দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ১ - ইতিহাসের ধারনা

দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ১ – ইতিহাসের ধারনা

সঠিক উত্তর টি নির্বাচন করো

১.  ভারতের নিম্নবর্গের ইতিহাস প্রথম রচনা করেছেন- আর সি মজুমদার / ডাক্তার রনজিত গুহ / রোমিলা থাপার / ইরফান হাবিব

উত্তর: ডাক্তার রনজিত গুহ ।

২.  পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা প্রাচীন খেলা মানাকালা এর উদ্ভব হয় কোথায় ? ইউরোপ / আফ্রিকা / এশিয়া /আমেরিকা

উত্তর: আফ্রিকা ।

৩.  খেলাধুলার ইতিহাস চর্চা করেছেন- ডাক্তার রনজিত গুহ / হেনরি বর / বোরিয়া মজুমদার / অনিল শীল

উত্তর: বোরিয়া মজুমদার ।

৪.  আধুনিক যুগে খাদ্যাভাসে ঘটেছে – বিশ্বায়ন / অবনমন / আঞ্চলিকতা / উষ্ণায়ন

উত্তর: বিশ্বায়ন ।

৫.  খাদ্যাভাস অনুযায়ী বিশ্বের মানুষকে ভাগ করা হয় – দুই ভাগে / তিন ভাগে / এক ভাগে / চার ভাগে

উত্তর: তিন ভাগে ।

৬.  কোন দেশে প্রথম নাট্যচর্চার উদ্ভব ঘটেছিল ? আফ্রিকা / গ্রীস / ভারত / ইউরোপ

উত্তর: গ্রীস ।

 ৭. বিশ্বে প্রথম চলচ্চিত্রের উদ্ভব ঘটে কবে ? 1890 / 1895 / 1893 / 1896

উত্তর: 1895 ।

 ৮. ভারতীয় পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারে গবেষণা করেছেন- কর্নেল ডাল্টন / অনিল শীল / রবিনসন / নন্দলাল বসু

উত্তর: কর্নেল ডাল্টন ।

৯.  বিশ্বের রেল ব্যবস্থা একসময় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল – ভারত / চীন / জাপান /আমেরিকা

উত্তর: ভারত ।

 ১০. ভারতে চিত্রশিল্পের শুরু হয়েছিল কত সাল থেকে ? 1875 / 1850 / 1866 / 1854

উত্তর: 1850 ।

১১.  ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি কত সালে গঠিত হয় ? 1793 / 1765 /1767 /1789

উত্তর: 1793 ।

১২.  ভারতবর্ষে কত খ্রিস্টাব্দে পরিবেশের ইতিহাস চর্চা শুরু হয় ? 1987 / 1954 /1960 / 1944

উত্তর: 1960 ।

১৩. এ হিস্ট্রি অফ হিন্দু কেমিস্ট্রি বইটি কার লেখা ? আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় / জগদীশচন্দ্র বসু / / /মহেন্দ্রলাল সরকার

উত্তর: আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ।

১৪.  ” স্ত্রী শিক্ষা না হলে আমাদের পশুজন্ম ঘুচবে না ” এ কথা বলেছেন – স্বামী বিবেকানন্দ/ রামমোহন রায় / বিদ্যাসাগর / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ ।

১৫.  সতীদাহ বিরোধী বিল পাস হয় কত খ্রিস্টাব্দে ? 1856/1829/1824/1876

উত্তর: 1829 ।

১৬.  জীবনস্মৃতি কার লেখা ? জ্যোতি বসু / বিপিনচন্দ্র পাল / আশাপূর্ণা দেবী / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

 ১৭. দ্য স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ কার লেখা ? মহাত্মা গান্ধী / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর /জ্যোতি বসু / বিপিনচন্দ্র পাল

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী ।

১৮.  ছেড়ে আসা গ্রাম রচনা করেন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / মহাত্মা গান্ধী / বিপিনচন্দ্র পাল / দক্ষিণারঞ্জন বসু

উত্তর: দক্ষিণারঞ্জন বসু ।

১৯.  জহরলাল নেহেরু তার কন্যা ইন্দিরাকে কটি চিঠি লিখেছিলেন ? তিরিশটি / চল্লিশটি / পঞ্চাশটি

উত্তর: তিরিশটি ।

২০.  সোমপ্রকাশ পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে ? 1876/1858/1834/1822

উত্তর: 1858 ।

২১.  বেঙ্গল গেজেট সংবাদপত্র প্রকাশিত হয- 1781 /1780/1745/1734

উত্তর: 1780 ।

২২. বঙ্গদর্শন পত্রিকাটি কবে প্রকাশিত হয় ? 1872 /1850/1857/1859

উত্তর: 1872 ।

 ২৩. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা কাল্টিভেশন অফ সাইন্স  প্রতিষ্ঠিত হয় ? 1876/1873/1879/1865

উত্তর: 1876 ।

 

একটি কথায় উত্তর দাও

১. সামাজিক বিজ্ঞান এসোসিয়েশন কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: 1976 খ্রিস্টাব্দে ।

২. প্রথম অলিম্পিক প্রতিযোগিতা সূচনা হয় কোন দেশে ?

উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ তে গ্রীসে ।

৩. কোন ক্লাব 1911 সালে শিল্ড জয় করে ?

উত্তর: মোহনবাগান ।

৪. বাংলার প্রথম খাদ্য প্রণালী সম্পর্কিত বই কোনটি ?

উত্তর: প্রাক রাজেশ্বর ।

৫. খাদ্যাভাসের ইতিহাসের সাথে জড়িত দুজন ঐতিহাসিকের নাম লেখ ?

উত্তর: হেনরি বর এবং ক্রিটান জে গ্রমিলিয়ন ।

৬. কোন দেশে প্রথম নাট্যচর্চার উদ্ভব ঘটেছিল ?

উত্তর: গ্রীস ।

৭. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা পুরনো চামড়ার সুতো কোথায় আবিষ্কৃত হয়েছে ?

উত্তর: আর্মেনিয়ার গুহাতে ।

৮. ভারতবর্ষে কে খাদির পোশাক ব্যবহারের কথা বলেছিলেন ?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী ।

৯. কার আমলে ভারতে প্রথম রেলপথ সম্প্রসারিত হয় ?

উত্তর: লর্ড ডালহৌসি ।

১০. যানবাহন ব্যবস্থার ইতিহাস এর সাথে জড়িত প্রবন্ধের নাম লেখ ?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ” আশ্রমের রূপ ও বিকাশ” প্রবন্ধ ।

১১. দুজন ভারতীয় চিত্রশিল্পীর নাম লেখ ?

উত্তর: নন্দলাল বসু , রামকিঙ্কর বেইজ ।

১২. দুজন বিদেশি চিত্রশিল্পীর নাম লেখ ?

উত্তর: লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এবং মাইকেল এঞ্জেলো ।

১৩. ভারতে লিখিত প্রথম স্থানীয় ইতিহাসের গ্রন্থের নাম কি ?

উত্তর: কলহনের লেখা রাজতরঙ্গিনী।

১৪. ভারতে প্রথম সামরিক বাহিনী গঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে ?

উত্তর: 1829 ।

১৫. সামরিক ইতিহাস চর্চার সাথে জড়িত দুজন ঐতিহাসিকের নাম লেখ ?

উত্তর: মার্ক ফেরো এবং কিট উইন্ড স্কার্তল ।

১৬. ভারতের সংগঠিত দুটি পরিবেশ আন্দোলনের নাম লেখ ?

উত্তর: চিপকো আন্দোলন এবং নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ।

১৭. আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হসপিটাল এর পূর্ব নাম কি ছিল ?

উত্তর: বেলগাছিয়া মেডিকেল কলেজ ।

১৮. প্রথম ভারতীয় ফটোগ্রাফার কে ছিলেন ?

উত্তর: হায়দ্রাবাদের লিলা দীন দয়াল ।

১৯. সত্তর বৎসর কার লেখা ?

উত্তর: বিপিনচন্দ্র পাল ।

২০. জীবনের ঝরাপাতা কার লেখা ?

উত্তর: সরলা দেবী চৌধুরানী।

২১. এন অটোবায়োগ্রাফি কার লেখা ?

উত্তর: জহরলাল নেহেরু ।

২২. দিকদর্শন মাসিক পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয় ?

উত্তর: 1818 ।

২৩. বন্দেমাতরম সংগীত প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ?

উত্তর: বঙ্গদর্শন ।

২৪. ভারতের দুটি সরকারি নথির নাম লেখ ?

উত্তর: পুলিশ এবং গোয়েন্দা ।

২৫. মেয়েকে লেখা পিতার পত্র এখানে পিতা এবং মেয়ে কে ?

উত্তর: পিতা জহরলাল নেহেরু এবং মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ।

২৬. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: ডক্টর মহেন্দ্রলাল সরকার ।

২৭. সতীদাহ বিরোধী আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন ?

উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন

১. চলচ্চিত্রের ইতিহাস বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: আধুনিক ইতিহাস চর্চায় চলচ্চিত্রের ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর প্যারিসের হোটেল দি ক্যাফে তে অগাস্ট লুমিয়ের এবং লুই লুমিয়ের হাত ধরে সিনেমা বা চলচ্চিত্রের পথ চলা শুরু । কিন্তু বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন চলচ্চিত্রের পরিকল্পনাকে প্রথম বাস্তবায়িত করেন । সাদাকালো থেকে বিচিত্র রঙের সমাবেশে রঙিন চিত্র যুগ শুরু করেছে । পরবর্তীকালে উন্নত মানের ক্যামেরার ব্যবহার চলচ্চিত্র কে সমৃদ্ধ করেছে । বর্তমানকালের থ্রিডি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে । ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্প । চলচ্চিত্রের ইতিহাস থেকে আমরা বিভিন্ন জিনিস জানতে পারি যেমন আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র , উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে নানা কথা , দেশভাগের যন্ত্রণার কথা ইত্যাদি ।

২. ” ফটোগ্রাফি ” এর ইতিহাস বলতে কি বোঝ ?

উত্তর: আধুনিক ইতিহাস চর্চায় ফটোগ্রাফের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । বিংশ শতকের বিশ্বে বহু রাজনৈতিক ঘটনার উত্থান-পতন, অনেক দেশে সংঘটিত বিপ্লব,  প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ঙ্কর হত্যার ঘটনা , দেশে দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ছবি , ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন প্রভৃতি ঘটনার অনেক তথ্য পাওয়া যায় ফটোগ্রাফ থেকে ।  বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ ঘটনার ছবি আমাদের ইতিহাস চর্চায় সাহায্য করে ।

৩. শহরের ইতিহাস বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে প্রাচীন সভ্যতা হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো তে আমরা প্রথম শহরের সন্ধান পাই । সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মানুষ খাদ্য জীবিকা যোগাযোগের জন্য আরো নতুন নতুন নিজেদের প্রয়োজনে শহর গড়ে তুলতে থাকে । গ্রিসে প্রথম পোলিশ বা নগর রাষ্ট্র গড়ে ওঠে । এখনকার দিনে আধুনিক সভ্যতায় শহরগুলিকে বলা হয় মেট্রোপলিস । শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য শহর হল সব থেকে ভালো জায়গা ।  শহরের মানুষেরা আয়ের অনেক। এছাড়া শহরে শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত। আধুনিক ইতিহাস চর্চায় শহরের ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

৪. আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সরকারি নথিপত্র হিসাবে গোয়েন্দার সম্পর্কে লেখ ?

উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিসের সময় থেকেই বিভিন্ন বিদ্রোহ দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিয়ন্ত্রণ, ব্রিটিশ সরকার সম্পর্কে মানুষের ক্ষোভ আছে কিনা তার জন্য গোয়েন্দা বাহিনী গঠন করা হয়েছিল । উনবিংশ শতকের ব্যাপক বিদ্রোহের সমস্ত রিপোর্ট সরকার গোয়েন্দাদের কাছে থেকে নিতো । লর্ড ডাফরিন এর সময় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী গঠন করা হয়েছিল । খুন-হত্যা , বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, ভারত সরকারের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল । এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করত ।

৫. আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা সম্পর্কে লেখ ?

উত্তর: ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আত্মজীবনী এবং স্মৃতিকথা । আত্মজীবনী এবং স্মৃতিকথা তে লেখক তার জীবনের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা লিখে রাখতেন । এই সমস্ত আত্মজীবনী এবং স্মৃতিকথা গুলি থেকে আমরা পুরনো দিনের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আত্মজীবনী এবং স্মৃতিকথা হলো বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর ,  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনস্মৃতি,  মহাত্মা গান্ধীর ‘স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ , সুভাষচন্দ্র বসুর  ‘অ্যান ইন্ডিয়ান পিলগ্রিম , দক্ষিণারঞ্জন বসুর ছেড়ে আসা গ্রাম ইত্যাদি ।

৬. ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেটের ব্যবহারের সুবিধা অসুবিধা লেখ

উত্তর:

সুবিধা :
১. ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ইতিহাসের তথ্য সার্চ করতে পারা যায় ।
২. ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন ইতিহাসের চর্চা বিনামূল্যে করা যেতে পারে ।
৩. বাড়িতে বসে অথবা যেকোন স্থানে ছাত্র শিক্ষক গবেষক ইতিহাস চর্চা করতে পারবেন।

অসুবিধা :
১. ইন্টারনেটে দেওয়া তথ্য অনেক সময় ভুল প্রমাণিত হয়।
২. তথ্য সংগ্রহের জন্য অনেক সময় দীর্ঘক্ষন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হতে পারে ।
৩. নেট থেকে পাওয়া তথ্য অনেক সময় বুঝতে অসুবিধা হতে পারে ।

৬. খেলার ইতিহাস, পরিবেশের ইতিহাস , বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার ইতিহাস , নারীর ইতিহাস এসবের সাথে জড়িত দুজন ব্যক্তির নাম লেখ ?

