৪. অভিব্যক্তি ও অভিযোজন

অভিব্যক্তি ও অভিযোজন

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

১. প্রাণের উৎপত্তির জন্য কোন যৌগটি সবচেয়ে প্রয়োজন – প্রোটিন/ উৎসেচক/ নিউক্লিক অ্যাসিড /শর্করা ।

উত্তর – নিউক্লিক অ্যাসিড।

২. জীবনের উৎপত্তির রাসায়নিক তত্ত্বটি প্রকাশ করেন – মিলার ও ফক্স/ ওপারিন ও হ্যালডেন/ মিলার ও ওয়াটসন/ ওয়াটসন ও ক্রিক ।

উত্তর – ওপারিন ও হ্যালডেন।

৩. “যোগ্যতমের উদবর্তন” কথাটির সমর্থক কে ? – ল্যামার্ক/ ডারউইন/ দ্য ভ্রিস্ /স্পেন্সার ।

উত্তর – ডারউইন।

৪. “অরিজিন অফ স্পিসিস” বইটি কার লেখা ? – ল্যামার্ক/ ডারউইন/ দ্য ভ্রিস্/ স্পেন্সার।

উত্তর – ডারউইন।

৫. ডারউইন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় টি হল – পৃথক ভবন /স্বাধীন বন্টন /প্রাকৃতিক নির্বাচন /উত্তরাধিকার।

উত্তর – প্রাকৃতিক নির্বাচন।

৬. “অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম” কার মতবাদ -ডারউইন /মেন্ডেল/ ল্যামার্ক /ভাইসম্যান।

উত্তর – ডারউইন।

৭. ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষ কোনটি ? – প্লায়ওহিপ্পাস / ইওহিপ্পাস /মেসোহিপ্পাস/ইকুয়াস।

উত্তর – ইওহিপ্পাস।

৮. কোনটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ নয় ?- গিনিপিগের সিকাম /মানুষের ককসিস/ মানুষের কানের বেশি / পুরুষ মানুষের স্তন গ্রন্থি।

উত্তর – গিনিপিগের সিকাম।

৯. কোন প্রাণীর হৃদপিন্ড একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় নিয়ে গঠিত ? – মাছ /ব্যাঙ /সরীসৃপ/ পক্ষী।

উত্তর – মাছ।

১০. কোনটি জেরোফাইট উদ্ভিদ ? – সুন্দরী/ ক্যাকটাস/ বট/ পদ্ম।

উত্তর – ক্যাকটাস।

১১. পায়রার বায়ুথলি কটি Air Sac থাকে ? –  সাতটি / ছয়টি/ নয়টি/ দশটি।

উত্তর – নয়টি।

১২. পটকার কোথায় রেড গ্রন্থি থাকে ? -অগ্র প্রকোষ্টে/ পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে/ উভয় প্রকোষ্ঠে/ কোনোটিই নয়।

উত্তর – অগ্র প্রকোষ্ঠে।

১৩. নিউম্যাটোফোর কোথায় দেখা ? – হ্যালোফাইট উদ্ভিদে/ জেরোফাইট উদ্ভিদে/ মেসোফাইট উদ্ভিদে/ হাইড্রোফাইট উদ্ভিদে।

উত্তর – হ্যালোফাইট উদ্ভিদে।

১৪. মৌমাছির ওয়াগটেল নিত্য দেখতে কেমন ? – S আকৃতির / J আকৃতির/ 9 আকৃতির/ 8 আকৃতির।

উত্তর – 8 আকৃতির।

১৫. উটের লোহিত রক্ত কণিকা দেখতে কেমন ? – ডিম্বাকার নিউক্লিয়াসযুক্ত /ডিম্বাকার নিউক্লিয়াসবিহীন /গোলাকার নিউক্লিয়াস যুক্ত/ গোলাকার নিউক্লিয়াস বিহীন।

উত্তর – ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস যুক্ত।

১৬. উটের দেহ কোষে জল সরবরাহ হয় – মূত্রাশয় থেকে/ পাকস্থলী থেকে/ কুঁজের চর্বি থেকে/ চামড়ার নিচে চর্বি থেকে।

উত্তর – কুঁজের চর্বি থেকে।

১৭. উটের দেহ থেকে জল বাস্পীভবন রোধের একটি উপায় হলো – মূত্র ত্যাগ না করা/ চামড়া পুরু হওয়া/চোখের পল্লবলোম বড়ো হওয়া /পদতলে চ্যাপ্টা প্যাড থাকা।

উত্তর – চামড়া পুরু হওয়া।

১৮. পর্ন কান্ড হলো – পরিবর্তিত পাতা /পরিবর্তিত কান্ড/রূপান্তরিত বৃন্ত/ কোনোটিই নয়।

