Class 10 জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী

জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী

লেখক পরিচিতি

শৈশবকাল: ১৯০৯খ্রিস্টাব্দের ই জানুয়ারিতে তাঁর জন্ম হয় | তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ছিল হুগলি জেলার অন্তর্গত বেগমপুর অঞ্চলে |  তিনি জন্মেছিলেন উত্তর কলকাতার  একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে |

সাহিত্য জীবন: আশাপূর্ণা দেবীর লেখিকা হিসেবে হাতে খড়ি হয় একদম ছোট বয়সে| যখন তার প্রথম লেখা “ শিশুসাথী ’’নামক পত্রিকায় ছাপা হয় তখন তাঁর  বয়স ছিল মাত্র  ১৩ বছর | তাঁর প্রথম এটা না ভাড়া দিতে হবেপ্রকাশিত বই “ছোট ঠাকুরদার কাশি যাত্রা ’’ (১৯৩৮)|  তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস “ প্রেম ও প্রয়োজন’’(1988) এছাড়াও “প্রথম প্রতিশ্রুতি’’ ও “সুবর্ণলতা’’ তারই লেখা | আশাপূর্ণা দেবী ছিলেন একজন আধুনিক মনস্কা  নারী , তিনি  তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বারংবার আধুনিক নারীদের কথা তুলে ধরেছেন কিন্তু তিনি কখনোই আধুনিকতার নামে বিলাসিতা কে সমর্থন করেননি |  তাঁর অগণিত লেখার মধ্যে  রয়েছে ১৭৬ টি উপন্যাস, ৪৭ টি ছোটদের বই,৩০ টি ছোট গল্প |  বলাবাহুল্য তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করেছিলেন লেখালেখির মাধ্যমে,দীর্ঘ ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তাঁর লেখালিখি চালিয়ে যান |আশাপূর্ণা দেবী  তাঁর কর্মজীবনে দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান “জ্ঞানপীঠ’’ পুরস্কার লাভ করেছিলেন হাজার ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে  তাঁরলেখা প্রথম প্রতিশ্রুতি গ্রন্থের জন্য এছাড়াও তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার ও সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারেও পুরস্কৃত হয়েছিলেন | এই মহান সাহিত্যিক এর প্রাণ ঘটেছিল ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ১৩ ই জুলাই |

 

সারসংক্ষেপ

আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পে তপন নামের  ছোট ছেলেটি তার  ছোট মাসির বিয়ে উপলক্ষে বেড়াতে এসেছিল, এসে সে জানতে পেরেছিল যে তার ছোট মেসো একজন লেখক, সেই সুবাদে একজন লেখক কে তার ( তপন ) প্রতিনিয়ত দেখার সুযোগ হচ্ছিল | তপনের মনে লেখকদের নিয়ে অনেক কৌতুহল ছিল,কিন্তু লেখকরাও যে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতই সাধারণ হয় সেটাও জানতে পারছে সে | তার এই নতুন লেখক মেসো কে দেখে তপন ভাবে সে কেন লিখতে পারবেনা তাহলে ! যেইভাবা সেই কাজ,সে নিজে নিজেই মস্ত একটি গল্প লিখে ফেলল, তার গল্পের বিষয়বস্তু ছিল তারই স্কুলের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে | তপন তার চিরকালের বন্ধুসম  ছোট মাসি কে আহ্লাদীত হয়ে তার নিজের লেখা গল্পটি  দেখিয়ে ফেললে, প্রথমে তপনকে একটু ব্যঙ্গ করলেও পরে তার সেই ছোট মাসিই লেখাটি তার লেখক মেসোরকাছে গল্পটি নিয়ে গিয়ে  ছাপিয়ে   দিতে আবদার করে | মেসো গল্পটি পড়ে  তপনকে  উৎসাহিত করার জন্য বাহবা দেয় এবং তাকে বলে, “একটু কারেকশন করে ইয়ে করে  দিলেই দিব্যি ছাপাতে দেওয়া যায়| ’’ ছুটি কাটিয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময়ে তপনের লেখা টি তার নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে  ভুল হলো না তার লেখক  মেসোর, সন্ধ্যাতারা ছাপানোর জন্য |ইতিমধ্যে তপন আরো বেশ কয়েকটি গল্প লিখে ফেলেছে , তার স্কুলের হোমটাস্ক হয়নি কিন্তু সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই সে গল্পের পর গল্প লিখে যাচ্ছে, এ যেন নেশার মতন | একদিন হঠাৎ তার ছোট মেসোরা আসে হাতে ছিল তার সন্ধ্যাতারা, সেখানেই ছাপা হয়েছে তপনের গল্পটি,সূচিতে নামও আছে তপনের |পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে তপনের লেখক  মেসো তার লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে, সেখানে তপনের কৃতিত্ব ঢাকা পড়ে গিয়ে তার  লেখক মেসোর মহানুভবতা ছড়িয়ে পড়ে |কিন্তু তপন লেখা টি হাতে  পেয়ে  পড়া আরম্ভ করতেই  বিপত্তি ঘটে…… এ  কি  পড়ছে সে এযে সম্পূর্ণ আলাদা লেখা, যে লেখার মধ্যে তপন নেই কোথাও,সে বুঝতে পারলো তার লেখার ধারণা থেকে তার  লেখক মেসো নিজের পাকা হাতে লিখেছেন পুরোটা নতুন করে | তার মনে হলো নতুন মেসো তাকে করুণা করেছেন এর থেকে লজ্জার আর অপমানের তপনের কাছে আর কিছুই হতে পারে না|  ছোট তপন সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিল যদি আর কোনদিন তাকে লেখা   ছাপাতে হয় তবে সে নিজে গিয়ে লেখা দিয়ে আসবে ছাপানোর জায়গায় তাতে তার লেখা ছাপা হোক আর না হোক তাকে আর এমনভাবে অপমানিত হতে হবে না আর কোনদিন |