উত্তর:

খেলার ইতিহাস: সৌমেন মিত্র এবং বরিয়া মজুমদার।

পরিবেশের ইতিহাস: ইরফান হাবিব এবং রামচন্দ্র গুহ ।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি চিকিৎসা বিদ্যার ইতিহাস: আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এবং দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় ।

নারীর ইতিহাস: গেরাল্ডিন ফোর্বস এবং বি আর নন্দ ।

৭. নারীর ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করো ?

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন ‘স্ত্রী শিক্ষা’ না হলে আমাদের পশুজন্ম ঘুচবে না । ভারতের ব্রিটিশ শাসনকালে নারীদের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নানা রকম আন্দোলন শুরু হয় ।১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে সতীদাহ বিরোধী বিল পাস হয় । ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে মেয়েদের বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ হয় ।  উনিশ শতক থেকেই নারীরা বাড়ির বাইরে বিভিন্ন রকম কাজকর্মে যুক্ত হয় । কাদম্বিনী গাঙ্গুলী , প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার , বাসন্তী দেবী প্রমুখ নারীরা নানা ক্ষেত্রে তাদের কৃতিত্বের পরিচয় দেন । নারীদের এই কৃতিত্বের পরিচয় হলো নারীর ইতিহাস এর বিষয়বস্তু । বর্তমানে আধুনিক যুগে কলকাতা যাদবপুর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ওমেন স্টাডিস সম্পর্কে গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।

 

বিশ্লেষণমূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন

১. খেলার ইতিহাস চর্চার বর্ণনা দাও ?

উত্তর: প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন খেলার উদ্ভব হয় সভ্যতার আদিম যুগ থেকেই । পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন খেলা ‘মানাকালা‘ এর উদ্ভব হয় আফ্রিকাতে । খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ তে গ্রিসে প্রথম অলিম্পিক প্রতিযোগিতা সূচনা হয় । খ্রিস্টপূর্ব ৮০০তে চীনে প্রথম ঘুড়ি তৈরি হয় । সভ্যতার ক্রমাগত পরিবর্তনের সাথে সাথে খেলাধুলাতেও বিভিন্ন রকম পরিবর্তন এসেছে এবং তার বিকাশ ঘটেছে । যেমন ক্রিকেট , ফুটবল ,ব্যাডমিন্টন , টেনিস , টেবিল টেনিস , সাঁতার , দৌড় এ সমস্ত খেলা আজকালকার দিনে খুবই জনপ্রিয় ।

আনুমানিক ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ থেকে খেলাধুলার ইতিহাস চর্চা শুরু হয়েছে । খেলাধুলার ইতিহাস চর্চার সাথে জড়িত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হলেন সৌমেন মিত্র , বোরিয়া মজুমদার প্রমুখ।

ইতিহাসের ক্ষেত্রেও খেলার গুরুত্ব অপরিসীম । বিভিন্ন রকম খেলার মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গ জাতপাতের লড়াই জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবোধে পরিণত হয় । ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে মোহনবাগান শিল্ড জয় করে । এই জয় বাংলার মানুষের মধ্যে এক নতুন জাতীয়তাবাদের জোয়ার সৃষ্টি করে । কুচবিহারের মহারাজা কোচবিহার কাপ ফুটবলের সূচনা করেন শুধুমাত্র ব্রিটিশদের বর্ণ বৈষম্যের প্রতিবাদে । এইভাবে খেলাধুলার ইতিহাস মানুষকে জাতীয়তাবোধের ধারণাকে আরো স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করে ।

২. ছবি আঁকা কিভাবে দৃশ্য শিল্পের ইতিহাস কে প্রভাবিত করে ?

