দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৩ - প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ৩ – প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :

১. ব্রিটিশ সরকার ফরেস্ট চার্টার চালু করে – ১৮৭৬/১৮৫৫/১৮৫৬/১৮৪৪খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর: ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে।

২. প্রথম ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন চালু হয় – ১৮৬৬/১৮৫৫/১৮৪৩/১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর: ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে।

৩. রংপুর বিদ্রোহ হয় – ১৭৪৩/১৭৮৩/১৭৩২/১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর: ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে ।

৪. ‘ বিপ্লব ‘ কথার অর্থ হল – সম্পূর্ণ পরিবর্তন / আংশিক পরিবর্তন / আমূল পরিবর্তন /পরিবর্তনহীন

উত্তর: আমূল পরিবর্তন ।

৫. চুয়াড় বিদ্রোহ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন – সুজন সিংহ / সিধু / দুর্জন সিংহ / কানহু ।

উত্তর: দুর্জন সিংহ ।

৬. কোল উপজাতিদের বাসস্থান হল – ছোটনাগপুর / মেদিনীপুর / রংপুর / খান্দেশ ।

উত্তর: ছোটনাগপুর ।

৭. কোল বিদ্রোহ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন – বুদ্ধ ভগৎ / সুজন সিংহ / সিধু / দুর্জন সিংহ ।

উত্তর: বুদ্ধ ভগৎ ।

৮. ভিল বিদ্রোহ হয়েছিল ১৮১৯/১৮৫৬/১৮২০/১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর: ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে ।

৯. সাঁওতাল বিদ্রোহ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন – বুদ্ধ ভগৎ / দুর্জন সিং / সিধু / জোয়া ভগত ।

উত্তর: সিধু ।

১০. সন্ন্যাসী বিদ্রোহ নামকরণ করেন – গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস / লর্ড ক্যানিং / লর্ড ডালহৌসি লর্ড আমহার্স্ট ।

উত্তর: গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ।

১১. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন – মজনু শাহ / সিধু / দুর্জন সিংহ / বিরসা মুন্ডা ।

উত্তর: মজনু শাহ ।

১২. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলন সূচনা করেছিলেন – মহম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব / সৈয়দ আহমেদ/ তিতুমীর / ভবানী পাঠক ।

উত্তর: সৈয়দ আহমেদ ।

১৩. তিতুমীর বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু করেন – ১৮২৪/১৮২৭/১৮২৫/১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর: ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে ।

১৪. পাগলপন্থী ধর্মের প্রচারক ছিলেন – ভবানী পাঠক / কৃপা নাথ / করম শাহ / রামানন্দ গোসাই।

উত্তর: করম শাহ ।

১৫. ফরাজি আন্দোলনের প্রধান নায়ক ছিলেন – দুদুমিয়া / করম শাহ / বিরসা মুন্ডা / ভবানী পাঠক ।

উত্তর: দুদুমিয়া ।

১৬. পাবনার কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল – ১৮৬৫/১৮৪৫/১৮৭০/১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে।

উত্তর: ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে ।

১৭. ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় যে বিদ্রোহ হয়েছিল – সাঁওতাল বিদ্রোহ / মুন্ডা বিদ্রোহ / ভিল বিদ্রোহ / নীল বিদ্রোহ ।

উত্তর: নীল বিদ্রোহ।

১৮. নীল বিদ্রোহ ছিল – ধর্মনিরপেক্ষ / রাজনৈতিক / অরাজনৈতিক বিদ্রোহ ।

উত্তর: ধর্মনিরপেক্ষ ।

১৯. নীল বিদ্রোহ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন – দুর্জন সিংহ / ভবানী পাঠক / বিষ্ণুচরন বিশ্বাস / চিরাগ আলী।

উত্তর: বিষ্ণুচরন বিশ্বাস ।

২০. নীল চাষকে কেন্দ্র করে রচিত হয় – আনন্দমঠ / দেবী চৌধুরানী / নীলদর্পণ ।

উত্তর: নীলদর্পণ ।

 

সত্যমিথ্যা নির্বাচন করো :

১. বাংলা ভাষায় ‘ চুয়ার ‘ শব্দের অর্থ হলো নিচ ও দুর্বৃত্ত মানুষ :

উত্তর: সত্য

২. ‘ লিজ ‘ আইন আদিবাসীদের জীবনে সর্বনাশ ডেকে আনে :

উত্তর: সত্য

৩. ‘ দামিন ই কোহ ‘ শব্দের অর্থ হলো পাহাড়ে প্রান্তদেশ :

উত্তর: সত্য

৪. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘ কপালকুণ্ডলা ‘ গ্রন্থের সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের কাহিনী দেখেন :

উত্তর: মিথ্যা

৫. নীল কমিশন গঠিত হয়েছিল সাঁওতালদের জন্য :

উত্তর: মিথ্যা

৬. চুয়াড় বিদ্রোহের নেতা বিরসা মুন্ডা :

উত্তর: মিথ্যা

৭. কোল বিদ্রোহের নেতা বুদ্ধ ভগৎ :

উত্তর: সত্য

৮. ছোটনাগপুর ছিল কোল উপজাতিদের বাসস্থান :

উত্তর: সত্য

৯. ভিল বিদ্রোহ শুরু হয় ১৮১৩ সালে :

উত্তর: মিথ্যা

১০. ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা ছিলেন মজনু শাহ :

উত্তর: মিথ্যা

১১. পাগলপন্থী বিদ্রোহ তিতুমীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন :

উত্তর: মিথ্যা

১২. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ ছিল ভারতের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ :

উত্তর: সত্য

১৩. পাবনার কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয় ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে :

উত্তর: সত্য

১৪. নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিগম্বর বিশ্বাস :

উত্তর: সত্য

১৫. নীল কমিশন গঠন করেন ওয়ারেন হেস্টিংস :

উত্তর: মিথ্যা

 

একটি বাক্যে উত্তর দাও :

১. প্রথম অরণ্য ইন্সপেক্টর কে ছিলেন ?

