২. জীবনের প্রবাহমানতা

জীবনের প্রবাহমানতা

প্রয়োজনীয় প্রশ্ন সমূহের সম্পূর্ণ সমাধান

 

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১. মাইটোসিস কোষ বিভাজন চলাকালীন যে দশায় নিউক্লিয়াসের পুনরাবির্ভাব ঘটে ঘটে তা হল – প্রোফেজ/ মেটাফেজ /অ্যানাফেজ/ টেলোফেজ।

উত্তরঃ- টেলোফেজ

২. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের যে দশায় সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে যায়, তা হল – প্রোফেজ/ মেটাফেজ/ অ্যানাফেজ / টেলোফেজ।

উত্তরঃ- অ্যানাফেজ

৩. মানুষের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে কোনটি একজন স্বাভাবিক পুরুষের পক্ষে প্রযোজ্য – 44A+XX / 44A+XY / 44A+XXY / 44A+XYY.

উত্তরঃ- 44A+XY

৪. যে ক্রোমোজোমের শেষপ্রান্তে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে, তা হল – মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম/ সাবমেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম/ অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম/ টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম।

উত্তরঃ- টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম।

৫. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোম গুলি বিভাজন মাকুর নিরক্ষীয় তল এর সজ্জিত থাকে ? – প্রোফেজ/ মেটাফেজ/ অ্যানাফেজ/ টেলোফেজ।

উত্তরঃ- মেটাফেজ

৬. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয় পর্দার পুনরাবির্ভাব ঘটে ? – প্রোফেজ/ মেটাফেজ/অ্যানাফেজ/ টেলোফেজ ।

উত্তরঃ- টেলোফেজ

৭. মানুষের প্রতিটি দেহকোষে অটোজোম এর সংখ্যা – 46/44/23/22.

উত্তরঃ- 44

৮. উদ্ভিদের দেহে যে কোষটি মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজন করে, তা হল – রেনু মাতৃকোষ/ অগ্রমুকুল এর কোষ/ পরিণত পাতার কোষ/ মূলের কোষ।

উত্তরঃ- রেনু মাতৃকোষ

৯. ডিএনএ অনুর গুয়ানিন এর পরিপূরক ক্ষার মুলক টি হল – অ্যাডিনিন/ সাইটোসিন/ থাইমিন/ ইউরাসিল।

উত্তরঃ- সাইটোসিন

১০. ডিপ্লয়েড জনন মাতৃকোষ থেকে যে পদ্ধতিতে হ্যাপ্লয়েড জনন কোষ উৎপন্ন হয় – মাইটোসিস/ অ্যামাইটোসিস/ মিয়োসিস /সাইটোকাইনেসিস ।

উত্তরঃ- মিয়োসিস ।

১১. মাইটোসিস ঘটে – রেনু মাতৃকোষে /জনন মাতৃকোষ/ জনন কোষে /দেহ মাতৃকোষে।

উত্তরঃ- দেহ মাতৃকোষে

১২. প্রকরণ বা ভেদ সৃষ্টির জন্য দায়ী পদ্ধতিটি হলো – সাইন্যাপসিস /কায়াজমা/ ক্রসিং ওভার/ সাইটোকাইনেসিস ।

উত্তরঃ- ক্রসিং ওভার

১৩. যে পদ্ধতিতে প্রাণী কোষের সাইটোপ্লাজম বিভাজন ঘটে – ক্যারিওকাইনেসিস/কোষপাত গঠন /ক্লিভেজ/ ফ্রাগমোপ্লাস্ট।

উত্তরঃ- ক্লিভেজ

১৪. উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস যে পদ্ধতিতে ঘটে – কোষপাত গঠন/ ক্লিভেজ / ক্যারিওকাইনেসিস/ ফ্রাগমোপ্লাস্ট।

উত্তরঃ- কোশপাত গঠন ।

১৫. অযৌন জননের একক হল – রেনু/ গ্যামেট /জনন কোষ/ জাইগোট।

উত্তরঃ- রেণু

১৬. যৌন জননের একক হল – রেণু/ গ্যামেট /জাইগোস্পোর/ জাইগোট।

উত্তরঃ- গ্যামেট

১৭. সুস্পষ্ট জনুক্রম দেখা যায় যে উদ্ভিদটিতে তা হল – মস (পোগোনেটাম)/ আম গাছ/ জবা গাছ /পাইন গাছ।

উত্তরঃ- মস ( পোগোনেটাম )

১৮. যে প্রাণীটি অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় তা হল – রানী মৌমাছি/ শ্রমিক মৌমাছি /পুরুষ মৌমাছি/ সকল প্রকার মৌমাছি।

উত্তরঃ- পুরুষ মৌমাছি

১৯. অযৌন জনন সম্পন্ন করে একটি প্রাণী হল – ব্যাং/ পাখি/ অ্যামিবা / কেঁচো ।

উত্তরঃ- অ্যামিবা

২০. নিষেক ব্যতীত স্ত্রী জনন কোষ থেকে নিম্নলিখিত কোন জীবের ক্ষেত্রে অপত্য জীব সৃষ্টি হয় – মৌমাছি /ব্যাং /আম গাছ/ পায়রা।

উত্তরঃ- মৌমাছি

২১. নিষেকের ফলে উৎপন্ন ডিপ্লয়েড কোষ কে কি বলে – অপত্য কোষ / জাইগোট / গ্যামেট / রেণু ।

উত্তরঃ- জাইগোট

২২. কোনটি উদ্ভিদের প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন পদ্ধতি নয় – অস্থানিক মুকুল সৃষ্টি/ পর্ণ কান্ড/ খর্বধাবক/ রেণু উৎপাদন।

উত্তরঃ- রেণু উৎপাদন

২৩. পুং গ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনকে কী বলে – সংযুক্তি/ নিষেক /অপুংজনি /অযৌন জনন।

উত্তরঃ- নিষেক

২৪. একটি পুষ্পের ক্ষেত্রে যৌন জননের সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত স্তবক গুলি হল – বৃতি ও পুংকেশর / স্ত্রী স্তবক ও দলমন্ডল / দলমন্ডল ও বৃতি/পুং স্তবক ও স্ত্রী স্তবক।

উত্তরঃ- পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক

২৫. ভ্রূণের ভবিষ্যতের খাদ্য সঞ্চত থাকে – বীজে / ডিম্বকে/ সস্যে / ডিম্বাশয়ে ।

২৬. নিষিক্ত ডিম্বক থেকে সৃষ্টি হয় – ফল /বীজ /ডিম্বাশয়/ রেণু।

উত্তরঃ- বীজ

২৭. বায়ুর সাহায্যে পরাগ সংযোগ ঘটে – পদ্ম / ধান/ কচু/ পাতা শ্যাওলা।

উত্তরঃ- ধান

২৮. যে উদ্ভিদের যুক্তবৃতি দেখা যায় সেটি হল – বকফুল/ ধুতুরা/ গোলাপ /রজনীগন্ধা ।

উত্তরঃ- ধুতুরা

২৯. অতি দ্রুত হারে সংঘটিত বৃদ্ধির সময় কালকে বলে- হ্রাস দশা/ লগ দশা/ ল্যাগ দশা/ স্থির দশা।

উত্তরঃ- লগ দশা

৩০. যে প্রক্রিয়ায় জীব এর আকার আয়তন ও শুষ্ক ওজন স্থায়ীভাবে বারে তাকে বলে – বৃদ্ধি / জনন/ রেচন / শ্বসন ।

উত্তরঃ- বৃদ্ধি

 

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন:

১. কোন জাতীয় কোষ বিভাজনে দেহ কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়?

উত্তরঃ- মাইটোসিস কোষ বিভাজন।

২. DNA এর সম্পূর্ণ নাম লেখ।

উত্তরঃ- ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড।

৩. RNA এর সম্পূর্ণ নাম লেখ।

উত্তরঃ- রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

৪. মাইটোসিসের কোন দশায় ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিড দুটি পৃথক হয় ?