উত্তর: নবজাগরণের যুগে ইউরোপের বিভিন্ন শিল্পীরা বিষয়বস্তু হিসেবে প্রতিকৃতি অঙ্কন নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছেন । লিওনার্দো দা ভিঞ্চি , মাইকেল এঞ্জেলো প্রমুখ পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ছবি আঁকার মাধ্যমে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন । ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে বিভিন্ন রঙে প্রতিকৃতি আঁকা হতো । ভারতবর্ষের রঙ হিসেবে যে সমস্ত উপাদানগুলিকে ব্যবহার করা হতো তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হলুদ ,সাদা চক , ইন্ডিগো নীল ,  সিঁদুর , প্রদীপের শীষের কালী ইত্যাদি উপাদান । কলকাতা ঠাকুর পরিবারের হাত ধরেই ১৮৫০ থেকে ভারতে চিত্রশিল্পের শুরু হয়। অবনীন্দ্রনাথ , রবীন্দ্রনাথ , গগেন্দ্রনাথের চিত্রকলা উল্লেখযোগ্য ছিল । পরবর্তীকালে নন্দলাল বসু , যামিনী রায় , রামকিঙ্কর বেইজ প্রমুখ এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন ।

যারা ছবি আঁকেন বা চিত্র শিল্পের ইতিহাস রচনা করেন যারা তাদের বলা হয় শিল্প ঐতিহাসিক ।ঔপনিবেশিক আমলে নানা ধরনের ছবি মানুষের মনে জাতীয়তা বোধের উন্মেষ ঘটিয়েছিল ।

৩. সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ । ইতিহাস রচনায় এটি কিভাবে সাহায্য করে ?

উত্তর: গোষ্ঠী থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পর্যন্ত শাসকশ্রেণী তাদের ক্ষমতা কায়েম করে রাখার জন্য সামরিক বাহিনীর সৃষ্টি করেছে । সামরিক বাহিনীর সাহায্যে শাসকদলের বিরুদ্ধে অনেক সময় অধিকার করেছে আবার অনেক সময় পরাজিত হয়েছে । আলেকজান্ডার , সমুদ্রগুপ্ত , আকবর , নেপোলিয়ন প্রমূখ সম্রাট এবং তাদের অপরাজেয় সৈন্য বাহিনীর ইতিহাস আমরা জানি । পরবর্তীকালে হিটলার ও মুসোলিনির ত্রাস সৃষ্টিকারী সৈন্যবাহিনীর কথা আমরা ইতিহাস পড়ে জানতে পারি । বর্তমান যুগের আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র সমৃদ্ধ সেনাবাহিনী প্রতিমুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে । বর্তমানকালে সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয় বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের ব্যবহার করা হয় ।

ভারতের ইতিহাস চর্চায় সামরিক বাহিনীর ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি গঠিত হয় । ভারতে প্রথম সামরিক বাহিনী গঠিত হয় ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে । ব্রিটিশ সরকারের অগ্রগতির সাথে সাথে সামরিক বাহিনীর অগ্রগতি ও ঘটতে থাকে । মার্ক ফেরো , কিথ উইন্ড স্কার্টেল প্রমূখ ইতিহাসিক সামরিক ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ।

৪. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার ইতিহাস সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: উপনিবেশিক শাসনের সাথে ভারতে বিজ্ঞান , প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার চর্চাও ভালো ভাবে জড়িত । বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যা কে আধুনিক করার তাগিদে ভারতে নানা প্রতিষ্ঠান যেমন গ্রেট ট্রিগনমেট্রিকাল সার্ভে , ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ , ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ প্রভৃতি গড়ে ওঠে।

ভারতীয় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় , জগদীশচন্দ্র বসুর নাম খুবই উল্লেখযোগ্য । এক্ষেত্রে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় লিখিত ‘ A History of Hindu Chemistry ‘ বইটি খুবই উল্লেখযোগ্য । ভারতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে প্রাচ্য বিজ্ঞান চর্চার সাথে পাশ্চাত্য বিজ্ঞান চর্চার মিলন ঘটে এবং বিজ্ঞান চর্চার সর্বাধুনিক নতুন ধারার সৃষ্টি হয় ।

ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে চিকিৎসা বিদ্যায় অনেক অগ্রগতি হয় । ১৮৭৬ সালে ডক্টর মহেন্দ্রলাল সরকার ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি ক্যালকাটা মেডিকেল জার্নাল নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন । ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ডক্টর রাধাগোবিন্দ কর এর নেতৃত্বে প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় বেলগাছিয়া মেডিকেল কলেজের যা বর্তমানে আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামে পরিচিত ।

৫. ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা জওহরলাল নেহেরুর চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করো ।

