দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৪ - সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৪ – সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

পাঠ পরিকল্পনা :

জনগণের সংঘবদ্ধতার প্রেক্ষাপট – ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র বিশ্লেষণ – মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে জাতীয় এবং ইউরোপীয় পণ্ডিতদের মতামত এবং বিশ্লেষণ – বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার বিশ্লেষণ – মহাবিদ্রোহ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া মহারানীর ঘোষণাপত্র – সভা সমিতির যুগ কি ? বৈশিষ্ট্য এবং বিশ্লেষণ – বিভিন্ন সভা এবং সমিতি – লেখায় ও রেখায় জাতীয়তাবাদের প্রকাশ – বৈশিষ্ট্য এবং বিশ্লেষণ – বিভিন্ন সাহিত্য – গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র এবং উপনিবেশিক সমাজের সম্পর্ক আলোচনা ।

 

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :

 ১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সংগঠিত বিদ্রোহ ছিল – মহাবিদ্রোহ / গণবিপ্লব / গণ-আন্দোলন / গণপ্রতিরোধ :

উত্তর : মহাবিদ্রোহ ।

২. সংঘবদ্ধতার গোড়ায় সংঘবদ্ধতার রূপ ছিল – ১/২/৪/৩ টি ।

উত্তর : ৩ টি ।

৩. ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে ভারতে অসামরিক বিদ্রোহের সংখ্যা ছিল – ৩২/৪৫/৩৪/৫৩ টি ।

উত্তর : ৫৩ টি ।

৪. মহাবিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিলো প্রায় – ১ লক্ষ বর্গ মাইল / ৪ লক্ষ বর্গ মাইল / ৩ লক্ষ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ।

উত্তর : ১ লক্ষ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ।

৫. ১৮৫৭ এর বিদ্রোহে প্রাণ গিয়েছিল প্রায় – ৪/৩/১/২ লক্ষ মানুষের ।

উত্তর : ২ লক্ষ মানুষের ।

৬. সাভারকারের মতে এটি ছিল – প্রথম কৃষক বিদ্রোহ / প্রথম আন্তর্জাতিক ঘটনা / প্রথম গণবিদ্রোহ/ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ।

উত্তর : ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ।

৭. ‘1857 in our History ‘ প্রবন্ধটি রচনা করেন – পি শি যোশী / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / রামমোহন / ঈশ্বর গুপ্ত।

উত্তর : পি শি যোশী ।

৮. ‘ ১৮৫৭ ও বাংলাদেশ ‘ গ্রন্থটি লিখেছেন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / রামমোহন রায় / ঈশ্বর গুপ্ত / সুকুমার মিত্র।

উত্তর : সুকুমার মিত্র ।

৯. ” বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া স্বদেশের কুকুর পূজা করিব ” – এ কথা বলেছেন – সুকুমার মিত্র / ঈশ্বর গুপ্ত/ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় / রামমোহন ।

উত্তর : ঈশ্বর গুপ্ত ।

১০. মহারানীর ঘোষণাপত্র প্রকাশ পায় – ১৮৫৬/১৮৬৫/১৮৫৮/১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ।

১১. কত খ্রিস্টাব্দে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স ২৩ থেকে কমিয়ে ১৯ করা হয় ? – ১৮৫৬/১৮৭৬/১৮৪৫/১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দ ।

উত্তর : ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দ ।

১২. ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গড়ে ওঠে – ১৮৪৫/১৮৩৯/১৮৫৫/১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর : ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে ।

১৩. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন গড়ে ওঠে – ১৮৫০/১৮৭৬/১৮৪৩/১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে ।

১৪. হিন্দুমেলা গড়ে ওঠে – ১৮৭৬/১৮৬৭/১৮২৩/১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ।

১৫. মহাজন’ সভা গড়ে ওঠে – ১৮৬৭/১৮৯৯/১৮৮৪/১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে ।

১৬. ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটির প্রথম সভাপতি ছিলেন – রাধাকান্ত দেব / রামমোহন রায় / উইলিয়াম অ্যাডাম/ জর্জ টমসন ।

উত্তর : রাধাকান্ত দেব ।

১৭. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি গড়ে ওঠে – ১৮৬৫/১৮৫৬/১৮৪৩/১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে ।

১৮. ইন্ডিয়ান লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৮৪৫/১৮৭৫/১৮৫৬/১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর : ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে ।

১৯. পুনা সার্বজনীক সভা গঠিত হয়েছিল – ১৮৫৫/১৮৭০/১৮৪৪/১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে ।

২০. বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন – রাজা রামমোহন রায় / দ্বারকানাথ ঠাকুর/ প্রসন্নকুমার ঠাকুর / গৌরীশংকর তর্কবাগীশ ।

উত্তর : গৌরীশংকর তর্কবাগীশ ।

২১. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন বা ভারত সভা গঠিত হয় কার নেতৃত্বে ? – সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় / শিবনাথ শাস্ত্রী / আনন্দমোহন বসু / রাজা রামমোহন রায় ।

উত্তর : সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।

২২. কলকাতা ছাত্রসভা গঠিত হয় – ১৮৬৬/১৮৭৬/১৮৯৯/১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে ।

২৩. দেশীয় সংবাদপত্র এবং অস্ত্র আইন জারি করেন – ওয়ারেন হেস্টিংস / লর্ড রিপন / লর্ড লিটন / লর্ড আমহার্স্ট ।

উত্তর : লর্ড লিটন ।

২৪. হিন্দুমেলার প্রতিষ্ঠা করেন – রাজনারায়ণ বসু / গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর / নবগোপাল মিত্র/ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।

উত্তর : নবগোপাল মিত্র ।

২৫. ‘ গাও ভারতের জয় ‘ সঙ্গীতটি – সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের / দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের / গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের/ যতীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ।

উত্তর : সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ।

২৬. আনন্দমঠ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৮৭৬/১৮৮২/১৮৮৪/১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর : ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ।

২৭. গোরা রচনা করেন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় / গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর / দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

২৮. ‘ অম্বা ‘ শব্দের অর্থ হলো  – মা / বাবা / ভাই / বোন ।

উত্তর : মা ।

২৯. ভারতমাতা ছবিটি অংকন করেছেন – গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর / অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ।

উত্তর : অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

৩০. ‘ সংকর জাতের বাঙালি ‘ কার্টুনটি এঁকেছেন – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় / গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

উত্তর : গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

 

শূন্যস্থান পূরণ করো :

১. মহা বিদ্রোহ সংঘটিত  হয়েছিল _______ খ্রিস্টাব্দে ?