উত্তরঃ- অ্যানাফেজ দশা।

৫. কোন প্রকার কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম এর সরাসরি বিভাজন ঘটে ?

উত্তরঃ- অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন।

৬. কোন প্রকার কোষ বিভাজনে বেম বা স্পিন্ডল গঠিত হয় না ?

উত্তরঃ- অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন।

৭. এমন একটি জীবের উদাহরণ দাও যেটি অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে কোষ বিভাজন করে।

উত্তরঃ- অ্যামিবা।

৮. কিসের সাহায্যে ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোম বেম তন্তু বা স্পিন্ডল ফাইবার এর সঙ্গে যুক্ত থাকে ?

উত্তরঃ- সেন্ট্রোমিয়ার।

৯. প্রাণী কোষের বিভাজন মাকুর মেরু সৃষ্টিতে কোন কোষ অঙ্গাণু অংশগ্রহণ করে ?

উত্তরঃ- সেন্ট্রোজোম।

১০. মিয়োসিস কোষ বিভাজনে নন সিস্টার ক্রোমাটিড এর মধ্যে খন্ডাংশ বিনিময় কে কি বলে ?

উত্তরঃ- ক্রসিং ওভার।

১১. কোষ চক্রের S দশার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি কি ?

উত্তরঃ- DNA প্রতিলিপিকরণ।

১২. কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশার ক্রোমোজোম গুলি কোষের কোন অঞ্চলে সজ্জিত থাকে ?

উত্তরঃ- বিষুব অঞ্চলে।

১৩. কোষ বিভাজনের কোন জাতীয় বিভাজনের সময় সেল প্লেট বা কোশপাত গঠিত হয় ?

উত্তরঃ- সাইটোকাইনেসিস।

১৪. উদ্ভিদ কোষের ক্যারিওকাইনেসিস এর কোন দশায় সাইটোকাইনেসিস শুরু হয় ?

উত্তরঃ- টেলোফেজ দশা।

১৫. প্রাণী কোষে নিউক্লিয়াস বিভাজনের কোন দশায় সাইটোপ্লাজম বিভাজন শুরু হয় ?

উত্তরঃ- অ্যানাফেজ দশা।

১৬. কোন প্রকার জননী জীবের প্রকরণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে ?

উত্তরঃ- যৌন জনন।

১৭. সুস্পষ্ট জনুক্রম দেখা যায় এমন দুটি উদ্ভিদের উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ- মস ও ফার্ন।

১৮. পাথরকুচি পাতার কিনারায় অপত্য উদ্ভিদ জন্মানোর কি ধরনের জনন ?

উত্তরঃ- অঙ্গজ জনন।

১৯. প্লাসমোডিয়াম এর জীবন চক্রের কোন দশায় বহু বিভাজন ঘটে ?

উত্তরঃ- সাইজন্ট দশায় ।

২০. কোন প্রাণীর দেহের অভ্যন্তরে কোরক বা গেমিউল গঠিত হয় ?

উত্তরঃ- স্পঞ্জ।

২১. রেণু কি ?

উত্তরঃ- এককোষী পাতলা প্রাচীর যুক্ত বা নগ্ন অযৌন জননের একক কে রেণু বলে।

২২. অপুংজনি বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ- অনিষিক্ত ডিম্বানু থেকে সরাসরি অপত্য জীব সৃষ্টি হওয়ার পদ্ধতিকে অপুংজনি বা পার্থোনোজেনেসিস বলে ।

২৩. জবা ফুলের গর্ভমুণ্ডের সংখ্যা কয়টি ?

উত্তরঃ- পাঁচটি।

২৪. ব্যক্তজীবী উদ্ভিদে পরাগ রেণু কোথায় আবদ্ধ হয় ?

উত্তরঃ- সরাসরি ডিম্বকে।

২৫. দিগুচ্ছ পুংকেশর কি ?

উত্তরঃ- কোন পুংস্তবকের পুংদন্ড গুলি পরস্পর যুক্ত হয়ে দুটি গুচ্ছ গঠন করলে, তাকে দিগুচ্ছ পুংকেশর বলে ।যেমন- মটর ফুলের পুংকেশর।

২৬. গুপ্তবীজী উদ্ভিদের নিষেক কোথায় ঘটে ?

উত্তরঃ- গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ডিম্বাশয় মধ্যস্থ ডিম্বকের অভ্যন্তরে নিষেক ঘটে।

২৭. বৃদ্ধির দুটি বাহ্যিক প্রভাবকের নাম লেখো ।

উত্তরঃ- আলো, তাপ ।

২৮. বৃদ্ধির দুটি অভ্যন্তরীণ প্রভাবকের নাম লেখ।

উত্তরঃ- হরমোন, উৎসেচক।

২৯. উন্নত প্রাণীদেহে বৃদ্ধির কারণ কিরূপ আকৃতির হয় ?

উত্তরঃ- সিগময়েড আকৃতির হয়।

৩০. কোন পদ্ধতিতে জীবদেহে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে ?

উত্তরঃ- মাইটোসিস।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. কোষ বিভাজন কাকে বলে ? কোন বিজ্ঞানী প্রথম কোষ বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেছেন ?

উত্তরঃ- যে প্রক্রিয়ায় জনিতৃ কোষ থেকে অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে।

 বিজ্ঞানী ফ্লেমিং সালামান্ডার এর দেহে প্রথম কোষ বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেছেন।

২. ক্রোমোজোম কাকে বলে ? ক্রোমোজোম কিভাবে গঠিত হয় ?

উত্তরঃ- কোষের নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ নিউক্লিয় জালিকা থেকে উৎপন্ন, নিউক্লিওপ্রোটিন দিয়ে গঠিত, স্ব প্রজননশীল সূত্রাকার অংশ বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং প্রজাতির পরিব্যক্তি প্রকরণ ও বিবর্তনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।

কোষের নিউক্লিয়াস এর মধ্যে জালকের মত এক ধরনের গঠন থাকে যারা একে অপরকে পেঁচিয়ে থাকে। এই ধরনের গঠন হলো ডিএনএ ।ডিএনএ হলো একটি বৃহৎ জৈব অণু। নিউক্লিয়াসের মধ্যে DNA কুণ্ডলীকৃত অথবা আংশিক মুক্ত অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় একে নিউক্লিয় জালিকা বলে। কুণ্ডলী কৃত অবস্থায় ডিএনএ প্রোটিনকে দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে থাকে । ডিএনএর এই কুণ্ডলীকৃত গঠনই হলো গঠন ক্রোমোজোম।

৩. জিন কাকে বলে ? জিন কোথায় থাকে ?

উত্তরঃ- ডিএনএর যে নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষে সংকেত বহন করে যা শেষ পর্যন্ত জীবের নানা চরিত্রে প্রকাশের সাহায্য করে তাকে জিন বলে ।

জিন প্রধানত ক্রোমোজোম থাকে।

৪. জিনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।

উত্তরঃ- (i) জিন বংশগত বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রক এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক।
(ii) জিন ক্রোমোজোম এ অবস্থিত এবং ক্রোমোজোমের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
(iii) জিন মুখ্যত ডিএনএ দিয়ে গঠিত।
(iv) জিন ক্রোমোজোমের ওপর রৈখিক সজ্জায় অবস্থান করে।

৫. ক্রোমোজোম ডিএনএ এবং জিনের মধ্যে সম্পর্ক লেখ।

উত্তরঃ- কোষ বিভাজন কালে নিউক্লিয় জালিকা অর্থাৎ ক্রোমাটিন জালিকা থেকে ক্রোমোজোম সৃষ্টি হয়। ক্রোমোজোম নিউক্লিওপ্রোটিন দিয়ে গঠিতm ডিএনএ ক্রোমোজোম এ অবস্থিত। DNA এর প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত বহনকারী নির্দিষ্ট অংশ হল জিন। সুতরাং ক্রোমোজোম ডিএনএ এবং পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

৬. মানুষের দেহকোষে এবং জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা কতগুলি এবং সেখানে অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোম কতগুলি ?