উত্তর: ড্রায়েট্রিক্স ব্রানডিস ।

২. বিদ্রোহ শব্দের অর্থ কি ?

উত্তর: দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত অসন্তোষ এর বহিঃপ্রকাশ ।

৩. হিটলারের নাৎসি দলের অভ্যুথানের সময়কাল কত ?

উত্তর: ১৯২২-১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ।

৪. মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট দলের অভ্যুথানের সময়কাল কত ?

উত্তর: ১৯১৯-১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ ।

৫. বাংলা ভাষায় ‘ চোয়ার ‘ শব্দের অর্থ কি ?

উত্তর: নীচ , দুর্বৃত্ত মানুষ ।

৬. চুয়াড় বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখ ।

উত্তর: দুর্জন সিংহ , গোবর্ধন দিকপতি ।

৭. রংপুর বিদ্রোহেরএকজন নেতৃত্তের নাম লেখ ।

উত্তর: দয়ারাম শীল ।

৮. কোল উপজাতিদের মূল বাসভূমি কোথায় ছিল ?

উত্তর: সিংভূমে ।

৯. কোল বিদ্রোহের সময়কাল লেখ ।

উত্তর: ১৮৩১-১৮৩২ খ্রিস্টাব্দ ।

১০. ভিল বিদ্রোহের একজন নেতার নাম লেখ ।

উত্তর: চিল নায়েক ।

১১. কোল বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখ ।

উত্তর: বুদ্ধ ভগৎ এবং জোয়া ভগত ।

১২. কোল বিদ্রোহের অবসান হয় কত খ্রিস্টাব্দে ?

উত্তর: ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে ।

১৩. সাঁওতাল বিদ্রোহে এর প্রথম জমায়েতের স্থল কোনটি ?

উত্তর: ভাগনাডিহি এর মাঠ ।

১৪. সাঁওতাল বিদ্রোহের সময়কাল লেখ ।

উত্তর: ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে ।

১৫. সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল স্লোগান কী ছিল ?

উত্তর: ‘ চল চল ভাগনাডিহি ‘ ।

১৬. দামিন- ই – কোহো শব্দের অর্থ কি ?

উত্তর: পাহাড়ের প্রান্তদেশ ।

১৭. সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান দুই নেতার নাম লেখ ।

উত্তর: সিধু এবং কানহূ ।

১৮. সাঁওতাল বিদ্রোহ দমন করা হয় কত সালে ?

উত্তর: ১৮৫৬ সালে ।

১৯. উলগুলান শব্দের অর্থ কি ?

উত্তর: মহাবিদ্রোহ ।

২০. মুন্ডা বিদ্রোহের সময়কাল উল্লেখ করো ।

উত্তর: ১৮৯৯-১৯০০ খ্রিস্টাব্দ ।

২১. মুন্ডা বিদ্রোহের স্লোগান কী ছিল ?

উত্তর: ” হয় সরকারকে খাজনা , নয়তো নয় ” ।

২২. মুন্ডা বিদ্রোহের একজন উল্লেখযোগ্য নেতার নাম লেখ ।

উত্তর: বিরসা মুন্ডা ।

২৩. ‘ উলগুলান ‘ নামে কোন বিদ্রোহ পরিচিত ?

উত্তর: মুন্ডা বিদ্রোহ ।

২৪. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের সময়কাল লেখ ।

উত্তর: ১৭৬৩-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ ।

২৫. সন্ন্যাসী বিদ্রোহে কোন যুদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় ?

উত্তর: গেরিলা যুদ্ধ পদ্ধতি ।

২৬. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের নেতৃত্তের নাম লেখ ।

উত্তর: মজনু শাহ , মুসা শাহ ।

২৭. ভারতের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ কোনটি ?

উত্তর: সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ ।

২৮. ওয়াহাবী শব্দের অর্থ কি ?

উত্তর: নবজাগরণ ।

২৯. ভারতের ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা কে করেন ?

উত্তর: উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি এর সৈয়দ আহমেদ ।

৩০. পাগলপন্থী ধর্মের প্রচারক কে ছিলেন ?

উত্তর: করম শাহ ।

৩১. বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন কবে চালু হয় ?

উত্তর: ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে ।

৩২. পাগলপন্থী ধর্ম কোন ধর্মের অঙ্গ ?

উত্তর: বাউল ।

৩৩. তিতুমীর পরিচালিত বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের অপর নাম কি ছিল ?

উত্তর: বারাসাত বিদ্রোহ ।

৩৪. ‘ ফরাজি ‘ কথাটির অর্থ কি ?

উত্তর: ফরাজ বা আল্লাহর আদেশ অনুসরণকারী ।

৩৫. নীল বিদ্রোহের সময়কাল লেখ ।

উত্তর: ১৮৫৯-৬০ খ্রিষ্টাব্দ ।

৩৬. কত কৃষক নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে ?

উত্তর: ৬০ লক্ষ্য ।

৩৭. নীল বিদ্রোহের উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের নাম লেখ ।

উত্তর: বিষ্ণুচরন বিশ্বাস , দিগম্বর বিশ্বাস ।

৩৮. নীল কমিশন কে গঠন করেছিলেন ?

