দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ২ - সংস্কার বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

দশম শ্রেনী ইতিহাস অধ্যায় ২ – সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১. আর্য দর্শন পত্রিকা প্রকাশ করেন – বিদ্যাসাগর / যোগেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ / বেথুন / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ।

উত্তর: যোগেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ ।

২. দিগদর্শন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় – 1845/1833/1818/1832

উত্তর: 1818 ।

৩. সমবাদ কৌমুদি প্রকাশিত হয় – 1818/1830/1820/1821

উত্তর: 1821 ।

৪. পার্থেনন (১৮২৯) সংবাদপত্রটি প্রকাশ করেন – প্রসন্নকুমার ঠাকুর / বিদ্যাসাগর / গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য / মার্শম্যান ।

উত্তর: প্রসন্নকুমার ঠাকুর ।

৫. হিন্দু প্যাট্রিয়ট প্রকাশিত হয় – 1865/1855/1853/1867

উত্তর: 1853 ।

৬. ভারতের মুক্তি সন্ধানী গ্রন্থটি কার লেখা ? শ্রী যোগেশচন্দ্র বাগল / প্রসন্নকুমার ঠাকুর / মধুসূদন রায় / হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়

উত্তর: শ্রী যোগেশচন্দ্র বাগল ।

৭. হুতোম প্যাঁচার নকশার রচয়িতা কে ছিলেন ? প্রসন্নকুমার ঠাকুর / হরিশচন্দ্র মুখার্জী / কৃষ্ণদাস পাল / কালীপ্রসন্ন সিংহ ।

উত্তর: কালীপ্রসন্ন সিংহ ।

৮. হুতোমপ্যাঁচার নকশা প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয়েছিল – 1861/1867/1832/1854 খ্রিস্টাব্দে ।

উত্তর: 1861 খ্রিস্টাব্দে ।

৯. নীলদর্পণ গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ কে করেছিলেন ? বিদ্যাসাগর / বেথুন / মাইকেল মধুসূদন দত্ত / কালীপ্রসন্ন সিংহ

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত ।

১০. নীলদর্পণ নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোথায় ? কলকাতা / ঢাকা / হুগলি / শ্রীরামপুর

উত্তর: ঢাকা ।

১১. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কবে প্রকাশিত হয় ? ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে / ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে /১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে / ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে ।

১২. দুর্গেশ নন্দিনী কার লেখা ? বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / মাইকেল মধুসূদন দত্ত / কালিদাস

উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ।

১৩. বর্তমান ভারত গ্রন্থটি কার লেখা ? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় / সরলা দেবী / স্বামী বিবেকানন্দ ।

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ ।

১৪. ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত Adams এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলা প্রদেশ কত পাঠশালা ছিল ? এক লক্ষ / দুই লক্ষ / পাঁচ লক্ষ / নয় লক্ষ

উত্তর: এক লক্ষ ।

১৫. কার উদ্যোগে কলকাতায় অ্যাংলো হিন্দু স্কুল গড়ে ওঠে ? রাজা রামমোহন রায় / ডেভিড হেয়ার / উইলিয়াম কেরি / উইলিয়াম ওয়ার্ড

উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ।

১৬. শ্রীরামপুর কলেজ কত খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয় ? ১৮১৮ / ১৮৩৪ / ১৮৬৭ / ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে ।

১৭. সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ? ১৮১৮ / ১৮২৩ / ১৮৩৫ / ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ।

১৮. মেকলে মিনিট কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ? ১৮৩৪ / ১৮৬৫ / ১৮৫৫ / ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ।

১৯. কলকাতা, মাদ্রাজ এবং বোম্বাইতে বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে স্থাপিত হয় ? ১৮৩৪ / ১৮৪৪ / ১৮৫৭ / ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে  ।

২০. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা স্নাতক ছিলেন – চন্দ্রমুখি বসু / সরলাদেবী চৌধুরানী/ স্বর্ণকুমারী দেবী

উত্তর: চন্দ্রমুখি বসু ।

২১.  ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন ? ডেভিড হেয়ার / রাজা রামমোহন রায় / রাধাকান্ত দেব / জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বাটন ।

উত্তর: ডেভিড হেয়ার ।

২২. হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল – ১৮১২ / ১৮৩৪ / ১৮১৭ / ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ।

২৩. জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বাটন মারা যান কত খ্রিস্টাব্দে ? ১৮৫৭ / ১৮৩১ / ১৮৫১ / ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে

উত্তর: ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে ।

২৪. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম চ্যান্সেলর ছিলেন – গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং  / স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল  / ডক্টর জন

উত্তর: গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং ।

২৫. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিনেটে কতজন সদস্য ছিল ? ৪১ জন / ৩৪ জন / ৩২ জন / 12 জন

উত্তর: ৪১ জন ।

২৬. তিন আইন কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ? ১৮৭২ / ১৮৬৭ / ১৮৫৫ / ১৮৪৫

উত্তর: ১৮৭২ ।

২৭. একেশ্বরবাদ ভাবনার প্রতিষ্ঠাতা কে ? ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  / রাজা রামমোহন রায় / রাজা রাধাকান্ত দেব

উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ।

২৮. ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ? ১৮৬৬ / ১৮৫৫ / ১৮৪৪ / ১৮৭৭

উত্তর: ১৮৬৬ ।

২৯. ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক কাকে বলা হয় ? ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর / রাজা রামমোহন রায় /কেশব চন্দ্র সেন / স্বামী বিবেকানন্দ

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ ।

৩০. বেথুন স্কুল কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ? ড্রিংকওয়াটার বেথুন / উইলিয়াম মিথুন / জন বেথুন /এডওয়ার্ড বেথুন

উত্তর: ড্রিংকওয়াটার বেথুন ।

সত্যমিথ্যা নির্বাচন করো :

১. নাট্য রচনায় প্রথম নাটক ছিল ‘কুলীন কুলসর্বস্ব’ :

উত্তর: সত্য

২. বামাবোধিনী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ :

উত্তর: মিথ্যা

৩. হুতুম প্যাঁচার নকশা রচনা করেন কালীপ্রসন্ন সিংহ :

উত্তর: সত্য

৪. নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন দীনবন্ধু মিত্র :

উত্তর: মিথ্যা

৫. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার :

উত্তর: সত্য

৬. ‘আনন্দমঠ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা :

উত্তর: সত্য

৭. ‘পরিব্রাজক’ রমেশচন্দ্র দত্তের লেখা :

উত্তর: মিথ্যা

৮. উডের নির্দেশনামা প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে :

উত্তর: সত্য

৯. জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন এর প্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার ডাফ :

উত্তর: সত্য

১০. ব্রাহ্ম সভা প্রতিষ্ঠা করেন দ্বারকানাথ ঠাকুর :

উত্তর: মিথ্যা

১১. ‘যত মত তত পথ’ কথাটি বলেছিলেন রামকৃষ্ণ দেব :

উত্তর: সত্য

১২. রেনেসাঁস একটি আরবি শব্দ :

উত্তর: মিথ্যা

১৩. নব্য বঙ্গ গোষ্ঠীর আন্দোলন পরিচালনা করতেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও :

উত্তর: সত্য

একটি কথায় উত্তর দাও :

১. বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্রিকা কাকে বলা হত ?

উত্তর: বেঙ্গল গেজেট কে ।

২. দিকদর্শন পত্রিকা প্রথম কে প্রকাশ করেন ?

উত্তর: মার্শম্যান ।

৩. সংবাদ কৌমুদী কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ?

উত্তর: ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ।

৪. বাংলায় প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন কে ?

উত্তর: জেমস অগাস্টাস হিকি ।

৫. বামাবোধিনী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক কে ছিলেন ?

উত্তর: উমেশচন্দ্র দত্ত ।

৬. হিন্দু পেট্রিয়ট পত্রিকা কোথা থেকে প্রকাশিত হতো ?

উত্তর: কলকাতার কলাকার স্ট্রিটে অবস্থিত মধুসূদন রায়ের প্রেস থেকে ।

৭. হিন্দু প্যাট্রিয়ট কি ধরনের পত্রিকা ছিল ?

উত্তর: হিন্দু প্যাট্রিয়ট ছিল জাতীয়তাবাদী পত্রিকা ।

৮. নকশা শব্দটির অর্থ কি ?

উত্তর: রেখাচিত্র ।

৯. নীলদর্পণ নাটকটি কে কত খ্রিস্টাব্দে রচনা করেন ?

উত্তর: দীনবন্ধু মিত্র , ১৮৫৮-১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ।

১০. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ?

উত্তর: কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ।

১১. বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাটক কে রচনা করেছিলেন ?

উত্তর: রামনারায়ন তর্করত্ন ।

১২. নীলদর্পণ নাটকের প্রধান বিষয়বস্তু কি ছিল ?

উত্তর: নীলচাষীদের দুঃখ দুর্দশা ।

১৩. ‘দেবী চৌধুরানী’ কে কত খ্রিস্টাব্দে লিখেছিলেন ?

উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ,১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে ।

১৪. ‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ ।

১৫. ইসলামীয় উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনটি ?

উত্তর: মাদ্রাসা ।

১৬. হিন্দু কলেজ কার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: ডেভিড হেয়ার ।

১৭. হিন্দু কলেজের বর্তমান নাম কি ?

উত্তর: প্রেসিডেন্সি কলেজ ।

১৮. শ্রীরামপুর ত্রয়ী নামে কারা পরিচিত ছিলেন ?

উত্তর: উইলিয়াম কেরি , মার্শম্যান , উইলিয়াম ওয়ার্ড ।

১৯. জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন কার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: আলেকজান্ডার ডাফ এর উদ্যোগে ,১৮৩০ সালে ।

২০. বিশোপস কলেজ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে ।

২১. কলকাতা মেডিকেল কলেজ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ।

২২. উডের নির্দেশনামা কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ?

উত্তর: ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ।

২৩. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য কে ছিলেন ?

উত্তর: স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল ।

২৪. ‘ The Calcutta School Society ‘ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: রাজা রাধাকান্ত দেব ।

২৫. ‘ ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয় ‘কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ।

২৬. মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন কোন কলেজে পরিণত হয় ?

উত্তর: বিদ্যাসাগর কলেজ ।

২৭. হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় কোন স্কুল নামে পরিচিত হয় পরবর্তীকালে ?

উত্তর: বেথুন স্কুল ।

২৮. ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: ১৮১৭ তে ।

২৯. হেয়ার স্কুল কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: ডেভিড হেয়ার ।

৩০. তিন আইন বলতে কোন আইন বোঝানো হয় ?

উত্তর: বহু বিবাহ নিষিদ্ধ , বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধ , এবং অসবর্ণ বিবাহ স্বীকৃত ।

৩১. নৈশ্ বিশ্ববিদ্যালয় কাদের জন্য তৈরি হয়েছিল ?

উত্তর: ১৮৫৫ তে বয়স্কদের জন্য ।

৩২. ভারতের প্রথম ছাত্র সংগঠন কোনটি ?

উত্তর: অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন ।

৩৩. কত খ্রিস্টাব্দে বিধবা বিবাহ আইন সঙ্গত বলে ঘোষণা করা হয় ?

উত্তর: ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে ।

৩৪. লালন ফকির কি কি নামে পরিচিত ছিলেন ?

উত্তর: বাউল সম্রাট এবং বাউল শিরোমণি ।

৩৫. খ্রিস্ট ধর্মের মূল বাণী কি ?

উত্তর: সৌভ্রাতৃত্ব এবং মানবপ্রেম ।

৩৬. আত্মীয়সভা কে ক কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: রাজা রামমোহন রায় , ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ।

৩৭. ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: কেশব চন্দ্র সেন ।

৩৮. রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রধান কৃতিত্ব কি ছিল ?

