দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ২৮. অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান - জয় গোস্বামী

অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান – জয় গোস্বামী

কবি পরিচিতি

১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই নভেম্বর কলকাতায় জয় গোস্বামী জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। এরপর তার পাঁচ বছর বয়সে তারা সপরিবারে রানাঘাট চলে যান। খুবই অল্প বয়সে তার বাবা মারা যায়। রানাঘাট থেকেই তিনি তার বাল্য কালের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তার মা পেশায় একজন শিক্ষিকা ছিলেন। অনেক ছোট বয়স থেকেই তার সাহিত্য জীবনের শুরু হয়। তিনি প্রথম কবিতা লিখেছিলেন ১৩ বছর বয়সে। ১৯৭৬ সাল থেকে দেশ পত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা ছাপা হতে থাকে। ১৯৭৭ সালে তার প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর একের পর এক কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্য কিছু হল- ঝাউপাতা, ভুতুমভগবান, ঘুমিয়েছো, গোল্লা, পাগলী ইত্যাদি। তার লেখনীর জন্য তিনি নানান পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন এমনকি তিনি ২০০০ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারেও ভূষিত হন।

 

সারাংশ

এই কবিতায় কবি যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক অভিনব প্রতিবাদ গড়ে তুলতে চেয়েছেন। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতাটি হিংসায় মত্ত বর্তমান পৃথিবীর হিংস্রতার বিরুদ্ধে এক বিনম্র প্রতিবাদ। পৃথিবী জুড়ে যখন চলছে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, লোভ-লালসায় অন্ধ মানুষ যখন সভ্যতার মেরুদণ্ডের ভীত নাড়িয়ে দিতে ব্যস্ত, শান্তির বাণী যখন ব্যর্থ বলে মনে হয়, তখন সেই অসম লড়াই। তবুও নিজের সীমিত শক্তিকে অতিক্রম করে গিয়ে জীবনের গান গাইতে এগিয়ে আসেন কবি। তাঁর সৃজনীশক্তির কোকিলটি মাথার উপর উড্ডীন স্বার্থপর চিল-শকুনদের উপেক্ষা করে একাই গেয়ে যায় জীবনের গান। তিনি জানেন,একমাত্র এই গান‌ই পারে মানুষকে মানবতা শেখাতে। গান‌ই পারে নদী আর পল্লী প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্যের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিতে।

 

বহু-বিকল্পীয় প্রশ্নোত্তর

১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি  কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) পরশ পাথর 
(খ) পাতার পােশাক
(গ) বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি খাতা
(ঘ) ভুতুম ভগবান

উত্তর – (খ) পাতার পােশাক

২. ” অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান ” কবিতাটি একটি –
(ক) রূপকধর্মী কবিতা
(খ) সাংকেতিক কবিতা
(গ) ব্যঞ্জনধর্মী কবিতা
(ঘ) বিশ্লেষণধর্মী কবিতা

উত্তর – (গ) ব্যঞ্জনধর্মী কবিতা

৩.. “আঁকড়ে ধরে _____ রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে।” – শূন্যস্থানটি পূরণ করাে।
(ক) পুরনো স্মৃতি
(খ) সে-খড়কুটো
(গ) সে বর্মটা
(ঘ) আদুড় গা

উত্তর – (খ) সে-খড়কুটো

৪. কবি হাত নাড়িয়ে কি তাড়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন ?
(ক) বুলেট
(খ) পাখি
(গ) গান
(ঘ) তরবারি

উত্তর – (ক) বুলেট

৫. “গান তো জানি____” –
(ক) একটা দুটো
(খ) দুটো তিনটে
(গ) দুটো চারটে
(ঘ) তিনটে দুটো

উত্তর – (ক) একটা দুটো

৬. “মাথায় কত শকুন বা চিল” – মাথায় শকুন বা চিল ওড়ার অর্থ কী?
(ক) কবি শিকারি পাখিদের পােষ মানিয়েছেন 
(খ) চারিদিকে শকুন ও চিলদের ভিড় 
(গ) সমাজটা যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে
(ঘ) তারা আকাশে রামধনু দেখতে পায়

 উত্তর(গ) সমাজটা যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে

৭. রক্ত মোছা হয় কি দিয়ে?
(ক) জল দিয়ে
(খ) কাপড় দিয়ে
(গ) গান দিয়ে
(ঘ) কথা দিয়ে

