দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৬ - বিশ শতকের ভারতে কৃষক , শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন

দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৬ – বিশ শতকের ভারতে কৃষক , শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

পাঠ পরিকল্পনা:

ভারতে বিশ শতকের কৃষক , শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও মূল্যায়ন – কৃষক আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেস ও বামপন্থী আন্দোলন , অহিংস অসহযোগ , আইন অমান্য , ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে কৃষক আন্দোলন গুলি পর্যালোচনা – শ্রমিক আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেস ও বামপন্থী সংযোগ – উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থীদের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা ।

 

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো –

১. কিষানসভা আন্দোলন শুরু হয় – ১৯১৯/১৯২৯/১৯৩৯/১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ।

২. অন্ধ্রপ্রদেশে কিষানসভার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন – এম বি নাইডু/ গান্ধীজী / জয় প্রকাশ নারায়ন / বঙ্কিম মুখার্জি ।

উত্তর : এম বি নাইডু ।

৩. কমিউনিস্ট পার্টি দ্বারা পরিচালিত আন্দোলন ছিল – আইন অমান্য আন্দোলন / অসহযোগ আন্দোলন / চৌরিচৌরা আন্দোলন / তেভাগা আন্দোলন ।

উত্তর : তেভাগা আন্দোলন ।

৪. পাঞ্জাবের বাড়িদোয়াব অঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল – ১৯০৫/১৯০৭/১৯০৬/১৯০১ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ।

৫. চম্পারণ জেলা অবস্থিত – বিহারে / গুজরাটে / রাজস্থানে / পশ্চিমবঙ্গে ।

উত্তর : বিহারে ।

৬. খেদা অবস্থিত – বিহারে / অন্ধ্রপ্রদেশে / তামিলনাড়ুতে / গুজরাটে ।

উত্তর : গুজরাটে ।

৭. যুক্তপ্রদেশে কিষানসভা গঠিত হয় – ১৯৪৫/১৯৭৮/১৯১৮/১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ।

৮. যুক্তপ্রদেশ কিষানসভার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন – জয়প্রকাশ নারায়ন / বঙ্কিম মুখার্জি / রামমনোহর লোহিয়া / দুর্গাপাল সিং ।

উত্তর : দুর্গাপাল সিং ।

৯. একতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন – দুর্গাপাল সিং / বাবা রামচন্দ্র / জয়প্রকাশ নারায়ণ / ইন্দ্রনাথ ত্রিবেদী ।

উত্তর : বাবা রামচন্দ্র ।

১০. দ্বারভাঙ্গা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন – স্বামী বিদ্যানন্দ / গৌরীশংকর মিশ্র / ইন্দ্রনাথ ত্রিবেদী / বাবা রামচন্দ্র ।

উত্তর : স্বামী বিদ্যানন্দ ।

১১. মোপালা বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল – ১৯২১/১৯২৮/১৯১৫/১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ।

১২. বরদৌলি তালুক অবস্থিত – সুরাটে / কলকাতায় / ভোপালে / দিল্লিতে ।

উত্তর : সুরাটে ।

১৩. অরণ্য সত্যাগ্রহ শুরু হয়েছিল – ১৯৩১/১৯৩৩/১৯৪৫/১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে ।

১৪. সর্বভারতীয় কিষাণ সভা প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯৪০/১৯৩০/১৯৩৬/১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ।

১৫. কিষাণ দিবস পালন করা হয় – ১ অক্টোবর/১ সেপ্টেম্বর/২ অক্টোবর/২ সেপ্টেম্বর ।

উত্তর : ১ সেপ্টেম্বর ।

১৬. তেভাগা আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য নেতা ছিলেন – বাবা রামচন্দ্র / বালগঙ্গাধর তিলক / ভবানী সেন / গান্ধীজী ।

উত্তর : ভবানী সেন ।

১৭. বর্গাদার বিল জারি হয় – ১৯৪৫/১৯৫০/১৯৪৪/১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ।

১৮. ত্রিবাঙ্কুর এর কৃষক সংগ্রাম হয়েছিল – ১৯৫৬/১৯৪৪/১৯৪১/১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ।

১৯. ‘ বিপদজনক বিপ্লবী ‘ নামে পরিচিত – গান্ধীজী / বালগঙ্গাধর তিলক / স্বামী সহজানন্দ / স্বামী বিদ্যানন্দ।

উত্তর : বালগঙ্গাধর তিলক ।

২০. মজদুর মহাজন’ দল গঠিত হয়েছিল – ১৯১৮/১৯১৭/১৯১৬/১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ।

২১. মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯১৭/১৯১০/১৯৩৪/১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ।

২২. AITUC গঠিত হয়েছিল – ১৯১৭/১৯১৮/১৯৩০/১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ।

২৩. ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন – দুর্গাপাল সিং / মুজাফফর আহমেদ / বালগঙ্গাধর তিলক / সিঙ্গারাভেল্লু চেটিয়ার ।

উত্তর : মুজাফফর আহমেদ ।

২৪. ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি গঠিত হয় – ১৯২৫/১৯২৭/১৯২০/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ।

২৫. দা ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট জারি করা হয় – ১৯২৬/১৯৩৩/১৯২০/১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ।

২৬. আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয় – ১৯৩১/১৯৪০/১৯৩০/১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

২৭. সমাজতন্ত্রী দল প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯৩৪/১৯২০/১৯৪০/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ।

২৮. INTUC প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯৫০/১৯৪৪/১৯৪৬/১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ।

২৯. শ্রমিক কৃষক দল গঠিত হয় – বোম্বাইতে / কলকাতায় /লাহোরে ।

উত্তর : বোম্বাইতে ।

৩০. ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় – ১৯২৫/১৯২৭/১৯৩০/১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ।

৩১. জাতীয় কংগ্রেসের হরিপুরা অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন – সুভাষচন্দ্র বসু / গান্ধীজী / জহরলাল নেহেরু।

উত্তর : সুভাষচন্দ্র বসু ।

৩২. ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করা হয় – ১৯৪০/১৯৪৩/১৯৩৯/১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ।

৩৩. মানবেন্দ্রনাথ রায় মেক্সিকোতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন – ১৯২০/১৯১৯/১৯৩৪/১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে।

উত্তর : ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ।

৩৪. রেডিক্যাল ডেমোক্রেটিক দল গঠন করেন – সুভাষচন্দ্র বসু / গান্ধীজী / জহরলাল নেহেরু / মানবেন্দ্রনাথ রায় ।

উত্তর : মানবেন্দ্রনাথ রায় ।

৩৫. ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের অধিবেশন হয়েছিল – লাহোরে / বোম্বাইতে /কলকাতায় / ত্রিপুরায় ।

উত্তর : ত্রিপুরায় ।

 

শূন্যস্থান পূরণ করো :

১. ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ________খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৮৫ ।

২. ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ছোটোনাগপুর এ ____________নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন হয়েছিল ।

উত্তর : যাত্রা ভগৎ এর ।

৩. ________ খ্রিস্টাব্দে নাইডু ও বঙ্গের নেতৃত্বে গুন্টুর অরণ্য সত্যাগ্রহ শুরু হয় ।

উত্তর : ১৯৩১ ।

৪. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা _______খ্রিস্টাব্দে হয় ।

উত্তর : ১৯২৯ ।

৫. ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি ________ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয় ।

উত্তর : ১৯২৭ ।

৬. মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন ________ গঠন করেছিলেন ।

উত্তর : বি পি ওয়াদিয়া ।

৭. _______ খ্রিস্টাব্দে মেক্সিকোতে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে ওঠে ।

উত্তর : ১৯১৯ ।

৮. সোশালিস্ট পত্রিকা ______খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ।

উত্তর : ১৯২২ ।

৯. ফরওয়ার্ড ব্লক ____ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ।

উত্তর : ১৯৩৯ ।

১০. মানবেন্দ্রনাথ রায়ের আসল নাম ________ ।

উত্তর : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ।

 

একটি কথায় উত্তর দাও :

১. কিষানসভা আন্দোলন কার নেতৃত্বে শুরু হয় ?

উত্তর : সহজানন্দ সরস্বতী ।

২. চৌরিচৌরা গ্রামের কৃষকরা কবে হিংসাশ্রয়ী হয়ে উঠেছিল ?

উত্তর : ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ।

৩. Peasant Movement in India গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর : ধানাগার ।

৪. লখনৌতে সর্বভারতীয় কিষানসভা কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ।

৫. গুজরাটের বরদৌলি তে কবে কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয় ?

উত্তর : ১৮৯৮-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ।

৬. পাঞ্জাবের বারিদোয়াব অঞ্চলে কার নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন শুরু হয় ?

উত্তর : লালা রাজপত রাই ।

৭. চম্পারন আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছিল ?

উত্তর : রাজকুমার শুক্লা ।

৮. যুক্তপ্রদেশ কিষানসভা কবে গঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ।

৯. যুক্তপ্রদেশ কিষানসভা আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক কে ছিলেন ?

উত্তর : বাবা রামচন্দ্র ।

১০. দ্বারভাঙ্গা আন্দোলন কবে শুরু হয়েছিল ?

উত্তর : ১৯১৯-২০ খ্রিস্টাব্দে ।

১১. অন্ধ্রপ্রদেশের সবথেকে উল্লেখযোগ্য জঙ্গি আন্দোলন কোনটি ছিল ?

উত্তর : রম্পা বিদ্রোহ ।

১২. সর্বভারতীয় কিষাণসভা কবে গঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ।

১৩. সর্বভারতীয় কিষানসভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ?

 উত্তর : স্বামী সহজানন্দ ।

১৪. তেভাগা আন্দোলন কবে শুরু হয় ?

উত্তর : ১৯৪৬-৪৭ খ্রিস্টাব্দে ।

১৫. তেভাগা আন্দোলনের মূল ধ্বনি কি ছিল ?

উত্তর : নিজ খামারে ধান তোলো ।

১৬. তেলেঙ্গানা বিদ্রোহ কবে শুরু হয়েছিল ?

উত্তর : ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ।

১৭. কার উৎসাহে আসামের চা বাগানে প্রথম ধর্মঘট পালন হয় ?

উত্তর : দ্বারকানাথ গাঙ্গুলী ।

১৮. লর্ড কার্জনের কাছে বাংলা কি ছিল ?

উত্তর : অশান্তির উৎস ।

১৯. বিদেশি বস্ত্র বন্নি উৎসব কবে পালন করা হয় ?

উত্তর : ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ।

২০. প্রিন্টার্স ও কম্পোজিটারস লীগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ২১ অক্টোবর ।

২১. মজদুর মহাজন’ দল কে গঠন করেন ?

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী ।

২২. AITUC পুরো নাম লেখ ।

উত্তর : All India Trade Union Congress বা নিখিলভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস ।

২৩. প্রথম মে দিবস কবে পালিত হয় ?

উত্তর : ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১ মে ।

২৪. ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি কবে গঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ।

২৫. পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট অফ ট্রেড ডিসপিউট অ্যাক্ট কবে প্রবর্তন করা হয় ?

উত্তর : ১৯২৮-২৯ খ্রিস্টাব্দে ।

২৬. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা কবে হয় ?

উত্তর :১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ।

২৭. আইন অমান্য আন্দোলন এর সময়কাল লেখ ।

উত্তর : ১৯২৯-৩৩ খ্রিস্টাব্দ ।

২৮. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার রায় কবে বের হয় ?

উত্তর : ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ ।

২৯. কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল কবে গঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ।

৩০. ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের কংগ্রেস অধিবেশন কোথায় হয়েছিল ?

উত্তর : লাহোরে ।

৩১. ভারত ছাড়ো আন্দোলন কবে শুরু হয় ?

উত্তর : ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ।

৩২. INTUC এর পুরো নাম লেখ ।

উত্তর : ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস ।

৩৩. সারা বাংলা প্রজা সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ।

৩৪. মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন কে গঠন করেন ?

উত্তর : বি পি ওয়াদিয়া ।

৩৫. ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে ?

উত্তর : মানবেন্দ্রনাথ রায় ।

৩৬. সোসালিস্ট পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন ?

উত্তর : শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে ।

৩৭. গান্ধী বনাম লেনিন পুস্তিকা কে রচনা করেন ?

উত্তর : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে শ্রীডাঙ্গে ।

৩৮. AITUF এর পুরো নাম কি ?

উত্তর : নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ।

৩৯. লাল ফ্ল্যাগ ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কে গঠন করেন ?

উত্তর : এম এন জোশী ।

৪০. সারা ভারত ছাত্র ফেডারেশন কবে গঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ।

৪১. সুভাষচন্দ্র বসু কোন অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন ?

উত্তর : হরিপুরা অধিবেশনে ।

৪২. ত্রিপুরী অধিবেশন সুভাষচন্দ্র বসু কাকে সভাপতি বলে মনোনীত করেন ?

উত্তর : আবুল কালাম আজাদ ।

৪৩. ফরওয়ার্ড ব্লক কবে গঠিত হয় ?

উত্তর : ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ।

৪৪. ভারতের প্রথম কমিউনিস্ট পার্টি কোথায় গঠিত হয় ?

উত্তর : কানপুরে ।

৪৫. মানবেন্দ্রনাথ রায় কার দক্ষিণ হস্ত ছিলেন ?

উত্তর : যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ( বাঘাযতীন ) ।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. কিষানসভার প্রতিষ্ঠা কেন হয়েছিল ?

