দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৮ - উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত : বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব ( ১৯৪৭ - ১৯৬৪ )

দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৮ – উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত : বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব ( ১৯৪৭ – ১৯৬৪ )

পাঠ পরিকল্পনা:

দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির উদ্যোগ ও বিতর্ক – ১৯৪৭ পরবর্তী উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ও বিতর্ক ; আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথায় দেশভাগ প্রসঙ্গ – ভাষার ভিত্তিতে ভারতে রাজ্য পুনর্গঠনের উদ্যোগ ও বিতর্ক ।

 

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :

১. ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে আদমশুমারি অনুযায়ী ছোট রাজ্যের সংখ্যা ছিল – ৫৬৫/৫৫৫/৫৫০/৫৪০ ।

উত্তর : ৫৬৫ ।

২. রাজ্য জনতা সভা প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯২৫/১৯২৪/১৯৩০/১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ।

৩. দেশীয় রাজ্যগুলি তে গণ আন্দোলন শুরু হয় – ১৯৩৪/১৯৪০/১৯৩৫/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ।

৪. রাজ্য দপ্তর গঠিত হয় – সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল / লর্ড মাউন্টব্যাটেন / জহরলাল নেহেরু / সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে ।

উত্তর : সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল এর নেতৃত্বে ।

৫. কত খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরের গণপরিষদ কাশ্মীর রাজ্যকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকার করে নেয় ? ১৯৪৪/১৯৩০/১৯৪৭/১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ।

৬. জুনাগর কবে ভারত ইউনিয়নে যোগ হয় ? ১৯৪৮/১৯৪৬/১৯৪০/১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ।

৭. ভারতে ফরাসি দের একটি উপনিবেশ ছিল – চন্দননগর / গোয়া / দমন / দিউ ।

উত্তর : চন্দননগর ।

৮. ভারতে পর্তুগিজ দের একটি উপনিবেশ ছিল – চন্দননগর / গোয়া / মাহে / পন্ডিচেরি ।

উত্তর : গোয়া ।

৯. ‘ A Train to Pakistan ‘ গ্রন্থটি রচনা করেছেন – মৃণাল সেন / প্রফুল্ল চক্রবর্তী / ভীষ্ম সাহানী / খুশবন্ত সিং ।

উত্তর : খুশবন্ত সিং ।

১০. ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হিন্দু উদ্বাস্তুর সংখ্যা ছিল – ১১ লক্ষ / ১৩লক্ষ / ১৫ লক্ষ / ১০ লক্ষ ।

উত্তর : ১১ লক্ষ ।

১১. ‘ কেয়া পাতার নৌকো ‘ গ্রন্থটি রচনা করেছেন – প্রফুল্ল রায় / মৃনাল সেন / খুশবন্ত সিং / সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ।

উত্তর : প্রফুল্ল রায় ।

১২. ‘ ছেড়ে আসা গ্রাম ‘ গ্রন্থটি রচনা করেছেন – প্রফুল্ল রায় / সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় / অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় / দক্ষিণারঞ্জন বসু ।

উত্তর : দক্ষিণারঞ্জন বসু ।

১৩. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কত খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয় ? ১৯৫৩/১৯৫৬/১৯৩২/১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ।

১৪. রাজ্য পুনর্গঠন আইন অনুসারে ভারতে কটি রাজ্য গঠিত হয় ? ১৪ টি / ১০ টি / ১৫ টি / ১১ টি ।

উত্তর : ১৪ টি ।

১৫. ত্রিপুরা রাজ্যের সৃষ্টি হয় – ১৯৭৬/১৯৭০/১৯৭২/১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ।

১৬. বিহার কে ভেঙে কোন রাজ্য সৃষ্টি হয় ? ছত্রিশগড় / ঝাড়খন্ড  / তেলেঙ্গানা / পাঞ্জাব ।

