Class 8 Bengali chapter 17 কি করে বুঝব

কি করে বুঝব – আশাপূর্ণা দেবী

লেখিকা পরিচিতি

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আশাপূর্ণা দেবী সংবেদনশীল সাহিত্যিক হিসাবে গণ্য। প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও তাঁর অসংখ্য ছোটো গল্প, উপন্যাস, বাংলাসাহিত্যের সম্পদ। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা, বকুলকথা, অগ্নিপরীক্ষা, শশীবাবুর সংসার, সোনার হরিণ ইত্যাদি। তাঁর রচিত কমপক্ষে ৬৩ টি গ্রন্থ অন্য ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি অসংখ্য সম্মানে ভূষিতা হয়েছেন।

 

সারাংশ

আশাপূর্ণা দেবী কি করে বুঝবো গদ্যাংশের মধ্যে দিয়ে এক বিশেষ উক্তি বর্ণনা করেছেন শুরুর দিকে আমরা দেখতে পাই দুজন স্বাস্থ্যবাণ মহিলা ও একটি মোটা ছেলে বকুর বাড়ির সামনে রিকশা থেকে নেমে তাদেরকে দেখে অবাক হয়ে যায় ও তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর মহিলারা তাদের পরিচয় দিয়ে বুকে তাদের ঘরে গিয়ে বসে ওকে বলে সে যেন তার মাকে গিয়ে ডেকে আনে তার মাকে ডাকতে যায় তখন তিনি যখন জানতে পারেন ঘোড়া দুপুরবেলা তার কাজের সময় অতিথি এসেছেন তিনি ভীষণ বিরক্ত হন ও তাদের গালমন্দ করতে থাকেন সেটি বকু শুনতে পায় তারপর নিচের ঘরে গিয়ে দেখেন বকুল মায়ের দূরসম্পর্কের পিসি ও পিসিমার ছেলে এসেছেন তাদেরকে দেখে খুশি হয়েছেন এমন কথা বলার সাথে সাথেই বুকু অবাক হয়ে ওঠে কারণ উপরের ঘরে বসে তার মা বলেছিল এখনো দিতে আশায় তিনি বিরক্ত বোধ করছেন তাই বুকু তাদের সামনে মায়ের উপরে বলা কথাটা বলে ফেলে তখন বুর্মা রেগে গিয়ে বহু কে গালমন্দ করেন এদিকে আবার বেনু পিসির ছেলে ডাম্বেল কুরবানী নিয়ে এসে বকুল মেজ কাকার সমস্ত বই আলমারি থেকে বের করে মেঝেতে ফেলে দিয়েছে ও ছিড়ে ফেল ছিল সেটি দেখে রেগে গিয়ে দুটি বাজে কথা শোনায় ডাম্বেল কি সেটি শুনে ডাম্বেলের মাথার ওপর ভীষণ রেগে যান সেদিন আবার বিকেলে সিনেমা দেখতে যাওয়ার কথা ছিল তাই জন্য পুকুর বাবা তাড়াতাড়ি অফিস থেকে চলে আসে ও তিনি যখন জানতে পারেন যে আত্মীয়রা আসার কারণে তাদের আজকে সিনেমা দেখতে যাওয়া হবে না তখন মুকুলবাবু ঢেকে যায় ও আত্মীয়দের সম্পর্কে উল্টোপাল্টা কথা বলেন তারপর বুকু যখন আত্মীয়দের জন্য জলখাবার নিয়ে আসে মেনু মেনু মাসিও ডাম্বেল সমস্ত রসগোল্লা চেটেপুটে খেয়ে ফেলার পর মা যখন জিজ্ঞাসা করে তার বাবা অফিস থেকে বাড়ি এসেছে কিনা তার উত্তরে বাবার বলা কথাগুলো বুকু তাদের সামনেই বলে ফেলে সেই সমস্ত কথা শুনে রেনুমা রেনুমা সে আঘাত পান ওদের বাড়ি ছেড়ে চলে যান তারপর সমস্ত কথা বলার পর বাবা-মা দুজনে মিলেই বুকে ভীষণ মারধর করে তারপর বুকু রেগে গিয়ে বলে তোমরাই তো বলছিলে যে সব সময় সত্যি কথা বলতে এখন আবার মারছো কেন তাহলে কি করে বুঝবো সত্যি কথা বলতে হবে না মিথ্যা কথা বলব

 

হাতে কলমে

১.১ আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম ‘সুবর্ণলতা’ ও ‘বকুলকথা’।

১.২ আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য কোন কোন বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন?