উত্তর: বাংলার ছোটলাট জে পি গ্রান্ট ।

৩৯. কোন নাটকে নীল বিদ্রোহের জলন্ত ছবি ফুটে ওঠে ?

উত্তর: নীলদর্পণ ।

৪০. নীল বিদ্রোহের চরিত্র কেমন ছিল ?

উত্তর: ধর্মনিরপেক্ষ ।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তরবিত্তিক প্রশ্ন :

১. ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে অরণ্য আইনে করা ভাগ গুলি কি কি ?

উত্তর:

১. সংরক্ষিত অরণ্য
২. নিরাপদ অরণ্য
৩. গ্রামবাসীদের অরণ্য ।

২. ‘ বিপ্লব ‘সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ ।

উত্তর: বিপ্লব শব্দের অর্থ হলো ‘ আমূল পরিবর্তন ‘। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কোন শাসনের স্বৈরাচারী নীতির বিরুদ্ধে অথবা আর্থসামাজিক কিংবা রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভকে বিপ্লব বলা হয় । পৃথিবীর ইতিহাসে তিন ধরনের বিপ্লব দেখা যায় – শিল্প বিপ্লব , ফরাসি বিপ্লব এবং রুশ বিপ্লব ।

৩. দ্বিতীয় চুয়াড় বিদ্রোহ কাকে বলা হয় ?

উত্তর: ১৭৯৮ থেকে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং মেদিনীপুর জেলার উত্তর-পশ্চিমাংশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নিচু এবং দুর্বৃত্ত মানুষরা যে বিদ্রোহ সংঘটিত করেছিল তাকে দ্বিতীয় চুয়াড় বিদ্রোহ বলা হয় ।

৪. ‘ দামিন ই কোহ ‘ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: দামিন ই কহ শব্দের অর্থ হলো ‘ পাহাড়ের প্রান্তদেশ ‘ । বর্তমানকালে রাজমহল পাহাড়তলি এলাকা। এখান থেকেই সাঁওতাল রা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল ।

৫. ‘ গিরা ‘ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: গিরার অর্থ প্রতীক বা ধর্মীয় আহ্বান । সাঁওতালরা পবিত্র শালগাছের ডাল কে গিরা করে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ডাক দিয়ে বলতো : চল চল ভাগনাডিহি ।

৬. সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব লেখ ।

উত্তর: সাঁওতালদের সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয় । রাজমহল এলাকাসহ বীরভূম এবং ভাগলপুর জেলাকে নিয়ে সাঁওতাল পরগনা গঠিত হয় । এই অঞ্চলের ব্রিটিশ আইন কার্যকরী হবে না বলে ঘোষণা করা হয় এবং এর জন্য নতুন আদালত তৈরি করা হয় ।

৭. ‘ দিকু ‘ শব্দের অর্থ কী ?

উত্তর: বহিরাগত মহাজন’ ব্যবসায়ী যারা আদিবাসীদের এলাকায় এসে বসবাস করত এবং সাধারণ মানুষগুলোকে ঋণের জালে জড়িয়ে তাদের সর্বস্বান্ত করত , তাদেরকে দিকু বলা হয় ।

৮. গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ কে কি নামে আখ্যা করেন ?

উত্তর: ওয়ারেন হেস্টিংস সর্বপ্রথম এই কৃষক বিদ্রোহ কে ‘ সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ‘ , ‘ হিন্দুস্থানের যাযাবরদের পেশাদারী উপদ্রব, দস্যুতা ও ডাকাতি ‘ বলে ব্যাখ্যা করেন ।

৯. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের নেতৃত্ব বৃন্দ দের নাম লেখ ।

উত্তর: এই বিদ্রোহের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নেতার নাম হল মজনু শাহ , মুসা শাহ , চিরাগ আলী , ভবানী পাঠক , রামানন্দ গোসাই , শ্রীনিবাস , দেবী চৌধুরানী প্রমুখ ।

১০. ওয়াহাবি আন্দোলন কি ?

উত্তর: ‘ ওয়াহাবি ‘ শব্দের অর্থ হলো ‘ নবজাগরণ ‘ । আরবে মোহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব যে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন শুরু করেছিলেন তাকে ওয়াহাবি আন্দোলন বলা হয় । ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি সৈয়দ আহমেদ । তিনি মনে করতেন বিধর্মী ইংরেজ দের দ্বারা অধিকৃত হওয়ায় ভারত ‘ দার – উল – হারব ‘ বা বিধর্মীদের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে ।

১১. পাগলপন্থী বিদ্রোহ  কাকে বলা হয় ?

উত্তর: ময়মনসিংহ জেলার সুরঙ্গ শেরপুর অঞ্চলে গারো উপজাতি রা ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত করেছিল তাকে পাগলপন্থী বিদ্রোহ বলা হয় । পাগলপন্থী ধর্মের প্রচারক ছিলেন করম শাহ ।

১২. বারাসাত বিদ্রোহ কাকে বলা হয় ?

উত্তর: বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা ছিলেন তিতুমীর । ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীর তার নিজের জেলা চব্বিশ পরগনার চাঁদপুর গ্রামে ফিরে এসে ইসলামের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য আন্দোলন শুরু করেন । তিতুমীর পরিচালিত বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন কে বারাসাত বিদ্রোহ বলা হয় ।

১৩. ‘ ফরাজি ‘ কথার অর্থ কি ? এই ধর্ম মতের প্রবর্তক কে ?

