Class 9 Bangla কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

কবি পরিচিতিঃ

কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর জন্মস্থান বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামে। কবির পিতার নাম হৃদয় মিশ্র ও মাতার নাম দৈবকী। কবি মুকুন্দের ছেলের নাম শিবরাম। কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটির নাম হিসাবে ‘অভয়ামঙ্গল’, ‘অম্বিকামঙ্গল’, কবিকঙ্কন চন্ডী ইত্যাদি নাম পাওয়া যায়।

 

সারাংশঃ

কলিঙ্গের আকাশে ঘন মেঘে চতুর্দিক অন্ধকারাচ্ছন্ন। অন্ধকার এতটাই গাঢ় যে কলিঙ্গবাসীরা নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছে না। ঈশান অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব কোণে মেঘের সাথে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। উত্তরের প্রবল বাতাসে মেঘের গম্ভীর গর্জন শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে যায় এবং মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। সমগ্র কলিঙ্গদেশ মেঘের গম্ভীর শব্দে কেঁপে ওঠে। প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ঘনঘন মেঘের গর্জনের সঙ্গে ঝড়ের তান্ডব চলতে থাকে। বিপদের আশংকায় প্রজারা বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে শুরু করে। ঝড়ের তাণ্ডবে খেতের ফসল নষ্ট হতে দেখে প্রজারা ভয় পায়। মনে হয় আটটি বিশাল হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সমগ্র কলিঙ্গদেশকে ভাসিয়ে দিতে চায়। চারিদিকে অন্ধকার হয়ে থাকায় কলিঙ্গবাসী দিন-রাত্রির পার্থক্যটাও বুঝতে পারে না। সকল কলিঙ্গবাসী বিপদ থেকে উদ্ধার হতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। আশ্রয় হারিয়ে গর্ত ছেড়ে সাপ জলে ভেসে বেড়ায়। সাত দিন টানা বৃষ্টিতে শস্য, ঘরবাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো শিল ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়তে থাকে। দেবী চন্ডীর আদেশে বীর হনুমান সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেন। পর্বতের মতো বিশাল উঁচু জলের ঢেউয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। নদনদীগুলির জলে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শ্রীকবিকঙ্কন তাঁর “অম্বিকামঙ্গল”-এ এই ধ্বংসের কাহিনি গান আকারে শোনান।

 

বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নাবলী

১. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটি কোন্ মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
(ক) চণ্ডীমঙ্গল
(খ) মনসামঙ্গল
(গ) ধর্মমঙ্গল
(ঘ) শিবমঙ্গল

উত্তরঃচণ্ডীমঙ্গল।

২. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটির রচয়িতা—
(ক) মুকুন্দ চক্রবর্তী
(খ) দ্বিজ মাধব
(গ) মুক্তারাম সেন
(ঘ) মানিক দত্ত

উত্তরঃমুকুন্দ চক্রবর্তী।

৩. কবিতার ভণিতায় উল্লিখিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এর অন্য নাম
(ক) কলিঙ্গমঙ্গল
(খ) মুকুন্দমঙ্গল
(গ) অম্বিকামঙ্গল
(ঘ) চণ্ডীগান

উত্তরঃঅম্বিকামঙ্গল।

৪. মুকুন্দ চক্রবর্তী কোন্ উপাধি পেয়েছিলেন?
(ক) মঙ্গল কবি
(খ) কঙ্কণ কবি
(গ) কবিকঙ্কণ
(ঘ) চণ্ডীমঙ্গলের কবি

উত্তরঃকবিকঙ্কন।

৫. ‘মেঘে কৈল অন্ধকার’—ফলে কী হল?
(ক) কেউ কারোর শরীর দেখতে পাচ্ছিল না
(খ) কেউ নিজের শরীর দেখতে পাচ্ছিল না
(গ) সবাই দিনকেই রাত ভাবছিল
(ঘ) কেউ নিজের বাড়ি দেখতে পাচ্ছিল না

উত্তরঃকেউ নিজের শরীর দেখতে পাচ্ছিল না।

৬. ‘মেঘে কৈল অন্ধকার’ – বাক্যটি কবিতায় কতবার আছে?
(ক) একবার
(খ) তিনবার
(গ) দুইবার
(ঘ) একবারও না

