Class 8 Bengali chapter 02 অদ্ভুত আতিথেয়তা

অদ্ভুত আতিথেয়তা – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

কবি পরিচিতি

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহন করেন ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে। তাঁর বাবার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মায়ের নাম ভগবতী দেবী। গ্রামের পাঠশালায় তিনি প্রথম দিকের শিক্ষা গ্রহন করেছিলেন। বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে। শিক্ষাবিস্তার, স্ত্রী-শিক্ষার প্রসার ছাড়াও বিধবা-বিবাহ প্রচলন, বহুবিবাহ-রোধ ইত্যাদি বহুবিধ সমাজ-সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত মৌলিক ও অনূদিত বহু গ্রন্থের মধ্যে বোধোদয়, ঋজুপাঠ, কথামালা, বর্ণ পরিচয়, সীতার বনবাস উল্লেখযোগ্য। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ২৯ শে জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। “অদ্ভুত আতিথেয়তা” গল্পটি তাঁর “আখ্যানমঞ্জুরি” গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

 

গল্পের সারাংশ

এই রচনাংশে আতিথেয়তা বিষয়ে আরবজাতির তুল্য আর কোনো জাতি নেই সেই সত্যকেই তুলে ধরা হয়েছে। দুটি চরিত্র রয়েছে এখানে মুর সেনাপতি ও আরব সেনাপতি। দুই সেনাপতির সাক্ষাৎ হয় এবং কথোপকথনকালে আরব সেনাপতি জানতে পারে যে মুর সেনাপতি তাঁর পিতৃহত্যাকারী। কিন্তু সেটা জানার পরেও যেহেতু মুর সেনাপতি আরব সেনাপতির শিবিরে আশ্রয় চেয়েছেন তাই তাঁর যতটুকু সেবা করা যায় সেটা করেছেন এবং পরিশেষে তাঁর প্রাণ রক্ষার্থে তাঁকে চলে যাওয়ার জন্য সূর্যাস্তের আগেই সুস্থ সবল ঘোড়া পর্যন্ত তাঁকে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি কিন্তু কাপুরুষ বা ভীরু নন তাঁর পিতাকে যে হত্যা করেছে তাঁর প্রতিশোধ নিতেও কিন্তু তুনি উন্মুখ। তবুও তার উপর দিয়ে আরবসেনাপতির যে আচরণ, সেই আচরণে আতিথেয়তাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। এই গল্পাংশের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, মানুষে মানুষে এখন যে বিভেদ দেখা দিয়েছে তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ লেখক এই গল্পে রেখেছেন, যে আমরা কিন্তু সবাই সবার কাছে অতিথি, সবাইকে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। কখনও কারোর দুর্বল মুহুর্তে আক্রমণ করা আমাদের উচিৎ নয়, সমানে সমানে যুদ্ধ হওয়া উচিৎ।   

 

হাতে কলমে

১.১ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন?

উত্তরঃ- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অশ্যক্ষ ছিলেন।

২.২ তাঁর রচিত দুটি গ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তরঃ- তাঁর রচিত দুটি গ্রন্থের নাম হল শকুন্তলা, সীতার বনবাস।

২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

২.১ ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে কোন কোন সেনাপতির প্রসঙ্গ রয়েছে?

উত্তরঃ- ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে আরব সেনাপতি ও মুর সেনাপতির প্রসঙ্গ রয়েছে।

২.২ ‘তিনি, এক আরবসেনাপতির পটমন্ডপদ্বারে উপস্থিত হইয়া, আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন’। – উদ্ধৃতাংশে ‘তিনি’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ- উদ্ধৃতাংশে ‘তিনি’ বলতে মুরসেনাপতির কথা বলা হয়েছে।

২.৩ ‘উভয় সেনাপতির কথোপকথন হইতে লাগিল’। – ‘উভয় সেনাপতি’ বলতে এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ- উভয় সেনাপতি বলতে এখানে আরব সেনাপতি ও মুর সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।

২.৪ ‘তাহা হইলে আমাদের উভয়ের প্রাণরক্ষার সম্ভাবনা’। – প্রাণরক্ষার কোন উপায় বক্তা এক্ষেত্রে বলেছেন?