উত্তরঃ- মানুষের দেহকোষে মোট 46 টি ক্রোমোজোম থাকে এর মধ্যে 22 জোড়া অর্থাৎ 44 টি হল অটোজোম এবং একজোড়া অর্থাৎ দুটি হল সেক্স ক্রোমোজোম।

 মানুষের জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা 23 টি। এর মধ্যে অটোজোম থাকে 22 টি এবং একটি থাকে সেক্স ক্রোমোজোম।

৭. হ্যাপ্লয়েড সেট ও ডিপ্লয়েড সেট ক্রোমোজোম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ- ক্রোমোজোম যখন একক সংখ্যক সেটে অর্থাৎ গ্যামেটের মধ্যে থাকে তখন তাকে হ্যাপ্লয়েড সেট বলে। যেমন- মানুষের জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা 23উত্তরঃ-n।

ক্রোমোজোম সংখ্যা যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড সেটে থাকে তখন তাকে ডিপ্লয়েড সেট বলে ।যেমন- মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা 46উত্তরঃ-2n।

৮. অ্যাসেনট্রিক ক্রোমোজোম কাকে বলে? কোষ বিভাজনে এই ক্রোমোজোমের গুরুত্ব লেখ।

উত্তরঃ- সেন্ট্রোমিয়ার বিহীন ক্রোমোজোম কে অ্যাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। এই ক্রোমোজোম কোষ বিভাজনে অংশগ্রহণ করে না। তাই এই ক্রোমোজোম এ অবস্থিত জিন গুলির  বংশগতিতা স্তব্ধ হয়ে যায়।

৯. DNA কি? এর গঠন লেখো ।

উত্তরঃ- ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা দিয়ে গঠিত স্বপ্রজননশীল পরিব্যক্তিক্ষম যে নিউক্লিক অ্যাসিডের জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ডিএনএ বলে।

ডিএনএ এক প্রকার রাসায়নিক জৈব যৌগ। এর রাসায়নিক উপাদান গুলি হল-
(i) একটি পেন্টোজ শর্করা- ডিঅক্সিরাইবোজ,
(ii) নাইট্রোজেন বেস- পিউরিন ও পাইরিমিডিন এবং
(iii) একটি ফসফরিক অ্যাসিডের গঠনগত কার্যগত একক কে নিউক্লিওটাইড বলে।

ডিএনএ অণু তে অ্যাডিনিন ও গুয়ানিন নামক দুই রকমের পিউরিন এবং সাইটোসিন ও থাইমিন নামক দুই রকমের পিরিমিডিন থাকে।

১০. RNA কি ? এর গঠন লেখো ।

উত্তরঃ- কোষের প্রোটিন সংশ্লেষে সহায়ক একতন্ত্রী নিউক্লিক অ্যাসিডকে RNA বলে।

RNA এক প্রকারের জৈব রাসায়নিক যৌগ। এটি রাইবোজ শর্করা, ফসফরিক অ্যাসিড এবং দু’রকমের নাইট্রোজেন বেস- পিউরিন ও পাইরিমিডিন নিয়ে গঠিত। পিউরিন অণুতে অ্যাডিনিন ও গুয়ানিন থাকে এবং পিরিমিডিন অণুতে সাইটোসিন ইউরাসিল থাকে। আরএনএ কেবলমাত্র একটি শৃংখল যুক্ত অর্থাৎ একতন্ত্রী। এতে রাইবোজ শর্করার সঙ্গে যেকোনো একটি বেস যুক্ত থাকে।

১১. ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড এর মধ্যে পার্থক্য লেখ ।

উত্তরঃ-

ক্রোমোজোমক্রোমাটিড
i) নিউক্লিয় জালিকা থেকে ক্রোমোজোম উৎপন্ন হয়।i) ক্রোমোজোমে ক্রোমাটিড থাকে।
ii) প্রতিটি ক্রোমোজোমের যে দুটি সূত্রাকার অংশ থাকে তারাই ক্রোমাটিড।ii) প্রতিটি ক্রোমাটিড এ যে দুটি সূত্রাকার অংশ থাকে তাকে ক্রোমোনেমা বলে।
iii) ক্রোমোজোমের উল্লেখযোগ্য অংশ গুলি হল ক্রোমাটিড, মুখ্য খাঁজ ও গৌণ কাজ, স্যাটেলাইট, টেলোমিয়ার প্রভৃতি।iii) ক্রোমাটিড এ উল্লেখযোগ্য অংশ দুটি হল ক্রোমোনেমা এবং ক্রোমোমিয়ার।

১২. সেন্ট্রোমিয়ার এবং সেন্ট্রিওল এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ-

সেন্ট্রোমিয়ারসেন্ট্রিওল
i) এটি ক্রোমোজোমের অংশ।i) এটি সেন্ট্রোজোমের অংশ।
ii) চারটি ক্রোমোমিয়ার নিয়ে গঠিত।ii)_ প্রতিটি সেন্ট্রিওল নয়টি ত্রয়ী অণুনালিকা নিয়ে গঠিত।
iii) সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিন দ্বয় কে আবদ্ধ রাখে এবং কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমকে বেমতন্তুর সঙ্গে সংলগ্ণ রাখে।iii) সেন্ট্রিওল প্রাণী কোষ বিভাজনের সময় বেমতন্তু গঠনে সহায়তা করে।

১৩. ডিএনএ এবং আরএনএ এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ-

DNARNA
i) ডিএনএতে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে।i) RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।
ii) ডিএনএর চারটি নাইট্রোজেন বেস হলো অ্যাডিনিন ,গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন।ii) RNA তে থাইমিন এর পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে।
iii) ডিএনএ দ্বিতন্ত্রী এবং পেঁচানো শিরির মত।iii) RNA একতন্ত্রী এবং  রেখাকার।
iv) ডি এন এর প্রধান কাজ হল জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করা।iv) আর এন এর প্রধান কাজ হল প্রোটিন সংশ্লেষণ করা।

১৪. কোষ বিভাজনের তাৎপর্য বা গুরুত্ব আলোচনা করো ।

উত্তরঃ- কোষ বিভাজনের প্রধান তাৎপর্য হলো –

(i) বৃদ্ধি : জীবদেহের বৃদ্ধির জন্য কোষ বিভাজন হয়। কোষ বিভাজিত হয়ে কোষের সংখ্যা বাড়ে ফলে জীব দেহের বৃদ্ধি ঘটে।
(ii) ক্ষয়পূরণ : আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের মেরামতের জন্য কোষ বিভাজিত হয়।
(iii) প্রজনন : কোষ বিভাজনের তারা এককোষী জীবের বংশ বিস্তার ঘটে। এছাড়া রেনু উৎপাদন ও ও উৎপাদনের জন্য কোষ বিভাজিত হয়।

১৫. কোষ বিভাজন কত প্রকারের হয় ও কি কি ?

উত্তরঃ- উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহের কোষ বিভাজন দেখা যায়, যথা-
(i)প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বা অ্যামাইটোসিস,
(ii) পরোক্ষ কোষ বিভাজন বা মাইটোসিস,
(iii) হ্রাস বিভাজন বা মিয়োসিস।

১৬. মাইটোসিস কে সমবিভাজন বলার কারণ কি ? মিয়োসিস হ্রাস বিভাজন বলার কারণ কি ?

উত্তরঃ- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের সময় একটি মাতৃকোষ থেকে সমআকৃতি, সমগুণসম্পন্ন এবং সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ঠ দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হওয়ায় মাইটোসিস কে সমবিভাজন বলা হয়।

মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপত্য কোষে হ্রাস পায় অর্থাৎ অর্ধেক হয়ে যায়, এই কারণে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।

১৭. অ্যামাইটোসিস কে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয় কেন ?