উত্তর : ১৮৫৭ ।

২. মহা বিদ্রোহ ছিল ভারতের প্রথম _______ ?

উত্তর : জাতীয় বিদ্রোহ ।

৩. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের পর  ভারতের শাসন ক্ষমতা প্রদান করা হয় _____________ ?

উত্তর : মহারানী ভিক্টোরিয়া কে।

৪. সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বছর বয়স _____  থেকে কমিয়ে _____ করা হয় ।

উত্তর : ২৩ ; ১৯ ।

৫. মহারানীর ঘোষণাপত্রে _______ নীতি বিলোপ করা হবে বলে বলা হয়েছিল ।

উত্তর : স্বত্ববিলোপ ।

৬. বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা ______ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ।

উত্তর : ১৮৩৭ ।

৭. ভারতসভা ______ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ।

উত্তর : ১৮৭৬ ।

৮. উনিশ শতক কে ____________ এর যুগ বলা হয় ।

উত্তর : সভা-সমিতি ।

৯. ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি ______ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ।

উত্তর : ১৮৩৯ ।

১০. ভারতসভা বর্তমানে ____________ নামে পরিচিত । উত্তর : কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউস ।

 

স্তম্ভ মেলাও :

 ক স্তম্ভখ স্তম্ভ
1) দেশীয় সংবাদপত্র অস্ত্র আইন।a) ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দ
2) ইলবার্ট বিল।b) ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ
3) হিন্দু মেলা।c) ১৮৭৮  খ্রিষ্টাব্দ
4) ভারত সভা।d) ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ

উত্তর: 1 – c, 2 – d, 3 – a, 4 – b

 
ক স্তম্ভখ স্তম্ভ
1) জাতীয় বিদ্রোহ।a) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
2) প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন।b) সিপাহী বিদ্রোহ
3) সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন।c) ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটি
4) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।d) ভারতমাতা

উত্তর : 1 – b, 2 – c, 3 – a, 4 – d

একটি কথায় উত্তর দাও :

১. সংঘবদ্ধতার প্রথম রূপ কোনটি ছিল ?

উত্তর : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ ।

২. সংঘবদ্ধতার দ্বিতীয় রূপ কোনটি ছিল ?

উত্তর : সভা ও সমিতি ।

৩. সংঘবদ্ধতার তৃতীয় রূপ কোনটি ছিল ?

উত্তর : জাতীয়তা বোধের উন্মেষ ।

৪. মহাবিদ্রোহের একজন অন্যতম নেত্রীর নাম লেখ ।

 উত্তর : ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ ।

৫. ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার মহাবিদ্রোহ কে কি বলে আখ্যা করেছেন ?

উত্তর : সামন্ত শ্রেণীর ক্ষমতা দখলের প্রয়াস ।

৬. মহাবিদ্রোহের আসল লক্ষ্য কী ছিল ?

উত্তর : ইংরেজ রাজত্বের অবসান ।

৭. ‘ স্বাধীনতার অগ্রদূত ‘ বলে কোন কবি পরিচিত ?

উত্তর : ঈশ্বর গুপ্ত ।

৮. মহাবিদ্রোহের পর কাকে ভারতের শাসন ক্ষমতা প্রদান করা হয় ?

উত্তর : মহারানী ভিক্টোরিয়া কে ।

৯. রানীর প্রতিনিধি হিসেবে কাকে ভারত শাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ?

উত্তর : গভর্নর জেনারেল কে ।

১০. মহারানীর ঘোষণাপত্র কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ?

উত্তর : ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ।

১১. কত খ্রিস্টাব্দে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার বয়স ২৩ কে কমিয়ে ১৯ করা হয় ?

উত্তর : ১৮৭৬ ।

১২. জমিদার সভা কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর : ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে ।

১৩. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি কত খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয় ?

উত্তর : ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে ।

১৪. মাদ্রাজ নেটিভ অ্যাসোসিয়েশন কত খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে ।

১৫. ইন্ডিয়ান লীগ কত খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ?

উত্তর : ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে ।

১৬. উনিশ শতককে সভা সমিতির যুগ বলে চিহ্নিত করেন ?

উত্তর : ডক্টর অনিল শীল ।

১৭. ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটির উদ্দেশ্য কি ছিল ?

উত্তর : জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা ।

১৮. ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি কে স্থাপন করেন ?

উত্তর : উইলিয়াম অ্যাডাম ।

১৯. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি কে গড়ে তোলেন ?

উত্তর : জর্জ টমসন ।

২০. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি এর সম্পাদক কে ছিলেন ?

উত্তর : প্যারীচাঁদ মিত্র ।

২১. বোম্বাই অ্যাসোসিয়েশন কে গড়ে তোলেন ?

উত্তর : দাদাভাই নওরোজি ।

২২. বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ?

উত্তর : গৌরীশংকর তর্কবাগীশ ।

২৩. ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটির অপর নাম কি ছিল ?

উত্তর : ভূম্যধীকারী সমিতি ।

২৪. ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটির প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ?

উত্তর : রাধাকান্ত দেব ।

২৫. কার নেতৃত্বে ভারতসভা গঠন হয় ?

উত্তর : সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ।

২৬. দেশীয় সংবাদপত্র এবং অস্ত্র আইন কবে চালু করা হয় ?

উত্তর : ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে ।

২৭. ইলবার্ট বিল কত খ্রিস্টাব্দে পাশ করা হয় ?

উত্তর : ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে ।

২৮. ‘ Petition to Agitation ‘ গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর : মঞ্জু চট্টোপাধ্যায় ।

২৯. কোন সময়কাল কে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উদ্ভব এবং বিকাশের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ?

উত্তর : ১৮৫৮ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ ।

৩০. হিন্দুমেলার প্রতিষ্ঠাতা কে ?

উত্তর : নবগোপাল মিত্র ।

৩১. হিন্দুমেলার অপর নাম কি ছিল ?

উত্তর : চৈত্র মেলা ।

৩২. হিন্দুমেলা সংগঠন থেকে কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হতো ?

উত্তর : ন্যাশনাল পেপার ।

৩৩. ‘ মেবার পতন ‘ কার লেখা ?

