দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ২৯. নদীর বিদ্রোহ - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

নদীর বিদ্রোহ – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি:

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে ঝাড়খন্ড রাজ্যের দুমকায় জন্ম হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার বাবার নাম ছিলো হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম ছিলো নীরদাসুন্দরী দেবী। তার বাবা ছিলেন সরকারি চাকুরীজীবি। ফলে চাকরিসূত্রে তার বাবা কে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হত তাই তার শৈশব কেটেছে নানান জায়গায়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। খুবই ছোট বেলায় তিনি তার মাকে হারান। এরপর তিনি বড়ো হয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিত বিষয়ে অনার্স নিয়ে বি এস সি তে ভর্তি হয়েছিলাম। কলেজ জীবনের থেকেই তাকে সাহিত্য চর্চার নেশা পেয়ে বসে ফলে একসময় তিনি প্রথাগত পড়াশুনা ছেড়ে দেন। সাহিত্যের জগতে তার অবির্ভাব হয়েছিল হঠাৎ করেই। তার লেখা প্রথম প্রকাশিত গল্প হলো ‘অতশী মামী’। এই লেখাটি পাঠকদের দৃষ্টি ও আকর্ষণ করে। এরপর থেকে সাহিত্যচর্চা তেই তিনি মনোনিবেশ করেন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গশ্রী পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ছোটো গল্প ও উপন্যাস দুই ই রচনা করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি তার সাহিত্য জীবনে ৫০ টির ও বেশি উপন্যাস লিখেছেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য কিছু উপন্যাস হল- পদ্মানদীর মাঝি, দর্পন, পুতুলনাচের ইতিকথা, হলুদ নদী সবুজ বন ইত্যাদি। তার লেখা ছোট গল্পগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু গল্প হল- সরীসৃপ, ভেজাল, লাজুকতা, আজ, কাল ইত্যাদি। শেষের দিকে তিনি নানা রকম অসুখে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৯৫৬  খ্রিস্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর এই প্রতিভাবান সাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটেছিলো।

 

সারাংশ:

নদীর বিদ্রোহ গল্পে আমরা নদেরচাঁদ। নদীর সাথে তার এক অদ্ভুত রকমের সম্পর্ক আছে। নদীকে সে অসম্ভব ভালোবাসে। বর্ষায় যখন নদী জলে পরিপূষ্ট হয়ে ওঠে তখন সে আনন্দ পায় আবার যখন প্রচন্ড গরমে অনাবৃষ্টিতে নদীর জল কমে আসে তখন তার মনটা আবার কেঁদে ওঠে তার জন্য। তার দেশে একটি ছোট নদী ছিলো, আর সেই ছোট নদীকে ঘিরেই ছোট থেকে বড়ো হয়েছে সে। আজ সে কর্ম সূত্রে সেখানথেকে অনেক দূরে সে। সে যখন তার কর্মস্থানে এসে জানতে পেরেছিলো যে একটি বড়ো নদী আছে সেখানে তখন তার মন টা আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠেছিল। তিনি প্রতিদিন রেলের কাজ শেষ করে নদীকে দেখতে যায় সে, সেখানে একটি ব্রিজ তৈরী হ্য়েছে যার উপর থেকে ট্রেন চলে তার ই মাঝখানে সিমেন্ট গাঁথা স্তম্ভের শেষের দিকে বসে সে নদীকে দেখে। গল্পে দেখা যায় যে নদেরচাঁদ যেখানে থাকে সেখানে পাঁচ দিন টানা বৃষ্টি হওয়ার পর বৃষ্টি থেমেছে। পাঁচদিন টানা বৃষ্টির ফলে নদীকে দেখতে যাওয়া হয়নি তার। ফলে সেদিন বৃষ্টি থামায় সে নদীকে দেখতে যেতে পারবে ভেবে মনে মনে অনেক আনন্দ পায়। বিকেলে তিনি রেলের কাজ সমাপ্ত করে যথারীতি বেরিয়ে পড়ে নদীকে দেখতে। কিন্তু সে নদীকে দেখে অবাক হয়ে যায়, শেষ দিন যখন সে নদীকে দেখে গিয়েছিলো তখন নদী ছিলো চঞ্চল কিন্তু তবুও পরিপূর্ন কিন্তু আজ সে নদীর চেহারা বদলে গিয়েছে যেন। তার নদীকে দেখে মনে হয়েছিল তার পঙ্কিল জল যেন ফুলে ফেঁপে উঠে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ছুটে চলেছে। তবু নদীকে দেখে যেন তার আনন্দই হলো। নদীকে তার আজ আরো বেশি প্রাণবন্ত বলে মনে হলো। গত কিছুদিন টানা বৃষ্টি চলাকালীন তিনি ঘরে বসে তার স্ত্রী কে একটি বেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিলো। আজ সে সেই চিঠি টা থেকে একটা একটা করে পাতা ছিঁড়ছিলো আর নদীতে ফেলছিলো। তারপর আবার বৃষ্টি নামলো কিন্তু সে তার জায়গা থেকে উঠলো না । সে বৃষ্টির জল পড়ে নদীর উচ্ছলতা কে উপভোগ করতে লাগলো। এরপর আন্তে আস্তে সন্ধে হয়ে গেলো ব্রিজের উপর থেকে একটা ট্রেন চলে যাওয়ায় তার শব্দে সে চেতনা ফিরে পেলো। সে দেখলো নদীর জল ব্রিজের অনেক টাই কাছে চলে এসেছে, ব্রিজ ভেঙে ও পড়তে পারে। এরপর সে সেখান থেকে উঠে পড়ে লাইন ধরে স্টেশনের দিকে হাঁটতে শুরু করে আর তখনি তার জীবনে এক করুন পরিণতি ঘটে। একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন তাকে পিষে চলে যায়।