উত্তর- আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য ‘রবীন্দ্রপুরস্কার’, ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’, ‘লীলা পুরস্কার’, ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার’ প্রভৃতি অর্জন করেন।

২. একটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১ বুকু কোথায় বসে খেলা করছিল?

উত্তর- বুকু বাড়ির বাইরের রোয়াকে বসে খেলা করছিল।

২.২ রিকশা থেকে কারা নামলেন?

উত্তর- রিকশা থেকে দুজন মোটাসোটা ভদ্রমহিলা নামলেন, যাঁরা সম্পর্কে বুকুর মায়ের মাসি–ছেনুমাসি ও বেণুমাসি।

২.৩ ডাম্বল আলমারি ভেঙে কার বই নামিয়েছিল?

 উত্তর- ডাম্বল আলমারি ভেঙে বুকুর সেজো কাকার বই নামিয়েছিল।

২.৪ বুকুর মা-র কী কেনা ছিল?

উত্তর- বুকুর মায়ের সিনেমার টিকিট কেনা ছিল।

২.৫ বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা অতিথিদের জন্যে কী কী খাবার নিয়ে আসে?

উত্তর- বুকু আর বুকুর সেজোখুড়িমা অতিথিদের জন্য চা আর খাবার নিয়ে আসেন, যে খাবারের মধ্যে ছিল বড়ো বড়ো রাজভোগ, ভালো ভালো সন্দেশ, সিঙাড়া, নিমকি।

২.৬ বুকু কোন স্কুলে ভরতি হয়েছিল?

উত্তর- বুকু যে স্কুলে ভরতি হয়েছিল তার নাম ‘আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

 ৩.১ বুকু খেলতে খেলতে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় কেন?

উত্তর- গল্পে বুকু খেলতে খেলতে হঠাৎ তাকিয়ে দেখে যে রিকশা থেকে, দুজন বেজায় মোটাসোটা ভদ্রমহিলা আর একজন তারই বয়সের ছেলে নেমে আসে। তারও স্বাস্থ্য নেহাৎ রোগা নয়। রিকশার এতটুকু খোলের মধ্যে কী করে এদের জায়গা হয়েছিল তা ভেবে বুকু অবাক হয়ে যায়।

৩.২ ‘সিঁড়ি ভেঙে আর উঠতে পারব না বাবা’—কারা একথা বলেছেন? তাঁরা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারবেন না কেন?

উত্তর- বুকুদের বাড়িতে আসা তার মায়ের মাসিরা একথা বলেছিল। সিঁড়ি ভেঙে তিনতলায় উঠতে না পাবার কারণ হিসেবে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে দুতিনবার বাস বদলে ও শেষপর্যন্ত রিকশা চড়াকে দায়ী করেন।

৩.৩ ও কী! কী কাণ্ড করেছ তুমি’—কে, কী কাণ্ড করেছে?

 উত্তর- গল্পে বেণুমাসির ছেলে ডাম্বল বুঝুদের বাড়িতে বেড়াতে এসে বুকুর সেজোকাকার আলমারি ভেঙে বই নামিয়েছিল। এখানে সেই কাণ্ডের কথাই বলা হয়েছে। তার কান্ড দেখে বুঝু তাকে একথা বলেছিল।

৩.৪ বুকু অবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল কেন?

উত্তর- বুকুর মা বাড়িতে আসা অতিথি অভ্যাগতদের অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজের প্রভূত আনন্দের কথা প্রকাশ করেন। তখন বুকু মার কথা শুনে ফ্যালফ্যাল করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার এমনভাবে তাকিয়ে থাকার কারণ, একটু আগেই তার মা যেসব কথা বলেছিলেন, তার সঙ্গে এখন বলা কথার সে কোনো মিল খুঁজে পায়নি।

৩.৫ ‘ছেলের কথা শুনেই বুকুর মার মাথায় বজ্রাঘাত’——ছেলের কথা শুনে বুকুর মার মাথায় বজ্রাঘাত হলো কেন?