উত্তরঃদুইবার।

৭. ‘ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।’—এখানে ‘চিকুর’ বলতে বোঝানো হয়েছে
(ক) আকাশকে
(খ) বিদ্যুৎকে
(গ) বাতাসকে
(ঘ) কোনোটিই নয়।

উত্তরঃবিদ্যুৎকে।

৮. ____ উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।’ (শূন্যস্থান পূরণ করো)
(ক) নৈঋতে
(খ) ঈশানে
(গ) গগনে
(ঘ) বায়ুতে।

উত্তরঃঈশানে।

৯. চারি মেঘে বর্ষণ হচ্ছিল—
(ক) ভয়ংকর বেগে
(খ) মুষলধারে
(গ) উচ্চনাদে
(ঘ) অল্প বেগে।

উত্তরঃমুষলধারে।

১০. ‘মুষলধারে’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) গদা
(খ) পেষণদণ্ড
(গ) অত্যন্ত মোটা ধারায়
(ঘ) অত্যন্ত বেগে।

উত্তরঃঅত্যন্ত বেগে।

১১. কবিতায় কোন্ দেশের ঝড়-বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে?
(ক) বঙ্গদেশ
(খ) অঙ্গদেশ
(গ) কলিঙ্গদেশ
(ঘ) উত্তর দেশ।

উত্তরঃকলিঙ্গদেশ।

১২. নিরবধি কতদিন নিরন্তর বৃষ্টি হল?
(ক) তিনদিন
(খ) একমাস 
(গ) পাঁচদিন
(ঘ) সাতদিন।

উত্তরঃসাত দিন।

১৩. ___ কাৰ্য্য হেজ্যা গেল ঘর।।’
(ক) কলিঙ্গ প্রজার
(খ) বীর হনুমানের
(গ) আছুক শস্যের
(ঘ) নদনদীগণের।

উত্তরঃআছুক শস্যের।

১৪. ‘মেঝ্যাতে পড়য়ে শিল ___।’
(ক) বৃষ্টি নিরন্তর
(খ) যেন পাকা তাল
(গ) কলিঙ্গ-মণ্ডলে।
(ঘ) বিদারিয়া চাল                                                                                                                   

উত্তরঃবিদারিয়া চাল।

১৫. শিলগুলির আকার কেমন ছিল?
(ক) ছোটো শস্যদানার মতো
(খ) বড়ো বড়ো পাথর আকৃতি
(গ) ভাদ্রের তালের মতো
(ঘ) পর্বত সমান।

উত্তরঃভাদ্রের তালের মতো।

১৬. কোন্ মাসে তাল পড়ে?
(ক) বৈশাখ
(খ) কার্তিক
(গ) ফাল্গুন
(ঘ) ভাদ্র।

উত্তরঃভাদ্র।

১৭. কে চণ্ডীর আদেশ পান?
(ক) কবি চণ্ডীদাস
(খ) কলিঙ্গের রাজা
(গ) বীর হনুমান
(ঘ) কলিঙ্গের প্রজারা।

উত্তরঃবীর হনুমান।

১৮. বীর হনুমান কী করেন?
(ক) বৃষ্টি থামিয়ে দেন
(খ) মঠ অট্টালিকা ভেঙে খান খান করেন
(গ) প্রলয় থামান
(ঘ) চণ্ডীর আদেশের অপেক্ষায় থাকেন।

উত্তরঃমঠ অট্টালিকা ভেঙে খান খান করেন।

১৯. – ঢেউগুলির আকার কেমন?
(ক) ছোটো ছোটো
(গ) বিশাল পর্বত সমান
(ঘ) ভয়ংকর আকৃতির।

উত্তরঃবিশাল পর্বত সমান।

২০. কী দলমল করচ্ছিল?
(ক) পর্বত
(খ) মঠ-অট্টালিকা
(গ) মাঝারি আকৃতির
(ঘ) ঘরগুলি

উত্তরঃঘরগুলি।

২১. হনুমান এবং আর কাদের চণ্ডী আদেশ দিয়েছিলেন?
(ক) বিশাল পর্বতদের
(খ) ভুজঙ্গদের
(গ) কলিঙ্গ প্রজাদের
(ঘ) নদনদীদের।