উত্তর : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে কৃষক আন্দোলনের জোয়ার এসেছিল । এর ফলে গৌরীশংকর মিশ্র এবং ইন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর উদ্যোগে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে যুক্তপ্রদেশ কিষানসভা গঠিত হয় । পরবর্তী এক বছরের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের ১৭৩ টি তহবিলে প্রায় ৪৫০ টি শাখা গড়ে ওঠে ।

২. অযোধ্যা কিষানসভার আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : জহরলাল নেহেরু , বাবা রামচন্দ্র , দেওনারায়ন পান্ডে প্রমুখ জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে প্রতাপগরে ‘ অযোধ্যা কিষানসভা ‘ গড়ে ওঠে এবং এখানে প্রায় ১ লক্ষ কৃষকের সমাবেশ ঘটে । শুরুতেই আন্দোলন হিংসাশ্রয়ী হয়ে ওঠে । কৃষকরা লুটপাট শুরু করে এবং সরকার কঠোর হাতে আন্দোলন দমনে নেমে পড়ে । সরকার অযোধ্যা খাজনা আইন পাস করে কৃষকদের আন্দোলন দুর্বল করার চেষ্টা করে ।

৩. দ্বারভাঙ্গা আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯২০-২১ খ্রিস্টাব্দে বিহারের দ্বারভাঙ্গা এলাকায় এক কৃষক বিদ্রোহের সূচনা হয় । মুজাফফরপুর , পূর্ণিয়া , ভাগলপুর প্রভৃতি জেলার কৃষকরা অতিরিক্ত খাজনা , গোচারণভূমি এবং গাছের উপর কর আরোপের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে । এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্বামী বিদ্যানন্দ ।

৪. রম্পা বিদ্রোহ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার কৃষকরা কর প্রদান বন্ধ করে দেয় । তবে অন্ধ্রপ্রদেশের সবথেকে উল্লেখযোগ্য জঙ্গি আন্দোলন ছিল রম্পা বিদ্রোহ । মহাজনী শোষণ ও জমিদারি অত্যাচারের বিরুদ্ধে কোল , ভিল্ , মুন্ডা , সাঁওতাল প্রভৃতি আদিবাসীরা এই বিদ্রোহে শামিল হন এবং এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আল্লুরি সীতারাম রাজু ।

৫. ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে ত্রিবাঙ্কুর এর পুন্নাপ্রা ভায়লার কৃষক সংগ্রাম সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর-পশ্চিম ত্রিবাঙ্কুর পুন্নাপ্রা ভায়লার অঞ্চলের কৃষকরা কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগঠিত করে । ত্রিবাঙ্কুর এর উচ্চাভিলাষী দেওয়ান সি পি রামস্বামী আয়ার ত্রিবাঙ্কুর কে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করে । এর ফলে আলেপ্পি অঞ্চলের কৃষকদের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার চালালে কৃষকরা আন্দোলনের পথ বেছে নেয় ।

৬. ভারতের প্রথম শ্রমিক আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : উনবিংশ শতকে ভারতে শিল্পের সম্প্রসারণ শুরু হলে শ্রমিক এবং মালিক শ্রেণীর সৃষ্টি হয় । ১৮৮১ এবং ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে দুটি কারখানা আইন জারি করা হলে অসন্তুষ্ট শ্রমিকশ্রেণী অত্যাচারী মালিকের বিরুদ্ধে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে আসামের চা বাগানে প্রথম ধর্মঘট পালন করে । বোম্বের কৃষকরা দৈনিক মজুরির দাবিতে এরপর ধর্মঘটে সামিল হন । ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজের ছাপাখানার  শ্রমিকরা বাড়তি কাজের জন্য বাড়তি মজুরির দাবিতে একটানা ছয় মাস ধর্মঘট পালন করেছিল ।

৭. নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কোন প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছিল ?

উত্তর : ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বোম্বাইতে লালা লাজপত রাই এর সভাপতিত্বে নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা AITUC প্রতিষ্ঠিত হয় । শ্রমিকদের জাগরণ করতে এবং একটি যুগের অবসান ঘটিয়ে আরেকটি যুগের সূচনা করতে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য । সারা দেশের প্রায় ১২৫ টি শ্রমিক সংগঠন এর সাথে যুক্ত হয় । এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা ছিলেন মতিলাল নেহেরু , বি পি ওয়াদিয়া , দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ , ব্যোমকেশ চক্রবর্তী , হেমন্ত সরকার প্রমুখ ।

৮. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা কি ?

উত্তর : শ্রমিক শ্রেণী সংঘবদ্ধতা এবং শ্রমিকদের আন্দোলন কে ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার শ্রমিক নেতা এবং বামপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করে তাদের কারারুদ্ধ করার চেষ্টা করেন । এমনই একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা হল মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা । ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ৩৩ জন বামপন্থী নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করে । দীর্ঘ চার বছর ধরে মামলাটি চলার পর সকল নেতার দীর্ঘকালীন কারাবাসের আদেশ দেওয়া হয় । ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্রের মতে , মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা শেষ পরিণতিতে জাতীয়তাবাদী ও বামপন্থী দের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছিল ।

৯. জাতীয় কংগ্রেস এবং বামপন্থী নেতৃত্ব এর মিলিত প্রচেষ্টায় কিভাবে শ্রমিক আন্দোলনের পুনরুদ্ধার হয়েছিল ?

উত্তর : কংগ্রেসের জহরলাল নেহেরু এবং সুভাষচন্দ্র বসু বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হলে যমুনা দাস মেহেতা , ভি ভি গীরি , মৃণালকান্তি বসু প্রমুখের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ‘ এর সাথে কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল যুগ্মভাবে শ্রমিক আন্দোলন শুরু করলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় ।১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ১৫৯ টি ধর্মঘটে মোট ২২০৮০৮ জন শ্রমিকের অংশগ্রহণের ঘটনা প্রমাণ করে শ্রমিক আন্দোলনের পুনরুত্থানের কথা ।

১০. ভারতছাড়ো আন্দোলনের পটভূমি কিভাবে তৈরি হয়েছিল ?