উত্তরঃ- আরব সেনাপতি, মুর সেনাপতিকে বলেন যে তিনি যে অশ্ব দিয়েছেন তা জোরে চালালে উভয়ের প্রাণরক্ষা সম্ভব।

২.৫ ‘আপনি সত্বর প্রস্থান করুন’। – বক্তা কেন উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে ‘সত্বর প্রস্থান’ করার নির্দেশ দিলেন?

উত্তরঃ- মুর সেনাপতি ছিলেন আরবসেনাপতির পিতার হত্যাকারী, তাই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সূর্যোদয়ের পর মুরসেনাপতিকে বধ করে তাঁর প্রতিশোধ নেবেন। তাই সূর্য ওঠার আগে তিনিই মুরসেনাপতিকে সত্বর প্রস্থান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর লেখোঃ

৩.১ ‘তাঁহার দিকভ্রম জন্মিয়াছিল’। – এখানে কার কথা বলা হয়েছে? দিকভ্রম হওয়ার পরিণতি কী হলো?

উত্তরঃ- আলোচ্য অংশটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত “অদ্ভুত আতিথেয়তা” গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।

        এখানে মুর সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।

        মুর সেনাপতি দিকভ্রম হয়ে এতটাই ক্লান্ত ও ক্ষুধা, তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পরেছিলেন যে আর ঘোড়ার পিঠে চড়ে যেতে পারছিলেন না। তাই তিনি আরব সেনাশিবিরে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।

৩.২ ‘আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীতে কোনও জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে’। – এই বক্তব্যের সমর্থন গল্পে কীভাবে খুঁজে পেলে?

উত্তরঃ- এই গল্পে আরব জাতির একটি গুনের উল্লেখ আছে।

        আরব জাতি অত্যন্ত অতিথিবৎসল, এমনকি অতিথি শত্রু হলেও আরবেরা তার প্রতি সদা আতিথ্য দেখান। গল্পে দেখা যায় দিকভ্রান্ত হয়ে যাওয়া ক্লান্ত এক মুর সেনাপতি আরব সেনাশিবিরে আশ্রয় চাইলে তাকে আরব সেনাপতি আশ্রয় দিয়েছেন এবং তার প্রতি যথাসম্ভব বন্ধুত্বপূর্ন আচরন করেছেন। এমনকি সেই ব্যক্তি তার পিতার হত্যাকারী জেনেও তাঁকে অশ্বপৃষ্ঠে চড়িয়ে দ্রুত ও নিরাপদে তার শিবির ত্যাগ করতে বলেছেন।

৩.৩ ‘সহসা আরবসেনাপতির মুখ বিবর্ণ হইয়া গেল’। – আরবসেনাপতির মুখ হঠাৎ বিবর্ণ হয়ে ওঠার কারণ কী?

উত্তরঃ- আলোচ্য গল্পে ক্লান্ত হয়ে আসা মুরসেনাপতির জন্য আরবসেনাপতি যথোপযুক্ত খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করলেন। বিশ্রাম শেষে দুই সেনাপতির কথোপকথন কালে আরবসেনাপতি বুঝতে পারলেন যে আগত অতিথিটি তাঁর পিতার হত্যাকারী। কিন্তু যেহেতু আরবদের ধর্ম অতিথিকে আশ্রয় দেওয়া তাই আরবসেনাপতি কিছুই করতে পারলেন না। এই কারণে তাঁর মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল।

৩.৪ ‘সন্দিহানচিত্তে শয়ন করিলেন’। – এখানে কার মনের সন্দেহের কথা বলা হয়েছে? তাঁর মনের এই সন্দেহের কারণ কী?