উত্তরঃ- অ্যামাইটোসিস নামক সরল কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে নিউক্লিয় পর্দার অবলুপ্তি হয় না, ক্রোমোজোম ও বেমতন্তু গঠিত হয় না। বরং নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে বলে ,অ্যামাইটোসিস কে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়।

১৮. মাইটোসিস ও অ্যামাইটোসিস এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ-

মাইটোসিসঅ্যামাইটোসিস
i) এই প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয় না।i) এই প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়।
ii) এই প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের চারটি দশা দেখা যায় , যথা প্রোফেজ ,মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ ।ii) এই প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের কোনো দশা দেখা যায় না।
iii) এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত নিউক্লিয়াস বিভাজনের পরে সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়।iii) উক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম প্রায় একই সময়ে বিভাজিত হয়।

১৯. কোষ চক্রের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তরঃ- কোষ চক্রের বিভিন্ন বিন্দুতে নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন ঘটে যা পরবর্তীকালে টিউমার সৃষ্টি করে। টিউমার কখনো কখনো ম্যালিগন্যান্ট বা ক্ষতিকর হলে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।

২০. ক্যারিওকাইনেসিস সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে ? এর কয়টি দশা ও কি কি ?

উত্তরঃ- নিউক্লিয়াসের বিভাজন পদ্ধতিতে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজন পদ্ধতিতে সাইটোকাইনেসিস বলে। ক্যারিওকাইনেসিস এর চারটি দশা দেখা যায়, যথা- প্রোফেজ, মেটাফেজ ,অ্যানাফেজ, টেলোফেজ।

২১. সাইটোকাইনেসিস না হলে কি হয় ?

উত্তরঃ- নিউক্লিয়াস বিভাজন এর পরে সাইটোকাইনেসিস না ঘটলে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হবে না। বরং একটি কোষের নিউক্লিয়াস এর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে বাড়তে থাকবে। ফলে একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ সৃষ্টি হবে। একাধিক নিউক্লিয়াস যুক্ত উদ্ভিদ কোষ সিনোসাইট বা প্রাণী কোষ সিনসাইটিয়াম বলে।

২২. উদ্ভিদের সাইটোকাইনেসিস এবং প্রাণী সাইটোকাইনেসিস এর মধ্যে পার্থক্য লেখ ।

উত্তরঃ-

উদ্ভিদ সাইটোকাইনেসিসপ্রাণী সাইটোকাইনেসিস
i) এটি কোষপাত আর সেলপ্লেট গঠনের মাধ্যমে হয়।i) এটি ক্লিভেজ পদ্ধতিতে হয়।
ii) এটি টেলোফেজ দশা শুরু ও শেষ হয়।ii) এটি অ্যানাফেজ দশা শুরু হয়ে টেলোফেজ দশায় এসে শেষ হয়।
iii) এক্ষেত্রে ফ্রাগমোপ্লাস্ট, গলগি ভেসিকল ইত্যাদির সাহায্যে সেল প্লেট গঠিত হয়। এরপর কোষ প্রাচীর গঠিত হয়।iii) এটি অ্যানাফেজ দশা স্টিম বডি গঠন অঞ্চলে অর্থাৎ ইন্টারজো নাল তন্তু সংলগ্ন অঞ্চলে একটি খাঁজ হতে থাকে, যা পরবর্তীকালে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।

২৩. উদ্ভিদের মাইটোসিস ও প্রাণী মাইটোসিস এর মধ্যে পার্থক্য লেখ ।

উত্তরঃ-

উদ্ভিদ মাইটোসিসপ্রাণী মাইটোসিস
i) মাইক্রোটিউবিউল গুলি অনুদৈর্ঘ্য ভাবে সজ্জিত হয়ে বেম তন্তু গঠন করে।i) সেন্ট্রোজোমের অ্যাস্ট্রাল রশ্মি থেকে বেমতন্তু গঠিত হয় সেন্ট্রোজোম দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নিউক্লিয়াসের দুই মেরুতে 180 ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে। সেন্ট্রোজোমের অ্যাস্ট্রাল রশ্মি বিপরীত দিকে বিস্তৃত হয়ে দুই মেরুর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে।
ii) সেল প্লেট গঠনের মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়। টেলোফেজ দশা অপত্য নিউক্লিয়াসদ্বয়ের এর মাঝখানে ফ্রাগমোপ্লাস্ট সৃষ্টি হয়, যা থেকে সেলপ্লেট গঠিত হয়।ফলে সাইটোপ্লাজম দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।ii) ক্লিভেজ পদ্ধতিতে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়। অ্যানাফেজ দশায় স্টেম বডি গঠনের সঙ্গে সঙ্গে কোষের দু পাশের কোষ পর্দা ভাঁজ হয়ে ভেতরের দিকে বিস্তৃত হতে থাকে এবং উভয় পাশের খাঁজ পরস্পর মিলিত হয়ে সাইটোপ্লাজমকে দু  ভাগে বিভক্ত করে।

২৪. ক্রসিং ওভার কখন হয় ? এর গুরুত্ব লেখ ।

উত্তরঃ- মিয়োসিস ১ কোষ বিভাজনের প্রোফেজ ১ এর প্যাকাইটিন উপদশায় ক্রসিং ওভার হয়।

গুরুত্ব : ক্রসিং ওভার এর ফলে নন সিস্টার ক্রোমাটিড এর মধ্যে দেহাংশের বিনিময় হয় এবং এর ফলে জিনের পুনঃবিন্যাস ঘটে। এটি প্রজাতির ভেদ বা প্রকরণ সৃষ্টিতে সাহায্য করে ।ক্রসিং ওভার জীবের বিবর্তনে সাহায্য করে।

২৫. অযৌন জনন কাকে বলে ? উদ্ভিদের অযৌন জননের একক এর নাম কি ?

উত্তরঃ- যে জনন পদ্ধতিতে গ্যামেট উৎপাদন ছাড়াই জনিতৃ জীবের দেহ কোষ বিভাজিত হয়ে অথবা রেনু তৈরীর মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে।

 উদ্ভিদের অযৌন জননের একক হলো রেণু বা spore।

২৬. অযৌন জনন সম্পন্ন করে এমন উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লেখ।

উত্তরঃ-

উদ্ভিদ : ব্যাকটেরিয়া , ইস্ট, স্পাইরোগাইরা, অ্যাগারিকাস, মিউকর, রাইজোপাস, পেনিসিলিয়াম ।

প্রাণী : ইউগ্লিনা, অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, হাইড্রা, প্ল্যানেরিয়া, স্পঞ্জ ।

২৭. যৌন জনন কাকে বলে ? এর একক এর নাম কি ?