উত্তর- গল্পে বুকুর মা অতিথিদের আড়ালে একরকম এবং সামনে আর এক রকম কথা বলেছেন। বুকু তার এই দ্বিচারিতাটি স্পষ্ট করে দেয়। তার মা যখন সামনে বলেন—’কী আনন্দ যে হচ্ছে কী করে বলব। তখন বুকু বলে ওঠে—এইমাত্র যে বললে বাবারে শুনে গা জ্বলে গেল। অসময়ে লোক বেড়াতে আসা’ সত্যি ঘটনাটা এইভাবে প্রকাশ পেতে যেন বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো।

৩.৬ ডাম্বলকে ইস্কুলে ভরতি করা হয়নি কেন?

উত্তর- ডাঙ্গলকে ইস্কুলে ভরতি না করার ব্যাখ্যা সে নিজের ভাষাতেই দিয়েছে। তার ভাষায় তার বাবা অত্যন্ত কৃপণ। – সাত বছরের ছেলের স্কুলের মাইনে সাত টাকা—একথা শুনেই তিনি ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর চিন্তা ছেড়ে দিয়েছেন। তার মতে, ছেলের আর পড়ে দরকার নেই, চাষবাস করে খাবে।

৩.৭ কে জানে পাগলা টাগলা হয়ে যাবে নাকি’—কার সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে? এমন সন্দেহের কারণ কী?

উত্তর- গল্পে ছ’বছরের ছোটো ছেলে বুকুর সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে। মন্তব্যটি করেছেন তার মা। যখন ডাম্বলের আচরণ দেখে আর কথাবার্তা শুনে ছেনুমাসি ডাম্বলের মাকে বলেন— কী পাকা পাকা কথা শিখেছে। ছেলের মুখে যেন খই ফুটছে, তখন বেণুমাসি বলেন আজকালকার সব ছেলেই ওই রকম। একথা বলে তিনি বুকুর তুলনা টেনে আনলে লজ্জায় অপমানে প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে বুকুর মা একথা বলেছিলেন।

৩.৮ দুজনে মিলে চেঁচান, ‘বল, বল কেন ওসব বললি?’—বুকু কেন ওসব বলেছিল?

উত্তর- ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকু পরিবারে এই শিক্ষা পেয়েছিল। এমনকি গল্পের ঘটনার দিনের দুপুর বেলাতেও, যে সবসময় সত্যি কথা বলতে হবে, কারোর কাছে কিছু লুকোনো উচিত নয়। এই কথাকে মর্যাদা দিয়ে সে সমস্ত গোপন অথচ সত্যি কথাকে অকপটে সবার সামনে বলে দিয়ে সমস্যা তৈরি করেছিল। অকারণেই তাকে মা-বাবার প্রবল শাসন সহ্য করতে হয়েছে। বাইরের লোকের কাছে অপদস্থ হয়ে তার মা-বাবা, যখন পেটাতে পেটাতে অস্থির করে তোলেন, তখনই তারা চিৎকার করে একথা জানতে চান যে কেন সে ওসব কথা বলেছিল।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর দাও :

৪.১ গল্পে বুকুর আচরণ তাঁর মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বুকুর এই আচরণ কি তুমি সমর্থন করো? বুকু কেন অমন আচরণ অতিথিদের সামনে করেছিল?