 

1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে  লেখ:

1. 1) কার কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেলের মতো হয়ে গিয়েছিল –
(ক)ছোট মাসি
(খ) ছোট কাকা
(গ) নতুন মেসো মশাই
(ঘ) নতুন পিসেমশাই

 উত্তর- (গ) নতুন মেসো মশাই

1. 2) তপনের নতুন মেসোমশাই পেশায় ছিলেন একজন –
(ক)গায়ক
(খ) বই প্রকাশক
(গ) কলেজের অধ্যাপক
(ঘ) চিকিৎসক

উত্তর- (গ) কলেজের অধ্যাপক

1. 3) তপনের লেখা গল্প তার নতুন মেসোমশাই কে দেখিয়েছিল-
(ক) ছোট মাসি
(খ)  পিসি
(গ) মা
(ঘ) বড় মাসি

 উত্তর- (ক) ছোট মাসি

1. 4) “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই’’- এখানে জহুরী বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) নতুন মেসো
(খ) ছোট মাসি
(গ) বড় পিসি
(ঘ) তপনের মা

উত্তর-  (ক) নতুন মেসো

1. 5) “মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা’’-কোন উপযুক্ত কাজের কথা বলা হয়েছে?
(ক) গল্পের কারেকশন করা
(খ)  তপনকে লেখায় উৎসাহ প্রদান করা
(গ) তপনের লেখা গল্পটি চাপিয়ে দেওয়া
(ঘ) তপনকে গল্প লেখার নিয়ম সম্পর্কে  জ্ঞাত করা

উত্তর- (গ) তপনের লেখা গল্পটি  ছাপিয়ে  দেওয়া

1. 6) কোন পত্রিকায় তপনের গল্প চাপিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল?
(ক) আনন্দমেলা
(খ) শুকতারা
(গ) দেশ
(ঘ) সন্ধ্যাতারা

উত্তর- (ঘ) সন্ধ্যাতারা

1. 7)  ছোট মেসোর শ্বশুরবাড়িতে কিছুদিন থাকার কারণ-
(ক) তার শরীর ভালো ছিল না
(খ) ছোট মাসি শরীর ভালো ছিল না
(গ) তার কলেজের ছুটি চলছিল
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- (গ) তার কলেজের ছুটি চলছিল

1. 8) “বিকেলের চায়ের টেবিলে  ওঠে কথাটা’’-কোন কথাটি বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে?
(ক) তপনের ছোট মাসির বিয়ের কথা
(খ) তপনের নতুন মেসোর কথা
(গ) তপনের লেখা গল্পের কথা
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- (গ) তপনের লেখা গল্পের কথা