উত্তর – (গ) গান দিয়ে

৮. কোকিল কিভাবে গান বাঁধবে?
(ক) সুর দিয়ে
(খ) কথা দিয়ে
(গ) সহস্ত্র উপায়ে
(ঘ) কোনোটিই নয়

 উত্তর – (গ) সহস্ত্র উপায়ে

৯. য়ূরের পালক কার মাথায় গোজা?
(ক) রাখাল বালকের মাথায়
(খ) ঋষি বালকের মাথায়
(গ) কোকিলের মাথায়
(ঘ) সৈনিকের মাথায়

উত্তর – (খ) ঋষি বালকের মাথায়

১০. ঋষি বালক কিসের প্রতীক?
(ক) পবিত্রতার প্রতীক
(খ) জয়ের প্রতীক
(গ) সংগ্রামের প্রতীক
(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর – (ক) পবিত্রতার প্রতীক

১১. কবি কোথায় অস্ত্র রাখতে বলেছেন?
(ক) কবির কাছে
(খ) পুলিশের কাছে
(গ) সৈনিকের কাছে
(ঘ) গানের পায়ে

উত্তর – (ঘ) গানের পায়ে

১২. বুলেট কোন্ জাতীয় শব্দ?
(ক) তৎসম শব্দ
(খ) তদ্ভব শব্দ 
(গ) দেশি শব্দ 
(ঘ) বিদেশি শব্দ

উত্তর – (ঘ) বিদেশি শব্দ

১৩. “বর্ম খুলে দ্যাখাে……..” – বর্ম খুললে কী দেখা যাবে?
(ক) আদুড় গায়ে যেন গান ঋষি বালকের মতাে এসে দাঁড়িয়েছে
(খ) গান মানুষকে নিয়ে নদীতে দেশ-গাঁয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে
(গ) পায়ের কাছে প্রতুর অস্ত্র পড়ে রয়েছে
(ঘ) মাথার ওপরে অজস্ৰ চিল-শকুন উড়ে বেড়াচ্ছে

উত্তর – (ক) আদুড় গায়ে যেন গান ঋষি বালকের মতাে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ‘অস্ত্র ফেলো’ কথাটির মধ্যে নিয়ে কবি কোন দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটান?

উত্তর – জয় গোস্বামী রচিত ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি হিংসা ছেড়ে গান ধরার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।

২. কবি কোথায় অস্ত্র ফেলার কথা বলেছেন?

উত্তর – পায়ে।

৩. ‘অদূর গায়ে’ কথাটির অর্থ কি?

উত্তর – আবরনহীন শরীরে।

৪. বক্তা কিভাবে বুলেট তাড়ান?

উত্তর – হাত নাড়িয়ে।

৫. “গান তো জানি একটা দুটো” – একটা দুটো গান কে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

উত্তর – খড়কুটোর সাথে।

৬. সমাজ সভ্যতার রক্ত কবি কোথায় মুছে ফেলেন?

উত্তর – গানের গায়ে।

৭. কবিতাটির চরণ সংখ্যা কয়টি?

উত্তর –  কবিতাটির চরণ সংখ্যা ১৮ টি এবং চরণ বিন্যাস ৫-৬-৭।

৮. কবিতাটির স্তবক সংখ্যা কয়টি?

উত্তর – তিনটি।

৯. ঋষি বালক-এর মাথায় কি গোজা ছিল?

উত্তর – ঋষি বালক-এর মাথায় ময়ূরের পালক গোজা ছিল।

১০. ‘বর্ম’ কথাটির অর্থ কি?

উত্তর – অস্ত্রের আঘাত থেকে দেহকে রক্ষাকারী পোশাক।

১১. ” আমি এখন…..এগিয়ে আসি ” – কবি কিভাবে এগিয়ে আসেন?

উত্তর – হাজার হাতে পায়ে কবি এগিয়ে আসেন।

১২. কবির সাথে থাকা কোকিল কি করে?

উত্তর – সহস্ত্র উপায়ে গান বাঁধে।

১৩. কবিতায় ‘অস্ত্র রাখো’ শব্দটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে ?

উত্তর – তিনবার।

১৪. কবিতায় অস্ত্র ফেলো শব্দটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?

উত্তর – তিনবার।

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ” হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই ” – কে, কিভাবে বুলেট তাড়ান?