উত্তর : ঝাড়খন্ড ।

১৭. ভাষার ভিত্তিতে গঠিত প্রথম রাজ্য হল – অন্ধ্রপ্রদেশ / মধ্যপ্রদেশ / বিহার / ছত্রিশগড় ।

উত্তর : অন্ধ্রপ্রদেশ ।

১৮. ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে সংবিধান স্বীকৃত ভাষার সংখ্যা ছিল – ১৫/১৪/১৭/১৬ ।

উত্তর : ১৪ ।

১৯. সংবিধানের অষ্টম তপশীল এ স্বীকৃত ভাষার সংখ্যা হল – ২১/২২/২৪/২৫ ।

উত্তর : ২২ ।

২০. পশ্চিমবঙ্গ সরকার দার্জিলিং জেলার জন্য কোন ভাষাকে রাজ্যভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে ? নেপালি / মারাঠি / বাংলা / হিন্দি ।

উত্তর : নেপালি ।

 

সত্য-মিথ্যা নির্বাচন করো :

১. রাজ্য জনতা সভার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সুভাষচন্দ্র বসু ।

উত্তর : মিথ্যা ।

২. ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত শাসন আইন চালু হয় ।

উত্তর : সত্য ।

৩. হরি সিং এর প্রধানমন্ত্রীর নাম ছিল মেহেরচাঁদ মহাজন’ ।

উত্তর : সত্য ।

৪. জুনাগড়ের নবাব ভারতবর্ষে থেকে যান ।

উত্তর : মিথ্যা ।

৫. হায়দ্রাবাদ ছিল প্রধানমন্ত্রী শাসিত রাজ্য ।

উত্তর : মিথ্যা ।

৬. পর্তুগীজদের উপনিবেশ ছিল চন্দননগর ।

উত্তর : মিথ্যা ।

৭. ‘ নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে ‘ গ্রন্থটি অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ।

উত্তর : সত্য ।

৮. ‘ প্রান্তিক মানব ‘ গ্রন্থটি মহেশ্বেতা দেবীর লেখা ।

উত্তর : মিথ্যা ।

৯. ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস দল ভাষাভিত্তিক রাজ্য কমিটি গঠন করেছিল ।

উত্তর : সত্য ।

১০. ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করা হয় ।

উত্তর : মিথ্যা ।

 

স্তম্ভ মেলাও:

1.

স্তম্ভ স্তম্ভ
1. ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ।a. প্যাটেল
2. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি।b. ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ
3. জুনাগর এর ভারতভুক্তি।c. ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ
4. নোয়াখালীর দাঙ্গা।d. ভারত শাসন আইন

উত্তর : 1 – d, 2 – a, 3 – b, 4 – c

2.

স্তম্ভ স্তম্ভ
1. ন্যাশনাল কনফারেন্স।a. PEPSU
2. পাতিয়ালা ও পূর্ব পাঞ্জাব।b. কাশ্মীর
3. এস এ ধর।c. ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে
4. রাজ্যপুনর্গঠন কমিশন।d. ধর কমিশন

উত্তর : 1 – b, 2 – a, 3 – d, 4 – c

 

একটি কথায় উত্তর দাও:

১. রাজ্য জনতা সভার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করেন ?

উত্তর : দেওয়ান বাহাদুর এম রামচন্দ্র রাই ।

২. ভারত শাসন আইন কত খ্রিস্টাব্দে চালু হয় ?

উত্তর : ১৯৩৫ ।

৩. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ব্যাপারে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন কে ?

উত্তর : সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল ।

৪. তৎকালীন কাশ্মীরের রাজার নাম কি ছিল ?

উত্তর : হরি সিং ।

৫. শেক আব্দুল্লাহ কোন দলের নেতা ছিলেন ?

