Class 8 Bengali chapter 22 গড়াই নদীর তীরে

গড়াই নদীর তীরে – জসিম উদ্দিন

কবি পরিচিতি

পল্লিকবি জসীমউদ্দিন বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুরে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটে। তাঁর ‘নকশি কাঁথার মাঠ’ কাব্য তাঁকে খ্যাতিমান করে তোলে। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল বালুচর, ধানক্ষেত, সোজন বাদিয়ার ঘাট। এছাড়াও তিনি গীতিনাট্য বেদের মেয়ে, চলো মুসাফির নামক ভ্রমণকাহিনী এবং ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় নামক প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেন।

 

কবিতার সারাংশ

গড়াই নদীর তীরে কবিতায় কবি জসসীম উদ্দিন গ্রাম বাংলার নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন| নদীর পারে যেসব মানুষ ছোট ছোট কুঠিরে বসবাস করে তাদের বৈচিত্রতা কবি এই কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন| সেই সমস্ত কুঠির ঘরে কিভাবে মানুষরা আনন্দে সুখে হেসেখেলে বসবাস করে সেই উঠোনের মাচার উপর লাউ কুমড়ো প্রভৃতি চাষবাস হয়| পাখিরা সকাল-সন্ধ্যা এসে গুঞ্জন করে গ্রাম বাংলার লোকেরা কিভাবে ধনে, জিরে, বেটে রোদে শুকছে ও আকাশের ঘন মেঘের মাধ্যমে কবি গ্রাম বাংলার এক সুনিপুণ দৃশ্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছে|

 

হাতে কলমে

১.১ কবি জসীমউদ্দীন কোন অভিধায় অভিহিত?

 উত্তর- কবি জসীমউদ্দীন ‘পল্লিকবি’ অভিধায় অভিহিত।

১.২ তাঁর লেখা দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তর- তাঁর লেখা দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম– নকশি কাঁথার মাঠ’ ও ‘রাখালী’।

২। একটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১ কবিতায় বর্ণিত নদীটির নাম কী?

উত্তর- কবিতায় বর্ণিত নদীটির নাম গড়াই।

২.২ মাচানের ‘পরে কী আছে?

 উত্তর- মাচানের ‘পরে সিম,লতা আর লাউ কুমড়োর ঝাড় আছে।

 ২.৩ মানুষের বসত করার কথা এখানে কারা বোঝেনি?

উত্তর– মানুষের বসত করার কথা এখানে গাছের ডালে নির্ভয়ে গান করা পাখিরা বোঝেনি।

২.৪ উঠানেতে কী কী শুকাচ্ছে?

উত্তর- উঠানেতে মটর ডাল, মুসুর ডাল, কালোজিরে, ধনে, লংকা ও মরিচ শুকোচ্ছে।

২.৫ বাড়িটিকে ভালোবেসে কারা বেড়াতে এলে কিছুক্ষণ থেমে রয়?

উত্তর- সকাল-সন্ধ্যার রঙিন মেঘেরা বাড়িটিকে ভালোবেসে বেড়াতে এলে কিছুক্ষণ থেমে রয়।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও :

৩.১ কুটিরখানিরে লতাপাতা ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে’ – এখানে কুটিরটিকে লতাপাতা-ফুলের মায়া দিয়ে ঘিরে রাখা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

 উত্তর- এখানে কুটিরটিকে লতাপাতা ফুল মায়ায় ঘিরে থাকার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কবির বক্তব্য হলো কুটিরে লতাপাতা ও ফুলের গাছ রয়েছে এবং তা শোভা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও পল্লিবাংলার কুটিরে এজাতীয় লতাপাতা ফুলের অবস্থান স্বাভাবিক ঘটনা।

৩.২ ডাহুক মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে’ – ‘ডাহুক মেয়ে’ কারা? তারা কাদের নিয়ে আসে? তারা কীভাবে কথা বলে?

উত্তর- ডাহুক মেয়ে হলো স্ত্রী-ডাহুক পাখি। তারা তাদের ছোটো ছোটো বাচ্চা তথা ছানাদের নিয়ে আসে। ডাহুক পাখির প্রকৃত অর্থে কোনো ভাষা নেই। তারা কিচির মিচির গানের মাধ্যমে কথা বলে।

৩.৩ ‘যেন একখানি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি’ – ‘আগর’ শব্দটির অর্থ কী? সুখের কাহিনির যে নানা ছবি কবি এঁকেছেন তার মধ্যে কোনটি তোমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এবং কেন?

