Class 8 Bengali chapter 25 আদাব

আদাব – সমরেশ বসু

লেখক পরিচিতি

আধুনিক বাংলাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসু ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ১১ ডিসেম্বর ঢাকার রাজনগরে জন্মগ্রহণ করেন। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাঁর অবাধ মেলামেশা ছিল। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হল বি টি রোডের ধারে, গঙ্গা, শেকল ছেঁড়া হাড়ের খোঁজে, জগদ্দল, মহাকালের রথের ঘোড়া। তাঁর ভ্রমণকাহিনিগুলি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লেখা।

সারাংশ

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের কুখ্যাত হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা নিয়ে লেখা “আদাব” গল্পে শুভবোধ হারিয়ে ফেলা, আদর্শহীন সমাজচিত্রের ছবি ফুটে উঠেছে। শহরে ১৪৪ ধারা চলছে। চারিদিকে লড়াই, হানাহানি, মৃত্যু, এককথায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি। গল্পের দুই প্রধান চরিত্র সুতোকলের মজুর ও নৌকোর এক মাঝির বন্ধুত্ব ও মানবিকতার কাহিনী ফুটে উঠেছে এই গল্পে। যারা ধর্মের দিক থেকে আলাদা হলেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে একইরকম ভাবে অসহায়। দাঙ্গার কারণে রক্তপাত, খুন-জখম, লুঠতরাজ চলার সময় শহরের দুটো গলি যেখানে মিশেছে সেই রাস্তায় ডাস্টবিনের আড়ালে সুতোকলের মজুর ও নৌকোর মাঝি দুজনেই ভয়ে লুকিয়েছিল এবং সেখানেই তাদের পরিচয় হয়। দুজনের মনেই তখন মৃত্যুভয় ও উত্তেজনায় তাদের দিন কাটতে থাকে। তারা কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। অবশেষে বিড়ি ধরাতে গিয়ে তারা একে অপরের পরিচয় জেনে যায়, তবুও তারা কেউ কাউকে আক্রমণ করে না। দুজনেই একে অপরের পরিবার-পরিজনদের অসহায়তা আর দুশ্চিন্তার কথা বুঝতে পারে। পরের দিন ঈদ, তাই মাঝি তাঁর স্ত্রী-পুত্র-কন্যার জন্য নতুন পোশাক কিনেছে। সে তাদের কাছে পৌঁছনোর জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সুতো-মজুরের আপত্তি আর বারণ সত্ত্বেও সেই ভয়ংকর রাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওনা হয় মাঝি। একটি শব্দ কানে যেতেই গলা বাড়িয়ে মজুর দেখে এক পুলিশ অফিসার রিভলবার হাতে রাস্তার উপর লাফিয়ে পড়ল। দু-বার গর্জে উঠল তার বন্দুক সুতো মজুরের জলভরা চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঝির বুকের রক্তে লাল হয়ে যাওয়া তার ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীর জন্য কেনা জামাকাপড়গুলির ছবি।

হাতে কলমে

১.১ সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কী?

উত্তরঃ- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম ‘কালকূট’।

১.২ তাঁর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।

উত্তরঃ- তাঁর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম “বি টি রোডের ধারে”, ও “গঙ্গা”।  

২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

২.১ কোন সময়পর্বের কথা গল্পে রয়েছে?

উত্তরঃ- ‘আদাব’ গল্পটিতে ১৯৭১ সালের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কথা রয়েছে।

২.২ ‘ডাস্টবিনের দুই পাশে দুটি প্রাণী’ — প্রাণীদুটির পরিচয় দাও?

উত্তরঃ- প্রাণী দুটির একজন হলেন মুসলমান মাঝি আর অপরজন হিন্দু সুতা-মজুর।

২.৩ ‘ওইটার মধ্যে কী আছে?’— বক্তা কীসের প্রতি ইঙ্গিত করে?

উত্তরঃ- বক্তা সুতা-মজুর মাঝির কোলে থাকা পুঁটলিটার প্রতি ইঙ্গিত করে।

২.৪ গল্পে কোন নদীর প্রসঙ্গ রয়েছে?

উত্তরঃ- গল্পে বুড়িগঙ্গা নদীর প্রসঙ্গ রয়েছে।

২.৫ ‘সুতা-মজুরের ঠোঁটের কোণে একটু হাসি ফুটে উঠল …’ —তার এই হাসির কারণ কী?