উত্তর : ন্যাশনাল কনফারেন্স ।

৬. PEPSU কি নিয়ে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : পাতিয়ালা ও পূর্ব পাঞ্জাব ।

৭. তমস গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর : ভীষ্ম সাহানি ।

৮. উদ্বাস্তু গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর : হিরণময় বন্দোপাধ্যায় ।

৯. ‘ অর্ধেক জীবন ‘ গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ।

১০. ‘ পাথ ওয়ে টু পাকিস্তান ‘ গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর : চৌধুরী খলীকুজ্জমানের ।

১১. ‘ মিড নাইটস চিল্ড্রেন ‘ গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর : সালমান রুশদির ।

১২. কার নেতৃত্বে ভাষার ভিত্তিতে ভারতীয় রাজ্য গুলির সীমানা পূনর্গঠনের জন্য কমিশন গঠন করা হয় ?

উত্তর : সৈয়দ সজল আলি ।

১৩. ধর কমিশন কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : এস কে ধর ।

১৪. জে ভি পি কমিটি কত খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : ১৯৪৮ ।

১৫. অরুণাচল প্রদেশ এবং মেঘালয় কত খ্রিস্টাব্দে পূর্ণরাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায় ?

উত্তর : ১৯৮৭ ।

১৬. উত্তরপ্রদেশকে ভেঙে কোন অঞ্চল সৃষ্টি করা হয় ?

উত্তর : উত্তরাঞ্চল ।

১৭. অন্ধ্রপ্রদেশ কে ভেঙে কোন রাজ্য গঠন করা হয় ?

উত্তর : তেলেঙ্গানা ।

১৮. প্রথম ভাষা কমিশন কত খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : ১৯৫৫ ।

১৯. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কে গঠন করেন ?

উত্তর : জহরলাল নেহেরু ।

২০. কত খ্রিস্টাব্দে সিকিম ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হয় ?

উত্তর : ১৯৭৫ ।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. Princely State কি ?

উত্তর : ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত নানা সমস্যার সম্মুখীন হয় । একদিকে যেমন বীভৎস দাঙ্গা ছিল তেমনি অন্যদিকে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে রায়ট বা পৃথক রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল । উপনিবেশিক শাসনের সমগ্র দেশ ছোট ছোট রাজ্য ভাগ হয়ে যায় । এগুলিকে এই princely State বলে ।

২. জুনাগর এর নবাব পাকিস্তানে কেন চলে যান ?

উত্তর : জুনাগড়ের নবাব মুসলিম হলেও এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই ছিল হিন্দু । ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে এক নির্দেশ নামা মারফত জুনাগর এর মানুষ ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । ফলে জুনাগড়ের নবাব ভারত ত্যাগ করে পাকিস্তানে চলে যান ।

৩. PEPSU কি ?

উত্তর : ছোট দেশীয় রাজ্যগুলি কে তাদের পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাথে যুক্ত করার জন্য সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করে । আর অপেক্ষাকৃত বড় রাজ্যগুলিকে একেকটি সংঘের অন্তর্ভুক্ত করেন । এভাবেই পাতিওয়ালা ও পূর্ব পাঞ্জাব নিয়ে গড়ে ওঠে পেপসু বা PEPSU ।

৪. আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথায় কিভাবে দেশভাগের কথা উঠে এসেছে তা লেখ ।

উত্তর : ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দেশভাগের যন্ত্রণা মানুষকে যেভাবে নানা যন্ত্রণা প্রদান করেছিল তার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে নানা গ্রন্থের মাধ্যমে । প্রফুল্ল রায়ের ‘ কেয়া পাতার নৌকো ‘ , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ অর্ধেক জীবন ‘ , খুশবন্ত সিং এর ‘ ট্রেন টু পাকিস্তান ‘ প্রভৃতি নানা গ্রন্থে এ ব্যাপারে নানা তথ্য পাওয়া যায় ।

৫. জে ভি পি কমিটি সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে জহরলাল নেহেরু , বল্লভ ভাই প্যাটেল এবং পট্টভি সিতারামাইয়া কে নিয়ে জে ভি পি কমিটি গঠিত হয় । এই কমিটির কাজ ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা ।

 

বিশ্লেষণমূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. পর্তুগিজ উপনিবেশ গুলি কিভাবে ভারত ভুক্ত করা হয় ?