উত্তর – পরিবর্তিত কান্ড।

১৯. শ্বাসমূল থাকে – সুন্দরী গা/ বটগাছে/ ক্যাকটাস উদ্ভিদে/ পদ্ম গাছে।

উত্তর – সুন্দরী গাছে।

২০. রাসায়নিক বিবর্তনবাদ কার মতবাদ ? – ওপারিন/ ল্যামার্ক/ হ্যালডেন /ওপারিন ও হ্যালডেন।

উত্তর – ওপারিন ও হ্যালডেন।

২১. প্রথম জীবন সৃষ্টি হয়েছিল কোথায় ? – মহাশূন্যে/ বায়ুমন্ডলে/ বারিমন্ডলে/ সমুদ্রে ।

উত্তর – সমুদ্রে।

২২. সমসংস্থ অঙ্গ গঠিত হয় কি কারনে ? – অপসারী অভিব্যক্তি কারণে/ অভিসারী অভিব্যক্তি কারণে /অপসারী ও অভিসারী উভয়ের কারণে/ কোনটির ঠিক নয়।

উত্তর – অপসারী অভিব্যক্তি কারণে।

২৩. কুমিরের হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যা হল – তিনটি/ দুটি/ চারটি/ ছয়টি।

উত্তর – চারটি।

২৪. নিচের কোনটি মাছের যুগ্ম পাখনা – শ্রোণী পাখনা/ পৃষ্ঠ পাখনা /পুচ্ছ পাখনা/ পায়ু পাখনা।

উত্তর – শ্রোণী পাখনা।

২৫. নিউম্যাটোফোর হলো – কান্ড রন্ধ্র/ শ্বাসরন্ধ্র/ পত্ররন্ধ্র/ কোনটি সঠিক নয়।

উত্তর – কোনটি সঠিক নয়।

২৬. ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্রের প্রবক্তা হলেন – ল্যামার্ক /ডারউইন/ মিলার/ হ্যালডেন।

উত্তর – ল্যামার্ক।

২৭. আধুনিক দীর্ঘকায় এক অঙ্গুলিযুক্ত চতুষ্পদ ঘোড়া বৈজ্ঞানিক নাম হল – মেরিচিপ্পাস/ ইওহিপ্পাস/প্লায়ও হিপ্পাস/ইকুয়স ।

উত্তর – ইকুয়াস।

২৮. তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানা হলো- সমবৃত্তীয় অঙ্গ/ নিষ্ক্রিয় অঙ্গ/ সমসংস্থ অঙ্গ/ প্রতিস্থাপিত অঙ্গ।

উত্তর – সমসংস্থ অঙ্গ।

২৯. অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠ যুক্ত বা নিলয় আংশিক বিভেদ প্রাচীর যুক্ত হৃদপিণ্ড দেখা যায় – মাছে/ সরীসৃপে/ উভচরে/ পাখিতে ।

উত্তর – সরীসৃপে।

৩০. দুই প্রকোষ্ঠ যুক্ত এবং শুধুমাত্র অক্সিজেন বিহীন রক্ত পরিবহনকারী হৃদপিণ্ড বর্তমান – ব্যাং/ স্যালাম্যান্ডার/ রুই মাছ/ বানোর ।

উত্তর – রুই মাছ।

 

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

১. প্রথম জীবনের উৎপত্তি কোথায় হয়েছিল ?

উত্তর – আনুমানিক 300 কোটি বছর আগে সমুদ্রের জলে জীবের আবির্ভাব হয়েছিল বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

২. শর্করা রাসায়নিক উপাদান গুলি কি ছিল ?

উত্তর – হাইড্রক্সি যৌগ গুলি যেমন কার্বন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন শর্করা সৃষ্টি হয়েছিল।

৩. গরম তরল স্যুপ কোথায় সৃষ্টি হয়েছিল ?

উত্তর – সমুদ্রের জলে।

৪. কোয়াসারভেট তত্ত্বের প্রবক্তা কে ?

উত্তর – ওপারিন।

৫. মিলার ও উরের পরীক্ষার প্রধান উপাদান গুলি কি ছিল ?

উত্তর – মিথেন, অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন।

৬. ল্যামার্কের গ্রন্থের নাম কি ?

উত্তর – ফিলোসোফি জুওলজিক।

৭. ডারউইনের গ্রন্থের নাম কি ?

উত্তর – On the origin of species by means of natural selection.

৮. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার কার মতবাদ ?

উত্তর – ল্যামার্ক।

৯. প্রাকৃতিক নির্বাচন কার মতবাদ ?

উত্তর – ডারউইন।

১০. ল্যামার্ক এর বিপক্ষে কোন বিজ্ঞানী মত পোষণ করেন ?