উত্তরঃনদনদীদের।

২২. কে অম্বিকামঙ্গল গান?
(ক) মঙ্গলকাব্যের কবি
(খ) চণ্ডীদাস
(গ) শ্রীকবিকঙ্কণ
(ঘ) বীর হনুমান।

উত্তরঃশ্রীকবিকঙ্কণ।

২৩. কবিতার শেষে কবির নামোল্লেখকে কী বলা হয়?
(ক) বণিতা
(খ) অহংকার
(গ) প্রকাশ
(ঘ) ভণিতা।

উত্তরঃ- ভণিতা।

 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর

. “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশটি কার লেখা, কোন কাব্যের অন্তর্গত?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশটি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত “অম্বিকামঙ্গল” কাব্যের অন্তর্গত।

. “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশের কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি কী?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশের কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি কবিকঙ্কণ।

. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার” । – “আপনার” বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ ‘আপনার’ বলতে কলিঙ্গবাসীর কথা বোঝানো হয়েছে।

. “চিকুর” শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ “চিকুর” শব্দের অর্থ বিদ্যুতের ঝিলিক।

. “… বেঙ্গ-তড়কা বাজ” । – “তড়কা” কী?

উত্তরঃ তড়কা অর্থাৎ লাফিয়ে পড়া।

. “করি-কর সমান বরিষে জলধারা”। – “করিকর” শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ “করিকর” শব্দের অর্থ হাতির শুঁড়।

. “জলে মহী একাকার” হওয়ার ফলে কী হল?

উত্তরঃ “জলে মহী একাকার” হওয়ার ফলে পথ হারাল।

. ঝড়বৃষ্টির বিপদে কলিঙ্গবাসী কাকে স্মরণ করেছে?

উত্তরঃ ঝড়বৃষ্টির বিপদে কলিঙ্গবাসী জৈমিনিকে স্মরণ করেছে।

. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি”। – “সোঙরে” শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ সোঙরে শব্দের অর্থ স্মরণ করা।

১০. উচ্চনাদে কলিঙ্গে কীসের ডাক শোনা গিয়েছে?

উত্তরঃ ঘন মেঘাচ্ছন্ন কলিঙ্গের আকাশে উচ্চনাদে মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জন শোনা গিয়েছে।

১১. চারদিকে মেঘে জল দেয় কারা?

উত্তরঃ কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় চারদিকে মেঘে জল দিয়েছিল “অষ্ট গজরাজ”।

১২. জলধারার বর্ষণকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

উত্তরঃ জলধারার বর্ষণকে করি-কর অর্থাৎ হাতির শুঁড় দ্বারা জল বর্ষণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

১৩. গর্ত ছেড়ে কারা জলে ভেসে বেড়াচ্ছে?

উত্তরঃ প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হওয়ায় গর্ত ছেড়ে সাপ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে।

১৪. “উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল”। – এর কারণ কী?

উত্তরঃ পর্বততুল্য নদীর ঢেউ-এর দাপটে কলিঙ্গদেশের বাড়িঘর জলে ভাসতে ভাসতে টলমল করছিল।

১৫. শ্রীকবিকঙ্কন কী গান গেয়েছেন?

উত্তরঃ শ্রীকবিকঙ্কন মুকুন্দ চক্রবর্তী অম্বিকামঙ্গল গান গেয়েছেন।

১৬. ‘অম্বিকামঙ্গল’ মঙ্গলকাব্য ধারার কোন কাব্যের নাম?

উত্তরঃ- কবিকঙ্কন মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত “অম্বিকামঙ্গল” চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের নাম।

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর

. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার”। – কারোর অঙ্গ দেখতে না পাওয়ার কারণ কী?

