দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ১০. আফ্রিকা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আফ্রিকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবি পরিচিতি

১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ৭ মে কলকাতার ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | তার মাতা ছিলেন সারদা দেবী ও পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর | ছোট থেকেই তিনি শিল্প ও সাহিত্য চর্চার মধ্যে দিয়েই বেড়ে উঠেছিলেন | ছোটকাল থেকেই তিনি গতানুগতিক স্কুলে গিয়ে চার দেওয়ালের মধ্যে বদ্ধ পরিবেশের পড়ালেখা করার বিরুদ্ধে ছিলেন | তাই তিনি বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছে সমস্ত বিষয়ে পঠন-পাঠন করেছিলেন |

           অনেক ছোট বয়স থেকেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন | তাকে লেখালেখির বিষয়ে উৎসাহ দিতেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর | প্রথমে কবিতা দিয়ে শুরু করলেও পরে তিনি অসংখ্য গল্প, উপন্যাস,গান রচনা করে বাংলা সাহিত্যে

এক বিরাট অবদান রেখে গিয়েছিলেন |  তার লেখা কাব্যগ্রন্থ গুলির মধ্যে অন্যতম হলো – প্রভাত সঙ্গীত,সন্ধ্যাসংগীত,মানসী, চিত্রা,কল্পনা,নৈবেদ্য,খেয়া, গীতাঞ্জলি,নবজাতক ইত্যাদি | এছাড়াও চোখের বালি,গোরা,চতুরঙ্গ তার লেখা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস | কার লেখা ‘ আফ্রিকা ’ কবিতাটি প্রথম প্রবাসী পত্রিকার চৈত্র,১৩৪৩ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম নোবেল পুরস্কার পান ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ১৩ ই নভেম্বর | বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ ঘটে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ৭ আগস্ট |

 

সারাংশ

সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে বিশ্বের প্রাচ্য ভূভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আফ্রিকা | এবং সে একা গভীর অরণ্য আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল,যা তার নতুনভাবে আত্মপ্রকাশকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল | জঙ্গলে ঘেরা এই প্রতিকূলতা সম্পন্ন,রহস্যময় নতুনদেশ যা দুর্বোধ্য ছিল বাকি পৃথিবীর কাছে | ঠিক এমনই সময় ইউরোপের কিছু ক্ষমতালোভী বর্বর মানুষ আফ্রিকায় আধিপত্য বিস্তার করে এবং উপনিবেশ গঠন করে,ফলে পরবর্তীতে আফ্রিকাকে দেখা হল ক্রীতদাস সংগ্রহের বাণিজ্যিক জায়গা হিসেবে | ধীরে ধীরে সভ্য জগতের মানুষ আফ্রিকার সম্পদ সম্পর্কে জানতে পারল | ইউরোপে উপনিবেশ হওয়ায় সেখানে মানুষদের উপর চলতে থাকে বর্বরতা,অমানবিক শোষণ,লুণ্ঠন | আফ্রিকার মাটি ভিজে যেতে লাগল তার সন্তানদের রক্ত ও চোখের জলে | আসলে আফ্রিকার ওপরে এমন অত্যাচার সভ্যতার অন্ধকার দিককে ফুটিয়ে তুলেছিল | আর এই নির্মম অত্যাচারের থেকে মুক্তির পথ খুঁজে চলেছিলেন কবি |  তাই নিপীড়িত,অপমানিত,শোষণগ্রস্ত আফ্রিকার কাছে যুগান্তরের কবি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তার কবিতার মাধ্যমে |

 

1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ:

1.1) আফ্রিকা একটি –
(ক) মহাদেশ
(খ) মহাসাগর
(গ) শহর
(ঘ) উপমহাদেশ

উত্তর – (ক) মহাদেশ

1.2) আফ্রিকা কবিতাটির রচয়িতা হলেন –
(ক) কাজী নজরুল ইসলাম
(খ) জয় গোস্বামী
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর – (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

1.3) ‘নিনাদ’ এর অর্থ ?
(ক) চিৎকার
(খ) ক্রন্দন
(গ) শব্দ
(ঘ) মৌনতা

উত্তর – (গ) শব্দ

1.4) শিশুরা কোথায় খেলছিল ?
(ক) মাঠে ঘাটে 
(খ) উঠোনে
(গ) মায়ের কোলে
(ঘ) অরণ্যে

উত্তর – (গ) মায়ের কোলে

1.5) ‘প্রদোষকাল’ শব্দটির অর্থ?
(ক) ভোরবেলা
(খ) দুপুরবেলা
(গ) সন্ধ্যাবেলা
(ঘ) রাত্রিবেলা

