দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৭ - বিশ শতকের ভারতের নারী , ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন

দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৭ – বিশ শতকের ভারতের নারী , ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন : বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

পাঠ পরিকল্পনা:

বিশ শতকের ভারতে নারী আন্দোলনের চরিত্র , বৈশিষ্ট্য এবং বিশ্লেষণ , বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন , অহিংস অসহযোগ আন্দোলন , আইন অমান্য আন্দোলন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে নারী আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনের পর্যালোচনা – বিশ শতকের ভারতে দলিত রাজনীতি আন্দোলনের বিকাশ ।

 

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১. ‘ লক্ষীর ভান্ডার ‘ প্রতিষ্ঠা করেন – রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / সরলাদেবী চৌধুরানী / কমলা নেহেরু ।

উত্তর : সরলাদেবী চৌধুরানী ।

২. অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় – ১৯২০/১৯২১/১৯৩৪/১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ।

৩. গান্ধীজির ডান্ডি অভিযান শুরু হয় – ১৯৩৩/১৯২৫/১৯৩৪/১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

৪. ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়েছিল – ১৯৪২/১৯৪০/১৯৩৯/১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ।

৫. গান্ধীবুড়ি নামে পরিচিত – সরলাদেবী চৌধুরানী / বাসন্তী দেবী / মাতঙ্গিনী হাজরা / উর্মিলা দেবী ।

উত্তর : মাতঙ্গিনী হাজরা ।

৬. শ্রীসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯২৩/১৯২০/১৯১৯/১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ।

৭. ‘মহিলা সত্যাগ্রহ সমিতি ‘ প্রতিষ্ঠা করেন – রাজা রামমোহন রায় / গান্ধীজি / সুভাষচন্দ্র বসু / জহরলাল নেহেরু ।

উত্তর : সুভাষচন্দ্র বসু ।

৮. কোন মহিলা বিপ্লবী কলকাতার বেথুন কলেজে স্নাতকোত্তরে দর্শনশাস্ত্র এ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন ? প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার / কল্পনা দত্ত / মাতঙ্গিনী হাজরা  / বাসন্তী দেবী ।

উত্তর : প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ।

৯. কল্পনা দত্ত কলকাতার বেথুন কলেজে কোন বিষয়ে স্নাতক ছিলেন ? কলা / বিজ্ঞান / কমার্স ।

উত্তর : বিজ্ঞান ।

১০. বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের কয়টি ধারা ছিল ?  – ২/৩/৪/৫ ।

উত্তর : ২ ।

১১. অনুশীলন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯০৬/১৯০৮/১৯১২/১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ।

১২. মুক্তিসংঘ গড়ে ওঠে – কলকাতায় / ফরিদপুরে / ঢাকায় / ময়মনসিংহতে ।

উত্তর : ঢাকায় ।

১৩. বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল – ছাত্রদল / কৃষকদল / শ্রমিকদল ।

উত্তর : ছাত্রদল ।

১৪. লিওন সার্কুলার কবে জারি হয় ? – ১৬ অক্টোবর, ১৯০৫/১৩ অক্টোবর, ১৯০৫/১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯০৫/১২ অক্টোবর, ১৯০৫ ।

উত্তর : ১৬ অক্টোবর, ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ ।

১৫. কলকাতা পতাকা তৈরি করে – সতীশ চন্দ্র বসু / শচীন্দ্র প্রসাদ বসু / হেমচন্দ্র কানুনগো / সুভাষচন্দ্র বসু ।

উত্তর : শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু ।

১৬. রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ হয় – ১৯৩০/১৯৩২/১৯৪১/১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ ।

উত্তর : ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

১৭. সূর্য সেনের ফাঁসি হয় – ১৯৩৪/১৯৩৩/১৯৩২/১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ।

১৮. ‘ শৃংখলাঝংকার ‘ কার আত্মজীবনী ? – প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার / বীণা দাস / বাসন্তী দেবী / সরলাদেবী চৌধুরানী ।

উত্তর : বীণা দাস ।

১৯. ‘ রশিদ আলী দিবস ‘ পালন করা হয় – ১২ ফেব্রুয়ারি/১১ ফেব্রুয়ারি/১২ জানুয়ারি/১১ জানুয়ারি ।

উত্তর : ১২ ফেব্রুয়ারি ।

২০. সত্যশোধক সমাজ গড়ে ওঠে – ১৮৭৩/১৮৭৬/১৮৭৭/১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে ।

২১. কেরালায় দলিত নেতা ছিলেন – শ্রীনারায়ণ গুরু / জ্যোতিরাও ফুলে / এমসি রাজা / রশিদ আলী ।

উত্তর : শ্রীনারায়ন গুরু ।

২২. জাস্টিস পার্টি গঠিত হয় – ১৯১৭/১৯১৬/১৯২৩/১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ।

২৩. মহারাষ্ট্রের সত্যাগ্রহ আন্দোলন সংগঠিত হয় – ১৯১৮/১৯১৭/১৯২৭/১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ।

২৪. সর্বভারতীয় তপশিলি জাতি ফেডারেশন গড়ে ওঠে – ১৯৪২/১৯৪০/১৯৩২/১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ।

২৫. পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় – ১৯৩০/১৯৩২/১৯৩৪/১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ।

 

স্তম্ভমেলাও :

১.