উত্তর : দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ।

৩৪. ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ‘ কার লেখা ?

উত্তর : মধুসূদন রায় ।

৩৫. ‘ পলাশীর যুদ্ধ ‘ কার লেখা ?

উত্তর : নবীনচন্দ্র সেন ।

৩৬. ‘ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ‘ কার লেখা ?

উত্তর : স্বামী বিবেকানন্দ ।

৩৭. মারাঠি ভাষার একজন সাহিত্যকার এর নাম লেখ ?

উত্তর : জি এইচ দেশমুখ ।

৩৮. আনন্দমঠ এর বিষয়বস্তু কি ছিল ?

উত্তর : স্বদেশ ও দেশ প্রেম ।

৩৯. বর্তমান ভারত কত খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ?

উত্তর : ১৯০৫ ।

৪০. গোরা উপন্যাস কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ?

উত্তর : ১৯১০ ।

৪১. গোরা উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ?

উত্তর : প্রবাসী পত্রিকা ।

৪২. অম্বা শব্দের অর্থ কি ?

উত্তর : মা ।

৪৩. ভারতমাতা নাটকটি কার লেখা ?

উত্তর : কিরণ চন্দ্র ব্যানার্জি ।

৪৪. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কত খ্রিস্টাব্দে ?

উত্তর : ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ।

৪৫. সংস্কার আইনের ব্যর্থতা নিয়ে কে কার্টুন চিত্র এঁকেছেন ?

উত্তর : মন্টেগু-চেমসফোর্ড ।

৪৬. সংকর  জাতের বাঙালি নামক কার্টুনটি কে এঁকেছেন ?

উত্তর : গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

৪৭. কোন কার্টুনে জগদীশচন্দ্র বসু কে বিষয়বস্তু হিসেবে দেখানো হয় ?

উত্তর : জগদীশের ধ্যানভঙ্গ ।

৪৮. জগদীশের ধ্যানভঙ্গ কার্টুনে বাঁশ গাছ গুলি কি করছিল ?

উত্তর : চাঁদা আদায় ।

৪৯. জগদীশের ধ্যানভঙ্গ কার্টুনে পদ্মফুল কি করছিল ?

উত্তর : বন্দেমাতরম ধ্বনি দিচ্ছিল ।

৫০. বিপিনচন্দ্র চন্দ্র পাল এর মতে ভারতমাতা বলতে কী বোঝানো হয় ?

উত্তর : আধ্যাত্মিকতা এবং হিন্দু দর্শন চিন্তা ।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন :

১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহে মঙ্গল পান্ডের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সামরিক ছাউনিতে মঙ্গল পান্ডে নামক একজন সিপাহী একজন ইংরেজ সামরিক কর্মচারীকে আহত করেন । বিচারে মঙ্গল পান্ডের ফাঁসি হয় । এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন সামরিক ছাউনি তে শুরু হয়ে যায় বিদ্রোহ ।

২. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহে কৃষকদের অংশগ্রহণ সংক্ষেপে বর্ণনা করো ।

উত্তর : বিদ্রোহের শুরুতে কৃষকেরা অংশগ্রহণ না করলেও বিদ্রোহ যত এগিয়েছে কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে । পাঞ্জাব , মিরাট সহ বেশকিছু অঞ্চলের কৃষকরা রেললাইন , টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে প্রশাসনযন্ত্রকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল ।

৩. মহাবিদ্রোহ কে ‘ জাতীয় বিদ্রোহ ‘ বলা হয় কেন ?

উত্তর : ব্যাপকতা এবং জীবনহানির দিক থেকে পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ফরাসি বিপ্লব ছাড়া আর কোন বিদ্রোহে এই বিদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটেনি । প্রায় ১ লক্ষ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিদ্রোহ প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ মানুষের। বিদ্রোহীদের দখলীকৃত অঞ্চলে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের বসবাস ছিল । তাই এই বিদ্রোহকে ‘ জাতীয় বিদ্রোহ ‘ বা ‘ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ‘ বলা হয় ।

৪. মহারানীর ঘোষণাপত্র বলতে কী বোঝো ?

উত্তর : মহাবিদ্রোহের পর ইংল্যান্ড সরকার ভারতের শাসনভার কোম্পানির হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ আগস্ট ইংল্যান্ডের রাজ শক্তির হাতে প্রদান করে । ইংল্যান্ডের রানী মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামে এই ঘোষণাটি করা হয়েছিল বলে একে মহারানীর ঘোষণাপত্র বলা হয় ।

৫. সভা সমিতির যুগ এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর : ডক্টর অনিল শীল উনিশ শতক কে সভা সমিতির যুগ বলে চিহ্নিত করেন ।

1. এইসময় ভারতীয়রা পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ করে জাতীয়তাবাদ এবং যুক্তিবাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তারা মানুষকে সংগঠিত করতে শুরু করেন ।
2. বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন কৃষক , আদিবাসী , সন্ন্যাসী , ফকির রা এই সময় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন ।

৬. সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর: ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯-৩০ ডিসেম্বর কলকাতার অ্যালবার্ট হলে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে জাতীয় সম্মেলন সংঘটিত হয় । ইলবার্ট বিল প্রত্যাহার করা এবং ভারতীয়দের কাজের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের মধ্যে সমমর্যাদা দাবি করা সহ আরো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এই সম্মেলন থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল ।

৭. বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা গঠিত হয় । টাকির জমিদার কালিনাথ চৌধুরী, প্রসন্নকুমার ঠাকুর এবং রাজা রামমোহন রায়ের কিছু অনুগামীরা এই সভা গঠন করেছিলেন । এই সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন গৌরীশংকর তর্কবাগীশ । এই সভার আলোচিত বিষয় ও সদস্যদের বিতর্কে স্বদেশ ভাবনা ও রাজনৈতিক চেতনার পরিচয় পাওয়া যায় ।

৮. ভারতসভার উদ্দেশ্য লেখ ।

উত্তর : ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই ভারতসভা গঠিত হয় ।

উদ্দেশ্য :
1. দেশব্যাপী শক্তিশালী জনমত গঠন করা ।
2. হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করে তোলা।
3. ভারতবাসীকে গণ আন্দোলনে শামিল করা ।

৯. ‘ আনন্দমঠ ‘ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু কি ছিল ?