উত্তর: ভারতবর্ষের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর লেখা ‘মেয়েকে লেখা পিতার পত্র’ এই গ্রন্থটিতে আমরা মোটামুটি ত্রিশটি সংকলিত চিঠির বর্ণনা পাই । ইন্দিরা গান্ধী সিমলায় থাকাকালীন তিনি পিতার কাছ থেকে এই চিঠি গুলি পান । তার বয়স যখন দশ বছর । এলাহাবাদ জেলে কারারুদ্ধ অবস্থায় জহরলাল নেহেরুর ইন্দিরা কে যে চিঠি গুলি লিখেছিলেন তার বিষয়বস্তুর অনেকটা অংশ জুড়েই ছিল মানব সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে লেখা । প্রাচীনকালে মানব সভ্যতার বিকাশ থেকে শ্রমবিভাজন এবং বাণিজ্য পর্ব এই সমস্ত বিষয়গুলি নেহেরু তার এই চিঠিতে ব্যাখ্যা করেছেন । সংকলিত চিঠি গুলির মধ্যে প্রথম চিঠিতে তিনি লিখেছেন কিভাবে মানুষ তার আশেপাশের পরিবেশে নিজেকে অভিযোজিত করেছে । এ প্রসঙ্গে তিনি লন্ডনের কেনসিংটন জাদুঘরের বর্ণনা দিয়েছেন । তিনি বলেছেন এই চিঠি গুলিতে যে ভীষণ শীতের দেশে পশুপাখিরা বরফের মত সাদা হয় । ক্রান্তীয় দেশগুলিতে সবুজ গাছপালা হয় । এই সমস্ত বিচিত্রতা গুলি আমাদের পৃথিবী কে আরো সুন্দর করে তুলেছে । এবং মানুষ সহ বিভিন্ন পশু পাখি এই পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে । কিন্তু এই বৈচিত্র গুলি আমরা লক্ষ্য করি না এবং এটি হলো সবথেকে খারাপ বিষয় । গ্রন্থটির ‘প্রাচীন মানব’ নামক চিঠিতে তিনি মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীদের তফাৎ করে দেখিয়েছেন । বুদ্ধি কিভাবে মানুষকে অন্যান্য প্রাণীদের থেকে ‘চতুর’ এবং ‘শক্তিমান’ করে তুলেছে তাও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন ।

৬. বঙ্গদর্শন এবং সোমপ্রকাশ পত্রিকা সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্র ও সাময়িক পত্রের আবির্ভাব এর ফলে বাংলার সাহিত্য সৃষ্টি তার প্রাণ সঞ্চার হয়েছিল । বঙ্গদর্শন ও সোমপ্রকাশ বাংলা সাময়িকপত্র সংবাদপত্র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিল ।

বঙ্গদর্শন : ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে বঙ্গদর্শন এর প্রথম প্রকাশ ঘটে । পাবলিক থিয়েটার , সিভিল মেরেজ বিল নিয়ে এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় লেখালেখি শুরু হয় । বঙ্কিমচন্দ্র , রামদাস সেন , গঙ্গাচরণ সরকার , অক্ষয়চন্দ্র সরকার প্রমুখ এই পত্রিকার লেখক গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন । বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লেখা ‘বিষবৃক্ষ’ , ‘ইন্দিরা’ উপন্যাস গুলি ধারাবাহিকভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে । বন্দেমাতরম সঙ্গীতটি প্রথম এই পত্রিকায় প্রকাশিত ।১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ এই পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায় ।

সোমপ্রকাশ : ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে সোমপ্রকাশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । বিদ্যাসাগরের সহায়তাপুষ্ট এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় । পত্রিকাটিতে ভারতের ব্রিটিশ শাসন ও বিচার পদ্ধতি সম্পর্কে কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয় । এই পত্রিকাটিতে জমিদারদের প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন কে নিয়েও সমালোচনা বের হতে থাকে।  এমনকি ১৮৭৮ এর সরকার প্রবর্তিত ‘সংবাদপত্র দমন আইন’ এর জোরালো বিরোধিতা এই পত্রিকায় করা হয়েছিল । সব মিলিয়ে ১৮৫৭ এর পর বাংলার মানুষের মনে জাতীয়তাবাদী ধারণা সৃষ্টির পিছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল এই পত্রিকা ।

 

ব্যাখ্যামূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন

১. আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্রের ভূমিকা আলোচনা করো ।

উত্তর: যেকোনো দেশের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম । ভারতবর্ষের ইতিহাস চর্চায় যে সমস্ত সরকারি নথিপত্রের আলোচনা করা যায় সেগুলি হল পুলিশ , গোয়েন্দা , সরকারি আধিকারিকদের প্রতিবেদন এবং চিঠিপত্র ( সরকারি চিঠিপত্র এবং ব্যক্তিগত চিঠি পত্র ) । এইসব নথিপত্রগুলো সংরক্ষিত হয় State Archives বা National Archives এ ।