উত্তর- ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকুর আচরণ তার মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তবু বুকুর এই আচরণকে আমি সমর্থন করি। বুকু যে আচরণটি অতিথিদের সামনে করেছিল, তার শিক্ষা সে তার পরিবারের থেকেই পেয়েছে। সব সময় সত্যি কথা বলা, কারোর কাছে কোনো পরিস্থিতিতেই কোনো কথা না লুকানোর যে সুশিক্ষা সে পেয়েছে তাকে আমার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। অপ্রিয় সত্যভাষণে যে সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা যে কখনও মা-বাবাকে লজ্জা বা অস্বস্তিতে ফেলতে পারে তা ছ’বছরের ছোটো ছেলে বুকু বুঝতে পারেনি। মা-বাবার যৌথ শাসনে কোনঠাসা বুকু তাই – আর্তনাদ করে উঠেছে এই কথা বলে – ‘কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে। গল্পে প্রকৃতপক্ষে মা-বাবা তাদের নিজেদের আচরণের দ্বন্দ্বটিকে বুকুর ওপর আরোপ করে তাকে শাসন করেছেন। তাদের দেওয়া শিক্ষার সঙ্গে তাদের নিজেদের আচরণের সঙ্গতি থাকলে বুকুকে এমন অত্যাচার সহ্য করতে হত না।

৪.২ বাড়িতে অতিথি এলে তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত সে সম্পর্কে বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।

কলকাতা-১২

১৬.১১.2১

প্রিয় শমী,

তুই নিশ্চয়ই খুব ভালো আছিস। তোকে একটা মজার খবর দিই। আজ সকালবেলা হঠাৎ নুরুলকাক, শবনম কাকিমা, মধুবন আর যৌবন আমাদের বাড়িতে এসে হাজির। সে এক বিরাট হইচই। আমার তো আনন্দ আর ধরে না। যৌবন দেখি ওইটুকুনিই আছে। শুধু একটু লম্বা হয়েছে। মা আর বাবা নুরুলকাকুকে বলল যে আজ সারাদিন আমরা একসঙ্গেই কাটাব। কোনো তাড়াহুড়ো চলবে না। আর যেহেতু এখন শীতকাল, তাই বাড়ির ছাদে পিকনিক হবে। আরও একটা মজার জিনিস ঠিক হলো। মা আর শবনম কাকিমা বাজার করবে। বাবা আর নুরুল কাকু রাঁধবে। যেমন বলা তেমন কাজ। আমি আর মধুবন কম্পিউটার চালিয়ে প্রথমে ‘সোনার কেল্লা’ দেখলাম। তারপর আমাদের দার্জিলিং বেড়াবার ছবি দেখলাম। যৌবন অনেক নাচ দেখালো। ও তো এখন স্কুলে যায়। ওর স্কুলের গল্পও শুনলাম অনেক। মা বাজার থেকে আমাদের সবার জন্য খেলনা কিনে এনেছিল। ওগুলো নিয়েও অনেকক্ষণ খেললাম। সন্ধেবেলা ওরা সবাই আমাদের বাড়ি থেকে ফিরে গেল। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। বাবা-মা বারবার বলল ওদের আবার আসতে। ঠিক হলো আগামী গরমের ছুটিতে আমরা একসঙ্গে ওদের বাড়ি বেড়াতে যাব। হঠাৎ করে আমাদের কত আনন্দ হলো বল। তোরা করে এখানে আসবি? তাড়াতাড়ি একদিন আয়। খুব আনন্দ হবে।

ইতি তোর

শঙ্খমালা দাস

৪.৩ ‘কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে’—গল্পে বুকু এই কথা বলেছিল।—আসলে কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয়?

উত্তর- ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বাড়িতে আসা অতিথিদের সামনে অপ্রিয় হলেও সত্যি কথা বুকু বলেছিল। এতেই সে মা-বাবার বিরাগভাজন হয়ে ওঠে এবং অতিথিরা চলে যাবার পর প্রথমে মা এবং তারপর মা-বাবা দুজনে মিলে তাকে মারধোর শুরু করে। তাদের মনে হয়েছে এইভাবে কথা বলে বুকু বাইরের লোকের কাছে তাদের অপদস্থ করেছে এবং সে কারণেই তারা বুকুর তেমন শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। চোখের জলে ভাসতে ভাসতে গল্পের শেষে বুকু বলে যে সে বুঝতে পারেনি আসলে কী করতে হবে। বাবা-মার শিক্ষার সঙ্গে ব্যবহারের যে তারতম্য—আসলে সেটি তাকে বুঝতে দেয়নি যে তাকে কী করতে হবে। আসলে যা করা উচিত বলে আমার মনে হয় সেটি হলো বড়োদের কথার মধ্যে ছোটোদের খুব বেশি কথা না বলতে যাওয়া। বুকুর যদি একটি নিজস্ব জগৎ থাকত তাহলে সেও হয়তো এমনভাবে নানা কথার জালে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ত না। এরই সঙ্গে মা-বাবারও উচিত ছেলেমেয়েকে অতিরিক্ত সোহাগ কিংবা অপরিমিত শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ না রাখা। গল্পে কোনো চরিত্রই তাদের কথা ও কাজের মধ্যে আত্মীয়তা গড়ে তুলতে পারেনি। তাই আমার মনে হয় নিজস্ব পছন্দ কিংবা অপছন্দের জায়গাটি তৈরি করে নিয়ে স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী যুক্তি দিয়ে নিজের মতামতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলে জীবনে অনেকক্ষেত্রেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে নিছক বড়ো হওয়ার কারণেই ছোটোদের দমিয়ে রাখা বা শরীরের জোর প্রকাশ করে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করা অনুচিত।