উত্তর : উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের মধ্যে একজন ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ।১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে তার আনন্দমঠ উপন্যাসটি প্রকাশ পায় । এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ এবং দেশপ্রেম । এই উপন্যাসে ইংরেজবিরোধী সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি নানা প্রসঙ্গ লেখেন এবং এই সমস্ত বিষয়বস্তু মধ্যবিত্ত হিন্দু বাঙালির মনে অসাধারণ উদ্দীপনা শক্তির জন্ম দিয়েছিল । বঙ্কিমচন্দ্র রচিত বন্দেমাতরম সঙ্গীতটি আনন্দমঠ উপন্যাসের সঙ্গীত হিসাবে পরিচিতি পায় । এই সঙ্গীতটি পরবর্তীকালে বিপ্লবীদের জাতীয়তাবাদের মন্ত্র হয়ে অনুপ্রেরণা যোগায় ।

১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ গোরা ‘ উপন্যাসের বিষয়বস্তু লেখ ।

উত্তর : ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গোরা উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় । এটি কবিগুরুর বৃহত্তম বারোটি উপন্যাসের মধ্যে পঞ্চম । এই উপন্যাসের চরিত্র ছিল ভিন্ন প্রকৃতির । ১৯০৭-০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে । এই উপন্যাসটি ছিল তীব্রভাবে ইংরেজ বিরোধী । আচার বিচারের বিরুদ্ধে গোরা জেদের বশে ব্রাহ্মণদের তর্কযুদ্ধে পরাস্ত করতে । গোরার মধ্যে একদিকে যেমন স্বদেশী যুগ এর সত্যপথ আবিষ্কারের প্রয়াস রয়েছে তেমনি রয়েছে আত্মানুসন্ধানের আগ্রহ । উপন্যাসের শেষের দিকে গোরা লচমিয়া এর হাতে জল খেয়ে তার নিজের সংস্কার মুক্তির কথা কাজে ঘোষণা করেছে । এর পরেই গোরার মনে প্রসারিত শান্তি এসেছে যা ঝড়ের পরের প্রকৃতির মতো শান্ত ।

 

বিশ্লেষণমূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন :

১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ এর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ ছিল ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম , গুরুত্বপূর্ণ এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঘটনা ।

গণবিদ্রোহ :   ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সকল শ্রেণীর সকল ধর্মাবলম্বী জনসাধারণ তাদের শ্রেণীগত এবং ধর্মীয় বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল । তাই এই বিদ্রোহ টি একটি গণবিদ্রোহে পরিণত হয়েছিল ।

জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহ : আধুনিককালের জাতীয়তাবাদের স্পষ্ট রূপ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের মধ্যে ছিল না । তথাপি মোগল সম্রাট কে জাতীয় সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করে বিদ্রোহীরা ঔপনিবেশিক শাসন বিরোধী জাতীয়তাবাদী চরিত্র প্রকাশ করে ।

আন্তর্জাতিক ঘটনা : বিদ্রোহে সিপাহীদের আক্রমণে ইউরোপীয় অফিসারদের হত্যার ঘটনা শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের নয় ফ্রান্স এবং রাশিয়াতে ও ছড়িয়ে পড়ে । বাকিংহামের সদস্য বেঞ্জামিন ডিসরেইলি ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে ‘ one of the greatest calamities that ever befell this Empire has fallen upon us ‘ কাল মার্কস এবং অ্যাঙ্গেলসকে এই বিদ্রোহ গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল ।

২. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব উল্লেখ করো । ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের গুরুত্ব লেখ ।

উত্তর :

শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব :  বেশিরভাগ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি শ্রেণীর মহাবিদ্রোহের সময় নীরব দর্শক হয়ে ইংরেজদের জয় কামনা করেছিল । সুকুমার মিত্র তাঁর ‘ ১৮৫৭ ও বাংলাদেশ ‘ গ্রন্থে বলেছেন , ‘ স্বাধীনতার অগ্রদূত ‘ বলে কথিত কবি ঈশ্বর গুপ্ত ‘ বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া স্বদেশের কুকুর পূজা করিব ‘ বলে আস্ফালন করতেন এবং তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য নানাসাহেব , ঝাঁসির রানী এবং অন্যান্য নেতৃত্ব দেন কুৎসিত কটাক্ষ করতেন । প্রকৃতপক্ষে যে সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের জন্য বাংলার সমাজ সংস্কারক দের প্রগতিশীল বলা হয় তাদের সংস্কার সীমাবদ্ধ ছিল কেবল নিজেদের সমাজের মধ্যে । কালীপ্রসন্ন সিংহ , হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ কতিপয় ব্যক্তি ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণী মহাবিদ্রোহের বিরোধী ছিলেন । পরবর্তীকালে এদের অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলে এরাও ইংরেজবিরোধী হয়ে উঠেছিলেন ।

মহা বিদ্রোহের গুরুত্ব:
1. ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের শাসনভার কোম্পানির হাত থেকে মহারানী ভিক্টোরিয়ার হাতে প্রদান করা হয় ।
2. রানীর প্রতিনিধি হিসাবে গভর্নর জেনারেল কে ভারতের শাসন ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
3. ভারত সচিবের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা হয় ।
4. মহারানীর ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয় ।
5. ভাইসরয়ের আইন পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে ভারতীয় প্রতিনিধি গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয় ।

৩. জাতীয়তাবোধের বিকাশে জমিদার সভা এবং ভারতসভার ভূমিকা লেখ ।

উত্তর :

জমিদার সভা : রাজনৈতিক সমিতি গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হল জমিদার সভা বা ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটি । ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দের ১২ নভেম্বর দ্বারকানাথ ঠাকুর , রাধাকান্ত দেব , প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রমুখ বিত্তশালী জমিদার স্থানীয় ব্যক্তি হিন্দু কলেজে সমবেত হয়ে জমিদার সভা প্রতিষ্ঠা করেন । এই সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন রাধাকান্ত দেব । রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মতে ” এই সোসাইটি ছিল এদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ” । অনেক শ্বেতাঙ্গ জমিদার এর সদস্য ছিল । এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা বিহার এবং উড়িষ্যার জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা । পরবর্তীকালে সমিতির শাখা বাংলার প্রত্যেক জেলায় ছড়িয়ে পড়ে । এই সর্বপ্রথম স্বাধীন ভাবে রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করার পথ বেছে নিয়েছিল ।

