তা নাও এবং একটি প্রাসঙ্গিক ছবি এঁকে ফেলো।

অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর

1. লেখক কোথা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ?

উত্তর:-লেখক তার শ্বশুরবাড়ি গয়া থেকে  কলকাতায় তার বাড়িতে ফিরছিলেন |

2. লেখক এর বাড়ি কোথায় ?

উত্তর:-লেখক এর বাড়ি কলকাতায় |

3. ট্রেনে কাবলিওয়ালা কতজন ছিল

উত্তর:- ট্রেনে মোট 16 জন কাবুলিওয়ালা ছিল |

4. লেখক কোন ভাষা জানো

উত্তর:-লেখক কাবুলিওয়ালা দের স্থানীয় সরকারি ভাষা ফরাসি জানতো|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top