উত্তর : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতে জাপানি আক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দিলে ভারতের পুরনো সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে স্যার স্টাফোর্ড ক্রিপস কে ভারতে প্রেরণ করলেন তিনি ভারতের এই রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হন । ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ব্যাপক গণমুখী আন্দোলনের পথ বেছে নেয় । এভাবেই ভারতছাড়ো আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল ।

১১. সমাজতন্ত্র এবং সাম্যবাদ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর :

সমাজতন্ত্র : সমাজতন্ত্র হলো একটি অর্থনৈতিক ধারণা যা সম্পদের সামাজিক মালিকানা নীতিতে বিশ্বাসী । সম্পদের বন্টন এবং উৎপাদন সমস্ত কিছু সমাজের মানুষ যৌথভাবে সম্পাদন করে থাকে ।

সাম্যবাদ : সাম্যবাদ হলো একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা যা একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সামাজিক দর্শন দ্বারা পরিচালিত । বিশিষ্ট দার্শনিক কার্ল মার্কস এর সাম্যবাদ তত্ত্বের মূল বিষয় হলো সমস্ত প্রকার ব্যক্তিগত সম্পত্তির অবসান ।

১২. ভারতীয় কমিনিউস্টদের কার্যাবলী সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : বামপন্থী আন্দোলনের সূচনা যুগে বামপন্থীদের কর্মক্ষেত্র ছিল শ্রমিক ও কৃষকদের মধ্যে । তারা চেষ্টা করলেন শ্রমিক ও কৃষকের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে একই মঞ্চে আন্দোলন সংগঠিত করতে । এর ফলে প্রতিষ্ঠা হল ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি । এই দল প্রথম প্রস্তাব দেয় , সম্পূর্ণ স্বাধীনতা কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত । জহরলাল নেহেরু এবং সুভাষচন্দ্র বসু এই প্রস্তাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন । বামপন্থী সংগঠন হিসেবে শ্রমিক ও কৃষক দল বাংলা , পাঞ্জাব , মুম্বাই , মাদ্রাজ , যুক্তপ্রদেশ প্রভৃতি নানা জায়গায় জমিদারদের এবং ইংরেজদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন ।

১৩. সুভাষচন্দ্র বসুর ফরওয়ার্ড ব্লক দল সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ মে সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ‘ ফরওয়ার্ড ব্লক ‘ নামে একটি নতুন বামপন্থী রাজনৈতিক দল গঠন করেন । এই দলের সভাপতি হন সুভাষচন্দ্র বসু নিজে এবং সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করেন সর্দার শারদুল সিং কে । ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের জন্য অবিলম্বে সমগ্র ভারতে আপোষহীন জাতীয় সংগ্রামের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল সুভাষচন্দ্র বসুর প্রধান লক্ষ্য । বিহারের স্বামী সহজানন্দ , বোম্বাইয়ের নরিম্যান প্রমুখরা সুভাষচন্দ্র বসুর পক্ষে যোগদান করেন এবং জয়প্রকাশ নারায়ণ এর মত প্রমুখ সমাজতন্ত্রী নেতারা কংগ্রেস দলের সঙ্গে থাকায় বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন ।

 

বিশ্লেষণমূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. চম্পারন আন্দোলন এবং খেদা আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর :

চম্পারন আন্দোলন : কৃষকদের উপর অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদে রাজকুমার শুক্লা নামে এক ব্যক্তি বিহারের চম্পারন কৃষক দের নিয়ে বিদ্রোহ শুরু করে । তিনি শেষ পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন । গান্ধীজী কৃষকদের আহবানে সাড়া দেন । গান্ধীজী যে সমস্ত নেতাদের নিয়ে চম্পারন কৃষক দের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদ , ব্রজকিশোর , জে বি কৃপালিনী , মহাদেব দেশাই প্রমুখ । ইংরেজ সরকার শেষ পর্যন্ত গান্ধীজীর চাপের কাছে পিছু হটে এবং তদন্ত কমিটি বসানোর নির্দেশ দেয় । শেষ পর্যন্ত চম্পারন কৃষক বিদ্রোহ সফল হয় ।

খেদা আন্দোলন : গুজরাটের খেদা অঞ্চলের কৃষকরা ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে দুর্ভিক্ষ এবং প্লেগ এর কারণে দুর্দশার কবলে পড়েছিলেন । ১৯১৭-১৮ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার জন্য এবং জিনিসপত্রের দাম অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য কৃষকরা খাজনা কমাতে চায় । আবেদন এবং নিবেদন ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকরা গান্ধীজীর নির্দেশে খাজনা বয়কটের পথে হাঁটে । শেষ পর্যন্ত সরকার কৃষকদের প্রতি কিছুটা নরম হয় গান্ধীজী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ।

২. বরদৌলি সত্যাগ্রহ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : অসহযোগ আন্দোলন চলার সময় গুজরাটের সুরাট জেলার বরদৌলি তালুকের কিষান আন্দোলনে গান্ধীজী এর সত্যাগ্রহ আদর্শের প্রভাব পড়ে । গান্ধীজী তার অসহযোগ আন্দোলন বরদৌলি থেকেই শুরু করবেন বলে প্রথমে মনে করা হয়েছিল । কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয় । কপিলরাজ নামে পরিচিত বিন্দাস ঋণদাস কৃষকরা ছিল মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ । এদের মধ্যে শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গান্ধীজীর নির্দেশে কংগ্রেস কর্মীরা ৬ টি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন । গান্ধীবাদী রা এদের নতুন নামকরণ করেন বাণীপড়াজ বা বনবাসী ।

বিদ্রোহের কারণ :
1. ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ভূমি কর ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় ।
2. গান্ধীজীর চাপে শেষ পর্যন্ত ভূমি কর ২১.৯৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয় ।
3. তুলোর দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষকরা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল বলে সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেয়নি ।

এই কৃষক সত্যাগ্রহের সময় যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কল্যাণজী মেহেতা , কুনবেরজি মেহেতা , বল্লভভাই প্যাটেল প্রমুখ ।

৩. আইন অমান্য আন্দোলন পর্বে কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : আইন অমান্য আন্দোলন কালে বাংলায় কৃষক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল কিষানসভা , শ্রমিক – কৃষক দল ও কৃষক প্রজা দল এবং মুসলিম লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশে । এই সময়কার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জের বাসিন্দারা।  এছাড়াও রংপুর , ঢাকা , ত্রিপুরা , নোয়াখালী প্রভৃতি জেলার কৃষকরা জমিদার এবং মহাজনদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন।

অন্যান্য প্রদেশের কৃষক আন্দোলন : ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে নাইডু ও রঙ্গের নেতৃত্বে গুন্টুর এ অরণ্য সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হয় । জঙ্গলে কৃষকদের গোচারণ ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের বংশানুক্রমিক অধিকার খর্ব করার জন্য জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ।

১৯৩৪-১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের আন্দোলন : এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল ও কমিউনিস্ট পার্টি যৌথভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে ।১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় সর্বভারতীয় কিষাণসভা । এর প্রথম সভাপতি ছিলেন বিহারের কৃষক নেতা স্বামী সহজানন্দ । ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাব কিষাণসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। জলন্ধার , অমৃতসর প্রভৃতি অঞ্চলে শিখ ও জাঠ কৃষকরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে । ১৯৩৭-৩৯ খ্রিস্টাব্দে ত্রিবাঙ্কুর কৃষক আন্দোলন সংঘটিত হয় ।

৪. স্বদেশী আন্দোলনের যুগে শ্রমিক আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর :

1. ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনে চরমপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী মহারাষ্ট্রের জাতীয় নেতা বালগঙ্গাধর তিলক বাংলার স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন কে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন । বাংলার স্বদেশী আন্দোলনের যুগে বালগঙ্গাধর তিলক মহারাষ্ট্রে ‘ বিদেশি বস্ত্র বহ্নি উৎসব ‘ পালন করেছিলেন । এই উৎসবের দ্বারা স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এবং শ্রমিকরা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন । ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বালগঙ্গাধর তিলক কে বিপদজনক বিপ্লবী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ।

2. স্বদেশী যুগে বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে প্রধান আন্দোলন ও ধর্মগ্রন্থগুলি সংগঠিত হয় কলকাতায় ভারত সরকারের প্রেসে , ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে ও জুটমিলে । রাজনৈতিক সচেতনতা ও ব্যাপকতার দিক থেকে কলকাতার সরকারি প্রেস কর্মচারীগণ বাংলার প্রথম প্রকৃত ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিত করার খ্যাতি অর্জন করেছে । এই সময় শ্রমিকগণ প্রায় একমাস ব্যাপী ধর্মঘটে অবতীর্ণ হন ।

3. ১৯০৬-১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলার আসানসোল , খড়গপুর , লিলুয়া , হাওড়া প্রভৃতি অঞ্চলে রেলওয়ে ওয়ার্কশপ শ্রমিক আন্দোলন এবং ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয় । কিছু কিছু কর্মহীন বাঙালি ব্যারিস্টার ও জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন শিল্পে শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেন ।

4. পরবর্তীকালে বিপিনচন্দ্র পাল , ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রমুখ নেতারা কারাবরণের ফলে আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী প্রভাব কমতে থাকে । স্বদেশী আন্দোলনের যুগে বামপন্থী মতাদর্শ খুব একটা জোরালো না হওয়ায় এই সময়ে কৃষক আন্দোলনে বামপন্থী প্রভাব দেখা যায়নি ।

৫. ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের উপর ব্রিটিশ সরকারের দমন নীতির প্রয়োগ লেখ ।

উত্তর : শ্রমিক শ্রেণীর ওপর বামপন্থীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমানোর উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার একাধিক দমনমূলক আইন জারি করে । ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে চালু করা হয় দা ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট । এই আইন দ্বারা শ্রমিকদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । আবার ১৯২৮-২৯ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে সরকার একটি নতুন আইন জারি করে যার নাম পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট ট্রেড ডিসপিউট অ্যাক্ট । এই দুই আইন দ্বারা ব্রিটিশ সরকার শ্রমিকদের ধর্মঘটে যোগদান বেআইনি ঘোষণা করেন । শ্রমিকদের সংঘবদ্ধতা ও শ্রমিকদের সাথে বামপন্থীদের যোগাযোগ ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার উল্লেখযোগ্য বামপন্থী নেতাদের ওপর মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করতে থাকে । এমনই একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা হল মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা ।১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ৩৩ জন বামপন্থী নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করে । দীর্ঘ চার বছর ধরে মামলাটি চলার পর সকল নেতার দীর্ঘকালীন কারাবাসের আদেশ দেওয়া হয় । ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্রের মতে , মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা শেষ পরিণতিতে জাতীয়তাবাদী ও বামপন্থী দের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছিল ।

৬. শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে জাতীয় কংগ্রেসের সাথে বামপন্থী নেতৃবৃন্দের মেলবন্ধন কিভাবে হয়েছিল ?

উত্তর : মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার পরবর্তী কালে শ্রমিক আন্দোলনের গতি কিছুটা কমে যায় । দীর্ঘ চার বছর ব্যাপী এই মামলা চলাকালীন গান্ধীজী লবন আইন ভঙ্গের মাধ্যমে ডান্ডি অভিযান করে ৬ এপ্রিল , ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ভারত ব্যাপী আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন ।

১৯৩০-৩১ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রের শোলাপুর বস্ত্রশিল্পের শ্রমিকেরা মালিক ও সরকারি অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জঙ্গি আন্দোলন শুরু করেন । শ্রমিকদের আক্রমণে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু হলে এবং সরকারি দমননীতির ফলে নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন এর ঐক্য নষ্ট হয়ে পড়ে । ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে বামপন্থীরা নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এসে রেড ফ্ল্যাগ ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন । ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার রায় বের হওয়ার পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হল এবং ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বেআইনি সংস্থা ঘোষিত হলে , কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনার কৌশল গ্রহণ করে ।

৭. ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা AITUC এর কার্যকলাপ কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার ফলে বামপন্থীরা ও সমাজপন্থীরা প্রকাশ্যে কাজ করতে অসুবিধা বোধ করছিলেন ।

এই কারণে তাদের প্রচেষ্টায় ১৯২৭ খিষ্টাব্দে বোম্বাইতে প্রতিষ্ঠিত হয় ওয়াকার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি (কৃষক মজদুর দল ) ।

প্রকৃতপক্ষে এই দল প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলায় , ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর । দলের প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম , কুতুবউদ্দিন আহমেদ , হেমন্তকুমার সরকার প্রমুখ । এরপর ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার কৃষ্ণনগরে যে ‘ সারা বাংলা প্রজা সম্মেলন ‘ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে ‘ কৃষক শ্রমিক দল’ গঠনের প্রস্তাব পাস হয় । এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা ফয়েজ উদ্দিন হোসেন সাহেব এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন হেমন্তকুমার সরকার এবং কুতুবউদ্দিন আহমেদ । পরবর্তীকালে কমিউনিস্ট দলের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্রনাথ রায় ও এই দলের প্রতিষ্ঠার কাজে অংশগ্রহণ করে । ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ শ্রমিক কৃষক দল ‘ ।

৮. ভারতের বামপন্থী প্রভাবিত বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর :

1. ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের পর শ্রমিক আন্দোলন এক বিদ্রোহী রূপ ধারণ করে । সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিকশ্রেণী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিলে বামপন্থীরা শ্রমিকদের সাথে যোগ দেয় ।

2. ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতে ২০৩ টি শ্রমিক ধর্মঘট হয় । তাতে প্রায় ৫ লক্ষ কৃষক যোগদান করেন ।

3. ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলার চটকল গুলিতে শ্রমিকরা প্রথম ধর্মঘট শুরু করেন । এই ধর্মঘটে প্রায় দেড় লক্ষ শ্রমিক অংশগ্রহণ করে ।

4. ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের সাম্যবাদী প্রভাব লক্ষ্য করে ব্রিটিশ সরকার আশঙ্কিত হয়ে ৩৩ জন বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা কে ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে । এই মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা টি মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত ।