ভারতসভা : ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বে ভারতসভা ছিল সবথেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক সমিতি । ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই কলকাতার এলবার্ট হলে ( যেটি বর্তমানে কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউস’ নামে পরিচিত ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই সমিতি গঠন হয় যার অপর নাম ছিল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন । এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন আনন্দমোহন বসু , শিবনাথ শাস্ত্রী , দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ ।

৪. ভারতসভার কার্যাবলী এবং গুরুত্ব লেখ ।

উত্তর :

কার্যাবলী : ভারতের জাতীয়তা বোধের বিকাশে ভারত সভা একাধিক আন্দোলন পরিচালনা করে ।
1. ব্রিটিশ সরকার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার বয়স 21 থেকে কমিয়ে 19 করার ফলে ভারতীয় ছাত্ররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে থাকে । ভারতসভা এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় । আইনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের জন্য সুরেন্দ্রনাথ দেশব্যাপী ভ্রমণ করেন ।
2. ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে লর্ড নর্থব্রুক নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করলে এই সংগঠন এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় ।
3. ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড লিটন দেশীয় সংবাদপত্র এবং অস্ত্র আইন জারি করলে ভারতসভা তীব্র আন্দোলন করে ।
4. ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইলবার্ট বিল পাস হওয়ায় ভারতসভা এর তীব্র প্রতিবাদ করে এবং আন্দোলন শুরু করে ।

গুরুত্ব : ভারতসভা ছিল সর্বভারতীয় আন্দোলন মঞ্চ ।  সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মঞ্চ কে কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী জাতীয়তাবাদের প্রচার এবং মানুষকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেছিলেন ।

৫. ভারতের জাতীয়তাবাদের বিকাশে হিন্দুমেলার ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : ভারতের জাতীয়তাবাদের আদর্শ প্রচার করার জন্য রাজনারায়ণ বসুর যোগ্য শিষ্য নবগোপাল মিত্র ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুমেলার প্রতিষ্ঠা করেন । হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠিত পিছনে নবগোপাল মিত্রের সহযোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর , দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর , গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর , মনমোহন ঘোষ প্রমুখ। চৈত্র সংক্রান্তির দিন এই মেলা আত্মপ্রকাশ করেছিল বলে এর অপর নাম ‘ চৈত্র মেলা ‘। এই সংগঠন থেকে ‘ ন্যাশনাল পেপার ‘ বলে একটি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছিল ।

হিন্দুমেলার প্রধানত দুটি উদ্দেশ্য ছিল –
1. হিন্দু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা ।
2. আত্মনির্ভর ভারতবর্ষের প্রতিষ্ঠা করা ।

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ গাও ভারতের জয় ‘ এই সঙ্গীতটি ছিল ভারতের জাতীয় সংগীতের প্রাথমিক ধারণা । হিন্দুমেলায় প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং শিল্পীদের পুরস্কার প্রদান করা হতো । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , রজনীকান্ত গুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বরা এখান থেকে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন এবং মেলায় যেসব প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো সেখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল ।  এই ভাবেই ভারতের জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণে হিন্দুমেলার অবদান অপরিসীম ।

 

বিশ্লেষণমূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন :

১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের চরিত্র লেখ ।

উত্তর : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ছিল ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম , গুরুত্বপূর্ণ এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঘটনা। ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ করে বিদ্রোহের চরিত্রের স্পষ্ট রূপরেখা নির্ণয় করা যায় ।

গণবিদ্রোহ : ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন শ্রেণীর সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ জন তাদের সমস্ত বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মহাবিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল । ফলে এই বিদ্রোহ একটি গণবিদ্রোহের রূপ নিয়েছিল ।

হিন্দু মুসলমান ঐক্য : এই বিদ্রোহের অন্যতম চরিত্র ছিল হিন্দু মুসলমান ঐক্য । হিন্দু মুসলমান সিপাহীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মুঘল সম্রাটকে দেশের প্রধান শাসক হিসেবে বরণ করে যেভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন তাতে দেশের সম্প্রদায়গত ঐক্য ফুটে ওঠে । এই বিদ্রোহে আমরা হিন্দু মুসলমান ঐক্যের মধ্য দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় পাই ।

জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহ : আধুনিককালের জাতীয়তাবাদের স্বরূপ এই বিদ্রোহের মধ্যে ছিল না । মুঘল সম্রাটকে জাতীয় সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহীদের ঔপনিবেশিক শাসন বিরোধী জাতীয়তাবাদী চরিত্র প্রস্ফুটিত হয় ।

আন্তর্জাতিক ঘটনা : বিদ্রোহে সিপাহীদের আক্রমণে ইউরোপীয় অফিসারদের হত্যার ঘটনা শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের নয় ফ্রান্স এবং রাশিয়াতে ও ছড়িয়ে পড়ে । বাকিংহামের সদস্য বেঞ্জামিন ডিসরেইলি ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে ‘ one of the greatest calamities that ever befell this Empire has fallen upon us ‘ কাল মার্কস এবং অ্যাঙ্গেলসকে এই বিদ্রোহ গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল ।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের কেন্দ্রস্থল

স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রয়াস :  ভারতের ইতিহাসে এই বিদ্রোহ ছিল সর্বপ্রথম একটি গণবিদ্রোহ যার মাধ্যমে বিদ্রোহীরা বিদেশি শাসনকে অপসারিত করে ভারতকে মুক্ত করতে চেয়েছিল এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রয়াস চালিয়েছিল । অনেক ঐতিহাসিকদের মতে এটি ছিল একটি জাতীয় বিদ্রোহ বা ‘ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ‘ । ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার এর মতে এটি ছিল সামন্ত শ্রেণীর ক্ষমতা দখলের প্রয়াস ।

কৃষকদের অংশগ্রহণ : বিদ্রোহের শুরুতে কৃষকেরা অংশগ্রহণ না করলেও বিদ্রোহ যত এগিয়েছে কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে । পাঞ্জাব , মিরাট সহ বেশকিছু অঞ্চলের কৃষকরা রেললাইন , টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে প্রশাসনযন্ত্রকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল ।