স্তম্ভ স্তম্ভ
1. সূর্যসেন।a. বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স
2. হেমচন্দ্র ঘোষ।b. ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি
3. জ্যোতিরাও ফুলে।c. নমঃশূদ্র আন্দোলন
4. গুরুচাঁদ ঠাকুর।d. সত্যশোধক সমাজ

উত্তর : 1 – b, 2 – a, 3 – d, 4 – c

২.

স্তম্ভ স্তম্ভ
1. ভাইকম সত্যাগ্রহ।a. ডঃ বি আর আম্বেদকর
2. পুনা চুক্তি।b. শ্রী নারায়ণ গুরু
3. সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা।c. ম্যাকডোনাল্ড
4. স্ট্যানলি জ্যাকসন।d. বীণা দাস

উত্তর : 1 – b, 2 – a, 3 – c, 4 – d

 

একটি কথায় উত্তর দাও :

১. সারাবাংলায় অরন্ধন দিবস কার নেতৃত্বে পালন হয় ?

উত্তর : রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী ।

২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন উৎসব পালনের আহ্বান জানান ?

উত্তর : রাখি বন্ধন ।

৩. বাসন্তী দেবী কার স্ত্রী ছিলেন ?

উত্তর : বাংলার কংগ্রেস নেতা চিত্তরঞ্জন দাস এর ।

৪. দক্ষিণ আফ্রিকাতে নারী বিদ্রোহ সর্বপ্রথম কবে প্রকাশ্যে এসেছিল ?

উত্তর : ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ।

৫. ডান্ডি অভিযানের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন ?

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী ।

৬. ডান্ডি অভিযানের মধ্য দিয়ে কোন আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ?

উত্তর : আইন অমান্য আন্দোলন ।

৭. রাষ্ট্রীয় স্ত্রী সংঘ কে প্রতিষ্ঠা করে ?

উত্তর : সরোজনী নাইডু ।

৮. মাতঙ্গিনী হাজরা কোন নামে পরিচিত ?

উত্তর : গান্ধী বুড়ি ।

৯. সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ বাহিনীর নাম কি দিয়েছিলেন ?

উত্তর : ঝাঁসির রানী ব্রিগেড ।

১০. দিপালী সংঘ কবে কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর : ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে , লীলা নাগ ।

১১. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কবে ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করেছিলেন ?

উত্তর : ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর ।

১২. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন রাসায়নিক খেয়ে আত্মহত্যা করেন ?

উত্তর : পটাশিয়াম সায়ানাইড ।

১৩. বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের ধারা গুলি কি ছিল ?

উত্তর : বয়কট ও স্বদেশী ।

১৪. পাঞ্জাবের শিক্ষা বয়কট এর নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন ?

উত্তর : লালা লজপত রাই ।

১৫. ‘ খোদা – ই – খিদ্মতগার ‘ কে তৈরি করেন ?

উত্তর : খান আবদুল গফফর খান ।

১৬. অনুশীলন সমিতি কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর : সতীশচন্দ্র বসু ।

১৭. ব্রতী সমিতি কোথায় গড়ে উঠেছিল ?

উত্তর : ফরিদপুরে ।

১৮. পেডলার সার্কুলার কবে জারি হয় ?

উত্তর : ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের , ২১ অক্টোবর ।

১৯. অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি কে গঠন করেন ?

উত্তর : শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু ।

২০. ডন সোসাইটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে

২১. ডন সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর : সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ।

২২. বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এর নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন ?

উত্তর : হেমচন্দ্র ঘোষ ।

২৩. বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এর প্রাথমিক ধারণা এবং গঠনের পরিকল্পনা কে করেছিলেন ?

উত্তর : সুভাষচন্দ্র বসু ।

২৪. মাস্টারদা সূর্য সেন কবে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন ?

উত্তর : ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল ।

২৫. মাস্টারদা সূর্য সেন কোন সমর বাহিনী গড়ে তোলেন ?

উত্তর : ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি ।

২৬. বীণা দাস কবে জাতীয় কংগ্রেসে  অংশগ্রহণ করেন ?

উত্তর ; ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ।

২৭. দিল্লির লালকেল্লা আজাধীন ফৌজ এর সেনাপতি কে ছিলেন ?

উত্তর : ক্যাপ্টেন রশিদ আলী ।

২৮. পশ্চিম ভারতের দলিত আন্দোলনের পথপ্রদর্শক কে ছিলেন ?

উত্তর : জ্যোতিরাও ফুলে ।

২৯. সত্যশোধক সমাজ কত খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে ।

৩০. ভাইকম চুক্তি কত খ্রিস্টাব্দে হয় ?

উত্তর : ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ।

৩১. ‘ সর্বভারতীয় নিপীড়িত শ্রেণীর কংগ্রেস ‘ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর : ডঃ বি আর আম্বেদকর ।

৩২. সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতি কবে চালু হয় ?

