দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ০৭. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি - শঙ্খ ঘোষ

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি – শঙ্খ ঘোষ

কবি পরিচিতি:

1932 সালের 5 ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ। ত্রিপুরা জেলার চাঁদ পুরে জন্মেছিলেন তিনি, এই চাঁদপুর বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত। তার পিতার নাম ছিলো মনীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং তার মায়ের নাম ছিলো অমলাবালা ঘোষ। কবি শঙ্খ ঘোষের প্রকৃত নাম ছিলো চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তিনি ছোট বেলায় পাবনা পাকশি চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। তার পিতা ছিলেন ঐ বিদ্যালয়ের ই প্রধান শিক্ষক। 1953 সালে যখন কৃত্তিবাস পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল সেই পত্রিকার প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যাতেই “দিনগুলি রাতগুলি” শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন শঙ্খ ঘোষ। এরপর তিনি কিছুদিন বঙ্গ বাসী কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন কিছুদিন। এরপর তিনি মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর কলেজেও অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। শঙ্খ ঘোষ সারাজীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। 1976সালে প্রকাশিত হয়েছিল তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ বাবরের প্রর্থনা কাব্য গ্রন্থের জন্য তিনি “নক্ষত্র পুরস্কার” পেয়েছিলেন। 1977 সালে মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ” নরসিংহ দাস পুরস্কার” পেয়েছিলেন, বাবরের প্রার্থনার জন্য তিনি “সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার” ও পেয়েছিলেন। 1995 সালে তিনি ভারতীয় ভাষা পরিসদ কর্তৃক “স্বর্ণাঞ্চল পুরস্কার” পেয়েছিলেন। ঐ বছর ই তিনি তার লেখা কবিতার মুহূর্ত গ্রন্থের জন্য “শিরোমনি পুরস্কার” পেয়েছিলেন। 1999সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে দেশিকোত্তম উপাধি দেওয়া হয়েছিল। 2011 সালে ভারত সরকার তাকে “পদ্মভূষণ” উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন। 2016 সালে তিনি “জ্ঞানপীঠ” পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। এই প্রখ্যাত কবির প্রয়াণ ঘটে 2021 সালের এপ্রিল মাসে।

 

সারাংশ:

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবি সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্যে বেঁধে বেঁধে থাকার আহ্বাণ জানিয়েছেন। তিনি আমাদের ডান কিংবা বাম উভয় দিকেই ধ্বংসের নিশ্চিত ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমাদের মাথার নিচে কিংবা মাথার উপরে উভয় জায়গাতেই আছে প্রতিমুহূর্তে প্রতিবন্ধকতা। নানা রকম এই বিপদ ও প্রতিকূলতার মাঝ থেকে আমাদের বেঁচে থাকাই সমস্যার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিটা মুহূর্তে মৃত্যুর আশংকায় জীবন হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত। এমতবস্থায় সক্কলকে একত্রিত হয়ে জোট বেঁধে থাকতে হবে বিরোধী শক্তি কে রুখতে। বিরোধী শক্তির দাসত্ত্ব করতে গিয়ে আমরা নিজেদের সংস্কৃতিকে অন্যের পায়ে সমর্পন করে ফেলেছি। নিজেদের সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ভুলে গিয়ে অন্যদের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাসকে গ্রহণ করে বেঁচে থাকা ও সামনে এগিয়ে চলার মাঝে রইচ্যে ভিকারী মনোভাব। এইসবের ই মাঝে কিছু বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ আছেন যারা এখনো মানুষে মানুষে ঐক্যের কথা বলেন। একমাত্র পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধতাই পারে সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে।

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:

১. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”- কবিতা টি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?

উওর- আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতাটি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ” জলই পাষাণ আছে ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. “আমাদের মাথায় বোমারু”- ‘বোমারু’ কোন অবস্থার কথা বলতে চেয়েছেন?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি শঙ্খ ঘোষের লেখা আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে গৃহীত। এই শব্দটির মাধ্যমে কবি যুদ্ধকালীন অবস্থায় কোথা বলতে চেয়েছেন।

৩.  আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির পায়ে পায়ে কিসের বাধ?

উত্তর- আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির পায়ে পায়ে হিমানীর বাধ।

৪. “পায়ে পায়ে হিমানীর বাধ।”-উদ্ধৃতাংশটির মাধ্যমে কবি কি বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধৃতাংশটির মাধ্যমে কবি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধার কোথা বোঝাতে চেয়েছেন।

৫. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির মাথার ওপরে কি উড়ে বেড়াচ্ছে?

উত্তর- শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির মাথার উপরে উড়ে বেড়াচ্ছে বোমারু বিমান।

৬. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির দান পাশে কিসের চিন্হ ছড়িয়ে আছে?

উত্তর- শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির ডান পাশে ধ্বংসের চিন্হ ছড়িয়ে আছে।

৭. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবি তার বাম দিকে কি দেখছেন?

উত্তর- শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবি তার ডান পাশে দেখছেন গভীর গরুখাত।

৮. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”- এই  বেঁধে বেঁধে থাকার মুল উদ্দেশ্য কি?