উত্তরঃ কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দেয়, আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কালো মেঘের বুক চিরে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। চারদিকে কালোমেঘের ফলে সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। অন্ধকার এতটাই গাঢ় হয়ে ওঠে যে, কলিঙ্গবাসী নিজেদের চেহারা দেখতে পাচ্ছিলেন না।

. “ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর” । – উদ্ধৃতাংশটির অর্থ কী?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশের উদ্ধৃতাংশটিতে প্রবল বিপর্যয়ের বর্ণনা করা হয়েছে। কলিঙ্গদেশে আকাশের উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ ঈশান কোণে কালো মেঘে চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সেই মেঘের বুক চিরে বিদ্যুতের ঝিলিক পরিস্থিতিকে আরোও ভয়াবহ করে তোলে।

. “নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মন্ডল” । – গগন মন্ডলে মেঘ জুড়ে কী হল?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটিতে কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ ঝড়বৃষ্টির বর্ণনা করা হয়েছে। ‘নিমিষেকে’ অর্থাৎ মুহূর্তের মধ্যে কলিঙ্গের আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ঈশান কোণে ঘন অন্ধকারের মধ্যে বিদ্যুতের ঝলকে আকাশ জুড়ে কালো মেঘের সমাবেশে চারদিক অন্ধকারে ঢাকা পড়ে।   

. “চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল”। – মুষলধারে জল বর্ষণের কারণ কী?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশের উদ্ধৃতাংশটিতে কলিঙ্গদেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বর্ণনা করা হয়েছে। হঠাৎই কলিঙ্গদেশের আকাশ ঘন, কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং অন্ধকারে ঢেকে যায়। গাঢ় অন্ধকারে নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখতে পাননা কলিঙ্গবাসীরা। প্রবল মেঘের গর্জন ও ঘনঘন বিদ্যুতের ঝিলিকে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে সারা আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। তারপরই আকাশভাঙা মেঘে প্রবল বর্ষণ শুরু হয় কলিঙ্গদেশে।

. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ” । – প্রজাদের বিষাদের কারণ কী?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটিতে কলিঙ্গদেশের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে।

              কলিঙ্গদেশের আকাশ হঠাৎই ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং কলিঙ্গদেশে অন্ধকার নেমে আসে। উত্তরের প্রবল বাতাসে মেঘের গম্ভীর আওয়াজ ভেসে আসে। মেঘের প্রবল গর্জন ও ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। সেটারই ভয়ে প্রজারা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

. “জলে মহী একাকার পথ হইল হারা” । – কোথাকার পথ, কেন হারিয়ে গিয়েছে?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে কলিঙ্গদেশের পথ হারিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

              হঠাৎই কলিঙ্গদেশের আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় ও ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। মেঘের গর্জনের সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। মনে হয়, আট দিক থেকে আটটি দিক্-হস্তী তাদের শুঁড়ের সাহায্যে প্রবল বেগে জল বর্ষণ করে পৃথিবীকে যেন ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বৃষ্টিতে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তাই কলিঙ্গদেশের পথ হারিয়ে যায়।

. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি” । – কলিঙ্গবাসী জৈমিনিকে স্মরণ করেছে কেন?

উত্তরঃ“কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশে জৈমিনি হলেন এক বাকসিদ্ধ-ঋষি। এনার নাম স্মরণ করলে বজ্রপাত বন্ধ হয় এই বিশ্বাসে বজ্রপাতের সময় মানুষ এঁর নামকীর্তন করে।

              কলিঙ্গদেশে হঠাৎ আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। মেঘের গম্ভীর গর্জন, ঘনঘন বজ্রপাত, ঝড়ের প্রবল তাণ্ডবে ভয় পেয়ে কলিঙ্গবাসী ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করে এই বিপদ থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য।

. “না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ” । – কারা, কেন রবির কিরণ দেখতে পায়নি?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উপরের অংশটিতে কলিঙ্গবাসীর কথা বলা হয়েছে।

              কলিঙ্গদেশের আকাশ হঠাৎই বিপুল মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। মেঘের মাঝে বিদ্যুতের ঝলকে পুরো কলিঙ্গদেশ কেঁপে ওঠে। মেঘের গম্ভীর গর্জনের সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। কালো মেঘে চারদিক ঢেকে যাওয়ায় কলিঙ্গবাসীর পক্ষে দিনরাত্রির পার্থক্যও বোঝা সম্ভব হয় না। সাত দিন একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে তারা সূর্যের আলো দেখতে পায় না।

. “আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর” । – উদ্ধৃতাংশটির অর্থ কী?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশে কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে যে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তাঁর উল্লেখ প্রসঙ্গেই কথাটি বলা হয়েছে।