পুলিশ :   ব্রিটিশ সরকারের ভারতবর্ষে পুলিশ বাহিনী গঠন করেছিল দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ডাকাতি, খুন প্রভৃতি দমন করার জন্য । ওয়াহাবি আন্দোলন , ফরাজি আন্দোলন , সাঁওতাল বিদ্রোহ , ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ ইত্যাদি বিদ্রোহ গুলিকে সরকার পুলিশের সাহায্য নিয়ে দমন করেছিল । সরকার পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মানুষের অসন্তোষের কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করত । ইংল্যান্ডের সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হতো । কোন কোন ক্ষেত্রে সরকার ভুল করেছে এবং তার সমাধান কি সে সম্পর্কে ইংল্যান্ড থেকে নির্দেশ আসতো সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ।
বিংশ শতকের প্রথমার্ধে যে সমস্ত আন্দোলন গুলি হয়েছিল তাতে পুলিশে রিপোর্ট এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । সেই কারণে ব্রিটিশ পুলিশ ছিল ভারতীয়দের আক্রমণের লক্ষ্য । এইসব কারণের জন্যই পুলিশ বাহিনীতে ভারতীয়দের সরকারি উচ্চ পদে নিয়োগ করা হত না ।

গোয়েন্দা :   লর্ড কর্ণওয়ালিশ এর সময় থেকেই দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিয়ন্ত্রণ , ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের কারণ প্রভৃতি জানার জন্য গোয়েন্দা বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল । লর্ড ডাফরিন এর সময় থেকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী গঠন করা হয়েছিল । কোন ষড়যন্ত্র , হত্যা , বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন , আইন অমান্য আন্দোলন , ভারত ছাড়ো আন্দোলন , নৌবিদ্রোহ  প্রভৃতি আন্দোলন এর রিপোর্ট গুলি প্রধানত গোয়েন্দারাই তৈরি করতেন । গোয়েন্দাদের তৈরি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করত ।

সরকারি আধিকারিকদের প্রতিবেদন :   কোম্পানি সরকার ভারত ও তাদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার পর বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার প্রবর্তন করেছিলেন । এই সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করতে বিভিন্ন বিভাগের নিযুক্ত সরকারি অফিসার বা আধিকারিকদের কর্ম দক্ষতার উপর । এদের তৈরি করা বিভিন্ন রিপোর্টের ওপর নির্ভর করেই ব্রিটিশ সরকার কিংবা কোম্পানি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নীতি নির্ধারণ করত । এজন্য ভারতবর্ষের ইতিহাস চর্চায় সরকারি আধিকারিকদের প্রতিবেদন উল্লেখযোগ্য ।

চিঠিপত্র ( সরকারি চিঠিপত্র এবং ব্যক্তিগত চিঠি পত্র ) :   সরকারি নথিপত্র হিসেবে চিঠিপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম । সরকারি স্তরে বিভিন্ন চিঠিপত্র সরকারি রেকর্ডস হিসেবে চিহ্নিত হত । সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণ , প্রকল্প তৈরি প্রভৃতিতে সরকারি আমলা , গভর্নর জেনারেল , রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর চিঠি সরকারি নথিপত্র হিসেবে সংরক্ষিত করা হত । অন্যদিকে সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষজন যে সমস্ত চিঠি সরকারকে অথবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ কে দিতেন সেই সমস্ত চিঠি পত্র গুলির ভূমিকা অপরিসীম ।
ভারতবর্ষের ইতিহাস চর্চায় এভাবেই সরকারি নথিপত্র গুলোকে ব্যবহার করা হয় ।

২. আধুনিক ভারতবর্ষের ইতিহাস চর্চায় বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর‘ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবনস্মৃতি এবং সরলা দেবী চৌধুরানীর ‘জীবনের ঝরাপাতাসম্পর্কে আলোচনা করো ।

উত্তর: ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো আত্মজীবনী এবং স্মৃতিকথা । আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা তে লেখক তার জীবনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ঘটনাবলী লিখে রাখেন । এগুলি থেকে আমরা ইতিহাসের সমাজ-সংস্কৃতি, অর্থনীতি , রাজনীতির বিভিন্ন ঘটনা জানতে পারি ।