উত্তর: সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রতিষ্ঠা ।

৩৯. নবজাগরণের যুগ কোন সময়কালকে বলা হয় ?

উত্তর: ইউরোপের ইতিহাসে পঞ্চদশ শতক ও ষোড়শ শতক কে ।

৪০. রেনেসাঁস শব্দটির অর্থ কি ?

উত্তর: নবজাগরণ ।

সংক্ষিপ্তউত্তরভিত্তিকপ্রশ্ন :

১. নীলদর্পণ নাটকের অনুবাদ নিয়ে বিতর্ক টি লেখ ।

উত্তর: দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকটি রচনা করেন । গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল-মধুসূদন-দত্ত । এটি প্রকাশিত হয় জেমস লং এর নামে । এর ফলে লং এর জরিমানা ও কারাদণ্ড ।

২. নাটকের মাধ্যমে সমাজের কি পরিচয় পাওয়া যায় লেখ ।

উত্তর:  বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাটক রচনা করেন রামনারায়ন তর্করত্ন । ‘কুলীন কুলসর্বস্ব ‘  নাটকে উনিশ শতকের বাংলার সমাজ জীবনের তিনি প্রথম ছবি আঁকেন । এই নাটকটি  কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম এর বাংলা ভাবানুবাদ । মধুসূদন দত্ত এবং দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকে তৎকালীন সমাজে নীলচাষীদের দুঃখ দুর্দশার কথা উঠে এসেছে । এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাল্মিকী প্রতিভা’ ,  ‘মায়ার খেলা’ উল্লেখযোগ্য নাটক ।

৩. ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে খ্রিস্টান মিশনারিদের অবদান লেখ ।

উত্তর: উনিশ শতকের  ভারতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে খ্রিস্টান মিশনারিদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ১৮১৮ তে উইলিয়াম কেরি , মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড এই তিন ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ এর উদ্যোগে শ্রীরামপুর কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় । ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্ডার ডাফ এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন । ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

৪. ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে হান্টার কমিশন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: ইংরেজি শিক্ষা সম্পর্কে তথ্য ও সুপারিশের জন্য উইলিয়াম হান্টার এর নেতৃত্বে ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে হান্টার কমিশন নিযুক্ত হয় । প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি , প্রতিটি  বিদ্যালয়ে পাঠাগার স্থাপন, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান এগুলোই ছিল প্রধানত এই কমিশনের সুপারিশ ।

৫. সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্য গুলি লেখ ।

উত্তর:

  • সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার উচ্ছেদ করা ।
  • দেশাত্মবোধের জাগরন করা ।
  • শিক্ষা প্রসার এবং নারী শিক্ষার উন্নতি।

৬.সমাজ  সংস্কারে নব্য বঙ্গ গোষ্ঠীর অবদান লেখ ।

উত্তর: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কে কেন্দ্র করে উনিশ শতকের প্রথমে নব্য বঙ্গ গোষ্ঠীর আন্দোলন শুরু হয় । এরা ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত । ডিরোজিও ছাত্রদের দেশপ্রেম , স্বাধীনতা ,নারী শিক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে যুক্তিবাদী হওয়ার পরামর্শ দেন । তার ছাত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ছিলেন রামগোপাল ঘোষ , দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় , শিবনাথ শাস্ত্রী , রামতনু লাহিড়ী প্রমুখ।

৭. ‘যত মত তত পথ’ এ কথাটি কে বলেছেন কোন প্রসঙ্গে বলেছেন ?

উত্তর: এই বিখ্যাত উক্তিটি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের । তার মূল লক্ষ্য ছিল সর্ব ধর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা । এই উক্তির মাধ্যমে তিনি বলেছেন ঈশ্বর কে যে নামেই ডাকা হোক না কেন তিনি এক এবং অদ্বিতীয় ।

৮. ‘ নব্য বেদান্ত’ কি ?

উত্তর: শ্রীরামকৃষ্ণের সুযোগ্য শীর্ষ স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন দেশপ্রেম এবং আত্মবিশ্বাসের অন্যতম প্রতীক । তিনি ‘ বেদান্ত ‘ কে পর্বতগুহা , জঙ্গল বা ঋষি দের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে তাকে ভারতবর্ষের আপামর জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করেছিলেন । ‘ বেদান্ত ‘ সম্পর্কে তার নতুন উপলব্ধিকে বলা হয় নব্য বেদান্ত ।

৯. স্বামী বিবেকানন্দকে কেন ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক’ বলা হয় ?

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে হিন্দু ধর্মের দোষ ত্রুটি গুলি তুলে ধরেছিলেন তা রক্ষণশীল হিন্দুরা মেনে নিতে পারেননি । স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন ভারতবাসীর প্রেরণার প্রধান উৎস । তাঁর আদর্শের উপর ভিত্তি করেই সুভাষচন্দ্র বসু , বালগঙ্গাধর তিলক এর মতন নেতারা মুক্তি আন্দোলন পরিচালনা করতেন । অরবিন্দ ঘোষ এর মতে ‘বিবেকানন্দ আমাদের জাতীয় জীবনের গঠন কর্তা’ । এইজন্য ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার বিবেকানন্দ কে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক বলেছেন ।

১০. ব্রাহ্ম আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ ।

উত্তর:

  • ব্রাহ্ম আন্দোলন মূর্তিপূজা , বর্ণভেদ , আচার-অনুষ্ঠানের বিরোধী ।
  • অস্পৃশ্যতা এবং জাতিভেদ প্রথার বিরোধী ।
  • সৌভাগ্য এবং মানবপ্রেমের আদর্শ দীক্ষিত ।
  • একেশ্বরবাদ এবং নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনায় বিশ্বাসী ।

১১. উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদের নাম লেখ ।

উত্তর: রাজা রামমোহন রায় , ডিরোজিও , কেশবচন্দ্র সেন , মাইকেল-মধুসূদন-দত্ত , স্বামী বিবেকানন্দ , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ ।

