Class 9 Bangla ধীবর বৃত্তান্ত - কালিদাস

ধীবর বৃত্তান্ত – কালিদাস

লেখক পরিচিতিঃ

সংস্কৃত সাহিত্যে বাল্মীকি এবং ব্যাসদেবের পরেই উচ্চারিত হয় কালিদাসের নাম। উজ্জয়িনী, কলিঙ্গ এমনকি কাশ্মীরকেও তাঁর জন্মস্থান বলে ভাবা হয়। বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার অন্যতম রত্ন ছিলেন কালিদাস। এই হিসেবে ৩০০ থেকে ৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি বর্তমান ছিলেন মনে করা হয়। কালিদাস তিনটি নাটক রচনা করেছিলেন – “অভিজ্ঞান শকুন্তলম্”, “বিক্রমোর্বশীয়”, “মালবিকাগ্নিমিত্রম্”। রচনা করেছিলেন “রঘুবংশ” এবং “কুমারসম্ভব”-এর মতো মহাকাব্যতুল্য কাব্যগ্রন্থ এবং “মেঘদূত” ও “ঋতুসংহার” – এই দুটি খন্ডকাব্য। শেকসপিয়র, মিলটন প্রমুখ বিশ্বসাহিত্যের স্মরণীয় স্রষ্টাদের সঙ্গে কালিদাসকেও একাসনে বসানো হয়।

বিষয়সংক্ষেপঃ

কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ নাটকের ষষ্ঠ অঙ্ক থেকে থেকে ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি সংগৃহীত। মূল নাটক থেকে এই নাট্যাংশের অনুবাদ করেন সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী। নাটকের অন্যতম মূলচরিত্র ও নায়িকা শকুন্তলা হলেও আলোচ্য নাট্যাংশটির মুখ্য চরিত্র হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে আপাত পরিচয়হীন ধীবর। রাজার নাম লেখা আংটি রাখার অপরাধে ধীবরকে ধরে নিয়ে আসেন রাজশ্যালক এবং রক্ষীরা। ধীবর চুরি করেনি একথা বলার পরও রক্ষীরা তাকে তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে, এমনকি তার জীবিকা নিয়েও ব্যঙ্গ করতে ছাড়ে না। ধীবর জানায় যে, রুই মাছ টুকরো করে কাটার সময়েই তার পেটের থেকে আংটিটা পেয়েছে। সেই আংটি বিক্রির সময়েই ধীবর ধরা পড়ে যায়। রাজশ্যালক পুরো ঘটনা মহারাজকে জানাতে যান। রক্ষীরা উৎসুক হয়ে পড়ে ধীবরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। কিন্তু শ্যালক ফিরে এসে ধীবরের বক্তব্য সত্য বলে জানিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। শুধু তাই-ই নয়, মহারাজ আংটির সমপরিমাণ মূল্যও তাকে দিয়েছেন বলে জানান। আংটির কথা শুনে রাজা যে বিহ্বল হয়ে পড়েন, সেকথাও রাজশ্যালক বলতে ভোলেন না। তিনি ধীবরকে তাঁদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।

বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন-উত্তর

১. রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বিয়ে করেছিলেন –
(ক) মহর্ষি কণ্বের তপোবনে
(খ) মহর্ষি বিশ্বামিত্রের তপোবনে
(গ) চিত্রকুট পাহাড়ে
(ঘ) শচীতীর্থে

উত্তরঃ- মহর্ষি কণ্বের তপোবনে।

২. মহারাজ বিবাহের অভিজ্ঞানস্বরূপ শকুন্তলাকে দিয়েছিলেন তাঁর –
(ক) নামাঙ্কিত অঙ্গুরীয়
(খ) পত্র
(গ) রত্নহার
(ঘ) কর্ণকুণ্ডল

উত্তরঃ- নামাঙ্কিত অঙ্গুরীয়।

৩. শকুন্তলাকে বিয়ে করে রাজা দুষ্মন্ত ফিরে যান—
(ক) ইন্দ্ৰপ্রস্থে
(খ) মিথিলায়
(গ) রাজধানীতে
(ঘ) কুরক্ষেত্রে

উত্তরঃ- রাজধানীতে।

৪. শকুন্তলা মগ্ন ছিলেন—
(ক) ভীমের চিন্তায়
(খ) স্বামীর চিন্তায়
(গ) মহর্ষি কণ্বের চিন্তায়
(ঘ) ঋষি দুর্বাসার চিন্তায়