দেশাত্মবোধ ও জাতীয় চেতনা :  নানা দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও এই বিদ্রোহ বিদ্রোহের নেতৃত্ব এবং জনগণ আত্মত্যাগ ও বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন । বিদ্রোহের অন্যতম নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ , নানাসাহেব , কুনওয়ার সিং প্রমুখ যারা রণাঙ্গনে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ।

২. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের সঙ্গে জাতীয়তাবোধের সম্পর্ক এবং বিতর্ক আলোচনা করো ।

উত্তর : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিক এবং পন্ডিত মহলে দুটি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে । অনেকে মনে করেন এই বিদ্রোহটি ছিল শুধুমাত্র সিপাহিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ একটি সামরিক অভ্যুত্থান আবার অনেকে মনে করেন এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জাতীয় অভ্যুত্থান ।

ব্যাপকতা এবং জীবনহানির দিক থেকে পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ফরাসি বিপ্লব ছাড়া আর কোন বিদ্রোহে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটেনি । প্রায় ১ লক্ষ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এই বিদ্রোহে প্রাণ দিয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ মানুষ । বিদ্রোহীরা যে সমস্ত অঞ্চল অধিকৃত করেছিল সেই সমস্ত অঞ্চলে অন্ততপক্ষে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের বাসস্থান ছিল । এই বিদ্রোহকে ‘ জাতীয় বিদ্রোহ ‘ বা ‘ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ‘ বলা হয় । ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার এর মতে এই বিদ্রোহ ছিল সামন্ত শ্রেণীর ক্ষমতা দখলের প্রয়াস । অনেকে বলেছেন সামন্ত শ্রেণি ছিল সমাজের অত্যাচারিত শ্রেণি । তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিদ্রোহ তে কৃষক সহ অন্যান্য শ্রেণীর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেনি । তাছাড়া দু একটি ক্ষেত্র বাদে সামন্ত এবং দেশীয় রাজাদের কোন উচ্চ দেশপ্রেমিক ভাবাদর্শ ছিল না । আবার অনেক সময় দেখা যায় এরা বিদ্রোহের প্রতীক বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন । রজনীপাম দত্ত , সুরেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখেরা এই বক্তব্য প্রকাশ করেন ।

বিদ্রোহ এবং জাতীয়তাবোধ: এই বিষয়ের পক্ষে যারা মত প্রকাশ করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কার্ল মার্কস , ফ্রেডারিক এঙ্গেলস , দামোদর বিনায়ক সভারকার প্রমুখ । মার্কস , এঙ্গেলস প্রমুখের মতে এটি ছিল একটি ‘ জাতীয় বিদ্রোহ ‘। দামোদর বিনায়ক সভারকার এর মতে এটি ছিল ‘ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ‘। আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে এই সময়ে মানুষের মধ্যে জাতীয় চেতনার উন্মেষ তেমনভাবে না ঘটলেও এই বিদ্রোহে জাতীয়তাবাদের স্পষ্ট দেখা যায় । অধ্যাপক পি শি যোশী তাঁর ‘ 1857 in our History ‘ গ্রন্থে বলেছেন , ‘ সমগ্র ভারতের জন্য জাতীয় সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও সর্বত্রই বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় চেতনা প্রকাশিত হয়েছিল ‘

প্রকৃত অর্থেই জাতীয় বিদ্রোহ :  বিদ্রোহের ব্যাক্তি জনসমর্থন দেখে একে জাতীয় বিদ্রোহ বলা হত ।১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রধানত মূল লক্ষ্য ছিল ইংরেজ রাজত্বের অবসান এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা ।

৩. মহারানীর ঘোষণাপত্র সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পর এই বিদ্রোহের ব্যাপকতা দেখে ইংল্যান্ডের সরকার ভারতের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে তুলে নিয়ে নিজের হাতে নিয়ে নেয় । ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ আগস্ট ইংল্যান্ডের রাজ শক্তির হাতে এই শাসনভার প্রদান করা হয় । এই ঘোষণাটি ইংল্যান্ডের রানী মহারানী ভিক্টোরিয়া নামে করা হয়েছিল বলে এটিকে ‘ মহারানীর ঘোষণাপত্র ‘ বা ‘ Queen’s proclamation’ বলা হয় ।

 এই ঘোষণাপত্রে ভারতীয়দের প্রতি ইংল্যান্ড সর্কার কিছু প্রতিশ্রুতি দেয় । 1. ভারতবাসীর প্রাচীন , ঐতিহ্য , ধর্মীয় এবং সামাজিক কোনো বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না । 2. জাতি , ধর্ম , বর্ন নির্বিশেষে সকলের প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে এবং পাশাপাশি ভারতীয়দের যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরকে সরকারি বিভিন্ন পদে সুযোগ দেওয়া হবে । 3. ব্রিটিশ সরকার আর নতুনভাবে ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তার করবে না 4. স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করা হবে । 5. দেশীয় অপুত্রক রাজাদের দত্তকপুত্র গ্রহণের অধিকার দেওয়া হবে ।

মহারানীর ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আসলে তার বেশির ভাগ গুলি ছিল শুধুমাত্র স্তোকবাক্য । ক্ষমতা হস্তান্তরের ফলে ভারতীয়দের আর্থসামাজিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি । ঘোষণাপত্রে প্রতিশ্রুতি গুলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় –

সামরিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করা : ব্রিটিশ সরকার ভারতে আর কোন সাম্রাজ্য বিস্তার করবে না এ কথা বলা হলেও সরকার সামরিক বিভাগকে ঢেলে সাজাবার ব্যবস্থা করে এবং সেনাবাহিনীতে সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে । এবং এক্ষেত্রে ভারতীয়দের থেকে ইউরোপীয়দের বেশি পরিমাণে নিয়োগ করা হতো ।

ভারতীয়দের যোগ্যতার অমর্যাদা করা : ঘোষণাপত্রে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নতুন শাসন ব্যবস্থায় প্রতিক্রিয়াশীল রূপ আরো বৃদ্ধি পায় । সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার বয়স ২৩ থেকে কমিয়ে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ১৯ করা হয়েছিল । এছাড়া উচ্চ বেতনের পদগুলিতে ভারতীয়দের পরিবর্তে ইংরেজি একচেটিয়াভাবে নিয়োগ করা হতো ।

মহারানীর ঘোষণাপত্রে যে সমস্ত আদর্শের কথা বলা হয়েছিল তারপরে অগ্রাহ্য করা হলেও এবং তার ফলে ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক হতাশার সঞ্চার করলেও এগুলি পরে তাদের নতুন পথের সন্ধান দিয়েছিল ।