১২. নবজাগরণের যুগে চিত্রশিল্পে উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যক্তিত্বের নাম লেখ ।

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর , অবনীন্দ্রনাথ , যামিনী রায় , নন্দলাল বসু প্রমুখেরা চিত্রশিল্পে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন ।

১৩. ‘ বাংলার নবজাগরণ আক্ষরিক অর্থে গণ নবজাগরণ নয় ‘ ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর: বাংলার নবজাগরণ গণ নবজাগরণ নয় কারণ আপামর জনসাধারণ এই আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। নবজাগরণের আলো সীমাবদ্ধ ছিল শিক্ষিত সমাজ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে । গরিব মানুষেরা প্রধানত এর থেকে বঞ্চিত ছিল । নবজাগরণ প্রধানত কলকাতাকেন্দ্রিক হলেও কিছু কিছু গ্রামে এর প্রভাব পড়েছিল । কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষজনেরা এর থেকে দূরে ছিলেন ।

বিশ্লেষণমূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন :

১. বামাবোধিনী পত্রিকা তে কিভাবে সমাজের প্রতিফলন উঠে এসেছে ?

উত্তর:  উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিষ্ঠিত বামাবোধিনী সভার মুখপত্র  ছিল বামাবোধিনী পত্রিকা। এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক ছিলেন উমেশচন্দ্র দত্ত । তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় । ভারতী , সাহিত্য , মুকুল প্রভৃতি পত্রিকার থেকেও এটি প্রাচীন । উনবিংশ শতকে সমাজে নারীদের অবস্থান এই পত্রিকাটি থেকে খুব ভালোভাবে জানতে পারা যায় । ঔপনিবেশিক শাসনে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রথমেই পত্রিকাটি প্রকাশ করা হয়েছিল । শিক্ষার পাশাপাশি রন্ধন পদ্ধতি , নারী ফ্যাশন প্রভৃতির বৈচিত্র সম্পর্কে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হতো । ১৮৬৩ থেকে ১৯২২ পর্যন্ত এই পত্রিকা প্রকাশিত হতো ।

২. উনিশ শতকের সমাজের প্রতিফলন কিভাবে গ্রামবার্তা প্রকাশিকা থেকে পাওয়া যায় ?

উত্তর: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে বাংলা সাময়িকপত্র হিসাবে গ্রামবার্তা প্রকাশিকা আবির্ভাব হয় । কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন এই পত্রিকার সম্পাদক । ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দের জুন-জুলাই মাসে একটি পাক্ষিক পত্রিকা ছিল ।১৮৭১ তে এটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয় । এই পত্রিকাতে সাহিত্য , দর্শন , বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য,  দর্শন এবং কবিতা বিষয়ক নানা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় । তখনকার দিনে নীলচাষীদের সমর্থনে এই পত্রিকায় কিছু কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ।

৩. উনিশ শতকে উপন্যাসের বিকাশ কিভাবে হয়েছিল ?

উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক । তার ‘ দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫ ) ছিল বাংলা ভাষায় লিখিত প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস । ‘ কপালকুণ্ডলা ‘ , ‘ আনন্দমঠ ‘ , ‘ দেবী চৌধুরানী ‘ প্রভৃতি নানা উপন্যাসে তিনি সমাজের প্রতিফলন তুলে ধরেছিলেন । বঙ্কিমচন্দ্র ছাড়াও রমেশচন্দ্র দত্ত , স্বর্ণকুমারী দেবী , প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় প্রমুখ এর নাম উল্লেখযোগ্য ।উনিশ শতকের শেষের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ত্রিপুরার আজ পরিবারকে নিয়ে ‘রাজর্ষি ‘উপন্যাস লেখেন ।

৪. ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে বেসরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: বাংলা ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে যে সমস্ত ব্যক্তি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজা রামমোহন রায় , রাজা রাধাকান্ত দেব , ডেভিড হেয়ার প্রমুখ । ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে অ্যাংলো হিন্দু স্কুল গড়ে ওঠে । ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি কলকাতা হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ডেভিড হেয়ারের হাত ধরে । এটি বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজ নামে পরিচিত । ১৮১৮ তে ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ।

৫. ইংরেজি শিক্ষা প্রসারে চার্লস উডের ডেসপ্যাচ সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে চার্লস উডের নাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অফ কন্ট্রোল এর সভাপতি থাকাকালীন তিনি একটি প্রস্তাব পেশ করেন । একেই উডের নির্দেশনামা বা উডের ডেসপ্যাচ বলা হয় । তার প্রস্তাব ছিল

  • প্রত্যেক প্রেসিডেন্সিতে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ।
  • সরকারি মডেল স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি
  • নারী শিক্ষার প্রসার
  • শিক্ষক শিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা
  • প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি ঘটানো ।

উডের নির্দেশ অনুসারে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে একটি শিক্ষা দপ্তর স্থাপন করা হয় । ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মাদ্রাজ বোম্বাইতে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয় ।

৬. পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান লেখ ।

উত্তর: পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রাচ্য শিক্ষা দ্বারা দেশবাসীর মনের কুসংস্কার দূর করা সম্ভব হবে না । তিনি বিশ্বাস করতেন আধুনিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষা শুধুমাত্র ইংরেজি শিক্ষার দ্বারা অর্জন করা সম্ভব । তাই তিনি ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল লর্ড আমহার্স্ট কে চিঠি মারফত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সরকারি অর্থ পাশ্চাত্য শিক্ষা খাতে ব্যয় করার জন্য অনুরোধ করেন ।

রাজা রামমোহন রায় আলেকজান্ডার ডাফ কে জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করাই সাহায্য করেছিলেন । কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটি এর তিনি এক অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন । শুরিপারায় তিনি একটি অবৈতনিক ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন । হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ও তার উদ্যোগ ছিল ।