উত্তরঃ- স্বামীর চিন্তায়।

৫. শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন
(ক) দুর্বাসা মুনি
(খ) বিশ্বামিত্র মুনি
(গ) অগস্ত্য মুনি
(ঘ) বাল্মীকি মুনি

উত্তরঃ- দুর্বাসা মুনি।

৬. শকুন্তলার অভিশাপ লাঘব করার জন্য ঋষি দুর্বাসাকে অনুরোধ করেন—
(ক) কণ্ব মুনি
(খ) সখী প্রিয়ংবদা
(গ) সখী অনসূয়া
(ঘ) শকুন্তলা নিজে

উত্তরঃ- সখী প্রিয়ংবদা।

৭. কী করলে শকুন্তলার শাপের প্রভাব দূর হবে?
(ক) কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে
(খ) ঋষির সেবাযত্ন করলে
(গ) যজ্ঞ করলে
(ঘ) কোনো ব্রতপালন করলে

উত্তরঃ- কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে।

৮. মহর্ষি কণ্ব গিয়েছিলেন –
(ক) মৃগয়ায়
(খ) ভ্রমণে
(গ) তীর্থে
(ঘ) বিশ্বামিত্র মুনির আশ্রমে

উত্তরঃ- তীর্থে ।

৯. শকুন্তলা স্নানের পরে অঞ্জলি দেওয়ার সময়ে আংটি হারিয়ে ফেলেন –
(ক) গঙ্গায়
(খ) শচীতীর্থে
(গ) কাশীর ঘাটে
(ঘ) নিমাই তীর্থে

উত্তরঃ- শচীতীর্থে।

১০. শকুন্তলার আংটি পেয়েছিল –
(ক) ধীবর
(খ) কৃষক
(গ) দ্বাররক্ষী
(ঘ) অশ্বপালক

উত্তরঃ- ধীবর।

১১. নগর রক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন –
(ক) সেনাপতি
(খ) কোতোয়াল
(গ) রাজার শ্যালক
(ঘ) রাজার ভগ্নীপতি

উত্তরঃ- রাজার শ্যালক।

১২. জেলেটি থাকত –
(ক) শক্রাবতারে
(খ) ব্রহ্মাবতারে
(গ) বিষ্ণু অবতারে
(ঘ) দশাবতারে

উত্তরঃ- শক্রাবতারে।

১৩. দ্বিতীয় রক্ষী জেলেকে সম্বোধন করেছিল –
(ক) গুরুঠাকুর বলে
(খ) বাটপাড় বলে
(গ) চোর বলে
(ঘ) ভদ্রে বলে

উত্তরঃ- বাটপাড় বলে।

১৪. রাজার শ্যালক ধীবরকে বলেছিলেন –
(ক) বুদ্ধিহীন
(খ) বাচাল
(গ) গোসাপ-খাওয়া জেলে
(ঘ) চালাক

উত্তরঃ- গোসাপ-খাওয়া জেলে।

১৫. ধীবর আংটি পেয়েছিল –
(ক) রুই মাছের পেটে
(খ) ইলিশ মাছের পেটে
(গ) বোয়াল মাছের পেটে
(ঘ) মাছ ধরার জালে

উত্তরঃ- রুই মাছের পেটে।

১৬. “এই জেলে ___ বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে এল” ।
(ক) শ্বশুর
(খ) মামা
(গ) যমের
(ঘ) নিজের

উত্তরঃ- যমের।

১৭. রাজা ছিলেন –
(ক) গম্ভীর প্রকৃতির
(খ) উচ্ছল প্রকৃতির
(গ) উগ্র প্রকৃতির
(ঘ) নম্র প্রকৃতির

উত্তরঃ- গম্ভীর প্রকৃতির।

১৮. “ধীবর বৃত্তান্ত” নাট্যাংশটি নেওয়া হয়েছে মহাকবি কালিদাসের –
(ক) মেঘদূত-এর অনুবাদ থেকে
(খ) কুমারসম্ভব-এর অনুবাদ থেকে
(গ) অভিজ্ঞান শকুন্তলম-এর অনুবাদ থেকে
(ঘ) বিক্রমোর্বশী-র অনুবাদ থেকে