উত্তর : ভারতের স্বাধীনতার সময় ভারতে পর্তুগিজ কিছু উপনিবেশ ছিল । পর্তুগীজদের উপনিবেশ গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল – গোয়া , দমন , দিউ , দাদরা ও নগর হাভেলি । স্বাধীনতার পর ফরাসি সরকার তাদের উপনিবেশ গুলি ভারতকে ফিরিয়ে দেয় । তবে পর্তুগাল তাদের উপনিবেশ গুলি ছাড়তে রাজি হয়নি । শেষ পর্যন্ত ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ১৮-১৯ ডিসেম্বর জেনারেল জয়ন্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী গোয়া , দমন , দিউ অর্থাৎ সবকটি পর্তুগিজ উপনিবেশ একসঙ্গে দখল করে নেয় । এইভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগীজদের উপনিবেশ গুলি যুক্ত করা হয় ।

২. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন বলতে কী বোঝো ?

উত্তর : স্বাধীনতার বহুআগেই ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস দল ভাষাভিত্তিক রাজ্যকমিটি গঠন করেছিল । স্বাধীন ভারতের গণপরিষদ আঞ্চলিক ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যগুলোর সীমানা পূনর্গঠনের জন্য বিচারপতি এস কে ধরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে । এটি ‘ ধর কমিশন ‘ নামে পরিচিত । তবে নানা ভাবনা চিন্তা করার পর এই কমিশন ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের বিরোধিতা করে । এ ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুরও একই মত ছিল । কেননা তিনি মনে করেছিলেন এর ফলে ভারতে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব বাড়বে । অন্যদিকে এইসব রাজ্যের উপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়বে । নেহেরু সরকারের ভাষানীতি নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল । ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ভারতে নানা স্থানে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যসীমা গড়ে তোলার দাবি ওঠে । কিন্তু নেহেরু দেশব্যাপী হিন্দি ভাষা প্রচলন পক্ষপাতী ছিলেন ।১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ নেহেরু , প্যাটেল এবং পট্টভি সীতা রামাইয়াকে নিয়ে জে ভি পি কমিটি গঠিত হয় । এ কমিটির কাজ ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা ।

৩. হায়দরাবাদের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : হায়দরাবাদ ছিল নিজামশাসিত রাজ্য । নিজাম কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন রাজ্য হিসেবে টিকে থাকেন । তবে গোপনে পাকিস্তানের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেন । ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে অক্টোবরে নিজাম এর সাথে একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয় । এতে বলা হয়েছে , অন্তত এক বছর নিজাম কে ‘ স্তিথাবস্থা ‘ মেনে চলতে হবে । তাকে বলা হয় যে তিনি কোন বহিরাগত শক্তির সাহায্যে তার কোনো সামরিক শক্তি বাড়াতে পারবেন না । যদিও নিজাম এই শর্ত মানেননি এবং পাকিস্তানের সাহায্যে তার সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেন । এ সময় হায়দ্রাবাদের অভিজাতরা রাজাকার দের নেতৃত্ব এক সন্ত্রাসবাদি শাসন কায়েম করেছিল । অন্যদিকে কংগ্রেস দল নিজামের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেছিল । অবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সেনাবাহিনীর সাহায্যে হায়দরাবাদের দখল নেন । এভাবে হায়দরাবাদ রাজ্যের ভারতভুক্তি ঘটে ।