উত্তরঃ- যে জননে একই প্রজাতির বিপরীত লিঙ্গের দুটি জীবের জনন কোষ বা গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয় ,তাকে যৌন জনন বলে।

যৌন জননের একক হল জনন কোষ বা গ্যামেট।
পুং জননতন্ত্রের একক হল পুং গ্যামেট বা শুক্রাণু।
স্ত্রী জনন তন্ত্রের একক হল স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু।

২৮. যৌন জনন কারী উদ্ভিদ ও প্রাণীর উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ-

উদ্ভিদ : স্পাইরোগাইরা, ক্ল্যামাইডোমোনাস ,মিউকর এবং সমস্ত রকমের সপুষ্পক উদ্ভিদ।

প্রাণী : মনোসিস্টিস, প্যারামেসিয়াম, অ্যামিবা এবং মাছ ,উভচর ,সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণী।

২৯. যৌন এবং অযৌন জনন করে এমন উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম লেখ।

উত্তরঃ-

উদ্ভিদ : মিউকর, স্পাইরোগাইরা ।

প্রাণী : অ্যামিবা হাইড্রা ।

৩০. যৌন জননের দুটি সুবিধা ও অসুবিধা লেখ।

উত্তরঃ-

সুবিধা :

i) যৌন জননের মাধ্যমে পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যগুলি অপত্য জীবের সঞ্চারিত হওয়ায় বংশপরম্পরায় বংশের ধারা বজায় থাকে।
ii) যৌন জননের ফলে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীব অভিব্যক্তি বা বিবর্তন ঘটে রাজীবকে প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

অসুবিধা :

i) উপযুক্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনীর অভাবে এই জননে সাফল্য লাভের সম্ভাবনা খুব কম। তাছাড়া সময় অনেক বেশি লাগে।
ii) এই জননে প্রচুর গ্যামেটের অপচয় হয়।

৩১. অযৌন জননের সুবিধা এবং অসুবিধা গুলি লেখ।

উত্তরঃ-

সুবিধা :

i) অযৌন জনন এর প্রধান সুবিধা গুলি হল কম সময়ে বেশি সংখ্যক অপত্য জীব সৃষ্টি হয়।
ii) এই জননে বংশপরম্পরায় জনিতৃ জীবের খাঁটি বিশুদ্ধ গুনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

অসুবিধা :

i) অযৌন জননের প্রধান অসুবিধাগুলি হল এই যে উৎপন্ন অপত্য জীবের প্রকরণ বা ভেরিয়েশন দেখা যায় না, ফলে অভিব্যক্তি ঘটে না।
ii) পরিবেশের বিরাট পরিবর্তন ঘটলে অযৌন জনন কারী জীবেরা সহজে অবলুপ্ত হয়ে যায়।

৩২. অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ- অনিষিক্ত ডিম্বানু থেকে সরাসরি অপত্য জীব সৃষ্টির পদ্ধতিকে অপুংজনি বা পার্থোনোজেনেসিস বলে।

উদাহরণ –

উদ্ভিদ : কাকমাছি,মিউকোর , স্পাইরগাইরা ।

প্রাণী : মৌমাছি , বোলতা , পিপড়ে ইত্যাদি

৩৩. অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস এর প্রয়োজনীয়তা গুলি লেখ।

উত্তরঃ-

i) এই পদ্ধতিতে জনন এর জন্য কেবল মাত্র মাত্র জন্য দরকার হয়।
ii) এইরকম জননে নিষেকের প্রয়োজন হয় না।
iii) কৃত্তিম উপায়ে বাহ্যিক শর্ত আরোপ করে সহজে অপন যোনির মাধ্যমে অপত্য প্রাণী তৈরি করা সম্ভব।

৩৪. অন্ত নিষেক ও বহিঃনিষেক কাকে বলে ?

উত্তরঃ-

অন্তঃনিষেক : নিষেক পদ্ধতি যখন নারী দেহের জনন অঙ্গের মধ্যে ঘটে তখন তাকে অন্তঃনিষেক বলে ।এক্ষেত্রে কোন বাহকের প্রয়োজন হয়না। উদাহরণ- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ এবং সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী।

বহিঃ নিষেক : নিষেক প্রক্রিয়া যখন জনিতৃ জীবদেহে বাইরে ঘটে (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জলে ঘটে) তখন তাকে বহিঃনিষেক বলে । উদাহরণ- ব্যাং , মাছ ইত্যাদি ।

৩৫. অন্তঃনিষেক ও বহিঃ নিষেকের মধ্যে পার্থক্য লেখো ।

উত্তরঃ-

অন্তঃনিষেকবহিঃনিষেক
i) এই ধরনের নিষেক স্ত্রীদেহে জনন অঙ্গের মধ্যে হয়।i) এই ধরনের নিষেক জীবদেহের বাইরের পরিবেশে হয় ।
ii) এক্ষেত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন এর জন্য কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।ii) অধিকাংশ ক্ষেত্রে জল মাধ্যমে ঘটে।
iii) নিষেক পরবর্তী জাইগোট বা ভ্রূণ গঠন স্ত্রীদেহের অভ্যন্তরে হয়।iii) নিষেধ পরবর্তী জায়গত পূর্ণগঠন জলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
iv) উদাহরণ- পক্ষী ,মানুষ, স্তন্যপায়ী ইত্যাদি।iv) উদাহরণ – মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি ।

৩৬. মাইটোটিক চক্র কাকে বলে? কোষ চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক লেখ।

উত্তরঃ- কোষচক্রের যে পর্যায়ে প্রোফেজ, মেটাফেজ , অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ দশার মাধ্যমে জনিতৃ থেকে অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় তাকে মাইটোটিক চক্র বলে।

সম্পর্ক : মাইটোটিক চক্রের মাধ্যমে কোষ বিভাজিত হয়ে অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়। এই অপত্য কোষ কোষচক্রের ইন্টারফেজ এর মাধ্যমে পরিণত হয়। G1 দশায় প্রোটিন সংশ্লেষে হয় । S দশায় ডিএনএ সংশ্লেষ এবং G2 দশায় পরম বিপাকীয় দশা দেখা যায় ।

সুতরাং কোষচক্র ও মাইটোটিক চক্র পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

৩৭. বৃদ্ধি কাকে বলে ? জীবের বৃদ্ধির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তরঃ- নতুন কোশীয় পদার্থ সংশ্লেষ এর ফলে জীব দেহের কোষের আকার, আয়তন বা ভরের স্থায়ীভাবে বেড়ে যাওয়াকে বিশেষ করে শুষ্ক ওজন বেড়ে যাওয়াকে বৃদ্ধি বলে।

জীবের বৃদ্ধি তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো –

i) বৃদ্ধি অপরিবর্তনীয়।
ii) বৃদ্ধি প্রোটোপ্লাজম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
iii) বৃদ্ধি স্থায়ী প্রভৃতি ।

৩৮. নির্ধারিত এবং অনির্ধারিত বৃদ্ধি কাকে বলে?

উত্তরঃ-

নির্ধারিত বৃদ্ধি : প্রাণীদের বৃদ্ধি মৃত্যুর অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যায় তাই প্রাণীদের বৃদ্ধিকে নির্ধারিত বৃদ্ধি বলে। তবে প্রাণীর নখ চুল ইত্যাদি অঙ্গ গুলি সারা জীবন ধরেই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

অনির্ধারিত বৃদ্ধি : উদ্ভিদের বৃদ্ধি জন্ম থেকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত প্রায় সারা জীবন ধরেই চলে ,তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে অনির্ধারিত বৃদ্ধি বলে।

৩৯. কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্ক লেখ।

উত্তরঃ-

i) যৌন জননকারী জীবের দেহে মিয়োসিস কোষ বিভাজন হয় বলেই গ্যামেট সৃষ্টি হয়। পুরুষ দেহে উৎপন্ন হয় শুক্রাণু , স্ত্রী দেহে উৎপন্ন হয় ডিম্বাণু ।
ii) পুং ও স্ত্রী গ্যামেট নিষেকের মাধ্যমে মিলিত হয়ে যায় জাইগোট গঠন করে। এই জাইগোট মাতৃগর্ভে মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশুর জন্ম দেয়।
iii) শিশু জন্মের পর পুনরায় মাইটোসিস পদ্ধতিতে কোষ বিভাজনের জন্যই অপরিণত অবস্থা থেকে পরিণত হয়।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

৪০. জনুক্রম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ- জীবের জীবন চক্রের রেনুধর জনু বা ডিপ্লয়েড জনু এবং লিঙ্গধর জনু বা হ্যাপ্লয়েড জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে।

উদাহরণ –

উদ্ভিদ : ফার্ন , মস ,  স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি।

প্রাণী : ওবেলিয়া, মনোসিস্টিস ইত্যাদি।

৪১. পুষ্পপুট কাকে বলে ?