৯. মানবেন্দ্রনাথ রায় এবং বামপন্থী আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : মানবেন্দ্রনাথ রায়ের প্রকৃত নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য । তিনি যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের দক্ষিণ হস্ত ছিলেন । প্রথম জীবনে নরেন্দ্রনাথ ( মানবেন্দ্রনাথ ) ছিলেন বিশিষ্ট বিপ্লবী সংগঠন ‘ অনুশীলন সমিতির ‘ একজন সদস্য । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নরেন্দ্রনাথ কে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জার্মানিতে পাঠান সামরিক সাহায্যের আশায় । সেখানে নরেন্দ্রনাথ ফাদার মার্টিন ছদ্মনামে কাজকর্ম চালান । এবং পরবর্তীকালে জার্মানি যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় কে অস্ত্র সাহায্য পাঠাতে রাজি হয় । লেনিন এর আমন্ত্রণে নরেন্দ্রনাথ রাশিয়ার মস্কোতে গিয়ে দ্বিতীয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করেন । এরপর তিনি ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মেক্সিকোতে একটি কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় ভারতে খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় দেশত্যাগ করে এবং তারা তাসখন্দে একত্রিত হন । তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আব্দুর রউফ এবং মোহাম্মদ শফিক । দক্ষিণ ভারতের ত্রিমুল আচারিয়া এর প্রেরণায় মানবেন্দ্রনাথ তাসখন্দে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন । অবনী মুখার্জি ছিলেন মানবেন্দ্রনাথ রায়ের ওপর উল্লেখযোগ্য সহকর্মী । ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মানবেন্দ্রনাথ ভারতবর্ষে ফিরে এসে কংগ্রেসের দলের সাথে যোগদান করেন । কিন্তু ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কংগ্রেস দল থেকে বেরিয়ে এসে রেডিক্যাল ডেমোক্রেটিক দল প্রতিষ্ঠা করেন ।

 

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন পর্বে কৃষক আন্দোলন গুলি সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : এই সময়কালে যেই কৃষক বিদ্রোহ গুলি হয়েছিল সেগুলো কোনই সংগঠিতভাবে হয়নি , অনেক সময় স্থানীয় ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল । রাজস্থানের মেবার অঞ্চলের কৃষকদের ওপর ৮৬ টি বিভিন্ন কর আরোপ করার বিরুদ্ধে কৃষকরা প্রতিবাদ শুরু করেছিল । ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ নীলচাষ কমে গেলে নীলকর সাহেবরা কৃষকদের ওপর খাজনা বৃদ্ধি করতে শুরু করে যার ফলে কৃষকরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে । ১৯০৫ থেকে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মতিহারি বেট্রিয়া অঞ্চলে ব্যাপক কৃষক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠে । ১৮৯৮-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গুজরাটের বরদৌলি তে কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয় । ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ছোটোনাগপুর এ যাত্রা ভগতের নেতৃত্বে আদিবাসী কৃষক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল । পরবর্তীকালে পাঞ্জাবের বাড়িদোয়াব অঞ্চলের খালের জন্য কর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করলে লালা লাজপত

রাই এর নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলন শুরু হয়েছিল ।উনিশ শতকের শেষদিকে কৃত্রিম নীল আবিষ্কার হওয়ার পর নীলের চাহিদা পড়ে যায় । এর ফলে বাধ্যতামূলক নীল চাষ থেকে কৃষকরা রেহাই পায় । কিন্তু তাদের ওপর নীলকর সাহেবদের চাপানো অতিরিক্ত খাজনা এবং অন্যান্য কোরের বিরুদ্ধে কৃষকের অসন্তোষ ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের রূপ নেয় ।

চম্পারন আন্দোলন : কৃষকদের উপর অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদে রাজকুমার শুক্লা নামে এক ব্যক্তি বিহারের চম্পারন কৃষক দের নিয়ে বিদ্রোহ শুরু করে । তিনি শেষ পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন । গান্ধীজী কৃষকদের আহবানে সাড়া দেন । গান্ধীজী যে সমস্ত নেতাদের নিয়ে চম্পারন কৃষক দের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদ , ব্রজকিশোর , জে বি কৃপালিনী , মহাদেব দেশাই প্রমুখ । ইংরেজ সরকার শেষ পর্যন্ত গান্ধীজীর চাপের কাছে পিছু হটে এবং তদন্ত কমিটি বসানোর নির্দেশ দেয় । শেষ পর্যন্ত চম্পারন কৃষক বিদ্রোহ সফল হয় ।

খেদা আন্দোলন : গুজরাটের খেদা অঞ্চলের কৃষকরা ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে দুর্ভিক্ষ এবং প্লেগ এর কারণে দুর্দশার কবলে পড়েছিলেন । ১৯১৭-১৮ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার জন্য এবং জিনিসপত্রের দাম অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য কৃষকরা খাজনা কমাতে চায় । আবেদন এবং নিবেদন ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকরা গান্ধীজীর নির্দেশে খাজনা বয়কটের পথে হাঁটে । শেষ পর্যন্ত সরকার কৃষকদের প্রতি কিছুটা নরম হয় গান্ধীজী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ।

কিষানসভার প্রতিষ্ঠা : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে কৃষক আন্দোলনের জোয়ার এসেছিল । এর ফলে গৌরীশংকর মিশ্র এবং ইন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর উদ্যোগে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে যুক্তপ্রদেশ কিষানসভা গঠিত হয় । পরবর্তী এক বছরের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের ১৭৩ টি তহবিলে প্রায় ৪৫০ টি শাখা গড়ে ওঠে ।

২. একা বা ‘ একতা ‘ আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে এবং ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে যুক্ত প্রদেশের হরদৈ , বারাবাকি , সীতাপুর প্রভৃতি অঞ্চলে আরো একটি কৃষক বিদ্রোহ ঘটে । এই আন্দোলন ‘ একা ‘ বা ‘ একতা ‘ আন্দোলন নামে পরিচিত ।

আন্দোলনের কারণ : নির্ধারিত রাজস্বের অতিরিক্ত খাজনা আদায় , ইজারাদারদের অত্যাচার প্রভৃতি কারণে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল । এই আন্দোলনের প্রথম দিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কংগ্রেস ও খিলাফত নেতারা । এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন বাবা রামচন্দ্র । পরবর্তীকালে মাদারি পাশি এবং নিম্নবর্গের নেতারাও এই আন্দোলনে যোগদান করেন ।

‘ একতা ‘ বা ‘ একা ‘ সমাবেশে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষকরা শপথ নিয়েছিলো যে –
1. তারা ঠিক সময় করে দেবে কিন্তু অতিরিক্ত কর দেবে না ।
2. বেগার শ্রম দেবে না ।
3. অপরাধীদের কোন ভাবে সাহায্য করবে না ।
4. পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত মেনে চলবে ।
5. জমি থেকে উৎখাত করলেও জমি ছেড়ে চলে যাবে না ।