উত্তর: ‘ ফরাজি ‘ কথাটির অর্থ ‘ ফরাজ ‘ অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ অনুসরণকারী ।

ফরিদপুরের শরীয়তউল্লাহ এবং তার পুত্র মোহাম্মদ মহসিন দুদুমিয়া ছিলেন এই ধর্ম মতের প্রবর্তক ।

১৪. ফরাজি আন্দোলন কে জনগণের বৈপ্লবিক জাগরণ বলা হয় কেন ?

উত্তর: অন্যান্য বিদ্রোহ গুলির মতোই এই বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল । আন্দোলনের নেতাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা , রাজনৈতিক চেতনার অভাব ছিল । মোহাম্মদ মহসিন এর পরবর্তীকালে কোন উল্লেখযোগ্য নেতা না থাকায় এই বিদ্রোহ সফল হয়নি কিন্তু তবুও এই বিদ্রোহ ছিল জনগণের বৈপ্লবিক জাগরণ ।

১৫. নীল বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর: ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার প্রায় ৬০ লক্ষ কৃষক নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে নীল বিদ্রোহ শুরু করে ।

বৈশিষ্ট্য :
১. নীল বিদ্রোহ জমিদার এবং মহাজন’ বিরোধী কোন আন্দোলন নয় । কৃষকদের প্রতিপক্ষ ছিল নীলকুঠি সাহেবরা ।
২. এই আন্দোলনে কৃষকরা অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে মানসিক চেতনা এবং দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন তা দৃষ্টান্তস্বরূপ ।

১৬. নীল বিদ্রোহকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্রোহ কেন বলা হয় ?

উত্তর: নীল বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসাথে যোগ দিয়েছিলেন । এম হার্ষেলের মতে , এই বিদ্রোহ বাঙ্গালীদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করেছিল যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি । তাই এই বিদ্রোহকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্রোহ বলা হয় ।

১৭. নীল বিদ্রোহের উল্লেখযোগ্য নেতৃত্তের নাম লেখ ।

উত্তর: নীল বিদ্রোহের নেতৃবর্গের মধ্যে ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগরের চৌগাছা গ্রামের বিষ্ণুচরন বিশ্বাস দিগম্বর বিশ্বাস , বাঁশবেড়িয়ার বৈদ্যনাথ সর্দার , বিশ্বনাথ সর্দার , মালদহের রফিক মন্ডল , যশোরের রাম রতন মল্লিক প্রমুখ উল্লেখযোগ্য ।

 

বিশ্লেষণমূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন :

১. রংপুর বিদ্রোহ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে উত্তরবঙ্গের রংপুর জেলার কৃষকরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্বের ইজারাদার দেবী সিং এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল তাকে রংপুর বিদ্রোহ বলা হয় । কৃষকদের উপর অধিক পরিমাণে কর চাপানো হয়েছিল এবং এরই ফলস্বরুপ তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে । তারা মহাজনের কাছে জমি বন্ধক রেখে অত্যাধিক সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হতো এবং সেই জমি তার আর কখনো উদ্ধার করতে পারত না । দীরোজি নারায়ণ , দয়ারাম শীল , নুরুলউদ্দিন প্রমুখ নেতাদের নেতৃত্বে ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ জানুয়ারি রংপুর জেলায় বিদ্রোহ শুরু করে । পরবর্তীকালে এই বিদ্রোহ কে দমন করা হয়েছিল কিন্তু কৃষকদের কোন সমস্যার সমাধান হয়নি ।

২. চুয়াড় বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর: বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণ পশ্চিম অংশে এবং মেদিনীপুর জেলার উত্তর-পশ্চিমাংশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নিচু এবং দুর্বৃত্তরা মানুষেরা ১৭৯৮-৯৯ খ্রিস্টাব্দে যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল তাকে চুয়াড় বিদ্রোহ বলা হয় ।

বৈশিষ্ট্য :
১. চুয়াড় দের কাছ থেকে জমিজমা কেড়ে নিয়ে ইংরেজরা উঁচু দামে জমিদারদের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে । অনেক সময় ইজারাদারদের হাতে জমির ইজারা দিতে শুরু করে এবং এর ফলে খাজনা বৃদ্ধি পায় ।
২. চুয়াড়দের জমি গুলিতে নতুন প্রজাপত্তন শুরু করলে চুয়ার গন নিশ্চিত ধ্বংসের সম্মুখীন হয় ।
৩. শান্তি রক্ষার কাজে নিযুক্ত পাইক দের বিতাড়িত করে দেওয়া হয় এবং সেখানে পুলিশ বাহিনী আসে। বিতাড়িত পাইকড়া চুয়াড় দের সাথে যৌথভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ।
৪. উচ্চ হারে কর দিতে না পারায় অনেক জমিদার তাদের জমিদারী হারায় এবং এর ফলে এরা বিদ্রোহী চুয়াড় এবং পাইকদের সাথে মিলিত হয় ।

৩. ভিল বিদ্রোহ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: উনবিংশ শতকে খান্দেশ জেলার উত্তর-পশ্চিমাংশে জমির মালিকরা ছোট এবং বড় বিভিন্ন ধরনের খামার তৈরি করে । এইসব খামারগুলোতে চাষের জন্য নিযুক্ত ছিল ভিল সম্প্রদায়ভুক্ত উপজাতিরা তাদেরকে জোর করে কম মজুরিতে খাটানো হত । দারিদ্র্যের কারণে এরা মালিকের কাছ থেকে ঋণ নিত কিন্তু পরিশোধ করার জন্য তাদের ক্ষমতা ছিলনা । মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট অঞ্চলের ভিল সম্প্রদায়ের মানুষেরা কোন বিচার না পেয়ে বিদ্রোহের পথে অগ্রসর হয়। এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চিল নায়েক,  হিরিয়া , শিউরাম । ব্রিটিশ সরকারের দমন নীতির ফলে বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল ।