উত্তর : ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ।

৩৩. পুনা চুক্তি কাদের মধ্যে হয়েছিল ?

উত্তর : গান্ধী এবং আম্বেদকর ।

৩৪. সর্বভারতীয় তপশিলি জাতি ফেডারেশন কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : ডঃ বি আর আম্বেদকর ।

৩৬. ভারতের সংবিধান রচনা খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন ?

উত্তর : ডঃ বি আর আম্বেদকর ।

৩৭. নমসুদ্র সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক কারা ছিলেন ?

উত্তর : হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুর ।

৩৮. রশিদ আলী দিবস কবে পালিত হয় ?

উত্তর : ১২ ফেব্রুয়ারি , ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ ।

৩৯. কাদের সংগঠন ছিল জাস্টিস পার্টি ?

উত্তর : দলিত শ্রেণীর ।

৪০. আত্মসম্মান আন্দোলন কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : ই ভি রামস্বামী নাইকার ।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. ডান্ডি মার্চ কি ?

উত্তর : ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ মার্চ ৭৯ জয়ন অনুগামী নিয়ে গান্ধীজীর সবরমতী আশ্রম থেকে সমুদ্র উপকূলে ডান্ডি গ্রামের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন । ২৫ দিনে ২৪১ মাইল পথ অতিক্রম করে ৫ এপ্রিল গন্তব্যস্থলে পৌঁছান । ৬ এপ্রিল নিজ হাতে লবণ তৈরি করে , আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন । এই পদযাত্রাই ডান্ডি মার্চ নামে পরিচিত ।

২. আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী বাহীনি সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : সুভাষচন্দ্র বসু বাংলার বাইরে ভারতীয় নারীদের সামরিক কাজে অংশগ্রহণ এর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেন । তিনি আইএনএ বাহ আজাধীন ফৌজ এর সাথে এক নারী বাহিনী যুক্ত করেন এবং তার নাম দেন , ঝাঁসির রানী ব্রিগেড । ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে এই নতুন বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ শিবির এর আয়োজন করা হয় । দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বসবাসকারী সমস্ত ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে প্রায় ১৫০০ নারী যোগ দেয় । তাদের পূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রকৃত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তোলা হয় । ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ইম্ফল অভিযানে তারা পুরুষদের সাথে অস্ত্রহাতে লড়াই করেন । এই নারী বাহিনী নেত্রী ছিলেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন ।

৩. দিপালী সংঘ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ ডিসেম্বর মাসে লীলা নাগ ঢাকায় দিপালী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন । এই সংঘের উদ্যোগে প্রথমে দিপালী বিদ্যালয় এবং ১২ টি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল । পরবর্তীকালে যখন লীলা নাগ মাস্টারদা সূর্য সেন এর সংস্পর্শে আসেন তখন তিনি এই দিপালী সংঘ কে একটি গুপ্ত সমিতি তে পরিণত করেন । রাজনৈতিক মতাদর্শ ছাড়াও সংঘের সদস্যদের প্যারেড , ব্যায়াম , লাঠি চালান , তরবারি শিক্ষা দেওয়া হতো ।

৪. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : চট্টগ্রামের মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কলকাতার বেথুন কলেজের স্নাতকোত্তরে দর্শনশাস্ত্রের কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন । ঢাকার ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের ৭ দিন আগে কল্পনা দত্ত গ্রেফতার হলে আক্রমণের মূল দায়িত্ব প্রীতিলতার উপর ছেড়ে দেওয়া হয় । ইউরোপীয় ক্লাব এর সাইনবোর্ডে লেখা থাকতো ‘ কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ ‘ । ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা একজন পাঞ্জাবি পুরুষের ছদ্মবেশে কালিশংকর দে , প্রফুল্ল দাস , শান্তি চক্রবর্তী প্রমুখকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করেন এবং ব্রিটিশ পুলিশের সাথে খন্ডযুদ্ধের পর প্রীতিলতা ধরা না দিয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন

৫. রশিদ আলী কে ছিলেন ?

উত্তর : দিল্লির লালকেল্লা আজাধীন ফৌজ এর বীর সেনানী ক্যাপ্টেন ছিলেন রশিদ আলী । তার প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল । এই রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় গণআন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় । রশিদ আলীর মুক্তির দাবিতে কলকাতায় মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন ‘ ছাত্রলীগ ‘ ধর্মঘটের ডাক দেয় । বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠন আন্দোলনে নেমে পড়ল ইংরেজ পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায় । এই ঘটনার প্রতিবাদে ১২ ফেব্রুয়ারি রশিদ আলী দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয় ।

৬. পুনা চুক্তি কি ?