উত্তর – বিজ্ঞানী ভাইসম্যান ।

১১. ডারউইন যে জাহাজে করে ভ্রমণ করেছিলেন তার নাম কি ছিল ?

উত্তর – HMS beagle.

১২. ‘অস্তিত্বের জন্য জীবন সংগ্রাম’ কার মতবাদ ?

উত্তর – ডারউইন।

১৩. মিউটেশন তত্ত্বের প্রবক্তা কে ছিলেন ?

উত্তর – হুগো দ্যা ভ্রিস্।

১৪. আধুনিক ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষের নাম কি ছিল ?

উত্তর – ইওহিপ্পাস।

১৫. আধুনিক ঘোড়ার নাম কি?

উত্তর – ইকুয়াস।

১৬. একটি সমবৃত্ত অঙ্গের উদাহরণ দাও ।

উত্তর – পতঙ্গের ডানা, পাখির ডানা এবং বাদুড়ের ডানা।

১৭. সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্ত অঙ্গের মধ্যে কোনটি অভিসারী অভিযোজন এর উদাহরণ ?

উত্তর – সমবৃত্তীয় অঙ্গ।

১৮. কোন প্রাণীর হৃদপিন্ড কে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে ?

উত্তর – মাছ।

১৯. কোন উদ্ভিদে পর্নো কান্ড দেখা যায়?

উত্তর – ফনিমনসা বা ক্যাকটাস।

২০. মোচন রোধ এর জন্য ক্যাকটাসের কোন অঙ্গ কাটায় রূপান্তরিত হয়েছে ?

উত্তর – পাতা ।

২১. মাছের কোন অঙ্গ মাছকে জলে ডুবতে ও ভাসতে সাহায্য করে ?

উত্তর – পটকা।

২২. পায়রার বায়ুথলির সংখ্যা কটি ?

উত্তর – নয়টি।

২৩. শ্বাসমূল কোন গাছে দেখা যায় ?

উত্তর – সুন্দরী গাছে।

২৪. উটের লোহিত রক্ত কণিকার একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো ।

উত্তর – এটি গোলাকার নিউক্লিয়াস যুক্ত।

২৫. উটের জল ক্ষয় রোধের একটি উপায় উল্লেখ করো।

উত্তর – এদের দেহতত্ত্ব থেকে বাষ্পীভবন প্রতিরোধ করার জন্য চামড়া খুবই পুরু এবং রোম যুক্ত হয়।

২৬. বায়োজেনেসিস তত্ত্বের প্রবক্তা কে ?

উত্তর – লুই পাস্তুর।

২৭. জার্ম প্লাজম তত্ত্বটি কে প্রবর্তন করেন ?

উত্তর – বিজ্ঞানী ভাইসম্যান।

২৮. পাখির ডানার সঙ্গে উৎপত্তিগতভাবে ঘোড়ার কোন অঙ্গের মিল আছে ?

উত্তর – অগ্রপদ।

২৯. ডারউইনবাদ অনুযায়ী প্রকরণ সৃষ্টির কারণ কি ?

উত্তর – অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম।

৩০. পুরুষের স্তন গ্রন্থি কি প্রকার অঙ্গ ?

উত্তর – নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।

 

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

১. জীব বিবর্তন বা জৈব অভিব্যক্তি কাকে বলে ?

উত্তর – যে মন্থর গতিশীল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোন উদবংশীয় সরলতম জীব থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল জীবের উদ্ভব হয় ,তাকে অভিব্যক্তি বা জৈব অভিব্যক্তি বা জৈব বিবর্তন বলে।

২. ‘গরম তরল স্যুপ’ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল ?

উত্তর – বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ যেমন অ্যাসিটিলিন, মিথেন, ইথিলিন, অ্যালডিহাইড , কিটোন ,গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ ,শ্বেতসার ,ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, সমুদ্রের জলে মিশে সৃষ্টি হয়েছিল গরম তরল স্যুপ।

৩. কোয়াসারভেট কাকে বলে?

উত্তর –  প্রোটিন গুলি গরম তরল স্যুপ থেকে আলাদা হয়ে একসঙ্গে জড়ো হয়ে যে কলয়েড জাতীয় পদার্থ গঠন করেছিল তাকে কোয়াসারভেট বলা হয়। কোয়াসারভেট হল লিপিড, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট দ্বারা গঠিত এমন এক স্বত্তা যাতে কোষ পর্দার মতো দ্বিস্তরী আবরণ থাকে। কোয়াসারভেট মতবাদের প্রবক্তা ছিলেন ওপারিন।

৪. মাইক্রোস্ফিয়ার কি ?