৪. কোল বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য লেখ । এই বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখ।

উত্তর: কোল বিদ্রোহ ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল ।

বৈশিষ্ট্য :
১. উপজাতিদের বিরুদ্ধে শোষণমূলক ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল । জমিতে তাদের যৌথ মালিকানার উচ্ছেদ ঘটিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানা পরিবর্তন করলে কোল এরা ক্ষুব্ধ হয় এবং বিদ্রোহ করে ।
২. ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের পর পোরাহাটের রাজা ইংরেজদের অধীনতা স্বীকার করে রাজ্যটিকে করদ রাজ্যে পরিণত করেন ।
৩. কম্পানি কোল উপজাতিদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তাদের সর্বনাশ করে ।
৪. কোম্পানি অরণ্য সম্পদের অধিকার থেকে কোল দের বঞ্চিত করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ।

কোল বিদ্রোহের দুজন উল্লেখযোগ্য নেতা হলেন বুদ্ধ ভগৎ এবং জোয়া ভগত ।

৫. সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর: ১৭৬৩ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘকাল ধরে বাংলায় এবং বিহারে সন্ন্যাসী ও ফকির ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল ।

বৈশিষ্ট্য :
১. ওয়ারেন হেস্টিংসের সময়কালে প্রবর্তিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার ফলে সন্ন্যাসীরা এবং ফকিরেরা নিজস্ব জমি থেকে উচ্ছেদ হয় । পরবর্তীকালে লিজ আইন আসার পর এরা দলবদ্ধভাবে জঙ্গলে পালিয়ে যায় এবং এর পরেই লুট, ডাকাতি, হত্যা প্রভৃতির মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ।
২. কৃষকরা এবং কারিগরেরা রোজগার বিহীন হয়ে পড়ে এবং শেষপর্যন্ত আত্মরক্ষা তাগিদে সন্নাসী এবং ফকিরদের সাথে বিদ্রোহে যোগ দেয় ।
৩. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসকদের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম ।
৪. অষ্টাদশ এবং উনবিংশ শতকের আন্দোলন এবং বিদ্রোহ গুলির মধ্যে সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ তেই প্রথম গেরিলা যুদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় ।
৫. এই বিদ্রোহ হিন্দু-মুসলমান সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রচুর পরিমাণে যোগদান করায় এটি গণবিদ্রোহে পরিণত হয় ।

৬. বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ ।

উত্তর: বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা ছিলেন মীর নিসার আলী বা তিতুমির । ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি তাঁর নিজের জেলা 24 পরগনার চাঁদপুর গ্রামে ফিরে এসে ইসলামের বিশুদ্ধতা রক্ষায় এই আন্দোলন শুরু করেন ।

বৈশিষ্ট্য:
১. তিতুমির মক্কা থেকে ফিরে আসার পর বাংলায় কোরআন এর নির্দেশিত বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য মুসলিমদের নির্দেশ দেন । পাশাপাশি বিধর্মীদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করার কথা প্রচার করেন এবং এর ফলে ইংরেজ শত্রুদের কাছে মুসলমানদের পরাজয়জনিত হতাশা কেটে যায় ।
২. তিতুমিরের নেতৃত্বে বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল নিম্নবর্গের মানুষদের নিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করা ।
৩. বাংলায় উনবিংশ শতাব্দী প্রথমার্ধে ইংরেজ জমিদার এবং নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হিন্দু মুসলমান কৃষকরা যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করে যার ফলে এটি শ্রেণীসংগ্রামের রূপ নেয় ।
৪. অত্যাচারী জমিদারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পুড়ার জমিদার কৃষ্ণদেব রায় । তিনি মুসলমানদের দাড়ির উপর আড়াই টাকা কর ধার্য করেন এর ফলে মুসলমানরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
৫. তিতুমীর পরিচালিত বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত । তিনি বাদুড়িয়া থানার ১০ কিলোমিটার দূরে নারকেলবেরিয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ।

৭. ফরাজি আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: ‘ ফরাজি ‘ কথাটির অর্থ ‘ ফরাজ ‘ অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ অনুসরণকারী । ফরিদপুরের শরীয়ত উল্লাহ এবং তার পুত্র মোহাম্মদ মহসিন বা দুদুমিঞা ছিলেন এই ধর্ম মতের প্রবর্তক । শরীয়তউল্লাহ এর মতে আকৃষ্ট হয়ে কৃষক তাঁতি কুলু প্রভৃতি নিম্নমানের মুসলমানেরা তার শিষ্যত্ত গ্রহণ করে । তারপর দুদুমিঞা এই বিদ্রোহ কে এগিয়ে নিয়ে চলেন । দুদুমিঞা দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিদ্রোহ পরিচালনা করেন ।জমিদার এবং ইউরোপীয় নীলকরদের অত্যাচার থেকে কৃষকদের রক্ষা করা।

ফরাজিদের মধ্যে উচ্চ নিচ ভেদাভেদ বিলোপ করে সামাজিক জীবনে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা । দুদুমিঞা এর মতে ‘ জমি যারা চাষ করে জমি তাদের ‘ ।

৮. ফরাজি আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর:  

