দশম শ্রেনী বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন ২৪. অদল বদল - পান্নালাল প্যাটেল

অদল বদল – পান্নালাল প্যাটেল

লেখক পরিচিতি

১৯১২ সালের ৭ মে রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে জন্মগ্রহণ করেন পান্নালাল প্যাটেল। তার পুরো নাম ছিলো পান্নালাল নানালাল প্যাটেল। তিনি গুজরাটি ভাষার একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি তার সাহিত্য জীবনে বহু পুরস্কার লাভ করেছেন তার লেখনীর জন্য। ১৯৮৫ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে সম্মানিত হন তার লেখা মানবি নি ভাবই এর জন্য। ১৯৫০ সালে তিনি রঞ্জিতরাম সুবর্ণচন্দ্রক পুরস্কার পান। ১৯৬৭ সালে তিনি কবি উমাংশকর জেঠালাল যোশীর জ্ঞানপীঠ পান। তিনি তার সাহিত্য জীবনে ৭০ টির ও বেশি বই লিখেছেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য দুটি উপন্যাস হল- মানবি নি ভবাই ও মালেলা জিব। এছারাও তার উল্লেখ্য কিছু কাজ হল- ব্রুনদোথি,মহাভারত্ন, প্রথম প্রণয়ঃ ভীম-হিরিম, পূরানকথিৎ মা দুর্গা ইত্যাদি। গুজরাটি গদ্য সাহিত্যিকদের মধ্যে পান্নালাল প্যাটেল ই ছিলেন একজন যিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছিলেন।

 

সারাংশ

গল্পের শুরুতেই আমরা পাই দুইজন বন্ধুকে যাদের নাম ছিলো অমৃত ও ইসব। এই দুই বন্ধুর মধ্যে অনেক মিল ছিলো, তাদের সব কিছুই ছিলো প্রায় একই রকমের এমনকি তাদের বাড়িটাও ছিলো মুখোমুখি। অমৃত ও ইসাবের মধ্যে একটি পার্থক্য ছিলো বটে আর সেটা তাদের পরিবারের দিক থেকে অর্থাৎ অমৃতের পরিবারে ছিলো তার বাবা মা আর তিন ভাই কিন্তু ইসাবের তার বাবা ছাড়া আর কেউ ছিলো না। ইসাব তার বাবার সাথেই থাকতো। ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে তার বাবা তাকে নতুন জামা  কিনে দিয়েছিল । অন্যদিকে অমৃতের নতুন জামা ছিলো কিন্তু টা সত্ত্বেও সে বায়না করার ফলে সেও নতুন জামা পেয়েছিলো। দুজনেই তাদের নতুন জামা হোলির দিনে পড়ে বেড়িয়েছিল এবং দুই বন্ধুর জামা ও একই রকম দেখতে ছিলো। দুজনেই নতুন জামা পড়েছিল তাই তারা কেউ ই চায়নি যে তাদের জামা নোংরা হোক বা ছিঁড়ে যাক। কিন্তু ওই দিন অমৃতের অনিচ্ছা সত্বেও তাকে কুস্তি লড়তে বলে এবং সে তাতে রাজি না হলে তাকে জোড় করে ধরে মাটিতে ছুড়ে ফেলে। অমৃতকে বাঁচাতে ইসাব অমৃতকে বাঁচাতে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়েছিল এবং তাকে হারিয়েও দিয়েছিলো। এরপর তারা যখন বাড়ির দিকে ফিরছিলো তখন অমৃত খেয়াল করেছিল তার হয়ে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসবের জামা টি ছিঁড়ে গিয়েছে। ইসব ও মনে মনে জানতো যে ছেঁড়া জামা দেখলে তার বাবা তাকে খুব মারবে, কারণ তিনি অনেক কষ্ট করে সুদখোরের কাছে থেকে টাকা ধার করে তাকে জামা টি কিনে দিয়েছিলেন। ইসাবকে এমন অবস্থায় দেখে অমৃত নিজেদের মধ্যে জামা পাল্টে নেওয়ার বুদ্ধি করে এবং ইসবকে বলেও দেয়। তারা জামা পাল্টে নেয়। কারন অমৃত মনে মনে জানতো যে তার জামা ছেঁড়া দেখলে হয়তো তার বাবা তাকে বকবে কিন্তু তাকে বাঁচানোর জন্য মা আছে, এদিকে ইসাবের বাবা যদি তার ছেঁড়া জামা টা দেখতো তাহলে সে অনেক মার খেতো আর তাকে বাঁচানোর জন্য কেউ নেই। এই ঘটনার থেকেই বোঝাযায় যে তাদের বন্ধুত্ত্ব টা কতটা গভীর ছিলো। পরে ই জামা অদল বদলের কথা জানতে পেরে ইসাবের বাবার মন আনন্দে ভোরে ওঠে। এছাড়াও অমৃতের মা ও পাড়ার কিছু লোককে এই কথা জানিয়েছিলো ফলে তাদের বন্ধুত্বের কথা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সবাই ঠিক করেছিল তাদের দুজন কে একসাথে অদল বদল বলেই ডাকবে।