 উত্তর- আথর শব্দটির অর্থ হলো অক্ষর সুখের কাহিনির নানা ছবি কবি এই কবিতায় এঁকেছেন। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যেখানে কবি সাঁক সকালে রঙিন মেঘেদের বেড়াতে এসে ভালোবাসার বাঁধনে থেমে থাকার কথা বলেছেন। মেঘেদের মধ্যে প্রাণ আরোপ কল করে কবি এক সুন্দর আলংকারিক রূপকল্প আমাদের উপহার দিয়েছেন।

৩.৪ কিছুখন যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে – রঙিন মেঘেরা বাড়িটিকে ভালোবেসে থেমে থাকে এর মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর- সংকলিত অংশের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এই সুন্দর কুটিরকে কে ভালো না বেসে পারবে না। অর্থাৎ, প্রকৃতিপিয়াসি সকল পাঠক এই কবিতা পাঠের মাধ্যমে কল্পনাবিলাসী হয়ে কুটির দেখে উপস্থিত হয়ে আনন্দ অনুভব করবে।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

৪.১ ‘এ বাড়ির যত আনন্দ হাসি আঁকা জীবন্ত কবির কবিতায় কবি প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ব যে গ্রামীণ কুটিরেজীবন্ত ছবি এঁকেছেন তার বিবরণ দাও।

 উত্তর- গড়াই নদীতীরে বাতাসে দোদুল্যমান লতা ও ফুলের মায়ায় কুটিরখানি মায়াঘেরা। মাচায় সিম ও লাউ বৃহতের গাছ ঝুলছে আর নীচে লাল নটে তার রং ছড়াচ্ছে যেন কেউ লাল শাড়ি মেলেছে। ডাহুক মেয়েরা এবং বনের পাখির এখানে নির্ভয়ে গান করে। উঠানে সযত্নে মটর, মুসুরের ডাল, ধনে, কালোজিরা, লক্ষ্ম, মরিচ রোদে শুকাচ্ছে। যেন মনে হচ্ছে বিচিত্র বর্ণের কেউ আল্পনা এঁকেছে। এ বাড়িতে একটা সুখের জীবন্ত ছবি ফুটে উঠেছে। রঙিন মেঘের দল সকল সন্ধ্যায় এখানে বেড়াতে এসে এর প্রেমে পড়ে যায়।

৪.২ ‘গড়াই নদীর তীরে’ কবিতায় কবি পরম মমতায় গ্রামীণ কুটিরের ছবি এঁকেছেন। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজের বাড়ির সঙ্গে এমন একটি মমতাময় সম্পর্ক আছে। তুমি তোমার বাড়ির বিভিন্ন অনুষঙ্গের বিবরণ দিয়ে একটি অনুচ্ছেদ লেখো।

উত্তর- আমার বাড়ি একটি বিশেষ অনুভূতির প্রকাশ। আমার বাড়ি আমার শান্তির নীড়, সুখের ঠিকানা এবং বার্ধকের বারাণসী। বাড়ির সকল মানুষজন আমার বাবা, মা, ভাই ও বোন সকলে পরম মমতার বাঁধনে বাঁধা। আমার বাড়ির উঠোনে সকালের সূর্যরশ্মি খেলা করে। চড়াইপাখি, শালিক খাবারের খোঁজে উড়ে এসে বসে। আমার নিজের ঘর, তার আসরে অহরহ আমাকে আকর্ষণ করে। বাড়ির টি.ভি. টেলিফোন, ফ্যান, লাইট সবই আমার চেনা আপনজন। বাবা-মায়ের ভালোবাস ভায়ের স্নেহ, বোনের আদর আমার বাড়িকে আদর্শ বাড়ির রূপ দিয়েছে। তাই যখন যেখানে যাই না কেন আমার বাড়ি আমার শান্তিনিকেতনে ফেরার জন্য আমার মন সদা ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

৫. নীচের বাক্যগুলির থেকে ক্রিয়ার কাল নির্ণয় করো

৫.১ কুটিরখানিরে লতাপাতা ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে।

উত্তর- পুরাঘটিত বর্তমান।

৫.২ উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।

উত্তর- সাধারণ বর্তমান।

৫.৩ লংকা-মরিচ রোদে শুকাইছে উঠানেতে সযতনে।

উত্তর- ঘটমান বর্তমান।

৫.৪ জিরা ও ধনের রঙের পাশেতে আলপনা আঁকা কার!