উত্তরঃ- অভিজ্ঞান শকুন্তলম-এর অনুবাদ থেকে।

১৯. শকুন্তলাকে দুর্বাসা অভিশাপ দেন। কারণ –(ক) তিনি পতির চিন্তায় মগ্ন ছিলেন(খ) শকুন্তলা অন্যমনস্ক থাকায় দুর্বাসার আগমনের বিষয়টি বুঝতে পারেননি(গ) দুর্বাসা ছিলেন অত্যন্ত রাগী স্বভাবের(ঘ) শকুন্তলা ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে উপেক্ষা করেন

উত্তরঃ- শকুন্তলা অন্যমনস্ক থাকায় দুর্বাসার আগমনের বিষয়টি বুঝতে পারেননি।

২০. “মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুশি হবেন” । – কারণ –

(ক) তাঁর মহামূল্য আংটিটির খোঁজ মিলেছে

(খ) তাঁর স্ত্রী-র সন্ধান পাওয়া গিয়েছে

(গ) দেশে আইন-শৃঙ্খলার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে

(ঘ) আংটিটি দেখে তাঁর পূর্বস্মৃতি মনে পড়ে যাবে

উত্তরঃ- তাঁর মহামূল্য আংটিটির খোঁজ মিলেছে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর

১. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি কার লেখা?

উত্তরঃ- ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি প্রখ্যাত সংস্কৃত কবি কালিদাসের রচনা। রচনাটির মূল ভাষা সংস্কৃত। এটি বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

২. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটির তরজমা কে করেছেন?

উত্তরঃ- সুবিখ্যাত সংস্কৃত কবি কালিদাসের সংস্কৃত ভাষায় রচিত ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ দৃশ্যকাব্য বা নাটক থেকে গৃহীত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি বাংলা ভাষায় তরজমা করেছেন সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী।

৩. শকুন্তলা কে?

উত্তরঃ- শকুন্তলা ঋষি বিশ্বামিত্র ও অপ্সরা মেনকার কন্যা। কিন্তু তিনি মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে প্রতিপালিতা হন।

৪. মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে দুষ্মন্ত কী করেছিলেন?

উত্তরঃ- মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাকে রেখে রাজধানীতে ফিরে গিয়েছিলেন।

৫. ঋষি দুর্বাসা কেন অপমানিত বোধ করেছিলেন?

উত্তরঃ- স্বামীর চিন্তায় অন্যমনস্ক শকুন্তলা দুর্বাসাকে লক্ষ করেননি বলে ঋষি দুর্বাসা অপমানিত বোধ করেছিলেন।

৬. ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলাকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ- শকুন্তলা রাজা দুষ্মন্তের চিন্তায় অন্যমনস্ক থাকায় অসন্তুষ্ট দুর্বাসা তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।

৭. শেষপর্যন্ত ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলার শাপমুক্তির কী পথনির্দেশ করেন?

উত্তরঃ- শকুন্তলার সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলার শাপমুক্তির উপায় হিসেবে বলেন যে, প্রিয়জন শকুন্তলাকে ভুলে গেলেও কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখালে এই অভিশাপ দূর হবে।

৮. সখীরা কোন জিনিসকে ভবিষ্যতের স্মৃতিচিহ্ন ভেবেছিলেন?

উত্তরঃ- দুষ্মন্ত রাজধানীর উদ্দেশ্যে বিদায় নেওয়ার সময়ে শকুন্তলাকে যে আংটি দিয়েছিলেন তাকেই সখীরা ভবিষ্যতের স্মৃতিচিহ্ন ভেবেছিলেন।

৯. রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারেননি কেন?

উত্তরঃ- পতিগৃহে যাত্রাপথে শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময় রাজা দুষ্মন্তের স্মারক-নিদর্শন আংটিটি শকুন্তলার হাত থেকে জলে পড়ে যায়। নিদর্শন হিসেবে আংটিটি না দেখাতে পারার কারণে দুষ্মন্ত তাকে চিনতে পারেননি।

১০. রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের কাজ কী ছিল?

উত্তরঃ- রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের কাজ ছিল নগর রক্ষা করা।

১১. নাট্যদৃশ্যে হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা পুরুষটির আসল পরিচয় কী?