৪.৪ গল্পে দুটি ছোটো ছেলের কথা পড়লে–বুকু আর ডাম্বল। দুজনের প্রকৃতিগত মিল বা অমিল নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর- ‘কী করে বুঝব’ গল্পে দুটি ছোটো ছেলের কথা রয়েছে। – একজন বছর ছয়েকের – বুকু। আর একজন সাত বছরের ডাম্বল। গল্পের শুরুতে বুকুর নাটকীয় উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তার অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা, কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ানো, তলিয়ে ভেবে নেওয়া, গম্ভীরভাবে ঘড়ির পেন্ডুলামের মতন মাথা নাড়ানো, কখনও বিজ্ঞের মতো, আবার কখনও বা মজার কথা বলার মধ্য দিয়ে লেখিকা স্বল্প পরিসরে সুন্দরভাবে তার চরিত্র অঙ্কন করেছেন। আর তারই বিপরীতে অবস্থান করছে ডাম্বল। মায়ের স্নেহমিশ্রিত প্রশ্রয়ে উত্তরপাড়ার থেকে সুদূর ভবানীপুরে এসে অপরিচিত পরিবেশে দুর্দান্ত দামালপনায় সকলকে অস্থির করে তুলেছে। চেয়ারে বসার বদলে কনুই-এর ধাক্কায় চেয়ার উলটে ফেলেছে। টেবিলের ঢাকনা কুঁচকে টেনে ঝুলিয়ে দিয়েছে। টেবিলের ওপরের খাতা-পত্র এলোমেলো করে দিয়েছে। আলমারি ভেঙে বই বার করে মাটিতে ফেলে ছড়িয়েছে।

জানলার ধাপে বসে পা দুলিয়েছে। তার অসভ্যতার জবাব বুকুও দিয়েছে তার চটুল কথাবার্তার মধ্য দিয়ে। সে কারণেই আমার দু’জনের মধ্যে বুকুকে অনেক বেশি ভালো লেগেছে।

৪.৫ গল্পটি পড়ে বুকুর প্রতি তোমার সহানুভূতির কথা ব্যক্ত করে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।

উত্তর- ‘কী করে বুঝব’ গল্পটা পড়তে পড়তে আমার নিজেকে বুকুর মতোই মনে হচ্ছিল। আমার নিজের জীবনেও এমন অভিজ্ঞতা অনেকবারই ঘটেছে। এমন কত কথাই আমরা শুনি। সেগুলো সবাইকে বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তা বলা যায় না। আমরা সেগুলো মনে রেখে দিই। কারণ, ওগুলো বললেই নাকি নানা সমস্যা সৃষ্টি হবে। বাবা-মা অবশ্য ঠিক বুকুর বাবা-মা এর মতোই আমাকেও বলে সবসময় সত্যি কথা বলতে। কিছু কথা না লুকোতে। আবার সেগুলো বললেই দেখি সমস্যা। কী করি আমরা? বুকুর মতো স্পষ্টবাদী মানুষই আজকের সময়ে প্রয়োজন। কিন্তু সে আর আমরা পাচ্ছি। কই? সত্যবাদী আর স্পষ্টবাদী হবার জন্যই তো বুকুকে শাস্তি পেতে হলো। তা হোক গে। তবু সত্যি কথা বলাই দরকার। তাতে যদি তাৎক্ষণিক একটু শাস্তিও কপালে জোটে তাতেও কোনো ক্ষতি নেই। আখেরে তাতে লাভই হয়। তাই গল্পের বুকুর প্রতিই আমাদের সমর্থন রইল।