৭. পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে কলকাতা মেডিকেল কলেজের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর: ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে নেটিভ মেডিকেল ইনস্টিটিউশন স্থাপিত হবার পর ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে সংস্কৃত কলেজ এবং কলকাতা মাদ্রাসায় সংস্কৃত এবং মারাঠি ভাষার মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়ানো হতো। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে আগস্ট মাসে সংস্কৃত কলেজের পাশে একটি হাসপাতাল খোলা হয়। প্রথম এখানে সব ব্যবচ্ছেদ করেন মধুসূদন গুপ্ত । ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ শে জানুয়ারি দ্রুত মেদিক্যাল কলেজ খোলার জন্য একটি আদেশ জারি করা হয়। অধ্যাপক নিযুক্ত হতে শুরু করেন। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে এর ১মে ছাত্র ভর্তির জন্য পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫০ জন ছাত্র নিয়ে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ১জুন সংস্কৃত কলেজের উত্তর দিকের একটি পুরনো বাড়িতে কলেজের কাজ আরম্ভ হয় ।

৮. সমাজ সংস্কারে শিবনাথ শাস্ত্রী এবং সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ এর ভূমিকা লেখ ।

উত্তর: আদি ব্রাহ্মসমাজ থেকে বেরিয়ে আসার পর শিবনাথ শাস্ত্রী কেশবচন্দ্র সেনের অনুগামী ছিলেন । বহুবিবাহ , বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে তিনি কেশবচন্দ্রের পক্ষে ছিলেন । বিধবা বিবাহ কে তিনি সমর্থন করেছিলেন কিন্তু নাবালিকা কন্যার সঙ্গে কুচবিহারের মহারাজার বিবাহ কেন্দ্র করে কেশবচন্দ্র সেন কে সমর্থন করতে তিনি মেনে নিতে পারেননি ।

৯. উনিশ শতকে সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর: ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ থেকে খ্রিস্টান মিশনারীরা সতীদাহ প্রথা বন্ধ করার জন্য চেষ্টা শুরু করেছিলেন ।১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় বিভিন্ন শাস্ত্র পড়ে লক্ষ করেন যে কোথাও বাধ্যতামূলক সতীদাহের নির্দেশ নেই । সতীদাহ বলতে স্বামীর মৃত্যুর পর তার চিতায় জীবিত স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা বোঝায় । রাজা রামমোহন রায় এবং তার সহযোগীরা জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক এর কাছে বিষয়টি তোলেন । ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করা হয় ।

১০. বিধবা বিবাহ আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা লেখ ।

উত্তর: বিধবা বিবাহ প্রবর্তন ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ । তিনি নিজেই লিখেছিলেন “বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম” । ‘ পরাশর সংহিতা ‘ থেকে শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি দেখান যে বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত । ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ একটি পুস্তিকা রচনা করে বিধবা বিবাহের সমর্থনে প্রচার শুরু করেন । এরপর সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি হয় । বিদ্যাসাগরের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে । তিনি সরকারের কাছে বিধবা বিবাহ আইন সিদ্ধ করার জন্য আবেদন করেন । ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে জুন বিধবা বিবাহ আইন সঙ্গত বলে ঘোষণা করা হয় ।

১১. উনিশ শতকের বাংলার ধর্ম সংস্কারের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ ।

উত্তর:

  • রাজা রামমোহন রায় , ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখেরা হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে তুলেছিলেন ।
  • ডিরোজিওর আদর্শে পরিচালিত হয় একদল তরুণ যুক্তিবাদী হিন্দু ধর্মকে আঘাত করেছিলেন । শেষ পর্যন্ত এই তীব্র বিরোধিতা আন্দোলন সফল হয়নি ।
  • বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদ এবং তাদের পৃথক ধর্মীয় আদর্শ থাকা সত্বেও কখনোই তা ভারতের ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির ভাবনাকে বিনষ্ট করে নি ।
  • হিন্দু ধর্মের উপর আঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে রক্ষণশীল হিন্দু পণ্ডিতরা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছিলেন এবং এই সংঘাতের ফলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলনে সৃষ্টি হয়।

১২. শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ ।

উত্তর: উনিশ শতকে ভারতবর্ষে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ব্যক্তি ছিলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব । প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও তিনি ছিলেন শিক্ষিতের শিক্ষক । তার প্রধান কৃতিত্ব ছিল সব ধর্মের মধ্যে ‘সর্বধর্ম সমন্বয়ের’ প্রতিষ্ঠা করা । নিজের জীবন ও সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি সর্ব ধর্মের ওপরে উঠে সব ধর্মকে আপন করে নিতে পেরেছিলেন । তার শ্রেষ্ঠ দর্শন ছিল ‘যত মত তত পথ’। তিনি মনে করতেন ঈশ্বর কে যে নামেই ডাকা হোক না কেন তিনি এক এবং অদ্বিতীয় এবং এই ছোট্ট কথা দিয়েছিল সকল ধর্মের মূল কথা । এভাবেই তিনি বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ‘সর্বধর্ম সমন্বয়ের’ চেষ্টা করেছিলেন । ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দরিদ্র , নিরক্ষর মানুষের আশ্রয় নিলেন এই মহান শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ।

১৩. ‘ নব্য বেদান্তের ‘ ৫ টি বৈশিষ্ট্য লেখ ।

উত্তর:

  • বিবেকানন্দ মনে করতেন ভক্তের মানসিকতার উপর ঈশ্বর সাধনা নির্ভরশীল ।
  • ভারতের সকল ধর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধন তিনি করতে চেয়ে ছিলেন । বেদান্তের হৃদয়ের সঙ্গে ইসলামের দেহের মিলন ঘটাতে চেয়েছিলেন তিনি ।
  • সকল ভারতবাসীর সহযোগিতায় তিনি নবভারত গঠন করতে চেয়ে ছিলেন । যেখানে প্রাচীন ভারতীয় জীবনাদর্শের সঙ্গে পাশ্চাত্যের কারিগরি জ্ঞান এর সুষ্ঠু সমন্বয় থাকবে ।
  • স্বামী বিবেকানন্দ ভারতকে জাগার মন্ত্রে , এগিয়ে চলার মন্ত্র দীক্ষিত করেছিলেন এবং এর জন্য ভারতের যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন ।
  • স্বামী বিবেকানন্দ মনে করতেন পিছিয়ে পড়া নিচু জাতের মানুষ , সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের হাত ধরেই একদিন নতুন ভারত গড়ে উঠবে ।

১৪. বাংলায় উনিশ শতকের নবজাগরণ বলতে কি বোঝো ?