উত্তর : ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর মহাত্মা গান্ধী এবং ডঃ বি আর আম্বেদকর এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামসে ম্যাকডোনাল্ড সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতির মাধ্যমে দলিত শ্রেণীর পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেন । মহাত্মা গান্ধী হিন্দুদের নির্বাচনে বিভাজন না মেনে নিয়ে তার এই নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং জেলের মধ্যে অনশন শুরু করেন । গান্ধীজীর জীবন বিপন্ন হলে দলিত নেতা ডঃ বি আর আম্বেদকর দলিতের পৃথক নির্বাচনের দাবি থেকে সরে আসেন । তিনি পুনার জেলে গিয়ে গান্ধীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এই চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন । গান্ধীজী দলিত শ্রেণীর জন্য হিন্দু বর্ণের আসন থেকে বেশি সংখ্যক আসন সংরক্ষণের দাবি মেনে নেন । বর্ণহিন্দু ও নিম্ন হিন্দু দলিতদের যৌথ নির্বাচনব্যবস্থা গৃহীত হয় এবং গান্ধী আম্বেদকর এর বিতর্কের অবসান ঘটে ।

 

বিশ্লেষণমূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা কি ছিল ?

উত্তর : বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ যতটুকুই থাক না কেন সেই সময়ে গৃহস্থালির কাজ কর্মে নারীদের প্রকৃত অধিকার নির্দিষ্ট থাকতো । তারা বিলাতি পণ্যদ্রব্য ত্যাগ করে স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহার করতেন , কাচের চুড়ি ভেঙে ফেলে , অরন্ধন দিবস পালন করে প্রতিবাদী আচরণ করে । এমনকি তারা রান্নাঘরে বিদেশি লবণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয় । এই প্রথম বাংলা নারীরা শোভাযাত্রা এবং পিকেটিংয়ে অংশগ্রহণ করে । সরলা দেবী চৌধুরানী , লীলাবতী মিত্র , কুমুদিনী বসু প্রমুখ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং নারীদের আন্দোলনে শামিল হতে আহ্বান জানান । এই সময় বাংলার গ্রাম এবং শহরের বহু স্বদেশী দ্রব্যের দোকান খোলা হয় । সরলা দেবী চৌধুরানী ‘ লক্ষীর ভান্ডার ‘ প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি বাংলার যুবক সম্প্রদায়ের জন্য শারীরিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সর্বসর্বদা ব্যস্ত ছিলেন।

২. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে গান্ধীজীর সাথে নারীদের অংশগ্রহণ ও দেখা দেয় । তিনি ভারতীয় নারীকে মা অপেক্ষা বোনের ভূমিকায় বেশি গুরুত্ব দেন । তিনি বিশ্বাস করতেন গৃহের দেখাশোনার ক্ষেত্রে নারীদের কর্তব্য আছে । তারা তাদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে থেকেই জাতীয় সেবা করতে পারে – চরকায় সুতো কাটা , বিদেশী কাপড় এবং মদের দোকানে পিকেটিং করা ইত্যাদি । ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে গান্ধীজীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু করলে এই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে । এই বছর নভেম্বর মাসে বোম্বাইতে ১ হাজার মহিলা বিক্ষোভকারী এর মাধ্যমে প্রিন্স অব ওয়েলস কে অভিনন্দন জানায় , নারী সমাজ দলে দলে পর্দা ছেড়ে বেরিয়ে এসে সভা , শোভাযাত্রা এবং পিকেটিংএ অংশগ্রহণ শুরু করে দেয় । বাংলার কংগ্রেস নেতা চিত্তরঞ্জন দাসের স্ত্রী বাসন্তী দেবী , তার ভগিনী উর্মিলা দেবী ও ভাইজি সুনীতি দেবী কলকাতার রাস্তায় প্রকাশ্যে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং কারাবরণ করেন । এছাড়াও সরোজনী নাইডু , জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলী , হেমপ্রভা মজুমদার প্রমুখ নারী এই আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৩. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এই আন্দোলন ছিল হিংসাশ্রয়ী এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনহীন । এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্র শহর থেকে গ্রামের দিকে সরে যায় । ভারতবর্ষের কোন এক জায়গা থেকে ঊষা মেহতা নামে এক নারী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে গোপন বেতার কেন্দ্র পরিচালনা করতেন । ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১২ নভেম্বর তিনি ধরা পড়েন এবং তার কারাবাস হয় । অরুনা আসিফ আলীর মতো কংগ্রেস সমাজবাদী নেত্রীর পরিচালনায় কেন্দ্রীয় দল সারা ভারতজুড়ে নাশকতামূলক কাজে যুক্ত ছিল । ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলার মেদিনীপুরে ৭৩ বছরের বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা থানা দখল করতে গিয়ে তমলুকে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বরণ করে । ইতিহাসে তিনি গান্ধী বুড়ি নামে পরিচিত । এইসময় তমলুকে জাতীয় সরকারের নারী স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী ছিল ভগিনী সেনা । এই বাহিনীর সক্রিয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন যে সমস্ত নারী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কাদম্বিনী মাইতি , কুসুমবালা দেবী , রাধারানী পাত্র , চারুশিলা দত্ত প্রমুখ ।