উত্তরঃ- আলোচ্য অংশে মুর সেনাপতির মনের সন্দেহের কথা বলা হয়েছে।

        আরব সেনাপতির সঙ্গে মুর সেনাপতির কথোপকথন চলাকালীন হঠাৎ আরব সেনাপতি সেই স্থান থেকে চলে যান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অজুহাত দিয়ে মুর সেনাপতির সাথে দেখাও করলেন না। এমনকি অতিথির খাবারের ব্যবস্থা করলেও নিজে একবারও উপস্থিত হলেন না। আরব সেনাপতির এইরূপ আচরণের অর্থ বুঝতে না পেরে মুর সেনাপতির মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল।

৩.৫ ‘……. তাঁহার অনুসরণ করিতেছিল….’ – কে, কাকে অনুসরণ করছিলেন? তাঁর এই অনুসরণের কারণ কী?

উত্তরঃ- মুর সেনাপতিকে আরব সেনাপতি অনুসরণ করছিলেন।

        আলোচ্য গল্পে মুর সেনাপতি ছিলেন আরব সেনাপতির পিতৃহত্যাকারী, কিন্তু আরবদের ধর্ম অনুযায়ী অতিথিকে হত্যা করা আরবজাতির কোনো ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই আরব সেনাপতি তাঁর জন্য অশ্বের ব্যবস্থা করেন এবং উপযুক্ত ঘোড়ার পিঠে চড়ে তাঁর পিছনে অনুসরণ করলেন। যাতে পিতৃহত্যাকারীকে ধরে শাস্তি দিতে পারেন।

৪. প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করোঃ

৪.১ ‘যাহাতে আপনি সত্বর প্রস্থান করিতে পারেন, তদবিষয়ে যথোপযুক্ত আনুকূল্য করিব’।

উত্তরঃ- মুর সেনাপতি ক্লান্ত ও ক্ষুদার্থ অবস্থায় আরব সেনাপতির শিবিরে আশ্রয় পান। আরব সেনাপতি যথোপযুক্ত আহার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। পরের দিন মুর সেনাপতি যাতে নিজের শিবিরে চলে যেতে পারেন তার উপযুক্ত ব্যবস্থাও করেন আরব সেনাপতি। এই প্রসঙ্গেই আলোচ্য কথাগুলি বলা হয়েছে। লেখক এখানে বলতে চেয়েছেন বড়ো শত্রুকেও আরবজাতি সেবা দিতে জানে।

৪.২ ‘এই বিপক্ষ শিবির-মধ্যে, আমা অপেক্ষা আপনকার ঘোরতর বিপক্ষ আর নাই’।

উত্তরঃ- এই অংশটির বক্তা আরব সেনাপতি। মুর সেনাপতি ও আরব সেনাপতির কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে আরব সেনাপতি জানতে পেরেছেন যে, মুর সেনাপতি তাঁর পিতার হত্যাকারী। তিনি মুর সেনাপতিকে বলেন ভোরবেলায় তাঁবুর দরজায় দ্রুতগামী অশ্বসহ আরব সেনাপতি অপেক্ষায় থাকবেন, ঐ অশ্বে চড়ে যেন মুর সেনাপতি প্রস্থান করেন। কারণ সূর্যোদয় হলেই আরবসেনাপতি তাঁর পিতা হত্যার প্রতিশোধ নেবেন। এই বিষয়টি বোঝানোর জন্যই আরব সেনাপতি উক্ত কথাগুলি বলেছিলেন।

৪.৩ ‘আমাদের জাতীয় ধর্ম এই, প্রাণান্ত ও সর্বস্বান্ত হইলেও, অতিথির অনিষ্টচিন্তা করি না’।

উত্তরঃ- আরব জাতি অত্যন্ত অতিথিবৎসল, আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীতে কোনো জাতিই আরবজাতির সমতুল্য নয়। অতিথি রূপে কেউ আরবজাতির কাছে এলে এই জাতি সাধ্যমতো তার পরিচর্যা করে। সেই ব্যক্তি শত্রু হলেও তার প্রতি অনাদর বা বিপক্ষ আচরণ করেনা। সেই কারনেই নিজের পিতার হত্যাকারী জেনেও আরবসেনাপতি মুর সেনাপতিকে সম্ভাষন জানিয়ে বলেছেন “আমাদের জাতীয় ধর্ম এই, প্রাণান্ত ও সর্বস্বান্ত হইলেও, অতিথির অনিষ্টচিন্তা করি না”।

৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখোঃ

৫.১ গল্পে কার আতিথেয়তার কথা রয়েছে? তিনি কীভাবে অতিথির আতিথেয়তা করেন? তাঁর সেই আতিথেয়তাকে ‘অদ্ভুত’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে কেন?