 

বহু-বিকল্পীয় প্রশ্নোত্তর

১. কোন দিনের পড়ন্ত বিকেলের কাহিনি গল্পে তুলে ধরা হয়েছে?
(ক) দুর্গাপূজা
(খ) হোলি
(গ) বড়োদিন
(ঘ) বুদ্ধপূর্ণিমা

উত্তর (খ) হোলি

২. গ্রামের একদল ছেলে _______ গাছের নীচে জড়ো হয়েছিল – শূন্যস্থান পূরণ করো।
(ক) নিমগাছ
(খ) আমগাছ
(গ) জামগাছ
(ঘ) বটগাছ

উত্তর(ক) নিমগাছ

৩. অমৃতের বয়স কত?
(ক) আট বছর
(খ) ন-বছর
(গ) এগারো বছর
(ঘ) বারো বছর

উত্তর – (ক) দশ বছর

৪.অমৃত ও ইসাবের কোন জিনিসটি একই রকম ছিল ?
(ক) প্যান্ট
(খ) জামা
(গ) টুপি
(ঘ) হাতঘড়ি

উত্তর – (খ) জামা

৫.অমৃত কুস্তি করলে তাকে কে ঠ্যাঙাবে বলে গল্পে উল্লেখিত আছে?
(ক) তার বাবা
(খ) তার কাকা
(গ) তার মা
(ঘ) তার মামা

উত্তর(গ) তার মা

৬. ” দুই বন্ধুতে মিলে শান-বাঁধানো ফুটপাথে এসে বসতে…। ” – কোন দুই বন্ধুর কথা বলা হয়েছে?
(ক) কৃষাণ ও ইসাব
(খ) কৃশানু ও ইসাব
(গ) অমৃত ও ইসাব
(ঘ) অমৃত ও বিমল

উত্তর – (গ) অমৃত ও ইসাব

৭. ” এদের বাড়ি দুটোও মুখোমুখি। ” – বাড়ি দুটি কোথায়  ছিল ?
(ক) গলির মোড়ে
(খ) শহরের মাঝখানে
(গ) রাস্তার মোড়ে
(ঘ) মাঠের ধারে

উত্তর – (গ) রাস্তার মোড়ে

৮. ” মেজাজ চড়ে গেল। ” – কার মেজাজের কথা বলা হয়েছে ?
(ক) ইসাবের
(খ) ইসাবের বাবার
(গ) অমৃতের
(ঘ) কালিয়ার

উত্তর – (ক) ইসাবের

৯. কার জামার পকেটে ছ ইঞ্চি পরিমাণ মত কাপড় ছিড়ে গেছিল?
(ক) অমৃত
(খ) কালিয়া
(গ) ইসাবে
(ঘ) পাঠানে

উত্তর – (গ) ইসাবে

১০. “তোর কী হবে, তুই কী করবি?”—কথাটি কে বলেছিল?
(ক) অমৃত
(খ) পাঠান
(গ) কালিয়া
(ঘ) ইসাব