উত্তর: ভারতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে পাশ্চাত্য শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক দিকে বিকাশ ঘটতে থাকে । এর ফলে উনিশ শতকের বাংলায় চিন্তা এবং সাংস্কৃতিক জগতে এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন লক্ষ করা যায় । একেই বাংলার নবজাগরণ বা রেনেসাঁস বলা হয় । বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন রাজা রামমোহন রায় । তার হাত ধরেই বাংলার মানুষের মনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছিল । পরবর্তীকালে নবজাগরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ।

১৫. বাংলায় নবজাগরণ ধারণার ব্যবহার বিষয়ক বিতর্ক সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ ।

উত্তর: বাংলার নবজাগরণ কে প্রকৃত অর্থেই নবজাগরণ বলা যাবে কিনা তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে । প্রখ্যাত ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার ‘ History of Bengal ‘ গ্রন্থে বাংলার বৌদ্ধিক ও সংস্কৃতির জাগরণকে ‘ নবজাগরণ ‘ বলে অভিহিত করেছেন । ঐতিহাসিক সুপ্রকাশ রায় অর্থনীতিবীদ অশোক মিত্র প্রমুখেরা এই জাগরণ কে ‘ তথাকথিত নবজাগরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। আবার কোনো কোনো পন্ডিতের মতে এটি একটি অতি কথা । ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন বাংলার নবজাগরণের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি স্রষ্টা নয় । তার মতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ফল নবজাগরণ । আবার ঐতিহাসিক সুপ্রকাশ রায় মনে করেন বাংলার নবজাগরণ ছিল ইউরোপীয় নবজাগরণের বিপরীতধর্মী ।

ব্যাখ্যামূলক উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন :

১. ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার অবদান লেখ ।

উত্তর: ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ জানুয়ারি ইংরেজি সাপ্তাহিক হিন্দু প্যাট্রিয়ট  পত্রিকা কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় । গিরিশচন্দ্র ঘোষের সম্পাদনায় মধুসূদন রায় পত্রিকাটি প্রকাশ করেন । কলকাতার কলাকার স্ট্রিটে অবস্থিত মধুসূদন রায়ের প্রেস থেকে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এই পত্রিকাটি বের হতো ।

হিন্দু প্যাট্রিয়ট ছিল জাতীয়তাবাদী পত্রিকা । নীল চাষীদের উপর নীলকর সাহেবদের অসহনীয় অত্যাচারের কাহিনী উঠে এসেছিল এই পত্রিকার মাধ্যমে । ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে হরিশচন্দ্র মুখার্জী এই পত্রিকায় যোগদান করার পর পত্রিকার আরো প্রসার ঘটে । ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার পর ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে পত্রিকার অবস্থান আরো দৃঢ় হয় । ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার নীলচাষের বিদ্রোহীদের প্রথম গ্রেপ্তার করলে হরিশচন্দ্র মুখার্জী পূর্ণ শক্তি নিয়ে অগ্রসর হন । শ্রী যোগেশচন্দ্র বাগল্ এর লেখা ‘ ভারতের মুক্তি সন্ধানী ‘ গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি নীল হাঙ্গামার সময় হরিশচন্দ্রের বাড়ি অতিথিশালায় পরিণত হয়েছিল । এই সময় পত্রিকার নিয়মিত খরচ তিনি চালাতেন এবং তার বেতনের অবশিষ্টাংশ তিনি নীলচাষীদের সেবায় ব্যবহার করতেন । হরিশচন্দ্র তার পত্রিকায় অর্চিবল্ড হিল্ড কর্তৃক হরমনি নামে এক রমণীকে হরনের সংবাদ প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে হিল সাহেব ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন । এরপর থেকেই হরিশচন্দ্রের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে এবং ৩৭ বছর বয়সে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় মারা যান । তার মৃত্যুতে বাংলা নীল চাষিরা গভীরভাবে শোকাহত হয়েছিলেন ।

হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর মৃত্যুর পর পত্রিকার সামনে সংকট উপস্থিত হয় । কালীপ্রসন্ন সিংহ কিছু অর্থ সাহায্য করে পত্রিকাটি বাঁচাবার চেষ্টা করেন । পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং কৃষ্ণদাস পাল পত্রিকা পরিচালনার সাথে যুক্ত হন । কৃষ্ণদাস পাল ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে এই পত্রিকার সম্পাদনা করেন । এর পরবর্তী সম্পাদক ছিলেন রাজকুমার সর্বাধিকারী । ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাস থেকে হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকাটি প্রাত্যহিক পত্রিকাতে পরিণত হয় ।১৯১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই পত্রিকাটি নিয়মিত চলত এবং এরপরে কিছুদিন বন্ধ থেকে এটি পাক্ষিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।এর শেষ প্রকাশনা হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে এর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত ।

এভাবেই হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকাটি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক মারাত্মক অস্ত্র হয়ে ওঠে।

২. ব্রিটিশ সরকারের নীল চাষীদের উপর শোষণের বিরুদ্ধে নীলদর্পণ নাটকের ভূমিকা মূল্যায়ন করো ।

উত্তর: ১৮৫৮-১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে দীনবন্ধু মিত্র ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি রচনা করেন । বাংলার নীল চাষীদের উপর ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচারের কাহিনী এই নাটকে উঠে এসেছে । গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত । কিন্তু এটি প্রকাশিত হয় পাদরি জেমস লং এর নামে ।এর ফলে জেমস লং এর জরিমানা এবং কারাদণ্ড হয় ।