উত্তর – বিজ্ঞানী ফক্স এর মতে প্রথম কোষ সৃষ্টি হয় মাইক্রোস্ফিয়ার থেকে। মাইক্রোস্ফিয়ার হল অর্ধভেদ্য পর্দা বিশিষ্ট প্রধানত প্রোটিনের একটি গঠন। কোয়াসারভেট বা মাইক্রোস্ফিয়ার এর সঙ্গে নিউক্লিক অ্যাসিড যুক্ত হয়ে প্রথম কোষ বা প্রোটোসেল উৎপন্ন হয়েছিল ।

৫. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার এর সূত্রটি ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর – পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার উদ্দেশ্যে জীব দেহের কোন অঙ্গের বেশি মাত্রায় ব্যবহার ঘটে আবার কোন কোন অঙ্গের ব্যবহার কমে যায়। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট অঙ্গ গুলি সবল ও সুগঠিত হয়। অপরপক্ষে ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে অঙ্গগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং কালক্রমে অবলুপ্ত হয় । ল্যামার্ক প্রদত্ত এই তথ্যকে ব্যবহার ও অব্যবহার এর সূত্র রূপে গণ্য করা হয়।

৬. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার কিভাবে ঘটে ?

উত্তর – পরিবেশের প্রভাবে জীবের জীবন কালে যেসব বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় তা পরবর্তী প্রজন্মের জীবে সঞ্চারিত হয়। এইভাবে প্রতি প্রজন্মে অর্জিত সামান্য মাত্রার পরিবর্তন পরবর্তী প্রজন্মে জমা হতে হতে কালক্রমে তা একটা বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দেয়। এই ভাবে জীবের বিবর্তন ঘটে।

৭. ল্যামার্কের মতবাদ এর স্বপক্ষে দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর – i) ল্যামার্ক এর মতে খর্ব গলা যুক্ত জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য গলা ও সামনের পা প্রতি প্রজন্মে একটু একটু করে লম্বা হয়ে বর্তমানকালের লম্বা গলা ও পা বিশিষ্ট জিরাফের আবির্ভাব হয়েছে।

ii) উটপাখির পূর্বপুরুষের সক্রিয় ডানা ছিল এবং আকাশে উঠতে পারত কিন্তু বংশানুক্রমে ডানার ব্যবহার না করার ফলে এখন লুপ্তপ্রায় অঙ্গে পরিণত হয়েছে।

৮. প্রাকৃতিক নির্বাচন বাদ কাকে বলে ?

উত্তর – চার্লস ডারউইনের মতে এই পৃথিবীতে একদিকে সীমিত খাদ্য ও বাসস্থান, অন্যদিকে অত্যধিক হারে বংশ বৃদ্ধির ফলে জীবকে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। উন্নত প্রকরণ যুক্ত জীবেরা জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়, ঘটে যোগ্যতমের উদবর্তন। অনুকূল ভেদ বা প্রকরণ যুক্ত জীবেরা প্রকৃতি দ্বারা নির্বাচিত হয়ে সব রকমের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে একেই বলে প্রাকৃতিক নির্বাচন।

৯. ভেদ বা  প্রকরণ কি ?

উত্তর – ডারউইনের মতে পৃথিবীতে দুটি জীব কখনোই অবিকল একই রকমের হতে পারে না অর্থাৎ দুটি জীবের মধ্যে কিছু না কিছু পার্থক্য বা ভেদ থাকবেই। এমনকি একই পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের মধ্যে কিছু না কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ডারউইন মনে করতেন যে অবিরত সংগ্রামের ফলে জীবদেহে প্রকারভেদ স্পষ্ট হয় যা প্রজননকাল অপসারিত হয়ে থাকে এবং পরিশেষে জীবের বৈশিষ্ট্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে ।ডারউইনের ধারণা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধারাবাহিক পরিবর্তনই ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভব এর জন্য দায়ী।

১০. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম কিভাবে ঘটে ?

উত্তর – একদিকে সীমিত খাদ্য, বাসস্থান অপর দিকে অত্যাধিক হারে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়, একেই অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে ।এই সংগ্রাম প্রধানত দুই রকমের হতে পারে-

i) আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম অর্থাৎ বিভিন্ন প্রজাতি ভুক্ত জীবদের মধ্যে সংগ্রাম
ii) অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম অর্থাৎ নিজ প্রজাতি ভুক্ত জীবদের মধ্যে সংগ্রাম।

১১. নয়া ডারউইনবাদ কি?