উত্তরঃ- ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যদৃশ্যে হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা পুরুষটি নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও রক্ষীদ্বয়ের হাতে ধৃত এক ধীবর বা জেলে।

১২. দুই নগররক্ষী ধৃত ধীবরকে প্রথমেই কোন প্রশ্ন করেছিল?

উত্তরঃ- নগররক্ষীরা ধৃত ধীবরকে ‘চোর’ সম্বোধন করে প্রশ্ন করেছিল, মণিখচিত রাজার নাম খোদাই করা রাজার সেই আংটি সে কোথায় পেল।

১৩. ‘পুরুষ’ চরিত্রটি কীভাবে সংসার চালানোর কথা বলছে?

উত্তরঃ- ‘পুরুষ’ অর্থাৎ জেলে চরিত্রটি জাল, বড়শি ইত্যাদি সহযোগে মাছ ধরে সংসার চালানোর কথা বলেছে।

১৪. ধীবরের মুখে তার আংটি চুরি অস্বীকৃত হলে প্রথম রক্ষী তাকে কী বলে ব্যঙ্গ করে?

উত্তরঃ- ধীবর চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে প্রথম রক্ষী তাকে ব্যঙ্গ করে বলে, রাজা ধীবরকে সন্ত্রায়ণ ভেবে আংটিটি স্বেচ্ছায় দান করেছে।

১৫. আত্মপরিচয় দিতে ধীবর কী কী বলেছিল?

উত্তরঃ- ধীবর নিজের পরিচয় দিতে রক্ষীদের বলে সে একজন জেলে, তার বাসস্থান শত্রুাবতারে।

১৬. দ্বিতীয় রক্ষীর নাম কী?

উত্তরঃ- রাজা দুষ্মন্তের কর্মচারী, নগররক্ষার কাজে নিযুক্ত রাজশ্যালকের সঙ্গী দ্বিতীয় রক্ষীর নাম জানুক।

১৭. ধীবর আংটিটি কীভাবে পেয়েছিল?

উত্তরঃ- ধীবর একটা রুইমাছ টুকরো করে কাটতে গিয়ে মাছের পেটের মধ্যে মণিমুক্তায় ঝলমলে আংটিটা দেখতে পেয়েছিল।

১৮. “এ অবশ্যই গোসাপ-খাওয়া জেলে হবে” । – কে কেন একথা বলেছেন?

উত্তরঃ- ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল বলে রাজার শ্যালক মন্তব্যটি করেছিলেন।  

১৯. ধীবরকে দেয় রাজার অর্থদান দেখে জানুক কী মন্তব্য করেছিল?

উত্তরঃ- রাজশ্যালককে ‘হুজুর’ সম্বোধন করে জানুক বলেছিল, রাজার পারিতোষিকের পরিমাণ থেকে বোঝা যায় আংটিটি তাঁর কাছে কত প্রিয় বস্তু ছিল।

২০. রাজসাক্ষাতে গিয়ে আংটি সম্বন্ধে রাজার কোন্ মনোভাব রাজশ্যালকের চোখে পড়ে?

উত্তরঃ- রাজসাক্ষাতে গিয়ে রাজশ্যালক বোঝেন, মণিখচিত মূল্যবান আংটিটি ফিরে পাওয়ার থেকেও রাজার কাছে তার গুরুত্ব এজন্য বেশি যে, সেটি রাজাকে কোনো প্রিয়মুখ স্মরণে এনে দিয়েছিল।

২১. রাজার হাতে তাঁর আংটি ফিরিয়ে দেওয়াকে সূচক কেমন কাজ বলে বর্ণনা করেছে?

উত্তরঃ- রাজশ্যালকের দ্বারা রাজাকে আংটি ফিরিয়ে দেওয়ার কাজকে রক্ষী সূচক মহারাজের সেবা বলে বর্ণনা করেছে।

২২. ধীবর তার পারিতোষিকের অর্ধেক অর্থ রক্ষীদ্বয়কে কীজন্য দিয়েছিল?

উত্তরঃ- ধীবর তার পারিতোষিকের অর্ধেক রক্ষীদ্বয়কে ফুলের দাম হিসেবে দিয়েছিল।

২৩. পাঠ্যাংশের শেষে রাজশ্যালক ধীবরকে কী বলে স্বীকার করেছিলেন?