৪. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন এবং আইন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সৈয়দ ফজল আলীর নেতৃত্বে ভাষার ভিত্তিতে ভারতের রাজ্যগুলির সীমানা পূনর্গঠনের জন্য একটি কমিশন গঠন করেন । কমিশনের জন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কে এম পানিক্কর এবং হৃদয়নাথ কুঞ্জুরু । ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ কমিশনের প্রতিবেদনে রাজ্যসীমা পরিবর্তনের সুপারিশ করে । ফলে বিভিন্ন রাজ্য গুলির মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় । ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে নানা সংশোধনের পর রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয় । এই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে গিয়ে ভারত সরকার নানা বাধার সম্মুখীন হয় । বৃহত্তর বোম্বে প্রদেশ এবং গুজরাট রাজ্য বোম্বাই শহরের অধিকার চায় । নানা সংঘর্ষের পর বোম্বাই শহর বৃহত্তম বোম্বে প্রদেশের সাথে যুক্ত হয় । আসামের রাজ্যসীমা পুনর্গঠন করে মেঘালয় , মিজোরাম , নাগাল্যান্ড , অরুণাচল প্রদেশ গঠন করা হয় । ভাষার ভিত্তিতে দেশীয় রাজ্য ত্রিপুরার  সীমানা পূনর্গঠন হয় । রাজ্য পুনর্গঠন আইন অনুসারে ১৪ টি রাজ্য গঠিত হয় । এগুলি হল – অন্ধ্রপ্রদেশ , আসাম , বিহার , বোম্বে , জম্বু ও কাশ্মীর , কেরালা , মধ্যপ্রদেশ , মাদ্রাজ , মাইসোর , পাঞ্জাব , উড়িষ্যা , রাজস্থান , উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ।

 

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ব্যাপারে কি বিতর্ক দেখা গিয়েছিল ?

উত্তর : ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ‘ ভারত শাসন আইনে ‘ দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতে সংযুক্ত করে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল । স্বাধীনতা লাভের ঠিক আগেই রাজ্যগুলির ব্যাপারে ‘ ক্যাবিনেট মিশন ‘ এর পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয় । অ্যাটলির ঘোষণাপত্রে এবং মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনা বলা হয় যে দেশীয় রাজ্যগুলি কে স্বাধীনতা দিয়ে ব্রিটিশ শক্তি এ দেশ ত্যাগ করবে । তারপর স্বাধীন রাজ্যগুলি ভারত না পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হবে তা তারা নিজেরাই ঠিক করবে । মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনায় যে বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায় তা হলো বোম্বাই , মাদ্রাজ , বিহার, যুক্তপ্রদেশ , উড়িষ্যা ও মধ্যপ্রদেশের ব্যাপারে সংবিধান সভার হাতে ক্ষমতা প্রদান করা । এই প্রদেশগুলি ছিল হিন্দু অধ্যুষিত । এছাড়া ছটি মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ যেমন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ , সিন্ধু , বেলুচিস্তান , বাংলা , আসাম ও পাঞ্জাবকে হিন্দু প্রদেশগুলোর সংবিধান সভার সঙ্গে মিলিত হতে হবে । তা না হলে এক বা একাধিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে না । এতে বলা হয়েছে পাঞ্জাব ও বাংলা সংখ্যালঘুরাও আলাদা প্রদেশ গঠন করতে পারবে । কিন্তু কংগ্রেস এই অবাস্তব দাবি প্রত্যাখ্যান করে । দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল । তাঁর নেতৃত্বে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয় একটি রাজ্য দপ্তর । সেই বছর দেশীয় রাজাদের জানানো হয় যে তারা যেন রাজ্যের বিদেশ সংক্রান্ত বিষয়  , পরিবহন ব্যবস্থা ও  প্রতিরক্ষার ক্ষমতা ভারত সরকারের হাতে তুলে দেয় । প্যাটেল এর আহবানে সাড়া দিয়ে কাশ্মীর , হায়দরাবাদ ও জুনাগর বাদ দিয়ে বাকি রাজ্যগুলি ভারত ইউনিয়নের সাথে যোগ দিয়েছিল ।১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে এই তিনটি রাজ্য ভারত ডোমিনিয়ন এ যোগ দিতে বাধ্য হয়েছিল । জুনাগড়ের নবাব মুসলিম হলেও এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই ছিল হিন্দু । ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে এক নির্দেশ নামা মারফত জুনাগর এর মানুষ ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় । ফলে জুনাগড়ের নবাব ভারত ত্যাগ করে পাকিস্তানে চলে যান । দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির পর সংহতি রক্ষা ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দেয় । সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলে এই সমস্যা দূর করার জন্য ছোট দেশীয় রাজ্যগুলি কে তাদের পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাথে যুক্ত করার ব্যবস্থা করেন । এভাবে পাতিয়ালা এবং পূর্ব পাঞ্জাব নিয়ে গড়ে ওঠে PEPSU । দেশীয় রাজ্যগুলিতে এভাবে সংহতি আসার চেষ্টা করা হলেও এগুলিতে জনসংখ্যা গত এবং আর্থিক নানা সমস্যা ছিল । অনেক ক্ষেত্রে দেশীয় রাজ্যগুলিতে ভাষাগত সমস্যার সমাধান করা যায়নি । যদিও ভাষাভিত্তিক রাজ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ।