উত্তরঃ- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে আরব সেনাপতির আতিথেয়তার কথা বলা হয়েছে।

        অসহায়, ক্লান্ত ও ক্ষুদার্থ একজন মুর সেনাপতি যখন আরব সেনাপতির তাঁবুতে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন তখন সাথে সাথে আরব সেনাপতি তাঁকে আশ্রয় দেন। তাঁকে উপযুক্ত খাবার দিয়ে ক্ষুধা ও পিপাসা মেটান। এছাড়াও দ্রুতগামী ঘোড়া দিয়ে মুর সেনাপতির নিরাপদে নিজের শিবিরে ফেরার ব্যবস্থাও করে দেন। এভাবেই আরব সেনাপতি তাঁর আতিথেয়তা করেন।

মুর সেনাপতি যে তাঁর পিতার হত্যাকারী এটা জেনেও আরব সেনাপতি তাঁর যথোপযুক্ত আতিথেয়তা পালনের মধ্যে দিয়ে আরবজাতির ধর্ম রক্ষা করেছেন। সেই জন্যই এইরকম আতিথেয়তা লেখকের কাছে ‘অদ্ভুত’ বলে মনে হয়েছে।

৫.২ আরব – মুর সংঘর্ষের ইতিহাসাশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত এই আখ্যানে লেখকের রচনাশৈলীর অনন্যতার পরিচয় দাও।

উত্তরঃ- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পটি একটি ইতিহাসাশ্রিয়ী গল্প। কাহিনিটি অতীত কালের তাই গল্পের লেখায় সাধু ভাষার প্রয়োগের সঙ্গে তৎসম, সমাসবদ্ধপদ ব্যবহার হয়েছে। সেই সঙ্গে লেখক পাঠকের দিকে খেয়াল রেখে গল্পের অহেতুক জটিলতা বাড়তে দেননি। তাই গল্পটি সুন্দর ও এককথায় অনবদ্য।

৫.৩ ‘আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীর কোনও জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে’। – গল্পের ঘটনা বিশ্লেষণ করে মন্তব্যটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।

উত্তরঃ- একসময় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসা এক ক্লান্ত, ক্ষুদার্থ মুর সেনাপতিকে এক আরব সেনাপতি আশ্রয় দেন। তাঁকে উপযুক্ত আহার ও বিশ্রাম সেবন দেওয়ার পর কথোপকথন কালে আরবসেনাপতি জানতে পারেন মুর সেনাপতি তাঁর পিতার হত্যাকারী। এই কথা জানার পরেও আরব সেনাপতি তাদের ধর্মের কথা মনে রেখে মুর সেনাপতির কোনো ক্ষতি করেননি। তাই এই গল্পটি প্রমাণ করে যে অতিথি সেবা বিষয়ে আরবজাতির সমতুল্য আর কোনো জাতিই নেই।

৫.৪ ‘বন্ধুভাবে উভয় সেনাপতির কথোপকথন হইতে লাগিল’। – কোন দুই সেনাপতির কথা এখানে বলা হয়েছে? তাদের কীভাবে সাক্ষাৎ ঘটেছিল? উভয়ের কথোপকথনের সারমর্ম নিজের ভাষায় আলোচনা করো।

উত্তরঃ- এখানে মুর সেনাপতি ও আরব সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।

        ক্লান্ত, ক্ষুদার্থ ও তৃষ্ণার্ত মুর সেনাপতি যখন আরবসেনাপতির শিবিরে এসে আশ্রয় চান তখনই তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল।

        খাওয়া-দাওয়ার পর মুর সেনাপতি ও আরবসেনাপতি নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলেন। কথোপকথন চলাকালীন আরব সেনাপতি জানতে পারেন যে মুর সেনাপতি তাঁর পিতৃহত্যাকারী। একথা জানার পেরে হঠাৎ আরবসেনাপতির মুখ বিবর্ণ হয়ে ওঠে এবং তিনি সেই স্থান ত্যাগ করেন।