 

বহু-বিকল্পীয় প্রশ্নোত্তর :

১. স্ত্রীকে লেখা নদের চাঁদের চিঠির পৃষ্ঠা সংখ্যা কয়টি ছিল? –
(ক) দুটি 
(খ) তিনটি
(গ) চারটি 
(ঘ) পাঁচটি

উত্তর – (ঘ) পাঁচটি

২. বউকে চিঠি লিখতে নদের চাঁদের কতদিন সময় লেগেছিল?
(ক) দুদিন
(খ) চারদিন
(গ) তিনদিন 
(ঘ) এক দিন

উত্তর : (ক) দুদিন

৩. ”  তারপর নামিলো বৃষ্টি ” – বৃষ্টি কিভাবে পড়ছিল?
(ক) টিপটিপ করে
(খ) ঝমঝম করে
(গ) মুষলধারে
(ঘ) অঝোরে

উত্তর : (গ) মুষলধারে

৪. নদেরচাঁদ কত বছর স্টেশন মাস্টারি করেছিল ?
(ক) চার বছর 
(খ) তিন বছর
(গ) দশ বছর 
(ঘ) পাঁচ বছর

উত্তর – তিন বছর

৫. নদের চাঁদের বয়স কত ছিল?
(ক) ত্রিশ বছর 
(খ) পঁচিশ বছর
(গ) পঁয়ত্রিশ বছর 
(ঘ) কুড়ি বছর

উত্তর – (ক) ত্রিশ বছর

৬. কিভাবে নদেরচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল?
(ক) বাসের ধাক্কায় 
(খ) লরির ধাক্কায়
(গ) ট্রামের ধাক্কায  
(ঘ) ট্রেনের ধাক্কায়

উত্তর – (ঘ) ট্রেনের ধাক্কায়

৭. নদের চাঁদকে পিষিয়া দিয়া চলে গেল –
(ক) ৭ নং আপ প্যাসেঞ্জার
(খ) ৬ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
(গ) ৫ নং আপ প্যাসেঞ্জার
(ঘ) ৫ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার

উত্তর : (ক) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার

৮. নদের চাঁদ প্রতিদিন কোথায় বসে নদীকে দেখত?
(ক) নৌকাতে 
(খ) ব্রিজের ওপরে 
(গ) ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে 
(ঘ) নদীর তীরে বসে

উত্তর(গ) ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে

৯. স্টেশন থেকে নদীর উপরকার ব্রিজ এর দূরত্ব ছিল –
(ক) এক মাইল
(খ) দুই মাইল
(গ) তিন মাইল
(ঘ) চার মাইল

উত্তর – (ক) এক মাইল

১০. যে আকস্মিক আঘাত নদের চাদের চেতনাকে দিশাহারা করে দিয়েছিল –
(ক) প্রবল বৃষ্টির ঝাপটা 
(খ) ব্রিজ ভাঙার শব্দ
(গ) ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দ 
(ঘ) বাতাসের প্রবল শব্দ

উত্তর(খ) ব্রিজ ভাঙার শব্দ

১১. “…এতকাল নদের চাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে” – এই গর্ব অনুভব করার কি?
(ক) নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য 
(খ) নিজের পেশার জন্য
(গ) শৈশবের ক্ষীণস্রোতা নদীটির জন্য 
(ঘ) নদীর প্রতি তার ভালােবাসার জন্য

উত্তর – (ক) নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য

১২. দেশের সেই ক্ষীণ স্রোতা নির্জীব নদীটি কেমন ছিল?
(ক) আত্মীয়ার মতােই তার মমতা পেয়েছিল 
(খ) অনাত্মীয়ার মতােই তার দুর্ব্যবহার পেয়েছিল 
(গ) সকলের আদর পেয়েছিল
(ঘ) সকলের অনাদর পেয়েছিল