 1. 9) তপনের লেখা গল্পের বিষয়বস্তু ছিল-
(ক) রাজা রানী
(খ) এক্সিডেন্ট
(গ) স্কুলে ভর্তি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- (গ) স্কুলে ভর্তি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি

1. 10) তপনের মা বিয়ে বাড়িতে কোন জিনিসটি না নিয়ে ছাড়েননি?
(ক) গল্পের বই
(খ) হোম টাস্ক এর খাতা
(গ) কবিতার বই
(ঘ)সবকটি

উত্তর- (খ) হোম টাস্ক এর খাতা

1. 11)  আস্ত একটা গল্প লিখে ফেলার পর তপনের অনুভূতি কেমন ছিলো?
(ক) গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো
(খ) গা গরম হয়ে গেল
(গ) পা ঠান্ডা হয়ে গেল
(ঘ) সবকটি

উত্তর- (ক) গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো

1. 12) __________ ওর চিরকালের বন্ধু
(ক) বড় পিসি
(খ) ছোট মেসো
(গ) মা
(ঘ) ছোট মাসি

উত্তর- (ঘ) ছোট মাসি

1. 13) তপনের ছোট মাসি তপনের থেকে কত বছরের বড় ছিল?
(ক) ৭
(খ) ৮
(গ) ৯
(ঘ) ১০

উত্তর- (খ)

1. 14) “এদিকে বাড়িতে তপনের নাম হয়ে গেছে’’ –
(ক)কবি ,সাহিত্যিক, কথাশিল্পী
(খ) কবি, লেখক
(গ) কবি , গল্পকার
(ঘ) সাহিত্যিক, কথাশিল্পী

উত্তর- () কবি ,সাহিত্যিক, কথাশিল্পী

1. 15) বাড়িতে ঠাট্টা-তামাশা চলাকালীন তপন আরো কটি গল্প লিখে ফেলে?
(ক) দু’চারটে
(খ) দু-একটা
(গ) দু’তিনটে
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর- (গ) দু’তিনটে

1. 16) “সূচীপত্রেও নাম রয়েছে’’- সূচিপত্রে কি নাম ছিল?
(ক) প্রথম দিন গল্প শ্রী তপন কুমার রায়
(খ) প্রথম অভিজ্ঞতা শ্রী তপন কুমার রায়
(গ) প্রথম লেখা শ্রী তপন কুমার রায়
(ঘ)  শ্রী তপন কুমার রায়

উত্তর- (ক) প্রথম দিন গল্প শ্রী তপন কুমার রায়

1. 17) “যেন নেশায় পেয়েছে’’ -এখানে কোন নেশার কথা বলা হয়েছে?
(ক) গল্প পড়ার নেশা
(খ) গল্প শোনার নেশা
(গ) গল্প লেখার নেশা
(ঘ) সবকটি

উত্তর- (গ) গল্প লেখার নেশা

1. 18) “বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের’’-তপনের বুকের রক্ত  ছলকে ওঠার কারণ কি?
(ক) নতুন মেসো কে দেখা
(খ) নতুন মাসিকে দেখাও
(গ) ছোট মেসোর  হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা দেখে
(ঘ) ভয় পেয়ে হ্যাঁ

উত্তর- (গ) ছোট মেসোর  হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা দেখে

1. 19) “প্রথম দিন’’গল্পটির লেখক কে?
(ক) তপন কুমার রায়
(খ) শ্রী তপন কুমার রায়
(ক) তপন রায়
(ঘ) শ্রী তপন কান্তি রায়

উত্তর- (খ) শ্রী তপন কুমার রায়

1. 20) “তপন আর পড়তে পারে না’’- কারণ
(ক) তপনের লেখা গল্পটি আগাগোড়াই কারেকশন করা হয়েছে
(খ) সকল প্রশংসা লজ্জা পেয়েছে
(গ) নতুন মেসোর  সামনে পড়তে লজ্জা পাচ্ছে
(ঘ) সবকটি

উত্তর- (ক) তপনের লেখা গল্পটি আগাগোড়াই কারেকশন করা হয়েছে

 

2. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :

2. 1) কখন তপনের চোখ মার্বেল এর মত হয়ে গিয়েছিল?

উত্তরযখন সে জানলো তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক, তখনই তার চোখ মার্বেল এর মত হয়ে গেল |

2. 2) কোন বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল?