উত্তরঃ- মাঝি দাঙ্গার মধ্যেও নিজ পরিবারের কাছে ফিরে গেলে তাঁর পরিবারের সকলে তাঁকে দেখে আনন্দিত হয়ে উঠবে—একথা ভেবে তার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠল।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখোঃ

৩.১ ‘শহরে ১৪৪ ধারা আর কারফিউ অর্ডার জারী হয়েছে’। — লেখকের অনুসরণে গল্পঘটনার রাতের দৃশ্য বর্ণনা করো।

উত্তরঃ- শহরে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধায় ১৪৪ ধারা এবং কারফিউ অর্ডার জারি হয়েছে। গুপ্তঘাতকের ছল অন্যকারের সুযোগ নিয়ে আঘাত হানছে অহরহ। লুঠেরার দল অভিযানে বেরিয়েছে। বস্তিতে বস্তিতে আগুন জ্বলছে। মৃত্যুকাতর নারী শিশুর আর্তচিৎকার আবহাওয়াকে বিষিয়ে তুলছে। সৈনাবাহী গাড়ি দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদে গুলি ছুঁড়ছে।

৩.২ ‘হঠাৎ ডাস্টবিনটা একটু নড়ে উঠল’ — ‘ডাস্টবিন নড়ে ওঠা’র অব্যবহিত পরে কী দেখা গেল?

উত্তরঃ- ডাস্টবিনটা নড়ে ওঠার অব্যবহিত পরে ডাস্টবিনের দুদিকে দুটি মাথা আস্তে আস্তে দেখা গেল। ডাস্টবিনের দুপাশে দুটি প্রাণী নিস্পৃন্দ অবস্থায়, উত্তেজনায় অধীর হয়ে সন্দিগ্ধচিত্তে, স্থিরদৃষ্টিতে পরস্পরের দিকে তাকিয়েছিল।

৩.৩ হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির আবহ গল্পে কীভাবে রচিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ- সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পে মুসলিম নায়ের মাঝি এবং হিন্দু সুতাকলকর্মী উভয়ে উভয়ের ধর্মের প্রতিনিধিরূপে উপস্থিত হয়েছে। প্রথমে সন্দিগ্ধভাবে কেউই আত্মপরিচয় দিতে রাজি হ্যানি নিজ নিজ বিপদের আশঙ্কা করে। পরে ধীরে হীরে কুশল বিনিময় ও সাংসারিক গল্প গুজবের পর উভয়ে উপলব্ধি করে হিন্দু-মুসলিমের এই দালা অনাবশ্যক। সম্প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ সুতা-মজুর পকেট থেকে বিড়ি ও ভিজে দেশলাই বের করে। নায়ের মাঝি দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে উভয়ের বিড়ি ধরায়। এভাবেই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সম্প্রীতির আবহ পরিস্ফুট হয়।

৩.৪ ‘মুহূর্তগুলিও কাটে যেন মৃত্যুর প্রতীক্ষার মতো’। — সেই বৃদ্ধ উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলির ছবি গল্পে কীভাবে ধরা পড়েছে তা দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করো।

উত্তরঃ- ঈদের আগের দিন মাঝি সুতা-মজুরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নদীর ঘাটের দিকে রওনা হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করল। জীবনের আশঙ্কায় একটি সুতা-মজুর দুরের শোরগোল শুনে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। অহরহ জীবনের আশঙ্কায় মৃত্যুর জন্য প্রহর গুনতে থাকে সে।

৩.৫ ‘এমনভাবে মানুষ নির্মম নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে কী করে?’ — উদ্ধৃতিটির আলোকে সেই সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি আলোচনা করো।

উত্তরঃ- হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় মানুষের জীবনহানি ঘটছিল অহরহ। সাম্প্রদায়িক মানসিকতা এবং গোঁড়ামি বিধর্মীকে শেষ করার নেশায় মেতে উঠেছিল। হিন্দু মহল্লায় কেবলমাত্র হিন্দু এবং মুসলিম মহল্লায় কেবলমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে মনুষ্যত্বের কোনো অনুভূতি তখন ছিল না। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে সৈন্যবাহিনী দেখামাত্র হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে গুলি চালাচ্ছিল। ফলে শত শত প্রাণহানি ঘটছিল। এই ছিল সেসময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