৪. বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের দুটি ধারা ছিল-বয়কট ও স্বদেশী ছিল একে অপরের পরিপূরক । এই দুই কর্মসূচি রূপায়ণে প্রথম সৈনিক ছিলেন ছাত্রদল । বয়কট কর্মসূচিকে সফল করতে বাংলা ছাত্ররা পরম উৎসাহের সাথে এগিয়ে আসেন । রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এদের আন্দোলনে যোগদান কে ‘ স্বনিয়োজিত প্রচারক ‘ বলে অভিহিত করেন । এই ছাত্রদল বিলিতি দোকানের সামনে পিকেটিং , বিদেশি লবণ , চিনি , কাপড় আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া , গ্রামেগঞ্জে স্বদেশী দ্রব্য তৈরীর করার কাজে প্রধান ভূমিকা নেয় । বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে ছাত্রদের সরিয়ে রাখার জন্য ভীতসন্ত্রস্ত ব্রিটিশ সরকার কঠোর নির্দেশনা জারি করে । সমকালীন বাংলার মুখ্যসচিব আর ডাব্লিউ কারলাইল  ছাত্রদের যেকোনো রকম রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করার জন্য কার্লাইল সার্কুলার জারি করেন ।

৫. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : জাতীয় কংগ্রেসের ভিতরে মতবিরোধ , নীতিগত তারা পড়ুন এবং ইংরেজি সরকার বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা হ্রাস প্রভৃতি ঘটনা ভারতীয় তরুণ এবং ছাত্র সমাজকে সংশয় এর  মধ্যে ফেলে দেয় । ফলে তারা দেশমাতার মুক্তির আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লব কে উৎকৃষ্ট পথ হিসেবে বেছে নেয় ।

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ছাত্রনেতা ও নেত্রীবর্গ : স্বদেশী আন্দোলনের সময় ও তার পরবর্তী কালে ছাত্র আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে । এই সময় কলকাতায় ছাত্র সতীশ চন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠা করেন অনুশীলন সমিতি । বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাস এর নেতৃত্বে ঢাকা অনুশীলন সমিতি প্রতিষ্ঠা হয় । অন্যদিকে ছাত্র বিপ্লবী বারিন্দ্র ঘোষ , হেমচন্দ্র কানুনগো প্রমুখের উদ্যোগে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় যুগান্তর পত্রিকা এবং গড়ে ওঠে ‘ যুগান্তর ‘ নামে বিপ্লবী গোষ্ঠী । এছাড়া ঢাকায় ‘ মুক্তিসংঘ ‘ , ফরিদপুরে ‘ ব্রতী সমিতি ‘ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি : বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল ছাত্রদল । এই ছাত্রদের আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে আন্দোলনকে দুর্বল করতে ব্রিটিশ সরকার সক্রিয় হয়ে ওঠে । ছাত্র দমনের অজুহাতে সরকার ক্রমে কারলাইল , লিয়ন সার্কুলার , পেডলার সার্কুলার ইত্যাদি নানা আইন জারি করে । সরকারি সার্কুলার এর বিরুদ্ধে ছাত্রনেতা শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু কলকাতা অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন । এই সোসাইটির উদ্দেশ্য ছিল ছাত্র সমাজকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহ দান করা এবং সরকারি আদর্শে ছাত্র দের বিকল্প শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা ।

৬. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে বীণা দাস এর ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে কলকাতার বিপ্লবী ছাত্র সংঘের সদস্য বিনাদশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । তিনি ছিলেন সুভাষচন্দ্র শিক্ষাগুরু বেণীমাধব দাস এর কনিষ্ঠা কন্যা । ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বল্পভাষী নি ও শান্ত প্রকৃতির ছাত্রী বীনা দাশ বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসন কে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন । তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন এবং ধরা পড়েন । বীণা দাসের স্নাতকোত্তর ডিগ্রী ব্রিটিশ সরকার আটকে দেয় । বিচারে তার ন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয় । জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন । ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে গান্ধীজীর আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগদান করেন । স্বাধীনতা লাভের পর বীণা দাস পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্য হন । তিনি তার বিপ্লবী জীবন এর কর্মকান্ড নিয়ে আত্মজীবনী ‘ শৃংখলাঝংকার ‘ এবং ‘ পিতৃধন ‘ রচনা করেন ।

৭. গান্ধীজীর দলিত শ্রেণীর প্রতি মনোভাব সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : জাতীয় কংগ্রেসে উচ্চবর্ণের প্রাধান্য থাকায় কংগ্রেস নেতারা প্রথম থেকেই দলিতদের সমস্যা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না । ফলে জাতীয় কংগ্রেসের সাথে দলিত দূরত্ব স্বাভাবিকভাবেই গড়ে ওঠে । কিন্তু দলিতরা কংগ্রেসের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেরাই সক্রিয় হয়ে । ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে গান্ধীজীর উত্থানএর পর কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে । গান্ধীজী প্রথম দিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে হরিজন আন্দোলন শুরু করেন । পরবর্তীকালে তার উদ্যোগে জাতীয় কংগ্রেসের কর্মসূচিতে দলিত শ্রেণীর সামাজিক অবহেলার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় । গান্ধীজীর দলিত মনোভাব দলিত শ্রেণীর মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি ।