নীলদর্পণ নাটকটি প্রথম প্রকাশিত এবং অভিনীত হয় ঢাকা তে। এই নাটকটি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং এটি এক বছরের মধ্যে পুনর্মুদ্রিত হয় । বাংলার অবহেলিত এবং অত্যাচারিত কৃষক সম্প্রদায় কে নিয়ে যে সাহিত্য গ্রন্থ বিশেষত নাট্য সাহিত্য গ্রন্থ রচিত হয়েছিল তা এক যুগান্তকারী ঘটনা । এই নাটকটি কোন কৃষক বিদ্রোহের নাটক নয় এতে দু-একটি কৃষককে ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহী রূপে আঁকা হয়েছিল । সর্বগ্রাসী নীল চাষের ফলে বাংলার কৃষক সম্প্রদায়ের উপর শাসনব্যবস্থা যেভাবে নেমে এসেছিল তার ফলে শুধু কৃষক নয় অন্যান্য সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল । নাট্যকার এই নীলদর্পণ নাটকের মাধ্যমে এই সমস্ত বিপর্যয় গুলিকে খুব সুন্দর ভাবে সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপিত করেছিলেন । পাশাপাশি তিনি শহরের মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন যে তারা যেন বাংলার এই বিপদের দিনে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান । এই নাটকে যশোরের কাচিকাটা কুঠির ম্যানেজার অর্চীবল্ড হিল সাহেবের কুকীর্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে । এই হিল সাহেবের প্রধান কাজ ছিল নারী হরণ এবং নারীদের উপর অত্যাচার করা ।১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটারে পেশাদারী নাটক হিসেবে এই নাটকটি অভিনীত হয় এবং এরপরই এটি ‘জনসাধারণের নাটক’ হয়ে ওঠে। রাজদ্রোহী এবং ইংরেজ বিদ্বেষী হওয়ার কারণে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নাটকটির অভিনয় নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় ।

৩. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ারের অবদান মূল্যায়ন করো ।

উত্তর: ডেভিড হেয়ার জাতিতে ইংরেজ হলেও ভারতীয়দের কল্যাণে নিজেকে নিযুক্ত করেছিলেন । ১৮১৭ এবং ১৮১৮ ছিল ভারতের ইংরেজি শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বছর ।১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ডেভিড হেয়ার স্থাপন করেন ‘ ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি ‘ । এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজি এবং দেশীয় ভাষায় স্কুলের পাঠ্যপুস্তক রচনা এবং প্রকাশ করা এবং তা স্বল্পমূল্যে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা । ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে পটলডাঙায় তিনি একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন । বর্তমানকালে এটি হেয়ার স্কুল নামে পরিচিত । ডেভিড হেয়ার একটি ঘড়ির দোকানে কাজ করতেন কিন্তু তিনি এদেশের মানুষের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তারের জন্য সব সময় চিন্তা ভাবনা করতেন । রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিষ্ঠিত আত্মীয় সভা তে ডেভিড হেয়ার মাঝেমধ্যেই আসতেন এবং হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে রামমোহনের সাথে আলোচনা করতেন । শেষ পর্যন্ত পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসারের উদ্দেশ্যে এবং ইংরেজী শিক্ষার বিস্তারের জন্য ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ হিন্দু কলেজ ‘ । পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের জন্য ডেভিড হেয়ারের মধ্যে যে উৎসাহ এবং উদ্যোগ ছিল এবং নিরলস প্রচেষ্টায় খুশি হয়ে রাজা রাধাকান্ত দেব , দ্বারকানাথ ঠাকুর প্রমুখেরা এই কলেজে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন ।১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে এই কলেজটি ‘ প্রেসিডেন্সি কলেজ’ নামে পরিণত হয়। হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত রামমোহনের ভূমিকা সম্পর্কে অনেকের বিতর্ক রয়েছে । ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় রাজা রামমোহনের কোন ভূমিকাই নেই তবে এই অভিমত অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় । শিবনাথ শাস্ত্রী , রাজনারায়ণ বসুর মতো প্রমুখেরা মনে করেন ডেভিড হেয়ারের পাশাপাশি রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা ও এক্ষেত্রে খুবই উল্লেখযোগ্য । শেষপর্যন্ত গোরা পন্থী হিন্দুদের বিরোধিতায় হিন্দু কলেজের কমিটি থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন ।

৪. ব্রাহ্ম আন্দোলনের বিবর্তন এবং বিভাজন সম্পর্কে লেখ ।

উত্তর:

বিবর্তন : বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ এবং মানবতাবাদের আদর্শে পরিচালিত হয় রাজা রামমোহন রায় ধর্মসংস্কার আন্দোলন শুরু করেন । তার প্রতিষ্ঠিত ধর্ম আন্দোলন ছিল ব্রাহ্ম আন্দোলন । পাশ্চাত্য শিক্ষা এবং সংস্কৃতির আলোকে আলোকিত হয়ে রাজা রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মের মধ্যে নতুন এক ধর্মচিন্তার উদ্ভব ঘটিয়েছিলেন । উনিশ শতকের সমাজে বিভিন্ন রকম কুসংস্কার প্রচলিত ছিল । তিনি কঠোরভাবে এর বিরোধিতা করেন । হিন্দু ধর্মের বহু দেব দেবী , মূর্তিপূজা , বর্ণভেদ প্রথা ইত্যাদির তীব্র নিন্দা করে তিনি একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠার ভাবনা চিন্তা করেন ।

১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘ একেশ্বরবাদীদের প্রতি ‘ নামক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন । খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন কুসংস্কার সমালোচনাও তিনি করেছেন । ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আত্মীয়সভা । এই সভা সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর , প্রসন্নকুমার ঠাকুর, রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ প্রমুখ ।১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহনের প্রতিষ্ঠা করেন ‘ ব্রাহ্মসভা ‘।১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে এই সভা ‘ব্রাহ্মসমাজ’ নামে পরিচিত হয় ।

রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর ব্রাহ্ম আন্দোলন কিছুটা গতিহারা হয় । পরবর্তীকালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম আন্দোলন কে গতিশীল করেন । কেশব চন্দ্র সেন পরবর্তীকালে এই আন্দোলনকে সর্বভারতীয় রূপ প্রদান করেন ।

বিভাজন : কিছুদিনের মধ্যেই ব্রাহ্মসমাজে ভাঙ্গন দেখা যায় । কেশব চন্দ্র সেন , অক্ষয় কুমার দত্ত ক্রোমবুক তরুণ নেতাদের সাথে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতবিরোধ দেখা দেয় । কেশব চন্দ্র সেন তার অনুগামীদের নিয়ে ব্রাহ্মসমাজ থেকে বেরিয়ে এসে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ‘ ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ ‘ স্থাপন করেন।

অপরদিকে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মসমাজ ‘ আদি ব্রাহ্মসমাজ ‘ নামে পরিচিত হয় । কেশবচন্দ্র সেনের সাথে তার অনুগামীদের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ দেখা দিলে শিবনাথ শাস্ত্রী ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ থেকে বেরিয়ে এসে তৈরি করেন ”  সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ ‘ । এবং পরবর্তীকালে কেশবচন্দ্র সেনের ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ পরিবর্তিত হয় ‘ নববিধান ব্রাহ্মসমাজ ‘ এ।

৫. বাংলার নবজাগরণের তথাকথিত চরিত্র গুলি সংক্ষেপে লেখ ।

উত্তর: ভারতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে পাশ্চাত্য শিক্ষা এবং সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে থাকে । এর ফলে উনিশ শতকে বাংলায় চিন্তা এবং সাংস্কৃতিক জগতে এক সুদুরপ্রসারী পরিবর্তন দেখা দেয় । একেই বাংলার ইতিহাসে রেনেসাঁস বা নবজাগরণ বলা হয় ।

বৈশিষ্ট্য :

  • হিন্দু ধর্মের নানা কুসংস্কার এই সময় শেষ হয় যেমন সতীদাহ প্রথা , বহু বিবাহ ইত্যাদি । রাজা রামমোহন রায় , ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখেরা এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ।
  • ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপের নবজাগরণ এসেছিল বাংলার নবজাগরণ ছিল তার প্রতিচ্ছবি । শুধু পার্থক্য এক জায়গাতেই । ইউরোপের নবজাগরণের সময় সেখানে কোন বৈদেশিক শক্তি রাজত্ব করত না কিন্তু বাংলার নবজাগরণের সময় এখানে বৈদেশিক শক্তি শাসন চালাত ।
  • নবজাগরণের সময় সামাজিক গঠন এবং ধ্যান ধারণায় অনেক পরিবর্তন এসেছিল । রামমোহন রায় একেশ্বরবাদের প্রচলন করেন । ডিরোজিওর মাধ্যমে নব্য বঙ্গ গোষ্ঠী গড়ে ওঠে ।
  • সাহিত্য ক্ষেত্রে নবজাগরণের প্রভাব পড়ে । বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘ দুর্গেশনন্দিনী ‘ ,’আনন্দমঠ ‘ , শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘ পরিণীতা ‘ , ‘ শেষরক্ষা ‘ , ‘ গৃহদাহ ‘ প্রভৃতি উপন্যাসগুলি বাঙালির মনে জাতীয়তাবোধকে জাগরিত করেছিল ।
  • বাংলার নবজাগরণ আক্ষরিক অর্থে গণজাগরণ নয় । কারণ দেশের মধ্যে যারা দরিদ্র এবং অল্প শিক্ষিত সেই সমস্ত মানুষের মধ্যে নবজাগরণ পৌঁছাতে পারেনি । এই নবজাগরণ শুধুমাত্র শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল ।
  • বাংলা নবজাগরণের কালে নানারকম বিদ্রোহের এবং আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল যেমন ওয়াহাবি আন্দোলন , ফরাজি আন্দোলন , সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ প্রভৃতি ।
  • উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন রাজা রামমোহন রায় , ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , রবীন্দ্রনাথ , স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখেরা ।
  • বাংলা নবজাগরণে তত্ত্ববোধিনী , বামাবোধিনী , বঙ্গভাষা প্রকাশিকা মতো অসংখ্য সাময়িকপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ‘ আলালের ঘরে দুলাল ‘ , ‘ হুতোম প্যাঁচার নকশা ‘ , ‘ নীলদর্পণ নাটক ‘ এছাড়াও রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন গল্প , নাটক , উপন্যাস বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এ সময় ।
  • বাংলার নবজাগরণের কালে চিত্রশিল্পে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর,  যামিনী রায় , নন্দলাল বসু প্রমুখ । সঙ্গীতের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অতুলপ্রসাদ সেন , রজনীকান্ত সেন , বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী প্রমুখ শিল্পী এই যুগকে আলোকিত করেছিলেন।
  • ইতালির নবজাগরণ এর সাথে বাংলার নবজাগরণের কিছু ক্ষেত্রে মিল এবং অমিল থাকতে পারে । প্রকৃতপক্ষে বাংলার নবজাগরণ বাংলার মধ্যযুগীয় অন্ধকার এবং বিভিন্ন কুসংস্কার এর অবসান ঘটিয়েছিল এবং মানবিকতার জাগরণ ঘটিয়েছিল ।

উনিশ শতকের নবজাগরণ এর ফলে যে উন্নতি বাংলায় হয়েছিল তা সারা ভারতের পথ দেখিয়েছিল পরবর্তীকালে । আজ বাঙালির যা কিছু গর্ব এবং যা কিছু সমাদর এর বিষয়বস্তু তার সবটাই এই নবজাগরণের ফল । এই নবজাগরণ বাঙালিকে বিশ্বসভায় স্থান দিয়েছে এবং ভাবজগতের বাঙালি রেখেছে চিরস্থায়ী অবদান ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top