২. কাশ্মীর প্রসঙ্গ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ ।

উত্তর : ভারত এবং পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে কাশ্মীর রাজ্যটি অবস্থিত । এই অঞ্চলটি ভারতের নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল । কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ছিলেন হিন্দু , কিন্তু তার রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষ ছিলেন মুসলমান । তিনি ভারতের যুক্ত হওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন । তবে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িকতাকে তিনি  ভয় পেতেন । তাই তিনি ভারত বা পাকিস্তানের কোন দিতেই যোগ না দিয়ে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন । তিনি ভারত ও পাকিস্তানের সাথে চুক্তি করে তার রাজ্যকে স্বাধীনতার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন । কিন্তু এ ব্যাপারে বিরোধিতা করেন কাশ্মীরের ‘ ন্যাশনাল কনফারেন্স ‘ দলের নেতা শেখ আব্দুল্লাহ । তিনি কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়ে ছিলেন । অন্যদিকে রাজ্যটিকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে পাকিস্তান হরি সিং এর উপর চাপ দিতে থাকে ।

এই পরিস্থিতিতে নেহেরু এবং বল্লভ ভাই প্যাটেল স্পষ্ট করে তোলেন , গণভোটের মাধ্যমে ঠিক করা হোক কাশ্মীর কোথায় যোগ দেবে । কিন্তু পাকিস্তান গণভোটের নীতি মানেনি । ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে কাশ্মীরে হানাদার বাহিনী পাঠিয়ে এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে । হরি সিং সমস্যাটি প্রথমে লর্ড মাউন্টব্যাটেন কে জানান । তিনি এ ব্যাপারে সাহায্য না করলে হরি সিং জহরলাল নেহেরুর কাছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাহায্য চান । শেষ পর্যন্ত হরি সিং তার প্রধানমন্ত্রী মেহের চাঁদ মহাজনকে ভারতের সাথে সংযুক্তির পক্ষে সম্মতি দিয়ে সই করে একটি চিঠি পাঠান । কিন্তু এই সময় পাকিস্তান ‘ পাঠান কুবলিস ‘ এর সাহায্যে কাশ্মীর আক্রমণ করে । এমন এক  যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শেখ আব্দুল্লাহ ও বলল ভাই প্যাটেলের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর পর জম্বু কাশ্মীরকে  ভারত ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি হানাদারের বিতাড়িত করে । নিরাপত্তা পরিষদ দুই পক্ষকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন । কিন্তু পাকিস্তান কাশ্মীরের ১/৩ ভাগ ভূখণ্ড জোর করে দখল করে রেখেছে । যা আজাদ কাশ্মীর নামে পরিচিত । ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরের গণপরিষদ কাশ্মীর রাজ্যকে ভারতের অংশ বলে স্বীকার করে নেয় । কিন্তু আজও আজাদ কাশ্মীর থেকে পাকিস্তান সেনা সরিয়ে নেয়নি ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top