৮. বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : নমঃশূদ্র আন্দোলন টি মতুয়া মহাসংঘ আন্দোলন নামে পরিচিত । ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলায় অস্পৃশ্যদের মধ্যে সামাজিক ঐক্য ও প্রতিবাদের পরিবেশ গড়ে ওঠে । এই সময় বাংলায় প্রতিবাদী ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসাবে অস্পৃশ্যদের মধ্যে বলাহাড়ি এবং মতুয়া সম্প্রদায় আত্মপ্রকাশ করে । বলা হরি সম্প্রদায় ভাবনায় ব্রাহ্মণদের স্থান হয় সবার নিচে এবং হারিরা থাকে সবার উপরে । নমসুদ্র সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুর । তাদের নেতৃত্বে নমঃশূদ্র সম্প্রদায় উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের আধিপত্য এবং আর্থিক শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয় । বিশ শতকের প্রথম ভাগে পূর্ববঙ্গের নমঃশূদ্র দের অধিকার আদায়ের দাবিতে প্রমথরঞ্জন ঠাকুর , যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল প্রমুখ দলিত নেতা এগিয়ে আসে । প্রকৃতপক্ষে সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে নমঃশূদ্র দের আন্দোলন প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নিয়েছিল ।

 

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন:

১. আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : ১৯৩০ এর দশকে প্রকাশ্য জনসভায় নারীদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সমাজে সর্বজন গ্রাহ্য হয়ে উঠেছিল । তারা দেশবাসীকে ধর্মীয় কর্তব্যের অংশ হিসেবে ধরে নেন । গান্ধীজী অহিংসার উপরে এবং নারী সত্যাগ্রহীদের সম্মানজনক ভাবমূর্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন । মহিলারা গান্ধীর হাতে নিরাপদ থাকবে ফলে অভিভাবকদের ইচ্ছায় তারা আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেয় । ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ১২ মার্চের সকাল ৬টা ১০ মিনিটে গান্ধীজী ডান্ডি অভিযান শুরু করে । কিন্তু গান্ধীজির ডান্ডি অভিযানের মূল স্বেচ্ছাসেবী দলের নারীদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাননি । কারণ যাত্রাপথ ছিল সুদীর্ঘ , নারীদের পক্ষে বিপদজনক ও কষ্টকর । তিনি ৭৯ জন সত্যাগ্রহ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন । তারা অধিকাংশই ছিলেন দলিত সমাজভুক্ত । তিনি তার যাত্রাকালে যেসব সভা করেন ; সেই সব সভায় হাজার হাজার নারী যোগদান করে এবং আন্দোলন যখন শুরু হয় তখন ও হাজার হাজার নারী বেআইনি লবণ কর্মসূচিতে অংশ নেয় , বিদেশি কাপড়ের ও মদের দোকানের সামনে পিকেটিংয়ে অংশ নেয় এবং মিছিলেও যোগ দেয় । বোম্বাইয়ের আন্দোলন ছিল সবচাইতে সংগঠিত , বাংলার আন্দোলন ছিল সবচেয়ে উগ্র এবং মাদ্রাজে এই আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত । দিল্লিতে ১৬০০ নারী কারাবরণ করেন । এলাহাবাদ , লখনৌ , লাহোর প্রভৃতি স্থানে শত শত নারী বিক্ষোভের প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করে । আমেদাবাদ যুবলীগ একটি জনসভায় আইন অমান্য আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীদের ডাক দেয় । সেখানে স্থানীয় মিল মালিকের কন্যা মৃদুলা আম্বালান স্বেচ্ছাসেবীদের দলে নাম লেখান । গান্ধীজী তার যাত্রাপথে আনন্দ গ্রাম থেকে ১৭ মার্চ জয়প্রকাশ নারায়ণের লেখা একটি চিঠিতে জানান , তার কারাবরণের পর প্রভাবতী দেবী আশ্রমের ভার গ্রহণ করবেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন । গান্ধী পত্নী কুস্তরবা , কমলা নেহেরু , সরোজনী নাইডু , বাসন্তী দেবী , প্রমুখ নারীনেত্রীরা হাল ধরেন । এইসময় সরোজনী নাইডু ‘ রাষ্ট্রীয় স্ত্রী সংঘ ‘ গঠন করেন । বাংলার কৃষক পরিবারের নারীরা অংশগ্রহণ করেন । গ্রামীণ শিল্পের বিকাশ , শিক্ষার প্রসার , অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । ইতিপূর্বে আর কোন আন্দোলনে এত ব্যাপক সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ দেখা যায়নি ।

২. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্তের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর :

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার : চট্টগ্রামের মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কলকাতার বেথুন কলেজে স্নাতক স্তরে দর্শন শাস্ত্রের কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন । কিন্তু বিভিন্ন বিপ্লবী কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থাকার জন্য ব্রিটিশ সরকার তার ডিগ্রী আটকে দেন । ইতিপূর্বে ঢাকার ইডেন কলেজে শিক্ষারত প্রীতিলতা সমাজসেবার কাজে যুক্ত ছিলেন। এমনকি তিনি দিপালী সংঘের অধীন লীলা নাগের নেতৃত্বে শ্রীসংঘে যোগদান করেন । পরে তিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী দল ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি তে যোগদান করেন । ঢাকার ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের সাত দিন আগে কল্পনা দত্ত গ্রেপ্তার হলে আক্রমণের মূল দায়িত্ব প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের হাতে তুলে দেওয়া হয় । ইউরোপীয় ক্লাব এর সাইনবোর্ডে লেখা থাকতো ‘ কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ ‘ । ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা একজন পাঞ্জাবি পুরুষের ছদ্মবেশে কালিশংকর দে , প্রফুল্ল দাস , শান্তি চক্রবর্তী প্রমুখকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করেন এবং ব্রিটিশ পুলিশের সাথে খন্ডযুদ্ধের পর প্রীতিলতা ধরা না দিয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন ।