উত্তর- এই বেঁধে বেঁধে থাকার মুল উদ্দেশ্য হোলো বিপদকে সম্মিলিত ভাবে ব্যর্থ করার শক্তি সংগ্রহ করা।

৯. “ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে”- আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় কবির বিবৃতি অনুযায়ী কাছে দূরে কি ছড়ানো আছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ। কবিতায় কবির বিবৃতি অনুযায়ী কাছে দূরে তাদেরই সন্তানের মৃতদেহ ছড়িয়ে আছে।

১০. “আমাদের পথ নেই আর”- তাহলে আমাদের করণীয় কী ?   

উত্তর- উদ্ধৃতাংশ টি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে গৃহীত। পথ না থাকার দরুন আমাদের আজ একতাবদ্ধ হয়ে ‘আরো বেঁধে বেঁধে’ থাকতে হবে।

১১.”পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে /পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”- একথা বলার কারণ কী ?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে গৃহীত। প্রশ্নদ্ধৃত উক্তিটি করার কারণ পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার মাঝে পীড়িত ঘরহারা, ইতিহাসে ঠাঁই না পাওয়া সাধারণ মানুষগুলোর কাছে বেঁচে থাকার অর্থটাই হারিয়ে গেছে। পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা না থাকায় তাদের কিছু যায় আসে না।

১২. “আমাদের ইতিহাস নেই “- এ কথা বলা হয়েছে কেন ?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশ টি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার অংশ।  কবি  ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। আর সাধারন মানুষ কোনোদিনই ইতিহাসের পাতায় স্থান পায় না ।তাদের ইতিহাস জনসমক্ষে প্রতিফলিত হয় না। তাই এমন উক্তি।

১৩. ” আমাদের ঘর গেছে উড়ে”- কেনো ঘর উড়ে গেছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে থাকি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। ঘর উড়ে গেছে বলতে ঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ক্থা বলা হ্য়েছে।

১৪. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় আমরা কারা?

উত্তর- আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতায় আমরা বলতে সাধারণ মানুষদের কথা বলা হয়েছে।

১৫. “আমরা ভিখারি বারোমাস”-উদ্ধৃতাংশটির মাধ্যমে কোন কোথা বোঝানো হয়েছে?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি শঙ্খ ঘোষ রচিত আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধৃতাংশটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সব সময়ের দুর্দশা কে বোঝানো হয়েছে।

 

ব্যাখ্যাভিত্তিক:

১. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”- ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন তার তিনি কাদের এভাবে থাকতে বলেছেন ? কবি বেঁধে বেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেছেন কেন?

উত্তর- অসামান্য সাহিত্যিক এবং কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলতে ঐক্যবদ্ধভাবে বেঁচে থাকাকে বোঝাতে চেয়েছেন। বর্তমান বিশ্ব ক্ষমতাবান শাসক, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও মৌলবাদীদের যৌথ ষড়যন্ত্র বিধ্বস্ত ।মানুষ আজ বিপন্ন, বড় অসহায় । প্রতি পদে পদে তার বিপদ। সাধারণ মানুষ প্রতিমুহূর্তে মৃত্যু ভয়ে সন্ত্রস্ত। তাই এভাবে ক্রমাগত শোষিত পৃথিবীর শান্তিকামী সাধারণ মানুষকে কবি বেঁধে বেঁধে একত্রিত হয়ে এই সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলেছেন।

সাম্রাজ্যবাদী, ক্ষমতাবান ও মৌলবাদী শক্তি তাদের নৃশংসতায় সাধারণ মানুষের সামনে অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করেছে। এই সংকট থেকে রক্ষা পেতে ভাবি প্রজন্মের কাছে সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে হলে মানুষের প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধতা।  সুস্থ ও শান্তিকামী শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকারেই  একমাত্র এ সভ্যতার সংকট মোচন সম্ভব। কবি এ কথাই বলতে চেয়েছেন।

২.  ” আমাদের শিশুদের শব ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে! ” – ‘শিশুদের শব’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? অংশটি তাৎপর্য লেখ।

উত্তর তাৎপর্যবাহী অংশটি রবীন্দ্রোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে। ‘শিশুদের শব’ কথাটি ব্যঞ্জনার সাথে ব্যক্ত করা হয়েছে, যার অর্থ হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৃত দশা।

         আমাদের নিজেদের দ্বন্দ্বের ফলে বহু শিশু মারা যাচ্ছে সেই অর্থে ভবিষ্যৎ মৃত। শিশুরাই হলো ভবিষ্যতের কান্ডারী। তারা প্রজন্মের কালবর্তিকা। সুতরাং এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৃত্যু একটা সামগ্রিক ভাব রূপে প্রতিমুহূর্তকে যদি ধ্বংস করে দেয় তাহলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষাই কঠিন হয়ে পড়বে বলে কবি মনে করেন। তাই কবি এই কাব্যিক প্রতিসরণ এর মধ্যে দিয়ে সমাজের অন্তরে নিগূঢ় রহস্যকে উন্মোচিত করেছেন।

৩. “আমাদের ইতিহাস নেই” – ‘আমাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? আমাদের ইতিহাস নেই কেন?