৫.৫ ‘তিনি নির্বিঘ্নে স্বপক্ষীয় শিবিরসন্নিবেশ স্থানে উপস্থিত হইলেন’। – কার কথা বলা হয়েছে? কীভাবে তিনি স্বপক্ষের শিবিরে নির্বিঘ্নে পৌঁছলেন? তাঁর জীবনের এই ঘটনার পূর্বরাত্রের অভিজ্ঞতার কথা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তরঃ- এখানে মুর সেনাপতির কথা বলা হয়েছে।

        আরবসেনাপতির সহায়তায় মুর সেনাপতি স্বপক্ষের শিবিরে নির্বিঘ্নে পৌঁছলেন।

        পূর্বরাত্রে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ক্লান্ত, ক্ষুদার্থ ও তৃষ্ণার্ত হয়ে মুর সেনাপতি আরব সেনাপতির শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুজনের কথোপকথনকালে আরব সেনাপতি জানতে পারে মুর সেনাপতি তাঁর পিতার হত্যাকারী। এরপর হঠাৎ আলোচনার মাঝেই আরব সেনাপতি উঠে চলে যান এবং অনুচরের মাধ্যমে বলে পাঠান, মুর সেনাপতি যেন খাবার খেয়ে বিশ্রাম করেন। পরদিন ভোরবেলায় ফেরার ব্যবস্থাও থাকবে। আরবসেনাপতির এমন ব্যবহার বুঝতে না পেরে সে রাতে মুর সেনাপতি সন্দেহ মনে শুয়ে পরেছিলেন। এমন অবস্থায় পূর্বরাত্রের অভিজ্ঞতার কথা স্মরন করে মুর সেনাপতি নির্বিঘ্নে স্বপক্ষীয় শিবিরে পৌঁছলেন।

৫.৬ ‘তাঁহার অনুসরণ করিতেছিলেন…’ – কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কাকে অনুসরণ করছিলেন? তাঁর এই অনুসরণের কারণ কী? শত্রুকে কাছে পেয়েও তিনি ‘বৈরসাধন সংকল্প’ সাধন করেননি কেন?

উত্তরঃ- এখানে আরবসেনাপতির কথা বলা হয়েছে।

        তিনি মুর সেনাপতিকে অনুসরণ করছিলেন।

        আরব সেনাপতি পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুর সেনাপতিকে অনুসরণ করছিলেন।

        কারণ, আরবদের রীতি এই যে, কোনো ব্যক্তি বিপদে পড়লে তার যথাসাধ্য সেবা প্রদান করা। এই গল্পে মুর সেনাপতি ছিলেন একজন অসহায় অতিথি। তাই মুর সেনাপতিকে সাধ্যমতো বিশ্রাম ও আহার প্রদান করেন। আরবদের জাতীয় ধর্ম রক্ষার কারণে শত্রুকে কাছে পেয়েও আরবসেনাপতি ‘বৈরসাধন সংকল্প’ সাধন করেননি।

৬. নীচের শব্দগুলির দলবিশ্লেষণ করে মুক্তদল ও রুদ্ধদল চিহ্নিত করোঃ

সংগ্রাম = সং – গ্রাম (দুটি দুল, সং = রুদ্ধদল, গ্রাম = রুদ্ধদল)
অশ্বপৃষ্ঠে = অশ – শ – পৃষ – ঠ (চারটি দল, অশ = রুদ্ধদল, শ = মুক্তদল, পৃষ = রুদ্ধদল, ঠ = মুক্তদল)
দণ্ডায়মান = দন – ডা – য় – মান (চারটি দল, দন = রুদ্ধদল, ডা = মুক্তদল, য় = মুক্তদল, মান = রুদ্ধদল)
করমর্দন = ক – র – মর – দন (চারটি দল, ক = মুক্তদল, র = মুক্তদল, মর = রুদ্ধদল, দন = রুদ্ধদল)
তৎক্ষণাৎ = তৎ – ক্ষ – নাৎ (তিনটি দল, তৎ = রুদ্ধদল, ক্ষ = মুক্তদল, নাৎ = রুদ্ধদল)