৪. নিম্নলিখিত বাক্যগুলির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করোঃ

৪.১ ‘রাত্রির নিস্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে দিয়ে মিলিটারি টহলদার গাড়িটা একবার ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশ দিয়ে একটা পাক খেয়ে গেল’।

উত্তরঃ- হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা চলাকালীন শান্তিরক্ষার জন্য মিলিটারি টহলদার সেনাবাহিনী তৎপর হয়ে উঠেছিল। নিশীথ রাতে নির্জন রাস্তায় কেবলমাত্র টহলদার মিলিটারি গাড়ির যাতায়াত শোনা যাচ্ছিল। ভিক্টেরিয়া পার্ক বাংলাদেশের একটি স্থান। নির্জন রাতের নিস্তব্ধতা উল্লেখ করতে গিয়ে গল্পকার আলোচ্য অংশের অবতারণা করেছেন।

৪.২ ‘ডাস্টবিনের দুই পাশে দুটি প্রাণী, নিস্পন্দ নিশ্চল’।

উত্তরঃ- আত্মরক্ষার তাগিদে নিরাশ্রয় সুতাকলকর্মী এবং নায়ের মাঝি একটা বড়ো ডাস্টবিনের অন্তরালে আশ্রয় নিয়েছিল। এখানে দুটি প্রাণী বলতে মাঝি ও সুতাকলকর্মীকে বোঝানো হয়েছে। নিঃশব্দে টহলদার সৈন্যবাহিনীর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য তারা সম্পূর্ণ চুপচাপ অবস্থায় নড়াচড়া না করে অপেক্ষা করছিল যাতে কোনো শব্দ না হয়।

৪.৩ ‘স্থান-কাল ভুলে রাগে-দুঃখে মাঝি প্রায় চেঁচিয়ে ওঠে’।

উত্তরঃ- মাঝি আর সুতাকলকর্মী উভয়ে প্রথমে অপরিচিত ছিল। তারা হিন্দু না মুসলিম এবিষয়ে কারোর কিছুই জানা। ছিল না। তাই তারা ব্যক্তিগত পরিচয়দানে ইতস্তত করছিল। সুতা-মজুর মাঝির হাবভাবে সন্দিপা হয়ে উঠল। সে তার জাতি পরিচয় জানতে চাইল। বিপৎকালে প্রাণের আশংকায় জাতপাতের কথায় মাঝি চিৎকার করে তাকে ভর্ৎসনা করল।

৪.৪ ‘অন্ধকারের মধ্যে দুজোড়া চোখ অবিশ্বাসে উত্তেজনায় আবার বড়ো বড়ো হয়ে উঠল’।

উত্তরঃ- সুতা-মজুর ও মাঝি কিছুক্ষণ পারস্পরিক আলাপের পর বিড়ি ধরাবার জন্য ভিজা দেশলাইকাঠি জ্বালালে সঙ্গে সঙ্গে তা হাওয়ায় নিতে যায়। ক্ষণিক আলোর পর আবার অন্ধকার নেমে আসে। মাঝি আর সুতা-মজুরের দুজোড়া চোখ আবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং অবিশ্বাস ও উত্তেজনা নিয়ে চোখগুলি বিস্ফারিত হয়ে ওঠে।

8.৫ ‘সুতো-মজুরের বুকের মধ্যে টনটন করে ওঠে’।

উত্তরঃ- ইন পরবের আগের দিন মাঝি ছেলে-মেয়ে ও বিবির জন্য নতুন জামাকাপড় নিয়ে যে কোনো উপায়ে বাড়ি ফিরতে চায়। নাও না পেলেও সে সাঁতার দিয়ে বুড়িগঙ্গা অতিক্রম করতেও পিছপা নয়। কিন্তু সূতা-মজুর তাকে একা ছাড়তে চায় না। অজানা আশঙ্কা তাকে গ্রাস করে। মাঝির গলাও বিদায় জানাতে গিয়ে ধরে যায়। সেসময়ই সুতা-মজুরের বুকের মধ্যে অজানা আশঙ্কার দোলা তার বৃদয়বেদনার সৃষ্টি করে।