৫. একই অর্থযুক্ত শব্দ গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো : সংবাদ, পুস্তক, সন্তুষ্ট, কোমল, আপ্যায়ন।

উত্তর-

সংবাদ – খবর
কোমল- শান্ত/নরম
পুস্তক – বই
সন্তুষ্ট– প্রসন্ন
আপ্যায়ন – অভ্যর্থনা।

৬. নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো : ইত্যবসরে, বজ্রাঘাত,ব্যাকুল, নিশ্চয়, রান্না, দুরন্ত, সন্দেশ।

উত্তর-

ইত্যবসরে = ইতি + অবসরে
নিশ্চয় = নিঃ + চয়
সন্দেশ = সম্ + দেশ
বজ্রাঘাত = বজ্র + আঘাত
ব্যাকুল = বি + আকুল
রান্না = রাধু + না।
দুরন্ত = দুঃ + অন্ত

৭. নীচের শব্দগুলির কোনটি বিশেষ্য এবং কোনটি বিশেষণ খুঁজে নিয়ে লেখো। এরপর বিশেষ্যগুলির বিশেষণের রূপ এবং বিশেষণগুলির বিশেষ্যের রূপ লেখো : মন, শিক্ষা, অবস্থা, গম্ভীর, শাসন, শয়তান, লাল, সর্বনেশে, ঘর, সুন্দর, দুরন্ত, মুখ, কথা, হ্যাংলা

উত্তর-

বিশেষ্যবিশেষণ
মনমানসিক
সর্বনাশসর্বনেশে
শিক্ষাশিক্ষণীয়
ঘরঘরোয়া
অবস্থানঅবস্থানগত
সৌন্দর্যসুন্দর
গাম্ভীৰ্য্যগম্ভীর
দুরন্তপনাদুরন্ত
শাসনশাসিত
মুখমৌখিক
শয়তানিশয়তান
কথাকথিত
লালিমালাল
হ্যাংলামিহ্যাংলা

৮. নীচের প্রতিটি উপসর্গ দিয়ে পাঁচটি করে নতুন শব্দ তৈরি করে লেখো : অ, বি, বে, আ, প্র, অব

উত্তর-

অ— অবোধ, অবাধ, অসাধ্য, অগম্য, অখুশি।
বি- বিরাগ, বিশেষ, বিরুপ, বিজয়, বিপ্লব।
বে– বেনাম, বেফাস, বেনজির, বেতাল, বেরসিক।
আ— আকাট, আকর্ণ, আকুল, আবাল্য, আগমন।
প্র— প্রদেশ, প্রবল, প্রযুক্ত, প্রবাস, প্রবেশ।

৯. সমোচ্চারিত/প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ লিখে আলাদা আলাদা বাক্য রচনা করো।

উত্তর-

আসা (আগমন) — নদীর পাড়টা সুন্দর হওয়ায় এখন সেখানে মানুষের আসা-যাওয়া বেড়েছে।
আশা (প্রত্যাশা) – আমাদের শিক্ষক মহাশয়রা আমাদের নিয়ে অনেক কিছু আশা করেন।
মার (কাউকে শাস্তি দেবার উদ্দেশ্যে আঘাত করা) — মার খেলেও বুকুর সবসময়ে সত্যি কথাই বলা উচিত।
মাড় (মণ্ড) – ঝকঝকে আকাশ দেখে মা তার সব শাড়িতে মাড় দিলেন।
সোনা (মূল্যবান ধাতু) – পাকা ধানের রং সোনার মতন সুন্দর।
শোনা (শ্রবণ করা) – শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথা মন দিয়ে শোনা দরকার।
মাস (৩০ দিন বা চার সপ্তাহকাল নিয়ে এক মাস) – ফাল্গুন আর চৈত্র এই দুই মাস বসন্তকাল।
মাষ (এক প্রকার ডাল) – এবারে মাষকলাই-এর চাষ খুব ভালো হয়েছে।
হাড় (অস্থি) – এবারের শীতে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়ল।
হার (গলায় পরার গহনা) – আমি মেলায় গিয়ে সুন্দর একটি হার কিনলাম।
হার (পরাজয়) – নেতাজি ছিলেন একজন হার না মানা মানুষ।
জ্বালা (জ্বলন) – এ জ্বালা আমার একার নয়।
জালা (জল রাখার মাটির পাত্র) – আমার মা বৃষ্টির জল জালায় ধরে রাখেন।