উত্তরলেখকরা যে তপনের বাবা, ছোটমামা বা মেজ কাকুর মত সাধারণ মানুষ, তাদের আচরণও যে আর পাঁচটা মানুষের মতোই হয়ে থাকে, এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের |

2. 3) কাকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল?

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের লেখক নতুন মেসোমশাই কে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল |

2. 4) তপনের  মেসোর কদিন শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকার কারণ কি?

উত্তর তপনের মেসোর কলেজ ছুটি চলায় তিনি কদিন শ্বশুর বাড়িতে এসে রয়েছেন |

2. 5) “তবে তপনের-ই বা লেখক হতে বাধা কি’’-কেন তপনের লেখক হতে বাধা ছিল?

উত্তর আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রধান চরিত্র তপন মনে মনে ভাবতো লেখকরা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো নয় তারা হয়তো অন্য গ্রহের জীব, তাই তার লেখক হতে বাধা ছিল|

2. 6) তপনের ছোট মেসো কোন পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন? 

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের মুখ্য চরিত্র তপনের ছোট মেসো পেশায় অধ্যাপক ছিলেন |

2. 7) “তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয়’’ -তপনের পুলকিত হওয়ার কারণ কি?

উত্তর- তপনের ছোট মাসি তপনের লেখা টি নিয়ে তপনের ছোট মেসো মশাইয়ের কাছে গিয়ে হইচই জুড়ে দিলে তখন মনে মনে পুলকিত হয়, কারণ লেখার মূল্য যদি কেউ বোঝে তা আসলে একমাত্র তার মেসোমশাই |

2. 8)  “এইসব মাল মশলা নিয়ে বসে’’ -এখানে কোন মাল মসলার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা গল্প লিখতে বসলে তাদের গল্পের বিষয়বস্তু হয় রাজা রানীর গল্প, খুন-জখম, অ্যাক্সিডেন্ট বা না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া | এখানে এসব বিষয়ের কথাই বলা হয়েছে |

2. 9) “সেটা জানতে তো বাকি নেই ‘’-কার কি জানতে বাকি নেই?

উত্তর আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের গল্প জিনিসটা আসলে কি তা জানতে বাকি নেই |

2. 10) “আর তোমরা বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা’’-এখানে কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের মুখ্য চরিত্র তপনের এক জায়গায় বসে একটা গোটা গল্প লিখে ফেলার প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করা হয়েছে |

2. 11) “ এমন সময় ঘটলো এক ঘটনা’’- এখানে কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর- হঠাৎ একদিন ছোট মাসি আর মেসো হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকার নিয়ে  তপনদের বাড়িতে আসার  ঘটনার কথা বলা হয়েছে |

2. 12) “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনা ও ঘটে’’- কোন ঘটনা সম্পর্কে উক্তিটি করা হয়েছে?

উত্তর- ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত তপনের লেখা গল্পটি হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে, এই ঘটনাকেই অলৌকিক ঘটনা বলা হয়েছে |

2. 13) “সূচিপত্রেও নাম রয়েছে’’- সেখানে কি নাম লেখা ছিল?

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পে সন্ধ্যাতারা পত্রিকার সূচিপত্রে লেখা ছিল-প্রথমদিন (গল্প)শ্রী তপন কুমার রায় |

2. 14) “যেন নেশায় পেয়েছে’’- কোন নেশার কথা এখানে বলা হয়েছে?

উত্তর  প্রশ্নে উল্লেখিত উক্তিটিতে তপনের গল্প লেখার অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে |

2. 15) “আর তোমরা বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা’’- কি বিশ্বাস করার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের মুখ্য চরিত্র তপন এক জায়গায় বসে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলার প্রসঙ্গে উল্লেখিত উক্তিটি করা হয়েছে |

2. 16) “সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়’’- এই শোরগোলের কারণ কি ছিল?

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের লেখা গল্প সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপার প্রসঙ্গে সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায় |

2. 17) “ক্রমশ কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে’’- কোন কথাটি ছড়িয়ে পড়ে?

উত্তর- তপনের গল্প কারেকশনের কথাটি ছড়িয়ে পড়ে |

 

3. বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর :

3. 1) “লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝলে নতুন মেসোই বুঝবে’’- কার কখন কেন একথা মনে হয়েছিল তা আলোচনা করো?