৪.৬ ‘ভুলুম না ভাই এই রাত্রের কথা’।

উত্তরঃ- গৃহাভিমুখী মাঝি বিদায়কালে সুতাকলকর্মীকে উদ্দেশ্য করে আলোচ্য মন্তব্য করেছিল। মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে আত্মরক্ষার তাগিদে দুই ভিন্নধর্মী মানুষ সাময়িক বন্ধুত্বের বাঁধনে আবদ্ধ হয়। তাদের সেই এক রাতের অভিজ্ঞতা তাদের মানসপটে যে স্থায়ী আসন লাভ করবে একথাই মাঝি সুতাকলকর্মীকে এখানে বুঝিয়েছে।

৫. নীচের বাক্যগুলি থেকে অব্যয় পদ খুঁজে নিয়ে কোনটি কোন শ্রেণির অব্যয় তা নির্দেশ করোঃ

৫.১ শহরে ১৪৪ ধারা আর কারফিউ অর্ডার জারি হয়েছে।

উত্তরঃ- আর = সংযোজক অব্যয়।

৫.২ তারা গুলি ছুঁড়ছে দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে।

উত্তরঃ- ও = সংযোজক অব্যয়।

৫.৩ উভয়েই একটা আক্রমণের প্রতীক্ষা করতে থাকে, কিন্তু খানিকক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো পক্ষ থেকেই আক্রমণ এল না।

উত্তরঃ- কিন্তু = বাক্যাধয়ী অব্যয়।

৫.৪ তোমার মতলবটা তো ভালো মনে হইতেছে না।

উত্তরঃ- তো = আলংকারিক অব্যয়।

৫.৫ মাঝি এমনভাবে কথা বলে যেন সে তার কোনো আত্মীয়বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছে।

উত্তরঃ- যেন–সংশয়াত্মক অব্যয়।

৬. নীচের বাক্যগুলি থেকে সন্ধিবন্ধ পদ খুঁজে নিয়ে তাদের সন্ধি বিচ্ছেদ করোঃ

৬.১ তা ছাড়া চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে গুপ্তঘাতকের দল।

উত্তরঃ- চতুর্দিকে = চতুঃ + দিকে।

৬.২ মৃত্যু-বিভীষিকাময় এই অন্ধকার রাত্রি তাদের উল্লাসকে তীব্রতর করে তুলেছে।

উত্তরঃ- উল্লাস = উৎ + লাস।

৬.৩ নির্জীবের মতো পড়ে রইল খানিকক্ষণ।

উত্তরঃ- নির্জীব = নিঃ + জীব।

৬.৪ দাঁতে দাঁত চেপে হাত-পাগুলোকে কঠিন করে লোকটা প্রতীক্ষা করে রইল একটা ভীষণ কিছুর জন্য।

উত্তরঃ- প্রতীক্ষা = প্রতি + ঈক্ষা।

৬.৫ সমস্ত অঞ্চলটার নৈশ নিস্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে দুবার গর্জে উঠল অফিসারের আগ্নেয়াস্ত্র।

উত্তরঃ-

নিস্তব্ধতা = নিঃ + স্তব্ধতা।
আগ্নেয়াস্ত্র = আগ্নেয় + অস্ত্র।

৭. ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখোঃ চোরাগোপ্তা, পথনির্দেশ, নির্জীব, দীর্ঘনিশ্বাস, পোলামাইয়া।

উত্তরঃ-

চোরাগোপ্তা = চোরা ও গোপ্তা (দ্বন্দ্ব সমাস)।
দীর্ঘ নিশ্বাস = দীর্ঘ যে নিশ্বাস (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
পথনির্দেশ = পথের নির্দেশ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।
পোলামাইয়া = পোলা ও মাইয়া (দ্বন্দ্ব সমাস)।
নির্জীব = নেই জীবন যাতে (নঞ বহুরীহি সমাস)।

৮. নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক বিভক্তি নির্দেশ করোঃ

৮.১ দুদিক থেকে দুটো গলি এসে মিশেছে এ জায়গায়।

উত্তরঃ- জায়গায় = অধিকরণ কারকে ‘য়’ বিভক্তি।

৮.২ সন্দেহের দোলায় তাদের মন দুলছে।

উত্তরঃ- সন্দেহের = সম্বন্ধ পদে ‘এর’ বিভক্তি।

৮.৩ নিষ্ফল কোধে মাঝি দু হাত দিয়ে হাঁটু দুটোকেজড়িয়ে ধরে।

উত্তরঃ- ক্রোধে = করণকারকে ‘এ’ বিভক্তি।

৮.৪ আমাগো কথা ভাবে কেডা?