৭. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করোঃ

৭.১ আরবেরা তাঁহার অনুসরণে বিরত হইলে, তিনি স্বপক্ষীয় শিবিরের উদ্দেশে গমন করিতে লাগিলেন। (জটিল বাক্যে)

উত্তরঃ- যখন আরবেরা তাঁহার অনুসরণে বিরত হইল তখন তিনি স্বপক্ষীয় শিবিরের উদ্দেশে গমন করিতে লাগিলেন।

৭.২ আতিথেয়তা বিষয়ে পৃথিবীতে কোনও জাতিই আরবদিগের তুল্য নহে। (ইতিবাচক বাক্যে)

উত্তরঃ- আতিথেয়তা বিষয়ে আরবজাতি পৃথিবীতে অতুলনীয়।

৭.৩ দ্বারদেশে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন, তিনি সজ্জিত অশ্বের মুখরশ্মি ধারণ করিয়া দণ্ডায়মান আছেন। (যৌগিক বাক্যে)

উত্তরঃ- দ্বারদেশে উপস্থিত হইলেন এবং দেখিলেন তিনি সজ্জিত অশ্বের মুখরশ্মি ধারণ করিয়া দণ্ডায়মান আছেন।

৭.৪ এই বিপক্ষশিবির-মধ্যে, আমা অপেক্ষা আপনকার ঘোরতর বিপক্ষ আর নাই। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)

উত্তরঃ- এই বিপক্ষশিবির-মধ্যে আমা অপেক্ষা আপনকার ঘোরতর বিপক্ষ আর কেহ আছে কি?

৭.৫ তিনি নির্বিঘ্নে স্বপক্ষীয় শিবিরসন্নিবেশস্থানে উপস্থিত হইলেন। (না-সূচক বাক্যে)

উত্তরঃ- স্বপক্ষীয় শিবিরসন্নিবেশস্থানে উপস্থিত হইতে তিনি কোনো বিঘ্নের সম্মুখীন হইলেন না।

 

অতিরিক্ত প্রশ্ন-উত্তর

. উভয় সেনাপতির মধ্যে কী বিষয়ে কথোপকথন চলছিল?

উত্তরঃ- উভয় সেনাপতির মধ্যে নিজেদের পূর্বপুরুষদের সাহস, বীরত্ব ও যুদ্ধকৌশল সম্বন্ধে কথোপকথন চলছিল।

. আরবদের জাতীয় ধর্ম কী ছিল?

উত্তরঃ- আরবদের জাতীয় ধর্ম ছিল প্রাণান্ত ও সর্বস্বান্ত হলেও তাঁরা অতিথির অনিষ্ট চিন্তা করেন না।

. দ্বারদেশে উপস্থিত হয়ে মুর সেনাপতি কী দেখলেন?

উত্তরঃ- মুর সেনাপতি দেখলেন যে আরব সেনাপতি একটি সজ্জিত অশ্বের লাগাম ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।

. আরব সেনাপতি কী শপথ নিয়েছিলেন?

উত্তরঃ- আরব সেনাপতি শপথ নিয়েছিলেন যে সূর্যোদয় হলেই পিতৃহত্যাকারী মুর সেনাপতির প্রাণবধ করবেন।

. আরব সেনাপতি ফিরে গেলেন কেনো?

উত্তরঃ- আরব সেনাপতি যখন দেখলেন যে মুর সেনাপতি নিজের শিবিরে ঢুকে গেলেন, তখন আর তাঁকে হত্যা করার কোনো সম্ভাবনা না দেখে তিনি ফিরে গেলেন।

. আরব সেনাপতি কেনো মুর সেনাপতিকে নতুন অশ্ব দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ- মুর সেনাপতির অশ্বটি ক্লান্ত ও হতবীর্য হওয়ায় আরব সেনাপতি তাঁকে নতুন অশ্ব দিয়েছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top