উত্তর – ভাইসম্যান, দ্যা ভ্রিস্, গোল্ডস্মিথ, হ্যালডন প্রমূখ বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিকগণ ডারউইনের মতবাদ কে নতুন ভাবে বিশ্লেষণ করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তাকে নয় ডারউইনবাদ বা আধুনিক সংশ্লেষনবাদ বলে।

১২. ডারউইন বাদের দুটি ত্রুটি উল্লেখ করো ।

উত্তর –

i) ডারউইন যোগ্যতমের উদবর্তন এর কারণ ব্যাখ্যা করতে অপারগ ছিলেন।
ii) ডারউইন প্রকরণ এর উৎপত্তি সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

১৩. সমসংস্থ অঙ্গ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর – যেসব অঙ্গের গঠন একই প্রকার কিন্তু কাজ আলাদা তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে ।যেমন- ব্যাঙের অগ্রপদ, পাখির ডানা, তিমির ফ্লিপার, ঘোড়ার অগ্রপদ ,মানুষের হাত ইত্যাদি।

১৪. সমবৃত্তীয় অঙ্গ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর – যেসব অঙ্গ একই কাজ করে কিন্তু গঠন আলাদা তাদের সমবৃত্ত অঙ্গ বলে। উদাহরণ- পতঙ্গের ডানা ,পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা ইত্যাদি।

১৫. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর – জীবিত উদ্ভিদ এবং প্রাণী দের এমন কিছু অঙ্গের হদিস মেলে যেগুলি ঐ সমস্ত জীবের পূর্ব পুরুষের দেহে সুগঠিত এবং কর্মক্ষম ছিল। কিন্তু ক্রমবিবর্তনের ফলে বর্তমান প্রজন্মের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত ছোট আকারের কর্মহীন অঙ্গে পরিণত হয়েছে ।এগুলিকে লুপ্তপ্রায় বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। যেমন অ্যাপেন্ডিক্স, পুরুষের স্তন বৃন্ত ইত্যাদি।

১৬. উভচর সরীসৃপ ও পাখির হৃদপিন্ডের বৈশিষ্ট্য কি ?

উত্তর – এদের হৃদপিন্ডের ডানদিকে কম অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় এবং বাম দিকে বেশি অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়। এদের হৃদপিন্ডে দুবার রক্ত প্রবেশ করে বলে এদের হৃদপিণ্ডকে দ্বিচক্রি হৃদপিণ্ড বলে।

১৭. ভেনাস হৃৎপিণ্ড কাকে বলে?

উত্তর – মাছের হৃদপিন্ডের মধ্যে দিয়ে কম অক্সিজেনযুক্ত রক্ত চলাচল করে ।এই কারণে মাছেদের হৃৎপিণ্ড কে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে।

১৮. ভ্রুণ অবস্থায় মেরুদন্ডী প্রাণীদের কি কি মিল খুঁজে পাওয়া যায় ?

উত্তর –

a) গলবিল অঞ্চলে বহিঃস্থ ফুলকা খাঁজ ।
b) একসারি অন্তঃস্থ যুগ্ম ফুলকা থলি ।
c) লেজ সদৃশ্য গঠনে উপস্থিত খন্ডকের মত সজ্জিত মায়োটোম পেশি।

১৯. ক্যাকটাসের বাষ্প মোচন রোধ করার জন্য পাতার কিরূপ পরিবর্তন হয়েছে ?

উত্তর – ক্যাকটাসের বাষ্প মোচন রোধ করার জন্য পাতা কাটায় রূপান্তরিত হয়েছে। কোন কোন ক্যাকটাসের পাতা থাকলেও তারা সংখ্যায় কম এবং আকারে ছোট হয়।

২০. রুই মাছের পটকার কাজ কি? এটি কোথায় থাকে?

উত্তর – রুই মাছের দেহ গহবরে মেরুদণ্ডের নিচের দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট পটকা থাকে। পটকা মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়েও বাড়িয়ে মাছকে জলের ওপরে  ভাসতে ও ডুবতে সাহায্য করে।

২১.পায়রার ফুসফুসের সঙ্গে বায়ুথলি যুক্ত থাকার সার্থকতা কি ?

উত্তর – পায়রার ফুসফুসের বায়ুথলির গুলি বায়ু পূর্ণ থাকায় পায়রার দেহে হালকা করে এবং উড্ডয়নকালে অক্সিজেন সরবরাহ করে ।এই কারণে পায়রা সহজে ক্লান্ত হয় না।

২২. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল এর সার্থকতা কি ?