              কলিঙ্গদেশে সাতদিন ধরে প্রবল বর্ষণ, মেঘের গম্ভীর গর্জন ও ঝড়ের তাণ্ডব চলতে থাকে। ফলে সমগ্র দেশ প্লাবিত হয়, ফসল নষ্ট হয় এবং চাষের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাই কবি বলেছেন “আছুক শস্যের কার্য” । আবার, এই প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ভিজে মাটির ঘরগুলি ক্রমাগত কমজোরি হয়ে পড়ে। যেকোনো মুহূর্তেই ভেঙে পড়তে পারে এমন অবস্থা হয়ে যায়।

১০. “ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল” । – কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশে কলিঙ্গদেশে যে ভয়াবহ ঝড়বৃষ্টি হয়েছিল তার বর্ণনা করা হয়েছে। ঘন কালো মেঘের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় কলিঙ্গদেশে। টানা সাত দিনের অবিরাম বৃষ্টির সঙ্গে শিল পড়তে শুরু করে। ভাদ্র মাসে তাল পেকে যেমন গাছ পড়ে যায় ঠিক তেমনিভাবে অত্যন্ত বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ে প্রজাদের ঘরবাড়ি বিনষ্ট করে দেয়।

১১. চন্ডীর আদেশে কারা কীভাবে কলিঙ্গদেশের ধ্বংস ঘটিয়েছেন?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশের শেষ কয়েক স্তবকে মা চন্ডীর আদেশের উল্লেখ করা হয়েছে। মা চন্ডীর আদেশে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশের সমস্ত দেবালয় এবং বাসগৃহ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। মা চণ্ডীরই আদেশে কলিঙ্গের সমস্ত নদনদীগুলি ফুলে ফেঁপে উত্তাল হয়ে ওঠে এবং তাদের প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় সব বাড়িঘর ভেসে যায়। মনে হয় বাড়িঘরগুলি যেন ঢেউয়ের মাথায় উঠে টলমল করে ভাসছে।

১২. “চন্ডীর আদেশে ধায় নদনদীগণ” । – এর ফলে কী হয়েছে?

উত্তরঃ “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশে দেবী চন্ডীর আদেশে কলিঙ্গের নদনদীগুলি ফুলে ফেঁপে উঠে প্রবাহিত হয়েছে।

              দেবী চন্ডীর আদেশেই কলিঙ্গদেশে কালো ঘন মেঘের সমাবেশের সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি ও মুষুলধারায় বৃষ্টি হয়। সাতদিনের টানা বৃষ্টিতে সমস্ত কলিঙ্গদেশ প্লাবিত হয়। দেবী চন্ডীর নির্দেশেই আবার কলিঙ্গের সমস্ত নদনদীগুলি ফুলে ফেঁপে ধেয়ে আসে। নদনদীর ঢেউ-এর আঘাতে কলিঙ্গদেশের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়ে ঢেউয়ের মাথায় টলমল করতে থাকে।

 

রচনাধর্মী প্রশ্ন-উত্তর

. “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তরঃ নামকরণের মধ্য দিয়েই রচনার তাৎপর্য বোঝা যায়। কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত “চণ্ডীমঙ্গল” কাব্যের আখেটিক খন্ডের অন্তর্গত কাব্যাংশটির নাম “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি”।

              কলিঙ্গদেশে হঠাৎই ঈশান কোণে জমে থাকা মেঘ সারা আকাশে ছড়িয়ে পড়লে কলিঙ্গদেশে অন্ধকার নেমে আসে। কালো মেঘের মধ্যে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানিতে কেঁপে ওঠে কলিঙ্গদেশ। বিপদের আশংকায় ঘর ছেড়ে চলে যায় প্রজারা। সাত দিন টানা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে মেঘের গম্ভীর গর্জন, বজ্রপাত ও ঝড়ের তান্ডব চলতে থাকে। রাস্তাঘাট জলে যায়, চাষবাসের অনেক ক্ষতি হয়। শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে বাড়িঘর নষ্ট হয়ে যায়। দেবী চন্ডীর আদেশে নদনদী কলিঙ্গ নগরের দিকে পর্বতসমান ঢেউ হয়ে এগিয়ে আসে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেহেতু কাব্যাংশের পুরোটা জুড়ে আছে তাই নামকরণ যথার্থ ও সার্থক বলা যায়।

. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়” । – কোথাকার প্রজা? কী কারণে তারা বিপাকে পড়েছিল? তাদের পরিনতি কী হল?