উত্তরঃ- পাঠ্যাংশের শেষে রাজশ্যালক ধীবরকে তার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু বলে স্বীকার করেছিলেন।

রচনাধর্মী প্রশ্ন-উত্তর

১. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ অবলম্বনে রাজশ্যালক চরিত্রটি আলোচনা করো।

উত্তরঃ- কালিদাসের লেখা ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজশ্যালক একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। রাজা দুষ্মন্তের রাজধানী সুরক্ষার কাজে নিযুক্ত ছিলেন রাজার শ্যালক। আলোচ্য নাট্যাংশে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। নাট্যাংশের পরিচয় শুরুতে দেখা যায়, দুই রক্ষীর সহায়তায় রাজদ্রব্য চুরির অপরাধে রাজশ্যালক ধীবরকে বন্দি করে এনেছে। তবে নগররক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজশ্যালককে তুলনায় কিছুটা দায়িত্ববোধসম্পন্নও মনে হয়েছে। চোর অভিযোগে ধৃত ধীবরকে আত্মপক্ষ সমর্থনে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছিল দেখে রাজশ্যালক বলেন— “একে পূর্বাপর সব বলতে দাও। মধ্যে বাধা দিয়ো না।” বিচক্ষণ নগররক্ষক ধীবরের কথার সত্যতা যাচাই করতে আংটি নিয়ে রাজার কাছে গিয়েছিলেন। রাজশ্যালক রাজাদেশ পালন করার জন্য ধীবরকে মুক্তি দিতে বলেছেন। শুধু তাই নয়, ধীবরের পাওয়া আংটিটি যে রাজাকে প্রিয়জনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, তা বুঝতে পেরে তিনি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখিয়েছেন। প্রথমে সুনজরে না দেখলেও ধীবরের সততা, মার্জিত আচরণ তাকে প্রভাবিত করেছিল। বাকি রক্ষীদের মতো রাজার আদেশের পূর্বে শাস্তি নিয়ে অলীক কল্পনা করেননি। তিনি ধীবরকে তাঁর ‘একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু’ বলেও গ্রহণ করেছেন। রাজশ্যালক চরিত্রটি পূর্ণতা পায় নাট্যাংশের শেষ পর্বে।

২. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে সংলাপ রচনায় নাট্যকারের দক্ষতার পরিচয় দাও।

উত্তরঃ- সংলাপ নাটকের সার্থকতার অন্যতম প্রধান উপকরণ। ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে এই সংলাপ রচনায় নাট্যকারের দক্ষতা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। চরিত্র অনুযায়ী সংলাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে কালিদাস দক্ষতা দেখিয়েছেন। রাজশ্যালক এবং রক্ষীদের সংলাপ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। ধীবর চুরি করেনি জানানোয় প্রথম রক্ষী বলেছেন, “তবে কি তোকে সদব্রাহ্মণ বিবেচনা করে রাজা এটা দান করেছেন?” ধীবরকে উদ্দেশ্য করে ‘বাটপাড়’, ‘গাঁটকাটা’ – এইসব সম্বোধন করেছেন তাঁরা। রাজশ্যালকের কথায় এই ব্যঙ্গবিদ্রূপ থাকলেও তাঁর সংলাপের মধ্যে কিছুটা ভাবগাম্ভীর্যও রয়েছে। নগররক্ষক হিসেবে নিজের কর্তৃত্বের পাশাপাশি কিছুটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও রয়েছে তাঁর কথাবার্তায়। অন্যদিকে ধীবরের সংলাপে রয়েছে আত্মরক্ষার চেষ্টা। যথোচিত বিনয় বজায় রেখেও সে নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। একমাত্র তার সংলাপই নিজস্ব ব্যাখ্যার প্রয়োজনে দীর্ঘ হয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি সংলাপই ছোটো। নাতিদীর্ঘ এই সংলাপের প্রয়োগ কাহিনির গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। সংলাপের মধ্যে শ্লেষের ব্যবহার তীব্র হয়েছে মাঝে মধ্যেই। “এ অবশ্যই গোসাপ-খাওয়া জেলে হবে” কিংবা “চল রে গাঁটকাটা” – এই জাতীয় সংলাপ তীব্রভাবেই ব্যঙ্গের প্রকাশ ঘটিয়েছে। তাই বলা যায়, চরিত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমেও ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে সার্থক প্রয়োগ দেখা যায়।

৩. “আপনারা শান্ত হন। আমি এরকম কাজ (অর্থাৎ চুরি) করিনি।”— কার উক্তি? বক্তা কোন্ কাজ করেনি? উক্তিটির মধ্যে দিয়ে বক্তা কী বোঝাতে চেয়েছে?