উত্তর- সাধারণ বর্তমান।

 ৫.৫ কিছুখন যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে।

উত্তর- পুরাঘটিত বর্তমান।

৬. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো :

৬.১ লাল শাড়িখানি রোদে দিয়ে গেছে এ বাড়ির বধূ কেউ। (জটিল বাক্যে)

উত্তর। যে এই বাড়ির বধু সে লাল শাড়িখানি রোদে দিয়ে গেছে।

 ৬ .২ ডাহুক মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে। (চলিত গদ্যে)

উত্তর– ডাহুক মেয়েরা গানে গানে কথা বলে বেড়াতে আসে।

৬.৪ এখনো তাহারা বোঝেনি হেথায় মানুষ বসত করে। (যৌগিক বাক্যে)

 উত্তর- হেথায় মানুষ বসত করে কিন্তু এখনো তাহারা তা বোঝেনি।

৬.৩ গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে। (না-সূচক বাক্যে)

উত্তর। গাছের শাখায় বনের পাখিরা গান ধরতে ভয় পায় না।

৭: নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো : কুমড়া, কালিজিরা, উঠান, সযতনে, আথর, সাঁঝ।

উত্তর।

কুমড়া–কুমড়ো > কুমড়া – স্বরলোপ।
সযতনে- সযত্নে > সমতনে -স্বরাগম।
কালিজিরা–কালোজিরে > কালিজিরা— স্বরসংগতি।
উঠান -উঠোন > উঠান—স্বরলোপ।
আখর-অক্ষর > আখর-স্বরাগম।
সাঁঝ-সন্ধ্যা > সকা > সায় -নাসিক্যীভবন।

কারকবিভক্তি নির্ণয় করো :

৮.১ গড়াই নদীর তীরে।

উত্তর- তীরে–অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।

৮.২ উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।

উত্তর- বুনো ফুলগুলি কর্তৃকারকে ‘শূন্য’ বিভক্তি।

৮.৩ গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে।

 উত্তর- গান কর্মকারকে শূন্য’ বিভক্তি।

৮.৪ যেন একখানি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি।

 উত্তর- আখরে করণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।

 ৮.৫ সাঁঝ-সকালের রঙিন মেঘেরা এখানে বেড়াতে এসে।

উত্তর- রঙিন মেঘেরা–কর্তৃকারকে ‘এরা’ বিভক্তি।

৯. নীচের শব্দগুলির মধ্যে কোনটি কোন শ্রেণির বিশেষ্য তা নির্দেশ করো :

উত্তর-

মানুষ— জাতিবাচক বিশেষ্য।
ফুলগুলি— জাতিবাচক বিশেষ্য।
আনন্দ- ভাববাচক বিশেষ্য।
আলপনা— বস্তুবাচক বিশেষ্য।

১০. নীচের শব্দগুলির মধ্যে কোনটি কোন শ্রেণির সর্বনাম তা নির্দেশ করো :

উত্তর-

যার– সংযোগবাচক সর্বনাম।
কেউ– অনির্দেশক সর্বনাম।
তাহারা- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।
তার – ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।

১১. এঁদো, লাল, বুনো, রঙিন—বিশেষণগুলির সাহায্যে নতুন শব্দবন্ধ তৈরি করো।

উত্তর-  

এঁদে — এঁদো পুকুর।
লাল — লাল ফুল।
বুনো — বুনো হাঁস।
রঙিন — রঙিন প্রজাপতি।

 

অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর

১. ডাউক মেয়েরা বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর- কবিতাটিতে ডাউক মেয়েরা বলতে ডাউক পাখির কথা বুঝানো হয়েছে |

২. লাল শাড়ি কে মেলে দিয়ে গেছিল ?

উত্তর- লাল শাড়ি কুটির ঘরের এক বধু মিলে দিয়ে গেছিল|

৩. কারা বুঝতে পারছিল না  এখানে মানুষ বসবাস করে ? ও কেন?

উত্তর- পাখিরা বুঝতে পারছিল না সেখানে মানুষ বসবাস করে, কারণ শহরাঞ্চলে মানুষের এত ব্যস্ততার মধ্যে সামাজিক পরিবেশে বসবাসকারী পশুপাখিদের অস্তিত্ব বজায় রাখা খুবই কঠিন ,কিন্তু গ্রামের নির্মম প্রাকৃতিক পরিবেশে পশুপাখিরা মানুষের সাথেই মিলেমিশে থাকে|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top