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের মুখ্য চরিত্র তপন-এর একথা মনে হয়েছিল |

     একদিন দুপুর বেলা এক জায়গায় বসে তপন একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে | আস্ত একটা গোটা গল্প লিখে ফেলার পর প্রথমে সে অবাক হয়ে নিজেই ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে পারেনা | কিন্তু সেই যে গোটা গল্পটা লিখেছে এই ভেবে তার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে|  ছোট মাসি তার চিরকালের বন্ধু  হওয়ায় প্রথমে সে ছোট মাসি কে ডেকে গল্পটার কথা জানায়, ছোট মাসি তার লেখাটা পড়ে তাকে প্রশংসা করে লেখাটা নিয়ে ছোট মেসোর দিকে ধাবিত হয়  এবং সারা বাড়িতে হৈচৈ বাঁধিয়ে দেয় | তপন অবশ্য কিছুটা লজ্জা পেলেও মনে মনে পুলকিত হয় যদিও আসলে এটাই চেয়েছিল এই সময়ে তপন মনে মনে প্রশ্নে উল্লেখিত কথাটি ভাবতে থাকে |

তপনের ছোট মেসো মশাই ছিলেন একজন লেখক তার পাশাপাশি তিনি কলেজের অধ্যাপক ও  ছিলেন | তিনি অনেক বইও লিখেছেন এবং সেসব বই ছাপার অক্ষরেও প্রকাশিত হয়েছে | যেহেতু তিনি লেখালেখি করতেন তাই লেখার প্রকৃত মূল্য যদি কেউ বোঝে তাহলে সেটি একমাত্র ছোট মেসো|

তাই তপন বলেছিল রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই’’ | সাহিত্যচর্চিত একজন মানুষের পক্ষে ই সম্ভব লেখার প্রকৃত মূল্য বোঝা |

3. 2) “ আঃ ছোট মাসি ভালো হবে না বলছি’’- এটি কার উক্তি? বক্তার এরূপ বলার কারণ কি?

উত্তরআশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রধান চরিত্র তপন এর উক্তি |

    তপন গরমের ছুটিতে মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে | সেখানে তার নতুন মেসো কে দেখে গল্প লেখার উৎসাহ বেড়ে যায় | কারণ  তার নতুন মেসো ছিলেন একজন লেখক |  আগে তপনের ধারণা ছিল লেখকরা হয়তো তাদের মত সাধারন মানুষ নন তারা অন্য এক অলৌকিক  জগৎ- এর মানুষ |  কিন্তু নতুন মেসো কে দেখার পর তার এই  ভুল ধারণা বদলে যায় |   উৎসাহের সাথে মনে মনে  তপন ভাবে তার আর লেখক হতে বাধা নেই |  তারপর এক নিস্তব্ধ দুপুর বেলা হোম টাস্ক এর খাতা নিয়ে তিনতলার  সিঁড়িতে উঠে যায় সে |   এক-আসনে বসে লিখে ফেলে গোটা একটি গল্প | গল্পের বিষয়বস্তু ছিল তার বয়সী অন্য বাচ্চাদের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা | সে তার স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নিয়ে গল্পটি  লেখে |  গল্পটা লেখার পর তার চিরকালের বন্ধু ছোট মাসি কে  প্রথম দেখায় |  ছোট মাসি তার লেখা গল্পটি সম্পূর্ণ না পড়েই একটু চোখ বুলিয়ে পিঠ চাপড়ে তাঁর প্রশংসা করে, এবং জানতে চায়  সে লেখা টি কোন জায়গা থেকে নকল করে লিখেছে কিনা | এ কথার   জবাবেই সে প্রশ্নে উল্লেখিত উক্তিটি করেছে |

3. 3) “তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় এইসব কথার মধ্যে|” – এখানে এইসব কথা বলতে কোন কথা কে বোঝানো হয়েছে ? তপনের হারিয়ে যাওয়ার পিছনে কারণ কি ছিল ?