উত্তরঃ- যে ফুলের বৃত্ত ও দলমন্ডল একসাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে আলাদা করা যায় না ,তাকে পুষ্প পুট বলে ।যেমন- রজনীগন্ধা।

৪২. সম্পূর্ণ ফুল ও অসম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে ?

উত্তরঃ- যে ফুলের চারটি স্তবক অর্থাৎ বৃত্তির প্রস্তাবক স্ত্রীস্তবক থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা ,ধুতুরা ইত্যাদি।

যে ফুলের এক বা একাধিক স্তবক থাকে না, তাকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন কুমড়ো ,লাউ, পেঁপে ইত্যাদি।

 

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন :

১. ক্রোমোজোমের গঠন সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ-

i) ক্রোমাটিড : ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য বরাবর একজোড়া কুণ্ডলী কৃত সূত্রাকার অংশ থাকে এদের প্রত্যেকটিকে ক্রোমাটিড বলে। ক্রোমাটিড আবার দৈর্ঘ্য বরাবর আরও দুটি সূক্ষ্ম তন্তু নিয়ে গঠিত, এদের ক্রোমোনেমা বলে। ক্রোমোনেমার রাসায়নিক পদার্থের ঘনত্ব একই রকম নয়। স্থানে স্থানে ঘনত্ব খুব বেশি হয়। অধিক ঘনত্ব যুক্ত অংশগুলিকে ক্রোমোমিয়ার বলে। দুটি ক্রোমোমিয়ার এর অন্তর্বর্তী হালকা অংশকে আন্তঃক্রমোমীয়ার বলে।

ii) প্রাথমিক খাঁজ বা সেন্ট্রোমিয়ার : ক্রোমোজোমের মাঝ বরাবর স্থানে যে খাঁজ থাকে, তাকে প্রাথমিক খাঁজ বলে। ক্রোমোজোমের প্রাথমিক খাঁজ অংশে যে ঘন অংশটি থাকে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। সেন্ট্রোমিয়ার এর দু পাশের ক্রোমোজোমের অংশকে ক্রোমোজোম বাহু বলে। সেন্ট্রোমিয়ার এর সঙ্গে যুক্ত প্রোটিন নির্মিত প্লেট সদৃশ্য অংশটিকে কাইনেটোকোর বলে। ক্রোমোজোম এ দুটি ক্রোমাটিড এ দুটি কাইনেটোকোর থাকে। বেম গঠনের সময় কাইনেটোকোর এর সঙ্গে স্পিন্ডল অনুনালিকা বেম তন্তু যুক্ত থাকে।

iii) গৌণ খাঁজ : ক্রোমোজোমে মুখ্য খাঁজ ছাড়া ক্রোমোজোমের অপর কোন কাজ থাকলে তাকে গৌণ খাঁজ বলে।

iv) স্যাটেলাইট : গৌণ খাঁজের যদি ক্রোমোজোমের টেলোমিয়ারের নিকট অবস্থান করে তাহলে টেলোমিয়ারটিকে ফোলা বালবের  মত দেখায়, তখন তাকে স্যাটেলাইট বলে। স্যাটেলাইট যুক্ত ক্রোমোজোমকে স্যাট ক্রোমোজোম বলে।

v) টেলোমিয়ার: ক্রোমোজোমের দুই প্রান্ত দেশকে টেলোমিয়ার বলে।

২. ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন কাকে বলে অথবা ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন এর বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তরঃ-

(A) ইউক্রোমাটিন : এই ক্রোমাটিন খুব সূক্ষ্ম। স্থির নিউক্লিয়াসে এরা প্রসারিত অবস্থায় থাকে এবং রঞ্জক এ হালকা রং ধারণ করে। এরা সক্রিয় জিন বহন করে। ইউক্রোমাটিন এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল-
(i) কোষ বিভাজনের সময় এই অংশটি অধিক কুণ্ডলী কৃত থাকায় গাড়ভাবে রঞ্জিত হয়।
(ii) ইউক্রোমাটিন এর জন্য মেটাফেজ দশার ক্রোমোজোমকে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
(iii) ক্রোমোজোমের প্রায় 70 শতাংশ অংশ ইউক্রোমাটিন দ্বারা গঠিত হয়।
(iv) ইউক্রোমাটিন অঞ্চলেই মিয়োসিসের সময় ক্রসিং ওভার ঘটে।

(B) হেটারোক্রোমাটিন : এই ক্রোমাটিন অপেক্ষাকৃত পুরু। স্থির নিউক্লিয়াসে বা ইন্টারফেজ নিউক্লিয়াসে এরা কুণ্ডলী কৃত অবস্থায় থাকে এবং রঞ্জুকে গাড়ো রং ধারণ করে। এরা কোন সক্রিয় জিন বহন করেনা। হেটারোক্রোমাটিন এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো –
(i) হেটারোক্রোমাটিন অঞ্চল বিভাজনের সময় হালকা বর্ণ নেয়। যেমন- সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চল।
(ii) ক্রোমোজোমের প্রায় ৩০% অংশ হেটারোক্রোমাটিন নিয়ে গঠিত।
(iii) হেটারোক্রোমাটিন অঞ্চলের জিন গুলি নিষ্ক্রিয় থাকে।
(iv) এই অঞ্চলে ক্রসিং ওভার ঘটে না।

৩. কোষ বিভাজনে অংশগ্রহণকারী কোষীয় অঙ্গানু এবং অন্যান্য গঠনগত অংশের নাম লেখ। কোষ বিভাজনের ভূমিকা লেখ।

উত্তরঃ- কোষ বিভাজনে যেসব অঙ্গাণু অংশগ্রহণ করে সেগুলি হল –

(i) নিউক্লিয়াস : এটি ক্রোমোজোম ধারণ করে এবং কোষ বিভাজনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। এটি চারটি দশার মাধ্যমে বিভাজিত হয় ।যেমন- প্রফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ,টেলোফেজ।

(ii) সেন্ট্রোজোম ও মাইক্রোটিউবিউল : এরা কোষ বিভাজন কালে বেম তন্তু গঠন করে। সেন্ট্রোজোম কেবল প্রাণী কোষে থাকে সেন্ট্রোজোমের সেন্ট্রাল দুটি নিউক্লিয়াস এর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে এবং বেম তন্তু সৃষ্টি করে বেম গঠন করে। উদ্ভিদ কোষে সেন্ট্রোজোম না থাকায় মাইক্রোটিউবিউল বেম তন্তু গঠনে অংশগ্রহণ করে।

(iii) রাইবোজোম : এটি একটি পর্দা বিহীন কোষ অঙ্গাণু। রাইবোজোম প্রোটিন সংশ্লেষ এ অংশ নেয়।

(iv) মাইটোকনড্রিয়া : একে কোষের শক্তিঘর বলে। এটি ATP উৎপাদন করে যা কোষ বিভাজনের জন্য শক্তি সরবরাহ করে।

৪. অ্যামাইটোসিস কাকে বলে এর স্থান ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ- যে সরলতম প্রক্রিয়ায় কোনো মাতৃকোষ নিউক্লিয় পর্দার অবলুপ্তি না ঘটিয়ে ক্রোমোজোম ও বেম তন্তু গঠন ব্যতিরেকে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম এর সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইমাইটোসিস বলে।

স্থান : এই প্রকার কোষ বিভাজন ব্যাকটেরিয়া অ্যামিবা ইত্যাদি এককোষী জীবদেহে দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : i) এই প্রকার কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম এর একই সঙ্গে বিভাজন ঘটে।
ii) প্রথম নিউক্লিয়াসটি ডাম্বেল আকার ধারণ করে তখন সাইটোপ্লাজম সহ সমগ্র কোষটি ডাম্বেল আকার ধারণ করে।
iii) নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটি অপত্য কোষ গঠন করে।
iv) নিম্নশ্রেণির জীবরা অ্যামাইমাইটোসিস পদ্ধতিতে সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায়।

