Class 8 Bengali chapter 07 চিঠি

চিঠি – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

কবি পরিচিতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে অধুনা বাংলাদেশের যশোহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহন করেছিলেন। বাল্যবয়সেই কলকাতায় এসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ। রত্নাবলী, শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী তাঁর অসামান্য সৃষ্টি। পদ্মাবতী নাটকে তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন।

সারাংশ

এখানে মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর তিন বন্ধু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, গৌরদাস বসাক ও রাজনারায়ণ বসুকে তিনটি চিঠি লিখেছেন।

বিদ্যাসাগরকে লেখা চিঠিতে মধুসূদন তাঁর লন্ডন যাওয়ার কারন ও তাঁর বিষয়-আশয় দেখাশোনার কথা বলেছেন। তারপর ইউরোপের শীতকাল সম্পর্কে জানিয়েছেন। আমাদের দেশ ও সেখানকার শীতের পার্থক্যের কথাও জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি ফ্রেঞ্চ, ইটালি ও জার্মান ভাষা শিখছেন। এই চিঠিতে মধুসূদন তাঁর আশা আকাঙ্ক্ষার কথা বিদ্যাসাগরের কাছে প্রকাশ করেছেন।

গৌরদাস বসাককে লেখা চিঠিতে মধুসূদন “সীলোন” নামক জাহাজে চড়ে তাঁর লন্ডন যাওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। কলকাতা থেকে লন্ডন যাওয়ার বিবরণ তিনি ইন্ডিয়ান ফিল্ড পত্রিকায় পাঠাতে চান সেই ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জিব্রালটার প্রণালীর কথা, সমুদ্রের শান্ত রূপের কথাও তিনি বন্ধুকে জানিয়েছেন।

রাজনারায়ণ বসুকে লেখা চিঠিতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর “মেঘনাদবধ কাব্য”- এর কথা জানিয়েছেন। তাঁর কাব্যের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি মিল্টন, কালিদাস, ভার্জিল, তাসো প্রমুখের নাম করেছেন। সবশেষে তিনি বলেছেন যে তিনি রাজনারায়ণ দত্তের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুরাগী।

হাতে কলমে

১.১ মধুসূদন দত্ত কোন কলেজের ছাত্র ছিলেন?

উঃ- মধুসূদন দত্ত হিন্দু কলেজের ছাত্র ছিলেন।

১.২ পদ্মাবতী নাটকে তিনি কোন ছন্দ ব্যবহার করেছিলেন?

উঃ- পদ্মাবতী নাটকে তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেছিলেন।

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখোঃ

২.১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘প্রিয় ও পুরাতন বন্ধু’ গৌরদাস বসাককে কোথা থেকে পাঠ্য চিঠিটি লিখেছিলেন? তাঁর যাত্রাপথের বিবরণ পত্রটিতে কীভাবে ধরা পড়েছে আলোচনা করো।

উঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘প্রিয় ও পুরাতন বন্ধু’ গৌরদাস বসাককে লন্ডন যাওয়ার সময় “সীলোন” নামক জাহাজ থেকে পাঠ্য চিঠিটি লিখেছিলেন।

        এই চিঠিতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন যে তিনি “সীলোন” নামক একটি রাজকীয় জাঁকজমকপূর্ণ জাহাজে চড়ে সেই সময় ভূমধ্যসাগরের মধ্য দিয়ে লন্ডনের অভিমুখে যাচ্ছেন। জাহাজ থেকে তিনি উত্তর আফ্রিকার উপকূল দেখতে পাচ্ছেন। এরপর তিনি আলেকজান্দ্রিয়া, স্পেনের উপকূল পার হয়ে জিব্রাল্টারে পৌঁছবেন। এই অঞ্চলের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ বলে কবি উল্লেখ করেছেন।  

২.২ মধুসূদনের জীবনের উচ্চাশার স্বপ্ন কীভাবে পত্রটিতে প্রতিভাসিত হয়ে উঠেছে?

উঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বন্ধু গৌরদাস বসাককে লেখা চিঠিতে নিজের মনের উচ্চাশা ও প্রতিষ্ঠালাভের স্বপ্নকে জোরালোভাবে প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই ভ্রমণ কাহিনী “ইন্ডিয়ান ফিল্ড” পত্রিকায় প্রকাশ করতে ইচ্ছুক। তিনি জানান যে ইংল্যান্ডে পৌঁছে হয়ত বন্ধুদের বেশি চিঠিপত্র লিখতে পারবেন না। নিজেকে মনোনিবেশ করে সসম্মানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য দৃঢ় সংকল্প।

২.৩ বিদেশে পাড়ি জমানোর সময়েও তাঁর নিজের দেশের কথা কীভাবে পত্রলেখকের মনে এসেছে?