আন্দোলন অহিংস হবার কারণে কংগ্রেস এবং খিলাফত নেতারা আন্দোলন সমর্থন করেনি । শেষ পর্যন্ত সরকার এই আন্দোলন দমন করেছিল ।

দ্বারভাঙ্গা আন্দোলন : ১৯২০-২১ খ্রিস্টাব্দে বিহারের দ্বারভাঙ্গা এলাকায় এক কৃষক বিদ্রোহের সূচনা হয় । মুজাফফরপুর , পূর্ণিয়া , ভাগলপুর প্রভৃতি জেলার কৃষকরা অতিরিক্ত খাজনা , গোচারণভূমি এবং গাছের উপর কর আরোপের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে । এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্বামী বিদ্যানন্দ ।

রাজস্থানের বিদ্রোহ : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে রাজস্থানের মেবার অঞ্চলে বিজয় সিং পথিক এবং মানিকলাল ভার্মা এর নেতৃত্বে কৃষকরা বিদ্রোহ সংগঠিত করেন । ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চলের জায়গীরদাররা প্রজাদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতে বাধ্য হয় । মতিলাল তেজাওয়াত এবং জয়নারায়ন ব্যাস মেবারে  কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন । পরবর্তীকালে সরকার এই আন্দোলন দমন করেন ।

মোপালা বিদ্রোহ : অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের  মালাবার অঞ্চলে এক জঙ্গী কৃষক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল । এই বিদ্রোহ মোপালা বিদ্রোহ নামে পরিচিত । হিন্দু ‘ জেনমি ‘ দের শোষণের বিরুদ্ধে মুসলমান সম্প্রদায়ের এক গোষ্ঠী একাধিক আন্দোলন করলেও ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে তাদের আন্দোলন ছিল গণআন্দোলন ধর্মী । মাধবন নায়ার , গোপাল মেনন প্রমুখ নেতারা আন্দোলনকে উৎসাহিত করেন এবং পরবর্তীকালে আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে । ব্রিটিশ সরকার আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করেন ।

রম্পা বিদ্রোহ : অসহযোগ আন্দোলনের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার কৃষকরা কর প্রদান বন্ধ করে দেয় । তবে অন্ধ্রপ্রদেশের সবথেকে উল্লেখযোগ্য জঙ্গি আন্দোলন ছিল রম্পা বিদ্রোহ । মহাজনী শোষণ ও জমিদারি অত্যাচারের বিরুদ্ধে কোল , ভিল্ , মুন্ডা , সাঁওতাল প্রভৃতি আদিবাসীরা এই বিদ্রোহে শামিল হন এবং এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আল্লুরি সীতারাম রাজু ।

৩. ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে কৃষক শ্রেণীর মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল । ভারতছাড়ো আন্দোলনের প্রভাবে কৃষক আন্দোলন গুলির মাত্রা বৃদ্ধি পায় । তবে এই পর্বের আন্দোলন গুলি ছিল কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে জঙ্গী কৃষক অসন্তোষ ।

তেভাগা আন্দোলন : ১৯৪৬-৪৭ খ্রিস্টাব্দে দিনাজপুর , রংপুর , মালদা , জলপাইগুড়ি প্রভৃতি অঞ্চলের বর্গাদার চাষে কৃষকরা ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দাবি করে ধনী কৃষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল তার নাম তেভাগা আন্দোলন । এই আন্দোলনের মূলধ্বনি ছিল , ‘ নিজ খামারে ধান তোল ‘ । এই আন্দোলনে মুসলমানদের অংশগ্রহণ লক্ষনীয় ছিল । যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হাজী মোহাম্মদ দানেশ , নিয়ামত আলী , ভবানী সেন , অবনী লাহিড়ী , সমর গাঙ্গুলী প্রমুখ ।

তেলেঙ্গানা বিদ্রোহ : আধুনিক ভারতের সবচেয়ে তীব্র জঙ্গি কৃষক আন্দোলন ছিল হায়দ্রাবাদের তেলেঙ্গানায় । এই অঞ্চলের দরিদ্র কৃষক শ্রেণী সকল প্রকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল । জোরপূর্বক বেগার শ্রম , কৃষকদের ঋণের জালে জড়িয়ে দিয়ে ভূস্বামীরা তাদের সর্বনাশ করত । তাছাড়া ধর্মীয় ও ভাষাগত বিরোধ বিদ্রোহকে আরো জঙ্গি করে তুলেছিল । ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুলাই বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল নালগণ্ডার জালগাঁও তালুকে । কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে আন্দোলন প্রসার লাভ করেছিল । এই আন্দোলনে কৃষকরা গেরিলা যুদ্ধ পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল ।

ত্রিবাঙ্কুর এর পুন্নাপ্রা ভায়লার কৃষক সংগ্রাম : ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর-পশ্চিম ত্রিবাঙ্কুর পুন্নাপ্রা ভায়লার অঞ্চলের কৃষকরা কমিউনিস্টের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলন শুরু করে । ত্রিবাঙ্কুর এর উচ্চাভিলাষী দেওয়ান সি পি রামস্বামী আয়ার ত্রিবাঙ্কুর কে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করে । এর ফলে আলেপ্পি অঞ্চলের কৃষকদের অপর নির্বিচারে অত্যাচার চালালে কৃষকরা আন্দোলনের পথ বেছে নেয় । পরবর্তীকালে সরকার এই বিদ্রোহ দমন করে ।

বিংশ শতকের কৃষক আন্দোলন গুলির মূল্যায়ন : বিংশ শতকের প্রথমার্ধের কৃষক আন্দোলন গুলি ভারতে কৃষি ব্যবস্থায় কোন মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি । এই আন্দোলন থেকে ধনী ও মাঝারি শ্রেণীর কৃষকরা উপকৃত হলেও সাধারণ কৃষকের কোন কিছু উপকার ই হয় নি । তথাপি কৃষক আন্দোলনের চাপে স্বাধীনতার পরে ভারতের জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটেছিল । এই আন্দোলন গুলি ভারতের জাতীয় আন্দোলন কে এক নতুন গতি প্রদান করেছিল ।

৪. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের যুগে শ্রমিক আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর :

শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট : মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল , তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ মজদুর মহাজন’ ‘ দল গঠনের মধ্য দিয়ে । এটি প্রায় ১৮০০০ শ্রমিক নিয়ে গঠিত হয়েছিল । গান্ধীজী সর্ব ভারতীয় রাজনীতিতে অর্থাৎ জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করার পূর্বে যে তিনটি সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন তার মধ্যে আহমেদাবাদের সুতোকলের শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন ছিল অন্যতম । শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কাজের সময় সীমা, ন্যায্য মজুরি , শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ইত্যাদি সমস্যার সমাধানে তিনি অনশন শুরু করলে অনেক সমস্যারই সন্তোষজনক বিহিত হয় । আবার ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ার লেনিনের নেতৃত্বে সংঘটিত রুশ বিপ্লব ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে এক নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছিল ।