উত্তর- সন্ধ্যাতারা পত্রিকার সম্পাদকের সাথে তপনের ছোট মেসো র  ভালো সম্পর্ক থাকায় সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় তিনি তপনের লেখা গল্পটি ছাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন এবং পরে ছোট মেসো তার গল্প কারেকশনের কথা ও প্রকাশ  করে দেন |বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে যে তার লেখক  মেসোমশাই তার গল্প পত্রিকায় ছাপিয়ে দিয়েছে ফলে বাড়িতে সবাই  নতুন মেসো মশাইয়ের মহানুভবতা কে বাহবা দিতে ব্যস্ত  হয়ে পড়ে, এসবের মাঝেই চাপা পড়ে যায় তপনের কৃতিত্ব |

ছেলেবেলা থেকেই তপনের মনে লেখকদের নিয়ে এক উদ্ভট ভাবনা ছিল | তার মতে লেখকরা অন্যজগৎ এর মানুষ |  কিন্তু ছোট মেসোকে দেখে তার এই ভাবনার অবসান ঘটে | তখন সে উপলব্ধি করে লেখকরাও যে তাদের মতনই সাধারণ মানুষ এবং তার গল্প লেখার আগ্রহ দু গুণ বেড়ে যায় | একদিন সে  লিখে ও ফেলে গোটা একটি গল্প |  ছোট মাসি তার গল্পটি পড়ে ছোট মেসো কে দেখায় এবং ছোট মেসো বলে তপনের লেখা গল্পটির তিনি সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন | যখন ছোট মেসো তার লেখা গল্পটি ছাপিয়ে নিয়ে আসেন এবং সুকৌশলের সাথে প্রকাশ করেন তার কারেকশনের কথা|  এই কথাটি তারপর ছড়িয়ে পড়তে লাগে সারা বাড়িতে | তপনের  বাবা মেজ কাকু সকলে মিলেই যাবতীয় কৃতিত্বও তার  ছোট মেসো কেই  দেন | তারা বলেন যে, ওরকম মেসো থাকলে তারাও চেষ্টা করতেন গল্প লেখার | এমনকি তিনি না থাকলে তপনের লেখা সম্পাদক ছুঁয়েও দেখতেন না |  তপনের মনে হয় , এসব কথার মাঝে যেন  সে হারিয়ে গেছে |

3. 4) জ্ঞানচক্ষু গল্পের সার্থকতা আলোচনা করো |

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী রচিত কুমকুম গল্পসংকলন থেকে জ্ঞানচক্ষু গল্পটি গৃহীত হয়েছে | গল্পের শুরুতেই আমরা তপন নামের একটি কিশোর ছেলের পরিচয় পাই, যার মনে লেখকদের নিয়ে এক আকাশকুসুম ভাবনা ছিল|  কিন্তু তপনের  এই ভুল ধারণা ভেঙে যায় যখন সে জানতে পারে তার ছোট মেসো একজন লেখক এবং “কথাটি শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল’’| তারপর গল্প লেখার ইচ্ছা যেন তার দ্বিগুণ বেড়ে যায় | একদিন দুপুরে এক আসনে বসে লিখে  ফেলে গোটা একটি

 গল্প| ছোট মাসি এ কথা জানতে পেরে তার লেখক ছোট মেসো কে গল্প সম্বন্ধে বলে এবং ছোট মেসো তপনকে আশ্বস্ত করে তিনি তাঁর লেখা টি সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেবেন| তখন মনে মনে খুব আনন্দিত হয় এবং আশায় দিন গুনতে লাগে সেই সুখের দিনের দিকে চেয়ে| কিছুদিন কাটার পর তপন যখন লেখাটা নিয়ে পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখনই হঠাৎ একদিন ছোট মাসি ও মেসো তাদের বাড়িতে হাজির হয় হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকার নিয়ে|  তপনের  লেখক মেসোমশাই তার লেখা টি আপাদমস্তক কারেকশন করে নিজের মতো করে   ছাপিয়ে দিয়েছেন|  এই ঘটনা তপনের মনে প্রবল ভাবে আঘাত আনে| কাহিনীর পরিণতি ক্রমশ যতই গুরুগম্ভীর হোক না কেন সেটিকে অসামান্য ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী| গল্পে তপনর লেখক মেসোমশাই এর চরিত্রটি খুবই আকর্ষণীয়| একজন লেখককে খুব কাছ  থেকে দেখে লেখক হওয়ার প্রেরণা পেয়েছিল  তপন|  কিন্তু নিঃসন্দেহে  একথা বলা যায়  জ্ঞানচক্ষু গল্পটি সার্থকতা পেয়েছে শেষ পরিণতিতে|  সহজ সরলমনের অধিকারী এক কিশোর লেখক এর যন্ত্রণা শুধু চরিত্র দিতেই নয় সমগ্র গল্পটিকে এক অসামান্য রূপ দিয়েছে| 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top