৫. মাইটোসিস কাকে বলে? এর স্থান ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ- যে জটিল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া কোন মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একবার মাত্র বিভাজিত হয়ে আকৃতি ও সংখ্যক ক্রোমোজোম সহ দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস বলে।

স্থান : মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রধান স্থান হল উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ কোষ। বিশেষ করে-
i) উদ্ভিদের বর্ধনশীল সঙ্গে যেমন কান্ড ও মূলের অগ্রভাগে বর্ধনশীল পাতায় ভ্রুণমূল ও ভ্রূণ মুকুলে।
ii) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধির সময় কান্ড মূল এর বিশেষ ধরনের ভাজক কলায়।
iii) উচ্চতর প্রাণীদের ভ্রূণের পরিস্ফুটন কালে এবং দেহের বৃদ্ধি সূচনা থেকে বার্ধক্যের পূর্ব পর্যন্ত।
iv) নিম্ন শ্রেণীর উদ্ভিদ ও প্রাণী দের বৃদ্ধির সময় এবং অঙ্গজ জনন ও অযৌন জননের সময়।

বৈশিষ্ট্য : i) মাইটোসিস কোষ বিভাজনের একটি জনিতৃ কোষ থেকে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
ii) এই প্রকার কোষ বিভাজনে মাতৃকোষ এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে এই কারণে মাইটোসিসকে সদৃশ বিভাজন বলা হয়।
iii) এই প্রকার কোষ বিভাজনে প্রথমেই নিউক্লিয়াসটি চারটি মাধ্যমে বিভাজিত হয়। পরে সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে অপত্য কোষ সৃষ্টি করে ।
iv) এই প্রকার কোষ বিভাজনের তাৎপর্য হলো জীব দেহের বৃদ্ধি ঘটনা।

৬. মিয়োসিস কাকে বলে ? এর স্থান ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ- যে বিভাজন প্রক্রিয়ায় জনন মাতৃকোষ এর নিউক্লিয়াসটি প্রথমে হ্রাস বিভাজন ও পরে সমবিভাজন পদ্ধতিতে পরপর দুবার বিভাজিত হয় জনন মাতৃকোষ এর অর্ধেক ক্রোমোজোম সহ চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে ,তাকে meiosis বলে।

স্থান : i) মিউজিক প্রক্রিয়া জনন মাতৃকোষ এর জনন কোষ সৃষ্টি সময় ঘটে।
ii) মস ও ফার্ন প্রভৃতি উদ্ভিদে রেনু মাতৃকোষে রেণু সৃষ্টির সময় ঘটে।
iii) উচ্চশ্রেণীর উদ্ভিদের পরাগধানীর পরাগ রেনু মাতৃকোষে ও ডিম্বাশয় এর ডিম্বক মধ্যস্থ ডিম্বাণু মাতৃকোষে ঘটে এবং প্রাণীদের শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় এ ঘটে।

বৈশিষ্ট্য : i) এই প্রক্রিয়াটি প্রধানত জনন মাতৃকোষ ঘটে।
ii) এই প্রক্রিয়ায় একটি ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
iii) এই প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপত্য কোষে অর্ধেক হয়।
iv) এই প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষ টি দু’দফায় বিভাজিত হয় প্রথমটি হ্রাস বিভাজন পর একটি সদৃশ বিভাজন।

৭. মাইটোসিসের গুরুত্ব বা তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ- মাইটোসিসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য গুলি হল –

 i) বৃদ্ধি : মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, ফলে জীব দেহের বৃদ্ধি ঘটে।

ii) কোষ প্রতিস্থাপন এবং ক্ষয়পূরণ : জীবদেহের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে জীর্ণ স্থানে নতুন কোষ প্রতিস্থাপন ঘটে, ফলে জীব দেহের ক্ষয়পূরণ হয়। যেমন- ক্ষয়প্রাপ্ত ত্বক পুনরায় নতুন ত্বক সৃষ্টি করে।

iii) পুনরুৎপাদন : প্রাণীদের কোন অংশের পুনরুৎপাদন ঘটে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে। যেমন- কবচি শ্রেণীর প্রাণীদের পা,তারামাছের বাহু, টিকটিকির লেজ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তার পুনরুৎপাদন ঘটে।

iv) প্রজনন : এককোষী জীবের অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন জনন প্রক্রিয়ার বংশবিস্তার করে করে।

৮. মিয়সিস ১ এর ঘটনা গুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ- i) পিতৃ ও মাতৃ ক্রোমোজোম জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে।
ii) পিতৃ ও মাতৃ ক্রোমোজোম নিয়ে গঠিত জোরকে বাইভ্যালেন্ট বলে।
iii) বাইভ্যালেন্ট ক্রোমোজোম গুলি লম্বালম্বিভাবে বিভাজিত হয়ে টেট্রাড গঠন করে। টেট্রাডে একজোড়া সিস্টার ক্রোমাটিড এবং একজন নন সিস্টার সিস্টার ক্রোমাটিড থাকে।
iv) সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ার মধ্যে পৃথকীকরণ ঘটে। কিন্তু স্থানে স্থানে তারা পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ওই অংশকে কায়াজমা বলে । কায়াজমা অঞ্চলে নন সিস্টার ক্রোমাটিড এর মধ্যে দেহাংশের বিনিময় ঘটে। একে ক্রসিং ওভার বলে ।

৯. জনন এর সংজ্ঞা দাও এবং জননের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ- যে জৈবিক পদ্ধতির সাহায্যে জীব নিজ স্বত্তা ও আকৃতিবিশিষ্ট অপত্য জীব সৃষ্টি করে সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজের বংশধরকে অক্ষুন্ন রাখে তাকে জনন বলে।

জননের গুরুত্ব :

i) জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি : জননের মাধ্যমে জীব অপত্য সৃষ্টি করে তার প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

ii) বংশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা : জননী মাধ্যমে জীবের বংশের ধারা অক্ষুণ্ন থাকে।

iii) জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষা : মৃত্যুজনিত কারণে যে ব্যক্তির সংখ্যা হ্রাস পায় জননের মাধ্যমে তা পূরণ হয়। ফলে পৃথিবীতে জীবজগতের ভারসাম্য বজায় থাকে।

iv) অস্তিত্ব রক্ষা : জননের মাধ্যমেই অপত্য সৃষ্টি মাধ্যমে জীবের উপর নিজেদের অস্তিত্ব বজায় থাকে।

v) অভিব্যক্তি : যৌন জনন সম্পন্ন করে এমন জীবিদের পরিব্যক্তি বা মিউটেশন ঘটে যা জীবের বিবর্তনের পথ সুগম করে।

১০. অঙ্গজ জনন এবং যৌন জনন এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ-

অঙ্গজ জননযৌন জনন
i) দেহের নির্দিষ্ট জনন অঙ্গ জনন এ অংশগ্রহণ করে।i) শুক্রাণু ও ডিম্বাণু অর্থাৎ গ্যামেট জননে অংশগ্রহণ করে।
ii) কোষে কোন বিশেষ প্রকার জনন  একক উৎপন্ন হয় না।ii) জনন একক হিসেবে গ্যামেট উৎপন্ন হয়।
iii) মুখ্যত মাইটোসিস পদ্ধতিতে কোষ বিভাজন হয়।iii) মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয় পদ্ধতিতেই কোষ বিভাজন হয়।
iv) অঙ্গজ জননে জীবের সংখ্যা একটি।iv) যৌন জননের জীবের সংখ্যা দুটি এবং অংশগ্রহণকারী জীবদুটি বিপরীত লিঙ্গের হয়।
v) অভিযোজন ও অভিব্যক্তি ঘটে না।v) অভিযোজন অভিব্যক্তি ঘটে।

১১. নিষেক এবং নতুন উদ্ভিদ গঠন সপুষ্পক উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কিভাবে হয় ?