বৈশিষ্ট্য :
১. উনবিংশ শতাব্দী অন্যান্য গণসংগ্রামের মত ফরাজী বিদ্রোহ ধর্মীয় সমস্যা নিয়ে আরম্ভ হলেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিণত হয়েছিল ।
২. ফরাজী বিদ্রোহ ধর্মীয় সমস্যা নিয়ে আরম্ভ হলেও শীঘ্রই রাজনৈতিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য গুলি কে নিয়ে হিন্দু এবং মুসলমান কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল ।
৩. আন্দোলনের প্রধান নায়ক দুদুমিয়া এর নেতৃত্বে গ্রামাঞ্চলে ‘ স্বাধীন সরকার ‘ গঠন ‘ সৈন্যবাহিনী গঠন ‘ , ‘ স্বাধীন বিচারালয় ‘ স্থাপন প্রভৃতি কাজের মধ্যে দিয়ে ফরাজি আন্দোলন জনগণের প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামকে বৈপ্লবিক রূপ দান করেছিল ।

দুদুমিঞা এর পরবর্তীকালে আর কোন সুযোগ্য নেতা না থাকায় এই বিদ্রোহ সফল হয়নি কিন্তু এই বিদ্রোহ ছিল প্রকৃত অর্থেই জনগণের বৈপ্লবিক জাগরণ ।

৯. পাবনার কৃষক বিদ্রোহ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: ১৮৭২-৭৩ খ্রিস্টাব্দের পাবনার কৃষক বিদ্রোহ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা । চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারগণ স্থায়ীভাবে কোম্পানির সঙ্গে রাজস্ব বন্দোবস্ত করে নেয় । ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের দশম আইন কে অগ্রাহ্য করে জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে অনেক পরিমাণে কর আদায় করতে শুরু করে এবং এর ফলে পাবনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ মহকুমার অঞ্চলগুলির কৃষকরা নিজেদের অধিকার রক্ষার তাগিদে বিদ্রোহ ঘোষণা করে । জমিদারেরা কৃষকের জমি এমন অবৈধ উপায়ে দখল করতেন যে কৃষকদের জমির পরিমাণ কমে যেত এবং ওই বাড়তি জমির ওপর কৃষকের কাছে পত্তনি দেওয়া হতো। জমিদার কর্তৃক রায়তদের নবলব্ধ অধিকার অস্বীকার এবং অগ্রাহ্য করা হয় । এই পেক্ষাপটে পাবনা জেলার কৃষকরা ক্ষুব্দ হয়ে পড়ে এবং বিদ্রোহের সূচনা করেন । এই বিদ্রোহের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নেতার নাম হল ঈশান চন্দ্র রায় , মেঘুল্লা গ্রামের মোড়ল শম্ভুনাথ পাল প্রমুখ । এই বিদ্রোহের ফলে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে সরকার ‘ প্রজাস্বত্ব আইন ‘ জারি করতে বাধ্য হয় ।

১০. তরিকা – ই – মোহাম্মদীয়া বলতে কি বোঝায় ?

উত্তর: উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলির সৈয়দ আহমেদ মক্কায় ওয়াহাবি আন্দোলনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতবর্ষে এই আন্দোলনের সূচনা করেন । ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই আন্দোলনের আদর্শ প্রচার করতে শুরু করেন। মুসলমান ধর্মের মধ্যে যে সমস্ত অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কার গুলি রয়েছে সেগুলি কি দূর করার উদ্দেশ্যেই তিনি ‘ তরিকা – ই – মোহাম্মদীয়া ‘ আন্দোলন প্রবর্তন করেন । তিনি তিতুমিরের হাতে এই আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে যান । তিতুমিরের এই আন্দোলন ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন । গৌতম ভদ্র তার ‘ নারকেলবেড়ের জঙ্গ : তিতুমির ‘ প্রবন্ধে লিখেছেন ” তিতুমিরের আন্দোলনকে ওয়াহাবি আন্দোলন না বলে তরিকা ই মোহাম্মদিয়া বলাই সংগত ” । তার অনুগামীরা নিজেদেরকে ওয়াহাবি না বলে ‘ হেদায়তি ‘ বলে পরিচয় দিত ।

 

ব্যাখ্যামূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন :

১. সাঁওতাল বিদ্রোহ কিভাবে শুরু হয়েছিল ? এই বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব লেখ ।

উত্তর: আদিবাসী বিদ্রোহের মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহ । কঠোর পরিশ্রমী এবং সরল প্রকৃতির সাঁওতালরা বসবাস করত রাজমহল এবং তার আশেপাশের  এলাকাগুলিতে । সাঁওতালরা এই অঞ্চলের নাম দিয়েছিলেন ‘ দামিন – ই – কোহ ‘ অর্থাৎ পাহাড়ের প্রান্তদেশ । ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন ভাগনাডিহির মাঠে দশ হাজার সাঁওতাল সমাবেত হয় । এই সমাবেশে সাঁওতালরা নিজেদের রাজ্য প্রতিষ্ঠার শপথ নেয় । ভাগনাডিহি ঘোষণার পরেই জুলাই মাসে সিধু , কানু , চাঁদ , ভৈরব এর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয় ।

বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য :
১. অন্যান্য উপজাতি বিদ্রোহের মতোই সাঁওতাল বিদ্রোহের পিছনে ঔপনিবেশিকতা বিরোধী মনোভাব ছিল ।
২. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদাররা সাঁওতালদের তাদের নিজস্ব জমি থেকে উচ্ছেদ করে ।
৩. ১৮৫৩ এবং ১৮৫৪ এর অনাবৃষ্টির ফলে সাঁওতালদের শস্য উৎপাদন হ্রাস পায় এবং এর ফলে তারা মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয় । চক্রবৃদ্ধি হারে নেওয়ার ঋণ তারা আর মেটাতে পারেনি । জমি-জায়গা , পরিবার-পরিজন সবই মহাজনের কাছে বন্ধক রাখতে তারা বাধ্য হয়েছিল।
৪. এই বিদ্রোহ কর্মকার , তেলি , চর্মকার , ডোম ইত্যাদি নানা সম্প্রদায়ের মুসলমানগন সাঁওতালদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন যার ফলে এই বিদ্রোহ গণবিদ্রোহে পরিণত হয়েছিল ।
৫. এই অঞ্চলে কোম্পানি রেল লাইন তৈরি করতে চাইলে সাঁওতালরা বাধা দেয় ।
৬. সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল ব্যাপক এবং হিংসাশ্রয়ী । এই বিদ্রোহের শ্লোগান ছিল ‘ চল চল ভাগনাডিহি ‘।
৭. ভাগনাডিহি গ্রামের সিধু এবং কানু নামে দুই ভাই সাঁওতালদের সংগঠিত করতে এগিয়ে আসেন । চাঁদ এবং ভৈরব নামে আরও দুই ভাই পরবর্তীকালে তাদের সাথে যোগ দেয় ।
৮. ১৮৫৫ এর ৩০ জুনে ভাগনাডিহির সভা থেকে ঘোষণা করার পর সাঁওতাল হুল বা সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয় । প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার সাঁওতাল বিদ্রোহে যোগ দেয় । ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের সরকারের কঠোর দমননীতির ফলে এই বিদ্রোহ দমন করা হয় ।
৯. প্রায় দশ হাজার বিদ্রোহি সাঁওতাল কে হত্যা করা হয় । সিধু এবং কানু কে ফাঁসি দেওয়া হয় ।

বিদ্রোহের গুরুত্ব :
এই বিদ্রোহের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সাঁওতালদের সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয় । রাজমহল এলাকাসহ বীরভূম এবং ভাগলপুর জেলাকে নিয়ে সাঁওতাল পরগনা গঠিত হয় । এই অঞ্চলের জন্য নতুন আদালত তৈরি করা হয় এবং এই অঞ্চলে সরকারি কোন ব্রিটিশ আইন কার্যকরী হবে না বলেও ঘোষণা করা হয় ।
সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল প্রধানত একটি কৃষক বিদ্রোহ । শুধুমাত্র কৃষকরা বাদেও নানা পেশার সাথে যুক্ত মানুষেরা এই বিদ্রোহে সাঁওতালদের সঙ্গ দিয়েছিল যার ফলে এটি একটি গণবিদ্রোহের রূপ নিয়েছিল । পুরুষরা ছাড়াও নারীরাও এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল । সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ বিরোধিতা করা ।

২. মুন্ডা বিদ্রোহ সম্পর্কে লেখ । এই বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য এবং নেতৃত্বের নাম লেখ ।

উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের মত ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে মহাজন’ বিরোধী সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল । ১৮৯৯-১৯০০ খ্রিস্টাব্দে এরা যে ‘ উলগুলান ‘ বা ‘ মহাবিদ্রোহ ‘ এর সূচনা করেছিলেন তা অন্যান্য উপজাতি বিদ্রোহ থেকে কিছুটা আলাদা ছিল । একেই মুন্ডা বিদ্রোহ বলা হয় ।

বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য :
১. মুন্ডা বিদ্রোহের চরিত্র ছিল ঔপনিবেশিকতা বিরোধী ।
২. উনবিংশ শতকের জমিদার এবং মহাজন’ বিরোধী হিসাবে এই বিদ্রোহ পরিচিতি পেয়েছিল ।
৩. যুগ যুগ ধরে এদের সমাজে যে কুন্তকত্তি প্রথা বর্তমান ছিল তার পরিবর্তন ঘটিয়ে জমিদারি ব্যবস্থা প্রবর্তন করলে সম্পূর্ণ অপরিচিত এবং অন্যায় প্রথার বিরুদ্ধে মুন্ডরা বিদ্রোহ সূচনা করেন ।
৪. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব বহিরাগত মধ্যস্বত্বভোগী দিকু দের অত্যাচারে এবং শোষণে এদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
৫. বিনা মজুরিতে বা বেঠবেগারি খাজনা এবং বিভিন্ন ধরনের সেস এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় ।
৬. এদের সমাজের ওপর নানা ধরনের অবিচার , খ্রিস্টান পাদ্রীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ হয় ।
৭. রেললাইন স্থাপন এবং আসামের চা বাগানগুলোতে কাজের জন্য সরকার এবং বিভিন্ন কোম্পানি এদের জোর করে নিয়োগ করে । নিয়োগের পর উপযুক্ত পারিশ্রমিক না দিয়ে এদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার করা হতো । এই অত্যাচারের প্রতিবাদে তারা বিদ্রোহ সূচনা করে । এই বিদ্রোহের স্লোগান ছিল ” হয় সরকারকে খাজনা নয়তো নয় ” । এই সকল চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্য গুলি মুন্ডাদের সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিরোধের পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করে ।