উত্তর – সুন্দরী গাছের মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে না, মাটির অল্প নিচে বিস্তৃত থাকে। সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের সরবরাহ কম হওয়ার জন্য শাখা-প্রশাখা অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির উপরে উঠে আসে শ্বাসমূল গঠন করেছে। এই মূলে অসংখ্য শ্বাস রন্ধ্র থাকে। এই রন্ধ্রের সাহায্যে গাছ বায়ু থেকে অক্সিজেন শোষণ করে।

২৩. শিম্পাঞ্জিদের একটি আচরণ উল্লেখ করো ।

উত্তর – এরা শক্ত কাঠ বা পাথরের টুকরো কে হাতুড়ি ও নেহাই এর মত ব্যবহার করে বাদামের খোসা ছাড়ায়।

২৪. মৌমাছিদের একটি আচরণ উল্লেখ করো।

উত্তর – মৌমাছিরা খাদ্যের উৎস এর 100 মিটারের মধ্যে থাকলে এরা চক্রাকার নৃত্য প্রদর্শন করে।

২৫. উটের লোহিত রক্ত কণিকার বৈশিষ্ট্য কি ?

উত্তর – উটের লোহিত রক্ত কণিকা গুলি অপেক্ষাকৃত বড়, ডিম্বাকার এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। এই ধরনের RBC জল নিরুদণ হ্রাস করে। ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকা জল নিরুদনকালেও সহজেই রক্তস্রোতে প্রবাহিত হতে পারে এবং উট যখন প্রচুর জল পান করে, তখন RBC গুলি বিদীর্ণ হয় না।

২৬. উটের জল নিরুদন হ্রাস করার জন্য দুটি অভিযোজন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তর –

a. এদের দেহত্বক থেকে বাষ্পীভবন প্রতিরোধ করার জন্য চামড়া খুবই পুরু ও রোম যুক্ত হয়।
b. এদের কুজে সঞ্চিত ফ্যাট বিপাক ক্রিয়ায় বিশ্লিষ্ট হয়ে জল উৎপন্ন করে সারা দেহ কোষের সরবরাহ করে।

২৭. আচরণের মাধ্যমে জীবের অভিযোজন এর দুটি উদাহরণ দাও ।

উত্তর –

a) বিকট গন্ধ জীবের বিরক্তি প্রকাশ।
b) কোন কোন প্রাণী দেহটি কাঠির মত রুপ নিয়ে পতঙ্গভুক প্রাণী দের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করে।

২৮. মুখ্য ও গৌণ অভিযোজন কাকে বলে উদাহরণ দাও।

উত্তর –

মুখ্য অভিযোজন : বিবর্তনের মাধ্যমে যে পরিবেশে জীবের জন্ম ও বিকাশ ঘটে সেই পরিবেশে অভিযোজন ঘটলে তাকে মুখ্য অভিযোজন বলে। যেমন রুই মাছের আদি বাসস্থান এবং বর্তমান বাসস্থান ও একই।

গৌণ অভিযোজন : কোন নির্দিষ্ট পরিবেশে কোন জীবের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটলেও কোন বিশেষ কারণে সেই জীবকে অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার উপযোগী অভিযোজন কে গৌণ অভিযোজন বলে। যেমন- তিমি , কচ্ছপ , কুমির ইত্যাদি পূর্বে ঢাকায় বসবাস করলেও বর্তমানে জলে বসবাস করে।

২৯. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম কাকে বলে ? এটি কোথায় দেখা যায় ?

উত্তর – গাছে ফল থাকা অবস্থায় বীজের অঙ্কুরোদগম হলে তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।

সুন্দরী গাছ এরকম জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায় না। রাইজোফোরা , গেওয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।

৩০. পেকটিন কাকে বলে? এর গুরুত্ব লেখ।

উত্তর – পায়রার চোখের রেটিনায় চিরুনির নয় আকৃতির কালো বর্ণের প্রোটিন নির্মিত যে বিশেষ অংশ পায়রার দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে তাকে পেকটিন বলে।

পেকটিন পায়রার দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে ফলে আকাশের অনেক উপর দিয়ে গেলেও নিচের বস্তকে ভালো দেখতে পায়।

 

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন

১. অভিব্যক্তি কাকে বলে ? জৈব যৌগের উৎপত্তি কিভাবে ঘটেছিল তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর – যে মন্থর গতিশীল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোন উদবংশীয় সরলতম জীব থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল জীবের উদ্ভব হয়, তাকে অভিব্যক্তি বলে ।