উত্তরঃ- কবি কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম্’ নাটকের অনূদিত নাট্যাংশ ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা রাজানামাঙ্কিত মূল্যবান আংটির চুরির অভিযোগে ধৃত ধীবর।

বক্তা সাধারণ পেশাজীবী। ধীবরটি নানা উপায়ে মাছ ধরে কোনোমতে সংসার চালায়। রাজার নামাঙ্কিত, মণিরত্নময়, বহুমূল্য আংটিটি চুরি করার কাজ সে করেনি।

নগররক্ষার কাজে নিযুক্ত রাজশ্যালক এবং দুই রক্ষী জানুক ও সূচক একটি বহুমূল্য আংটি চুরির অপরাধে ধীবরকে আটক করেন। তার অবস্থা ‘দিন আনি দিন খাই’। মৎস্যশিকারের অতিসাধারণ উপকরণ জাল, বড়শি ইত্যাদি দিয়ে সে মাছ ধরে সংসার চালায়। ধীবরটি রাজার নামাঙ্কিত রত্নময়, বহুমূল্য আংটিটি পেয়েছিল মাছের পেট থেকে। সে তা চুরি করেনি। দুই রক্ষী তাকে ‘ওরে ব্যাটা চোর’ সম্বোধন করে বলে— “বল্— মণিখচিত, রাজার নাম খোদাই করা এই (রাজার) আংটি তুই কোথায় পেলি?” জিজ্ঞাসাবাদে যে চুরির অপরাধের ভয়ানক শাস্তির ইঙ্গিত ছিল তা ধীবর বুঝেছিল। তাই এই উক্তির মাধ্যমে ধীবর ভয়ভীতি অস্বীকার করে সত্যপ্রকাশের প্রাথমিক চেষ্টা করেছিল।

৪. “তা প্রভু যা আদেশ করেন।” – উদ্ধৃতাংশের বক্তা কে? ‘প্রভু’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটিতে বক্তার কোন্ মনোভাব ধরা পড়েছে?

উত্তরঃ- মহাকবি কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ নাটকের অনূদিত নাট্যাংশ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশের বক্তা প্রথম রক্ষী সূচক।

উদ্ধৃতাংশে ‘প্রভু’ বলতে নগররক্ষার কাজে নিযুক্ত রাজপ্রতিনিধি রাজশ্যালককে বোঝানো হয়েছে।

ধীবরের মুখে আংটি পাওয়ার বিবরণ শুনে তার সত্যতা জানতে রাজার কাছে গিয়েছিলেন রাজশ্যালক। আংটি বিষয়ে ধীবরের বলা ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে রাজা আদেশ করেন ধীবরকে মুক্তি দিতে। এই রাজাদেশ রক্ষীদের জানালে সূচক প্রদত্ত উক্তিটি করেছিল।

রক্ষীরা আংটি চুরির অপরাধে ধীবরকে ধরে নিয়ে আসে এবং রাজার আদেশে তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য মহা উৎসাহে অপেক্ষা করতে থাকে। রাজশ্যালক রাজার কাছে গিয়েছিলেন আংটি পাওয়ার ঘটনা সবিশেষ জানাতে। তাই রক্ষীরা অপেক্ষা করছিল ধীবরকে শকুনি দিয়ে খাওয়ানো হবে না কি কুকুর দিয়ে খাওয়ানো হবে, সেই নির্দেশ পাওয়ার জন্য। কিন্তু রক্ষীদের অপেক্ষা শেষপর্যন্ত সফল হয়নি। কারণ, রাজার কাছ থেকে ঘুরে এসে রাজশ্যালক জানান যে আংটি পাওয়ার বিষয়ে ধীবর যা যা বলেছে তা সবই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফলে রাজা ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মহারাজ খুশি হয়ে আংটির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ তাকে দিয়েছেন বলেও শ্যালক জানান। প্রভুর আদেশ অমান্য করার ক্ষমতা নেই তাদের তাই আলোচ্য উক্তিটি থেকে বক্তার প্রভুর প্রতি আনুগত্য ধরা পড়ে, রাজতন্ত্রের শাসন-পরিকাঠামোয় যা স্বাভাবিক। তাই হতাশ স্বরে অসন্তোষজনক এই উক্তি করেছিল।