 উত্তর – (গ) সন্ধ্যাবেলা

1.6) গুপ্ত গহবর থেকে কারা বেরিয়ে এসেছিল?
(ক) আদিম মানুষেরা
(খ) পশুরা
(গ) দস্যুরা
(ঘ) পাখিরা

উত্তর – (খ) পশুরা

1.7) আফ্রিকা বিদ্রুপ করেছিল কাকে ?
(ক) নতুনকে
(খ) ভীষনকে
(গ) ভয়ঙ্করকে
(ঘ) দস্যুদেরকে

উত্তর – (খ) ভীষনকে

1.8) আফ্রিকাকে কোথায় বাধা হয়েছিল ?
(ক) সুদূর সমুদ্রে
(খ) বটবৃক্ষের কঠিন পাহারায়
(গ) কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর – (খ) বটবৃক্ষের কঠিন পাহারায়

1.9) বর্বরদের উপেক্ষা দৃষ্টি ছিল –
(ক) কলঙ্কময়
(খ) ভয়ংকর
(গ) অবিল
(ঘ) সৌহার্দ্যপূর্ণ

 উত্তর – (গ) অবিল

1.10)” চির চিহ্ন দিয়ে গেল ” – কোথায় ?
(ক) ইতিহাসের পাতায়
(খ) ভূগোলের পাতায়
(গ) মানুষের মনে
(ঘ) অপমানিত ইতিহাসে

 উত্তর – (ঘ) অপমানিত ইতিহাসে

1.11) “ সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পূর্ণ বাণী ” – সভ্যতার শেষ পূর্ণ বাণীটি কি ছিল ?
(ক) মঙ্গল করো
(খ) ভালোবাসো
(গ) ক্ষমা করো
(ঘ) অপমান করো

উত্তর – (গ) ক্ষমা করো

1.12) লোহার হাতকড়ি নিয়ে কারা এসেছিল ?
(ক) সাম্রাজ্যবাদী মানুষ ধরার দল
(খ) সাধারণ মানুষের দল
(গ) পুলিশের দল
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর – (ক) সাম্রাজ্যবাদী মানুষ ধরার দল

1.13) আফ্রিকা কবিতাটি _________ কাব্যের অন্তর্গত –
(ক) পত্রপুট
(খ) সন্ধ্যামালতী
(গ) মানসী
(ঘ) চিত্রা

উত্তর – (ক) পত্রপুট

1.14) কে নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করেছিল ?
(ক) কবি
(খ) দেবতা
(গ) মানুষের দল
(ঘ) স্রষ্টা

উত্তর – (ঘ) স্রষ্টা

1.15) তান্ডব শব্দের অর্থ ?
(ক) হৈচৈ করা
(খ) তছনছ করা
(গ) উদ্দাম নাচ
(ঘ) ঝড়

উত্তর – (গ) উদ্দাম নাচ

1.16) অশুভ ধ্বনিতে কি ঘোষণা করল ?
(ক) দিনের অন্তিমকাল
(খ) শেষ পূর্ণবাণী
(গ) সুন্দরের আরাধনা
(ঘ) সবকটি

উত্তর – (ক) দিনের অন্তিমকাল

1.17) কবির সংগীতে কি বেজে উঠেছিল
(ক) দিনের অন্তিমকাল
(খ) সুন্দরের আরাধনা
(গ) শেষ পূর্ণবাণী
(ঘ) সবকটি 

উত্তর – (খ) সুন্দরের আরাধনা

 

2. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :

2.1) “ উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে…”- আদিম যুগ বলতে কোন সময়ের কথা বুঝিয়েছেন কবি ?

উত্তর– বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় আদিম যুগ বলতে সভ্যতা সৃষ্টির আদি সময়কালকে বুঝিয়েছেন |

2.2) ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি প্রথম কোন কাব্যগ্রন্থ-এ প্রকাশিত হয় ?

উত্তর –  আফ্রিকা কবিতাটি প্রথম পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে প্রকাশিত হয় |

2.3) “ নতুন সৃষ্টিকে বারবার করেছিলেন বিধ্বস্ত ”- কে এবং কেন বিধ্বস্ত করেছিলেন ?

উত্তর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত আফ্রিকা কবিতায় বলা হয়েছে পৃথিবীর প্রতি প্রবল অসন্তোষে স্রষ্ঠা তাকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন |

2.4) “ গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্য হারা অরন্যের চেয়ে…..”- কাদের কথা বলা হয়েছে এখানে ?