উত্তরঃ- আমাগো = সম্বন্ধপদে ‘গো’ বিভক্তি, কেডা = কর্তৃ কারকে ‘শূন্য বিভক্তি।

৮.৫ মুহুর্তগুলি কাটে বুদ্ধ নিশ্বাসে।

উত্তরঃ- রুদ্ধ নিশ্বাসে— করণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।

৯. নীচের শব্দগুলিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন কোন নিয়ম কাজ করেছে লেখোঃ

উত্তরঃ-

হেইপারে < সেইপারে (বর্ণবিকার)।
আঙুল < আঙ্গল < অঙ্গলি (বর্ণলোপ, বর্ণাগম)।
নারাইনগঞ্জ < নারায়ণগঞ্জ (মধ্যস্বরলোপ, বর্ণবিকার)।
চান্দ < চন্দ্র (ধ্বনিলোপ, ধ্বন্যাগম)।
ডাইকা < ডাকিয়া (অপিনিহিতি)।

১০. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করোঃ

১০.১ রাত্রির নিস্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে দিয়ে মিলিটারি টহলদার গাড়িটা একবার ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশ দিয়ে একটা পাক খেয়ে গেল। (জটিল বাক্যে)

উত্তরঃ- রাত্রির নিস্তখতাকে কাঁপিয়ে দিয়ে মিলিটারি টহলদার গাড়িটা যখন একবার ভিক্টেরিয়া পার্কের পাশ দিয়ে গেল, তখন তা একটা পাক খেয়ে গেল।

১০.২ খানিকক্ষণ চুপচাপ। (না-সূচক বাক্যে)

উত্তরঃ- খানিকক্ষণ সরব নয়।

১০.৩ পরিচয়কে স্বীকার করতে উভয়েই নারাজ। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)

উত্তরঃ- পরিচয়কে স্বীকার করতে কি উভয়েই রাজি?

১০.৪ শোরগোলটা মিলিয়ে গেল দূরে। (যৌগিক বাক্যে)

উত্তরঃ- শোরগোল হলো এবং তা মিলিয়ে গেলো দূরে।

১০.৫ মাঝি বলল, চল যেদিক হউক। (পরোক্ষ উক্তিতে)

উত্তরঃ- মাঝি শ্রোতাকে যে-কোনো দিকে যেতে বলল।

১১. ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো।

১১.১ কান পেতে রইল দুরের অপরিস্ফুট কলরবের দিকে।

উত্তরঃ- সাধারণ অতীত কাল।

১১.২ সন্দেহের দোলায় তাদের মন দুলছে।

উত্তরঃ- ঘটমান বর্তমান কাল।

১১.৩ ধারে কাছেই য্যান লাগছে।

উত্তরঃ- পুরাঘটিত বর্তমান কাল।

১১.৪ অশান্ত চঞ্চল ঘোড়া কেবলি পা ঠুকছে মাটিতে।

উত্তরঃ- ঘটমান বর্তমান কাল।

১১.৫ বাদামতলির ঘাটে কোন অতলে ডুবাইয়া দিছে তারে—

উত্তরঃ- পুরাঘটিত বর্তমান কাল।

১২. নীচের শব্দগুলির শ্রেণিবিভাগ করোঃ মজুর, লীগওয়ালো, পুলিশ, নসিব, রাত্রি।

উত্তরঃ-

মজুর = ফারসি শব্দ
লীগওয়ালো = মিশ্র শব্দ
পুলিশ = ইংরেজি শব্দ
নসিব = আরবি শব্দ
রাত্রি = তৎসম শব্দ

অতিরিক্ত প্রশ্ন-উত্তর

১. আদাব কথার অর্থ কী?

উত্তরঃ- আদাব কথার অর্থ হলো – ‘সেলাম’।

২. গল্পের দুই প্রধান চরিত্র কী কী?

উত্তরঃ- গল্পের দুই প্রধান চরিত্র হলো সুতোকলের মজুর ও নৌকোর এক মাঝি।

৩. কী উপলক্ষ্যে মাঝি তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যার জন্য নতুন পোশাক কিনেছিল?

উত্তরঃ- ঈদ উপলক্ষে মাঝি তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যার জন্য নতুন পোশাক কিনেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top