উত্তর – (ঘ) ইসাব

১১. ‘অদল বদল’ গল্প গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কার কানে গেছিল ?
(ক) অমৃতের মামার
(খ) গ্রামপ্রধানের
(গ) ইসাবের
(ঘ) কালিয়ার

উত্তর(খ) গ্রামপ্রধানের

১২. “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।” – এখানে ‘ও’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) অমৃতের মা
(খ) অমৃত
(গ) ইসাব
(ঘ) কালিয়া

উত্তর – (খ) অমৃত

১৩. ইসাব এবং অমৃত দুজনের বাবাই পেশায় কি ছিল ?
(ক) চাষী
(খ) শিক্ষক
(গ) উকিল
(ঘ) পুলিশ

উত্তর – (ক) চাষী

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. অদল বদল গল্পটি বাংলায় কে তরজমা করেছিলেন?

উত্তর- অদল বদল গল্পটি বাংলায় তরজমা করেছিলেন অর্ঘ্যকুসুম দুটিগুপ্ত।

২. হোলির দিন পড়ন্ত বিকেলে একদল ছেলে কী করছিলো?

উত্তর- পান্নালাল প্যাটেলের লেখা অদল বদল গল্পে হোলির দিন পড়ন্ত বিকেলে একদল ছেলে নিম গাছের নিচে ধুলো ছড়াছুরি করছিলো।

৩.”বলতে গেলে ছেলেদুটোর সবই একরকম, তফাৎ শুধু এই যে,”-তফাৎ টি কোথায় ছিলো তাদের মধ্যে?

উত্তর- পান্নালাল প্যাটেলের লেখা অদল বদল গল্প থেকে উপরিক্ত লাইনটি নেওয়া হয়েছে। অমৃত ও ইসাবের মধ্যে পার্থক্য ছিলো এই যে অমৃতের বাড়িতে তার বাবা মা ও তিন ভাই ছিলো কিন্তু ইসাবের বাড়িতে শুধু তার বাবা ছিলো।

৪. কালিয়া অমৃত কে কি করেছিল?

উত্তর- অমৃতের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কালিয়া তাকে খোলা মাঠে নিয়ে এসে কুস্তি লড়ার নাম করে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল।

৫. ইসাব ও অমৃতের জামা অদল বদলের ঘটনা সবাইকে কে শুনিয়েছিল?

উত্তর- এই কাহিনী সবাইকে শুনিয়েছিল ইসবের বাবা।

৬. এই জামা অদল বদলের গল্প গ্রাম প্রধানের কানে গেলে তিনি কি ঘোষণা করেছিলেন?

উত্তর- জামা অদল বদলের গল্প গ্রাম প্রধানের কানে গেলে তিনি ঘোষণা করেছিলেন সেদিন থেকে তারা সকলে অমৃত ও ইসবকে একসাথে অদল বদল বলে ডাকবে।

৭. “এসো, আমরা কুস্তি লড়ি।”- কে,কাকে বলেছিলো?

উত্তর- পান্নালাল প্যাটেলের অদল বদল গল্পের থেকে লাইনটি নেওয়া হয়েছে। কালিয়া কথাটি বলেছিলো অমৃতকে।

৮. “উনি ভুরু কুঁচকোলেন।”—কে, কেন ভুরু কুঁচকেছিলেন?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি পান্নালাল প্যাটেলের লেখা অদল বদল গল্পের অংশ।গল্পে অমৃতর মা অমৃতর ছেড়া জামা দেখে ভুরু কুঁচকেছিলেন।

৯. ইসাবের বাবা বাড়ির সামনের দাওয়ায় বসে কী করছিলেন?

উত্তর- অদল বদল গল্পে ইসাবের বাবা তাদের বাড়ির সামনের দাওয়ায় খাটিয়ায় বসে হুঁকো খাচ্ছিলেন।

১০. অমৃতকে যখন তার বাবা মারতে যায়, তখন তাকে কে বাঁচায়?