উত্তর রবীন্দ্রোত্তর আধুনিক বাংলা কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা আলোচ্য অংশে আমাদের বলতে বাঙালি সমাজের কথা বলা হয়েছে

              ইতিহাস শব্দটির ব্যুৎপত্তি করলে দাঁড়ায় ইতি- হ-আস, অর্থাৎ প্রাচীন পুরাবৃত্তের ধারাবাহিক অনুসরণ। কবি লক্ষ্য করেছিলেন বাঙালিরা ইতিহাস সম্পর্কে বড় নিরলিপ্ত উদাসীন। এই বাংলার ভূমি তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতি আর্য-অনার্য পদাচারণ ঘটেছিল। কিন্তু সে কথা কোথাও ধারাবাহিক পরম্পরা লেখা হয়নি আর তারই ফলস্বরূপ কবি আক্ষেপ করে এই তাৎপর্যবাহী পঙক্তি টি ব্যক্ত করেছেন।

৪. আয় আরো হাতে হাত রেখে আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি – কোভিদ এমন আহবান এর কারণ কি?

উত্তর সাহিত্য সমাজের দর্পণ দর্পণ কে সর্ব মানবিকতায় অন্তরে অন্তরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব একজন সাহিত্যিকের সেখানে ব্যতিক্রমী নন কবি শঙ্খ ঘোষ তিনি তার কবিতায় সমাজ কালকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন উজ্জ্বল উদাহরণ আলোচ্য এই কবিতাটি সাহিত্য তাত্ত্বিকেরা বলেন  “কবিরের প্রজাপতি” । অর্থাৎ কবিরাই হলো সৃষ্টিশীল প্রজাপতি সুতরাং সমাজ গঠনের একটা দায়িত্ব অবশ্যই থাকে মানববন্ধনের কথা তুলে ধরেছেন এই কবিতায়। সমাজের দুরবস্থায় কবি মনেপ্রাণে পঙ্গু হয়ে পড়েছেন এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে সমাজে বিপ্লবের বার্তার জন্য  হাতে হাত রেখে মানববন্ধনের ধারাকে সুদৃঢ় করতে হবে ফিনিক্স পাখির মতো সমাজজীবনে নতুনত্বের স্বাদ দেওয়ার জন্য শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

৫. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো ।

উত্তর সৃষ্টিশীল সাহিত্য ধারার  প্রাণবীজ লুকায়িত থাকে নামকরণের মধ্যে নামকরণের মধ্যে দিয়ে রচনাকার একদিকে যেমন খুঁজে পান তাঁর শিল্পসমৃদ্ধ তেমনি পাঠক নামকরণের মধ্যে দিয়ে খুঁজে পায় প্রাণের আরাম মনের শান্তি। এই নামকরণের নানান ভিত্তিভূমি রয়েছে যেমন বিষয়ে কেন্দ্রীয় চরিত্র মনোদর্শন ইত্যাদি আমাদের বিচার করে দেখতে হবে বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা কবিতা উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক শঙ্খ ঘোষের আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার নামকরণ কতখানি সার্থক পেয়েছে।

নামকরণ টির মধ্যে আপাতত একটা সারল্য থাকলেও এর গভীরে রয়েছে ব্যঞ্জনধর্মীতা। প্রতিটি কোভিদ শিল্পী দায় থাকে সমাজ জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়ে পাঠকের মনের মুকুরে প্রতিভাসিত করার তাদেরই দলের যোগ্য সহচর কবি শঙ্খ ঘোষ। কবিতা রচনার সময় কালে তিনি দেখেছিলেন সমাজজীবনের তীব্র হানাহানি। সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ও তৈরি হয়েছিল বিপদজনক পরিস্থিতি। সমাজ গঠনের আদিমকাল থেকে উচ্চারিত হয়েছিল সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে কিংবা জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে, সে জাতির নাম মানবজাতি। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে মানববন্ধনের এই ফারাকটা ততই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে মানুষ বিচ্যুত হয়েছে সমাজ গঠনের প্রাথমিক শর্ত থেকে। কবি শঙ্খ ঘোষ মননশীল চিত্তে সে কথা কে অনুভব করেছিলেন। সুতরাং এই আনুষঙ্গিক নাম যদি আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি হয়ে থাকে তবে আমরা নিঃসন্দেহে তাতে সার্থকতা প্রদান করতে পারি।

    বিষয়বস্তুর দিক থেকেও আমরা এর নামকরণের বিচার করে দেখতে পারি। কবিতাংশের আলোকে আমরা লক্ষ্য করি  আমাদের চতুর্দিকে বিপদের ঘনঘটা তাতে করে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুদশা প্রাপ্ত হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাই এই কঠিন সময়ে কে প্রতিরোধের একমাত্র পথ হল প্রতিস্পর্ধী শক্তির কাছে মাথা নত না করে হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলার নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন না করে মানববন্ধনের ক্ষেত্রকে সুদৃঢ় করার যে ভাব রূপ কবি এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন সেই ভিত্তিতে আমরা এই নামকরনকে সর্বাঙ্গসুন্দর ও সার্থক বলতে পারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top