উত্তরঃ মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” কাব্যাংশ থেকে গৃহীত আলোচ্য অংশে কলিঙ্গদেশের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে।

              কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। কলিঙ্গের আকাশ ছেয়ে যায় ঘন কালো মেঘে। মেঘের গভীর গর্জনের সঙ্গে বিদ্যুতের চমকে কেঁপে ওঠে আকাশ। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের গম্ভীর গর্জন ও ঝড়ের প্রবল তান্ডব শুরু হয়। বিপদের আশংকায় প্রজারা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে তাড়াতাড়ি পালাতে থাকে।

              সাত দিন টানা ঝড়বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গবাসীর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় পথ হারিয়ে যায় কলিঙ্গবাসীর। বিপদের আশংকায় প্রজারা বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে শুরু করে। ঝড়ের তাণ্ডবে খেতের ফসল নষ্ট হতে দেখে প্রজারা ভয় পায়। মনে হয় আটটি বিশাল হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সমগ্র কলিঙ্গদেশকে ভাসিয়ে দিতে চায়। চারিদিকে অন্ধকার হয়ে থাকায় কলিঙ্গবাসী দিন-রাত্রির পার্থক্যটাও বুঝতে পারে না। সকল কলিঙ্গবাসী বিপদ থেকে উদ্ধার হতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। আশ্রয় হারিয়ে গর্ত ছেড়ে সাপ জলে ভেসে বেড়ায়। সাত দিন টানা বৃষ্টিতে শস্য, ঘরবাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো শিল ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়তে থাকে। দেবী চন্ডীর আদেশে বীর হনুমান সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেন। পর্বতের মতো বিশাল উঁচু জলের ঢেউয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। নদনদীগুলির জলে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সাতদিন ব্যাপী ঝড়বৃষ্টির এই প্রবল তাণ্ডব কলিঙ্গদেশের জনজীবন বিপন্ন করে তোলে।

. ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।’ ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্যধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী। তাঁর রচিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি শীর্ষক নির্বাচিত অংশ থেকে উদ্ধৃত চরণটি গ্রহণ করা হয়েছে।

                কবি এই অংশটিতে কলিঙ্গরাজ্যে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের বর্ণনা ও তার ভয়ংকর পরিণতির ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।

     দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গরাজ্যে শুরু হয়েছিল ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ৷ এ দুর্যোগ যেন বিধ্বংসী প্রলয়েরই নামান্তর। আকাশ জুড়ে ঘন মেঘের আচ্ছাদনে, রাজ্যে নেমে এসেছিল ঘোর অন্ধকার। সাতদিনব্যাপী প্রবল বর্ষায় সমগ্র রাজ্য  প্লাবিত, জনজীবন বিপর্যস্ত, বিপুল শস্যহানি ঘটেছিল। সেই সঙ্গে ভয়ানক ঝড় ও বজ্রপাতে বিপন্নতার প্রকাশ আরও ভয়ংকর হয়েছিল। কবি এই অংশে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির বিষয়টিকে উপমা প্রয়োগের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টির ফলে কলিঙ্গরাজ্যের বহু মানুষের বাড়ির বা ঘরের চাল ভেঙে গেছে, এই প্রসঙ্গটি বলার সময় কবি শিলার আকারের বর্ণনা দিয়েছেন ভাদ্রমাসে মাঠে পড়ে থাকা তাল-এর সঙ্গে তুলনা করে। ভাদ্রমাসে তাল পড়ে। তাল আকারে বেশ বড়ো এবং ওজনে যথেষ্ট ভারী হয়। কলিঙ্গরাজ্যে প্রজাদের ঘরের চাল বিদীর্ণ করে যে শিলা মেঝেতে এসে পড়েছিল, কবি বলছেন তার আকার এবং ওজন সেই তালেরই আকৃতির অনুরূপ। এ থেকেই বোঝা যায় সেই রাজ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা কতখানি নিদারুণ। শুধু তাই নয়, এইরকম শিলাপাতের ফলে যে ব্যাপক জীবনহানিও ঘটেছে, তা কবি ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’-র ফলে শস্য ও বাড়িঘরের কেমন অবস্থা হয়েছিল?