৫. “যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সেই বৃত্তি নিন্দনীয় (ঘৃণ্য) হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।” – কে কোন প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করেছেন? এখানে বক্তার চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ- কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ নাটকের অনূদিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নামক নাট্যাংশে বন্দি ধীবর রাজার শ্যালক এবং রক্ষীদের জানিয়েছিল যে সে জাল, বড়শি ইত্যাদির সাহায্যে মাছ ধরে সংসার চালায়। তখন রাজার শ্যালক তার জীবিকা খুবই পবিত্র বলে ব্যঙ্গ করেন। এই বিদ্রুপের পরিপ্রেক্ষিতেই ধীবর চরিত্রটি রাজার শ্যালককে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।

        ধীবর তাই এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রখর আত্মসম্মানবোধেরই পরিচয় দিয়েছে। সে রাজশ্যালককে তার পেশা নিয়ে কোনোরকম নিন্দাসূচক কথা না বলতে অনুরোধ করে। বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের উদাহরণ দিয়ে সে বলে যে এই ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়াপরায়ণ হলেও যজ্ঞের পশুবধের সময় নির্দয় হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোনো পেশাই সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার হতে পারে না। এভাবেই সে নিজের পেশাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

৬. “কি যা-তা অনুগ্রহ! এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হলো।” –বক্তা কে? প্রসঙ্গ নির্দেশ করো। উপমাটির স্বরূপ উদ্ঘাটন করো।

উত্তরঃ- মহাকবি কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্’ নাটকের সংক্ষিপ্ত ও অনূদিত নাট্যাংশ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন নগররক্ষায় নিযুক্ত প্রথম রক্ষী সূচক।

মাছের পেট থেকে রাজার নামাঙ্কিত, রত্নখচিত, বহুমূল্য একটি আংটি পেয়ে সাধারণ ধীবর বিক্রির চেষ্টা করছিল। কিন্তু সেই সময় নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও দুই রক্ষী তাকে ধরে এবং বন্দি করে নিয়ে আসে রাজধানীতে। রাজশ্যালক ধীবরের আংটিপ্রাপ্তির ঘটনা রাজাকে জানালে, প্রমাণ হয় আংটি পাওয়ার ব্যাপারে ধীবর যা বলেছে, তা সত্য। রাজা ধীবরকে মুক্তির নির্দেশ দেন এবং তার সততার জন্য আংটির সমমূল্যের অর্থ প্রদান করেন। ধীবর রাজার এই দানকে, তাঁর অনুগ্রহ বলে স্বীকার করলে, ঈষান্বিত সূচক উপরোক্ত মন্তব্য করেছিল।

সূচকের ধারণা ছিল, রাজদ্রব্য চুরির অপরাধে ধীবর মিথ্যে বলেছে এবং সে অপরাধী। তাই রাজার হুকুমনামায় ধীবর সম্পর্কে কঠোর শাস্তির নির্দেশ থাকবে। কিন্তু রাজশ্যালক জানায় যে রাজার আদেশানুযায়ী ধীবর সমমূল্যের অর্থ লাভ করে মুক্তি পেয়েছে। ধীবরের মুক্তির এবং পুরস্কৃত হওয়ার কথা সূচক মেনে নিতে পারেনি। উপমার স্বরুপ তাই ধীবরের কথার সূত্রে সে তার মনের ভিতরে থাকা ঈর্ষা উক্ত উক্তিতে প্রকাশ করেছে। রাজতন্ত্রের নির্মম শাস্তি প্রথার একটি ছিল শূলে চড়ানো। ধীবরের শাস্তি নিয়ে সূচক এমনই কিছু ভেবেছিল। কিন্তু শুধু মুক্তিই নয় ধীবর পুরস্কার লাভ করলে ‘হাতির পিঠে চড়ানো’ হল বলে সূচক বিদ্রূপ করে। তার কাছে ধীবরের পাওয়া এই সম্মান ও মর্যাদা অকারণ। বক্তা আলোচ্য উপমায় ক্ষোভের প্রকাশ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top