উত্তর- পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃতকে যখন তার বাবা মারতে যায়, তখন তাকে তার মা বাঁচায়।

১১.“অমৃত এতেও পিছপা হতে রাজি নয়।”—’এতেও’বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর- পান্নালাল প্যাটেলের লেখা অদল বদল গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘এতেও’বলতে নতুন জামা নেওয়ার ব্যাপারে অমৃতের মার হাতে অমৃতের মার খাওয়ার কথাকে বোঝানো হয়েছে।

১২.“মা ওকে অনেক বুঝিয়েছেন…।”—কার মা, কাকে, কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি পান্নালাল প্যাটেলের লেখা অদল বদল গল্পের অংশ। অমৃতের মা অমৃতকে বুঝিয়েছেন যে, ইসাবকে খেতে কাজ করতে হয় বলে তার জামা ছিড়ে গেছে, কিন্তু তারটা তো প্রায় নতুনই রয়েছে।

১৩. “শোনা মাত্র অমৃত ফতোয়া জারি করে দিল…।”—অমৃত কী ফতোয়া জারি করেছিল?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি পান্নালাল প্যাটেলের লেখা অদল বদল গল্পের অংশ। অমৃত ফতোয়া জারি করেছিল যে,  ইসাবের মতো একই রকম জামাটি না-পেলে সে স্কুলে যাবে না।

১৪. অমৃত জামা পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত কী করতে রাজি ছিল?

উত্তর- পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্পে দেখা যায়, জামা পাওয়ার জন্য অমৃত শেষ পর্যন্ত মার খেতেও রাজি হয়।

১৫. অমৃত তার জামাটি কীভাবে ছিঁড়ে ফেলে?

উত্তর-পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃতকে তার মা জামা দেয় না। তাই সে তার জামার একটা ছেড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে আরও ছিড়ে ফেলে।

 

ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

১. “অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে” – বক্তা বক্তা কে? অমৃতের জবাব বক্তাকে কী ভাবে বদলে দিয়েছিল?

উত্তর:  উদ্ধৃত অংশটি পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধৃতাংশটির বক্তা ইসাবের বাবা হাসান। তিনি অমৃতের মায়ের উদ্দেশ্যে কথাটি বলেছেন।

হোলির দিনে এক‌ই রকম জামা গায়ে অমৃত আর ইসাব বেড়াতে বের হ‌ওয়ার পর কালিয়া নামের একটি ছেলে গায়ে পড়ে অমৃতের সঙ্গে কুস্তি করতে চেয়ে অমৃতকে ফেলে দেয়। ইসাব এই ঘটনায় রেগে গিয়ে কালিয়াকে পাল্টা আছাড় দেয়। কিন্তু এইসবের মধ্যে ইসাবের নতুন জামার খানিকটা ছিঁড়ে যায়। অমৃত বুঝতে পারে এরপর ইসাবকে তার বাবা পেটাবেন। বন্ধুকে মার খাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সে নিজের জামা ইসাবকে দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামা নিছে নিতে চায়। ইসাব তখন জানতে চায় অমৃতকেও তো মার খেতে হবে। অমৃত তখন ইসাবকে বলে, তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে, ইসাবকে বাঁচানোর কেউ নেই।

অমৃত ও ইসাবের এই কথোপকথন আড়াল থেকে শুনছিলেন ইসাবের বাবা। তিনি অমৃতের কথা শুনে বুঝতে পারলেন মায়ের স্নেহ কী জিনিস। এতদিন তিনি মাতৃহীন ইসাবের মায়ের অভাব পূরণ করতে চেষ্টা করেননি। অমৃতের কথা শুনেই তাঁর চোখ খুলে যায় ও নিজেকে বদলে ফেলেন।

২. “ ভালােবাসার গল্প শুনে তাদের বুক ভরে গেল । ” – কাদের বুক ভরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে ? ভালােবাসার কী গল্প তারা শুনেছিল ও কার কাছ থেকে ?