উত্তরঃ কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘অভয়ামঙ্গল’ তথা ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের ‘আখেটিক খণ্ড’ থেকে সংকলিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটিতে দৈবাদেশে ঘনিয়ে ওঠা এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বর্ণিত হয়েছে। কবিবর্ণিত প্রকৃতির এই হঠাৎ পরিবর্তনে কলিঙ্গের প্রজাসাধারণ প্রবল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। বাস্তববাদী কবি একদিকে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাড়িঘর-পথঘাটের চিত্র তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি আলোচ্য কাব্যাংশে রচিত হয়েছে প্রজাদের শস্যক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান।

             কবি জানেন কলিঙ্গপ্রজাদের জীবনে ঘরবাড়ির মতোই একান্ত প্রয়োজনীয় হল শস্য, যা তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তির উপায়। কবির বর্ণনায় তাই অনিবার্যভাবে এসেছে শস্যপ্রসঙ্গ— “ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত।/উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত।।” আবার অন্যত্র তিনি একই প্রসঙ্গে বলেন ‘আছুক শস্যের কার্য’, অর্থাৎ যে শস্য বর্তমান তা বিনষ্ট হল, ঝড়-জলে যেন মাঠের শস্য মাঠেই রয়ে গেল। কলিঙ্গের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ির অবস্থাও পরিস্থিতি শস্য ও বাড়িঘরের তথৈবচ৷ প্রবল বৃষ্টিতে শস্যের মতো ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পথে। ঘরের চাল বিদীর্ণ করে শিল পড়েছিল মাটিতে, যেমন ভাদ্র মাসে সুপক্ক তাল পড়ে। মঠ, অট্টালিকা সব দুর্যোগের তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছিল। চতুর্দিকে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে যে পর্বতপ্রমাণ ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল। তার উপর ঘরগুলি টলমল করছিল।

. ‘গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে।’ — কার লেখা, কোন্ রচনার অংশ? ‘ভুজঙ্গ’ গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল কেন?

উত্তরঃ প্রশ্নোধৃত অংশটি মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি তথা আখ্যানকার কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশের অংশ।

           দৈবাদেশে কলিঙ্গদেশের উপর অকাল প্রাকৃতিক দুর্যোগের করাল ছায়া নেমে এসেছিল। ঈশান কোণ থেকে ঘন কালো মেঘ উত্থিত হয়ে ক্রমে সমগ্র কলিঙ্গের আকাশকে ছেয়ে ফেলেছিল। মেঘ গর্জন, ভয়ানক বিদ্যুতের চমক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। সেইসঙ্গে ঘন ঘন বজ্রপাতে দশদিক কম্পিত হয়ে উঠেছিল। শুরু হয়েছিল প্রবল ঝড়ের তাণ্ডব এবং অকালবর্ষণ। একটানা সাতদিন নিরন্তর বৃষ্টি হওয়ায় দিনরাত্রির প্রভেদ ঘুচে গিয়েছিল, জলস্থলের পার্থক্য মুছে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল অষ্ট-গজরাজ চারি মেঘে তাদের শুঁড় থেকে সমানে বারিবর্ষণ করে চলেছে। জলের স্রোত ক্রমে হয়ে ওঠে পর্বতপ্রমাণ, যার দোলায় দুলতে থাকে মানুষের ঘরবাড়ি । ভুজঙ্গ অর্থাৎ সর্প গর্তবাসী। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে তাদের বাসা ডুবে গিয়েছিল, বাসাহারা এই সরীসৃপ তাই গর্ত ত্যাগ করে উঠে আসতে বাধ্য হয়েছিল জলের উপরিভাগে। তারাও ভয়ার্ত এবং দিশাহারা। তাদের জীবনও বিপন্ন। কবি বলছেন, ‘জলে মহী একাকার। তাই মাটি ডুবে থাকার কারণেই ভুজঙ্গ বা সাপ গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top