উত্তর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় বিপুল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির গুলির কথা বলা হয়েছে |

2.5) ” কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে ” – আলো কৃপণ কেন ?

উত্তর – আফ্রিকার ঘন চিরহরিৎ অরণ্য যা ছিল লতা ও আগাছাতে পরিপূর্ণ;যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশই করতে পারেনা,তাই আলোকে কৃপণ বলা হয়েছে |

2.6) ‘মানহারা মানবী’ – মানহারা মানবী কাকে বলা হয়েছে ? কেন বলা হয়েছে ?

উত্তর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় মানহারা বলতে সর্বহারা আফ্রিকাকে বোঝানো হয়েছে |

             কবির কল্পনায় নারীরূপী আফ্রিকাকে যেন সর্বহারা,হিংস্র সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যবাদীরা করেছে লাঞ্ছিত | তার মানবতাকে লুণ্ঠন করেছে তাই তাকে মানহারা মানবী বলা হয়েছে |

2.7) ” বিদ্রুপ করে ছিলে ভীষণ কে … “- কে ভীষণ কে কিভাবে বিদ্রুপ করেছে ?

উত্তর – কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় আফ্রিকা মহাদেশ নিজের প্রতিকূলতায় ছদ্মবেশে প্রাকৃতিক ভয়ংকরতা ও ভীষণতাকে বিদ্রূপ করেছেন |

2.8) সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো কোন অজুহাতে এশিয়া ও আফ্রিকায় তাদের থাবা বাড়ায় ?

উত্তর – অসভ্য জাতিগুলিকে সভ্য করার অজুহাতে তারা এশিয়া ও  আফ্রিকার ওপর তাদের লোলুপ থাবা বাড়ায় এবং উপনিবেশ স্থাপন করে |

2.9) ” শঙ্কাকে চাচ্ছিল হার মানাতে …. ” – কে কিভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল ?

উত্তর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় দুর্গম দুর্ভেদ্য রহস্যময়ী আফ্রিকা মহাদেশকে জাগিয়ে তুলে নিজের ভয়ংকর তান্ডবলীলার প্রচন্ড শব্দে নিজের ভয়কে দূর করতে চেয়েছেন |

2.10) “ ছিনিয়ে নিয়ে গেলো তোমাকে, আফ্রিকা “ – আফ্রিকাকে কে কোথায় ছিনিয়ে নিয়ে গেলো ?

উত্তর– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় কবির কল্পনায় স্রষ্ঠা যখন নিজের সৃষ্টিকে বারংবার ভেঙেচুরে নতুনভাবে নিখুঁত করে গড়ে তুলতে মত্ত , তখনই উত্তাল সমুদ্রের প্রচন্ড ঢেউ মূল ভূখন্ড থেকে আফ্রিকা মহাদেশের ভূখণ্ডকে আলাদা করে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল |

2.11) “ সভ্যতার শেষ পূণ্যবাণী ; “ – পূণ্যবাণীটি কি ?

উত্তর –  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় কবি তার নিজ কন্ঠে ‘ক্ষমা করো’ এই  উচ্চারণটি করেছেন মানব সভ্যতার হয়ে আফ্রিকার কাছে | এই বিশুদ্ধ উচ্চারণকেই সভ্যতার শেষ পূণ্যবাণী  বলা হয়েছে |

2.12) “বলো ক্ষমা করো ” – কে, কেন এমন বলবে ?

উত্তর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় যুগান্তরের কবি সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র বর্বর সভ্যরুপি  মানুষদের হয়ে সর্বহারা লাঞ্ছিত, লুণ্ঠিত আফ্রিকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এমন বাণী উচ্চারণ  করবে

 

3. ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর :

3.1) “ নতুন সৃষ্টিকে বারবার করেছিলেন বিধ্বস্ত “ – কে নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন ?  তার এরূপ আচরণের কারণ কি ?