১০. এই গল্পে অজস্র শব্দদ্বৈত ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দগুলি গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো : (দুটি শব্দ খুজে দেওয়া হলো)

উত্তর- খুকখুক, তোড়জোড়, মোটাসোটা, পিটপিট, ড্যাবড্যাব, গমগম, হইহই, হুড়মুড়, ঝনঝন, ফ্যালফ্যাল। খুকখুক, তোড়জোড়।

১১. নীচের বাক্যগুলি থেকে সংখ্যাবাচক / পূরণবাচক শব্দ খুঁজে বার করো।

১১.১ মা তো সেই তিনতলার ছাতে।

 উত্তর- তিনতলা সংখ্যাবাচক শব্দ।

১১.২ দুই বোনের দুই দুগুণে চারটি চোখ কপালে উঠে গেছে।

উত্তর- দুই বোন – সংখ্যাবাচক শব্দ।

১১.৩ সাত বছরের ছেলের ইস্কুলের মাইনে সাত টাকা।

উত্তর- সাত বছর, সাত টাকা – সংখ্যাবাচক শব্দ।

১১.৪ নিজেই তো দুপুরবেলা একশো বার করে বললে—সবসময় সত্যি কথা বলবি।

উত্তর- একশো—সংখ্যাবাচক শব্দ।

১২. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো :

১২.১ বুকু ছুটে ওপরে চলে যায়। (জটিল বাক্যে)

উত্তর- বুকু যখন ওপরে যাবার জন্য ছোটে তখন ওপরে চলে যায়।

১২.২ ছেনুমাসি আর অন্যটির নাম বেণুমাসি। (সরল বাক্যে)

উত্তর- দুজনের নাম ছেনুমাসি আর রেণুমাসি।

১২.৩ যত বড়ো হচ্ছে তত যেন যা তা হয়ে যাচ্ছে। (যৌগিক বাক্যে)

উত্তর- সে বড়ো হচ্ছে এবং যা-তা হয়ে যাচ্ছে।

১২.৪ ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত। (জটিল বাক্যে)

উত্তর- যখন ছেলের কথা শুনলেন তখন বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো।

১৩. পাকা, মাথা—এই শব্দগুলির প্রত্যেকটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্য লেখো।

উত্তর-

পাকা – ডাম্বলের মতো পাকা ছেলে কেউ ভালোবাসে না।
পাকা – এই ঘটনার পেছনে কোনো পাকা মাথা রয়েছে।
মাথা – ফেলুদার মাথায় অনেক বুদ্ধি।
মাথা – শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে নেতাজির সুন্দর মূর্তি আছে।

 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১. বুকু দের বাড়িতে কে এসেছিল?

উত্তর- বকু দের বাড়ি বুকুর মায়ের দূর সম্পর্কের দুজন পিসি এসেছিল

২. বকুর বাড়ি কোথায় ?

উত্তর- বকুর বাড়ি ভবানীপুর |

৩.  ডাম্বেল কার ছেলে ?

উত্তর- ডাম্বেল বকুর মায়ের বেনু পিসিমার ছেলে

৪. বিকেল বেলা বুধের কোথায় যাবার কথা ছিল?

উত্তর-  বিকেলবেলা  সিনেমা দেখতে যাবার কথা ছিল|

৫. বকুকি দেখে অবাক হয়ে গেছিল?

উত্তর- বকুর মায়ের দুজন পিসি ও তার মোটা ছেলে কিভাবে একটি রিকশায় তাদের বাড়িতে এলো সেটি দেখে অবাক হয়ে গেছিল|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top