উত্তর – (ক) আত্মীয়ার মতােই তার মমতা পেয়েছিল

১৩. নদের চাঁদের দেশের নদীটি কেমন ছিল?
(ক) শান্ত
(খ) উত্তাল
(গ) ক্ষীণস্রোতা
(ঘ) ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।

উত্তর : (ঘ) ক্ষীণস্রোতা ও নির্জীব।

১৪. ” নদীকে দেখা হয় নাই ” – কতদিন সে নদীকে দেখেনি?
(ক) চারদিন
(খ) তিনদিন
(গ) পাঁচদিন
(ঘ) দুদিন

উত্তর : (গ) পাঁচদিন

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :

১. নদেরচাঁদ লাইন ধরে কোন দিকে হাঁটছিল?

উত্তর- নদেরচাঁদ লাইন ধরে একমাইল দূরে নদীর ওপরের ব্রিজের দিকে হাঁটছিল।

২. ক-দিন অবিরত বৃষ্টি হয়েছিল? কখন বৃষ্টি থেমেছিল ?

উত্তর- পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টি হয়েছিল, বিকালের দিকে বৃষ্টি থেমেছিল।

৩. পাঁচদিন নদীকে না-দেখে নদেরচাঁদ কেমন বোধ করছিল ?

উত্তর- পাঁচদিন নদীকে না-দেখে নদেরচাঁদ নদীকে দেখার জন্য ছেলেমানুষের মতো উৎসুক হয়ে উঠেছিল।

৪. নদেরচাঁদ কীসের ওপর দিয়ে হাঁটতে থাকে?

উত্তর- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ রেলের উঁচু বাঁধ ধরে হাঁটতে থাকে।

৫. নদেরচাঁদের দেশের নদীটির ক্ষীণ স্রোতধারা একবার শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে কী করেছিল?

উত্তর- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা নদীর বিদ্রোহ গল্পে নদেরচাঁদের দেশের নদীটির অনাবৃষ্টির জন্য ক্ষীণ স্রোতধারা শুকিয়ে যাওয়া উপক্রম হলে সে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।

৬. স্টেশনের কাছের নদীটি নদেরচাঁদের কত বছরের চেনা ?

উত্তর- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে স্টেশনের কাছের নদী নদেরচাঁদের চার বছরের চেনা।

৭. নদেরচাঁদ তার বউকে যে চিঠি লিখেছিল, সেটা সে কোথায় রেখেছিল?

উত্তর- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ তার বউকে যে চিঠি লিখেছিল, সেটা তার পকেটেই রেখেছিলো।

৮. নদেরচাঁদ চিঠির মধ্যে কী কথা লিখেছিল?

উত্তর- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদ তার বউকে যে চিঠি লিখেছিল, তাতে বিরহবেদনাপূর্ণ কথা ছিল।

৯. “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।” – কীসের ভয় করছিল নদেরচাঁদের?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা নদীর বিদ্রোহ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে নদীর ক্ষিপ্ত রূপ এবং প্রবল বর্ষা এবং ব্রিজের ওপর দিয়ে দ্রুতবেগে ট্রেন যাওয়ার শব্দ সবমিলিয়ে, এমন একটি ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি করছিল যে, তাতে নদেরচাঁদের ভয় করতে লাগল।

১০. “হঠাৎ তাহার মনে হইয়াছে,”—কার, কী মনে হয়েছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা নদীর বিদ্রোহ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। নদেরচাঁদের হঠাৎ মনে হয়েছে যে, উন্মত্ত এই নদীর ফুলেওঠা জলরাশির কয়েক হাত উঁচুতে এমন নিশ্চিন্ত ভাবে এতক্ষণ বসে থাকা তার একদম উচিত হয়নি।

১১. “এত কাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।”—কার জন্য নদেরচাঁদ এতকাল গর্ব অনুভব করেছে?

উত্তর- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা নদীর বিদ্রোহ গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে। নতুন রং করা রেলের ব্রিজটার জন্য নদেরচাঁদ এতো কাল গর্ব বোধ করে এসেছেন।

১২. ” নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।”- নদেরচাঁদ কেনো স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নদীর বিদ্রোহ গল্প থেকে গৃহীত। নদের চাঁদ নদীর দিকে তাকিয়ে প্রথম বার তার এমন উন্মত্ত চেহারা দেখে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।

১৩. নদের চাঁদ প্রতিদিন কোথায় বসে নদীকে দেখতো?