উত্তর – কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন |

              স্রষ্টা সৃষ্টি করেন তার নিজের খেয়াল মত | কখনোই স্রষ্টার সৃষ্টি তার নিজের কাছে নিখুঁত লাগেনা | তার মনের মতো করে সৃষ্টি না করতে পারলে তিনি তা ধ্বংস করেন এবং আবার মনের মত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন | এমন ভাবে বারংবার ভাঙা ও গড়ার মধ্যে দিয়ে তার সৃষ্টির লীলা চলতে থাকে | সভ্যতার সেই আদিম যুগ থেকে আফ্রিকা সৃষ্টির ক্ষেত্রেও যেন স্রষ্টা ভাঙা-গড়ার খেলায় মেতে উঠেছিলেন | এছাড়াও কবিতায় ইঙ্গিত দেওয়া আছে যে জলের উপর ভাসমান প্রকাণ্ড ভূভাগ থেকে প্রবল ঢেউএর ধাক্কায় মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল |

3.2) “ প্রকৃতির দৃষ্টি অতীত জাদু  / মন্ত্র জাগাচ্ছিল ; তোমার চেতনাতীত মনে, “- মন্তব্যটির ব্যাখ্যা দাও |

উত্তর – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতায় কবির মতে সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে প্রকৃতির কোলে আবৃত ছিল আফ্রিকা | প্রকৃতি যেন বাইরের পৃথিবীর অর্থাৎ সভ্যতার আলো থেকে দূরে রেখে নিজের মত করে লালিত করেছিল তাকে | আফ্রিকার ঘন অরণ্য,দুর্গম প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রভৃতির সমন্বয় যেন সে হয়ে উঠেছে আরো রহস্যময়ী | ভয়ঙ্কর জীবজন্তু, দুর্গম প্রকৃতি, দুর্ভেদ্য বনভূমিই যেন তাকে আলাদা করে রেখেছিল বাইরের ঝাঁ-চকচকে সভ্যতা ও সভ্য মানুষগুলি থেকে | কেউই জানত না তার পরিচয় |  নতুন গড়ে ওঠা এই মহাদেশ কবির  ভাষায় ছিল ‘চেতনাতীত’ তখনো তার নিজস্ব জীবন ধারা গড়ে ওঠেনি |

3.3) “ বিদ্রুপ করেছিলে ভীষণকে | “- এখানে কার কথা বলা হয়েছে ? কেন সে ভীষণ কে বিদ্রুপ করেছিলে ?

উত্তর – কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা  কবিতা থেকে নেওয়া আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটিতে আদিম আফ্রিকার কথা বলা হয়েছে |

                  সৃষ্টির লগ্ন থেকেই আফ্রিকা ছিল দুর্গম রহস্যময়ী | অরণ্যে ঘেরা এই আফ্রিকার চারপাশের প্রকৃতি ছিল আরো দুর্গম,  দুর্বোধ্য ও সংকেতপূর্ণ | প্রকৃতি এই মায়াবী রহস্যেঘেরা আফ্রিকার চেতনাতীত মনে জীবনধারা গড়ে তোলার সাহস জুগিয়ে তুলেছিল |  আর আফ্রিকা প্রকৃতির সেই ভয়ঙ্কর রূপকে বিদ্রুপ করেছিল | নিজের ভয়কে হার মানাতে ভীষণ-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সেও আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল | সমস্ত প্রাকৃতিক বাধা জয় করার জন্যই আফ্রিকা এরূপ বিদ্রুপ করেছিল | 

 3.4) “ তার সেই অধৈর্য ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে “ – এই ‘ঘন-ঘন মাথা নাড়া’ কথাটি কেন ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো |

উত্তর – কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আফ্রিকা কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি  নেওয়া  হয়েছে |  স্রষ্টা  তার সৃষ্টিকে সবসময়ই নিখুঁত ভাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা  করেন | সভ্যতার সৃষ্টির সূচনা স্রষ্টা সৃষ্টি সৃষ্টিকে নিখুঁতভাবে  গড়ে তোলার সাধনায় মত্ত ছিলেন | প্রকৃত স্রষ্টা তিনিই যিনি চির অতৃপ্ত | কিন্তু   স্রষ্টা যেন তার সৃষ্টিকে নিখুঁত গড়ে  তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে , তাই বারবার তাঁর সৃষ্টিকে নিজেই  ধ্বংস  করেছেন আবার নিজেই  তা নিখুঁত ভাবে গড়ে তোলার অবিরাম চেষ্টা চালিয়েছেন | তাই স্বয়ং স্রষ্টা ও তার সৃষ্টির প্রতি অসন্তোষে হয়ে উঠেছিল অস্থির |  তার নিজের সৃষ্টির সাথে একাত্ম  হতে না পারার যন্ত্রণায়ই তাকে করে তুলেছে অধৈর্য | ‘ঘন ঘন মাথা নাড়া’ কথাটির মাধ্যমে কবি স্রষ্টার এই নেতিবাচক দিকটি বুঝিয়েছেন |

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top