উত্তর- গুজরাটি সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেলের অদল বদল ছোটো গল্পে ইসাব ও অমৃতের জামা অদল বদলের গল্প শুনে অমৃতের মা বাহালি বৌদি ও পাড়া পড়শি মায়ের দল যেমন প্রসন্ন হয়েছিলেন , তেমনি হাসান ও অমৃতের এহেন ভালােবাসার গল্প বলে পরিতৃপ্ত লাভ করেছিলেন ।

 তাই স্রোতা বাহালি বৌদি ও পাড়াপড়শি মায়েরা ও বক্তা হাসান সকলের বুক ভরে গিয়েছিল । ভালােবাসার গল্প বলতে ইসাব ও অমৃতের জামা অদল বদলের কার্য কারণ কাহিনি ইসাব ও অমৃত দুজনেই সতীর্থ । 

দুজনের পােশাকের মধ্যে রয়েছে মিল । দুজনে ভিন্ন সম্প্রদায়ের সন্তান হয়েও দুজনের মধ্যে রয়েছে । বন্ধুত্বের অমলিন ভালােবাসা । হােলির দিন খেলার মাঠে অনিচ্ছাসত্ত্বেও কুস্তিতে জড়িয়ে পড়ে ইসাব জামা ছিড়ে ফেললে অমৃত পিতার শাসন থেকে বন্ধুকে বাঁচাতে নতুন পরিকল্পনা আঁটে । 

 ইসাবের বাবার কণ্ঠস্বর শুনে গলির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অতিদ্রুত ইসাবের ছেড়া জামা নিজের গায়ে চড়িয়ে নিয়ে নিজের নতুন জামা ইসাবের গায়ে পরিয়ে দেয় । 

ইসাব হতচকিত হয়ে যায় , সে বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করে “ তাের কী হবে ? তুই কী পরবি ? ” “ তােকে তাে তাের বাবা পিটোবে । ” ইসাবের এহেন প্রশ্নের জবাবে অমৃত বলে-

“ নিশ্চয় ঠ্যাঙ্গাবে , কিন্তু আমাকে বাঁচানাের জন্য তাে আমার মা আছে । ” মাতৃহারা ইসাবের প্রতি অমৃতের এহেন ভালােবাসা চির অমলিন , যা অবক্ষয়িত সমাজে অত্যন্ত দুর্লভ ।যা পাড়াপড়শি , বাহালি বৌদি , হাসান সকলের কাছেই অকল্পনীয় ভালােবাসার স্বাদ এনে দেয় । তাই তাদের বুক আনন্দে ভরে যায় ।

৩. “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার”- উক্তিটির বক্তা কে? কাকে কেন এই কথা বলেছেন?

উত্তর- উদ্ধৃতাংশটি পান্নালাল প্যাটেলের লেখা অদল বদল গল্পের অংশ বিশেষ। এই উল্লেখিত অংশটির বক্তা হলেন ইসাবের বাবা হাসান।

হোলির দিন কালিয়া নামের একটা ছেলে জোর করে অমৃতকে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে। তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে অমৃতকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে ইসাব ভীষণ রেগে যায় এবং অমৃতকে বাঁচাতে সে নিজে কালিয়ার সাথে লড়াইকরে আর তাকে হারিয়েও দেয়। কিন্তু এসবের মাঝখানে থেকে ধস্তাধস্তিতে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। নতুম জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় বাবার কাছে মার খেতে হবে ভেবে ভয় পাওয়া ইসাবকে অমৃত বুদ্ধি দিলো তার সাথে ইসাবের ছেঁড়া জামা তা বদলে নিতে। কারণ সে জানতো যে তার জামা ছিঁড়ে গেছে দেখলে তার বাবা হয়তো তাকে বকবে কিন্তু তাকে তার মা বাঁচিয়ে নেবে কিন্তু ইসাবের বাবা যদি তাকে রেগে গিয়ে মারে তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা নেই। এই পুরো ঘটনাটি ইসাবের বাবা আড়াল থেকে দেখেছিলেন। এরপরে তিনি দুজনকে তার কাছে ডেকে নিয়ে দশ বছরের অমৃত কে বুকে জড়িয়ে ধরে এম্ন মন্তব্য করেছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top