কল্পনা দত্ত : সূর্য সেন এর সুযোগ্য শিষ্য কল্পনা দত্ত ছিলেন কলকাতার বেথুন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক । কলেজে শিক্ষকতা অবস্থায় তিনি ছাত্রী সংঘ এর সদস্য হোন । মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী ভাবধারা এবং মাতৃভূমি শৃংখল মুক্ত করার জন্য কল্পনা দত্ত ইন্ডিয়ান রিপাবলিক আর্মি তে যোগদান করেন । পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের মূল দায়িত্ব সূর্য সেন , কল্পনা দত্ত কে দেন । কিনতুক আক্রমণের কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে অস্ত্র ষড়যন্ত্র মামলায় ব্রিটিশ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন । ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব পালন করেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার । ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ কল্পনা দত্ত জেল থেকে মুক্তি পান ।

৩. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে এবং আইন অমান্য আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর :

অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে ছাত্র সমাজ : অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সারা ভারতে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ ঘটায় । ছাত্র-শিক্ষক , শ্রমিক-কৃষক , চিকিৎসক , উকিল এবং সরকারী চাকুরীজীবী প্রমুখ নানা স্তরের মানুষ আন্দোলনে যোগদান করেন । বাংলা ছাত্রসমাজ অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । বিভিন্ন ধর্মঘট ও মিছিলে ছাত্ররা স্বরাজের দাবি তুলে ধরে । এমনকি তারা শপথ নিয়ে বলে যে , ” স্বরাজ না পেলে আমরা কলেজে ফিরবো না ।” এই সময় ছাত্র দের উন্মাদনা ও দেশপ্রীতি দেখে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস বলেন : ” বাংলার ছাত্রসমাজ আমি তোমাদের নমস্কার করি ” । আন্দোলনের প্রথম মাসেই ৯০ হাজার ছাত্র স্কুল-কলেজ ত্যাগ করেন । শিক্ষাক্ষেত্রে বয়কট আন্দোলন সর্বাত্মক রূপ নেয় । চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে কলকাতা সহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় প্রায় অচল হয়ে পড়ে । পাঞ্জাবে শিক্ষা বয়কট এর নেতৃত্ব দেন লালা লাজপত রাই । বিহার , উড়িষ্যা , আসাম , যুক্তপ্রদেশ শিক্ষা বয়কট যথেষ্ট সাড়া ফেলে এবং ছাত্ররা বিদেশি দোকানের সামনে পিকেটিং শুরু করে,  বিদেশী পণ্য দ্রব্য পোড়ানোর কাজেও যুক্ত হন ।

আইন অমান্য আন্দোলনে ছাত্র সমাজ : গান্ধীজী লবন আইন ভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্ররা আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন । তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকদ্রব্য এবং বিদেশি বস্ত্র বয়কট অভিযান শুরু করে । তারা অফিস-আদালত , স্কুল-কলেজের সামনে পিকেটিংয়ে অংশ নয় । ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের ছাত্ররা খান আবদুল গফফর খান এর ‘ খোদা – ই – খিদমতগার ‘ দলে সক্রিয় ভূমিকা নেয় । কলকাতা , বোম্বাই , মাদ্রাজ প্রভৃতি অঞ্চলের ছাত্ররা আন্দোলনে শামিল হতে থাকে । তারা ইংরেজি পুলিশ এবং সেনাদলের নিষ্ঠুর বর্বরতা , হত্যাকাণ্ড উপেক্ষা করে গ্রামে গঞ্জে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেয় ।

৩. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এবং মাস্টারদা সূর্য সেন এর ভূমিকা লেখ ।

উত্তর :

বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স : বিশ শতকের শাসনকালে ছাত্র ও যুব সমিতি হিসেবে বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষ এর নেতৃত্বে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স ‘ স্বাধীনতার অভিযান ‘ শুরু করে । বাংলার বিভিন্ন স্থানে এই দলের শাখা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে । এই দলের সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র বিপ্লবী বিনয়কৃষ্ণ বসু ইন্সপেক্টর জেনারেল লোমান ঢাকার পুলিশ সুপারেনটেনডেন্ট হাডসন কে গুলি করেন । লোম্যান মারা যান । বিনয় বসু ছদ্মবেশে কলকাতায় চলে আসেন এবং দলের অন্য দুই সদস্য বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত এর সাথে মিলিত হয় । এই ত্রয়ী বিপ্লবী ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করেন । তাদের আক্রমণের কারা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সিম্পসন  নিহত হন । এছাড়াও অনেক উচ্চ পদস্থ অফিসার সেদিন আহত হন। অবশেষে ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে তাদের ‘ অলিন্দ যুদ্ধ ‘ হয় । এই যুদ্ধের শেষে বাদল গুপ্ত ও বিনয় বসু পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন । দীনেশ গুপ্ত আত্মহত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে ধরা পড়েন এবং পরে বিচারের রায়ে তার ফাঁসি হয় ।