৪. সভা সমিতির যুগ এর বৈশিষ্ট্য এবং মূল্যায়ন করো ।

উত্তর : কেমব্রিজ গোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ডক্টর অনিল শীল তাঁর ‘ দি এমার্জেন্স অফ ইন্ডিয়ান ন্যাশনালইজম : কম্পিটিশন এন্ড কোলাবরেশন ইন দি নাইনটিএথ সেঞ্চুরি ‘ গ্রন্থে উনিশ শতকে ‘ সভা সমিতির যুগ ‘ হিসেবে চিহ্নিত করেন ।

বৈশিষ্ট্য :
1. সভা সমিতির যুগে ভারতীয়রা পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ করতে শেখে এবং জাতীয়তাবাদ ও যুক্তিবাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করে । ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়রা মানুষকে সংগঠিত করতে শুরু করে ।
2. জমিদার এবং বিত্তশালী শ্রেণীর মধ্যে স্বার্থ বজায় রাখার জন্য কয়েকটি সংগঠন তৈরি করেছিল । এই সংগঠনগুলোর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল তাদের দাবি আদায় করা, ব্রিটিশ বিরোধিতা ছিল না বললেই চলে ।
3. ঊনবিংশ শতক জুড়ে ভারতীয় কবি , সাহিত্যিক , নাট্যকার , উপন্যাসিক , চিত্রকর প্রমুখের রচনা ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষকে সংগঠিত করতে সাহায্য করেছিল ।
4. ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে সভা-সমিতি গুলির রাজনৈতিক চরিত্র ছিল না ।
5. কৃষক , আদিবাসী , সন্ন্যাসী , ফকির প্রভৃতি সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে সংগঠিত প্রতিরোধ আন্দোলনে এগিয়ে আসার শিক্ষা দিয়েছিল ।
6. সরকারের কিছু দমনমূলক সিদ্ধান্ত যেমন ইলবার্ট বিল , জুরি , আইন সংবাদপত্র দমন আইন ভারতবর্ষে সংঘটিত চেতনার বহিঃপ্রকাশ এর সম্ভাবনা সুনিশ্চিত করেছিল ।

মূল্যায়ন :

ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটি : এই সংগঠনটি ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা পায় । এটি ছিল ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন । সভাপতি ছিলেন রাধাকান্ত দেব । এই সোসাইটির উদ্দেশ্য ছিল জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা ।

ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি : উইলিয়াম অ্যাডাম ইংল্যান্ডে ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দ এই সংগঠন স্থাপন করেন । এই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের কল্যাণের জন্য ইংরেজদের ভারতের বিষয়ে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা ।

বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি : এটি ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে জর্জ টমসনের উদ্যোগে স্থাপিত হয় । এই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের , রাজনৈতিক , সামাজিক অধিকার অর্জনের ব্যবস্থা করা । এর সম্পাদক ছিল প্যারীচাঁদ মিত্র ।

ইন্ডিয়ান লিগ : ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে শিশির কুমার ঘোষ এবং হেমন্ত কুমার ঘোষ এর নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান লীগ স্থাপিত হয় । এই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ , রাজনৈতিক চেতনা বিস্তার করা ।

বোম্বাই এসোসিয়েশন : দাদাভাই নওরোজি এর নেতৃত্বে ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাইতে এই সংগঠনটি গড়ে ওঠে ।

মহাজন সভা : তৎকালীন মাদ্রাজে যে সমস্ত সভা এবং সমিতিগুলি গড়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মহাজন সভা । এই সভার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপিত ১০০ সমিতিকে সঙ্ঘবদ্ধ করে একটি ব্যাপক জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলা ।

সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলন : রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯-৩০ ডিসেম্বর কলকাতার অ্যালবার্ট হলে এই জাতীয় সম্মেলন প্রতিষ্ঠিত হয় । ইলবার্ট বিল প্রত্যাহার করা এবং ভারতীয়দের কাজের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের মধ্যে সমমর্যাদা দাবি করা সহ আরো বেশ কিছু কর্মসূচি এই সম্মেলন থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল ।

৫. সাহিত্য ও চিত্রশিল্পে জাতীয়তাবোধের বিকাশ এর বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর : জাতীয়তাবোধ হলো এমন একটি ধারণা যেটি মানুষকে জাতি , বর্ণ , ধর্ম নির্বিশেষে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে । উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতবর্ষের ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ এবং বিকাশ ।১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ‘ ভারতের জাতীয়তাবাদের উদ্ভব এবং বিকাশকাল ‘ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় । উনিশ শতকে ভারতের জাতীয়তাবোধের উন্মেষ এবং বিকাশের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপাদান গুলির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাহিত্য এবং চিত্রশিল্প ।

সাহিত্য ও চিত্রশিল্পে জাতীয়তাবোধের বিকাশ এর বৈশিষ্ট্য :
1. উনিশ শতকের শুরু থেকেই দেশীয় সাহিত্যে ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাধীনতার ইচ্ছা রূপ পায়।
2. সাহিত্যের বিকাশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম ভাবে হয়েছিল । এই বিকাশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এক এক সময় দেখা গিয়েছিল এবং তার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয়তাবোধের বিকাশ বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছিল ।
3. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পূর্বে বাংলায় দেশাত্মবোধক সাহিত্যের বিকাশ ঘটেছিল ।
4. এই সময় ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্যের জন্ম হয়েছিল । ভারতীয় সাহিত্যিকেরা ইউরোপীয় ধ্যান-ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের লেখাগুলিতে স্বাধীনতা , স্বাধীকার এবং মানবতাবোধকে অন্তর্ভুক্ত করে ।দেশীয় সাহিত্যিকদের লেখা এই ধরনের সাহিত্য গুলি পড়ে ভারতীয়দের মনে জাতীয়তা বোধের সৃষ্টি হয় এবং তারা ক্রমশ সাম্রাজ্যবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে ।
5. উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে রচনাগুলি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিষ্ঠিত লেখকদের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছিল ।
6. এই সময়কার যে সমস্ত সাহিত্যিকেরা সাহিত্য রচনা করতেন তারা তাদের সাহিত্যের মাধ্যমে সংগঠিত জাতীয়তাবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন । যার ফলে পরবর্তীকালে গড়ে উঠেছিল অনেকগুলি রাজনৈতিক সংগঠন ।
7. আদিবাসী এবং কৃষকদের ওপর ব্রিটিশ সরকারের শোষণ এবং অত্যাচারের কাহিনী বর্ণনা করা হতো সেই সময়কার সমসাময়িক পত্র-পত্রিকাগুলিতে । পত্র-পত্রিকা ছাড়াও এই সময়ে এই ঘটনাগুলিকে নাটক এবং উপন্যাসের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তুলে ধরা হতো ।
8. অনেক সাহিত্যিক ব্যঙ্গাত্মক রচনা মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন যা জাতীয়তাবোধ বিকাশের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছিল ।
9. আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তি জাগরণের মত ভিন্নধর্মী ধারণা জাতীয়তাবোধ বিকাশের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিল ।
10. ব্যঙ্গ চিত্রের মাধ্যমে অনেক সাহিত্যিকও উপনিবেশিক সমাজের শোষণ এবং অত্যাচারকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছিল ।