জৈব যৌগের উৎপত্তি : বিভিন্ন প্রকারের জৈব যৌগ ধাপে ধাপে সৃষ্টি হয়েছিল –
a) হাইড্রোকার্বন সৃষ্টি : প্রথম যে কার্বন যৌগ সৃষ্টি হয়েছিল সেটি হল হাইড্রোকার্বন। যেমন –  অ্যাসিটিলিন ,মিথেন, ইথিলিন ইত্যাদি ।
b) কার্বনের অক্সি ও হাইড্রক্সি যৌগ গঠন : সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন উত্তপ্ত বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সৃষ্টি হয়েছিল অক্সি ও হাইড্রক্সি যৌগ। অ্যালডিহাইড,কিটোন এবং অ্যাসিড ইত্যাদি।
c) শর্করা সৃষ্টি : হাইড্রক্সি যৌগ গুলি কার্বন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন শর্করা সৃষ্টি হয়েছিল।
d) স্নেহপদার্থ গঠন : অ্যালডিহাইড এবং কিটোন প্রথমে ঘনীভূত হয়ে পলিমার গঠন করে এবং তাদের জারণের ফলে ফ্যাটি অ্যাসিড গঠিত হয়। আদি সমুদ্রে ফ্যাটি এসিড যুক্ত হয়ে স্নেহপদার্থ সৃষ্টি হয়।
e) অ্যামাইনো অ্যাসিড গঠন : হাইড্রোকার্বন যৌগ গুলি অ্যামোনিয়া এবং জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যামাইনো অ্যাসিড গঠন করে।

২. রাসায়নিক সংশ্লেষণ মতবাদ ব্যাখ্যা করার জন্য মিলার ও উরের পরীক্ষা টি বর্ণনা করো।

উত্তর – 1953 খ্রিস্টাব্দে জৈব রসায়নবিদ স্ট্যানলি মিলার  এবং হ্যারল্ড উরে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে জীবের জৈব রাসায়নিক উৎপত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন। পরীক্ষার জন্য তারা মোটা কাচের একটি গোলকের মধ্যে পৃথিবীতে জীবন সৃষ্টির আগে কার পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এর জন্য একটি ফ্লাস্কে জলকে উত্তপ্ত করে জলীয় বাষ্পের মধ্যে প্রবেশ করান। এছাড়া ঐ গোলকে রাখেন মিথেন ,অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন গ্যাস। টাংস্টেন ইলেকট্রোডের মাধ্যমে ফ্লাস্কের ভিতর ক্রমাগত তড়িৎ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করেন। তড়িৎ স্ফুলিঙ্গের মধ্য দিয়ে গ্যাস এর মিশ্রণকে প্রবাহিত করার পর কনডেনসার এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে তা ঘনীভূত করেন। ঘনীভূত করার পর বাবা তরল মিশ্রণটি বিশ্লেষণ করে অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা জীবের দেহ গঠনের মূল ভিত্তি। আরে থেকেই প্রমাণিত হয় যে পৃথিবীতে আদি বিজারক পরিবেশে অজৈব পদার্থ থেকে জৈব পদার্থের সৃষ্টি হয়েছিল।

৩. ল্যামার্কের মতবাদ যেসব তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত সেগুলি সংক্ষেপে লেখ ।

উত্তর –

ল্যামার্কের মতবাদ নিম্নলিখিত তত্ত্ব গুলির উপর প্রতিষ্ঠিত –
a) পরিবেশের প্রভাব : ল্যামার্ক এর মতে জীবদেহের গঠনগত পরিবর্তনে পরিবেশের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ।পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে জীবের স্বভাব ও দেহেরও পরিবর্তন ঘটে। পরিবেশের পরিবর্তন মাটি ,খাদ্য ও তাপমাত্রার উপর প্রভাব ফেলে এবং সেই কারণেই প্রাণীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অভিযান করে।
b) অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার এর সূত্র : পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা উদ্দেশ্যে জীব দেহের কোন অঙ্গের বেশি মাত্রায় ব্যবহার ঘটে আবার কোন কোন অঙ্গের ব্যবহার কমে যায়। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট অঙ্গগুলি সবল ও সুগঠিত হয়। অপরপক্ষে ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে অব্যবহৃত অঙ্গ গুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং কালক্রমে অবলুপ্ত হয়।
c) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র : পরিবেশের প্রভাবে জীবের জীবন কালে যেসব বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় তা পরবর্তী প্রজন্মের জীবে সঞ্চারিত হয়। এইভাবে প্রতি প্রজন্মে অর্জিত সামান্য মাত্রার পরিবর্তন পরবর্তী প্রজন্মে জমা হতে হতে কালক্রমে তা একটা বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দেয়। এভাবে জীবের বিবর্তন ঘটে।
d) নতুন প্রজাতির উৎপত্তি : ল্যামার্ক এর তথ্য অনুযায়ী অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরন এর ফলে এবং প্রতিটি জনু তে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জিত হওয়ার ফলে ধীরে ধীরে একটি প্রজাতি থেকে আরেকটি নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয় ।