উত্তরঃ-

i) পরাগযোগ : স্বপরাগযোগ বা ইতর পরাগযোগ এর মাধ্যমে পরাগরেণু ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়।

ii) পরাগরেণুর অঙ্কুরোদগম এবং  পুং গ্যামেট সৃষ্টি : পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি গঠন করে ।এই সময়ে গর্ভমুণ্ড থেকে যে রস নিঃসৃত হয় পরাগরেণু তা শোষণ করে স্ফীত হয় । রেনুর অন্তঃস্ত্বক টি পরাগনালি গঠন করে। পরাগনালির মধ্যে পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে দুটি শুক্রাণু ও একটি নালিকা নিউক্লিয়াস গঠন করে।

iii) ভ্রুণস্থলী গঠন : ডিম্বকের ডিম্বকরন্ধ্র দিকে একটি রেনু মাতৃকোষে চারটি স্ত্রী রেণু গঠন করে ।এদের মধ্যে একটি সক্রিয় থাকে বাকি তিনটি নষ্ট হয়ে যায়। একটি সক্রিয় স্ত্রী রেণু তিনবার মাইটোসিস প্রক্রিয়া বিভাজিত হয়ে আটটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। এদের মধ্যে দুটি সহকারি কোষ এবং একটি ডিম্বাণু গঠন করে । ভ্রুনস্থলির নিচের দিকে তিনটি নিউক্লিয়াস থেকে তিনটি প্রতিপোদ কোষ সমষ্টি গঠন করে। মাঝে দুটি নিউক্লিয়াস নির্ণীত নিউক্লিয়াসের গঠন করে।

iv) দ্বিনিষেক : পরাগনালি গর্ভ দণ্ড এর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় দুটি শুক্রাণুকে ভ্রুণস্থলী পর্যন্ত বয়ে আনে। নালিকা নিউক্লিয়াসটি অবলুপ্ত হয়। দুটি শুক্রাণুর মধ্যে একটি শুক্রাণু ডিম্বাণু নিষিক্ত করে জাইগোট বা ভ্রুনানু গঠন করে । আবার অপূর্ব কমেডি নির্ণীত নিউক্লিয়াস নিষিক্ত করে ট্রিপ্লয়েড শস্য গঠন করে। একই ভ্রুণস্থলী মধ্যে দুইবার নিষেক হওয়াকে দ্বিনিষেক বলে।

v) ভ্রূণ গঠন : জাইগোট মাইটোসিস প্রক্রিয়া বারবার বিভাজিত হয়ে গঠন করে এবং সস্য খাদ্য হিসেবে সঞ্চিত হয়।

vi) বীজ ও ফল : নিষেকের পর ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয় ও ডিম্বক  বীজে রূপান্তরিত হয়।

vii) নতুন চারা গাছ সৃষ্টি : বীজের মধ্যে ভবিষ্যতের গাছ বা পূর্ণ থাকে যা অনুকূল পরিবেশে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে নতুন চারা গাছ গঠন করে।

১২. মানুষের বিকাশে বিভিন্ন দশা গুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ- মানুষের বিকাশের প্রধান পাঁচটি দশা । যথা :-

i) সদ্যোজাত : নয় মাস দশ দিন মাতৃজঠরে প্রতিপালিত হওয়ার পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় ।এই সময় শিশুর ওজন আড়াই কেজি থেকে 3 কেজি হয় ।সাধারণত তিন বছর সময়কাল পর্যন্ত এই সময় ধরা হয়m এই সময় ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশু মাতৃদুগ্ধ পান করে, এরপর আলু সিদ্ধ,সাদা গলা ভাত। 2-3 বছর বয়স থেকেই শিশু হাঁটতে থাকে।

ii) শৈশব : তিন থেকে 11 বছর বয়স পর্যন্ত হলো শৈশব। জন্মের প্রথম তিন বছর শিশুর উচ্চতা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায় ।এই সময় শিশুর বিভিন্ন রকম খেলাধুলাতে ও পড়াশোনার দিকে আগ্রহী হয়। এই সময় বৃদ্ধি সহায়ক বিভিন্ন হরমোন ক্ষরিত হয় ।ফলে শক্তি সরবরাহ হয়।

iii) বয়সন্ধি : 12 থেকে 20 বছর বয়স পর্যন্ত হলো বয়সন্ধিকাল। এই সময় মানুষের মুখ্য বৃদ্ধি কাল হয় ।এই সময় বৃদ্ধি সহায়ক হরমোন গুলি বিশেষ করে যৌন সহায়ক হরমোন গুলি ক্ষরিত হয়। ফলে দেহের বৃদ্ধি হয় এবং যৌনাঙ্গের পরিস্ফুটন হয় ।নারী ও পুরুষ দেহে বিভিন্ন গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশ পায় । এভাবেই মানবদেহের বয়সন্ধিকাল সময় অতিবাহিত হয়।

iv) পরিণত দশা : এই দশা 40 থেকে 60 বছর বয়স পর্যন্ত হয়। এই সময় মানুষ জনন করে এবং অপত্য সৃষ্টি করে।

v) বার্ধক্য দশা : 60 বছর বয়স থেকে শুরু করে যতদিন পর্যন্ত বাঁচে ততদিন পর্যন্ত এই দশা চলে। এই সময়ে যৌন হরমোনের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় ।সাধারণত নারীদেহে পুরুষ দেহের অপেক্ষা আগে বার্ধক্য আসে।

১৩. পরাগ যোগ বা পলিনেশন কাকে বলে ? ইহা কত প্রকার ও কি কি ? প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা সহ উদাহরণ দাও এবং এদের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ- পরাগযোগ : ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের বা একই গাছের অন্য ফুলে বা একই প্রজাতিভুক্ত অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকে পলিনেশন বলে।

পরাগ যোগ প্রধানত দুই প্রকার হয়। যথা- স্বপরাগযোগ এবং ইতর পরাগযোগ।

a) স্বপরাগযোগ : যখন কোন ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলের বা সেই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে ওপর পড়ে ,তখন তাকে স্বপরাগযোগ বলে।

উদাহরণ – সাধারণত উভলিঙ্গ ফুলের স্বপরাগযোগ দেখা যায়। যেমন- সিম, টমেটো, সন্ধ্যামালতী ইত্যাদি।

b) ইতর পরাগযোগ : যখন কোন ফুলের পরাগরেণু একই প্রজাতির অন্য কোন গাছের ফুলের গর্ভমুন্ড এর উপর পড়ে, তখন তাকে ইতর পরাগযোগ বলে।

উদাহরণ – সাধারণত একলিঙ্গ ফুলের ইতর পরাগযোগ ঘটে। যেমন- তাল , পেঁপে ,লাউ ইত্যাদি।

স্বপরাগযোগইতর পরাগযোগ
i) এক্ষেত্রে ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলের বা সেই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে ওপর পড়ে।i) এক্ষেত্রে ফুলের পরাগরেণু একই প্রজাতির অন্য কোন গাছের গর্ভমুণ্ডে পরে।
ii) বাহকের প্রয়োজন হয় না।ii) বাহকের প্রয়োজন হয়।
iii) এক্ষেত্রে উৎপন্ন ফল ও বীজ অনুউন্নত ধরনের হয়।iii) এক্ষেত্রে ফল ও বীজ উন্নত ধরনের হয়।
iv) এই পরাগযোগে উৎপন্ন অপত্য দুর্বল প্রকৃতির হওয়ায় প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না।iv) এই পরাগযোগে উৎপন্ন অপত্য সবল প্রকৃতির হওয়ায় প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।
v) উদাহরণ: উভলিঙ্গ ফুলের ঘটে যেমন- শিম, টমেটো।v) উদাহরণ : একলিঙ্গ ফুলের ঘটে, তাল, পেঁপে, লাউ ইত্যাদি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top