মহাবিদ্রোহের পরবর্তীকালে দীনবন্ধু মিত্রের ‘ নীলদর্পণ ‘ ,  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ আনন্দমঠ ‘ , মধুসূদন দত্তের ‘ মেঘনাদবধ কাব্য ‘ , দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘ মেবার পতন ‘ , নবীনচন্দ্র সেনের ‘ পলাশীর যুদ্ধ ‘ ইত্যাদি সাহিত্য গুলি ভারতীয়দের মনে আত্মত্যাগ , আত্মদান , আত্মবিশ্বাস এর জন্ম দিয়েছিল । পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘ পরিব্রাজক ‘ , ‘ কর্মযোগ ‘ , ‘ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ‘ , ‘ বর্তমান ভারত ‘ প্রভৃতি নানা গ্রন্থের মাধ্যমে ভারতীয় দের মধ্যে নবচেতনার সৃষ্টি করেছিলেন । বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গানগুলি হিন্দু মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ করে ভারতে এক মহান গণসংগ্রামের প্রেরণা দিয়েছিল । শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় নয় বরং হিন্দি ভাষা , তামিল ভাষা , মারাঠি ভাষা প্রভৃতি ভাষায় রচিত সাহিত্য গুলি এই সময় ভারতীয়দের মনে জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটিয়েছিল ।

৬. জাতীয়তাবোধের বিকাশে ‘ বর্তমান ভারত ‘ এবং ‘ ভারতমাতা ‘ এর ভূমিকা লেখ ।

উত্তর :

বর্তমান ভারত গ্রন্থের প্রচ্ছদ

বর্তমান ভারত :  ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে উদ্বোধন পত্রিকা তে স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘ বর্তমান ভারত ‘ গ্রন্থটি প্রবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয় । ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে একটি গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় । স্বামী বিবেকানন্দ মনে করতেন যে ভারতবর্ষ যখন শুদ্রদের দ্বারা শাসিত হবে তখন ভারতবাসীদের ঘটবে আসল গণজাগরণ । এই গ্রন্থে স্বামীজি ভারতের অসহায় , দরিদ্র মানুষের প্রতি তাঁর অনুভূতি ব্যাখ্যা করেছেন ।
এই গ্রন্থে স্বামী বিবেকানন্দ প্রাচীন ভারতে বৈদিক ঋষি দের দ্বারা সমাজ শাসনকাল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসন কাল পর্যন্ত ভারতের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন । তিনি এই গ্রন্থে সমসাময়িক ভারতের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন । তিনি বলেছেন , পাশ্চাত্যের প্রভাব থেকে ভারতবাসীর মুক্তি লাভ প্রয়োজন । তাঁর মতে , জাতীয় ঐতিহ্য প্রকৃত জাতীয়তাবোধের প্রধান অবলম্বন ।

ভারতমাতা

ভারতমাতা : ‘ ভারতমাতা ‘ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ‘ ভারতাম্বা ‘ থেকে এসেছে ।’ অম্বা ‘ শব্দের অর্থ হলো  ‘ মা ‘ । ইংরেজিতে বলা হয় ‘ Mother India ‘ । এখানে ভারতকে দেবী মায়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে । দেবী দুর্গা সহ ভারতের সকল দেবীর এবং সংস্কৃতির সংমিশ্রিত রূপ ভারতমাতা । ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে তিনি বিরাজমান । ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে ‘ ভারতমাতা ‘ নামে কিরণচন্দ্র ব্যানার্জীর একটি নাটক প্রথম অভিনীত হয় । বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘ আনন্দমঠ ‘ উপন্যাসে বন্দেমাতারাম নামে একটি সংগীত ব্যবহার করেছিলেন যেটি পরবর্তীকালে ভারতীয়দের জাতীয়তাবোধের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিল । বিপিনচন্দ্র পাল ভারতমাতা বলতে আধ্যাত্মিকতা এবং হিন্দু দর্শন চিন্তাকে বুঝিয়েছেন । বিশ্বজাতীয়তাবোধ এবং হিন্দুত্ববাদের একটি ধারণা হলো ‘ ভারতমাতা ‘ । অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর আঁকা একটি চিত্রে ভারতমাতাকে চার হাতে অস্ত্র বিশিষ্ট , গাঢ় হলুদ রঙের শাড়ি পরিহিত এক হিন্দুদেবীরূপে চিত্রিত করেছেন । তিনি বেদ , ধানের আঁটি এবং সাদা কাপড় ধারণ করে আছেন । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিপ্লবীদের কাছে প্রেরণার প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছিল ভারতমাতা । এই ছবির গুনগ্রাহী ছিলেন সিস্টার নিবেদিতা । তার মতে ছবিটি ছিল শুধুমাত্র একটি ধারণা । নিবেদিতা ছবিটির বর্ণনা করে বলেছেন ভারতমাতা সবুজ পৃথিবীর উপরে দাঁড়িয়ে আছেন । তাঁর পিছনে আছে নীল আকাশ , চার কমলবিশিষ্ট পদ্ম যুগল , সশস্ত্র চার হাতে স্বর্গীয় ক্ষমতা , শ্বেত জ্যোতির্ময়ী মুখে করুণা মিশ্রিত চোখ । তিনি তার মাতৃভূমির  সন্তানদের শিক্ষা , দীক্ষা , অন্ন , বস্ত্র বিতরণ করছেন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top