সত্তর বৎসর :  বিপিনচন্দ্র ‘সত্তর বৎসর একটি অসম্পূর্ণ রচনা। বিপিনচন্দ্র পাল কে ভারতের বিপ্লবী চেতনার পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয় । ১৩৩৩ এর মাঘ মাস থেকে ১৩৩৫ এর বৈশাখ মাস পর্যন্ত এই গ্রন্থ টি প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে । আত্মজীবনী আর ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গোটা সমাজের আয়না হয়ে ওঠে।  স্থানগত পরিচয় গানের মধ্যে দিয়ে তিনি আগামী প্রজন্মের কাছে পুরনো গ্রাম , শহর কে তুলে ধরেছেন । পুরনো কোটের হাট , ফেঁচুগঞ্জ , শ্রীহট্ট , হবিবগঞ্জ প্রভৃতি নানা অঞ্চলের উৎসব-অনুষ্ঠান সহ মানুষের জীবনযাত্রা তার স্মৃতিকথা তে উঠে এসেছে । কি পুরনো কলকাতার বর্ণনাও তিনি দিয়েছেন । তার এই আত্মজীবনীতে ১৮৫৮ থেকে ১৮৮০ এই সময়কালের বর্ণনা পাওয়া যায় । বিপিনচন্দ্র পাল ‘কৈফিয়ৎ’  দিয়ে গ্রন্থের সূচনা করেছেন । পরে তাঁর জন্ম , শৈশব স্মৃতি , বাল্যজীবন , শিক্ষাজীবন , কলকাতা যাত্রা , স্বদেশী আন্দোলন , স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদান , হিন্দুমেলা এবং নবগোপাল মিত্র দিয়ে লেখা শেষ করেছেন।

জীবনস্মৃতি : বাংলা সাহিত্যে প্রথম ব্যক্তিগত প্রবন্ধের দৃষ্টান্ত হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ” জীবনস্মৃতি ” ।
১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই স্মৃতিকথা রচনা করেছিলেন । ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতো । তোর জীবনের যে সমস্ত স্মৃতি টুকরো বাল্য জীবনের কোভিদ সহায়ক হয়েছিল বলে তিনি মনে করতেন তার বর্ণনা তিনি এই গ্রন্থে দিয়েছেন । শিক্ষারম্ভ , কবিতা , রচনা , বাল্যজীবন , গৃহপ্রবেশ , স্বদেশ চিন্তা , সঙ্গীত , হিমালয় যাত্রা , বিদেশযাত্রা সহ নানা ঘটনার বর্ণনা তিনি এই গ্রন্থে লিখেছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে বলেছিলেন ” জীবনস্মৃতি জীবনকথা নয় , স্মৃতিকথা “ । এই গ্রন্থটির মধ্যে ৪৪ টি পরিচ্ছদ রয়েছে ।  ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গ্রন্থটির অবদান অনস্বীকার্য । শুধুমাত্র সাহিত্যের জন্যই নয় , বরং ভারতের সমসাময়িক সমাজ , রাজনীতি , সংগীত ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটির অবদান উল্লেখযোগ্য । এই সমস্ত ক্ষেত্রের ইতিহাস ধারণা আমরা এই গ্রন্থ থেকে পাই । বহির্বিশ্বে কয়েকটি দেশে তিনি ভ্রমণ করতে গিয়ে সেই সমস্ত দেশ গুলির আর্থসামাজিক এবং সংস্কৃতির ইতিহাস বর্ণনা করেছেন এই গ্রন্থটিতে যে গুলির গুরুত্ব কোনক্রমেই অস্বীকার করা যায় না । আসলে ‘জীবনস্মৃতি’ ঠাকুরের তথ্যসংগত বাস্তব আত্মকথা নয় এটি হচ্ছে তার কবিজীবনের উপাদান ও পটভূমিকা ।

জীবনের ঝরাপাতা :  ‘জীবনের ঝরাপাতা’একটি এমন আত্মজীবনী , যেখানে একটি বালিকার বড় হয়ে ওঠার কাহিনীর সঙ্গে উঠে এসেছে আমাদের দেশের বিশেষ একটি সময়ের লেখা । এই নামটি সরলাদেবী চৌধুরানী নিজেই দিয়েছেন । কাহিনীটি সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় ১৩৫১ বঙ্গাব্দের ২৪ কার্তিক সংখ্যা থেকে শুরু করে ১৩৫২ বঙ্গাব্দের ২৬ জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা পর্যন্ত চলে । তার কর্মজীবন , বাইরের জগতে প্রবেশ , গৌরবলাভ ইত্যাদি ‘ জীবনের ঝরাপাতা’ তে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন।  সরলাদেবী ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুস্থান পত্রিকার সম্পাদক রামভোজ দত্ত চৌধুরীকে বিবাহ করেন । বিবাহের পরে তার রাজনীতির ওঠাবসা শুরু হয়েছিল বাংলা থেকে সুদূর পাঞ্জাবে । সব মিলিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায় এই আত্মজীবনীর মাধ্যমে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top