উত্তর- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নদীর বিদ্রোহ গল্পে নদেরচাঁদ প্রতিদিন ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি ও সিমেন্ট দিয়ে গাঁথা একটি ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে বসে প্রতিদিন নদীকে দেখতো।

১৪. “এক একখানি পাতা ছিঁড়িয়া দুমড়াইয়া মুচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল।”—কে কিসের পাতা জলে ফেলতে লাগল?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নদীর বিদ্রোহ থেকে গৃহীত। নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে একটি পত্র লিখেছিলো সেটার ই পাতা ছিঁড়ে নদীর জলে ফেলতে লাগল।

১৫. নদী আসলে কী চায় বলে নদেরচাঁদ মনে করেছিল?

উত্তর- মানুষের হাতে গড়া ব্রিজ ও উঁচু বাঁধ ভেঙে ফেলে নদী নিজের স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে চায় বলে নদেরচাঁদ  মনে করেছিল।

 

ব্যাখ্যা-ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর :

১. ” বোধহয় এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্যই ” – প্রশ্নটি কি ছিল? এবং কি হয়েছিল?

উত্তর – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে দেখা যায় নদীর উত্তাল ভয়ঙ্কর রূপ। নদের চাঁদ কে বুঝিয়ে দিয়েছিল তার বক্ষে ব্রিজ গড়ে মানুষ যে অন্যায় করেছে, তার প্রতিশোধ নদী নেবেই। একথা উপলব্ধি করেই নদের চাঁদের মনে প্রশ্ন জাগে যে কি প্রয়োজন ছিল এই ব্রিজের।

    নদের চাঁদ উপলব্ধি করেছিল প্রকৃতিকে শৃঙ্খলিত করা একটা বড় অপরাধ। মানবজাতির প্রতিনিধি হিসেবে সে ব্রিজ নিয়ে যে গর্ব বোধ করত সে ব্রিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনে তার মনে এই প্রশ্ন দেখা দেয়। মানুষের তৈরি সভ্যতার যে ভয়ঙ্কর রূপ তাকেই অবলম্বন করে মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকে বিনাশ করছে, তা বোঝানোর জন্যই হয়তবা পেছন থেকে ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার এর আকস্মিক ধাক্কায় নদেরচাঁদ কে মরতে হয়। এ যেন মানুষের আসন্ন ধ্বংসেরই অবাহিত রূপ।

২. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পরিয়াছে।”-কার বুঝতে পারার কথা বলা হয়েছে? নদীর বিদ্রোহ বলতো কী বোঝাতে চেয়েছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নদীর বিদ্রোহ গল্প থেকে গৃহীত। উদ্ধৃত অংশে নদেরচাঁদের বুঝতে পারার কথা বলা হয়েছে।

নদেরচাঁদ তার জন্মস্থানের সরু নদীটিকে ফেলে কর্ম স্থানে আসার পরে সে দেখে তার কাছাকাছি একটি নদী আছে। সেই নদীটির সাথে সে চার বছর ধরে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। টানা পাঁচদিন বৃষ্টি হওয়ার ফলে সে ঐ কদিন নদীকে দেখতে যেতে পারেনি। পাঁচদিন পরে যখন বৃষ্টি থেমেছিল তখন সে তার রেলের সব কাজ সম্পুর্ন করে নদীকে দেখতে গিয়েছিল। তখন নদীর রূপ দেখে সে স্তম্ভিত হয়ে যায় । তার মনে হয় নদী যেন উন্মত্ত হয়ে গিয়েছে। গাঢ় পঙ্কিল জল যেন উচ্ছাসিত হয়ে ছুটে চলেছে। নদেরচাঁদ সেখানে বসে অনুভব করে নদীর ওপরে তৈরি নতুন রং করা ব্রিজটাই নদীর চলার পথে প্রবল বাধার সৃষ্টি করছে।নদী এইসব ভেঙে চুরমার করে দিতে চায়। মানুষ যেমন অন্যায় এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় ঠিক তেমন যেন নদীটাও তার উছ্বাসিত গতির মাধ্যমে বিদ্রোহ ঘোষণা করছে।

৩. “কী প্রয়োজন ছিলো ব্রিজের?”- কোন ব্রিজের কথা বলা হয়েছে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির তা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে কেনো?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নদীর বিদ্রোহ গল্প থেকে গৃহীত। নদেরচাঁদ যে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের কাজে নিযুক্ত ছিল তার কাছেই একটি নদী ছিলো। সেই নদী টির উপরে একটি ইট, বালি, সুরকির তৈরী একটি ব্রিজ ছিলো, এখানে সেই ব্রিজের কথাই বলা হয়েছে।

নদেরচাঁদ নদীর ওপরে তৈরী এই নতুন রং করা ব্রিজটিকে নিয়ে গর্ব বোধ করতো কিন্তু টানা বর্ষার ফলে নদী যখন জলে পরিপুর্ণ তখন সেই নদীকে দেখে নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল ব্রিজটি যেন নদীর স্বাধীন ভাবে চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যেটা সে কখনোই চায়নি। তাই নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল ই ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিলো না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top