৪. ল্যামার্কের মতবাদ এর স্বপক্ষে তিনটি এবং বিপক্ষে দুটি উদাহরণ দাও ।

উত্তর –

ল্যামার্কের মতবাদ এর স্বপক্ষে উদাহরণ :
a) সাপের পূর্বপুরুষের গিরগিটির মত চারটি পা ছিল। কিন্তু ভূগর্ভ অভিযোজন এর জন্য ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে বর্তমান সাপের পা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে।
b) ল্যামার্ক এর মতে খর্ব গলা যুক্ত জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য গলা ও সামনের পা প্রতি প্রজন্মে একটু একটু করে লম্বা হয়ে বর্তমানকালের লম্বা গলা ও পা বিশিষ্ট জিরাফের আবির্ভাব হয়েছে।
c) স্থলচর পাখি খাদ্যের খোঁজে জলে যাওয়ার পর ক্রমাগত সাঁতার কাটার ফলে পায়ের আঙুলগুলি অন্তর্বর্তী স্থানে পাতলা চামড়া সংযুক্ত হয়ে লিপ্তপদ পরিণত হয়েছে। যেমন- হাঁসের লিপ্তপদ।

ল্যামার্ক এর মতবাদ এর বিপক্ষে উদাহরণ :
a) বিজ্ঞানী ভাইসম্যান ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে ল্যামার্কের মতবাদ কে নাকচ করেছেন ।তিনি এক জোড়া ইঁদুর দম্পতির লেজ কেটে দিয়ে তাদের প্রজনন ঘটালেন। নতুন অপত্যদের লেজ কেটে দিয়ে তাদের প্রজনন ঘটাতে থাকলেন। এইভাবে 35 জনু ধরে লেজকাটা সত্ত্বেও লেজকাটা ইদুর সৃষ্টি করা যায়নি।
b) ড্রসোফিলা মাছিকে পরপর ৬০ জনু ধরে অন্ধকার ঘরে রেখে জনন ঘটিয়ে কোন মাছিই অন্ধ হয়ে জন্মাতে দেখেননি।

৫. নয়া ডারউইনবাদ কি? ডারউইন বাদের ত্রুটি গুলো কি ছিল?

উত্তর – ভাইসম্যান, দ্যা ভ্রিস , গোল্ড স্মিথ , হ্যালডেন প্রমূখ বিশিষ্ট বিজ্ঞানীগণ ডারউইনের মতবাদ কে নতুন ভাবে বিশ্লেষণ করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তাকে নয়া ডারউইনবাদ বা আধুনিক সংশ্লেষণবাদ বলে।

ডারউইন বাদের ত্রুটি :
i) ডারউইন ছোট ছোট প্রকরণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে ওই গুলির বংশানুসরন না ঘটায় অভিব্যক্তিতে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
ii) ডারউইন কোষ ও জনন কোষের প্রকরণ গুলি কে পৃথক করতে পারেননি।
iii) ডারউইন প্রকরণ এর উৎপত্তি সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
iv) ডারউইন যোগ্যতমের উদবর্তন এর কারণ ব্যাখ্যা করতে অপরাগ ছিলেন।
v) ডারউইন মিউটেশন কে প্রকৃতির খেলা বলে এড়িয়ে গেছেন।

৬. মাছের পটকা ও পায়রার বায়ুথলি কিভাবে অভিযোজনে সাহায্য করে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর –

পটকা : রুই মাছের দেহ গহবরে মেরুদন্ডের নীচে 2 প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট পটকা থাকে। পটকা মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে মাছকে জলের উপরে ভাসতে বা ডুবতে সাহায্য করে। পটকার অগ্র প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেড গ্রন্থি গ্যাস সৃষ্টি করে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেটিয়া মিরাবিলিয়া নামক বিশেষ রক্তজালক গ্যাস শোষণ করে। রেড গ্রন্থি থেকে গ্যাস নির্গত হলে অগ্র প্রকোষ্ঠ ফুলে ওঠে তখন উভয়ের মাঝখানে বন্ধ থাকে ফলে মাছ জলে ভেসে ওঠে আবার খুলে গেলে গ্যাস পশ্চাৎদেশে রক্তজালক দিয়ে শোষিত হয় তখন পটকা চুপসে যায় এবং মাছ পুনরায় জলের নিচে নেমে যায়।

পায়রার বায়ুথলি : পায়রা পক্ষী শ্রেণীর অন্তর্গত খেচর প্রাণী। বায়ুতে ওড়ার জন্য এদের বিভিন্ন অভিযোজন কৌশল লক্ষ্য করা যায়। পায়রার একটি উল্লেখযোগ্য অভিযোজন বৈশিষ্ট্য হলো পায়রার বায়ুথলি। পায়রার ফুসফুসের সঙ্গে নয়টি বায়ুথলি  যুক্ত থাকে। বায়ুথলি গুলি বায়ু পূর্ণ থাকায় পায়রার দেহে হালকা করে এবং উড্ডয়নকালে অক্সিজেন সরবরাহ করে ।এই কারণে পায়রা সহজে ক্লান্ত হয় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top