আন্দোলনের নেতৃত্ব :  বিরসা মুন্ডা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ।১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের মুন্ডা আন্দোলন ‘ উলগুলান ‘ নামে পরিচিত হয় । ব্যাপক দমননীতির ফলে আন্দোলন দমন করা হয়েছিল । কিন্তু সরকার এই বিদ্রোহ থেকে কতগুলি শিক্ষা নিয়ে কিছু কিছু সংস্কার করেছিল যেমন-
১. উপজাতি এলাকার ভূমি বন্দোবস্ত পর্যালোচনা করা শুরু হয় ।
২. বেঠবেগারী বা  বেগার শ্রম দান প্রথা নিষিদ্ধ করা হয় ।
৩. ছোটোনাগপুর এ কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করে ।

৩. নীল বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য লেখ এবং বিশ্লেষণ করো ।

উত্তর: ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে চার্টার আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার বাতিল হলে অনেক ইংরেজ কর্মচারী এদেশে এসে জমি কিনে কুঠি স্থাপন করে নীল চাষ শুরু করে । এর ফলে পাবনা, নদিয়া , যশোহর , মেদিনীপুর , রাজশাহী , পূর্ণিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে নীল চাষ শুরু হয় ।১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার প্রায় ৬০ লক্ষ কৃষক নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে নীল বিদ্রোহ শুরু করেন ।

বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য :
১. এই নীল বিদ্রোহ কোন জমিদার মহাজন’ বিরোধী বিদ্রোহ নয় বরং কৃষকদের মূল প্রতিপক্ষ ছিল নীলকর সাহেবরা ।
২. এই আন্দোলনে কৃষকরা অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে মানসিক চেতনা এবং দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিল তার দৃষ্টান্ত স্বরূপ ।
৩. অন্যান্য বিদ্রোহের ক্ষেত্রে সরকার কৃষকদের আন্দোলন দমন করতে সচেষ্ট ছিলেন কিন্তু এক্ষেত্রে সরকার নীলকর সাহেবদের নীলচাষ বন্ধ করা বা কৃষকদের ওপর অত্যাচার না করার জন্য বারেবারে নির্দেশ বা পরোয়ানা জারি করে যা কৃষকদের নীলচাষ না করার সিদ্ধান্ত কে সাহায্য করেছিল ।
৪. উনিশ শতকে সংগঠিত বিদ্রোহ গুলির মধ্যে একমাত্র নীল বিদ্রোহের প্রথম বাংলার কৃষকরা হরতাল বা ধর্মঘটের পথ বেছে নেয় । এল নটরাজন তার ‘ Indigo cultivators ‘ strike 1960 গ্রন্থে বাংলার কৃষকদের এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি কে ‘ অভিনব ‘ বলে উল্লেখ করেছেন।
৫. শুধুমাত্র হিন্দু কৃষকরাই নয় বরং নীল বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান সব ধর্মের কৃষকেরা একসাথে নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন যার ফলে এই বিদ্রোহ একটি ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্রোহে পরিণত হয়।
৬. নীল বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহী কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়ায় খ্রিস্টান মিশনারীরা । ইতিহাসে এই প্রথম খ্রিস্টান মিশনারীরা বিদ্রোহীদের পাশে এসে দাঁড়ায় । এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ইংল্যান্ডের চার্চ মিশনারি সোসাইটির তিনজন সদস্য যারা হলেন জার্মান মিশনারি বমভাইটস , ফ্রেডারিক সুর , জে জে লিংকে ।
৭. মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ও নীল বিদ্রোহে বিদ্রোহীদের পাশে এসে দাঁড়ায় ।১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে অক্ষয় কুমার দত্ত এর ‘ তত্ত্ববোধিনী ‘ পত্রিকায় এবং ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তের ‘ প্রভাকর ‘ পত্রিকায় নীল বিদ্রোহ সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করা হয়েছিল । হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকাতে নীল বিদ্রোহ সম্পর্কে সাড়াজাগানো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতো । দীনবন্ধু মিত্র তার ‘ নীলদর্পণ ‘ নাটকে নীল বিদ্রোহের জ্বলন্ত ছবি তুলে ধরেন ।

নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব বৃন্দ : নীল বিদ্রোহের নেতৃবর্গের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণনগরের চৌগাছা গ্রামের বিষ্ণুচরন বিশ্বাস এবং দিগম্বর বিশ্বাস।বাঁশবেড়িয়ার বৈদ্যনাথ সর্দার এবং বিশ্বনাথ সর্দার । মালদহের রফিক মন্ডল , যশোহরের রামরতন মল্লিক প্রমুখ ।

বিদ্রোহের গুরুত্ব :
১. নীল বিদ্রোহ ছিল ভারতের ইতিহাসে সবচাইতে সফল গণবিদ্রোহ । এই বিদ্রোহ বাংলার সামাজিক গুরুত্ব , ব্যাপকতায় এবং সংগঠনে ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ ।
২. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পর এই বিদ্রোহ ছিল প্রথম জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ।
৩. সাঁওতাল বিদ্রোহের সঙ্গে এই বিদ্রোহের তুলনা করে বলা যায় সাঁওতাল বিদ্রোহ অনেকাংশে ব্যর্থ হলেও নীল বিদ্রোহ ছিল অনেকটা সফল ।
৪. বিদ্রোহের মুখে পড়ে বাংলার ছোটলাট জে পি গ্রান্ট নীল কমিশন গঠন করেন ।
৫. হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায় বিদ্রোহে যোগদান করে এটিকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্রোহের রূপ দেয়।

সবশেষে বলা যায় নীল বিদ্রোহ ছিল ভারতের বিদ্রোহের ইতিহাসের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় । এই বিদ্রোহের ফলে ইংরেজ সরকার প্রথম দ্বিধাগ্রস্ত নীতি গ্রহণ করেছিল । এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিল ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top