উঃ- ইংল্যান্ডে যাওয়ার সময় “সীলোন” নামক জাহাজ থেকে বন্ধু গৌরদাস বসাককে মাইকেল মধুসূদন দত্ত চিঠিতে তাঁর জন্মভূমি অর্থাৎ ভারতবর্ষের কথা তুলে ধরেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন যে ঠিক বাইশ দিন আগে তিনি কলকাতায় ছিলেন। কবি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরের বর্ননা করে বলেছেন, এই সমুদ্র ভীষণ শান্ত ও সেই শান্ত ভাবটি ভারতবর্ষের হুগলী নদীর মতো। এছাড়া ওই অঞ্চলের আবহাওয়াকেও লেখক নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার মতোই বর্ণনা করেছেন।

২.৪ ‘… একথা যেন আমার বিশ্বাস হচ্ছে না’। – কোন কথা? সে-কথাকে বক্তার অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে কেন?

উঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংল্যান্ডে যাওয়ার সময় “সীলোন” জাহাজ থেকে বন্ধু গৌরদাসকে চিঠিতে জানান যে, ইংল্যান্ড সম্পর্কে শৈশব থেকেই তাঁর মনে গভীর আবেগ ছিল। প্রতি মিনিটে তিনি জাহাজে করে ক্রমশ সেই দেশের কাছে যাচ্ছিলেন। এই কথাই তাঁর যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না।

        মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছোটোবেলা থেকেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তাঁর আকাঙ্ক্ষা ছিল ইংরেজি ভাষায় কাব্য লিখে তিনি খ্যাতনামা হবেন। যে দেশের পরিবেশ, ভাষা এবং সংস্কৃতির প্রতি গভীর টান তিনি ছোটোবেলা থেকেই অনুভব করেছেন, আজ সেই দেশের দিকেই ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছেন। এই কথাটি কবির “অবিশ্বাস্য” বলে মনে হচ্ছিল।

২.৫ প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে হৃদ্যতার ছবি পত্রটিতে কীভাবে ফুটে উঠেছে তা প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতিসহ আলোচনা করো।

উঃ- “সীলোন” জাহাজে করে ইংল্যান্ড যাওয়ার পথে মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর হিন্দু কলেজের বন্ধু গৌরদাস বসাককে চিঠিটি লিখেছিলেন। চিঠিটি পড়লে তাঁর বন্ধুত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

        চিঠির প্রথমেই মধুসূদন গৌরদাস বসাককে “প্রিয় ও পুরাতন বন্ধু” বলে সম্বোধন করেছেন এবং তিনি ইংল্যান্ডে পৌঁছে আবার তাঁর বন্ধুকে চিঠি লিখবেন বলেছেন। এছাড়া গৌরদাসকে বলেছেন, “তখন তুমি তোমার প্রাণ উজাড় করে আমাকে অনবরত পত্রাঘাত করতে পারবে” – এ থেকে বোঝা যায় তাঁদের মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্ব ছিল।  

২.৬ রাজনারায়ণ বসুকে লেখা পত্রে লেখক তাঁর এই প্রিয় বন্ধুটির কাছে কোন আবেদন জানিয়েছেন?

উঃ- রাজনারায়ণ বসু ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের সহপাঠী।

        এই চিঠিতে মধুসূদন দত্ত রাজনারায়ণ বসুকে অনুরোধ জানিয়েছেন যে, তিনি যেন মধুসূদনের “মেঘনাদবধ কাব্য” পাঠ করে। মধুসূদনের কাছে হাজার হাজার মানুষের প্রশংসার চেয়ে রাজনারায়ণ বসুর মতামত অনেক বেশি মূল্যবান। এমনকি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন যে রাজনারায়ণ বসুর স্ত্রীও কাব্যটি যেন পড়েন।

২.৭ ‘এই কাব্য অদ্ভুতরকম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে’। – কোন কাব্যের কথা বলা হয়েছে? সে কাব্যের জনপ্রিয়তার কথা বলতে গিয়ে লেখক কোন কোন প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন?

উঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর প্রিয় বন্ধু রাজনারায়ণ বসুকে লেখা পত্রটিতে তাঁর বিখ্যাত রচনা “মেঘনাদবধ কাব্য” সম্পর্কে বলেছেন।

        “মেঘনাদবধ কাব্য”-র জনপ্রিয়তার কথা বলতে গিয়ে লেখক বলেছেন, এই কাব্য খবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। কেউ কেউ এই কাব্যকে মহাকবি মিল্টনের চেয়েও ভালো রচনা বলে মনে করেছেন, তবে তিনি মনে করেন মিল্টন স্বর্গীয়। তিনি একথাও শুনেছেন যে বহু হিন্দু মহিলা এই কাব্য পরে কান্নাকাটি করেছেন। কাব্যটির জনপ্রিয়তা কতখানি সেটাই লেখক এখানে উল্লেখ করেছেন।

২.৮ প্রিয় বন্ধুর প্রতি, সর্বোপরি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগের যে পরিচয় রাজনারায়ণ বসুকে লেখা পত্রটিতে পাওয়া যায়, তা বিশ্লেষণ করো।

উঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্তের তাঁর প্রিয় বন্ধুকে লেখা চিঠিতে তাঁর সাহিত্যের প্রতি অনুরাগের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

        এই কাব্যের পাঠকেরা এ কাব্যকে মিল্টনের চেয়েও ভালো বলে মনে করেছেন। তাই তিনি মিল্টনকে স্বর্গীয় বলে সম্মান প্রদান করেছেন। এইভাবে পত্রের প্রতি অংশে মধুসূদনের সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

২.৯ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ৩ নভেম্বর ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে লেখা মধুসূদনের চিঠিটির বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উঃ- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ফ্রান্সের ভার্সাই থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে যে চিঠিটি লিখেছিলেন তাতে বিদ্যাসাগরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও গভীর শ্রদ্ধা ধরা পড়েছে। মধুসূদন চিঠিতে ঈশ্বরচন্দ্রের নিকট তাঁর হয়ে বিষয়-আশয়ের তত্ত্বাবধানের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছেন। এমনকি তিনি যে মধুসূদনকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন সে কথাও মধুসূদন বলেছেন।

        মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইতিমধ্যে যে ফরাসি, ইতালি ভাষা শিখে এখন জার্মান ভাষা শিখছেন তাও কোনো শিক্ষক ছাড়াই সেকথা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের ভয়ঙ্কর শীতের কথাও বলেছেন এই চিঠিতে।

২.১০ বিদ্যাসাগরকে লেখা পত্রটিতে মধুসূদনের জীবনে তাঁর ভূমিকার যে আভাস মেলে, তা বিশদভাবে আলোচনা করো।

উঃ- ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দের ৩ নভেম্বর ফ্রান্সের ভার্সাই শহর থেকে মধুসূদন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে যে চিঠিটি লিখেছিলেন তাতে বোঝা যায় যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মধুসূদনের জীবনে অনেক বড়ো ভূমিকা গ্রহন করেন।

        নিজের অনুপস্থিতিতে মাইকেল মধুসূদন বিষয়-আশয় দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্রকে। এমনকি বিদ্যাসাগর মধুসূদনকে যে ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন সে কথাও তিনি স্মরন করেছেন এই চিঠিটে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইতিমধ্যে যে ফরাসি, ইতালি ভাষা শিখে এখন জার্মান ভাষা শিখছেন তাও কোনো শিক্ষক ছাড়াই সেকথা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের ভয়ঙ্কর শীতের কথাও বলেছেন এই চিঠিতে।         এইসব কথার মধ্য দিয়ে বোঝা যায় যে বিদ্যাসাগর মধুসূদনের জীবনের প্রত্যেকটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িত।

অতিরিক্ত প্রশ্ন-উত্তর

১. চিঠি গল্পে প্রথম চিঠিটি কাকে লেখা হয়েছিল?

উঃ- চিঠি গল্পে প্রথম চিঠিটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে লেখা হয়েছিল।

. চিঠি গল্পে দ্বিতীয় চিঠিটি কাকে লেখা হয়েছিল?

উঃ- চিঠি গল্পে দ্বিতীয় চিঠিটি গৌরদাস বসাককে লেখা হয়েছিল।

. চিঠি গল্পে তৃতীয় চিঠিটি কাকে লেখা হয়েছিল?

উঃ- চিঠি গল্পে তৃতীয় চিঠিটি রাজনারায়ণ বসুকে লেখা হয়েছিল।

. চিঠি গল্পের তিনটি চিঠি কে তরজমা করেছেন?

উঃ- চিঠি গল্পের তিনটি চিঠি তরজমা করেছেন সুশীল রায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top