অন্যদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হওয়ার পর ভারতের শ্রমিক আন্দোলন গুলি সংগ্রাম মুখী চরিত্র গ্রহণ করে । এর কারণ ছিল বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ব্যাপকহারে শ্রমিক ছাঁটাই , বেকারত্ব , দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক মন্দা ও অবশিল্পায়ন । এই সময় যুদ্ধের খরচ চালানোর জন্য ব্রিটিশ সরকার শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ কর ধার্য করে । এই ঘটনার পর শ্রমিকরা আরো আন্দোলনমুখী হয়ে ওঠে । ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের নরমপন্থী শ্রমিক নেতা বি পি ওয়াদিয়া মাদ্রাজ লেবার ইউনিয়ন গঠন করে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে শ্রমিক আন্দোলনের ডাক দেন ।

এই যুগে শ্রমিক আন্দোলনে জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে ভারতে যে শ্রমিক আন্দোলন গুলো হয়েছিল সেগুলিতে জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ –

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে অমৃতসরে কংগ্রেসের অধিবেশনে ভারতীয় শ্রমিক শ্রেণীর সামাজিক , অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মান উন্নয়নের জন্য কংগ্রেসের প্রাদেশিক কমিটি ও অন্যান্য সংস্থাগুলিকে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনে সহায়তা করতে নির্দেশ দেওয়া হয় ।

১৯২০ খ্রিস্টাব্দের কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে লালা লাজপত রাই সরাসরি শ্রমিক আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং ওই বছর ডিসেম্বর মাসে নাগপুরে কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে ন্যায় সংগত এবং বৈধ অধিকার অর্জনের জন্য ভারতীয় শ্রমিক শ্রেণীর আন্দোলন ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা বিষয়ে জাতীয় কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন জানায় ।

১৯২০ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বোম্বাইয়ে লালা লাজপত রাই এর সভাপতিত্বে ‘ নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা All India Trade Union Congress ‘ প্রতিষ্ঠিত হয় । সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন যে এই সংস্থা শ্রমিকদের জাগরনে এবং একটি যুগের অবসান ঘটিয়ে আরেকটি যুগের সূচনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে । এই প্রতিষ্ঠান সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বি পি ওয়াদিয়া , দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ , হেমন্ত সরকার প্রমুখ ।

১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে গান্ধীজীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে গান্ধীজীর শ্রমিক সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত করতে চাননি কিন্তু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এবং লালা লাজপত রাই প্রমুখ নেতারা জাতীয় আন্দোলনের শক্তি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিক আন্দোলনের প্রসার চেয়েছিলেন ।

৫. ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে শ্রমিক আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর :

আন্দোলনের পটভূমি : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতে জাপানি আক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দিলে ভারতের পূর্ণ সহযোগিতা এর উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে স্যার স্টাফোর্ড ক্রিপস কে ভারতে প্রেরণ করলেন তিনি ভারতের এই রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হন । ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ব্যাপক গণমুখী আন্দোলনের পথ বেছে নেয় । এভাবেই ভারতছাড়ো আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল ।
১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ১৪ জুলাই গান্ধীজীর ভারতছাড়ো প্রস্তাব গৃহীত হওয়াকে কেন্দ্র করে তার নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী দল অহিংস আন্দোলন সৃষ্টি হয় তা ভারত ছাড়ো আন্দোলন নামে পরিচিত । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে মজুরি হ্রাস পায় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় । ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বৃদ্ধি পায় । তাই ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাইয়ের সুতোকলের শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিলে বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা আন্দোলনে যোগ দেয় ।

জাতীয় কংগ্রেস ও বামপন্থী দলের প্রভাব : ভারতছাড়ো প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর দিন ৯ আগস্ট গান্ধীজী , জহরলাল , মৌলানা আজাদ , সরদার প্যাটেল , রাজেন্দ্রপ্রসাদ প্রমুখ কংগ্রেসের সকল শীর্ষস্থানীয় নেতারা গ্রেফতার হলেন এবং ব্রিটিশ সরকার জাতীয় কংগ্রেসকে বেআইনি সংগঠন রূপে ঘোষণা করে ও ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমিতি নিষিদ্ধ করে এবং ব্যাপক দমন নীতি অনুসরণ করে । ফলে সর্বত্র হরতাল পালিত হয় সভা সমিতির মাধ্যমে জনগণ বিক্ষোভ জানাতে থাকে । এইভাবে সাম্রাজ্যঃ বিরোধী আন্দোলনের শ্রমিকশ্রেণী সেভাবে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে তা ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত গৌরবজনক । ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে , ১৬২৯ টি ধর্মঘট ঘটে এবং তাতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ শ্রমিক অংশ নেয় । শুধু তাই নয় ওই বছর বোম্বাইয়ের নৌ বিদ্রোহের সময় ধর্মঘটের সমর্থনে বোম্বাই এবং কলকাতা প্রভৃতি স্থানে শ্রমিক ধর্মঘট পালিত হয় । আবার আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাঅফিসারদের বিচারে তাদের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে ওঠে তাতে শ্রমিকশ্রেণী অংশগ্রহণ করেনি । এইসব আন্দোলন গুলিতে বামপন্থী দলের জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল । জাতীয় কংগ্রেসের নেতারা আশান্বিত হয়ে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত করলে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সাম্রাজ্যবিরোধী এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করে ।

ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি : নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা AITUC এর কার্যকলাপ কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার ফলে বামপন্থীরা ও সমাজপন্থীরা প্রকাশ্যে কাজ করতে অসুবিধা বোধ করছিলেন ।এই কারণে তাদের প্রচেষ্টায় ১৯২৭ খিষ্টাব্দে বোম্বাইতে প্রতিষ্ঠিত হয় ওয়াকার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টি (কৃষক মজদুর দল ) ।
প্রকৃতপক্ষে এই দল প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলায় , ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর । দলের প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম , কুতুবউদ্দিন আহমেদ , হেমন্তকুমার সরকার প্রমুখ । এরপর ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার কৃষ্ণনগরে যে ‘ সারা বাংলা প্রজা সম্মেলন ‘ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে ‘ কৃষক শ্রমিক দল’ গঠনের প্রস্তাব পাস হয় । এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা ফয়েজ উদ্দিন হোসেন সাহেব এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন হেমন্তকুমার সরকার এবং কুতুবউদ্দিন আহমেদ । পরবর্তীকালে কমিউনিস্ট দলের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্রনাথ রায় ও এই দলের প্রতিষ্ঠার কাজে অংশগ্রহণ করে । ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ শ্রমিক কৃষক দল ‘ ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top