সূর্য সেন : আইন অমান্য আন্দোলনের সময়কালে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ১৮ এপ্রিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের কিছু দুঃসাহসী যুবক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন । তারা টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ লাইন কেটে দেন । চট্টগ্রামের জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষক সূর্য সেন মাস্টারদা নামে পরিচিত ছিলেন । তিনি তার অনুগামীদের নিয়ে ‘ ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি ‘ নামে একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন । মাস্টারদার অনুপ্রেরণায় , চরম সাহসিকতায় আকৃষ্ট হয়ে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার , কল্পনা দত্তের মতো প্রমুখ নারীরা তার সাথে যুক্ত হন । তার নির্দেশে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করেন । মাস্টারদার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয় । এরপর বিপ্লবীরা জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নিলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধ হয় । ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিপ্লবী সরকার ব্রিটিশ শাসককে বিপর্যস্ত করে দেয় । অবশেষে সূর্য সেন ধরা পড়েন এবং বিচারে তার ফাঁসি হয় । চট্টগ্রামের অভূতপূর্ব বিপ্লব সমস্ত জাতির মনে এক শিহরণ জাগায় এবং এই তরুণ বিপ্লবী দল দেশবাসীকে নতুন প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করে ।

৪. গান্ধী আম্বেদকর বিতর্ক ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর : গান্ধীজী ভারতের সামাজিক জীবন থেকে অস্পৃশ্যতা দূর করার জন্য হরিজন’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন । এই আন্দোলন দলিত শ্রেণীর মাহার নেতা বি আর আম্বেদকর কে খুব একটা খুশি করতে পারে নি । গান্ধীজী নিম্নবর্ণের সাথে উচ্চবর্ণের মিলনের ওপর জোর দেন , আম্বেদকর উচ্চবর্ণের সাথে নিম্নবর্ণের মেলামেশার সুযোগ কিংবা দলিতদের মন্দিরে প্রবেশের অধিকার চেয়ে , তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা দূর করার ওপরেই বেশি গুরুত্ব দেন । বি আর আম্বেদকর দলিতদের নিয়ে মহারাষ্ট্রে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন । আম্বেদকর এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘ মনুস্মৃতি ‘ গ্রন্থটি প্রকাশ্যে পুড়িয়ে উচ্চবর্ণ ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানান । আইন অমান্য আন্দোলনে গান্ধীজীর পুনার যারবেডা জেলে বন্দী ছিলেন ।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামসে ম্যাকডোনাল্ড সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতির মাধ্যমে দলিত শ্রেণীর পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেন । মহাত্মা গান্ধী হিন্দুদের নির্বাচনে বিভাজন না মেনে নিয়ে তার এই নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং জেলের মধ্যে অনশন শুরু করেন । গান্ধীজীর জীবন বিপন্ন হলে দলিত নেতা ডঃ বি আর আম্বেদকর দলিতের পৃথক নির্বাচনের দাবি থেকে সরে আসেন । তিনি পুনার জেলে গিয়ে গান্ধীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এই চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন । গান্ধীজী দলিত শ্রেণীর জন্য হিন্দু বর্ণের আসন থেকে বেশি সংখ্যক আসন সংরক্ষণের দাবি মেনে নেন । বর্ণহিন্দু ও নিম্ন হিন্দু দলিতদের যৌথ নির্বাচনব্যবস্থা গৃহীত হয় এবং গান্ধী আম্বেদকর এর বিতর্কের অবসান ঘটে ।

দলিত শ্রেণীকে গুরুত্ব প্রদান : ডঃ বি আর আম্বেদকর ও দলিত আন্দোলন কে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেন । তার নেতৃত্বে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ‘ সর্বভারতীয় তপশিলি জাতি ফেডারেশন ‘ গড়ে ওঠে । জাতীয় কংগ্রেস ও দলিত শ্রেণীর আন্দোলনকে গুরুত্ব দেয় । প্রাকস্বাধীনতালাভ কালে ভারতের সংবিধান রচনা খসড়া কমিটির সভাপতি করা হয় ডঃ বি আর আম্বেদকর কে । ভারতীয় গণপরিষদ একটি আইন পাস করে আইনের মাধ্যমে অস্থিরতার অবসান ঘটায় । মূল সংবিধানে বেশকিছু বিধি গৃহীত হয় । বিশেষত 15 নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয় জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-এবং জন্মস্থান এর ভিত্তিতে বিভেদ করা চলবে না । ভারতের সংবিধানে দলিত নিম্নবর্গের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রাধান্য দিতে বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং অস্পৃশ্যতাকে  বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top