উত্তর – আধুনিক কবি জয় গোস্বামী তার ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্রের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছেন। কবিতার তিনটি স্তবক এর ১৮ টি চরণের অভ্যন্তরে সভ্যতা বিরোধী আক্রমণ রুখতে কবি কলম ধরেছেন। অস্ত্রের মোকাবিলা করার জন্য মানুষকে সংঘটিত করাটা কবির জরুরি বলে মনে হয়েছে। সাধারণ মানুষজনকে একত্রিত করে হাজারো হাত-পা লাভে সমর্থ হবেন, তখন মানুষের শক্তির কাছে সব আক্রমণ প্রতিহত হয়ে যায় বলেই কবি হাত দিয়ে বুলেট তাড়ানোর হিম্মত দেখান ।

২. ” আমার শুধু একটা কোকিল ” – কোকিল টির স্বরূপ উদঘাটন করো।

উত্তর – কোকিল বসন্তের দূত। সে সু-কন্ঠের অধিকারী। তার সুরেলা ধ্বনিতে পৃথিবীতে বসন্ত আসে। মানুষের মনে প্রেমের জোয়ার বয়ে যায়। কবি এই কোকিলের রূপে মানব প্রেমের গান কে আশ্রয় করেছেন। এই গান মানবিকতার সুরে বাধা প্রভাব ও সর্ব বিস্তারি। এই গানের ভিত্তি ভালোবাসা। ব্যক্তি প্রেম এক সময় মানুষকে হিংসা ভুলিয়ে দেয়। মানুষ তখন আর দানবীয় শক্তিকে আশ্রয় করে রক্ত ঝরাতে পারে না। মানুষ শান্ত প্রশমিত হয়ে পৃথিবী কে হিংসামুক্ত রাখবে। আর তা সম্ভব হবে কবি কথিত ‘একটা কোকিল’ কে আশ্রয় করেই।

৩. ” গান তো জানি একটা দুটো / আঁকড়ে ধরে সে খড়কুটো ” – কবি গানকে কিভাবে গ্রহণ করেছেন?

উত্তর – সভ্যতা বিরোধী যত আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে কবি সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে গানকে হাতিয়ার করেছেন। গানে ভুবন ভরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি সাহস না থাকলেও সীমিত সামর্থ্য একটা গানকে আঁকড়ে ধরেই তিনি সভ্যতা বাঁচানোর প্রাণপণ সংগ্রাম করে চলেছেন।

৪. ” অস্ত্র ফেলো,অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে ” –  বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ মানুষের ওপর মানুষের আক্রমণে কবি বেদনাবিধুর। এরূপ অবস্থায় সৃজনশীল মানুষেরা চুপ করে থাকতে পারে না। মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি সহজেই পৌঁছানো যায় গান দিয়ে। কারণ শব্দ অপেক্ষা সুর হৃদয় স্পর্শ করে তাড়াতাড়ি। আর সেই সুরের কাছে শত্রু ও পদানত হতে বাধ্য । তাই কবির অভিমত অস্ত্র পরিত্যাগ করে গানের চরণে আত্মসমর্পণ করা জরুরি।

৫. ” গানের বর্ম আজ পড়েছে গায়ে ” – বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর – ‘গানের বর্ম’ কথার সাধারণ অর্থ গান দ্বারা বানানো বক্ষঃস্ত্রান। কিন্তু বাস্তবে তা অসম্ভব। আমরা জানি গানের সুরে উদ্দীপ্ত হয়ে সৈন্যরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। তারা মরতে ভয় পান না। গানের প্রভাবে মানুষ নির্ভীক দৃপ্ত ভঙ্গিতে বুলেটকে কামানের গোলাকে অবহেলা করতে পারে। গানের এই সীমাহীন শক্তিকে বোঝাতে কবি ‘গানের বর্ম আজ পড়েছি বলেছেন’।

৬. বর্ম খুলে দেখো আদুর গায়ে” – বর্ম খুলে দেখার মধ্যে কবি কি দেখতে চেয়েছেন ?

উত্তর – অহমিকা আর নারকীয় জান্তবতার বর্ম পরিত্যাগ করে স্নেহ-মমতার অনাবিল হৃদয়বত্তায় পারিপাশ্ব কে দর্শন করলেই যে গানকে দেখা যায়, তা ময়ূর পালক মাথায় গোজা এক ঋষি বালক এর অবয়ব। কবি তাই দেখার কথা বলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top